× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
BGB in Comilla before the election campaign
hear-news
player
print-icon

ভোটের প্রচারের আগেই কুমিল্লায় বিজিবি

ভোটের-প্রচারের-আগেই-কুমিল্লায়-বিজিবি
কুমিল্লা-১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ইসহাক জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই বিজিবি প্লাটুনের দায়িত্বে থাকবেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রচার শুরুর আগেই নগরীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ভোট গ্রহণের এক মাস আগে রোববার থেকে এই বিজিবি মোতায়েন করা হলো।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা-১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ইসহাক।

তিনি জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই বিজিবি প্লাটুনের দায়িত্বে থাকবেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিজিবি মোতায়েনের পর নগরীর প্রধান সড়ক ঘুরেছে বিজিবির গাড়িবহর।

রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি দেখার জন্য মাঠে আছেন। রোববার থেকে এক প্লাটুন বিজিবিকেও মাঠে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


ভোটের প্রচারের আগেই কুমিল্লায় বিজিবি


রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, এখনই প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু করার কথা নয়। তার পরও যারা প্রচারণার চেষ্টা চালাচ্ছেন, আমরা তাদের শোকজ করছি এবং মৌখিকভাবে সতর্ক করছি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ৫ জন মেয়র, ১৪৭ জন কাউন্সিলর এবং ৩৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। এর মধ্যে ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় আ.লীগের ১৪, ‘বিএনপির’ ২
কুমিল্লায় আ. লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন সাংসদ সীমা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
4 in jail with two brothers for killing a teenager

কিশোর হত্যায় দুই ভাইসহ কারাগারে ৪

কিশোর হত্যায় দুই ভাইসহ কারাগারে ৪
আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস বলেন, ‘বিকেলে দুই ভাইসহ চার আসামিকে আদালতে তোলে সাত দিনের রিমান্ড চায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বিচারক বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করে চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আব্দুস সামাদ নামে এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ভাইসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক একেএম রওশন জাহান বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিকেলে দুই ভাইসহ চার আসামিকে আদালতে তোলে সাত দিনের রিমান্ড চায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিচারক বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করে চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার দাদরা এলাকার ১৯ বছরের রবিন মিয়া, তার বড় ভাই ২৪ বছরের রোহান মিয়া, ওই উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের ১৯ বছরের মুস্তাফিজুর রহমান নাঈম ও পুঙ্গুয়াই গ্রামের ২২ বছরের শাহীনুর ইসলাম।

জেলার ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এর আগে নিহত সামাদের বাবা শাহজাহান মিয়া সোমবার বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

নিহত ১৪ বছরের সামাদ দাদরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার রবিন মিয়া নিহত রিকশাচালক সামাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। এ সুবাদে প্রায়ই রবিনের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত সামাদ। এক সময় রবিনের ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সামাদের। বিষয়টি জানতে পারে রবিন। পরে তার বোনের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেও ব্যর্থ হয়। পরে সামাদকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে রবিন ও তার ভাই রোহান।

‘পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে সামাদের অটোরিকশা নিয়ে বিভিন্ন জায়গা ঘোরাফেরা করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে যায় রবিন, রোহান ও নাঈম। সেখানে ঝোপের আড়ালে আগেই ওৎ পেতে ছিল শাহীনসহ আরও দুজন। সামাদকে সেখানে নেয়ার পর প্লাস্টিকের দড়ি ও জাল গলায় প্যাঁচিয়ে হত্যা করে স্কুলের সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ ফেলে রাখে তারা।’

ওসি আরও বলেন, ‘সামাদের মরদেহ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযানে নামে জেলা ডিবি পুলিশের একাধিক টিম। জেলার ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের মামলার বরাতে বলেন, ‘সোমবার বিকেল ৩টার দিকে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হয় সামাদ। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও বাড়ি ফেরেনি। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন স্থানীয় বাজারসহ স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। পরে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে সামাদের রিকশাটি পাওয়া গেলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

‘মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সামাদের স্বজনরা ওই স্কুলটিতে অনুসন্ধান চালালে সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা ভাঙা দেখতে পায়। ঢাকনা সরানোর পর ভেতরে পাওয়া যায় সামাদের মরদেহ।’

ওসি আরও বলেন, ‘থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।’

আরও পড়ুন:
গ্রেপ্তার বিএনপির ১২ নেতাকর্মী জেলে
বঙ্গোপসাগর থেকে গ্রেপ্তার ১৩৫ ভারতীয় কারাগারে
দুদকের মামলায় সাবেক ওসি কারাগারে
স্ত্রী হত্যা মামলায় কারাগারে এসআই
স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, যুবক কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bikes cannot be taken by water

বাইক নেয়া যাবে না নৌপথেও

বাইক নেয়া যাবে না নৌপথেও 
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আগে-পরে সাত দিন মোটর সাইকেলে করে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াত নিষিদ্ধের পর এবার নৌপথে দুই চাকার যানটি বহন নিষিদ্ধ হয়ে গেল।

এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়ে গেছে। আগামী ১১ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অর্থাৎ ঈদের পর আরও পাঁচ দিন লঞ্চে বা ফেরিতে করে বাইক পরিবহন করা যাবে না।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল গত ১২ জুন। আর সেটি কার্যকর হয়েছে ২৪ দিন পর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান।

আরও আসছে...

আরও পড়ুন:
প্রথম দিনেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তি
ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে
ঈদে বাইক বন্ধ কার স্বার্থে
‘টিকিট পাব কি না বুঝতে পারছি না’
সড়ক সংস্কার ঈদের ৫ দিন আগে শেষ করার নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The main accused couple arrested for burning mother to death in love with son

ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি দম্পতি গ্রেপ্তার

ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি দম্পতি গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে প্রধান অভিযুক্ত কাজল ও তার স্ত্রী কনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
গত ২৬ জুন পালিয়ে যান সিরাজুল ও খুকি। এতে ক্ষিপ্ত হয় খুকির পরিবার। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তারা ছেলের বাড়িতে এসে ছেলের মা লাইলীকে একা পেয়ে প্রথমে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে লাইলীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।

ময়মনসিংহ সদরে লাইলী আক্তার নামে এক নারীকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মামলার ১ নম্বর আসামি খোকন মিয়া ওরফে কাজল ও তার স্ত্রী ২ নম্বর আসামি নাসিমা আক্তার কনা।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘আগুনে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় লাইলী আক্তারকে। ঘটনাটি পিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল আইজিপি জানতে পেরে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে আমাদের টিম। ইতোমধ্যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ৪ ও ৭ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার ১ নম্বর আসামি কাজল ও তার স্ত্রী ২ নম্বর আসামি নাসিমা আক্তার কনা সুচতুরভাবে আত্মগোপনে ছিলেন।’

গৌতম কুমার জানান, ছায়া তদন্তের একপর্যায়ে পিবিআই ময়মনসিংহের টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও পিবিআই হেডকোয়ার্টারের এলআইসি টিমের সহযোগিতায় মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। দুজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে গত ২৮ জুন রাতে নিহতের স্বামী আব্দুর রশিদ আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। ওইদিন রাতেই ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মো. জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আছমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সদর উপজেলার চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন খোকন মিয়া ওরফে কাজল, তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার কনা, গোলাম মোস্তফার ছেলে কামাল মিয়া, বাবুল, কামাল মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার বৃষ্টি, বাবুলের স্ত্রী রোমান।

মামলার বরাতে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, সদর উপজেলার চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী খুকি আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দুই পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না।

গত ২৬ জুন পালিয়ে যান সিরাজুল ও খুকি। এতে ক্ষিপ্ত হয় খুকির পরিবারের লোকজন। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তারা ছেলের বাড়িতে এসে ছেলের মা লাইলীকে একা পেয়ে প্রথমে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাত-পা তার দিয়ে বেঁধে লাইলীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা লাইলীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গত ২৮ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাইলীর মৃত্যু হয়।

ফারুক হোসেন বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আজ হস্তান্তর করা হলে আজই অথবা আগামীকাল ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।’

এ ছাড়া মামলার বাকি আসামিরা বিভিন্ন জায়গায় পালিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলেও জানান পুলিশ পরিদর্শক।

আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: স্ত্রীসহ ‘হেনোলাক্স মালিক’ আমিন গ্রেপ্তার
ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
কিশোর হত্যা মামলায় যুবক কারাগারে
গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা: হেনোলাক্স মালিকের বিরুদ্ধে মামলা
শিশু হত্যার অভিযোগে মা আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Along with the demand the price of medium cattle is also higher in Comilla

চাহিদার সঙ্গে কুমিল্লায় মাঝারি গরুর দামও বেশি

চাহিদার সঙ্গে কুমিল্লায় মাঝারি গরুর দামও বেশি
নগরীর বেশ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরেছেন ক্রেতা মাহফুজুল হক। ৮০ থেকে ৯০ হাজারের মধ্যে গরু খুঁজেছেন তিনি। বাজেটের মধ্যে গরু কিনতে না পেরে বাসায় চলে যান। নিউজবাংলাকে মাহফুজুল হক বলেন, ‘মাঝারি আকারের গরুর অনেক দাম। আজ মনমতো গরু পাইনি। বৃহস্পতিবার না হয় শুক্রবার বাজার দেখে গরু কিনব।’

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুমিল্লার পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হাটে ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। বাজার জমে উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে।

ক্রেতারা বলছেন, কুমিল্লায় এবার যেসব গরু এসেছে, বেশির ভাগই বড় সাইজের। কিন্তু হাটে চাহিদা বেশি মাঝারি সাইজের গরুর। আর এসব গরুর দামও বেশি।

বুধবার সকাল থেকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভরাসার, বাবুবাজার, ফকিরবাজার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিরশ্বান্নী, নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের নেউরা হাট ঘুরে দেখা যায় প্রচুর গরু এসেছে। পছন্দের পশুটি কিনতে ঘুরে ঘুরে দেখছেন, বিক্রেতার সঙ্গে করছেন দরদাম।

নগরীর নেউরা পশুর হাটে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, হাটে বড় গরুর আধিক্য। এ হাটে ১৫টি গরু এনেছেন খামারি জুয়েল মিয়া। সবচেয়ে ছোট গরুটির দাম চাচ্ছেন আড়াই লাখ টাকা। তার কাছে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকার গরু রয়েছে।

আদর্শ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকার হাটে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু ভারতীয় গরু আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা তাদের গরু নিয়ে এসেছেন।

নগরীর বেশ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরেছেন ক্রেতা মাহফুজুল হক। ৮০ থেকে ৯০ হাজারের মধ্যে গরু খুঁজেছেন তিনি। বাজেটের মধ্যে গরু কিনতে না পেরে বাসায় চলে যান। নিউজবাংলাকে মাহফুজুল হক বলেন, ‘মাঝারি আকারের গরুর অনেক দাম। আজ মনমতো গরু পাইনি। বৃহস্পতিবার না হয় শুক্রবার বাজার দেখে গরু কিনব।’

চাহিদার সঙ্গে কুমিল্লায় মাঝারি গরুর দামও বেশি

বুড়িচং উপজেলার ফকিরবাজারে বিক্রেতা আজিজুল হক মাঝারি সাইজের একটি লাল গরুর দাম হাঁকেন ১ লাখ ৩০ হাজার। ক্রেতা জানে আলম গরুটির দাম বলেন ৯০ হাজার। বিক্রেতা একদাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হলে বিক্রি করবেন। দরকষাকষি করে দামে না মেলায় একপর্যায়ে গরুটি কেনেননি।

বুধবার জানে আলমের মতো অনেক ক্রেতাকে গরু কিনতে না পেরে ফিরে যেতে দেখা যায়। তাদের আশা বৃহস্পতিববার বা শুক্রবার গরু কিনতে পারবেন।

মাঝারি সাইজের গরুর দাম বেশি চাওয়ার কথা বলছেন অন্যান্য হাঁটের ক্রেতারাও।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রামের মিরশ্বান্নী বাজারের গরু বেপারি আবুল খায়ের বলেন, ‘ভুসি, খইলসহ পশু খাবারের যে দাম বেড়েছে, তা গত ১০ বছরে সর্বোচ্চ। এভাবে গরুর খাদ্যের দাম বাড়লে খামারিরা সামনে গরু পালনে নিরুৎসাহিত হবেন।’

নওগাঁ থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুর রশীদ বলেন, ‘গত বছর দাম কমায় বিক্রি করিনি। এক বছরে মাঝারি গরুগুলো অনেক বড় হয়েছে। একটু দামের আশায় নগরীর চাঁনপুর গাউছিয়া পশুর হাটে ৩০টি গরু এনেছি।’

গরুর দেখভালের জন্য রশীদ ছাড়াও তার দুই ভাইসহ মোট ছয়জন এসেছেন এ হাটে। সব গরু সময়ের মধ্য বিক্রি হলে ভালো। না হলে ঈদের দিন পর্যন্ত থাকবেন এখানে।

টাঙ্গাইল থেকে আসা ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ বলেন, গত বছর শেষের দিকে দাম কমে যাওয়ায় ২৫টি গরু অবিক্রীত থাকে। এই এক বছর ধরে গরুগুলোকে লালনপালন করেছেন। তার গরু দেড় লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছেন।

তবে দাম যেমনই হোক, জেলায় পর্যাপ্ত পশু আছে বলে জানিয়েছেন, কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা জেলায় গত বছর ৩৬৩টি হাটে ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৪২ কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। সে বছর উদ্বৃত্ত পশু ছিল ১১ হাজার ৬২৫টি। এ বছর পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ২ লাখ ৪৮ হাজার। তবে আমাদের হিসাবমতে এ বছর চাহিদা মিটিয়ে ১০ হাজার ৪৩২ কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
‘পদ্মা’ আর ‘সেতু’র দাম ২৫ লাখ
হাটে পশু আছে, ক্রেতা নেই
‘ভদ্র বাবুর’ দাম ১৫ লাখ, ‘দুষ্টু বাবুর’ ১০
‘কালো মানিক প্লে’কে দেখতে ভিড়
ক্রেতা মিলছে না ৩৮ মণ ওজনের সম্রাটের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inauguration of Mrinal Haque Celebrity Gallery in Rajshahi

রাজশাহীতে ‘মৃণাল হক সেলিব্রিটি গ্যালারি’র উদ্বোধন

রাজশাহীতে ‘মৃণাল হক সেলিব্রিটি গ্যালারি’র উদ্বোধন
মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘‘লন্ডনের বিখ্যাত ‘মাদাম তুসো’ জাদুঘরের আদলে রাজশাহীতে ভাস্কর মৃণাল হকের পরিবারের উদ্যোগে গড়ে তোলা এই সেলিব্রিটি গ্যালারি শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়স ও শ্রেণির মানুষকে আকৃষ্ট করবে।’’

রাজশাহীতে ‘মৃণাল হক সেলিব্রিটি গ্যালারি’র উদ্বোধন করা হয়েছে।

নগরীর উপশহরে বুধবার দুপুরে ফিতা কেটে এই গ্যালারির উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

উদ্বোধনের পর গ্যালারির টিকিট কেটে বিশ্বের খ্যাতিমান মানুষের ভাস্কর্যগুলো পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র।

এ সময় মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘লন্ডনের বিখ্যাত ‘মাদাম তুসো’ জাদুঘরের আদলে রাজশাহীতে ভাস্কর মৃণাল হকের পরিবারের উদ্যোগে গড়ে তোলা এই সেলিব্রিটি গ্যালারি শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়স ও শ্রেণির মানুষকে আকৃষ্ট করবে। বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তারা জানতে পারবে। আগামীতে এটি শহরের কোথাও স্থানান্তর করা যায় কি না সেটাও ভেবে দেখা হবে।’’

উদ্বোধনের সময় কবিকুঞ্জের সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজাদ, গ্যালারির পরিচালক ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এ এস এম ওমর শরীফ রাজীব, গ্যালারির পরিচালক মনোয়ারুল হাসান প্রিন্স, ইনচার্জ কামরুল হাসান মিলন উপস্থিত ছিলেন।

প্রখ্যাত ভাস্কর মৃণাল হকের ৪০টি ভাস্কর্য নিয়ে লন্ডনের বিখ্যাত ‘মাদাম তুসো’র আদলে রাজশাহীতে ভাস্কর মৃণাল হকের পারিবারিক উদ্যোগে এই সেলিব্রিটি গ্যালারি গড়ে তোলা হয়েছে। মহানগরীর উপশহরের তিন নম্বর সেক্টরের ১৮৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি দ্বিতল ভবনে এ গ্যালারির অবস্থান। গ্যালারির প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। আর শিশুদের জন্য তা ফ্রি।

গ্যালারির দ্বিতীয় তলায় উঠতেই মাথার ওপর দেখা যাবে একটি স্পাইডার ম্যান। মনে হতে পারে, সেটি বুঝি এই লাফিয়ে পড়ল। ভাবনাটা ডালপালা মেলার আগেই প্রথম ঘরে দৃষ্টিতে আসবে প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য।

আরেকটু সামনে এগোতেই মিলবে ছোট্ট একটি ঘর। আলো-আঁধারি এই ঘরের আবহটা অনেকটাই ভুতুড়ে। এখানকার ভাস্কর্যগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতেই এই ঘরের আলো কিছুটা কম। ঘরজুড়ে নীল রং ছড়িয়ে আছে। আর ঘরের ভেতর আক্রমণের ভঙ্গিতে এলিয়েনের দল। পাশের ঘরটি তারকা জগতের মানুষদের জন্য।


রাজশাহীতে ‘মৃণাল হক সেলিব্রিটি গ্যালারি’র উদ্বোধন


এই ঘরে সাক্ষাৎ মেলে ফুটবল তারকা মেসির। তিনি বল পায়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার পাশেই বলিউড কিং শাহরুখ খান। আছেন মিস্টার বিন, চার্লি চ্যাপলিন, নন্দিত গায়িকা সাকিরা, মাইকেল জ্যাকসনসহ বেশ কিছু জনপ্রিয় মুখ।

তারকাদের সঙ্গ কাটতে না কাটতে দেখা যাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টেবিলে বসে লিখছেন। তার ডান পাশে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বাম পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া আছেন ডোনাল ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদি, মহাত্মা গান্ধী, মাদার তেরেসা, চে গুয়েভারা, প্রিন্সেস ডায়ানা ও ক্ষুদিরাম বসু।

মৃণাল হক তার এসব কর্ম করেছেন নিখুঁতভাবে। চেষ্টা করেছেন জীবন্ত করে তুলতে। এ কারণে এখানকার বেশির ভাগ ভাস্করের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুললে প্রথম ধাক্কাতেই যে কেউ মনে করতে পারেন সত্যিই বুঝি গুণী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আপনি ছবি তুলেছেন।

সেলিব্রিটি গ্যালরির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রয়েছেন কামরুল হাসান মিলন। তিনি জানান, এখানে যেসব শিল্পকর্ম দেখছেন সেগুলো শিল্পী মৃণাল হকের। মূলত এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুটি কাজ হবে, প্রথমত শিল্পীর শিল্পকর্মের সঙ্গে মানুষের পরিচয় হবে। এর মাধ্যমে শিল্পীর কর্ম বেঁচে থাকবে। আবার এসব শিল্পকর্ম দেখে দর্শনার্থীরা পৃথিবীর গুণী মানুষদের সম্পর্কে জানবেন। এখানে যেসব ভাস্কর্য আছে, প্রতিটির সঙ্গে তাদের পরিচয় এবং কর্ম সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই সেলিব্রিটি গ্যালারিটি গত মে মাসে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mannan will bring back the lost fish

দেশীয় হারানো মাছ ফিরিয়ে আনবেন মান্নান

দেশীয় হারানো মাছ ফিরিয়ে আনবেন মান্নান নিজের খামারে কর্মীদের সঙ্গে আব্দুল মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা
পড়াশোনা শেষে চাকরির আশা বাদ দিয়ে নিজেদের তিনটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন যশোরের মান্নান। বর্তমানে তিনি ৫০ জন কর্মী নিয়ে ৩৫ বিঘার ঘের ও ১৬টি পুকুরে এই কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, দেশীয় মাছের হারিয়ে যাওয়া প্রজাতিগুলো ফিরিয়ে আনার পণ করেছেন তিনি।

বাঙালির জীবন থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। তবে এসব মাছকে আবারও বাঙালির পাতে নিয়ে আসতে চান যশোরের আব্দুল মান্নান। পরীক্ষামূলকভাবে দেশীয় বিলুপ্ত প্রজাতির সরপুঁটি মাছ চাষ করে সফলতাও পেয়েছেন প্রথম বছরই। এ মাছটি এখন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের আব্দুল মান্নান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করে চাকরির আশায় ঘুরছিলেন। কিন্তু চাকরি না পেয়ে ২০১৬ সালে নিজ গ্রাম দত্তকোনায় তিনটি পুকুরে কার্পজাতীয় মাছের চাষ শুরু করেন তিনি।

এর পর থেকে গত কয়েক বছরে মাছের আবাদ ও বিস্তারলাভে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন মান্নান। এবার ঝুঁকেছেন বিলুপ্তপ্রায় দেশি প্রজাতির মাছ মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়ার কাজে। সেই তাড়না থেকে দুই বছর আগে শুরু করেন বিলুপ্ত প্রজাতির সরপুঁটি মাছের চাষ।

পরীক্ষামূলকভাবে সরপুঁটি চাষ করে প্রথম বছরই সাফল্য পেয়েছেন মান্নান। এই মাছের বিপুল পরিমাণ রেণু পোনা উৎপাদন করছেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে তার হ্যাচারি থেকে লক্ষাধিক সরপুঁটির পোনা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন যশোরের আশপাশের জেলা সাতক্ষীরা, নড়াইলসহ খুলনা বিভাগের মাছচাষিরা। পাশাপাশি তার খামারে বেড়ে ওঠা কার্পজাতীয় সব মাছের রেণু পোনাও পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

দেশীয় হারানো মাছ ফিরিয়ে আনবেন মান্নান

আব্দুল মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের তিনটি পুকুরে কার্পজাতীয় মাছ চাষ শুরু করি। মাছ চাষের পাশাপাশি পরিকল্পনা নিলাম মাছের পোনাও উৎপাদন করব।’

কিন্তু মান্নানের এই পরিকল্পনায় বাদ সাধল অর্থ। এ অবস্থায় পুকুর বাড়ানো ও মাছ চাষ বৃদ্ধি করতে ব্যাংক থেকে ৩৬ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। ঋণের টাকায় কিছু পুকুর বাড়ানোর সঙ্গে রেণু পোনা উৎপাদনের জন্য গড়ে তোলেন হেলদি হ্যাচারি অ্যান্ড অ্যাগ্রোা লিমিটেড।

কয়েক বছর কার্পজাতীয় মাছের আবাদ ও বিস্তার লাভের পর দুই বছর আগে দেশীয় মাছ নিয়ে কাজ করার তাড়না জাগে মান্নানের। প্রাথমিকভাবে তিনি দেশীয় সরপুঁটি মাছ চাষের পরিকল্পনা করেন।

এ অবস্থায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নাটোরের চলনবিল এলাকায় সরপুঁটি মাছের চাষ হচ্ছে। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে সেখান থেকে সরপুঁটির সাত কেজি রেণু এনে পুকুরে চাষ শুরু করেন। পরে এই মাছের বংশবিস্তার এবং মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পোনা উৎপাদনেও হাত দেন। এরই ধারাবাহিতায় এখন প্রতি সপ্তাহে লক্ষাধিক সরপুঁটির পোনা বিক্রি করেন মান্নান। যার বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকার ওপর। এ ছাড়া সপ্তাহে লক্ষাধিক টাকার কার্পজাতীয় মাছের পোনাও বিক্রি হচ্ছে তার হ্যাচারি থেকে।

কার্প ও সরপুঁটি জাতের মাছ চাষে সফল হওয়ার পর চলতি বছর থেকে বিলুপ্তপ্রায় বোয়াল মাছের রেণু উৎপাদনও শুরু করেছেন মান্নান।

বর্তমানে তার ৩৫ বিঘার ঘের ও ১৬টি পুকুরে কার্প ও সরপুঁটির চাষ হচ্ছে। মান্নানের এই কর্মযজ্ঞে ৫০ জন সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। এ ছাড়া মনিরামপুরসহ আশপাশের তরুণ উদ্যোক্তারাও তার এই মাছের খামার দেখতে আসছেন। নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে মাছ চাষে মান্নানের পরামর্শ নিচ্ছেন তারা।

দেশীয় হারানো মাছ ফিরিয়ে আনবেন মান্নান
পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে সারা দেশে দেশীয় প্রজাতির সরপুঁটি মাছ ছড়িয়ে দিচ্ছেন মান্নান

তবে কিছুটা আক্ষেপ করে মান্নান বলেন, ‘দেশব্যাপী আমিষের ঘাটতি পূরণে মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সরকার বিভিন্ন খাতে গুরুত্ব দিলেও মৎস্য খাতে তাদের নজর কম। সরকারের মৎস্য বিভাগ যদি তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ এবং হ্যাচারি প্রকল্পে উদ্বুদ্ধ করে, তাহলে আবারও মাছে-ভাতে বাঙালির দিন ফিরবে। বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হবে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মেদ বলেন, ‘সরপুঁটি আমাদের বিলুপ্ত প্রজাতির মাছগুলোর একটি। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হেলদি হ্যাচারি রেণু পোনা উৎপাদন শুরু করেছে। আমরা এই পোনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয়ে অবমুক্ত করে চাষাবাদ করলে এর বিপুল উৎপাদন সম্ভব।’

বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ নিয়ে কাজ করা হেলদি হ্যাচারিকে জেলা মৎস্য বিভাগ যেকোনো সহায়তা দেবে বলেও জানান ফিরোজ আহাম্মেদ।

আরও পড়ুন:
মৌমাছি হয়ে গেল ‘মাছ’!
‘কারখানার দূষিত পানিতে’ মরছে উদ্যোক্তার মাছ
‘নিষেধাজ্ঞা মানলেও জ্বালা, না মানলেও জ্বালা’
সাগরে নিষেধাজ্ঞা: ‘জেলেদের চাল পায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের আত্মীয়রা’
আজ দিনটি মৌমাছিদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Patients of Najehal Hospital in load shedding

লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হাসপাতালের রোগীরা

লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হাসপাতালের রোগীরা লোডশেডিংয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। ছবি: নিউজবাংলা
হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরমে কষ্টে আছেন রোগীরা। রোগীর স্বজনরা জানান, বিদ্যুৎ যখন চলে যাচ্ছে তখন হাতপাখাই তাদের ভরসা।

কয়েক দিন ধরে চলা লোডশেডিংয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনজীবনের কষ্ট চরমে উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় রোগীর স্বজনরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শহরের শেয়ালা কলোনি মহল্লার আলেয়া বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘দিনেও কারেন্ট টানছে, রাতেও কারেন্ট টানছে। রোগী লিয়্যা অ্যাসা সুস্থ করব কি, রোগী তো ঘ্যাল হয়্যা যাছে, কারেন্ট না থাকার কারতে বাচ্চা আরও বেশি হয়্যা যাছে, পাখা দিয়্যা বাতাস করতে করতে হামারঘে হাত-পায়ের শক্তি হারিয়া যাছে। কারেন্টে খুবই সমস্যা করছে।’

হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরমে কষ্টে আছেন রোগীরা। রোগীর স্বজনরা জানান, বিদ্যুৎ যখন চলে যাচ্ছে তখন হাতপাখাই তাদের ভরসা।

তাদের দাবি, হাসপাতালে রোগীদের কথা চিন্তা করে লোডশেডিংয়ের সমস্যা জেনারেটর বা অন্য কোনো উপায়ে ফ্যানগুলো চালানোর ব্যবস্থা করা, যাতে অন্তত রোগীদের কষ্ট কিছুটা কমে।

হাসপাতালে থাকা একটি জেনারেটর লোডশেডিংয়ের সময় চালানো হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতেও চান না।

তবে জেনারেটর চালানোর যে খরচ, সেই বরাদ্দ না থাকায় সব সময় জেনারেটর চালানো হয় না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হারুনর রশিদ হারুন।

তিনি বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছেন, কিন্তু হাসপাতালের জেনারেটর চালানোর জন্য তো বরাদ্দ দিতে হবে। সেটি দেয়া হলে জেনারেটর চালাতে সমস্যা নেই, কিন্তু এর জ্বালানি খরচ তো পেতে হবে।’

এমপি বলেন, ‘ওটিসহ জরুরি বিভাগে লোডশেডিংয়ের সময় যাতে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া আছে। তবে গোটা হাসপাতালকে সাপোর্ট দিতে হলে জেনারেটর চালাতে হবে, সেটির তো বরাদ্দ লাগবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) এক কর্মকর্তা জানান, তারা চাহিদার অন্তত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাচ্ছেন। এ কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এমন কষ্ট মেনে নিতেই হবে গ্রাহকদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল আজিম বলেন, ‘চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেক পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করি দ্রুতই পরস্থিতির উন্নতি হবে।’

আরও পড়ুন:
লোডশেডিংয়ে আইপিএস-সোলারের রমরমা
এত লোডশেডিং কেন, জানালেন প্রধানমন্ত্রী
চাহিদার অর্ধেক সরবরাহে বারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে বগুড়ায়
গ্যাসস্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত
ঈদ মৌসুমে পাদুকাশিল্পে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা

মন্তব্য

p
উপরে