× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
One and a half million edible oils hidden in mills across the country in 5 days
hear-news
player
print-icon

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

ভোজ্যতেল-পাঁচ-দিনে-জব্দ-সাড়ে-১০-লাখ-লিটার
নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, রাজধানী ছাড়া সারা দেশে গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জব্দ করা হয়েছে অবৈধভাবে মজুত করা ১০ লাখ ৪১ হাজার ৪২২ লিটার ভোজ্যতেল। 

তেলের দাম রোজার পর বাড়বে- এমন আভাস পেয়ে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ঈদের আগে থেকেই তেল মজুত করতে শুরু করেন। এতে বাজারে দেখা দেয় তেলের সংকট।

লুকিয়ে রাখা সেসব তেল উদ্ধারে চলতি সপ্তাহে দেশজুড়ে অভিযানে নামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বেরিয়ে আসতে থাকে বেশি দামে বিক্রির জন্য তেল লুকিয়ে রাখার প্রমাণ।

নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, রাজধানী ছাড়া সারা দেশে গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জব্দ করা হয়েছে অবৈধভাবে মজুত করা ১০ লাখ ৪১ হাজার ৪২২ লিটার ভোজ্যতেল।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অভিযান অংশ নেয়। জব্দ করা এসব তেল ন্যায্য দামে বিক্রি করা হয় সাধারণ মানুষের কাছে।

রাজশাহী

রাজশাহী বিভাগে গত ৫ দিনে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ লিটার লুকিয়ে রাখা ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহী ও পাবনায় জব্দ হওয়া তেলের পরিমাণ বেশি।

রাজশাহীতে খুঁজে পাওয়া গেছে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯ লিটার তেল। অবৈধভাবে মজুতের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয় ৭ জনকে। জরিমানা করা হয় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

এর মধ্যে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে মঙ্গলবার বিকেলে চারটি গুদাম ও একটি ট্রাক থেকে ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচ জনকে।

পাবনার সদর, ঈশ্বরদী, সুজানগর, বেড়া ও সাঁথিয়ায় ৫ দিনে অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৭ লিটার তেল।

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

সিরাজগঞ্জে জব্দ হয়েছে ৪১ হাজার লিটার সয়াবিন তেল। জেলার উল্লাপাড়া, বেলকুচি ও সলঙ্গা থানা এলাকার বাজারগুলোতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই অভিযান চালিয়ে ৬ ব্যবসায়ীকে সাজা দেয়।

বগুড়ায় অভিযানে পাওয়া গেছে ৪৩ হাজার ৫৯২ লিটার তেল।

এর মধ্যে বুধবার দিনব্যাপী বগুড়া সদর, গাবতলী ও কাহালু উপজেলায় তিনটি অভিযান চলে। এ দিন কাহালুতে সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার লিটার, গাবতলীতে ৪ হাজার ৯০০ লিটার ও শহরের নামাজগড় এলাকায় লক্ষ্মী ট্রেডার্স নামে একটি দোকানে ৬৮৪টি বোতলজাত তেল জব্দ করা হয়।

পরদিন বগুড়ার শেরপুরের হাটখোলা রোড এলাকায় আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে মিলেছে ৩১ হাজার ৮ লিটার সয়াবিন তেল।

নাটোরের বড়াইগ্রাম, সদর উপজেলার নিচাবাজার ও স্টেশন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৩৫৯ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বটতলা হাট এলাকার মেসার্স কাজল স্টোর নামে একটি দোকানের গুদামে ৪ হাজার ৫০০ লিটার তেল পেয়ে দোকানমালিক আবু বাক্কার আলী কাজলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

খুলনা বিভাগ

এই বিভাগে রাজশাহীর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৪৬ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

এর মধ্যে সব থেকে বেশি তেল পাওয়া গেছে খুলনার বড়বাজারে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাজারের তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া যায় ২ লাখ ২২ হাজার ৬২০ লিটার খোলা তেল। এ বাজারে গত মঙ্গলবার আরেকটি গুদাম থেকে ৪০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।

এ সপ্তাহে বাগেরহাটে দুটি অভিযানে ৫ হাজার ৪১০ লিটার তেল জব্দ করে ৩ ব্যবসায়ীকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বৃহস্পতিবার এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ৪২ হাজার ২৪ লিটার তেল জব্দ করেছে প্রশাসন।

যশোরে মঙ্গল ও বুধবার ৭ হাজার ৪১৮ লিটার তেল মজুদ করার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এছাড়া গত ১১ মে সাতক্ষীরার পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার সাকার মোড়ের শারমিন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও সুলতানপুর বড়বাজারে অভিযান চালিয়ে ৯৭৪ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।

মাগুড়া, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গা থেকে অভিযানের তথ্য পাওয়া যায়নি।


রংপুর বিভাগ

গত ৫ দিনে এই বিভাগের বিভিন্ন গুদাম থেকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭২০ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মজুদ পাওয়া গেছে ঠাকুরগাঁওয়ে, যার পরিমাণ ৭৯ হাজার ২৫০ লিটার।

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

রংপুরে ৬৭ হাজার ৩৬২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আরিফ মিয়া।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ বাজারে একটি দোকানে মিলেছে ৭ হাজার লিটার তেল। দিনাজপুরে জব্দ করা তেলের পরিমাণ ৪ হাজার লিটার।

এছাড়া ৫ দিনে গাইবান্ধায় ৭০০ লিটার, পঞ্চগড়ে ৩২০ লিটার সয়াবিন তেল, কুড়িগ্রামে জব্দ করা হয়েছে ৮৮ লিটার তেল।

এই বিভাগে লালমনিরহাটে এখনও কোনো অভিযান হয়নি।

ঢাকা বিভাগ

রাজধানী ছাড়া এই বিভাগের ৭ জেলায় গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৫ হাজার ২১২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো পরে ন্যায্যমূলে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ মজুদ পাওয়া যায় গাজীপুরে। এই জেলায় মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার মিলিয়ে ২৫ হাজার ৩১৬ লিটার তেল জব্দ করে বিক্রি করা হয়। শরীয়তপুরে পাওয়া যায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭০০ লিটার। মানিকগঞ্জে উদ্ধার হয়েছে ১১ হাজার লিটার।

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

নারায়ণগঞ্জে ১ হাজার ২৬০ লিটার, নরসিংদীতে ১ হাজার ২৪ লিটার, ফরিদপুরে ৭১২ লিটার এবং কিশোরগঞ্জে ২০০ লিটার উদ্ধার করা হয়।

অন্য ৬ জেলায় এ পাঁচদিনে তেলের কোনো অবৈধ মজুত পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বিভাগ

শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫ দিনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫১ হাজার ৯৯৭ লিটার তেল উদ্ধারের পর ৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৩ হাজার ২২৫ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে চট্টগ্রামে।

জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্ল্যাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা নিয়মিত তদারকিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি৷ ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।’

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

কুমিল্লায় ১৭ হাজার ৩৬৪ লিটার তেলের অবৈধ মজুত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জেলার ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘গত রোববার ২ হাজার ৫০০ লিটার, সোমবার ১ হাজার লিটার, বুধবার ৫ হাজার ৫০০ লিটার এবং বৃহস্পতিবার ৮ হাজার ৩৬৪ লিটার তেল জব্দ করে বিক্রি করা হয়।’

এছাড়া লক্ষ্মীপুরে ৬ হাজার লিটার, খাগড়াছড়িতে ৩ হাজার ৭০০ লিটার, ফেনীতে ৯২৮ লিটার, কক্সবাজারে ২৪০ লিটার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৪০ লিটার এবং নোয়াখালীতে ২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ

এই বিভাগের ৪ জেলায় এ কয় দিনে জব্দ করা হয় ৩০ হাজার ৬২ লিটার তেল।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী বাজারে ২০ হাজার লিটার তেল পেয়ে মেসার্স সেলিম ওয়েল মিলকে ১০ হাজার টাকা ও আঠারবাড়ী ওয়েল মিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজলায় সদরের কাচারি রোডের মেসার্স মঙ্গল দত্ত ও পারুল ভান্ডার নামের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে ৭৩২ লিটার বোতলজাত তেল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

একইদিন বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম মোস্তফার গুদাম থেকে ৩ হাজার ৭০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

শেরপুরের না‌লিতাবাড়ীতে বিক্রি না করে লুকিয়ে রাখা ৫ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়। জেলার গাজীর খামার বাজারে সাথী স্টোর নামে একটি খুচরা বিক্রেতার দুইটি গুদাম ও বাসায় পাওয়া যায় আরও ৫ হাজার লিটার তেল।

জামালপুরের দুইটি দোকান থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জব্দ করা হয় ৪ হাজার ৩৩০ লিটার সয়াবিন তেল।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জামালপুরের সহকারী পরিচলাক আরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই দোকানগুলোতে তেল বিক্রি না করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল।’

বরিশাল বিভাগ

এই বিভাগে শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত বিক্রি না করে লুকিয়ে রাখা ২৭ হাজার ৬৫৯ লিটার ভোজ্যতেল উদ্ধার করে জনসাধারণের মধ্যে বি‌ক্রি করা হয়েছে।

এ বিভাগে জেলার সংখ্যা ছয়টি, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তেল উদ্ধার হয়েছে ঝালকাঠিতে। বরিশাল, বরগুনাত ও পিরোজপুরেও কিছু তেল পাওয়া গেছে। পটুয়াখালী ও ভোলায় কোনো লুকানো তেল পাওয়া যায়নি এ গত ৫ দিনে।

ঝালকা‌ঠির তামাকপ‌ট্টি এলাকায় সোমবার মনোজ স্টোরে অভিযান চালি‌য়ে ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়। দোকান মালিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং উদ্ধার করা তেল আগের দামে বিক্রি করা হয়।

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

মঙ্গলবারের অভিযানে অবৈধভাবে তেল মজুদ করার দায়ে ব্যবসায়ী গৌতম হালদারকে ৩০ হাজার টাকা ও বিমল রায় স্টোরকে ২ হাজার টাকা জ‍রিমানা করা হয়। গৌতমের গুদাম থেকে ১৩ হাজার ৭৪৬ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়।

ভোক্তা সংরক্ষণ অ‌ধিদপ্তর ব‌রিশাল জেলার সহকা‌রী প‌রিচালক শাহ সোয়েব জানান, বৃহস্পতিবার রহমতপুর বাজারে ৬১৫ লিটার, বাটাজোর বাজারে ১ হাজার ২৩০ লিটার খোলা তেল উদ্ধার করা হয়। জনপ্রিয় স্টোর থেকে উদ্ধার করা হয় ২৬৪ লিটার মোড়ক জাত সয়াবিন তেল।

বুধবার হাটখোলা এলাকায় এক‌টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তিন ড্রাম তেল পাওয়া যায়। আগের দিন বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হয় ৭০০ লিটার।

বরগুনা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিপুল বিশ্বাস জানান, পাথরঘাটা বাজারে শাহিন স্টোরে বিক্রি না করে ৩ হাজার লিটার তেল লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এগুলো আগের দামে সাত দিনের মধ্যে বিক্রি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসব ঘটনায় দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী বাজারের কয়েকটি দোকানের গুদামে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ৪০৪ লিটার সয়াবিন ও পাম তেল জব্দ করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আল-মামুন নিউজবাংলাকে জানান, এর মধ্যে ৭ হাজার ৫৪৮ লিটার সয়াবিন তেল ও ২ হাজার ৮৫৬ লিটার ছিল পাম তেল।

সিলেট

গত বুধবার থেকে ২ দিনে বিভাগের ৪ জেলা থেকে ২৩ হাজার ৬৯৯ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। এসব তেল নতুন করে দাম বাড়ানোর আগের দামে বিক্রির পাশাপাশি মজুদকারীদের জরিমানা করা হয়।

ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার

সিলেট নগরের কালিঘাটে মাহের ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে মঙ্গলবার ‌৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। পরদিন কাজীটুলা এলাকায় কামাল ব্রাদার্স নামে প্রতিষ্ঠানের মালিক কামাল আহমেদের বাসা থেকে জব্দ করা হয় ৪ হাজার ৬৯৯ লিটার তেল। তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি বাজারে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার লিটার, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৬ প্রতিষ্ঠান থেকে ৮ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের প্রায় ৪ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে দুদিনে। এর মধ্যে বড়লেখায় মেসার্স সামছু অ্যান্ড ব্রাদার্সের গুদামে থেকে ৩ হাজার ৫০০ লিটার তেল পাওয়া গেছে।

হবিগঞ্জে গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত জেলা সদর, নবীগঞ্জ ও শায়েন্তাগঞ্জে তিনটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৫০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। জরিমানা করা হয় ৮ জন ব্যবসায়ীকে।

আরও পড়ুন:
২ লাখ ২২ হাজার লিটার তেল মজুত করেছিলেন তিন ব্যবসায়ী
নাটোরে বিপুল সয়াবিন তেল জব্দ, জরিমানা
আগের দামেই টিসিবির সয়াবিন, মিলবে সোমবার থেকে
মজুতদারির সাজা হতে পারে মৃত্যুদণ্ড
১৫ জেলায় মিলল লুকিয়ে রাখা আরও ২ লাখ লিটার তেল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Suffering is increasing in Haor in the three way crisis

ত্রিমুখী সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে হাওরে

ত্রিমুখী সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে হাওরে ঢলের পানিতে হাওরে ভেসে গেছে মাছ, ডুবে গেছে ধান আর বাদাম। ছবি: নিউজবাংলা
সুনামগঞ্জের কৃষি বিভাগের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘ঢলের পানিতে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা তাদের তালিকা তৈরি করেছি। এ তালিকা ধরেই সরকার সহায়তা করবে।’

হাওর অঞ্চল সুনামগঞ্জের দুঃখ যেন পিছু ছাড়ছে না। ২০১৭ সালের বন্যায় সব ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর নিজেদের সামলে নিতে নিতেই এবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হাওরের লোকজন।

পাহাড়ি ঢলে জেলায় বোরো ধানসহ অন্য ফসলের ক্ষতি ও মাছ ভেসে যাওয়ার মধ্যেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হাওরের মানুষের জীবনে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার জেলার হাওর এলাকা সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ঢলের পানিতে এখনও ডুবে আছে ফসলের মাঠ। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন জানান, এপ্রিল মাসে উজানের ঢলে আধাকাঁচা ধান হারিয়েছেন অনেকে। যেটুকু ধান কোনো রকম ঘরে তুলতে পেরেছেন, এগুলোর দাম নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

এরই মধ্যে হাতে নগদ টাকা না থাকায় খাবারের জোগান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাওরবাসী। ধানের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বাদামেরও। মাছ ভেসে গেছে অনেক লাখ টাকার।

ত্রিমুখী সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে হাওরে

তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে ৩ একর জমিতে ধান চাষ করেছিলেন আছমা বেগম। ঢলের পানিতে আধাপাকা ধান ঘরে তুললেও সেই ধানের মূল্য পাবেন কি না, সেটি নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘টাকা ধারদেনা করে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। কিন্তু অকালে বানের পানিতে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আবার ঘরে যে ধান তুলেছি সেগুলোও ভিজে গেছে। এ ধান এখন কিভাবে বিক্রি করব।’

বিশ্বম্ভরপুর ভাদেরটেক গ্রামের কৃষক নূর আলম বলেন, ‘ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ধানসহ আমার ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। আমরা গরিব মানুষ অনেক বিপদে আছি। সরকার সহযোগিতা না করলে মরা ছাড়া উপায় নেই।’

বানে ভাসল মাছ, পচল বাদাম

সুনামগঞ্জে এ বছর পাহাড়ি ঢলে ধানের পাশাপাশি মাছ ও বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যে, এ বছর ১ হাজার ২৫০টি পুকুরের মাছ ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। ৭০ হেক্টর জমির বাদাম পানিতে পচে গেছে, যার বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকা।

দোয়ারাবাজার উপজেলা আজমপুরের মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘২০০ টাকা করে বাদামের বীজ কিনেছিলাম। রোপণ করা পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু একটি টাকাও উঠাতে পারব না। এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। কিভাবে সেই টাকা শোধ করব সে চিন্তায় আছি।’

মাছ চাষ করে এখন কপালে হাত রফিকুল ইসলাম কালার। তিনি বলেন, ‘ধারদেনা আর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ছেড়েছিলাম। ঢলের পানিতে সব ভেসে গেছে। এখন সরকার সহযোগিতা না করলে মারা যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।’

ত্রিমুখী সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে হাওরে

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সীমা রানী বিশ্বাস জানান, জেলার ২০ হাজার ৪৬৯টি পুকুরের মধ্যে ১ হাজার ২৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ১৬ হাজার ৫০০-এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৩ কোটি টাকার বড় মাছ ও ৩০ লাখ টাকার পোনা মাছ ভেসে গেছে। ১২ লাখ টাকার অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।

সুনামগঞ্জের কৃষি বিভাগের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘ঢলের পানিতে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা তাদের তালিকা তৈরি করেছি। এ তালিকা ধরেই সরকার সহায়তা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার ৭০ হেক্টরের মতো জমির বাদামের ক্ষতি হয়েছে। এর দাম প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।’

হাওরে এখন করণীয় কী

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষতির মধ্যেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় হাওরের মানুষের মধ্যে সরকারের ন্যায্যমূল্যে খাবার বিতরণের বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

কম করে হলেও হাওরপ্রধান উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ৭০ শতাংশ খাবার ন্যায্যমূল্যে দেয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

হাওর এরিয়া আপ লিফমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, ‘হাওরের মানুষের কাছে এখন নগদ টাকা নেই। ধান রোপণ থেকে তোলা আর বাজারে দাম না পাওয়ায় তারা এখন হাত খালি অবস্থায়। তাই সরকারকে ন্যায্যমূল্যে তাদের মধ্যে খাবার বিতরণের নিশ্চয়তা দিতে হবে। আগামী দিনের চাষাবাদের জন্য টাকা বা বীজ দেয়া হোক।’

ত্রিমুখী সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে হাওরে

হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, ‘ধান আর মাছ সুনামগঞ্জের প্রাণ, তবে এ বছর আগাম ঢলে দুটোরই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে বাঁধভাঙা পানিতে ৫ হাজার হেক্টরের ক্ষতির কথা বললেও বাস্তবে দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে।

‘তাই কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে। তারা যে ধান গুদামে দিচ্ছেন এর সঠিক দাম দিতে হবে।’

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাংশু কুমার সিংহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ন্যায্যমূল্যে পণ্য দেয়ার বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত, তবে আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের কথা জানিয়েছি। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের তখন সেটি আমরা করব। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সরকারের নির্দেশনা মেনে ন্যায্য দামে টিসিবির পণ্য বিক্রি করেছি।’

আরও পড়ুন:
পড়া ফেলে ধান কাটায় হাওরের শিশুরা
ধান কাটার ধুম: ‘হাওরেই খাইদাই ঘুমাই’
হাওরে এবার ভাঙল স্থায়ী বাঁধ
উজানের পানিতে ভেসে গেল হাওরের ঈদ
হাওরে বাঁধ কেটে দেয়া আ.লীগ নেতা লাপাত্তা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The new affliction of Sylhet is the stench of water

সিলেটের নতুন দুর্ভোগ পানির দুর্গন্ধ

সিলেটের নতুন দুর্ভোগ পানির দুর্গন্ধ সিলেটে কমতে শুরু করেছে বানের পানি। বাড়ি পরিষ্কার করছেন এক বাসিন্দা। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সাকার মেশিন দিয়ে পুরো নগর পরিষ্কার করা হবে। তবে এ জন্য পানি পুরোপুরি নামতে হবে। নগরজুড়ে এখন পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হচ্ছে।’

পাঁচ দিন ধরে উদ্বাস্তু ছিলেন সায়রা বেগম। এত দিনে বাসা থেকে পানি নেমেছে। মঙ্গলবার নগরের মনিপুরী রাজবাড়ী এলাকায় স্বামীকে নিয়ে নিজের বাসা পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন তিনি। দুজনের নাক-মুখই কাপড়ে ঢাকা।

ঘর পরিষ্কার করতে করতেই সায়রা বেগম বলেন, ‘পাঁচ দিন পর বাসায় এসেছি। ঘরে দাঁড়ানোর মতো উপায় নেই। ময়লা পানির দুর্গন্ধে বমি আসার উপক্রম। ঘরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ।’

দুর্গন্ধের কারণে দোকানেও বসা যায় না জানিয়ে তালতলা এলাকার ব্যবসায়ী রিয়াজ আহমদ বলেন, ‘এত দিন পানির কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। পানি নামার পর দোকান ভালো করে পরিষ্কার করে আজ খুলেছি। কিন্তু গন্ধের কারণে বসতে পারছি না। চারদিক থেকে দুর্গন্ধ আসছে।’

সিলেটে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। নগরের বেশির ভাগ অংশ থেকেই পানি নেমে গেছে। সুরমা নদীর পানিও এখন বিপৎসীমার নিচে। তবে পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি নগরবাসীর। বাসায় ফিরতে পারছেন না অনেকে। যেসব এলাকায় পানি উঠেছিল সেসব এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার নগরের জলমগ্ন হয়ে পড়া কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসাবাড়ি থেকে পানি নেমে গেছে। সড়কের বেশির ভাগ অংশেও পানি নেই। তবে কিছু এলাকার সড়কে এখনও ময়লা ও দুর্গন্ধ যুক্ত পানি রয়ে গেছে। এসব এলাকায় নিজেদের বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেছে বাসিন্দাদের। অনেকে শ্রমিক লাগিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।

সিলেটের নতুন দুর্ভোগ পানির দুর্গন্ধ

নগরের বাসিন্দারা জানান, পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়িতেও। স্যুয়ারেজ লাইনও লিক করে অনেকের বাসাবাড়িতে আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দুর্গন্ধ প্রকট আকার ধারণ করেছে।

পানি নেমে যাওয়ায় মঙ্গলবার নগরের জামতলা এলাকার নিজের বাসা পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়েছিলেন রজতকান্তি গুপ্ত। তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতার কাজ না করেই আমাকে ফিরে আসতে হয়েছে। কারণ দুর্গন্ধের কারণে বাসায় ঢোকার মতো কোনো অবস্থা নেই।’

তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য শ্রমিক খুঁজতেছি, তবে এখনও পাইনি। ফলে বাসা থেকে পানি নেমে গেলেও আমরা বাসায় ফিরতে পারছি না। হোটেলে থাকতে হচ্ছে।’

দুর্গন্ধ কমাতে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নগরের অনেকে। আর নগরকর্তারা বলছেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য বরাদ্দ চেয়ে তারা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

নগরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নগরের ড্রেনগুলোর আবর্জনা আর স্যুয়ারেজ সিস্টেমে সমস্যার কারণেই এত দুর্গন্ধ। না হলে বন্যার পানিতে এত দুর্গন্ধ হতো না। পানি নেমে গেলেও দুর্গন্ধ কমাতে সিটি করপোরেশনের এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেই।’

গন্ধের কারণে বাসার অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান স্থানীয় আনোয়ার।

সিলেট নগরে খাওয়ার পানি সরবরাহ করে সিটি করপোরেশন। জলমগ্ন এলাকায় এত দিন এই পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে পানি নেমে যাওয়া এলাকাগুলোতে খাওয়ার পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে।

সিলেটের নতুন দুর্ভোগ পানির দুর্গন্ধ

সিটি করপোরেশনের সরবরাহকৃত পানিতেও প্রকট দুর্গন্ধ জানিয়ে নগরের মাছুদিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা অনিল পাল বলেন, ‘এসব পানি খাওয়া তো দূর কথা হাতেও নেয়া যায় না, এমনই দুর্গন্ধ।’

বন্যার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিলেন নগরের তেররতন এলাকার একটি বস্তির বাসিন্দা সুলেখা বেগম। তবে পানি নামলেও বাসায় ফিরতে পারছেন না জানিয়ে সুলেখা বলেন, ‘বাসার ভেতর ও আশপাশ এলাকায় এত বেশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যে তাতে কোনোভাবেই বাসায় ঢুকতে পারছি না। বাসার আসবাবগুলোও নষ্ট হচ্ছে।’

বাসার ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ও কাদার স্তূপ লেগে আছে বলে জানান তিনি।

বাসাবাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও এখনও নগরের অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে বলে জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান।

তিনি জানান, বন্যার কারণে সিটি করপোরেশনে ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। গত শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার পানিবন্দি মানুষ ছিল সেখানে। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হাজারের মতো আশ্রয়প্রার্থী আছে।

পানির দুর্গন্ধের বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘বন্যার সময় পানি বেড়ে যাওয়ায় সেফটিক ট্যাংকির পানি, খাওয়ার পানি, বন্যার পানি, ড্রেনের পানি সব একাকার হয়ে গেছে।

‘এ কারণে কিছুদিন খাবার পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছিলাম। এখন যেহেতু পানি আস্তে আস্তে কমছে তাই পানির রিজার্ভ ট্যাংক পুরোটা পরিষ্কার করব। এতে গন্ধ কমে যাবে।’

তিনি জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পানি নেমে গেলেও জীবাণু থাকতে পারে। এতে অনেকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য পুরো নগর ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করা হবে। এ জন্য প্রচুর পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার কিনতে হবে। এ জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘দুর্গন্ধের কারণে ডায়রিয়া ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমরাও সতর্ক নজর রাখছি।’

সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সাকার মেশিন দিয়ে পুরো নগর পরিষ্কার করা হবে। এ জন্য পানি পুরোপুরি নামতে হবে। নগরজুড়ে এখন পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
৬ দিন পর সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার নিচে পানি
ফের বাড়ছে সুরমার পানি
মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ি, পুলিশের ‘লাঠিপেটা’
সুনামগঞ্জে পানি কমলেও কাটেনি শঙ্কা
সিলেট শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন বন্যার্তরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arna lost her parents together

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির অর্ণা বিশ্বাস তার দাদী সুন্দরী বিশ্বাসের সঙ্গে। ছবি: নিউজবাংলা
অর্ণার দাদা অসীম বিশ্বাস বলেন, ‘একসময়ে আমাদের পরিবারে অনেক অভাব ছিল। এসএসসি পরীক্ষার ফি জমা না দিতে পেরে ছেলে অভিজিত লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। পরে সে সংসারের হাল ধরে। ছেলের অনেক শখ ছিল তাদের মেয়ে অর্ণাকে অনেক লেখাপড়া শেখাবে। এখন অর্ণাকে নিয়ে আমরা আছি। সে কিছু বুঝছে না, কাঁদছেও না। অর্ণাকে নিয়ে ছেলে যে স্বপ্ন দেখত, আমি যতদিন বেঁচে থাকি ছেলের স্বপ্ন পূরণ করব, অনেক লেখাপড়া শেখাব।’

মায়াভরা মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে চার বছর বয়সী অর্ণা বিশ্বাস। সে জানে না তার মা-বাবা আর নেই। কেউ জিজ্ঞেস করলে কখনও সে উত্তর দিচ্ছে তার মা-বাবা হাসপাতালে, আবার কখনও উত্তর দিচ্ছে না।

খুলনার ডুমুরিয়ার কুলটি গ্রামে নিজ ঘরে গত বুধবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে মারা যান অর্ণার বাবা অভিজিত বিশ্বাস ও মা কেয়া বিশ্বাস। ওই সময় আহত হয় অর্ণাও।

সম্প্রতি অর্ণাদের বাড়িতে যান নিউজবাংলার প্রতিবেদক। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে আছেন অর্ণার দাদা অসীম বিশ্বাস ও দাদি সুন্দরী বিশ্বাস।

সেই উঠানে খেলা করছে অর্ণা। তার ডান হাত ও ডান পায়ে রয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ক্ষত। ব্যথায় হাত নাড়াতে না পারলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে অর্ণা।

ঘটনার দিন কী হয়েছিল জানতে চাইলে অর্ণার দাদি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকে ছেলে ও বউমা একসঙ্গে ধান মাড়াই করছিল। পরে গোসল করে এসে ভাত খেয়ে ছেলে, বউমা ও অর্ণা একত্রে ঘরে যায়। আমি ও আমার স্বামী তখন বাড়ির উঠানে ধান মাড়াই করছিলাম।

‘হঠাৎ বউমা আমাকে ডেকে একটা চিৎকার দেয়। পরে আর কোনো শব্দ করেনি। আমি ও আমার স্বামী তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি ছেলে ঘরের বারান্দায় মাথা গুটিয়ে বসে টিনের বেড়া ধরে কাঁপছে। বউমা তার পাশে শুয়ে একইভাবে কাঁপছে। অর্ণা পড়ে আছে তার মায়ের কোলে।’

তিনি জানান, সন্তান ও বউমার এমন পরিস্থিতি দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। আগে অর্ণাকে টেনে তাদের কাছ থেকে আলাদা করে পরে ছেলে ও বউমাকে ছাড়াতে গেলে বিদ্যুতের শক খেয়ে বাইরে ছিটকে পড়েন তিনি।

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির

পরে প্রতিবেশীরা এসে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেয়। ছেলে ও তার বউকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

অর্ণার দাদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল থেকে ছেলে ও বউমার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে শ্মশানঘাটে নিয়ে তাদের সৎকার করা হয়।’

‘বাবা হয়ে সন্তানের চিতায় আগুন দেয়া যে কত কষ্টের, তা যে বাবা দিয়েছে শুধু সেই জানে। আমার সেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ছেলে আমাদের কত আশা দেখাত। এর আগেই আমাদের সব আশা শেষ হয়ে গেল। তার মৃত্যুতে আমিও যেন মারা গেলাম।’

তিনি জানান, অভিজিত তার একমাত্র ছেলে। তার দুই মেয়ে আছে, তারা বিবাহিত।

তিনি বলেন, ‘একসময়ে আমাদের পরিবারে অনেক অভাব ছিল। এসএসসি পরীক্ষার ফি জমা না দিতে পেরে ছেলে অভিজিত লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। পরে সে সংসারের হাল ধরে। ছেলের অনেক শখ ছিল তাদের মেয়ে অর্ণাকে অনেক লেখাপড়া শেখাবে।

‘এখন অর্ণাকে নিয়ে আমরা আছি। সে কিছু বুঝছে না, কাঁদছেও না। অর্ণাকে নিয়ে ছেলে যে স্বপ্ন দেখত, আমি যতদিন বেঁচে থাকি ছেলের স্বপ্ন পূরণ করব, অনেক লেখাপড়া শেখাব।’

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শরীফ আসিফ রহমান বলেন, ‘আমি অর্ণার কাছে গিয়েছিলাম। তার দাদা-দাদির সঙ্গেও দেখা করেছি। তখন ওই পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে।’

যেভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন অর্ণার বাবা-মা

অর্ণার বাবা-মা টিনের ঘরে থাকতেন। ঘরের ভেতর মাঝামাঝি এক স্থানে একটি বিদ্যুতের সার্কিট র‍য়েছে। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে বিদ্যুতের তার।

মৃত অভিজিতের ভগ্নিপতি দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘরের মাঝামাঝি যে সার্কিটটি আছে, সেখানে মেইন সুইচ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এসেছে। সেই সার্কিটটি ভালো করে ফিটিং ছিল না।’

‘ওই সার্কিট থেকে একটি তার বের হয়ে টিনের বেড়ার সঙ্গে বিদুৎসংযোগ লেগে যায়। এতে পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। ’

তিনি বলেন, ‘দুপুরে খাবার খেয়ে অর্ণার বাবা-মা ঘরের ভেতরে খাটে ছিল। ওই খাটের পাশেও টিনের বেড়া আছে। সেই বেড়া থেকে তারা প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে সেখান থেকে ছিটকে বারান্দায় পড়ার পর আবারও টিনের বেড়ায় হাত লাগায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তারা।’

আরও পড়ুন:
লোহাগড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পর্শে শ্বশুর-জামাইয়ের মৃত্যু
ইজিবাইকে চার্জ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পথচারীর মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু
ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The water is going down in Sylhet city

পানি নেমে যাচ্ছে সিলেট নগরের

পানি নেমে যাচ্ছে সিলেট নগরের সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক থেকে পানি সরে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
গত ১১ মে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। নগর তলিয়ে যেতে শুরু করে ১৬ মে থেকে। ৮ দিন পর নগর থেকে নামল পানি। ১৩ দিন পর সিলেটে সুরমা নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাঁচ দিন আগেও সিলেটের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুর ওপর পানি ছিল। নৌকাও চলতে দেখা গেছে শহরের মধ্য দিয়ে। তবে এখন পানি সরে সড়ক ফিরে পেয়েছে আগের পরিচিত রূপ।

সিলেট উপশহরের প্রধান সড়কে মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়ক পানিশূন্য। এই আবাসিক এলাকার অন্য সড়কেও পানি নেই। শুধু কয়েকটি নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে।

তালতলা এলাকার বাসাবাড়ি থেকেও পানি নেমে গেছে। অথচ কয়েক দিন আগে তালতলার অনেক এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানি ছিল।

গত ১১ মে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। নগর তলিয়ে যেতে শুরু করে ১৬ মে থেকে। ৮ দিন পর নগর থেকে নামল পানি।

১৩ দিন পর সিলেটে সুরমা নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে।

কুশিয়ারা নদীর পানি সব পয়েন্টেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এলাকা থেকে পানি কমলেও এখনও দুর্ভোগে আছে নগরবাসী। পানি নেমে যাওয়ায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে পচা দুর্গন্ধ। অনেকেরই বাড়ি ও দোকানের বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবে পচন ধরেছে। নষ্টও হয়ে গেছে অনেক সামগ্রী।

কয়েক দিন পানিবন্দি থাকার পর নগরবাসী এখন ব্যস্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে।

তালতলা এলাকার রজত কান্তি গুপ্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাত দিন ঘরের ভেতরে পানি ছিল। এখন পানি নামলেও ঘরে ড্রেনের ময়লার স্তূপ জমে আছে। দুর্গন্ধে থাকা দায়। পুরো এলাকায়ই দুর্গন্ধ। মশার উৎপাতও বেড়েছে।’

ঘাসিটুলা এলাকার বিমল রায় জানান, তারা এখন ব্লিচিং পাউডার দিয়ে নিজেদের বাসাবাড়ি পরিষ্কার করছেন। আসবাব ধোয়া-মোছার কাজও চলছে। তবু দুর্গন্ধ কমছে না।

সিলেট সিটি করপোরেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডই জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। এখন দু-একটি এলাকা বাদে সব জায়গা থেকে পানি নেমে গেছে।

সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানি নেমে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মীরা দল গঠন করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। সেই সঙ্গে মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গ নিধনের জন্য ওষুধ এবং ময়লার দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, নিজেদের বাড়িঘর নিজেদেরই পরিষ্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করতে পারে।

নগরের পানি কমলেও গ্রামাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। জেলার ১২টি উপজেলায় এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছে কয়েক লাখ মানুষ।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ বলেন, ‘সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দ্রুতই পুরো জেলার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ফের বাড়ছে সুরমার পানি
মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ি, পুলিশের ‘লাঠিপেটা’
সুনামগঞ্জে পানি কমলেও কাটেনি শঙ্কা
সিলেট শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন বন্যার্তরা
কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
From fire welding at Square Pharmas factory

স্কয়ার ফার্মার কারখানায় আগুন ‘ওয়েল্ডিং’ থেকে

স্কয়ার ফার্মার কারখানায় আগুন ‘ওয়েল্ডিং’ থেকে
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, ‘আগুন নেভাতে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল কারখানার বিশাল আয়তন। প্রায় ৬০-৭০ হাজার স্কয়ার ফিটের কমপেক্ট কারখানার বহুতল ভবনটিতে সংস্কার ও ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।’

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের কারখানায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় আগুন লেগে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর সোমবার রাত ৮টায় সাংবাদিকদের একথা জানান ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (অপারেশন) লেফট্যানেন্ট কর্নেল রেজাউল করিম।

তিনি জানান, আগুনে স্যালাইন ও নানা ট্যাবলেট তৈরির বিপুল উপকরণ ও কেমিক্যাল পুড়ে গেছে।

কারখানার লার্জ ভলিউম প্যারেন্টাল ইউনিটে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, ‘আগুন নেভাতে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল কারখানার বিশাল আয়তন। প্রায় ৬০-৭০ হাজার স্কয়ার ফিটের কমপেক্ট কারখানার বহুতল ভবনটিতে সংস্কার ও ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

‘অনেক বড় বিল্ডিং এবং চারিদিক থেকে প্রবেশপথ খুবই স্বল্প ছিল। স্টিল এবং গ্লাসের পার্টিসান ছিল, সেগুলো ভেঙে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এ কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। এর ফলে দুপুরের দিকে আগুনের ব্যপকতা বেড়ে যায়। বিকেল নাগাদ আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।’

তিনি জানান, এত বড় কোম্পানিতে যে পরিমাণ নিজস্ব অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকার কথা, তা ছিল কি না সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের লিকেজের আগুনে দগ্ধ আনোয়ারের মৃত্যু
প্রাণ নিয়ে থামল চট্টগ্রাম ইপিজেডের পাশের এলাকার আগুন
২ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে পোশাক কারখানার গুদামের আগুন
আগুনে পুড়ছে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পাশের এলাকা
পোশাক কারখানার গুদামে আগুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rape case in boyfriends name after suicide threat

আত্মহত্যার হুমকির পর প্রেমিকের নামে ধর্ষণের মামলা

আত্মহত্যার হুমকির পর প্রেমিকের নামে ধর্ষণের মামলা
মামলার বরাত দিয়ে পরিদর্শক জহিরুল জানান, দেলোয়ারের সঙ্গে বাদীর প্রেমের সম্পর্ক চলছে ১৩ বছর ধরে। বিয়ের আশ্বাস দেয়ায় তার সঙ্গে বাদীর একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। হঠাৎ বাদী জানতে পারেন আগামী বৃহস্পতিবার পারিবারের পছন্দে দেলোয়ার অন্য কাউকে বিয়ে করছেন।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিয়ের দাবিতে এক যুবকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া তরুণী ওই যুবকের নামে ধর্ষণের মামলা করেছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সোমবার দুপুরে তিনি ওই মামলা করেন বলে জানান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না।

এর আগে শনিবার রাত ৮টা থেকে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে দেলোয়ার হোসেন নামে ওই যুবকের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন ওই তরুণী। দেলোয়ার তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন। তবে বাড়িতে নেই দেলোয়ার।

মামলার বরাত দিয়ে পরিদর্শক জহিরুল জানান, দেলোয়ারের সঙ্গে বাদীর প্রেমের সম্পর্ক চলছে ১৩ বছর ধরে। বিয়ের আশ্বাস দেয়ায় তার সঙ্গে বাদীর একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। হঠাৎ বাদী জানতে পারেন আগামী বৃহস্পতিবার পারিবারের পছন্দে দেলোয়ার অন্য কাউকে বিয়ে করছেন।

এ কারণে তিনি বিয়ের দাবিতে দেলোয়ারের বাড়িতে অবস্থান নেন।

সোমবার সন্ধ্যায় মেয়ের বড় ভাই নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার পরামর্শে বোন অনশন ভেঙেছে। তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে বলে জানিয়েছে। এখন সে ধর্ষণ মামলা করে আইনের আশ্রয় নিয়েছে।’

থানার ওসি পীরজাদা শেখ মোহাম্মদ মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ‘মামলার পর তরুণীর ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামির বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
‘নিষিদ্ধ প্রেম’ এক দশক পর শেষ হলো মৃত্যুতে
জোর করে বিয়ে গড়াল তরুণ-তরুণীর বিষ পানে
স্ত্রী-সন্তান রেখে ছাত্রীকে নিয়ে পালালেন শিক্ষক
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া তরুণী কারাগারে
বিয়ের দাবিতে অবস্থান, তরুণীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wife and children beaten to death Accused in jail

স্ত্রী-সন্তানদের পিটিয়ে হত্যা: আসামি কারাগারে

স্ত্রী-সন্তানদের পিটিয়ে হত্যা: আসামি কারাগারে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার মামলায় গিয়াসউদ্দিনকে তোলা হচ্ছে আদালতে। ছবি: নিউজবাংলা
গিয়াস পিবিআইকে জানান, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে প্রতিবেশী রেনুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিতে পারবেন ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন বলে গিয়াস ধারণা করেন। সেই ধারণা থেকে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

নরসিংদীর বেলাবতে স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে হত্যার মামলায় গিয়াসউদ্দিন শেখকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চতুর্থ আদালতে সোমবার বিকেলে তোলা হলে বিচারক রকিবুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গিয়াসের নামে তার শ্যালক মো. মোশারফ রোববার রাতে বেলাব থানায় হত্যা মামলা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে গিয়াসের দেয়া তথ্যের বরাতে পরিদর্শক সালাউদ্দিন জানান, তিনি রংমিস্ত্রির ঠিকাদারের কাজ করেন। তার জমি ও বাড়ি নিয়ে প্রতিবেশী রেনু শেখের সঙ্গে অনেকদিনের বিরোধ ছিল। তিনি নিয়মিত জুয়া খেলতেন। জুয়ার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, এলাকার লোকজন ও শ্বশুরবাড়ির অনেকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন বিভিন্ন সময়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ঋণ তার। পাশাপাশি আরেক নারীর সঙ্গে তার বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কও চলছিল।

গিয়াস পিবিআইকে আরও জানান, ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে রেনু শেখের সঙ্গে জমির বিরোধের জেরে তার তর্কাতর্কি হয়, যা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এরপর থেকে রেনুর উপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। সেইসঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপও ছিল। তিনি ভাবেন, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে রেনুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিতে পারবেন ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন। সেই ধারণা থেকে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

আরও পড়ুন:
‘প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে’ স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা
জুয়ার টাকা দিতে না পেরে ‘আত্মহত্যা’
বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
রৌমারীতে মা-শিশুকে গলা কেটে হত্যা
মিয়াজি হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

মন্তব্য

p
উপরে