× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Buddha full moon today
hear-news
player
print-icon

বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

বুদ্ধপূর্ণিমা-আজ-
সারা দেশে রোববার রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনের শুরুতে শান্তি শোভাযাত্রা ও বৌদ্ধ মঠ এবং মন্দিরগুলোতে দিনব্যাপী প্রদীপ প্রজ্বালন, পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করেছেন বুদ্ধের আদর্শ অনুসারী বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা। বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করবে।

‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণ- এই স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে বুদ্ধপূর্ণিমা হিসেবে পালন করেন বুদ্ধ ভক্তরা।

গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভ- এই ত্রিস্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণীতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বৌদ্ধ ধর্ম মতে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেয়া হয় বুদ্ধপূর্ণিমা।

বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে জানা যায়, পূর্বজন্মে বোধিসত্ব সব পারমি পূরণ করে সন্তোষকুমার নামে যখন স্বর্গে অবস্থান করছিলেন, তখন দেবরা তাকে জগতের মুক্তি এবং দেবতা ও মানুষের নির্বাণ পথের সন্ধান দেয়ার জন্য মনুষ্যকুলে জন্ম নিতে অনুরোধ করেন।

দেবতাদের অনুরোধে বোধিসত্ব সবদিক বিবেচনা করে এক আষাঢ়ী পূর্ণিমায় স্বপ্নযোগে মাতৃকুক্ষিতে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন। পরে এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমায় জন্ম লাভ করেন। তার জন্ম হয়েছিল লুম্বিনী কাননের শালবৃক্ষ ছায়ায় উন্মুক্ত আকাশতলে। তার নিকট জাতি, শ্রেণি ও গোত্রের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। তিনি মানুষকে মানুষ এবং প্রাণীকে প্রাণিরূপেই জানতেন এবং এর প্রাণসত্তার মধ্যেই যে কষ্টবোধ তা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘সবেব সত্তা ভবন্তু সুখীতত্তা’ জগতের সব প্রাণী সুখী হোক।

রোববার সারা দেশে রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনের শুরুতে শান্তি শোভাযাত্রা ও বৌদ্ধ মঠ এবং মন্দিরগুলোতে দিনব্যাপী প্রদীপ প্রজ্বালন, পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করেছেন বুদ্ধের আদর্শ অনুসারী বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাত ফেরি, সমবেত প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও বুদ্ধ পূজা হবে। খবর বাসসের।

এসব কর্মসূটি ছাড়াও মানব জাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা হবে।

আরও পড়ুন:
বুদ্ধপূর্ণিমায় করোনা মুক্তির প্রার্থনা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
DU Senate election today

ঢাবি সিনেট নির্বাচন আজ

ঢাবি সিনেট নির্বাচন আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন। ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল পরিচয়ে প্যানেল জমা দিয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ভোট গ্রহণ চলবে। প্রায় এক হাজার ৪৭০ জন শিক্ষক ভোট দেবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এই নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল প্যানেল জমা দিয়েছে।

সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ভোট গ্রহণ চলবে। প্রায় এক হাজার ৪৭০ জন শিক্ষক ভোট দেবেন। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন।

আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন; টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল বাছির, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইসতিয়াক মঈন সৈয়দ, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব হাসান, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবদুর রহমান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কে এম সাইফুল ইসলাম খান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা, আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তৌহিদা রশিদ, অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের অধ্যাপক নিসার হোসেন, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজা ইয়াসমীন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মিহির লাল সাহা, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুর রশীদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

নীল দলের প্যানেলে আরও আছেন- অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মাদ আবদুল মঈন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুর রহিম, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুস ছামাদ, ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান, অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মাসুদুর রহমান, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম, রোবটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সিকদার মনোয়ার মুর্শেদ ওরফে সৌরভ সিকদার, আইন বিভাগের অধ্যাপক সীমা জামান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু৷

বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল

রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আশেকুল আলম রানা, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম মোস্তাফিজুর রহমান, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম জাফরুল আযম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস এম আরিফ মাহমুদ, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এস এম মোস্তফা আল মামুন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, মৃৎশিল্প বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার বড়ুয়া, আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ দাউদ খান, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী; মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল করিম, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া; মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন খান, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহ এমরান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর, গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান এবং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক হাফিজ মুজতাবা রিজা আহমাদ।

বিতর্কে নীলদল

নীল দলের প্যানেলে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। বিতর্কিত একাধিক শিক্ষক মনোনয়ন পাওয়া এবং প্রভাবশালী কয়েকজন শিক্ষক বাদ পড়ায় শিক্ষকদের মাঝে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ কাজ করছে।

নীল দলের শিক্ষকরা বলছেন, সিনেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছেন এরকম অনেক শিক্ষক নীল দলে আছেন। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে এসব শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী প্যানেল দেয়া যেত।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম এ বিষয়ে বলেন, ‘প্যানেলে অনেক নাম এসেছে যাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন যৌন হয়রানির অভিযোগ এলেই কি ক্যান্ডিডেট হতে পারবে না? আমি বলি, অবশ্যই হতে পারবে না। কারণ কিছু না ঘটলে তো আর তারা অভিযোগ করতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দৈন্যদশা হয়নি যে অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্যানেলে দিতে হবে। এটি কাম্য ছিল না।’

জানা যায়, গত ১১ মে ৩৫ সদস্যের সিনেট প্যানেল ঘোষণা করে নীল দল। সেখানে মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএম আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুষদের তহবিল তছরুপের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান।

এছাড়াও প্যানেলের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাদের একজন।

এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) নারী সহকর্মীদের হেনস্তা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের কাছে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ নানা অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে নিটারের ৩৭ জন শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের এখনো কিনারা হয়নি।

অন্যদিকে প্যানেলে মনোনয়ন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে ২৬ এপ্রিল বিভাগেরই এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, তার ‘কুপ্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় স্নাতক-স্নাতকোত্তরে প্রথম হয়েও শিক্ষক হিসেবে তিনি নিয়োগ পাননি। এমন অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর দুজন প্রভাষক নিয়োগে ওই বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের করা সুপারিশ স্থগিত করে সিন্ডিকেট। একইসঙ্গে অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকা এবং পিএইচডি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া তিনি জালিয়াতি, প্রতারণা ও অনৈতিক উপায়ে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে।

বিতর্কিতদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে তাকে বাদ দিয়ে আরও কয়েকজনকে নমিনেশন দেয়া যেত।’

জানা যায়, গত ১০ মে নীল দলের এক সভায় প্যানেলের প্রার্থী মনোনীত করা হয়। অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী, প্যানেল চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে থাকা নীল দলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের দেখানো হয়। কিন্তু এই প্যানেলের ব্যাপারে নীল দলের দু’বারের আহ্বায়ক ও বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘নীল দলের সভায় প্যানেল নিয়ে আলোচনা হয়েছে শুনেছি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলেরই নেয়ার কথা। আমরা তো এই দল থেকেই প্রশাসনে। বিষয়টি সবার সঙ্গে আলাপ করে নিলে আজ যে প্রশ্ন উঠছে সেটি হতো না। তখন এটি আমাদের জন্য সম্মানের হতো।’

সার্বিক বিষয়ে নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তা এখনো প্রমাণ হয়নি। প্যানেল মূলত দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করা হয়। এটা দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। এই জায়গায় আমার এককভাবে কিছু করার নেই।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The BNP was born thanks to Pakistans intelligence agencies

‘পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার বদৌলতে বিএনপির জন্ম’

‘পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার বদৌলতে বিএনপির জন্ম’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। ছবি: সংগৃহীত
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘সৃষ্টির পর থেকেই বিএনপি দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে। উন্নয়ন নয়, ধ্বংস তাদের প্রধান কাজ। দলটি আসলে পাকিস্তানী ভাবধারা এবং আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চায়। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত দেশবিরোধী রাজনৈতিক অপশক্তি। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার বদৌলতে এদেশে বিএনপির সৃষ্টি। অবৈধ পন্থায় সৃষ্ট বিএনপি অবৈধভাবেই ক্ষমতায় যেতে চায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমইউ) ডা. মিলন হলে সোমবার এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল বিএসএমইউ।

সভায় হানিফ বলেন, ‘সৃষ্টির পর থেকেই বিএনপি দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে। উন্নয়ন নয়, ধ্বংস তাদের প্রধান কাজ। দলটি আসলে পাকিস্তানী ভাবধারা এবং আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চায়।

‘যদি কেউ মনে করেন সরকার ভালো কাজ করেনি, তাহলে আপনারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় আসুন। আর যদি জনগণ মনে করে এই সরকারের নেতৃত্বে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, সামনে আরো হবে। তাহলে জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় আনবে।’

বিএনপির সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সেক্যুলারিজমে বিশ্বাসী, ধর্মান্ধ নয়। আমাদের দেশের ৯০ ভাগ মুসলমান কিন্তু তারা আফগানিস্তান, পাকিস্তান হওয়ার ইচ্ছা রাখেন না। যাদের আদর্শ পাকিস্তান তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। তারাই দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ- উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররাফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, নার্সিং ও মেডিক্যাল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক ও প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল আলোচনায় অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
নির্বাচন নিয়ে ফন্দিফিকির করে বিএনপি: হানিফ
আগামী নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা: হানিফ
খালেদা জিয়ার হাত থেকে মানুষ গণতন্ত্র রক্ষা করেছে: হানিফ
কার নেতৃত্বে জাতীয় সরকার, বিএনপির উদ্দেশে হানিফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Exports to India are expected to reach 2 billion

ভারতে রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর হাতছানি

ভারতে রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর হাতছানি
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এখন চমৎকার বাণিজ্য সম্পর্ক বিরাজ করছে। দুদেশের বাণিজ্য বাড়ছে। এই অর্থবছরেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। এটা হবে একটা মাইলফলক।’

শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের দেশগুলোতে নয়, পাশের দেশ ভারতেও পণ্য রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। প্রতি মাসেই বাড়ছে রপ্তানি। প্রথমবারের মতো দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে চলেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতের বাজারে ১৭০ কোটি ৬২ লাখ (১.৭০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন।

এই অঙ্ক গত অর্থবছরের পুরো সময়ের (১২ মাস, ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন) চেয়েও ৩৩ শতাংশ বেশি। আর একই সময়ের চেয়ে বেশি ৫৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

অর্থবছর শেষ হবে ৩০ জুন। মে মাস চলছে; এই মাসেও ভারতে রপ্তানি বৃদ্ধির আশার কথা শুনিয়েছেন রপ্তানিকারকরা। জুন মাসসহ আগামী দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

একই কথা শুনিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এখন চমৎকার বাণিজ্য সম্পর্ক বিরাজ করছে। দুদেশের বাণিজ্য বাড়ছে। এই অর্থবছরেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। এটা হবে একটা মাইলফলক।’

সে হিসাবে বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে অর্থবছর শেষে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পালে হাওয়া লেগেছে। জুলাই-এপ্রিল সময়ে সব মিলিয়ে ৪৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৪ হাজার ৩৩৪ কোটি ৪৩ লাখ) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি এবং পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সমান।

এই সময়ে সব দেশেই ভালো রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে, ভারতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক দেশ হিসেবে পাশের দেশ ভারত এখন বাংলাদেশের সপ্তম রপ্তানি বাজারের তালিকায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ ১০ বাজারের একটি এখন ভারত।

অথচ গত অর্থবছরেও বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ রপ্তানি বাজারের তালিকায় ভারতের স্থান ছিল না। আগের বছরগুলোতে ভারতের অবস্থান ছিল ১৪-১৫তম স্থানে।

সবার ওপরে বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও পোল্যান্ড।

পোল্যান্ড ও ভারতে রপ্তানির অঙ্ক প্রায় সমান। জুলাই-এপ্রিল সময়ে পোল্যান্ডে রপ্তানি হয়েছে ১৭৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য; ভারতে হয়েছে ১৭০ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি হয়েছে। তাও সেটা গত তিন বছরে। তার আগের বছরগুলোয় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১ বিলিয়নের নিচে।

তবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ছয় মাসেই অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সেই রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ১০৬ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। সাত মাসে তা বেড়ে ১২১ কোটি ২৪ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। আট মাসে অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে তা আরও বেড়ে ১৩৬ কোটি ১০ ডলারে উঠে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতে ১২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেন, যা ছিল এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এ আয় বেশি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ১০৯ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে নেমে আসে।

গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এ হিসাবেই এই নয় মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

আগামী দিনগুলোতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে বলে সুখবর দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে দোরাইস্বামী বলেন, ‘গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আর এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।’

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ভারতে মোট রপ্তানির মধ্যে ৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তাানি হয়েছে ২৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারের। ৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে। কটন ও কটন প্রোডাক্টস থেকে এসেছে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দশ মাসে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ভারত থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র সবার শীর্ষে

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রধান বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশই আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটি থেকে। ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাজারটিতে ৮৬৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫২ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।

৬৩২ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি; রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তৃতীয় যুক্তরাজ্য; রপ্তানির অঙ্ক ৪০৬ কোটি ডলার। ২৬৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে চতুর্থ স্পেন। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, রপ্তানির পরিমাণ ২২২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

অন্যান্য দেশের মধ্যে ইতালি বাংলাদেশ থেকে জুলাই-এপ্রিল সময়ে ১৩৮কোটি ৫৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। কানাডা ১২২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, বেলজিয়াম ৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, নেদারল্যান্ডস ১৪৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, জাপান ১১৫ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এবং চীন ৫৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে।

এছাড়া জুলাই-এপ্রিল সময়ে অষ্ট্রেলিয়ায় ৭৮ কোটি ৭ লাখ ডলার এবং তুরস্কে ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়ায় রপ্তানির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। এই দশ মাসে দেশটিতে ৫৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছি। পোশাকের অর্ডার বাড়ছে; দামও বেশি পাচ্ছি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে পণ্য সরবরাহ ঠিকমতো না হওয়ায় এবং সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। মানুষ পোশাক কেনা কমিয়ে দিতে পারে। এ অবস্থায় পাশের দেশ ভারতে রপ্তানি বাড়লে আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়।’

‘ভারতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে। ভৌগোলিক কারণেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এখন থেকে তা বাড়তেই থাকবে বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। প্রায় দেড় শ কোটি লোকের চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতেই হবে। ভারতে পোশাক তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করলে তার থেকে অনেক কম পড়ে। সে কারণে সব হিসাব-নিকাশ করেই তারা এখন বাংলাদেশ থেকে বেশি বেশি পোশাক কিনছে।’

ফারুক বলেন, ‘ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এখন বাংলাদেশের কারখানায় পোশাক তৈরি করে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। এতে তাদের একদিকে যেমন লিড টাইম কম লাগছে, অন্যদিকে খরচও কম হচ্ছে।

‘এ ছাড়া গত বছর ভারত সরকারকে বাংলাদেশের রপ্তানি-আমদানি বাণিজ্য দ্রুত ও সহজ করতে আমরা বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তার ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে।’

সব মিলিয়ে ভারতের বিশাল বাজার বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য আগামী দিনে ‘সুদিন’ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন ফারুক।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ ও বিকাশমান বাজার রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেখান থেকে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট পরিমাণে লাভবান হতে পারেনি। বৈশ্বিক বাজার থেকে ভারতের আমদানির মোট মূল্যমান প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।

‘এখন ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। সেটা কিন্তু ভারতের দেড়’শ কোটি লোকের বিশাল বাজারের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এখন দুদেশের সরকারের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বিরাজ করছে, সেটাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’

‘একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, পাশের দেশ হওয়ায় ভারতে খুবই কম খরচে আমরা পণ্য রপ্তানি করতে পারি। এতে রপ্তানিকারকরা বেশি লাভবান হয়। তাই ভারতে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ানো উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

আরও পড়ুন:
এক বছরে মাথাপিছু আয়ে যোগ প্রায় ২২ হাজার টাকা
এখন ২০% মূল্য সংযোজনেই মিলবে প্রণোদনা
বছরের রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ ১০ মাসেই
ইউরোপে পণ্য পরিবহনে আরও তিন জাহাজ
বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৭ দিন আমদানি- রপ্তানি বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra Dal leaders and activists have been beaten and evicted from campus RU Chhatra League president

রাবিতে ছাত্রদলকে পিটিয়ে ক্যাম্পাসছাড়া করল ছাত্রলীগ

রাবিতে ছাত্রদলকে পিটিয়ে ক্যাম্পাসছাড়া করল ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বিকেলে হামলায় আহত ছাত্রদল নেতাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ওরা মিটিং করছিল। সেটা দেখে ছাত্রলীগের রুহুল ও শাকিলের নেতৃত্বে কিছু ছেলে তাদের পিটুনি দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে।’

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পিটিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতা আহত হয়েছেন।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পিটুনি দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা অকপটে স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি।

সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরের পাশে ছাত্রদলের টেন্টে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত দুজন হলেন রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ তাহের ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাকির রেজোয়ান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে রাবি ছাত্রদল নেতাকর্মীরা দলীয় টেন্টে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে ছাত্রলীগের ১০-১২ জন সেখানে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পেটাতে শুরু করেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যান।

রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে তাদের নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ওরা মিটিং করছিল। সেটা দেখে ছাত্রলীগের রুহুল ও শাকিলের নেতৃত্বে কিছু ছেলে তাদের পিটুনি দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামসুর রহমান বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যার দিকে এম এ তাহের ও জাকির রেজোয়ান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে তাহেরকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষার হলে লাইভ করা সেই ছাত্রলীগ নেতা আবারও সরব
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ
ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে উত্তেজনা
ছাত্রলীগের সেই তুখোড় নেতারা এখন যেমন
‘পারিবারিক নিয়ম চর্চায়’ রাবির ছাত্রী হলে প্রবেশের নতুন সময়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cab wants the consumer rights department to control the market

বাজার নিয়ন্ত্রণে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ চায় ক্যাব

বাজার নিয়ন্ত্রণে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ চায় ক্যাব সোমবার ‘অতিমুনাফা ও প্রতারণার শিকার ভোক্তারা: আইন মানার তোয়াক্কাই নেই’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করে ক্যাব। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ক্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম বলেন, ‘দেশে এমন কোনো খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দেয়নি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া আর কোথাও ভোক্তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে অধিদপ্তরই যথেষ্ট নয়, বিভাগ চাই।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনীয় রাখতে অসাধু ব্যবসায়ীদের ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তি চায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বালাদেশ-ক্যাব। বেসরকারি এই সংগঠন মনে করে, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে ভোক্তা অধিদপ্তর যথেষ্ট নয়; এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ জরুরি।

সোমবার ‘অতিমুনাফা ও প্রতারণার শিকার ভোক্তারা: আইন মানার তোয়াক্কাই নেই’ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারে বক্তারা এমন বক্তব্য তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারে ক্যাবের নেতারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনীয় রাখতে উচ্চ পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও বেপরোয়া কিছু ব্যবসায়ীর কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। চাল-ডাল থেকে শুরু করে ভোগপণ্যের বাজারে কিছু ব্যবসায়ী নিম্ন মানের পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এসব ব্যবসায়ীকে ঠেকাতে কেবল জরিমানা নয়, আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।

মূল প্রবন্ধে নাজের হোসাইন বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধের জন্য সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে। তারপরও অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না।’

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের ভিত এতটাই শক্তিশালী যে সরকারি প্রশাসন যন্ত্র মনে হয় তাদের কাছে অসহায়। এরা টাকার জোরে সরকারি আমলা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন মিডিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন।’

ব্যবসায় অসাধু প্রক্রিয়ায় কোটিপতির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আগে একই কায়দায় গুঁড়োদুধে ময়দা মিশ্রিত করার হোতাসহ চিনি, সয়াবিন, চাল কেলেঙ্কারির হোতাদের কোনো শাস্তি হয়নি। তারা বরাবরই পর্দার আড়ালে থেকে রেহাই পেয়ে যায়।’

‘ব্যবসায় এমন প্রতারণা ফৌজদারি অপরাধও বটে। তবে আইন দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সব সময় সম্ভব না-ও হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন অতিমুনাফালোভী, প্রতারক, মজুতকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা। তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত হতে পারে।’

ক্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া আর কোথাও ভোক্তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের জন্য কেবল ভোক্তা অধিদপ্তরই যথেষ্ট নয়, বিভাগ চাই।

‘দেশে এমন কোনো খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দেয়নি। আমরা ভোক্তারা অনেকটা বন্দি হয়ে গেছি। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিতে দেশের আইন, সরকারি প্রতিষ্ঠান কেউ-ই সফল নয়।’

‘দেশে অসাধু ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম। কিন্তু সৎ ব্যবসায়ীরা এই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছেন না। তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্বারা নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছেন।’

ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেলায় জেলায় অন্তত একটা করে ঘটনা চিহ্নিত করুন। যাতে এসব ঘটনাকে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের আওতায় ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায়। ভোক্তা অধিদপ্তরের হয়তো এখনও মামলা করার অধিকার নেই। তবে আইন করা হচ্ছে। ক্যাক একমাত্র সংগঠন, যাকে মামলা করার অধিকার দেয়া হয়েছে। ভোক্তা স্বার্থবিরোধী এসব ঘটনায় আমরা প্রয়োজনে প্রমাণসহ আদালতে যাব।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামের ই-ক্যাব সদস্যদের সঙ্গে দ্য চেঞ্জমেকার্সের মতবিনিময়
রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য ‌আনা জরুরি
ডিক্যাব লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ছবি
বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য
‘আধুনিক ঢাকা গড়তে এগুতে হবে তরুণদের’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Tariffs on more than two hundred luxury items are rising before the budget

বাজেটের আগে দুই শতাধিক ‘বিলাসপণ্যে’ শুল্ক বাড়ছে

বাজেটের আগে দুই শতাধিক ‘বিলাসপণ্যে’ শুল্ক বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ কমাতে আমদানি পণ্যে বিধি-নিষেধ আসছে। ছবি: সংগৃহীত
আমদানি নিরুৎসাহিত করতে সরকারের আরেক দফা পদক্ষেপ। এবার এনবিআর বাড়তি শুল্ক বসাতে যাচ্ছে। পণ্যের তালিকা এবং কত হারে শুল্ক বসানো হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেসব পণ্য ব্যবহার না করলে ভোক্তাদের আপাতত সমস্যা হবে না কিংবা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তালিকায় সেইসব পণ্য যুক্ত করা হচ্ছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘বিলাস ও অনভিপ্রেত’ পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী বাজেট ঘোষণার আগেই এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার অথবা তার পরের দিন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে তা কার্যকর করবে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ডের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একটি সূত্র নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করছে।

পণ্যের তালিকা এবং কত হারে শুল্ক বসানো হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেসব পণ্য ব্যবহার না করলে ভোক্তাদের আপাতত সমস্যা হবে না কিংবা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তালিকায় সেইসব পণ্য যুক্ত করা হচ্ছে।

এনবিআরের একটি সূত্র বলেছে, পণ্যের সংখ্য দুই শতাধিক হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: আমদানি করা বিস্কুট, চকলেট, বিভিন্ন জাতের ফল, জুস ও বিদেশি তৈরি পোশাক।

এসব পণ্যের ওপর তিন ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। আমদানি শুল্ক বা কাস্টম ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা আরডি।

বর্তমানে যে পরিমাণ শুল্কহার আছে তার সঙ্গে বিভিন্ন হারে বাড়তি শুল্ক ধার্য করা হবে।

মূলত ওইসব পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বাড়তি শুল্কহার কার্যকর হলে দেশীয় বাজারে পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যাবে।

এনবিআর বলেছে, সাময়িকভাবে এ শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। যেদিন থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে সেদিন থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। তবে সরকার ইচ্ছা করলে বাস্তবতার আলোকে মেয়াদ আরও বাড়াতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্য, কাঁচামাল ও তেলের দামসহ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। সঙ্গে বেড়েছে জাহাজ ভাড়াও। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর চাপ পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর।

আমদানি যে হারে বেড়েছে, রপ্তানি সে হারে বাড়েনি। আবার প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সও কমে গেছে। ফলে প্রতি মাসে বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে জোগান দিতে হচ্ছে আমদানির খরচ। সোমবার পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ ৪২ বিলিয়ন ডলার।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বিলাস ও অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১০ মে এক পরিপত্র জারি করে ওইসব পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এলসি মার্জিন বা ঋণপত্র খোলার জন্য নগদ টাকা জমার পরিমাণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর এবার এনবিআর বিভিন্ন হারে বাড়তি শুল্ক ধার্য করতে যাচ্ছে।

রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে এনবিআরের কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। কোন কোন পণ্যের শুল্ক বাড়ানো হবে, তা যাচাই-বাছাই করে দেখছে এনবিআর।

রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার দুটি ব্যবস্থা নিতে পারে। আমদানিকে নিরৎসাহিত করতে এলসির বিপরীতে নগদ টাকা জমার পরিমাণ বাড়ানো এবং সাময়িক সময়ের জন্য বাড়তি শুল্ক আরোপ করা। সরকার এখন সেই পথেই হাঁটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার চাইলে কাস্টম আইনের ১৫ ধারা অথবা আমদানি নীতির ১৬ ধারা প্রয়োগ করে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে পারে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদউদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, কাস্টমস আইনে উল্লেখ থাকলেও সাধারণত এনবিআর পণ্য আমদানি বন্ধ বা নিষিদ্ধ করে না। শুল্ক আরোপ করাই এনবিআরের কাজ। পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

কাস্টমস আইনে বিলাস পণ্যের কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে যেসব পণ্যে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ রয়েছে, সাধারণত সেইসব পণ্য ‘বিলাস ও অনভিপ্রেত’ বলে বিবেচনা করা হয়।

বর্তমানে আমদানি করা প্রস্তুতকৃত প্রায় সব পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা আরডি আরোপ আছে। এর সর্বোচ্চ হার ৩৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৩ শতাংশ। অপরদিকে আমদানি করা ১ হাজার ৮৭৮টি পণ্যের ওপর বিভিন্ন হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
এনবিআর কর্মীদের সম্পদের হিসাব দেয়ার নির্দেশ
বাজেট প্রস্তাব চেয়েছে এনবিআর
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিন, ব্যবস্থা নেব: এনবিআর চেয়ারম্যান
এনবিআর চেয়ারম্যান রহমাতুল মুনিমের মেয়াদ দুই বছর বাড়ল
আয়েশা'স বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Khulna Shipyard is building two high capacity tugboats

উচ্চক্ষমতার দুটি টাগবোট বানাচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড

উচ্চক্ষমতার দুটি টাগবোট বানাচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড খুলনা শিপইয়ার্ডে সোমবার দুপুরে দুইটি টাগবোটের ক্লাসিফিকেশন সনদপত্র হস্তান্তর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনা শিপইয়ার্ডে সোমবার দুপুরে দুটি টাগবোটের কিল লেয়িং উদ্বোধন করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

পায়রা বন্দরের জন্য উচ্চক্ষমতার দুটি টাগবোট নির্মাণ করছে খুলনা শিপইয়ার্ড।

৭০ টন বোলার্ড পুলবিশিষ্ট দুটি টাগবোট তৈরি করা হবে। নির্মাণ শেষ হলে এ দুটি হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বোলার্ড পুল ক্ষমতার টাগবোট।

সোমবার দুপুরে খুলনা শিপইয়ার্ডে দুটি টাগবোটের কিল লেয়িং উদ্বোধন করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

তিনি বলেন, পায়রা বন্দরের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। অচিরেই এটি দেশের আমদানি-রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রচুর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।

পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, জাহাজ নির্মাণে খুলনা শিপইয়ার্ডের ঐতিহ্য রয়েছে। ভবিষ্যতেও পায়রা বন্দর ও খুলনা শিপইয়ার্ড পারস্পরিক উন্নয়নে এক সঙ্গে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম সামছুল আজিজ। উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর এম মামুনুর রশীদসহ শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা।

খুলনা শিপইয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টাগ বোট দুটিতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন হবে। এটা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় যাতায়াতে সক্ষম।

বোট দুটি বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে। এ ছাড়া পায়রা বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্দরে পরিণত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য

p
উপরে