× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Complaint to police against fake status Noor on fake page
hear-news
player
print-icon

‘ফেইক পেজে’ আপত্তিকর স্ট্যাটাস, নুরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ফেইক-পেজে-আপত্তিকর-স্ট্যাটাস-নুরের-বিরুদ্ধে-থানায়-অভিযোগ
ডাকসুর সাবেক জিএস ও গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর। ফাইল ছবি
নুর বলেন, ‘যে পেজ থেকে স্ট্যাটাস দেয়ার কথা বলা হচ্ছে সেটি ফেইক। আমার অরজিনাল পেজে ১৩ লাখের ওপর ফলোয়ার। আর সেই ফেইক পেজের ফলোয়ার ১ লাখ ৭৫ হাজারের মতো। এটি আমার নামে একটি ফেইক পেজ। এটা নিয়ে আমি একাধিকবার পোস্টও দিয়েছি।’

ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ এনে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে নুর দাবি করেছেন, যে পেজ থেকে ওই স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে, সেটি তিনি চালান না। তার নামে ফেইক পেজ খোলা হয়েছে।

রোববার বিকেলে ঢাকা আইন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এম সাচ্ছু আহমেদ শাহবাগ থানায় এই অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল, শনিবার রাত ১০টার সময় তিনি বাসায় বসে নুরের ফেসবুক পেজ থেকে স্ট্যাটাসটি দেখতে পান।

স্ট্যাটাসটি ছিল এ রকম, ‘শ্রীলঙ্কার সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রীর বাবার মূর্তির কী অবস্থা করেছেন সেই দেশের জনগণ। সুতরাং আমার দেশের শেখ মুজিব যেন শেষ মুজিব না হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা আছে কিন্তু তাকে নিয়ে এত কিছু করার কিছু নাই।’

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এরূপ বাজে মন্তব্য রাষ্ট্রের জন্য চরম মানহানিকর উল্লেখ করে নুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আর্জি জানানো হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে নুর বলেন, ‘যে পেজ থেকে স্ট্যাটাস দেয়ার কথা বলা হচ্ছে সেটি ফেইক। আমার অরজিনাল পেইজে ১৩ লাখের ওপর ফলোয়ার। আর সেই ফেইক পেজের ফলোয়ার ১ লাখ ৭৫ হাজারের মতো।

‘এটি আমার নামে একটি ফেইক পেজ। এটা নিয়ে আমি একাধিকবার পোস্টও দিয়েছি।’

সেই পোস্টের ভাষা আপত্তিকর বলছেন নুর নিজেও। বলেন, ‘আমিও চাই, সেই পেজটি যারা চালায় এবং এই পোস্ট যারা দিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।’

নুর কট্টর সরকারবিরোধী অবস্থানে আছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ দিয়ে। তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহম্মদ মুহসীন হল কমিটির নেতা ছিলেন। তবে পরে ছাত্রলীগের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয় সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যুতে।

৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাতে অংশ নেন নুরও। আর নানা সময় ছাত্রলীগ তার ওপর হামলা করেছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা উঠিয়ে দেয়ার পর পরিষদের ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নুর ভিপি নির্বাচিত হন।

সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক বছরের মাথায় নুর গঠন করেছেন রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ। তিনি নিজে হয়েছেন সদস্যসচিব। আহ্বায়ক পদ দেয়া হয়েছে গণফোরাম থেকে বাদ পড়া রেজা কিবরিয়াকে, যিনি আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ স ম কিবরিয়ার ছেলে।

আরও পড়ুন:
হিন্দু পরিবারে হামলা: দুই মামলায় গ্রেপ্তার ১৮
বাগেরহাটে হিন্দু পরিবারে হামলার নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা
ফেসবুকে ‘ধর্ম অবমাননা’: যুবক আটক, বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন
ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট সরানো নিয়ে রুল
পুলিশের ফেসবুক পেজে বিতর্কিত শেয়ার ‘ভুলবশত’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Destiny instructed to submit a report on Aarons health

ডেসটিনির হারুনের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

ডেসটিনির হারুনের স্বাস্থ্য নিয়ে  প্রতিবেদন জমার নির্দেশ ফাইল ছবি
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বোর্ড গঠন করে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বোর্ড গঠন করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মো নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে হারুন-অর-রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রবিউল আলম বুদু ও মঈনুল ইসলাম।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটনি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বোর্ড গঠন করে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কারাকর্তৃপক্ষ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে আদেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

গত ১২ মে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনকে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং গ্রুপের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেয় আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ দণ্ড দেন।

ডেসটিনির দুই অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের নামে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই কলাবাগান থানায় দুটি মামলা হয়। এসব মামলায় ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ করা হয়।

দুই মামলার একটিতে ২০১৪ সালে ১৯ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। অন্য মামলাটিতে অভিযোগপত্র দেয়া হয় ৪৬ জনের নামে।

ডেসটিনির কারাবন্দি এমডি রফিকুল আমীনসহ ১২ জন দুই মামলারই আসামি। এগুলোতে মোট আসামি ৫৩ জন।

দুই মামলায় ৪৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করে আদালত। জরিমানার এই টাকা থেকে গ্রাহকদের দায়দেনা পরিশোধ করা হবে বলে আদেশে জানিয়ে দেয় বিচারিক আদালত।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন আবেদন করলে গত ৯ জুন ডেসটিনির প্রেসিডেন্টের জামিন আবেদন খারিজ করে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। তবে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে মামলার নথি তলব করে মামলার পেপার বুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়।

পাশাপাশি এ মামলায় পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারির নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন:
ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীনের স্ত্রী কারাগারে
ডেসটিনির হারুনসহ ৪৫ জনের সাজা বাড়াতে আবেদন
সাবেক সেনাপ্রধান হারুনকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The child died in a shooting while playing with the fathers gun

বাবার বন্দুক নিয়ে খেলা, গুলিতে শিশুর মৃত্যু

বাবার বন্দুক নিয়ে খেলা, গুলিতে শিশুর মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এসক্যাম্বিয়া কাউন্টির পুলিশপ্রধান চিপ সাইমন্স। ছবি: এবিসি নিউজ
ঘটনার বর্ণনায় পুলিশপ্রধান জানান, ফ্লোরিডার একটি মোটেলের রুমে আট বছরের এক শিশুর হাতে ছিল তার বাবার বন্দুক। গুলিভর্তি বন্দুকটি নিয়ে অন্য দুই শিশুর সঙ্গে খেলায় মেতেছিল সে। এ সময় হঠাৎ একটি গুলি সরাসরি বিদ্ধ হয় এক বছরের একটি শিশুর শরীরে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আহত হয় তাদের সঙ্গে খেলারত দুই বছরের আরেকটি শিশু। গুলির সময় মোটেলের অন্য কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন র‍্যানডেল ও তার বান্ধবী।’

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মোটেলে বন্দুক নিয়ে খেলার সময় গুলিতে এক বছর বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ওই শিশুটির দুই বছর বয়সী বোন। বন্দুকটি ছিল আট বছর বয়সী একটি ছেলেশিশুর বাবার।

এ ঘটনায় ওই ছেলেশিশুর বাবা রোডেরিক ডায়নে র‍্যানডেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এসক্যাম্বিয়া কাউন্টির পুলিশপ্রধান চিপ সাইমন্স বলেন, ‘একজন আসামির বন্দুক রাখার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৫ বছর বয়সী র‍্যানডেলকে। তার বিরুদ্ধে অপরাধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নষ্ট করা, আগ্নেয়াস্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা ও হেয়ালিপনার অভিযোগ আনা হয়েছে।’

ঘটনার বর্ণনায় পুলিশপ্রধান জানান, ফ্লোরিডার একটি মোটেলের রুমে আট বছরের এক শিশুর হাতে ছিল তার বাবার বন্দুক। গুলিভর্তি বন্দুকটি নিয়ে অন্য দুই শিশুর সঙ্গে খেলায় মেতেছিল সে। এ সময় হঠাৎ একটি গুলি সরাসরি বিদ্ধ হয় এক বছরের একটি শিশুর শরীরে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আহত হয় তাদের সঙ্গে খেলারত দুই বছরের আরেকটি শিশু।’

গুলির সময় মোটেলের অন্য কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন র‍্যানডেল ও তার বান্ধবী।

আট বছরে ছেলেশিশুটির বাবা হলেন র‍্যানডেল। আর এক ও দুই বছর বয়সী কন্যাশিশু দুটির মা হচ্ছেন র‍্যানডেলের বান্ধবী। গুলিতে নিহত শিশুটির নাম ‘কাচে ব্যাস’।

পুলিশ জানায়, ওই দুই শিশুর মাকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়নি।

র‍্যানডেল তার অস্ত্রটি শিশু তিনটি যে রুমে খেলছিল সেখানে একটি আলমারিতে রেখেছিলেন। র‍্যানডেলের ছেলে অস্ত্রটি খুঁজে পায় এবং অন্য শিশু দুটির সঙ্গে তা দিয়ে খেলতে শুরু করে। এ সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

গুলির শব্দ শুনে র‍্যানডেল শিশুদের রুমটিতে আসেন এবং অস্ত্রটিসহ এক ব্যাগ সন্দেহভাজন মাদক সেখান থেকে সরিয়ে ফেলেন।

পুলিশপ্রধান বলেন, ‘এভাবে অবহেলায় আমরা আমাদের সন্তানদের প্রতিপালন করতে চাই না, তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করতে চাই না। এটি খুবই হতাশাজনক এবং অপ্রত্যাশিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘র‍্যানডেলের বিরুদ্ধে রয়েছে ১২৯ পৃষ্ঠার অপরাধের দলিল। এগুলোর মধ্যে ১৪টি বড় ধরনের অপরাধ। ৪১ হাজার ডলার বন্ড দিয়ে জামিনে রয়েছেন তিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশপ্রধান আরও বলেন, ‘শিশুর প্রতি অন্যায় ও খামখেয়ালির অপরাধে গত সপ্তাহে এক মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই মা তার এক বছর বয়সী ছেলেসন্তানকে গাড়িতে আটকিয়ে রেখে বারে যান। এ সময় গাড়ির সব উইন্ডোজ বন্ধ ছিল। ম্যাডিসন হ্যালি হার্ট নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারীকে সন্তানের প্রতি নিষ্ঠুরতার অপরাধে কারাগারে পাঠানো হয়।’

অস্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন এভরিটাউন ফর গান সেফটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর ১৮ বছরের নিচের শিশুদের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে কমপক্ষে ৩৯২টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬৩ জনের।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর ৩১ সদস্য গ্রেপ্তার
বন্দুক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে ফের গুলি, নিহত ৩
‘খুন’ করে কলকাতা পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যা
জার্মানির সুপার মার্কেটে বন্দুক হামলা, নিহত ২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The detainee escaped from custody

হাজত থেকে আটক ব্যক্তি পলাতক

হাজত থেকে আটক ব্যক্তি পলাতক
পুলিশ জানায়, চুনারুঘাট উপজেলার ২ নম্বর আহমদাবাদ ইউনিয়নের সুন্দরপুর গ্রামে মো. হাবিবের বাড়িতে চুরির সময় স্থানীয়রা শাহ আলমকে আটক করে। এরপর রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় দেয়। ১০টার দিকে শাহ আলম হাজত থেকে পালিয়ে যান।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চুরির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তি হাজত থেকে পালিয়ে গেছেন।

চুনারুঘাট থানা থেকে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া শাহ আলমের বাড়ি চুনারুঘাট পৌর শহরের চন্দনা গ্রামে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী আশরাফ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, চুনারুঘাট উপজেলার ২ নম্বর আহমদাবাদ ইউনিয়নের সুন্দরপুর গ্রামে মো. হাবিবের বাড়িতে চুরির সময় স্থানীয়রা শাহ আলমকে আটক করে। এরপর রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় দেয়। ১০টার দিকে শাহ আলম হাজত থেকে পালিয়ে যান।

ওসি আশরাফ বলেন, ‘শাহ আলমকে আটকের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। দ্রুতই আটক করা হবে।’

আরও পড়ুন:
হাতির দাঁতসহ গ্রেপ্তার দুজন কারাগারে
স্কুলের সামনে রামদা হাতে মারধর, ২ যুবক আটক
টেকনাফে অস্ত্র-গুলিসহ একজন আটক
তরুণীর হাত-পা বাঁধা গলা কাটা দেহ, স্বামী আটক
পিস্তল-গুলিসহ যুবক আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Case filed against two policemen for embezzling passengers luggage

ভারতফেরত যাত্রীর মালামাল আত্মসাৎ, দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতফেরত যাত্রীর মালামাল আত্মসাৎ, দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
পুলিশ সুপার রবিউল হাসান বলেন, ‘স্টেশনে যাত্রী হয়রানি, মালামাল লুট ও চাঁদাবাজির অভিযোগটি কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মজনুর রহমান তদন্ত করেন। ৮ জুন তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে ওই অভিযোগের সত্যতা মেলে। এরপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।’

যশোর রেলওয়ে স্টেশনে ভারতফেরত যাত্রীকে আটকে রেখে হয়রানি, মালামাল লুট ও চাঁদাবাজিতে জড়িত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

রেলওয়ে পুলিশের দুই কনস্টেবল আবু বক্কার ও আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার এই মামলা হয়। এর আগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রবিউল হাসান।

তিনি বলেন, ‘স্টেশনে যাত্রী হয়রানি, মালামাল লুট ও চাঁদাবাজির অভিযোগটি কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মজনুর রহমান তদন্ত করেন। ৮ জুন তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে ওই অভিযোগের সত্যতা মেলে। এর পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে আজ মামলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

যশোর রেলওয়ে স্টেশনে গত ৫ জুন রাতে হয়রানির শিকার হন সিরাজগঞ্জের সালঙ্গা থানার ধুপিল মেহমানশাহী গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা তেজগাঁও কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র টি এম রাশিদুল হাসান। ঘটনার পরদিন ৬ জুন তিনি জিআরপি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ করেন।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যশোর রেলওয়ে স্টেশনে যান পুলিশ কর্মকর্তা মজনুর রহমান। সিরাজগঞ্জ থেকে যশোরে আসেন অভিযোগকারী রাশিদুল হাসান।

পুলিশ কর্মকর্তা মজনুর রহমান ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি অভিযোগকারী, স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান, রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, জিআরপি ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম, ফাঁড়ির কনস্টেবল এবং স্টেশনের বিভিন্ন দোকানির সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কনস্টেবলদেরও জবানবন্দি নেন।

পরে রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মজনুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।’

যা ঘটেছিল

হয়রানির শিকার তেজগাঁও কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র টি এম রাশিদুল হাসান জানান, গত ৫ জুন তিনি ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে আসেন। এরপর বাসে করে রাত ৮টার দিকে যশোর স্টেশনে আসেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসে করে বাড়ি (সিরাজগঞ্জ) যাওয়ার জন্য।

স্টেশনে অবস্থানকালে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) কনস্টেবল আবু বক্কার, আতিকুর রহমানসহ সাদা পোশাকধারী আরও তিনজন তার ব্যাগ তল্লাশির নামে ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে ভারত থেকে আনা পোশাক, প্রসাধনীসহ প্রায় ১৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে নেন।

পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নিয়ে সাদা কাগজে সই রেখে ছেড়ে দেন। রাত দেড়টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়ার পর বাধ্য হয়ে প্রাইভেট কার ভাড়া করে রাশিদুল বাড়িতে ফেরেন।

রাশিদুল জানান, রেলওয়ে পুলিশের এই মালামাল লুট, চাঁদাবাজির বিষয়টি তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে এবং পরে রেলওয়ে পুলিশের হেডকোয়ার্টারে লিখিত জানান।

রাশিদুল আরও জানান, ওই রাতে তিনি যে বিকাশ নাম্বারে টাকা দিয়েছেন তার স্কিনশট, গোপনে পুলিশ কনস্টেবলদের তোলা ছবি ও ভিডিও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। পাশাপাশি ঘটনার সময় স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেও তার অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকার গণপরিবহনে হয়রানির শিকার ৬৩ শতাংশ নারী
কলেজছাত্রীকে ‘উত্ত্যক্ত করায়’ গ্রাম পুলিশ কারাগারে
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বদলি
উদ্বোধনের আগেই সেতুতে বরযাত্রীর গাড়ি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়রানির শিকার ৭৪ শতাংশ ছাত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shoe garland to teacher National University Investigation Committee

শিক্ষককে জুতার মালা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি

শিক্ষককে জুতার মালা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ দপ্তর) মো. আতাউর রহমান জানান, ২৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৮তম সিন্ডিকেট সভায় স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা আলোচনা হয় এবং নিন্দা প্রকাশ করা হয়। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান।

নড়াইলে পুলিশের সামনে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা দিয়ে অপদস্ত করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান করে কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ দফতর) মো. আতাউর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘২৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৮তম সিন্ডিকেট সভায় স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা আলোচনা হয় এবং নিন্দা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ দোষী চিহ্নিত হলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে কলেজের এক হিন্দু শিক্ষার্থীর পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুন দিনভর বিক্ষোভ, সহিংসতা চলে নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে। গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস।

এরপর পুলিশ পাহারায় বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি। শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পুলিশের সামনে শিক্ষকের এমন অপদস্ত হওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওতে শিক্ষক স্বপন কুমারের গলায় জুতার মালা পরানোর সময় আশপাশে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেলেও তারা এখন দাবি করছে, এমন কোনো ঘটনা তাদের চোখে পড়েনি। ঘটনার ৯ দিনের মাথায় এ ব্যাপারে মামলা করেছে পুলিশ। স্বপন কুমারকে জুতার মালা পরানোয় সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 arrested for threatening to kill Juba League leader

যুবলীগ নেতাকে ‘হত্যার হুমকি’, গ্রেপ্তার ৩

যুবলীগ নেতাকে ‘হত্যার হুমকি’, গ্রেপ্তার ৩
ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীকে হত্যার হুমকির অভিযোগে করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার মোস্তফা ফরিদের দেয়া লিখিত অভিযোগটি মঙ্গলবার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। আসামি করা হয় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩/৪ জনকে।

আসামিরা হলেন শহরের কাজীপাড়ার তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু, লোন অফিস পাড়ার আশিকুল ইসলাম বাঁধন, কাজীপাড়ার তেঁতুলতলার রওশন ইকবাল শাহী, কাঁঠালতলার বাবুল, রেলগেট তেঁতুলতলার ফাহমিদ হুদা বিজয়, কাঁঠালতলা বটতলার তাপস, কাজীপাড়া মানিকতলার নূর নবী এবং কাজীপাড়ার মেহেদী হাসান রনি।

এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাবুল, তাপস ও নূর নবীকে।

মামলার বাদী মোস্তফা ফরিদ যশোর শহরের খালধার রোডের বাসিন্দা। জেলা যুবলীগের সভাপতি ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও রয়েছেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করায় ফন্টু আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং আমাকে মেরে ফেলার পাঁয়তারা করে আসছেন। রোববার রাত আড়াইটার দিকে আসামিরা দুটি গাড়িতে করে আমার বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ঘর থেকে বের হয়ে আসলে ফন্টু আমাকে প্রকাশ্যে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর গাড়ি দুটি আবার আমার বাড়ির সামনে এসে ফন্টু বলেন, পথ পরিষ্কার করে ফেলব। আমি পুলিশে খবর দিলে টহল গাড়ি এসে পড়ায় তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান।

অভিযোগের বিষয়ে তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
সাবেক ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
চাচাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে দুই যুবক গ্রেপ্তার
ছাত্রী উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শিক্ষিকা লাঞ্ছিত, গ্রেপ্তার ৪
চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার কাউন্সিলরকে ফাঁসানোর অভিযোগ
কুমিল্লায় ২০০ এনআইডির ফটোকপিসহ যুবক গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shoe garland to the teacher The author of the statement against the student is the police

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ পুলিশের গাড়িতে তোলার আগে শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস ও শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি (বাঁয়ে) এবং রাহুলের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারের কপি। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বাদী মো. ফারুক হোসেন বলছেন, এজাহারে কী আছে সেটি তার জানা নেই। তিনি রাহুলের ফেসবুক পোস্টও দেখেননি। সহিংসতার পরদিন পুলিশ তাকে থানায় ডেকে নিয়ে তাদের লেখা এজাহারে সই করিয়ে নিয়েছে। পরদিন সেটি সংশোধন করে আবার নেয়া হয় সই।  

নড়াইলের সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টের জের ধরে ব্যাপক সহিংসতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফেসবুকে পোস্ট দেয়া শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায় এখন কারাগারে আছেন।

তবে মামলার বাদী বলছেন, রাহুল ফেসবুকে কী পোস্ট দিয়েছেন তা তিনি দেখেননি। পুলিশের অনুরোধে তিনি মামলার বাদী হয়েছেন, এমনকি এজাহারও লিখে দিয়েছে পুলিশ। তিনি শুধু সই করেছেন। ঘটনার পরদিন ১৯ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটি হলেও ২০ জুন পুলিশ বাদীর বাড়ি গিয়ে এজাহার ‘সংশোধন’ করে আবার তার সই নিয়েছেন।

মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস ১৮ জুন আকস্মিকভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে। একদল শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আগের দিন একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে পোস্ট দিয়েছেন।

বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আশপাশের এলাকার হাজারও মানুষ ক্যাম্পাসে জড়ো হয়। স্বপন কুমার সাহায্য চান স্থানীয় থানার।

একপর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। বিক্ষুব্ধরা স্বপন কুমার বিশ্বাসসহ কলেজের আরও দুই হিন্দু শিক্ষকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশব্যাপী। অলংকরণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা

পুলিশ পাহারায় বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি। শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পুলিশের সামনে শিক্ষকের এমন অপদস্ত হওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

নূপুর শর্মাকে সমর্থন করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাহুল দেবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় ৯ দিন পর মামলা করেছে পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে পুলিশের দাবি ছিল, স্বপন কুমারকে জুতার মালা পরানোর ঘটনা তারা ‘দেখেনি’। ভাইরাল ভিডিওটিও তাদের চোখে পড়েনি। এরই মধ্যে স্বপন কুমারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার তোড়জোড় শুরু করে কলেজ পরিচালনা কমিটি।

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের সামনে জুতার মালা পরানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

বিষয়টি নিয়ে রোববার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: পুলিশের সামনে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা কীভাবে?

শিক্ষক স্বপন কুমারকে নিয়ে নিউজবাংলার প্রতিবেদনটি নজরে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ সোমবার নিউজবাংলাকে জানান, স্বপন কুমারকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমন চেষ্টা করলেও মাউশি তাতে অনুমোদন দেবে না।

স্বপন কুমার ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়া নড়াইলের প্রশাসনও নড়েচড়ে বসে।

আরও পড়ুন: শিক্ষককে জুতার মালা: ঘুম ভাঙল প্রশাসনের, হারাচ্ছেন না পদ

কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিন। রোববার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। বিষয়টি নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর।

কলেজে সহিংসতার পরদিন ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দেয়া শিক্ষার্থী রাহুল দেব শর্মার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় রাহুল এখন কারাগারে।

রাহুলের বিরুদ্ধে মামলার বাদী যা বলছেন

শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বাদী মির্জাপুর হাজীবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলছেন, এজাহারে কী আছে সেটি তার জানা নেই। তিনি রাহুলের ফেসবুক পোস্টও দেখেননি। সহিংসতার পরদিন পুলিশ তাকে থানায় ডেকে নিয়ে তাদের লেখা এজাহারে সই করিয়ে নিয়েছে।

ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার পরের দিন দুপুরের দিকে ওসি সাহেব আমারে ফোন দিছেন যে, মামলার একজন বাদী হতে হবি, একজন বাদী বের করেন। কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করলাম, কেউ যাতি রাজি না।

‘আমি (ওসিকে) বললাম, মাগরিবের পরে আলোচনা করে কিডা যাবে আমি জানাচ্ছি আপনাদের। সে বলল, না, দেরি হয়ে যাবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। তাহলে একটা কাজ করেন, আপনি নিজেই বাদী হন। আমরা গাড়িতে করে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি, আবার দিয়ে যাব।’

ফারুক হোসেন বলেন, ‘পরে ওসি সাহেবের গাড়িতে করে গেলাম নড়াইল। নড়াইল গেলে ওসি সাহেব সব লিখে-টিখে সব কমপ্লিট করার পর আমি বললাম যে, আমার তো আবার মিটিং আছে, একটু তাড়াতাড়ি যাতি হবে।

‘তখন কলো (বলল), ঠিক আছে, কমপ্লেইন নিয়ে আমি এসপির কাছে যাব। ওখানে ডিআইজির সঙ্গে ফোন করে এডা আলোচনা করে আপনার স্বাক্ষর নেব। আপনার একটু দেরি করে যাতি হবে। তখন আমি ওখানে মাগরিবের নামাজ পড়লাম।’

এর পরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওসি সাহেব এরপর যাইয়ে এসপির সঙ্গে আলোচনা করে। ওইটা দেখাদেখি করার পর আমার কাছ থেকে একটা স্বাক্ষর নিল কেসে। যা লেখার উনারা লিখেছেন, আমি কিছু লেখিনি। আমি বলিওনি।

‘আমাক পড়ে শোনাল যে, এই ঘটনা। দেখলাম ওখানে যা হইছে, তাই। আমি যতদূর জানি সব সঠিক। সেইভাবে আমি স্বাক্ষর করি আসলাম।’

মামলা হয়ে যাওয়ার পর এজাহারের কপি পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, পরদিন পুলিশ তার বাসায় এসে জানায় এজাহারে কিছু সংশোধন করা হয়েছে। এরপর সেই ‘সংশোধিত’ কপিতে আগের দিনের তারিখেই ফারুক হোসেনের সই নেয়া হয়।

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারের মূল ও সংশোধিত কপি

এজাহারের প্রথম দিনের এবং পরদিনের দুটি কপিই পেয়েছে নিউজবাংলা। ফারুক হোসেনকে পুলিশ বলেছিল এজাহারের নতুন কপিতে কিছু বানান সংশোধন করা হয়েছে। তবে নিউজবাংলা দেখেছে, দুটি কপির মধ্যে ‘উক্ত সময়ে পুলিশ আইন শৃংখলা রক্ষার্থে ০৬ রাউন্ড গ্যাস গান ফায়ার করে‘- এই বাক্যটির হেরফের রয়েছে। একটি কপিতে বাক্যটি থাকলেও আরেকটিতে নেই।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আর পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়ের দাবি, মামলার এজাহার পরিবর্তনের বিষয়টি তার জানা নেই। রাহুলের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার লিখে ফারুক হোসেনের সই নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘জোর করে কাউকে তো বাদী বানানোর কথা নয়। ওই প্রসঙ্গটা আমার জানা নেই, থানায় যখন মামলা হয়েছে ওসি সাহেব জানেন। আমি তো এই ব্যাপারটা জানি না। যদি কেউ মামলা না করতে চায়, যদি কোনো বাদী না পাওয়া যায় তখন তো একভাবে না একভাবে মামলা করতেই হবে। উনি যদি মামলা করতে না যেত, তাহলে কি আমরা মামলা করতে পারতাম? যদিও এটা আমার জানা নেই।’

পুলিশ সুপার অবশ্য অভিযোগ অনুসন্ধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু বলেছেন, আমি খোঁজ নেব জিনিসটা কী হয়েছিল। যদি কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাদী মামলার একটা বড় অনুষঙ্গ। মামলা করতে গেলে বাদী লাগবেই। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আমরা সুয়োমোটো মামলা নেই, যেটাতে পুলিশই বাদী হয়।

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বাদী (ফারুক হোসেন) যেটা বলেছেন, সেটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত। মামলার বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে হয় না। সাক্ষীসাবুদ নিয়েই এজাহার করা হয়। বাদী এখন বলছেন যে তাকে বাদী বানানো হয়েছে, তিনি কিছু জানেন না। তিনি এটা বলতে পারেন। এটা যদি আমাদের কাছে আসে তাহলে আমরা তদন্তসাপেক্ষে দেখব।’

কোনো ব্যক্তির করা মামলার এজাহার পরে সংশোধন বা পরিবর্তন করার সুযোগ পুলিশের নেই বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মামলা করলে পরে পুলিশ চাইলে সেটি পরিবর্তন করতে পারে। তবে কোনো সাধারণ মানুষ বাদী হয়ে এজাহার তৈরির পর মামলা দায়ের হয়ে গেলে, তা আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এটি পরিবর্তন করা হলে তার আইনগত কোনো ভিত্তিও নেই।’

শিক্ষক হেনস্তার ৯ দিন পর মামলা

মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে সহিংসতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনার ৯ দিন পর সোমবার এ-সংক্রান্ত মামলা করেছে পুলিশ।

দণ্ডবিধির ৩৪, ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৪১, ৩৩২, ৩৫৩, ৩৫৫, ৪৩৬, ৪২৭, ৫০০ ধারায় করা এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের সামনে জুতার মালা পরানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

এরপর রোববার রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে আছেন কলেজের পাশের মির্জাপুর বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী শাওন খান। লাল গেঞ্জি পরা ৩০ বছর বয়সী শাওনকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ভিডিওতে চিহ্নিত করা গেছে।

শাওনের মা হোসনেয়ারা বেগম মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে আমার ছেলেকে দেখা করতে বলে মির্জাপুর ক্যাম্প পুলিশ। দেখা করতে গেলে তাকে আটকায় দিছে।’

হোসনেয়ারা বেগম দাবি করেন, তার ছেলে ঘটনার দিন শিক্ষক বা অভিযুক্ত ছাত্রকে বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। এর পরেও ‘বিনা কারণে’ পুলিশ তাকে নিয়ে গেছে। তবে স্বপন কুমারকে জুতা পরানোর ভিডিওতে শাওনকে শনাক্ত করেন হোসনেয়ারা।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আরও দুজন হলেন মির্জাপুর মধ্যপাড়া মো. মনিরুল ইসলাম এবং মির্জাপুরের সৈয়দ রিমন আলী।

কী আছে মামলার ধারায়

কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিনের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪ ধারা রয়েছে।

এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘যখন কিছু ব্যক্তি মিলে সবার একই অভিপ্রায় পূরণের জন্য কোনো অপরাধমূলক কাজ করেন তখন ওইসব ব্যক্তির প্রত্যেকেই ওই কাজের জন্য এভাবে দায়ী হবেন যেন কাজটি ওই ব্যক্তি এককভাবে করেছেন।’

মামলায় ১৪৩ ধারাও দিয়েছে পুলিশ। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো বেআইনি সমাবেশের সদস্য হবেন তিনি যেকোনো বর্ণনার সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, যার মেয়াদ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের সামনে জুতার মালা পরানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

৩২৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি ধারা৩৩৪ এ ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করলে তিনি যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে- যার পরিমাণ এক হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

দণ্ডবিধির ৩৪১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কেউ কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করলে তিনি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ এক মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে- যার পরিমাণ পাঁচশ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৩৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধাদান করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করলে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৩৫৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধাদানের উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করলে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে অথবা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৩৫৫ ধারায় বলা হয়েছে, ‘মারাত্মক প্ররোচনা ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অপমান করার জন্য আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করলে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে অথবা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৪২৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি অনিষ্ট সাধন করে এবং তার মাধ্যমে ৫০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি লোকসান বা ক্ষতি করলে সে ব্যক্তি যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৪৩৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘গৃহ ইত্যাদি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে আগুন বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে অনিষ্ট সাধন করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে-দণ্ডিত হবেন, এর সঙ্গে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।’

৪৪৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করলে তিনি যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে যার পরিমাণ পাঁচশ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৪৪৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি অনধিকার গৃহপ্রবেশ করলে তিনি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে যার পরিমাণ এক হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

৫০০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি কারও মানহানি করলে তিনি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক’ পুলিশ
নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশব্যাপী। অলংকরণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা

আগের অবস্থান থেকে সরেছে প্রশাসন

শিক্ষক স্বপন কুমারকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে দেয়ার দৃশ্য ফেসবুকে ভাইরাল হলেও পুলিশ সপ্তাহখানেক পরেও দাবি করেছিল, তারা এ সম্পর্কে কিছু জানে না।

নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অধ্যক্ষকে যখন কলেজের কক্ষ থেকে বের করে আনা হয়, তখন সেখানে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। এ ছাড়া নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তখন কেউ তাকে জুতার মালা দিয়েছে কি না, আমরা দেখতে পারি নাই। এটা আমার জানাও নেই।’

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমি এখনও কোনো ভিডিও দেখি নাই। জুতার মালার ব্যাপারটাও জানি না। এ ঘটনায় আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা প্রতিবেদন দিলে যে বা যারা দোষী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তবে পুলিশ সুপার মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ঘটনার দিন তিনি বেশ খানিকটা দূরে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে স্বপন কুমারকে জুতার মালা পরিয়ে দেয়ার ঘটনা তার চোখে পড়েনি।

তিনি বলেন, ‘ওইদিন চারিদিক থেকে বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার জনতা ছিল। তাদের নিবৃত্ত করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। ওখানে স্বয়ং ডিসি সাহেব ছিলেন, আমি ছিলাম। আমরা সর্বদা চেষ্টা করেছি, যতটুকু কম বলপ্রয়োগ করে রক্তপাতহীনভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়, সেইভাবে আমরা চেষ্টা করেছি।

‘ডিসি সাহেব, আমরা অনেক বুঝিয়েছি লোকদের। ডিসি সাহেব এবং আমরা চেয়েছিলাম তাদের (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত ছাত্র) দ্রুত গাড়িতে তুলে রেসকিউ করতে। আমরা চেষ্টা করেছি সেইভাবে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ঠান্ডা করার জন্য, কথা বলার জন্য আমি এবং ডিসি সাহেব মেইন যে রাস্তা… ওই জায়গায় ছিলাম।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘যখন ওখান থেকে (কলেজ) তাদেরকে (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত ছাত্র) নামায়, আমি আর ডিসি সাহেব ছিলাম অন্য জায়গায়। মেইনে যে রাস্তা, যেখানে টার্ন করবে ওই জায়গাতে আমরা। আমাদের মুখটা ছিল উল্টোদিকে, জনগণকে আমরা বুঝাচ্ছিলাম, ওইটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।

‘এদিকে তারা টান দিয়ে নিয়ে যেয়ে গাড়িতে তুলবে সেই সময় হয়তো হঠাৎ করে এই কাজটা হয়তো হয়ে গেছে। এটাতে কিন্তু আমাদের নিজেদের কোনো ইয়ে ছিল না যে এ রকম হতে পারে। হওয়ার পরপর, কিছুক্ষণ পর হয়তো যখন তাদেরকে গাড়িতে তুলেছি হুড়োহুড়ির ভেতরে, তখন তার কিন্তু গলায় এটা দেখি নাই। একটু পরে যখন গাড়িতে তুলেছি হুড়োহুড়ির ভেতরে কেউ হয়তো খুলে ফেলে দিছে। ওই সময় তাদের নিয়ে মুভ করানোর সময় হয়তো কাজটা হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষককে জুতার মালা: ঘুম ভাঙল প্রশাসনের, হারাচ্ছেন না পদ
শিক্ষককে হত্যা: দুই দিনেও ধরা পড়েনি অভিযুক্ত ছাত্র
শিক্ষকের গলায় জুতার মালা: প্রতিবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
পুলিশের সামনে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা কীভাবে?
শিক্ষক নিয়োগ: চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ শুরু

মন্তব্য

p
উপরে