× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The child fell into the toilet with a broken pulse
hear-news
player
print-icon

নাড়ি ছিঁড়েই টয়লেটে পড়ে সেই শিশুটি

নাড়ি-ছিঁড়েই-টয়লেটে-পড়ে-সেই-শিশুটি
বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এই পাইপ ভেঙে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। ছবি: নিউজবাংলা
হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চার নাড়ি ছিঁড়ে গিয়েছিল। এ কারণে কোনো বাধা ছাড়াই পাইপে বাচ্চাটি ঢুকে যায়। পাশাপাশি বাচ্চার সাইজ থেকে পাইপের সাইজ বড় হওয়ায় বাচ্চাটি সহজে পাইপে ঢুকে গিয়েছিল।’

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের টয়লেটে নাড়ি ছিঁড়েই পড়ে গিয়েছিল সেই শিশুটি। হাসপাতালের তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে এমনটিই নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলামের কাছে সোমবার দুপুরে এক পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

এই কমিটির সদস্য সচিব ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান শাহিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টয়‌লে‌টের প‌্যা‌নের সঙ্গে পাইপ সরাসরি যুক্ত ছিল। কোনো বাঁকা লাইন হয়ে পাইপ যুক্ত থাকলে বাচ্চাটি পড়ে প্রাণহানির শঙ্কা থাকত। পাইপ সরাসরি প্যানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বাচ্চাটি পাইপে পড়ে গেছে।

‘তা ছাড়া বাচ্চাটির ওজন ছিল ১ কেজি ৩০০ গ্রাম এবং আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। এ কারণে সহজেই টয়লেটের পাইপে পড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চার মায়ের প্রসব ব্যথার মধ্যে মলত্যাগের বেগ পেলে তিনি টয়লেটে যান। টয়লেটে তিনি বাচ্চা প্রসব করেছিলেন। প্রথমে বিষয়টি টের পাননি তিনি। তা ছাড়া তদন্তে পাওয়া গেছে, বাচ্চার নাড়ি স্বাভাবিকভাবেই ছিঁড়ে গেছে।’

নাড়ি ছিঁড়েই টয়লেটে পড়ে সেই শিশুটি
শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পাইপ ভেঙে উদ্ধার নবজাতক

তদন্ত কমিটির সভাপতি বরিশাল মেডিক্যালের শিশু বিভাগের প্রধান মুজিবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘তদন্তে উঠে এসেছে বাচ্চাটি ৪৭ মিনিটের মতো পাইপের মধ্যে আটকা ছিল। মেডিক্যাল সায়েন্সে এ রকম ঘটনার নজির নেই। বাচ্চাটি নাড়ি ছিঁড়েই পড়ে গিয়েছিল। বাচ্চার কোনো রক্তক্ষরণও হয়নি।

‘বাচ্চা কীভাবে বেঁচে আছে সেটা অলৌকিক, মিরাকল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক্সপ্লেইন করার সুযোগ নেই।’

এ ঘটনায় হাসপাতালের কারও গাফিলতি ছিল না বলে জানান পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে তিনি জানান, এক পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কারও গাফিলতির বিষয় উঠে আসেনি। রোগী তার স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজে থেকেই মলত্যাগের জন্য টয়লেটে যান। সেখানেই বাচ্চা প্রসব করেন।

তিনি বলেন, ‘বাচ্চার নাড়ি ছিঁড়ে গিয়েছিল। এ কারণে কোনো বাধা ছাড়াই পাইপে বাচ্চাটি ঢুকে যায়। পাশাপাশি বাচ্চার সাইজ থেকে পাইপের সাইজ বড় হওয়ায় বাচ্চাটি সহজে পাইপে ঢুকে গিয়েছিল।’

গত ৭ মে বরিশাল মেডিক্যালের প্রসূতি বিভাগের টয়লেটে বাচ্চা প্রসব করেন পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির গণমান শেখপাড়া বাজারের শিল্পী বেগম। এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। তার চার বছরের আরেকটি মেয়ে আছে।

ওই টয়লেটের পাইপ তিন তলা থেকে সোজা নেমে গেছে দোতলায় শিশু ওয়ার্ডে। শিশু ওয়ার্ডের ছাদের নিচের পাইপ ভেঙে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

টয়লেটে ভূমিষ্ঠ হওয়া কোনো শিশু কী করে পাইপের ভেতরে গেল এবং তাকে কী করে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হলো তা জানতে তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করে।

হাসপাতালের পরিচালক জানান, শিল্পীকে প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। তিনি এখন শিশু বিভাগে তার সন্তানের কাছে আছেন। বাচ্চাটাকে শিগগিরই রিলিজ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
টয়‌লে‌টের পাইপ ভে‌ঙে সদ্যোজাত শিশু উদ্ধার
হাসপাতালে ‘অক্সিজেন না পেয়ে’ নবজাতকের মৃত্যু
খড়ের গাদায় ফেলে যাওয়া নবজাতক পেল বাবা-মা
জন্মের পর নিখোঁজ, ৫ দিনেও মেলেনি খোঁজ
আল্ট্রাসাউন্ডে ‘যমজ সন্তান’, প্রসব একটির

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
One day after the disappearance the body was found in the char

নিখোঁজের পরদিন চরে মিলল মরদেহ

নিখোঁজের পরদিন চরে মিলল মরদেহ
রায়নগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারেক বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের দিন নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ বুধবার ভোরে মাদার নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কেরামত পানিতে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেননি।’

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নদীতে ডুবে নিখোঁজের এক দিন পর কেরামত গাজীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদার নদীর চর থেকে বুধবার ভোর ৫টার দিকে স্থানীয়রা ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম। তিনি জানান, ভোরে নদীর চরে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে মাছ শিকারের জন্য নদীতে ফেলা বড়শি ছাড়াতে গিয়ে ডুবে নিখোঁজ হন কেরামত গাজী। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা দিনভর অভিযান চালিয়েও তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।

৪০ বছরের কেরামত গাজীর বাড়ি উপজেলার মহেশখালী গ্রামে। দিনমজুর কেরামত দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মাদার নদীর চরেই বাস করতেন।

রায়নগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারেক বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের দিন নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ বুধবার ভোরে মাদার নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কেরামত পানিতে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেননি।

‘পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ৯টার দিকে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
টার্মিনাল থেকে উধাও বাস, নিখোঁজ হেলপারও
নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
চিকিৎসা নিতে বেরিয়ে ১১ দিন ধরে নিখোঁজ
‘সাগরে ভেসে চেন্নাই যাওয়া’ ফিরোজের তথ্যে বহু অসংগতি
নিখোঁজ কুয়াকাটায়, চেন্নাইয়ে সন্ধান নিয়ে রহস্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Swechchhasebak League president Nirmal passed away

চলে গেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল গুহ

চলে গেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল গুহ সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের। ফাইল ছবি
সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মৃত্যু হয় নির্মল গুহের। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর নেই।

স্থানীয় সময় বুধবার সকালে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

নির্মল গুহের বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন তিনি।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১২ জুন রাতে রক্তচাপ বেড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নির্মল রঞ্জন গুহ। তাকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেয়া হয়।

নির্মল গুহের হার্টে দুটি ব্লক ধরা পড়লে সেখানে রিং বসানো হয়, কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে ১৬ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গারপুর নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের পক্ষে মিছিল, পদ গেল স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার
নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সব কমিটি বিলুপ্ত
ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার
‘উন্নয়ন ঠেকাতে আদাজল খেয়ে নেমেছে বিএনপি’
ডোপ টেস্ট ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা নয়  

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The father of the accused accused of beating the teacher to death has been arrested

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা গ্রেপ্তার উজ্জ্বল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
আশুলিয়া থানার ওসি এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার আসামি ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আজ ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি জিতুকেও গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।’

সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষককে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বুধবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার আসামি ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আজ ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‘সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি জিতুকেও গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, ‘ওই শিক্ষক মারা যাওয়ার দিন গত রোববার তার বড় ভাই অসীম কুমার সরকার অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতুকে প্রধান করে হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা অনেককেই আসামি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন। ওই মামলায় প্রধান আসামির বাবাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার
নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার। ছবি: সংগৃহীত

গত শনিবার দুপুরে সাভারের চিত্রশাইল এলাকার হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে কলেজের প্রভাষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র জিতুর বিরুদ্ধে।

পিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়া শিক্ষক উৎপল পরদিন মারা যান। এ ঘটনায় উৎপলের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার আশুলিয়া থানায় জিতুকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনের নামে হত্যা মামলা করেন।

জিতু দশম শ্রেণিতে পড়লেও তার বয়স ১৯ বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, এই তরুণ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। সেখান থেকে ঝরে পড়ার পর এই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘জিতু ক্লাস নাইনে আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছিল। এর আগে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার একটা মাদ্রাসায় পড়ত। সে ছাত্র হিসেবে খুবই দুর্বলপ্রকৃতির। উচ্ছৃঙ্খলও। তার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়েরও অভিযোগ ছিল।’

উৎপলের ওপর কীসের ক্ষোভ জিতুর?

কলেজের সামনের মার্কেটের মালিক ইমান উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসল ঘটনা এখনও কলেজের শিক্ষকরা বলছেন না। তবে আস্তে আস্তে সব বেরিয়ে আসবে।

‘জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনের ব্যবসায়িক পার্টনার মাজেদ নামে এক ব্যক্তি। তাদের হোটেল ব্যবসা আছে। সেই মাজেদের শ্যালিকা এই কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। তার সঙ্গে জিতুর আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক।

‘কিছুদিন আগেও স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও সেই মেয়েকে দেখার পর শিক্ষক উৎপল তাদের শাসন করেন। ওই মেয়ের পরিবারকে তিনি ফোন করে সব জানিয়ে সতর্কও করেন। মেয়েটা জিতুকে এসব বিষয় জানালে সে ক্ষুব্ধ হয়েই ওই স্যারকে পিটিয়েছে।’

ইমান উদ্দিনের তথ্য বলছে, জিতু এতটাই বেপরোয়া ছিলেন যে খেলার আগের দিন থেকেই কলেজের বাইরে স্টাম্প নিয়ে ঘুরছিল।

তিনি জানান, সেদিন জিতুর সঙ্গে আরও তিনজন ছিল। পেটানোর পর চারজন একসঙ্গে হেঁটে চলে যায়।

একই কথা জানান ওই কলেজে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইম ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘স্যার সেই মেয়ের বাসায় ফোন করে শক্তভাবে বিচার দিয়েছিলেন যেন মেয়েটা জিতুর সঙ্গে না মেশে। এটার ক্ষোভ থেকেই জিতু স্যারকে খেলার দিন পিটিয়েছে।’

কলেজের হিসাবরক্ষক পারুল আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও মেয়েটাকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেভাবে বিস্তারিত জানি না। মেয়েটা আমাদের কলেজের এক শিক্ষকের ছোট বোন। এর বেশি আর কিছু জানি না আমি।’

সিসিটিভি ফুটেজে কিছুই নেই

কলেজের সিসিটিভি ফুটেজেও হামলার আগে জিতুর নানা কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে। তবে ঘটনার সময়কার কিছুই রেকর্ড হয়নি।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। সে সময় কলেজের বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পেছনে জিতুর হাত আছে বলেই বিশ্বাস তাদের।

কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, ‘উৎপল কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান ছিলেন। তাই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে তিনি হয়তো শাসন করেছিলেন। তবে ঠিক কোন বিষয়টা, সেটা আমার জানা নেই। আর ওই দিনের ফুটেজের বিষয়টা হলো, আমরা হঠাৎ করে দেখি কারেন্ট চলে গেছে। কিন্তু তখন আশপাশে সব জায়গায় কারেন্ট ছিল। ঘটনার পর পরই আমরা বুঝতে পারি, সে (জিতু) পরিকল্পিতভাবেই বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করেছে।’

নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানী গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। ৩৫ বছর বয়সী এই শিক্ষক প্রায় ১০ বছর ধরে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকতা করছেন।

আরও পড়ুন:
মধুপুরে গৃহবধূ খুন, স্বামী-সতিন আটক
চালকের গলা কাটা দেহ উদ্ধার
‘আত্মহত্যা’য় অভিযুক্ত সুদের কারবারি
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: ফাঁসির আসামি জাকারিয়া পিন্টু কারাগারে
শিক্ষককে হত্যা: দুই দিনেও ধরা পড়েনি অভিযুক্ত ছাত্র

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mymensingh Jamalpur rail communication is normal

ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার জানান, ভাওয়াল এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে ট্রেন চলতে শুরু করে।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে ট্রেন চলতে শুরু করে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ভাওয়াল এক্সপ্রেস ঢাকা যাচ্ছিল। সকাল ৬টার দিকে আওলীয়ানগর এলাকায় এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর রিলিফ ট্রেন গিয়ে বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন:
ইঞ্জিন বিকল, ময়মনসিংহ-জামালপুর ট্রেন বন্ধ
ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারালেন কলেজছাত্র
বিকল ট্রেন উদ্ধার, দেড় ঘণ্টা পর চালু সিলেটের রেলপথ
শিগগিরই রেলে আইটি সেল: রেলমন্ত্রী
ট্রেনের টিকিটের নতুন অ্যাপ ‘রেল সেবা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shoe garland to the teacher The author of the statement against the student is the police

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ পুলিশের গাড়িতে তোলার আগে শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস ও শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি (বাঁয়ে) এবং রাহুলের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারের কপি। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বাদী মো. ফারুক হোসেন বলছেন, এজাহারে কী আছে সেটি তার জানা নেই। তিনি রাহুলের ফেসবুক পোস্টও দেখেননি। সহিংসতার পরদিন পুলিশ তাকে থানায় ডেকে নিয়ে তাদের লেখা এজাহারে সই করিয়ে নিয়েছে। পরদিন সেটি সংশোধন করে আবার নেয়া হয় সই।  

নড়াইলের সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টের জের ধরে ব্যাপক সহিংসতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফেসবুকে পোস্ট দেয়া শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায় এখন কারাগারে আছেন।

তবে মামলার বাদী বলছেন, রাহুল ফেসবুকে কী পোস্ট দিয়েছেন তা তিনি দেখেননি। পুলিশের অনুরোধে তিনি মামলার বাদী হয়েছেন, এমনকি এজাহারও লিখে দিয়েছে পুলিশ। তিনি শুধু সই করেছেন। ঘটনার পরদিন ১৯ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটি হলেও ২০ জুন পুলিশ বাদীর বাড়ি গিয়ে এজাহার ‘সংশোধন’ করে আবার তার সই নিয়েছেন।

মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস ১৮ জুন আকস্মিকভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে। একদল শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আগের দিন একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে পোস্ট দিয়েছেন।

বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আশপাশের এলাকার হাজারও মানুষ ক্যাম্পাসে জড়ো হয়। স্বপন কুমার সাহায্য চান স্থানীয় থানার।

একপর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। বিক্ষুব্ধরা স্বপন কুমার বিশ্বাসসহ কলেজের আরও দুই হিন্দু শিক্ষকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশব্যাপী। অলংকরণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা

পুলিশ পাহারায় বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি। শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পুলিশের সামনে শিক্ষকের এমন অপদস্ত হওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

নূপুর শর্মাকে সমর্থন করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাহুল দেবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় ৯ দিন পর মামলা করেছে পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে পুলিশের দাবি ছিল, স্বপন কুমারকে জুতার মালা পরানোর ঘটনা তারা ‘দেখেনি’। ভাইরাল ভিডিওটিও তাদের চোখে পড়েনি। এরই মধ্যে স্বপন কুমারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার তোড়জোড় শুরু করে কলেজ পরিচালনা কমিটি।

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের সামনে জুতার মালা পরানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

বিষয়টি নিয়ে রোববার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: পুলিশের সামনে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা কীভাবে?

শিক্ষক স্বপন কুমারকে নিয়ে নিউজবাংলার প্রতিবেদনটি নজরে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ সোমবার নিউজবাংলাকে জানান, স্বপন কুমারকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমন চেষ্টা করলেও মাউশি তাতে অনুমোদন দেবে না।

স্বপন কুমার ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়া নড়াইলের প্রশাসনও নড়েচড়ে বসে।

আরও পড়ুন: শিক্ষককে জুতার মালা: ঘুম ভাঙল প্রশাসনের, হারাচ্ছেন না পদ

কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিন। রোববার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। বিষয়টি নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর।

কলেজে সহিংসতার পরদিন ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দেয়া শিক্ষার্থী রাহুল দেব শর্মার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় রাহুল এখন কারাগারে।

রাহুলের বিরুদ্ধে মামলার বাদী যা বলছেন

শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বাদী মির্জাপুর হাজীবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলছেন, এজাহারে কী আছে সেটি তার জানা নেই। তিনি রাহুলের ফেসবুক পোস্টও দেখেননি। সহিংসতার পরদিন পুলিশ তাকে থানায় ডেকে নিয়ে তাদের লেখা এজাহারে সই করিয়ে নিয়েছে।

ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার পরের দিন দুপুরের দিকে ওসি সাহেব আমারে ফোন দিছেন যে, মামলার একজন বাদী হতে হবি, একজন বাদী বের করেন। কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করলাম, কেউ যাতি রাজি না।

‘আমি (ওসিকে) বললাম, মাগরিবের পরে আলোচনা করে কিডা যাবে আমি জানাচ্ছি আপনাদের। সে বলল, না, দেরি হয়ে যাবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। তাহলে একটা কাজ করেন, আপনি নিজেই বাদী হন। আমরা গাড়িতে করে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি, আবার দিয়ে যাব।’

ফারুক হোসেন বলেন, ‘পরে ওসি সাহেবের গাড়িতে করে গেলাম নড়াইল। নড়াইল গেলে ওসি সাহেব সব লিখে-টিখে সব কমপ্লিট করার পর আমি বললাম যে, আমার তো আবার মিটিং আছে, একটু তাড়াতাড়ি যাতি হবে।

‘তখন কলো (বলল), ঠিক আছে, কমপ্লেইন নিয়ে আমি এসপির কাছে যাব। ওখানে ডিআইজির সঙ্গে ফোন করে এডা আলোচনা করে আপনার স্বাক্ষর নেব। আপনার একটু দেরি করে যাতি হবে। তখন আমি ওখানে মাগরিবের নামাজ পড়লাম।’

এর পরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওসি সাহেব এরপর যাইয়ে এসপির সঙ্গে আলোচনা করে। ওইটা দেখাদেখি করার পর আমার কাছ থেকে একটা স্বাক্ষর নিল কেসে। যা লেখার উনারা লিখেছেন, আমি কিছু লেখিনি। আমি বলিওনি।

‘আমাক পড়ে শোনাল যে, এই ঘটনা। দেখলাম ওখানে যা হইছে, তাই। আমি যতদূর জানি সব সঠিক। সেইভাবে আমি স্বাক্ষর করি আসলাম।’

মামলা হয়ে যাওয়ার পর এজাহারের কপি পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, পরদিন পুলিশ তার বাসায় এসে জানায় এজাহারে কিছু সংশোধন করা হয়েছে। এরপর সেই ‘সংশোধিত’ কপিতে আগের দিনের তারিখেই ফারুক হোসেনের সই নেয়া হয়।

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারের মূল ও সংশোধিত কপি

এজাহারের প্রথম দিনের এবং পরদিনের দুটি কপিই পেয়েছে নিউজবাংলা। ফারুক হোসেনকে পুলিশ বলেছিল এজাহারের নতুন কপিতে কিছু বানান সংশোধন করা হয়েছে। তবে নিউজবাংলা দেখেছে, দুটি কপির মধ্যে ‘উক্ত সময়ে পুলিশ আইন শৃংখলা রক্ষার্থে ০৬ রাউন্ড গ্যাস গান ফায়ার করে‘- এই বাক্যটির হেরফের রয়েছে। একটি কপিতে বাক্যটি থাকলেও আরেকটিতে নেই।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আর পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়ের দাবি, মামলার এজাহার পরিবর্তনের বিষয়টি তার জানা নেই। রাহুলের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার লিখে ফারুক হোসেনের সই নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘জোর করে কাউকে তো বাদী বানানোর কথা নয়। ওই প্রসঙ্গটা আমার জানা নেই, থানায় যখন মামলা হয়েছে ওসি সাহেব জানেন। আমি তো এই ব্যাপারটা জানি না। যদি কেউ মামলা না করতে চায়, যদি কোনো বাদী না পাওয়া যায় তখন তো একভাবে না একভাবে মামলা করতেই হবে। উনি যদি মামলা করতে না যেত, তাহলে কি আমরা মামলা করতে পারতাম? যদিও এটা আমার জানা নেই।’

পুলিশ সুপার অবশ্য অভিযোগ অনুসন্ধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু বলেছেন, আমি খোঁজ নেব জিনিসটা কী হয়েছিল। যদি কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাদী মামলার একটা বড় অনুষঙ্গ। মামলা করতে গেলে বাদী লাগবেই। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আমরা সুয়োমোটো মামলা নেই, যেটাতে পুলিশই বাদী হয়।

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বাদী (ফারুক হোসেন) যেটা বলেছেন, সেটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত। মামলার বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে হয় না। সাক্ষীসাবুদ নিয়েই এজাহার করা হয়। বাদী এখন বলছেন যে তাকে বাদী বানানো হয়েছে, তিনি কিছু জানেন না। তিনি এটা বলতে পারেন। এটা যদি আমাদের কাছে আসে তাহলে আমরা তদন্তসাপেক্ষে দেখব।’

কোনো ব্যক্তির করা মামলার এজাহার পরে সংশোধন বা পরিবর্তন করার সুযোগ পুলিশের নেই বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মামলা করলে পরে পুলিশ চাইলে সেটি পরিবর্তন করতে পারে। তবে কোনো সাধারণ মানুষ বাদী হয়ে এজাহার তৈরির পর মামলা দায়ের হয়ে গেলে, তা আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এটি পরিবর্তন করা হলে তার আইনগত কোনো ভিত্তিও নেই।’

শিক্ষক হেনস্তার ৯ দিন পর মামলা

মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে সহিংসতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনার ৯ দিন পর সোমবার এ-সংক্রান্ত মামলা করেছে পুলিশ।

দণ্ডবিধির ৩৪, ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৪১, ৩৩২, ৩৫৩, ৩৫৫, ৪৩৬, ৪২৭, ৫০০ ধারায় করা এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের সামনে জুতার মালা পরানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

এরপর রোববার রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে আছেন কলেজের পাশের মির্জাপুর বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী শাওন খান। লাল গেঞ্জি পরা ৩০ বছর বয়সী শাওনকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ভিডিওতে চিহ্নিত করা গেছে।

শাওনের মা হোসনেয়ারা বেগম মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে আমার ছেলেকে দেখা করতে বলে মির্জাপুর ক্যাম্প পুলিশ। দেখা করতে গেলে তাকে আটকায় দিছে।’

হোসনেয়ারা বেগম দাবি করেন, তার ছেলে ঘটনার দিন শিক্ষক বা অভিযুক্ত ছাত্রকে বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। এর পরেও ‘বিনা কারণে’ পুলিশ তাকে নিয়ে গেছে। তবে স্বপন কুমারকে জুতা পরানোর ভিডিওতে শাওনকে শনাক্ত করেন হোসনেয়ারা।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আরও দুজন হলেন মির্জাপুর মধ্যপাড়া মো. মনিরুল ইসলাম এবং মির্জাপুরের সৈয়দ রিমন আলী।

কী আছে মামলার ধারায়

কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিনের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪ ধারা রয়েছে।

এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘যখন কিছু ব্যক্তি মিলে সবার একই অভিপ্রায় পূরণের জন্য কোনো অপরাধমূলক কাজ করেন তখন ওইসব ব্যক্তির প্রত্যেকেই ওই কাজের জন্য এভাবে দায়ী হবেন যেন কাজটি ওই ব্যক্তি এককভাবে করেছেন।’

মামলায় ১৪৩ ধারাও দিয়েছে পুলিশ। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো বেআইনি সমাবেশের সদস্য হবেন তিনি যেকোনো বর্ণনার সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, যার মেয়াদ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের সামনে জুতার মালা পরানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

৩২৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি ধারা৩৩৪ এ ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করলে তিনি যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে- যার পরিমাণ এক হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

দণ্ডবিধির ৩৪১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কেউ কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করলে তিনি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ এক মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে- যার পরিমাণ পাঁচশ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৩৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধাদান করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করলে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৩৫৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধাদানের উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করলে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে অথবা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৩৫৫ ধারায় বলা হয়েছে, ‘মারাত্মক প্ররোচনা ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অপমান করার জন্য আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করলে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে অথবা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৪২৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি অনিষ্ট সাধন করে এবং তার মাধ্যমে ৫০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি লোকসান বা ক্ষতি করলে সে ব্যক্তি যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৪৩৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘গৃহ ইত্যাদি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে আগুন বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে অনিষ্ট সাধন করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে-দণ্ডিত হবেন, এর সঙ্গে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।’

৪৪৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করলে তিনি যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে যার পরিমাণ পাঁচশ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৪৪৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি অনধিকার গৃহপ্রবেশ করলে তিনি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে যার পরিমাণ এক হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৫০০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি কারও মানহানি করলে তিনি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশব্যাপী। অলংকরণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা

আগের অবস্থান থেকে সরেছে প্রশাসন

শিক্ষক স্বপন কুমারকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে দেয়ার দৃশ্য ফেসবুকে ভাইরাল হলেও পুলিশ সপ্তাহখানেক পরেও দাবি করেছিল, তারা এ সম্পর্কে কিছু জানে না।

নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অধ্যক্ষকে যখন কলেজের কক্ষ থেকে বের করে আনা হয়, তখন সেখানে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। এ ছাড়া নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তখন কেউ তাকে জুতার মালা দিয়েছে কি না, আমরা দেখতে পারি নাই। এটা আমার জানাও নেই।’

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমি এখনও কোনো ভিডিও দেখি নাই। জুতার মালার ব্যাপারটাও জানি না। এ ঘটনায় আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা প্রতিবেদন দিলে যে বা যারা দোষী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তবে পুলিশ সুপার মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ঘটনার দিন তিনি বেশ খানিকটা দূরে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে স্বপন কুমারকে জুতার মালা পরিয়ে দেয়ার ঘটনা তার চোখে পড়েনি।

তিনি বলেন, ‘ওইদিন চারিদিক থেকে বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার জনতা ছিল। তাদের নিবৃত্ত করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। ওখানে স্বয়ং ডিসি সাহেব ছিলেন, আমি ছিলাম। আমরা সর্বদা চেষ্টা করেছি, যতটুকু কম বলপ্রয়োগ করে রক্তপাতহীনভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়, সেইভাবে আমরা চেষ্টা করেছি।

‘ডিসি সাহেব, আমরা অনেক বুঝিয়েছি লোকদের। ডিসি সাহেব এবং আমরা চেয়েছিলাম তাদের (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত ছাত্র) দ্রুত গাড়িতে তুলে রেসকিউ করতে। আমরা চেষ্টা করেছি সেইভাবে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ঠান্ডা করার জন্য, কথা বলার জন্য আমি এবং ডিসি সাহেব মেইন যে রাস্তা… ওই জায়গায় ছিলাম।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘যখন ওখান থেকে (কলেজ) তাদেরকে (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত ছাত্র) নামায়, আমি আর ডিসি সাহেব ছিলাম অন্য জায়গায়। মেইনে যে রাস্তা, যেখানে টার্ন করবে ওই জায়গাতে আমরা। আমাদের মুখটা ছিল উল্টোদিকে, জনগণকে আমরা বুঝাচ্ছিলাম, ওইটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।

‘এদিকে তারা টান দিয়ে নিয়ে যেয়ে গাড়িতে তুলবে সেই সময় হয়তো হঠাৎ করে এই কাজটা হয়তো হয়ে গেছে। এটাতে কিন্তু আমাদের নিজেদের কোনো ইয়ে ছিল না যে এ রকম হতে পারে। হওয়ার পরপর, কিছুক্ষণ পর হয়তো যখন তাদেরকে গাড়িতে তুলেছি হুড়োহুড়ির ভেতরে, তখন তার কিন্তু গলায় এটা দেখি নাই। একটু পরে যখন গাড়িতে তুলেছি হুড়োহুড়ির ভেতরে কেউ হয়তো খুলে ফেলে দিছে। ওই সময় তাদের নিয়ে মুভ করানোর সময় হয়তো কাজটা হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষককে জুতার মালা: ঘুম ভাঙল প্রশাসনের, হারাচ্ছেন না পদ
শিক্ষককে হত্যা: দুই দিনেও ধরা পড়েনি অভিযুক্ত ছাত্র
শিক্ষকের গলায় জুতার মালা: প্রতিবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
পুলিশের সামনে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা কীভাবে?
শিক্ষক নিয়োগ: চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The rampant business of carrying motorcycles in pickups on the Padma Bridge

পদ্মা সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি ১০০০ টাকা

পদ্মা সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি ১০০০ টাকা শর্তসাপেক্ষে পিকআপে পণ্য হিসেবে বাইক পরিবহন করতে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাইকগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢেকে নিতে বলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা
সেতুর দুই প্রান্তে এই পিকআপচালকদের এখন রমরমা ব্যবসা। সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি রাখা হচ্ছে ১০০০ টাকা, যেখানে বাইকের টোল কেবল ১০০ টাকা।

পদ্মা সেতুতে উঠতে পারবে না মোটরসাইকেল- সরকারের এমন ঘোষণার পরও কৌশলে সেতু পাড়ি দিচ্ছেন বাইকাররা। সোমবার সকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেখা গেছে মোটরসাইকেল তুলে নিয়ে সেতু পার করে দিচ্ছে বিভিন্ন পিকআপ ভ্যান। মঙ্গলবার ত্রিপল দিয়ে ঢেকে পিকআপে পার করা হচ্ছে বাইক।

সেতুর দুই প্রান্তে এই পিকআপচালকদের এখন রমরমা ব্যবসা। সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি রাখা হচ্ছে ১০০০ টাকা, যেখানে বাইকের টোল কেবল ১০০ টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, শর্তসাপেক্ষে পিকআপে পণ্য হিসেবে বাইক পরিবহন করতে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাইকগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢেকে নিতে বলা হচ্ছে। তা নাহলে বাইকাররা বাইকে বসে পিকআপে ভ্রমণের মাঝপথে সেতুতে নেমে যেতে পারে।

যান চলাচল শুরুর প্রথম দিন রোববার মোটরসাইকেলের ঢল, অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ও দুর্ঘটনায় দুই বাইকআরোহীর মৃত্যুর পর সোমবার সকাল থেকে পদ্মা সেতুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

পদ্মা সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি ১০০০ টাকা

পদ্মা পাড়ি দিতে বাইকারদের এখন বিকল্প পথ শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌপথ। মোটরসাইকেলের চাপের মুখে সোমবার মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে মাঝিরকান্দির উদ্দেশে একটি ফেরি ছেড়ে যায়। মঙ্গলবার সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর মঙ্গলবার বাইকাররা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে পিকআপে সেতু পাড়ি দিয়েছেন। এ জন্য তাদের গুনতে হয়েছে ১০০০ টাকা করে।

ঢাকা থেকে জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি যেতে মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় এসেছেন নড়াইলের রাসেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাবা খুবই অসুস্থ, তাই আমাকে বাড়ি যেতেই হবে। তাই মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলাম তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। কিন্তু টোল প্লাজা পার হতে পারলাম না। তাই পিকআপে পার হতে হচ্ছে, ১ হাজার টাকা নিবে।’

সাতক্ষীরা থেকে সোমবার ঢাকায় এসেছেন আব্দুল বাতেন। আসার সময় পিকআপে করে মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পার হয়েছেন ৮০০ টাকা দিয়ে। ফিরতি পথে পিকআপে করে মঙ্গলবার তাকে সেতু পার হতে হবে ১ হাজার টাকায়। তাও ত্রিপলের ভেতরে করে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এভাবে যাওয়া যায়? পিকআপে করে মোটরসাইকেল যাচ্ছে। তাহলে মোটরসাইকেলে করে যেতে পারব না কেন? ১০০ টাকা টোল দিয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু এখন ৯০০ টাকা বেশি দিয়ে ১ হাজার টাকা যেতে হচ্ছে।’

পদ্মা সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি ১০০০ টাকা

ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মো. হাফিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাড়ি মাদারিপুর। মোটরসাইকেলে করে বাড়ি যাব, কিন্তু যেতে পারিনি। পিকআপে মোটরসাইকেল উঠিয়ে ১ হাজার টাকা চাচ্ছে। আমার পক্ষে এই টাকা দেয়া সম্ভব নয়।

‘অন্য বাইকারদের দোষ আমাদের ওপর নেব কেন? যারা অপরাধ করছে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হোক। কিন্তু সব বাইকারদের যদি পদ্মা সেতুতে উঠতে না দেয়া হয়, তাহলে সেতুর সার্থকতা কীভাবে পাবে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ?’

পিকআপ চালক মোহাম্মদ শাজাহান মিয়া জানালেন, সকাল থেকে মোটরসাইকেল বহন করে তিন বার সেতু পাড়ি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘২টি মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে পারি। সকাল থেকে ৩টা ট্রিপ মেরেছি। প্রতিটি মোটরসাইকেল ১ হাজার টাকা করে। গতকাল টোলসহ সব খরচ বাদ দিয়ে ৪ হাজার ৭০০ টাকা টিকছে।’

আরেক পিকআপ চালক মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, ‘সব সময় তো ব্যবসা করা যায় না। গতকাল পিকআপ লইয়া তিনবার গেছি আইসি, আজ গেছি একবার আসছি একবার। ভাড়া ১০০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।

‘পিকআপে করে দুইটি হোন্ডা নিতে পারি। টোল ভাড়া আসতে যাইতে ২ হাজার ৪০০ টাকা। ৪ হাজার টাকা ইনকাম, খরচ বাদে কিছু টাকা থাকে। গতকাল হোন্ডা বেশি ছিল আর আয়ও ভালো হইছে।’

পদ্মা সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি ১০০০ টাকা

ঢাকার মিনি ট্রাকচালক আরমান মিয়া বলেন, ‘৮টা হোন্ডা নিতে পারি। আমার ট্রাকের টোল ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা, আইতে যাইতে খরচ ৩ হাজার ২০০ টাকা। সকালে একবার গেছি আইছি, এখন আবার যাওয়ার জন্য ট্রাক ভরতাছি; লাভটা ভালই।’

আরেক মিনি ট্রাকচালক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘গতকাল ২টা ট্রিপ মারছি, আজ একটা মারছি। এখন ওপারে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল উঠাইতেছি, তবে আজকে মোটরসাইকেলের সংখ্যা কম। গতকাল দাঁড়াইতে হয় নাই, সঙ্গে সঙ্গে ভইরা গেছে। আজ ৮০০ টাকা করে এখন মোটরসাইকেল ওঠাইতাছি।’

বাংলাদেশ সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপারে নিষেধাজ্ঞার কারণে টোল প্লাজায় আজ মোটরসাইকেলের সংখ্যা খুবই কম।’

পিকআপে করে মোটরসাইকেল পার হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু মোটরসাইকেল পিকআপে করে পণ্য হিসেবে পদ্মা সেতু দিয়ে পার হচ্ছে। তবে সেসব পিকআপকে মোটরসাইকেলে ঢেকে পার হতে হচ্ছে।

‘আবার কিছু কিছু পিকআপ ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। যারা মোটরসাইকেলের ওপরে বসে যাচ্ছে, তাদেরকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। কারণ তারা নেমে ছবি তুলতে পারে। নিরাপত্তারজনিত কারণে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেনে ঢাকা-যশোর পৌনে ২ ঘণ্টা
চালু হচ্ছে ফরিদপুর-ঢাকা বাস সার্ভিস
পদ্মা জয়ের সাহসে সঙ্গী প্রবাসীরা
পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্টে উল্টে গেল ট্রাক
কলকাতা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে এলো ‘সৌহার্দ্য’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher beaten to death Protest in CU

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: চবিতে প্রতিবাদ

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: চবিতে প্রতিবাদ শিক্ষক উৎপল কুমারকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকারের কাছে অনুরোধ করব উৎপল কুমার হত্যাকাণ্ডের যেন দ্রুত বিচার হয়। আর কেউ যেন এ পেশাকে কলুষিত না করে। অভিভাবকদের বলব, তারা তাদের সন্তানদের যেন নৈতিক শিক্ষা দেন।’

ঢাকার সাভারে কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎপল কুমার সরকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগ ও ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

৪১তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফণী ভূষণ বিশ্বাস বলেন, ‘উৎপল আমার খুব কাছের বন্ধু। ও যে রুমে থাকত সেখানে আমিও দুই রাত ছিলাম। পরশু দিন অভিযুক্ত ছেলেটা একাই এসে তাকে ব্যাট ও স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করে।

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: চবিতে প্রতিবাদ
নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার। ছবি: সংগৃহীত

‘যতদূর জানি আঘাতটা উৎপলের মাথায় লাগে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানায়, উৎপলের পেট থেঁতলানো ছিল। তার অর্গানগুলোও বের হয়ে ছিল। এতে বোঝা যায়, এটা পরিকল্পিত হত্যা। যে ছাত্র এই ঘটনায় অভিযুক্ত, তিনি কলেজ মালিকের ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। শুধু হত্যাকারী নয়, কলেজের ম্যানেজিং কমিটি ও মালিকপক্ষকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

৪১তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা সব সময় শিক্ষকদের মাথার তাজ মনে করি। শিক্ষকশ্রেণি লাঞ্ছিত হলে আমরা তা মেনে নিতে পারি না। উৎপল ৪১তম ব্যাচের আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দীর্ঘ সাত বছর আমরা একসঙ্গে কাটিয়েছি। আমাদের বন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যে ছাত্র এই কাজ করেছে আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী বলেন, ‘আমদের শিক্ষকসমাজ বারবার নিগৃহীত হচ্ছে। শিক্ষকসমাজ লাঞ্ছিত হওয়া মানে দেশ, সমাজ লাঞ্ছিত হওয়া। আজকে যারা প্রশাসনে আছেন তাদেরও শিক্ষক এই শিক্ষকসমাজ।

‘আমরা কতটা নিচে নেমেছি সেখানে আমাদের শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন, নিগৃহীত হচ্ছেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। উৎপলকে যারা বর্বরোচিতভাবে হত্যা করেছে আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আজকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। এ প্রতিবাদ শুধু শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর না। এ প্রতিবাদ দেশের সংবেদশীল মানুষের, বিবেকবান মানুষের, এ দেশকে যারা ভালোবাসে তাদের। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

‘শুধু অপরাধীকে, একজন খুনিকে ধরে আইনের আওতায় শাস্তি দিলেই যে অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পেয়ে যাব আমরা তা নয়। আমাদের সমাজেও সংস্কার জরুরি।’

অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকারের কাছে অনুরোধ করব উৎপল কুমার হত্যাকাণ্ডের যেন বিচার হয়। আর কেউ যেন এ পেশাকে কলুষিত না করে। শিক্ষককে যেন বাবার আসনে স্থান দেয়া হয়। অভিভাবকদের বলব, তারা তাদের সন্তানদের যেন নৈতিক শিক্ষা দেন।’

এর আগে গত শনিবার দুপুরে সাভারের হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে হামলার ঘটনাটি ঘটে।

কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা ছেলেদের ফুটবল ও মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। শনিবার স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। এ সময় প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলা ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল ছেলে শিক্ষার্থীরা।

‘অভিযুক্ত ছাত্রও দ্বিতীয় তলায় ছিল। হঠাৎ সে নেমে মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষক উৎপলকে স্ট্যাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় উৎপলকে উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আজ (সোমবার) সকালে উৎপলের মৃত্যু হয়।’

অধ্যক্ষ জানান, উৎপলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আরও পড়ুন:
শিক্ষককে হত্যা: দুই দিনেও ধরা পড়েনি অভিযুক্ত ছাত্র

মন্তব্য

p
উপরে