× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Rising at the speed of a storm falling at the speed of a meteor
hear-news
player

ঝড়ের গতিতে উত্থান, উল্কার বেগে পতন

ঝড়ের-গতিতে-উত্থান-উল্কার-বেগে-পতন আওয়ামী লীগে দ্রুত উত্থান ও পতন হয় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগে এবং সরকারে ডা. মুরাদ হাসান, আরিফ খান জয় এবং জাহাঙ্গীর আলমের উত্থান ঘটেছে অতি দ্রুত। তবে বেপরোয়া ক্ষমতা চর্চা করে তারা তাদের পতনেরও পথ তৈরি করেছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে তাদের উত্থান চোখে পড়ার মতো দ্রুত। পরিণতি সবার প্রায় এক। আওয়ামী লীগ থেকে পতন। দলের পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি, নয়তো মেয়াদ শেষে আর ফিরতে না পারা। লাভজনক পদ (মন্ত্রী বা মেয়র) থেকেও পদত্যাগ অথবা অব্যাহতি।

এমন তিন নেতা হলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

তাদের এই পরিণতিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সুশাসনবিষয়ক সংগঠন ‘সুজন’-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বর্ণনা করেছেন ‘ভার’ সইতে না পারা হিসেবে। তার মতে, এরা নিজেদের দায়িত্ব এবং প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে গিয়েছিলেন। জনকল্যাণের জন্য রাজনীতি না করে ক্ষমতা উপভোগ করেছেন। আর সেটা মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়াতেই ভুল করেছেন এবং পরিণতির দিকে এগিয়ে গেছেন।

ডা. মুরাদ হাসান

তথ্য প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় বিতর্কিত মন্তব্য এবং এক চলচ্চিত্র অভিনেত্রীকে অশ্লীল শব্দে গালাগালির কল রেকর্ড ফাঁসের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ডা. মুরাদ হাসান। ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

এর কয়েক দিন আগে একটি টিভি টকশোতে উপস্থিত বিএনপির একজন সাবেক নারী এমপিকে ‘মানসিক রোগী’ বলে অভিহিত করে তার সঙ্গে বিতণ্ডায় লিপ্ত হন ডা. মুরাদ। এর পরদিন তার সঙ্গে এক অভিনেত্রীর কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হয়।

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল ছাত্রদল দিয়ে। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন মুরাদ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ছাত্রলীগে যোগ দেন। প্রথমে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০০০ সালে সভাপতি হন। ২০০৩ সালে পঞ্চম কংগ্রেসে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন।

ডা. মুরাদের বাবা মতিউর রহমান তালুকদার ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি বঙ্গবন্ধুরও ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। উত্তরাধিকারের রাজনীতির সূত্রে ২০০৩ সালে জামালপুর জেলা শাখার সদস্য হওয়ার মাধ্যমে মূল দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি হয়।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে যাদের মনোনয়ন দেন তার মধ্যে মুরাদ ছিলেন অন্যতম। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুরাদ হাসান।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে জামালপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর সরকারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০১৯ সালের ১৯ মে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদল আনা হয়। এতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পেছনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার বনিবনা না হওয়া এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ভূমিকা রাখে।

আরিফ খান জয়

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, ডা. মুরাদ হাসানসহ অনেক তরুণকে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন দেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে আরেক তরুণ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয়কে মনোনয়ন দেয়া হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হওয়ার পর সাবেক এই ফুটবলারকে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন শেখ হাসিনা। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এ অধিনায়কের এমপি ও মন্ত্রী হওয়াটা ছিল রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক। তার উত্থান ছিল যতটা চমকের, মেয়াদ শেষে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া ছিল ততটাই আলোচিত খবর।

উপমন্ত্রী হওয়ার পর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন জয়। মন্ত্রী হয়েও তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লীগের ডাগআউটে দাঁড়ানো, খেলার মাঠে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবেশ, পুলিশের এসআইকে মারধর, ব্যানারে নাম না থাকায় নিজ মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবের কক্ষ ভাঙচুর করেন তিনি।

এলাকায় তার ভাইদের প্রতাপ ও বেপরোয়া আচরণ এবং অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির জন্যও তিনি সমালোচিত ছিলেন। তার নিজের আচরণও ছিল লাগামছাড়া। ফলে আর দ্বিতীয়বারের মতো মনোনয়ন পাননি। বরং তার আসনে দলীয় মনোনয়নে বিজয়ী হয়ে এবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন আশরাফ আলী খান খসরু।

জাহাঙ্গীর আলম

ক্ষমতার রাজনীতিতে বিস্ময়কর উত্থান জাহাঙ্গীর আলমের। বয়স চল্লিশের কোঠা পেরোনোর আগেই তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের মেয়র হন। তার পতন ঘটে আরও দ্রুততার সঙ্গে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাহাঙ্গীর বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর জের ধরে গত ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

শেষ পর্যন্ত ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। সর্বশেষ গত ২৫ নভেম্বর তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

জাহাঙ্গীর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে, ছাত্র হিসেবে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গাজীপুর জেলা শাখার সহসভাপতি ছিলেন। তিনি গাজীপুর সদর ও টঙ্গী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন।

২০০৮ সালে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি নিজের নামে ফাউন্ডেশন করে সমান্তরাল একটি শক্তি সৃষ্টি করেন। ২০১৩ সালে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রূপকার ছিলেন গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ। দল প্রার্থী হিসেবে তাকেই বেছে নেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে জাহাঙ্গীরের অনুগতদের নেতিবাচক ভূমিকায় নির্বাচনে হেরে যান আজমত উল্লাহ। পরের বার ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পান মেয়র পদে বিজয়ী হন জাহাঙ্গীর।

মেয়র পদে বিজয়ী হওয়ার পর জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি ও আজমত উল্লাহর মতো প্রভাবশালী নেতাদের দূরে সরিয়ে দেন। এলাকায় নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে ওঠেন।

গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের অপসারণে আওয়ামী লীগ লাভবান হয়েছে। তিনি অন্য দলের নেতা-কর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। আবার দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি করতেন। ক্ষমতা ও অর্থ দিয়ে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা দলকে আরও বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
হারিয়ে যাওয়া আ.লীগের দাপুটে নেতারা এখন যেমন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Today is the day for bees

আজ দিনটি মৌমাছিদের

আজ দিনটি মৌমাছিদের মৌমাছির চাক। ফাইল ছবি
এক পাউন্ড মধু উৎপাদনে মৌমাছিদের প্রায় ২০ লাখ ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে হয়। আর এর পেছনে এই পতঙ্গগুলোকে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৮০ হাজার কিলোমিটার পথ। একটি মৌমাছি তার জীবদ্দশায় এক চা চামচ পরিমাণ মধু সংগ্রহ করে। আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস।

মৌমাছিদের আমরা কেবল মধু সংগ্রহকারী পতঙ্গ হিসেবে দেখি। আমরা ভুলে যাই, মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে মৌমাছি অনেক শস্য এবং ফলমূলের পরাগায়ন ঘটিয়ে এগুলোর ফলন টিকিয়ে রেখেছে। মানবজাতির খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা মৌমাছি এবং এ ধরনের আরও অনেক পতঙ্গনির্ভর।

বিজ্ঞানী আইনস্টাইন একদা বলেছিলেন, ‘যদি মৌমাছি পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, তবে মানুষের জীবন পরবর্তী চার বছরে শেষ হয়ে যাবে।’

এ অত্যাবশ্যকীয় পতঙ্গটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন আজ। আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস।

১৭৩৪ সালের ২০ মে মৌমাছিবিশারদ অ্যান্টন জ্যাংজারের জন্মদিন। স্লোভেনিয়ার ব্রেঞ্জিকা গ্রামে তার জন্মদিনেই দেশটির প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে প্রথম মৌমাছি দিবস উদযাপন করা হয়। সেই থেকে প্রতিবছর ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘও এ দিনটি উৎসর্গ করেছে মৌমাছিদের জন্য।

মানবজীবনকে টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে রয়েছে মৌমাছির বিরামহীন পরিশ্রম। কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এই মধুকররা তাদের বিচরণ এলাকার পুরো শস্যক্ষেত্র ছাড়াও চারপাশের গাছপালার ফুলে ফুলে প্রতি সেকেন্ডে ২০০ বার জাদুকরী পাখা নেড়ে ও শুঁড় বসিয়ে পরাগায়নে ভূমিকা রাখে।

মৌমাছি নিজেদের বসবাসের জন্য তৈরি করে মৌচাক। একটি মৌচাকে যত মৌমাছি বাস করে, তার চারপাশে ৪ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে যত ফুল ফোটে, এক দিনে সেগুলোতে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ ও পরাগায়ন করতে সাহায্য করে এসব মৌমাছি। এর ফলে বিভিন্ন শস্য ও ফলফলাদির উৎপাদন অব্যাহত থাকে।

বিশ্ব মৌমাছি দিবসের উদ্দেশ্য হলো, পৃথিবীতে মৌমাছিসহ অন্য যেসব পতঙ্গ পরাগায়নে ভূমিকা রাখছে, সেসব প্রাণীকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। তবে আজ দেশের কোথাও সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে দিনটি পালনে কোনো কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি।

যেভাবে মৌমাছি পালনের সূচনা

মৌমাছি সামজবদ্ধ পতঙ্গ হলেও খ্রিষ্টের জন্মের ৬ হাজার বছর আগের শিলালিপিতে মৌমাছি পালনের ইতিহাস পাওয়া যায়। ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যে অর্থাৎ খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের শেষে ও তৃতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে বিপুলভাবে মৌমাছি পালন করা হতো।

মৌমাছি চাষের ইতিহাস অনেক প্রাচীন হলেও পদ্ধতিগতভাবে প্রথম ১৬৩৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৌমাছি চাষ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৮৪০ সালে ‘মোস্সে কুইনবি’ নামে এক বিজ্ঞানী মৌচাষ শুরু করেন। ১৮৫১ সালে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌচাষ শুরু করেন ল্যাংস্ট্রোথ নামক আরেক বিজ্ঞানী যাকে আধুনিক মৌচাষের জনক বলা হয়।

ভারতবর্ষে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌমাছি পালন কার্যক্রম শুরু হয় ১৮৮৩ সালে। বাংলাদেশে আকতার হামিদ খান ১৯৬১ সালে কুমিল্লার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে প্রথম মৌচাষ শুরু করেন। এরপর ১৯৬৩ সালে সাতক্ষীরায় বিসিক প্রথম মৌচাষের উদ্যোগ নেয় এবং এখনও বিসিকের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে, যা সারা দেশে বিস্তৃত হয়েছে। বিসিকের প্রচেষ্টার সাথে পরবর্তীতে আশির দশকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও সম্পৃক্ত হয় এবং এর মাধ্যমে বর্তমানে মৌপালন সম্প্রসারণে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উদ্ভিদের ৮০ শতাংশ পরপরাগায়ন মৌমাছিতে

কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) তথ্য মতে, প্রতিদিন আমরা যে খাবার খাই, তার তিন ভাগের এক ভাগ আসে মৌমাছির পরাগায়ন থেকে। অন্যদিকে, কীটপতঙ্গের মাধ্যমে যেসব উদ্ভিদের পরপরাগায়ন হয়, তাতে শুধু মৌমাছির অবদান ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া বর্তমানে মানুষ খাবার হিসেবে যেসব ফলমূল, শাকসবজির ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেগুলোর ৭০ শতাংশ উৎপন্ন হয় মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে। পৃথিবীতে প্রতি বছরে যে পরিমাণ খাদ্য মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে উৎপাদিত হয় সেগুলোর আর্থিক মূল্য আনুমানিক ২২ হাজার কোটি ডলার। এ অর্থনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী ১৪০ কোটি মানুষের জীবিকা।

যেভাবে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছি

শস্য, ফলদ ও বনজ সব গাছের ফুল থেকেই মধু সংগ্রহ করে মৌমাছি। দেশে প্রাকৃতিকভাবে মধুর বড় একটি উৎস সুন্দরবন। এখানে কেওড়া ও খলিসা ফুল মৌমাছিদের প্রথম পছন্দ।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশে মৌচাকে মৌমাছির বসবাস। তবে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে এনে মৌচাকের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে পালন করা হয়। একে বলে মৌচাষ বা মৌমাছি পালন। এই মৌমাছিরা ঘন ঘন পাখা নেড়ে ফুলে ফুলে শুঁড় বসিয়ে মধু ও পরাগ রেণু সংগ্রহ করে। এরপর তা চাকে এনে জমা করে তারা মধু উৎপাদন করে।

তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, মৌমাছি পরাগায়ন ঘটিয়ে বনজ, ফলদ ও কৃষিজ ফসলের উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ ভাগ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। ফসলের মাঠে কীটপতঙ্গ দ্বারা পরাগায়ন অধিক কার্যকর। এ কারণে বীজ ও ভালো ফসল উৎপাদনে মৌমাছির পরাগায়ন অত্যাবশ্যক।

মৌ বিজ্ঞানীদের মতে, এক পাউন্ড মধু উৎপাদনে মৌমাছিদের প্রায় ২০ লাখ ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে হয়, যার জন্য প্রায় ৮০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। একটি মৌমাছি তার জীবদ্দশায় এক চা চামচ পরিমাণ মধু সংগ্রহ করে। মধু ছাড়াও মৌমাছি থেকে পাওয়া অন্যান্য পণ্যের মাঝে রয়েছে মোম, প্রোপোলিস, রাজকীয় জেলি, মৌবিষ ইত্যাদি।

মৌবাক্সে মৌমাছি পালন বাড়ছে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজির আলম নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাবারের জোগান দিতে প্রয়োজন বাড়তি উৎপাদন। মৌমাছির সহায়তা ছাড়া এই বাড়তি উৎপাদন সম্ভব নয়। আমরা যদি তেল সংকট কাটাতে সরিষার আবাদ বাড়াতে চাই, চালের ঘাটতি দূর করতে ধানের আবাদ বাড়াতে চাই, এভাবে সব ধরনের খাদ্যশস্য, ফলদ শস্য, বনজ শস্যের উৎপাদন বাড়াতে চাই, তাহলে আমাদের মৌমাছি পালন বাড়াতে হবে। আর মৌমাছির জীবন হুমকির মুখে পড়লে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও হুমকির মুখে পড়বে। সে ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেশে মৌ চাষকে প্রকল্পের মাধ্যমে এনে তা বিস্তারে উৎসাহিত করছে।

বেনজির আলম বলেন, মধু ও অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি করা সম্ভব। মধু ও মৌপণ্যভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং জৈব বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে।

বিসিক জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল বারিক জানান, মৌমাছি পালন করার মাধ্যমে একদিকে যেমন দারিদ্র্য বিমোচন ঘটছে, তেমনি মৌমাছির সহায়তায় পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়ছে। তা ছাড়া বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসরত মৌমাছি থেকে পাওয়া মধু বেশি মিষ্টি। এর চাহিদাও ব্যাপক।

বিসিকের উদ্যোগে দেশে প্রথম ১৯৭৭ সালে বাগেরহাট জেলার যাত্রাপুরে কাঠের বাক্সে দেশীয় মৌমাছির জাত ‘ফেরেনা’ চাষ শুরু হয়। এতে সাফল্য অর্জন করায় বিসিক পরবর্তীকালে আরও ছয়টি জেলায় স্থায়ী সেন্টার তৈরি করে। এই সেন্টারগুলোতে মানুষের প্রশিক্ষণ, ব্যাপক প্রচারণা ও বিভিন্ন মেলা আয়োজনের মাধ্যমে মানুষকে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষে উৎসাহিত করা হয়।

ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বোতলে করে এখন মধু বাজারজাত করছে। এ ছাড়া বিসিক মৌমাছি পালন কর্মসূচি নামক স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় উদ্যোক্তাদের আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌ চাষ ও মধু উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ ও সহায়তাও প্রদান করছে। বর্তমানে ছয়টি মৌমাছি উৎপাদন কাম প্রদর্শনী কেন্দ্র ও ৬৪ জেলায় স্থাপিত বিসিক কার্যালয়ের মাধ্যমে মৌ পালন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতি বছর নতুন নতুন চাষি মৌ চাষে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিসিক এলাকায় মোট ৪ হাজার ৬২২ টন মধু উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই উৎপাদন ছিল ২ হাজার ৭৬৬ টন।

কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের উপপরিচালক ও কৃষিবিদ ড. ফ. ম. মাহবুবুর রহমান জানান, আগে মৌমাছির মাধ্যমে বাক্স পদ্ধতিতে মধু চাষের বিষয়ে বাংলাদেশের কৃষকদের ধারণা স্পষ্ট ছিল না। তাই মধুভিত্তিক শস্য সরিষা, তিল, তিসি, লিচু ইত্যাদির কৃষিজ উৎপাদন বাড়াতে মৌ চাষ এবং মৌ চাষের উপকারিতা সম্পর্কে স্থানীয় কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

সরকার ২০১২-১৭ মেয়াদে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় মৌ চাষ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং মৌচাষিদের সহজ শর্তে ও সরল সুদে ঋণ দেয়া হয়।

মধুশিল্প দেশে কতটা বিস্তৃত

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিইএ) তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে আড়াই হাজার বাণিজ্যিক বা পেশাদার মৌ খামার রয়েছে। অপেশাদার বা শৌখিনভাবে মৌ পালন করছে আরও ২৫ হাজার। তবে ১ হাজার ১৫১ জন সক্রিয় মৌ খামারি মৌ পালনের সাথে সম্পৃক্ত। চাষি ছাড়াও বিভিন্নভাবে মধুশিল্পে কর্মরত প্রায় ২ লাখ মানুষ। বেসরকারি মধু প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রয়েছে সাতটি এবং সরকারিভাবে আছে একটি।

২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ১১ হাজার ৪০০ টন এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ হাজার টন মধু উৎপাদন হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১৩ হাজার টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

দেশে যত মধু উৎপাদন হয় তা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কিছু পরিমাণ বিদেশেও রপ্তানি হয়। ভারত, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কিছু দেশে এই মধু রপ্তানি হচ্ছে। ২০১৯ সালে দেশ থেকে মধু রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫০০ টন।

বর্তমানে সারা দেশে মৌ চাষের আওতায় জমির পরিমাণ ৮৯ হাজার ৩৭ হেক্টর। এসব জমিতে ২ হাজার মৌ খামার ও ৫৬ হাজার ৬৮৮টি মৌবাক্স স্থাপিত রয়েছে। প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে আরও ৭০ হাজার কৃষককে মৌ চাষের সাথে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌ চাষে আগ্রহীর সংখ্যা দ্বিগুণ করা গেলে মধু উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন:
মৌবাড়িতে লাখ লাখ মৌমাছি, ২৬টি মৌচাক
মৌমাছি করবে করোনা শনাক্ত
করোনা শনাক্ত করবে মৌমাছি
মৌমাছির হুলে কৃষকের মৃত্যু
মৌমাছির আক্রমণে দিনমজুরের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Raghabboyal Kara behind PK

পি কের পেছনের রাঘববোয়াল কারা

পি কের পেছনের রাঘববোয়াল কারা পি কে হালদার। কার্টুন: মামুন হোসাইন
পি কে হালদারের জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের এই অপকর্মের নেপথ্যের কুশীলব রাঘববোয়ালদের এখনো সামনে আনেনি দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা। বলা হচ্ছে, পি কের এই জালিয়াতির সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬২ জনকে শনাক্ত করেছে দুদক।

ভারতে আটক হওয়ার পর প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) নাম নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে। একই সঙ্গে জোরেশোরে প্রশ্ন উঠেছে, জালিয়াতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের হোতা পি কে হালদারের পেছনে কারা। বলা হচ্ছে, পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে তার পেছনের রাঘববোয়ালদের সন্ধান মিলবে।

২০১৯ সাল থেকে পি কে হালদারের অর্থ কেলেঙ্কারি অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকা এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুরুতেই এই তদন্ত থামানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এস কে সুর ও নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম।’

অন্যদিকে পি কে হালদার-সংশ্লিষ্ট তদন্তে আটক প্রায় সবাই আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম বলেন। অনেকেই এদেরকে পি কে হালদারের গডফাদার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আটক রাশেদুল হক জবানবন্দিতে বলেন, ‘পি কে হালদারের নির্দেশেই তিনি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন। অর্থ লোপাটের তথ্য ধামাচাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক এক ডেপুটি গভর্নরকে দুই লাখ টাকা করে মাসোহারা দিতেন পি কে।’

পি কের পেছনের রাঘববোয়াল কারা

পি কে হালদার-সংশ্লিষ্ট তদন্তে আটক প্রায় সবাই আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে পি কে হালদারের গডফাদার হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এস কে সুরের নাম বলেন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট টিমকে ম্যানেজ করতে লাখ লাখ টাকা ঢেলেছেন পি কে হালদার- এমনটাও দাবি করা হয়েছে জবানবন্দিতে। তবে আরও বড় কোনো শক্তি পি কে হালদারের পেছনে আছে বলে মনে করেন কেউ কেউ।

সারা দেশ যখন ক্যাসিনোকাণ্ডে তোলপাড়, ঠিক তখনই সামনে আসে একটি নাম, প্রশান্ত কুমার হালদার। সংক্ষেপে তাকে ডাকা শুরু হয় পি কে হালদার। ঢাকা শহরের ক্লাব ও অভিজাত এলাকায় যখন ক্যাসিনোবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে গলদঘর্ম আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ঠিক তখনই পি কের বোমা ফাটায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের রেশ না কাটতেই ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পি কের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা ঠুকে দেয় দুদক। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোল।

একে একে বের হতে থাকে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে পি কে হালদারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের ঘটনা। প্রকাশ হতে থাকে তার সহযোগীদের নামও। অভিযোগ আছে, দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির পেছনে রয়েছে রাঘববোয়ালদের প্রচ্ছন্ন সহায়তা।

এই রাঘববোয়ালদের এখনো সামনে আনেনি দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা। যদিও বিভিন্ন সময়ে জানা গেছে, পি কের এই জালিয়াতির সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬২ জনকে দুদক শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে। তাদেরকে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে ডাকাও হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, পি কে হালদার পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) দায়িত্বে থেকেই প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লুট করেছেন।

পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের নামে এখন পর্যন্ত ৩৯টি মামলা করেছে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে করা টিম অনুসন্ধানের মাধ্যমে এসব মামলা করেন।

পি কের পেছনের রাঘববোয়াল কারা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর পি কে হালদার। ফাইল ছবি

এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল কুমার নন্দী, শংখ বেপারী, রাশেদুল হক, অবন্তিকা বড়াল ও নাহিদা রুনাইসহ ১০ জন দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া ১ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের সম্পদ অবরুদ্ধ ও জব্দ করা হয়েছে।

আদালতের মাধ্যমে ৮৩ জনের বিদেশযাত্রায় দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। একই ইস্যুতে ৩৩ ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮৩ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও তাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে রেখেছে দুদক।

পিকের বান্ধবীরা

আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারের ৮০ জন বান্ধবী থাকা নিয়ে একসময় তুমুল আলোচনা ছিল। তবে দুদকের তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের তথ্য মিলেছে। তারা হলেন অবন্তিকা বড়াল, শিমু রায়, নাহিদা রুনাই, পূর্ণিমা রানি, সুপ্তি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম, হালি আকতার, সুস্মিতা, সামিয়া বেগম, অনিন্দিতা মৃধা, আতশী, পাপিয়া, শুভ্রা রানি, লামিয়া ও সাজিয়া রহমান।

এই বান্ধবীদের নামে ৮৬৭ কোটি পাচার করেছেন পি কে। কেবল তাই নয়, এসব বান্ধবীকে কোটি কোটি টাকার উপহার, গয়না ও ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন এই জালিয়াত।

এদের মধ্যে অবন্তিকা বড়ালকে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকায় ধানমন্ডির ১০/এ সড়কে ৩৯ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট কিনে দেন পি কে। যদিও অবন্তিকা আয়কর নথিতে তা গোপন রাখেন। গোপন রাখেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা নগদ ১০ কোটি টাকার তথ্যও। বর্তমানে তিনি আটক রয়েছেন।

শিমু রায়ের ব্যাংক হিসাবে ৬৫ কোটি টাকা দিয়েছিলেন পি কে। ময়মনসিংহের আলোচিত কুমির খামারের নামে এই টাকা নিয়েছিলেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্সের বাণিজ্য বিভাগের প্রধান নাহিদা রুনাইয়ের নামে কয়েক কোটি টাকা রেখেছিলেন পিকে, যা বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হয়।

পূর্ণিমা রানির ব্যাংক হিসাবে ১০০ কোটি টাকা দেন পি কে। এই টাকা একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে দেয়া লোন হিসেবে দেখানো হয়। হালি আক্তারকে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে দেন ৭০ কোটি টাকা। অবনিতার কাগুজে প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় ৮৪ কোটি টাকা।

সুপ্তি চৌধুরীকেও কোটি কোটি টাকা দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। যদিও তদন্ত শুরুর গন্ধ পেয়ে কানাডায় চলে যান পি কের এই বান্ধবী। কানাডায় তার আশ্রয়েই পি কে ছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে দুদকের তদন্তে।

বান্ধবী শাহনাজকে ৬০ কোটি টাকা দেন পি কে। আবার সুস্মিতা ও সামিয়া বেগমের কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে দেন ৬২ কোটি টাকা করে মোট ১২৪ কোটি টাকা।

অনিন্দিতা মৃধাকে উইন্টেল ইন্টারন্যাশনাল নামে ঠিকানাহীন প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় ৭০ কোটি টাকা।

একই কায়দায় আতশি বেগমকে দেন ৮০ কোটি টাকা।

পাপিয়াকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পরিচালক দেখান পি কে। এই পরিচয়ে এফএএস থেকে তাকে ১২০ কোটি টাকা ঋণ তুলে দেন তিনি। কাগুজে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে শুভ্রা রানীকে দেয়া হয় ৮০ কোটি টাকা। একই কায়দায় সুস্মিতাকে দেয়া হয় ৭০ কোটি টাকা।

লামিয়া নামে একজন পার্টি এক্সপার্ট বান্ধবীও ছিল পি কের। তাকে নিয়ে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের পার্টিতে যেতেন পি কে। তার ব্যাংক হিসাবেও মিলেছে বিপুল টাকা। দুদককে দেয়া জবানবন্দিতে লামিয়া বলেছেন তার অতীত জীবনের সেই অধ্যায়।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাজিয়া রহমান নামে এক নারীও এসব পার্টিতে লামিয়ার সঙ্গী হতেন। তার হিসাবেও রয়েছে পি কের জালিয়াতির অর্থ। পি কে হালদার তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে বান্ধবীসহ ঘনিষ্ঠদের নামে সরিয়ে নেন বলে নিশ্চিত হয়েছে দুদক।

পি কের সহযোগী কারা

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পি কের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধবী, সহযোগী, ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে নাম এসেছে প্রায় ১০০ জনের। এদের সবাইকে পিকের অর্থ লুটপাটের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ও আসামি করেছে দুদক।

অর্থ লুটপাটে পি কে হালদারের সহযোগী হিসেবে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন হাল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুস্মিতা সাহা ও এমডি মৈত্রেয়ী রানী বেপারী, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক মো. আবুল শাহজাহান, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, মাহফুজা রহমান বেবী, সোমা ঘোষ, ডা. উদ্ভব মল্লিক, অরুণ কুমার কুণ্ডু, প্রদীপ কুমার নন্দী, এফএএস ফাইন্যান্সের স্বতন্ত্র পরিচালক বীরেন্দ্র কুমার সোম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল শাহরিয়ার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হক গাঙ্গী, সিনিয়র অফিসার মৌসুমী পাল, ম্যানেজার আহসান রাকিব, প্রাক্তন সিনিয়র অফিসার তাসনিয়া তাহসিন রোজালিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর ইমাদুল হক, প্রাক্তন ডিপি মনিরুজ্জামান আকন্দ, সাবেক এসভিপি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া এবং সাবেক এসইভিপি ও সিএডির প্রধান প্রাণ গৌরাঙ্গ দে।

সহযোগীদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসুদের ব্যানার্জি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের পরিচালক নওশেরুল ইসলাম, অঞ্জন কুমার রায়, মোস্তাইন বিল্লাহ, উজ্জ্বল কুমার নন্দী, আর বি এন্টারপ্রাইজের মালিক রতন কুমার বিশ্বাস, আর্থ-স্কোপ লিমিটেডের এমডি প্রশান্ত দেউরি, পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, নিউট্রিক্যাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান স্বপন কুমার মিস্ত্রি, ওয়াকামা লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুব্রত দাস, পরিচালক সুভ্রা রাণী ঘোষ ও তোফাজ্জল হোসেন, কোলাসিন লিমিটেডের এমডি উত্তম কুমার মিস্ত্রি, চেয়ারম্যান অতশী মৃধা, জিঅ্যান্ডজি এন্টারপ্রাইজের মালিক গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, দ্রিনান অ্যাপারেলসের এমডি মোহাম্মদ আবু রাজিব মারুফ, কণিকা এন্টারপ্রাইজের মালিক রাম প্রসাদ রায় ও ইমেক্রো’র মালিক ইমাম হোসেন।

এ ছাড়া রয়েছেন দিয়া শিপিং লিমিটেডের পরিচালক শিব প্রসাদ ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি এবং এফ এ এসের চেয়ারম্যান এমএ হাফিজ। এরা সবাই দুদকের করা মামলার আসামি।

আরও পড়ুন:
পি কেকে ফেরাতে পশ্চিমবঙ্গে যাবে কমিটি
পি কে হালদারকে ফেরত চেয়ে ইন্টারপোলে আবার চিঠি দুদকের
পি কে হালদারের নামে আরেক মামলা দুদকের
পি কে হালদারকে ফেরাতে দুদকের কমিটি
ঘরে-বাইরে পি কে আছে অনেক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Poyaboro of banks in dollar prices

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’ ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের সুযোগে মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে সাত টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কোনো ব্যাংক ১ ডলারে নিচ্ছে ৯৫ টাকা, কেউবা নিচ্ছে ৯৮। অর্থাৎ ১০০ ছুঁইছুঁই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই ডলার তারা কিনছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। অথচ ৮৭ টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করে এক বছরে ব্যাংকের সর্বোচ্চ আয় হতে পারে ৭ টাকা ৮৩ পয়সা।

উত্তপ্ত ডলারের বাজার। টাকার মান পড়ছেই। বাংলাদেশ ডলারের যে দাম ঠিক করে দিয়েছে, খোলাবাজারে তার চেয়ে ১৫ টাকা বেশিতেও বিক্রি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাটি।

এ নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার শেষ নেই। তবে এই সংকট কিন্তু দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

কোনো ব্যাংক ১ ডলারে নিচ্ছে ৯৫ টাকা, কেউবা নিচ্ছে ৯৮। অর্থাৎ ১০০ ছুঁইছুঁই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই ডলার তারা কিনছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়।

অর্থাৎ মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। অথচ ৮৭ টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করে এক বছরে ব্যাংকের সর্বোচ্চ আয় হতে পারে ৭ টাকা ৮৩ পয়সা।

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে এখন ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহেও যা ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। ২০২১ সালের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

সবশেষ চলতি মাসের ১৬ তারিখ ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় দরপতন হয়। এক দিনেই ইউএস ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এতটা দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে এখন ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহেও যা ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা।

গত ৯ মাসে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

তবে খোলাবাজারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এমনিতে মানি এক্সচেঞ্জে ডলারের দাম সাধারণত ব্যাংক রেট থেকে কিছু বেশি থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার ১০১ থেকে ১০২ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুদ্রাটি।

এই সুযোগ নিচ্ছে ব্যাংকও। তাদের কাছে ডলার কিনতে যাওয়ার পর একেক ব্যাংক একেক দাম চাইছে গ্রাহকদের কাছ থেকে।

কোন ব্যাংকে কত রেট

ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে দামে ডলার কেনে বা বিক্রি করে, তাকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বলে। এ হিসাবে আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে নগদ ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু এই ব্যবধান বা পার্থক্য এক-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণে দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছেমতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো।

বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংক থেকে এক ডলার কিনতে গুনতে হয়েছে ৯৪ টাকা। আর গ্রাহকের থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির দর ৯২ টাকা।

অগ্রণীতে বিক্রি হয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা। আর কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটি নিয়েছে ৯০ টাকা ৫০ পয়সা।

সোনালীতে ১ ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা। আর ব্যাংকটি কিনেছে ৯২ টাকা দরে।

রূপালীতে ১ ডলার কিনতে দিতে হচ্ছে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর ব্যাংকটি নিজে কিনছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা দরে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকে ১ ডলার কিনতে হচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

ব্যাংক এশিয়ার গ্রাহকের কাছ থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে দিচ্ছে ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু ব্যাংকটি ১ ডলার বিক্রি করছে ৮৬ টাকা ৮০ পয়সায়।

ব্র্যাক ব্যাংকে ১ ডলারে গুনতে হবে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর ব্যাংকটি গ্রাহক থেকে কেনার ক্ষেত্রে দিচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সিটি ব্যাংকের ১ ডলার সমান ৮৬ টাকায় কেনাবেচা করছে।

ইস্টার্ন ব্যাংকে এক ডলারে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা গুনতে হবে। আর ব্যাংকটি নিজে কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহককে দিচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকেও একই দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

প্রাইম ব্যাংক বুধবার ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির রেট ৯৬ টাকা।

বিদেশি ব্যাংক কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনে ডলারের সবচেয়ে চড়া দাম। ব্যাংকটির ওয়েরসাইটে দেখা গেছে, ১ ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকটি নিচ্ছে ৯৮ টাকা। আর গ্রাহকের কাছ থেকে কেনার ক্ষেত্রে ১ ডলার সমান ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সিটি ব্যাংক এনএ-তে ১ ডলার ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

ব্যাংকাররা যা বলছেন

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না। বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে যদি আন্তব্যাংক রেট আরও বেশি হয়, তাও যেতে দিতে হবে। তাহলে ব্যাংকগুলো ও কার্ব মার্কেটের সঙ্গে ব্যাংক রেটে ডলারের যে পার্থক্য তা কমে আসবে। ধীরে ধীরে বাজারও স্থিতিশীল হয়ে আসবে।’

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতে গিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আমদানি চাহিদা বাড়ছে, রেমিট্যান্স কমেছে। ডলারে কিছু ব্যাংক আগ্রাসী রেট ধরে দিচ্ছে। এটাতে মিডলম্যান লাভবান হচ্ছে, প্রবাসীরা হয় না। সকল ব্যাংকে এক রেট হওয়া উচিত।’

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এমডি আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরিন বলেন, ‘সারা দেশের সব ব্যাংকে এক রেট করা উচিত। ব্যাংকের চেয়ে হুন্ডি রেট বেশি দিলে ব্যাংকের রেমিট্যান্স কমে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রেট দিলে আমরা পরিপালন করি, অন্য যারা করছে না তারা রেমিট্যান্স বেশি পায়। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই যেকোনো নিয়ম করলে যাতে সবাই পরিপালন করে সেই ব্যবস্থা করা উচিত।’

কী বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খোলা বাজারে ডলার অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। চাহিদা বেশি, তাই গ্রাহকদের অতিপ্রয়োজনীয় সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী ডলারের দাম বেশি নিয়ে অতি মুনাফা করছে।’

আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোও বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে, তাদের বিষয়টি তদারকি করা হবে। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মুনাফার লোভে ডলার কিনে মাথায় হাত
ডলার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: গভর্নর
ব্যাংকেও সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে ডলার
ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি
খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why flood in Sylhet again and again

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

বারবার সিলেটে কেন বন্যা বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেটের বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে প্রধান নদীগুলো বিশেষত সুরমা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া, নগর ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জলাশয় ভরাট, দখল হওয়া এবং সিলেটের উজানে মেঘালয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই এই বন্যা।

দেশের অনেক ভাটি অঞ্চল যখন পুড়ছে তীব্র দাবদাহে, তখন সিলেট ভাসছে জলে। সেখানে বিরাজ করছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি।

এর আগে গত এপ্রিলে বন্যায় তলিয়ে যায় সিলেটসহ আশপাশের হাওর এলাকার ফসল। এর মাসখানেক না যেতেই সিলেটে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যা।

এবার বন্যা এসেছে আরও ভয়ঙ্কর রূপে। তলিয়ে গেছে প্রায় পুরো সিলেট। সুনামগঞ্জেরও বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন।

বারবার কেন সিলেটে বন্যা হচ্ছে? বন্যা কেন এত তীব্র আকার ধারণ করছে?

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে প্রধান নদীগুলো বিশেষত সুরমা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া, নগর ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জলাশয় ভরাট, দখল হওয়া এবং সিলেটের উজানে মেঘালয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই এই বন্যা।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

বুধবার দুপরে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেনও এসব কারণকে দায়ী করেছেন। বলেছেন, ‘সিলেটে এই মৌসুমে সব সময়ই ঢল নামে। আমাদের ছেলেবেলায়ও এমনটি দেখেছি। তখন পানি আটকে থাকত না, চলে যেত। কারণ আমাদের শহরে অনেক পুকুর ছিল।

‘প্রত্যেক বাড়ির সামনে পুকুর ছিল। আর সিলেটকে বলা হতো দিঘির শহর। এখন আমরা নগরের ভেতরের সব পুকুর-দিঘি ভরাট করে বড় বড় বিল্ডিং করেছি। হাওরগুলো ভরাট করে ফেলেছি। এ ছাড়া প্রধান নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। খালি মাঠগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে পানি নামতে পারতেছে না। যেকোনো দুর্যোগেই সিলেটের জন্য এটা একটা ভয়ের কারণ।’

নদীর তলদেশ ভরাট

সিলেটের প্রধানতম নদী সুরমার দুই রূপ। বর্ষায় দুকোল উপচে ডুবিয়ে দেয় জনবসতি। আর গ্রীষ্মে পানি শুকিয়ে পরিণত হয় মরা গাঙে। জেগে উঠে চড়।

প্রায় ২৪৯ কিলোমিটার দৈর্ঘের সুরমা দেশের দীর্ঘতম নদী। ভারতের বরাক নদী থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনায় মিলিত হয়েছে। এই নদী বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে পানিহীন, মৃতপ্রায়।

পলি জমে ভরাট হয়ে পড়েছে নদীর তলদেশ। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সুরমা হয়ে পড়ে বালুভূমি। অপরদিকে অল্প বৃষ্টিতেই নদী উপচে নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দেয় বন্যা। বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে তলিয়ে যায় হাওরের ফসল।

ভরাট হয়ে পড়েছে এ নদীর উৎসমুখও। নদীর উৎসমুখের ৩২ কিলোমিটারে জেগেছে ৩৫টি চর। দুই দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যৌথ নদী কমিশনে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আটকে আছে উৎসমুখ খননও।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সুরমা নদীর উৎসমুখ খননে ২০১২ সালে সিলেট থেকে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর নদী খননে সমীক্ষা চালানো হয়।

সমীক্ষার পর নদী খননে উদ্যোগ নেয়ার কথা ওই সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এরপর এ বিষয়ে আর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

পরে ২০১৮ সালে সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে ৬০০ মিটার সুরমা নদী খনন করা হয়। ওই সময় সিলেট সদর উপজেলা এবং কানাইঘাট উপজেলার কয়েকটি অংশে নদী খননের জন্য প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির মৌসুমে নদী উপচে পড়ে পানি। ভরাট হয়ে গেছে সিলেটের অপর প্রধানতম নদী কুশিয়ারাও। এই দুই নদী খনন ছাড়া বন্যা থেকে উত্তোরণ সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে আছে। এ ছাড়া নাগরিক বর্জ্য, বিশেষ করে প্লাস্টিকজাত দ্রব্য সুরমা নদীর তলদেশে শক্তভাবে বসে আছে। এ কারণে নদী পানি ধারণ করতে পারছে না।

‘যৌথ নদী হওয়ায় নদীর উৎসমুখ ভরাট করতে দুই দেশের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাই আমরা সিলেট মহানগরের অংশে সুরমা নদী খননের দাবি অসংখ্য বার জানিয়েছি। সেই দাবি আমলে নিলে নদীর পানি উপচে বন্যা হতো না, সিলেট নগরের ছড়া ও খালের পানিও অনায়াসে নেমে যেতে পারত।’

সুরমাসহ এই এলাকার নদীগুলো খননের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুরমাসহ এই এলাকার বেশির ভাগ নদীই নাব্য হারিয়েছে। এগুলো খনন করা প্রয়োজন। নদী খননের জন্য গত বছর আমরা ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সম্ভাব্যতা যাছাই শেষে এটি এখন মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন।’

আগামী বর্ষার আগেই নদী খনন করা হবে উল্লেখ করে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের নদীগুলো খননের ব্যাপারে আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। আমরা নদী খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী বর্ষার আগেই নদীগুলো খনন করতে হবে।’

নগরের জলাশয় ভরাট ও দখল

সাগরদিঘির পাড়, লালদিঘির পাড়, রামেরদিঘির পাড়সহ সিলেট নগরীর অন্তত ২০/২৫টি এলাকার নাম এমন। দিঘির নামে এলাকার নাম ঠিকই আছে, কিন্তু নেই দিঘিগুলো। ভরাট হয়ে গেছে অনেক আগেই। গত তিন দশকে ভরাট হয়ে গেছে নগরীর অর্ধশতাধিক দিঘি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসেবে, ১৫/২০ বছর আগেও সিলেট নগরে অর্ধশতাধিক বৃহৎ দিঘি ছিল। অথচ এখন ঠিকে আছে মাত্র ১০/১১টি। বাকিগুলো ভরাট হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হিসাবে, সিলেটে পুকুর-দিঘি মিলিয়ে তিন শতাধিক জলাশয় ছিল। এর দুই তৃতীয়াংশই ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জলাশয় ভরাট করে সরকারি প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

এ ছাড়া সিলেটের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোট-বড় প্রায় ২৫টি প্রাকৃতিক খাল। যা ‘ছড়া’ নামে পরিচিত। পাহাড় বা টিলার পাদদেশ থেকে উৎপত্তি হয়ে ছড়াগুলো গিয়ে মিশেছে সুরমা নদীতে। এসব ছড়া দিয়েই বর্ষায় পানি নিষ্কাশন হতো। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না।

এখন অনেক স্থানে এসব ছড়ার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। ছড়াগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৩টি বড় ছড়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৩ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরেই এসব ছড়ার দু’পাশ দখল করে রেখেছে স্থাপনা নির্মাণ করেছে অবৈধ দখলদাররা।

এ ছাড়া নগরের উপশহর এলাকার হাওর ভরাট করে গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা। বাঘা এলাকার হাওর ভরাট করে হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট।

জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরের পানি ধারণের ক্ষমতা কমে গেছে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এখন বৃষ্টি হলেই নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আর ঢল নামলে বন্যা হয়ে যায়।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩০ কিলোমিটার ছড়া উদ্ধার করেছি। এতে নগরীতে আগেরমতো আর জলাবদ্ধতা হয় না। বেশি বৃষ্টিতে নগরীর কিছু এলাকায় পানি জমলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা নেমে যায়।

‘আমরা নগরের জলাশয়গুলো রক্ষায়ও বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আর কোনো জলাশয় ভরাট করতে দেয়া হচ্ছে না।’

উজানে অতিবৃষ্টি

সিলেটে গত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে। এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে চেরাপুঞ্জিতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চেরাপুঞ্জিতে গত পাঁচ দিনে ১ হাজার ২৩৮ মিলিমিটিার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটেও অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। এই পানি নদী ধারণ করতে পারছে না।’

বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুল হক সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে এসেও একই তথ্য জানান। বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। এক দিনেই প্রায় ১ হাজার ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ঢল হয়ে সিলেটের দিকে নামছে, ফলে বন্যা দেখা দিয়েছে।’

পরিবেশ আন্দোলনের নেতা আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘ভারতের উজানের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের সঙ্গে প্রচুর মাটি আর বালুও আসছে। কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতে বিশেষ করে মেঘালয় বৃক্ষশূন্য করার কারণেই এমন ভূমিক্ষয় হচ্ছে।

‘এতে সুরমাসহ সিলেটের অন্য নদ-নদীর তলদেশ আরও ভরাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সুরমা, কুশিয়ারাসহ সিলেটের অন্য নদ-নদীর খনন করা প্রয়োজন। তবেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

গত এপ্রিলে সুনামগঞ্জের হাওরের পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের নদীগুলো খননে উদ্যোগ নেয়া হবে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় কোনো কিছুই ঠিক নেই সিলেট নগরীর
আসামে বন্যা: পানির স্রোতে উল্টে গেল ট্রেনের বগি
১৮ বছরের মধ্যে সিলেটে সবচেয়ে বড় বন্যা
সুনামগঞ্জে পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Azizs tolabaji was suppressed in New Market

ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে জামা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে জামা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট। ছবি: সংগৃহীত
ব্যবসায়ীরা জানান, আজিজ সুপার মার্কেটের ছয়টি দোকান থেকে অর্ধ লাখ টাকার পোশাক জোর করে নিয়ে গেছেন ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ের কয়েকজন। ঈদুল ফিতরের আগে ২১ এপ্রিল রাতে এই তোলাবাজির ঘটনা ঘটে। তখন ঢাকা কলেজ-নিউ মার্কেটের মতো সংঘর্ষের আশঙ্কায় দোকানিরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দেননি; মামলাও করেননি।

ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে টাকা না দিয়ে জোর করে জামা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন রাজধানীর শাহবাগের আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

ঘটনা ঈদের আগের। মূলত বিষয়টি আলোচনার বাইরে থেকে যায় সে সময়ে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও নিউ মার্কেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায়।

আজিজ সুপার মার্কেটের ছয়টি দোকান থেকে অর্ধ লাখ টাকার পোশাক জোর করে নিয়ে যাওয়ার এ অভিযোগ সম্প্রতি প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা, তবে তারা মামলা করেননি।

ছাত্রলীগ কর্মীরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে আজিজ সুপার মার্কেটের ছয়টি দোকানে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটায় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চুপ। অভিযুক্তরা সবাই হল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও তাদের ‘কর্মের’ দায় নিতে রাজি নন নেতারা। লিখিত অভিযোগ পাননি জানিয়ে তারা প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছেন।

ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে জামা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ দীর্ঘদিন গোপন রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল ফিতরের আগে ২১ এপ্রিল রাতে এই তোলাবাজির ঘটনা ঘটে। তখন ঢাকা কলেজ-নিউ মার্কেটের মতো সংঘর্ষের আশঙ্কায় দোকানিরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দেননি; মামলাও করেননি। আর সবাই ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে থাকায় পরে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হলে অনেকে তথ্য যাচাইয়ে আসেন। তখন দোকানিরা ‘প্রকৃত ঘটনা’ তুলে ধরেন।

সেই রাতের বর্ণনা দিয়ে ‘ইজি’ নামের একটি দোকানের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় পাঁচ-ছয়জন শোরুমে ঢোকেন। তুই-তোকারি করে কথা বলেন। তারা ১৩টি পোশাক নিয়ে প্যাক করতে বলেন।

‘১৮ হাজার টাকার জিনিস তারা ৪ হাজার ৯০০ টাকায় দিতে বললে আপত্তি জানাই। তখন তারা ঢাকা ভার্সিটির ছাত্রলীগ নেতা বলে দাবি করেন। এরপর প্যাক করা পোশাক বিল না দিয়েই নিয়ে যান।’

‘ব্যতিক্রম’ শোরুমের এক্সিকিউটিভ অর্ণব অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগকর্মীদের কয়েকজন তাদের শোরুম থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দামের কাপড় নিয়েছেন টাকা পরিশোধ না করেই।

তিনি বলেন, ‘রাত পৌনে ৯টার দিকে সাত-আটজন এসে দোকানের মালগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করেন। তারা একটা একটা করে প্যান্ট দেখে পছন্দ না হলে নিচে ফেলে দেন। যেগুলো পছন্দ হয়, সেগুলো এক পাশে জমা করেন। ২৭ থেকে ২৮ পিস প্যান্টসহ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার পণ্য নিয়ে তারা দোকান থেকে বের হয়ে যান। এক টাকাও দেননি।’

কর্মচারীদের গালাগালি করার সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ নেতা বলে দাবি করেন বলে জানান অর্ণব।

‘খেয়া’ শো-রুমের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সেদিন সাড়ে ১১টার দিকে পাঁচজন আসেন। এরপর যে যার মতো পছন্দ করে জিনিস নেন। তারা ১০টা শার্ট, ২-৩টা পাঞ্জাবি নিয়েছেন। অর্ধেকের কম পেমেন্ট দিয়ে তারা চলে যান।’

‘প্লাস পয়েন্ট’ শো-রুমের সহকারী ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে পাঁচ থেকে ছয়জন ছেলে কিছু পণ্য পছন্দ করে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট চান। রাজি না হলে তারা জোর করে অর্ধেক দামে পণ্য নিয়ে চলে যান।’

‘কে ক্রাফট’ এর লোটাস নামের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সেদিন অন্য দোকানগুলোতে বেশি ঝামেলা করেছে। আমার এখানে তারা পেমেন্ট কম করেছে, তবে ঈদের ব্যস্ততার মাঝে সময় নষ্ট করেছে বেশি।’

অভিযুক্ত যারা

আজিজ সুপার মার্কেটে বিনা মূল্যে পণ্য নেয়া ও কম দাম দেয়ার বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে সাতজনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তর অনুসারী। একজন ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈমের অনুসারী।

ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য যাচাইয়ে জানা যায়, প্রথম গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান আলিফ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রানা। তারা দুজনই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের।

অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম শুভ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শাহনেওয়াজ আরেফিন পল্লব এবং সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের শেখ শান্ত আলম।

এই গ্রুপের অন্য সদস্যরা হলেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রায়হান, দর্শন বিভাগের আব্দুল মমিন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শফিকুল ইসলাম। তারা সবাই বঙ্গবন্ধু হলের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্ত।

অভিযুক্ত আলিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সব পেমেন্ট করছি। যে বলছে, সে মিথ্যা কথা বলছে। আমি শুধু একটা শার্ট আর প্যান্ট কিনছি।’

পরিসংখ্যান বিভাগের রানা বলেন, ‘ক্যাম্পাসে রাজনীতি করি, অনেক শত্রু থাকতে পারে। সেদিন আমি যা যা শপিং করছি, সবগুলোরই পেমেন্ট করা হয়েছে। যেদিন আমি সেখানে গেছি, সেদিন যে যে পেমেন্ট করছি সেগুলোর স্ক্রিনশট আমার কাছে আছে।’

অভিযোগের বিষয়ে শাহ নেওয়াজ পল্লবকে ফোন করা হলে তিনি ‘রং নম্বর’ বলে লাইন কেটে দেন। অভিযুক্ত অন্যদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটে থাকে, সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। চাঁদাবাজির ঘটনায় ন্যূনতম প্রশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই। ঘটনার উপযুক্ত সত্যতা পেলে আমরা অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘এই বিষয়ে দোকানিরা আমাকে কিছু বলেননি। তারা আমাকে অভিযোগ না দিলে আমি কী করতে পারি? তারপরও আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

প্লাস পয়েন্ট শোরুমের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা মার্কেটের মালিক সমিতিকে সংবাদ দিই। তারা ঘটনার দুই দিন পর বিস্তারিত শোনেন। সব দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ আমরা জমা দিয়েছি। তারা মীমাংসা করে ফেলেছেন বলে শুনেছি। আর নেতারা আমাদের এই ঘটনা ভুলে যেতে বলেছেন।

‘সবকিছু বিবেচনায় আমরা অভিযোগ দিইনি। কারণ এটা করলে হয়তো ফের নিউ মার্কেটের মতো কোনো ঝামেলা হবে। দোকানের মালিকরা অল্প টাকার জন্য বড় ঝামেলায় জড়াতে চান না।’

সার্বিক বিষয়ে আজিজ সুপার মার্কেট মালিক সমিতির ম্যানেজার জনি বলেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে আমি কথা বলতে পারব না। এগুলো আমি দেখি না। ঘটনা তো ঘটেছে অনেক আগে।

‘এ বিষয়ে আমাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেন, তবে তাদের একজন দেশের বাইরে, অন্যজন ঢাকার বাইরে।’

বিষয়টি নিয়ে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা আমাদের কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। মৌখিকভাবেও জানাননি। আমি শপিং করতে গিয়ে কয়েকজনের কাছে বিষয়টি শুনেছি।’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদারকে কল করে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
আব্বাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের
মূল্যস্ফীতির পারদ চড়ছেই, দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
মৈত্রী ট্রেন ফের চালু হচ্ছে
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা: দুজন রিমান্ডে
জয়ার হাতে আনন্দলোক অ্যাওয়ার্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The villagers have not forgotten the grief of breaking the bridge in 3 months

৩ মাসেই সেতু ভাঙার দুঃখ ৩ বছরেও ভোলেনি গ্রামবাসী

৩ মাসেই সেতু ভাঙার দুঃখ ৩ বছরেও ভোলেনি গ্রামবাসী নির্মাণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ে কুড়িগ্রামের পূর্ব ধনীরামপুরের এই সেতু। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষার্থী নুসরাত, হামিদা আর জান্নাতীরা বলে, ‘ঈদের আগের দিন ব্রিজটি ভেঙে গিয়েছিল। আমরা অনেক আশা নিয়ে এই সেতুটি দিয়ে নদী পার হব বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু সব আনন্দ মাটি হয়ে গেল।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি আর প্রতীক্ষার পর ৩০ লাখেরও বেশি টাকা খরচ করে নির্মিত হয়েছিল সেতুটি। কিন্তু নির্মাণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ে এটি। ৩ বছর আগে সেতুটি যেদিন ধসে পড়ে তার পরদিনই ছিল ঈদ।

সেতু হারানোর দুঃখে সেবারের ঈদটাই মাটি হয়ে যায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনীরামপুর গ্রামবাসীর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন বছরে প্রশাসন থেকে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন, এমনকি দুদুক থেকে তদন্তের কথা বলা হলেও তাদের ভোগান্তির সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করে ড্রামের ভেলায় খাল পারাপারের একটি উপায় বের করে নিয়েছেন তারা। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এই পারাপারে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা, হতে পারে প্রাণহানি।

এ বিষয়ে প্রশাসন বলছে, বড় বাজেট না থাকায় নতুন করে সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

৩ মাসেই সেতু ভাঙার দুঃখ ৩ বছরেও ভোলেনি গ্রামবাসী
সেতু ভেঙে যাওয়ায় গ্রামবাসী ড্রামের ভেলায় করে ঝুঁকিতে পণ্য পারাপার করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ফুলবাড়ীর বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনীরামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, নদী পারাপারে স্থানীয়দের ভোগান্তির চিত্র। কয়েকটি ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর বাঁশের মাচা তৈরি করে দুই পাশে দড়ি টেনে মানুষ আর মালামাল পার করা হচ্ছে। এখন পানি কম থাকায় পারাপারে সমস্যা কম হলেও বর্ষা মৌসুমে এটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

গ্রামবাসী জানায়, বর্ষা মৌসুমে এমনও দেখা যায়- প্রচণ্ড স্রোতে ড্রামের ভেলা ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও এ সময় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্য দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই বেলা খাল পার হয়। পানিতে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে সেখানে।

নির্মাণের তিন মাসের মধ্যেই সেতুটি দেবে যাওয়ায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছিল গ্রামবাসী। তাদের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে বড় অনিয়ম হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সাজা হয়নি দায়ী ব্যক্তিদেরও।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ৪০ ফুট দৈর্ঘের ওই সেতু। ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজটির তদারকি করেছিলেন। আর ঠিকাদার এ টি এম দেলোয়ার হোসেন টিটু সেতুটি নির্মাণ করেন।

গত তিন বছর ধরে অনেক দেনদরবার করেও সেতুটির বিষয়ে কোনো সমাধান পায়নি এলাকাবাসী।

স্থানীয় কামরুল, হাসান আলী ও মজিবর রহমান জানান, নিম্নমানের কাজের ফলে সেতুটির এমন দশা হয়েছে। অথচ অফিস বলছে বন্যায় ভেঙে গেছে।

৩ মাসেই সেতু ভাঙার দুঃখ ৩ বছরেও ভোলেনি গ্রামবাসী

ওই এলাকার শিক্ষার্থী নুসরাত, হামিদা ও জান্নাতী বলে, ‘ঈদের আগের দিন ব্রিজটি ভেঙে গিয়েছিল। আমরা অনেক আশা নিয়ে এই সেতুটি দিয়ে নদী পার হব বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু সব আনন্দ মাটি হয়ে গেল। আমাদের আগের মতোই কষ্ট করে খাল পারাপার করতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে দায় এড়িয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত বলেন, ‘ব্রিজটি বন্যার কারণে ভেঙে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দুদক থেকে তদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনারা খোঁজখবর নিতে পারেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে নতুন বড় কোনো প্রকল্প প্রস্তাবনা নেয়া হলে আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে পদক্ষেপ নেব।’

ভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আপাতত অস্থায়ী ভিত্তিতে বাঁশের সেতু নির্মাণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরে সেতু নির্মাণের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
ভূমি অধিগ্রহণে প্রতারণা, সার্ভেয়ারকে বরখাস্তের সুপারিশ
প্রধানমন্ত্রী সময় দিলেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন
জুনে উদ্বোধন মাথায় রেখেই পদ্মা সেতুর কাজ
ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতু জুনেই চালু: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Initiative to teach music in primary school

প্রাথমিকে স্কুলেই গান শেখানোর উদ্যোগ

প্রাথমিকে স্কুলেই গান শেখানোর উদ্যোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে গান শেখানোর উদ্যোগ নেয়ায় শিক্ষা হবে আনন্দময়। ছবি: নিউজবাংলা
সংগীতের শিক্ষক শুক্লা ধর বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। ফলে শিক্ষা হবে আনন্দময়। যার ফল আমরা ভবিষ্যতে ভোগ করব। আর যারা এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাদের জন্যও কর্মক্ষেত্রে তৈরি হবে।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে গান শেখানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য সারা দেশে আড়াই হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রাথমিকে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সমপরিমাণ।

প্রতি বিষয়ে ২ হাজার ৫৮৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

সংগীত ও শারীরিক শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাব এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এই মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। জনবলের বিপরীতে বরাদ্দ নিশ্চিত করে সেখান থেকে অনুমোদিত হয়ে এলে তা যাবে সচিব কমিটিতে। সেখান থেকে প্রাথমিকে আবার যখন সিদ্ধান্তটি আসবে, তখন তা পাঠানো হবে অধিদপ্তরে। তারপর আসবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

সরকার চাইছে, শিশুরা স্কুলে এসে আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাবে। পড়াশোনাকে বিশেষ চাপ ভেবে ভীত থাকবে না।

প্রাথমিকে স্কুলেই গান শেখানোর উদ্যোগ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাব এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সনাতন ধাঁচের শিক্ষা পদ্ধতির বদলে প্রাথমিক থেকেই শিশুরা যেন আনন্দ নিয়ে পড়াশোনা করে, সে জন্য পাঠক্রম থেকে শুরু করে স্কুলের অবকাঠামোও পরিবর্তন করে ফেলতে চাইছে সরকার। এর অংশ হিসেবে শিক্ষায় সংগীত ও শরীরচর্চা যোগ হচ্ছে।

এখন সীমিত পরিসরে কিছু স্কুলে ছবি আঁকার যে চর্চা রয়েছে, সেটি সব স্কুলে শুরু করা, পাশাপাশি আলাদা শিক্ষক নিয়োগের চিন্তা করা হচ্ছে।

বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক থেকেই সংগীত শেখানোর ব্যবস্থা আছে। এই দায়িত্বে আছেন শুক্লা ধর। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই বিষয়ে যখন আমরা ক্লাস নেই, তারা বেশ উপভোগ করে। যেসব পরিবার সংগীতচর্চায় আগ্রহী, সেসব পরিবার স্কুলের বাইরেও বিষয়টি এগিয়ে নেয়।’

শুক্লা পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে। তার মতো যারা এই বিষয়ে পড়াশোনা করেন, তাদের পক্ষে পেশা হিসেবে সংগীতকে বেছে নেয়াটা কঠিন হয়ে যায় এই কারণে যে খুব বেশি প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে নিয়োগ দেয়া হয় না।

প্রাথমিকে বিষয়টি চালু হলে সংগীতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

শুক্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। ফলে শিক্ষা হবে আনন্দময়। যার ফল আমরা ভবিষ্যতে ভোগ করব। আর যারা এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাদের জন্যও কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা আক্তার সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের শিক্ষাকে আনন্দময় করার দাবি করে আসছি। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে আমাদের দাবি কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন হবে। বর্তমানে প্রাথমিকে অঙ্কন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বিষয়টি আরও জোরদার করা উচিত।’

শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া উচিত প্রাথমিক শিক্ষায়। এই ধরনের উদ্যোগ এই শিক্ষার মান বাড়াবে।’

ব্যাপক চাকরির সুযোগ

প্রাথমিক ও জনশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে ৫ হাজার ১৬৬টি পদ তৈরি করার প্রস্তাব দিলেও এই বিষয়টি যদি স্কুলে স্কুলে চালু হয়, তাহলে কর্মসংস্থানের নতুন দিক উন্মোচন হতে পারে।

সবশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। সব স্কুলে একজন করে সংগীত ও শরীরচর্চার শিক্ষক যদি নিয়োগ দেয়া যায়, তাহলেও নতুন চাকরির সুযোগ হবে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৩২টি।

আবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বিষয়ে শিক্ষক থাকলে বেসরকারি স্কুল-কলেজও একই চর্চায় যাবে। সে ক্ষেত্রে আরও নতুন চাকরি তৈরি হবে, দেশে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়বে।

সারা দেশে কর্মরত সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮০ জন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কম নিয়োগ দেয়া হলেও আশা করছি পরে প্রতিটি স্কুলেই এই নিয়োগ দেয়া হবে।’

তিনি শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদও দেন। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর করা ড. কুদরত-ই-খোদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে শিক্ষায় বাজেটের ৬ থেকে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও আমরা এটি করতে পারলাম না। কেবল ২ শতাংশের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে।’

প্রাথমিকে স্কুলেই গান শেখানোর উদ্যোগ

কবে আসতে পারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় ২০২০ সালে।

সেই প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এই মন্ত্রণালয় সময় নিয়েছে দুই বছর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মণীষ চাকমা ধারণা দিতে পারেননি কবে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপাতে পারবেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এখন এ পদগুলোর বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে সচিব কমিটি পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদন মিললে এই দুই বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।’

শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই স্থরিবতা নিয়ে হতাশ। তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিতে কেন দুই বছর লাগবে? এখন তা আবার অন্য মন্ত্রণালয় ও কমিটিতে যাবে। এত দীর্ঘসূত্রতা কেন?’

প্রাথমিক শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে যত সিদ্ধান্ত

প্রাথমিকে শতভাগ ভর্তির লক্ষ্য অর্জনের পর সরকার এখন শিক্ষার গুণগত মানে নজর দিয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সরকারিভাবে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রাথমিকে পরীক্ষার সংখ্যা কমবে। বাড়বে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবির পরিকল্পনা হলো নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না। পুরো মূল্যায়ন হবে বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে।

চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিকবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে ৪০ শতাংশ। আর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্পকলা বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে।

আরও পড়ুন:
প্রাথমিকে নিয়োগ: প্রয়োজনীয় কাগজ জমা ২৩ মে পর্যন্ত
গাড়ি ফেরত দিলেন সেই প্রকৌশলী
জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিকে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: প্রতিমন্ত্রী
শ্রীহীন প্রাথমিকে মধ্যবিত্তকে ফেরানোর উদ্যোগ
ছুটি শেষে প্রাথমিকে ক্লাস চলবে যেভাবে

মন্তব্য

উপরে