ঈদের আগে ও পরে ১৪ দিনে দেশে ২৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩৭৬ জন। আর আহত হয়েছে কমপক্ষে দেড় হাজার জন।
নিহত যাত্রীদের মধ্যে নারী ৩৮ ও শিশু ৫১ জন।
গত বছরের ঈদুল ফিতরের চেয়ে এ বছর সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৮.৪১ শতাংশ। অন্যদিকে প্রাণহানি বেড়েছে ১৯.৭৪ শতাংশ বা প্রায় ২০ শতাংশ।
এবার ১২৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৫৬ জন, যা মোট নিহতের ৪১.৪৮ শতাংশ।
এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৪ পথচারী, যা মোট নিহতের ১৪.৩৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৯ জন, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
২৫ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এতে বলা হয়, এ সময়ে সাতটি নৌ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন। আহত হয়েছেন দুজন। নিখোঁজ রয়েছে আরও দুজন।
রেলপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৯। আহত হয়েছে তিনজন।
যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৫৬ জন (৪১.৪৮%), বাস যাত্রী ৩২ জন (৮.৫১%), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ২০ জন (৫.৩১%), মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপের যাত্রী ১৫ জন (৩.৯৮%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু) ৭৮ জন (২০.৭৪%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) যাত্রী ১৩ জন (৩.৪৫%) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান আরোহী ৮ জন (২.১২%)।
দুর্ঘটনা হওয়া সড়ক
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩২টি (৪৬.৬৪%) জাতীয় মহাসড়কে, ৮৭টি (৩০.৭৪%) আঞ্চলিক সড়কে, ৪১টি (১৪.৪৮%) গ্রামীণ সড়কে এবং ২৩টি (৮.১২%) শহরের সড়কে হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৬৭টি (২৩.৬৭%) সংঘর্ষ, ১১২টি (৩৯.৫৭%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৬২টি (২১.৯০%) পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৩১টি (১০.৯৫%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করে এবং ১১টি (৩.৮৮%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা
ঈদযাত্রায় ১২৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৫৬, যা মোট নিহতের ৪১.৪৮ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৪৫.২২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত চালক ও আরোহীদের মধ্যে ৫১.৪২ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর।
আগের বছর তথা ২০২১ সালের ঈদুল ফিতরে উদযাপনের সময় ১২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়। সেই বিবেচনায় এ বছর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ৫.৭৪ শতাংশ। প্রাণহানি বেড়েছে ১৬.৪১ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ১৮.৯৫ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৭.০৫ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৮.৫৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৭.৬২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু) ১৯.৫৫ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৪.৬৩ শতাংশ এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ৩.৬২ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা
দুর্ঘটনায় পড়া যানবাহনের সংখ্যা ৪৯৬টি। এর মধ্যে ট্রাক ৫৬, বাস ৯২, কাভার্ডভ্যান ৩, পিকআপ ২২, ট্রলি ৬, লরি ৩, ট্রাক্টর ৪, মাইক্রোবাস ১৩, প্রাইভেটকার ১৬, অ্যাম্বুলেন্স ৪, জীপ ২, মোটরসাইকেল ১৩৭, থ্রি-হুইলার ৯৭ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ২৩ এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১৮টি।
সময় বিশ্লেষণ
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে সকালে। মোট দুর্ঘটনার ২৬.৮৫ শতাংশ হয়েছে সকালে। এর পরে আছে দুপুর (২৪.৭৩%) ও বিকেল (২১.৯০%)।
রাতের দিকে দুর্ঘটনার হার ১৩.৪২% হলেও সন্ধ্যায় হয়েছে ৮.১২%। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোরে (৪.৯৪%)।
দুর্ঘটনার বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে। এ বিভাগে ৮৩টি দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত হন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৭টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়।
একক জেলা হিসেবে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। নাটোর জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৮ জন নিহত হয়েছে।
শরীয়তপুর, খাগড়াছড়ি, নড়াইল, ঝালকাঠি, ঠাকুরগাঁও এবং নেত্রকোনায় সামান্যসংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে দুর্ঘটনা ২৯.৩২%, প্রাণহানি ২৮.১৯%।
এর পরে আছে চট্টগ্রাম বিভাগের নাম। এখানে দুর্ঘটনা ২০.৮৪%, প্রাণহানি ১৯.৪১%। রাজশাহী বিভাগ আছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। এ বিভাগে দুর্ঘটনা ১৮%, প্রাণহানি ১৭%।
এরপর খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.১৮%, প্রাণহানি ১০.১০%। রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৪৮%, প্রাণহানি ১০.৬৩%।
ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৩৬%, প্রাণহানি ৬.৬৪%। বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৩০%, প্রাণহানি ৫.৫৮%। সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ২.৪৭%, প্রাণহানি ২.৩৯%।
সুপারিশ
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ১২টি সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
১. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
২. চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে।
৩. বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করতে হবে।
৬. পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে।
৭. যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে।
৮. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।
৯. রেল ও নৌপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে হবে।
১০. গণপরিবহন উন্নত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে।
১১. টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
১২. সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। একই সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সার্বিক উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে আসার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মাহদী আমিন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সফরে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কীভাবে সর্বোচ্চ উন্নয়ন করা যায়, সেই সমস্ত বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে চীনের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দেওয়া করিডরের প্রস্তাবের বিষয়টি বাংলাদেশ অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, যা আগামী দিনে এ দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এর আগে গত ২১ জুন রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরদিনই অর্থাৎ ২২ জুন বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন।
চীন সফরকালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরের শেষ ভাগে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে বেইজিংয়ে চীনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় বেইজিং বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি রাত পৌনে ৮টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌনে ৮টায় নিরাপদে অবতরণ করে। ছবি: সংগৃহীত
দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর শেষে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত পৌনে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশে ফিরেছেন। এর আগে বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৫টায় তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরদিনই অর্থাৎ ২২ জুন বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন।
চীন সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সফরের শেষ অংশে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে বেইজিংয়ে চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসের ঐ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে মন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবতীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।
বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থা ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। আমাদের দূতাবাস সেসব ইউএই সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এটা হচ্ছে সর্বশেষ অবস্থা। ইউএই সরকারের তরফ থেকে আমাদেরকে এখনো কিছু জানানো হয় নাই। আশা করি খুব শিগগিরই জানানো হবে।’
সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, দুবাই থেকে মেইলে তার গ্রেপ্তারের খবর আসার পর তারা ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে বলেছিল। তবে সরকার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সকল নথিপত্র সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম জানিয়েছিলেন যে, র্যাবের সাবেক এই মহাপরিচালক দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বেনজীর আহমেদ অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন কি না এবং এতে তাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এখনো ইউএই সরকারের রিপ্লাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছি। তার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি সে ফেডারেল পুলিশের কাছেই আছে, তাদের হেফাজতে আছে। অন্য কোনো সংবাদ আমরা জানি না।’ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পাসপোর্ট নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সরকার বর্তমানে ইউএই কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বার্তার জন্য অপেক্ষা করছে। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ের ফেডারেল পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন বলেই জানা গেছে।
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তিনি বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ‘চায়না সাউদার্ন’-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে উষ্ণ বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং। বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও বিশেষ প্রটোকল প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমানে আরোহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের শুরু হয়েছিল গত ২১ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর সফরের মধ্য দিয়ে। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর গত সোমবার তিনি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। দালিয়ান থেকে গত বুধবার তিনি বুলেট ট্রেনে করে রাজধানী বেইজিংয়ে আসেন। বেইজিং সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক এক বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। বেইজিংয়ে সই হওয়া ১৩টি সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি বিশেষ অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই নতুন দিগন্তকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আলোচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আজকে কানেক্টিভিটি নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত কথা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি ইকোনোমিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এই ইকোনোমিক করিডোরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, ট্রানজেকশন বাড়ানো এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশনকে আরো এনহ্যান্স করা।’ করিডোর ছাড়াও বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীন বিশেষ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি শক্তিশালী রিজিওনাল হাব বা আঞ্চলিক কেন্দ্রে রূপান্তর করতে এবং মোংলা পোর্টকে আরও বেশি আধুনিক ও সেবাধর্মী করার লক্ষ্যে বেইজিং কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বা 'পিপল টু পিপল কানেক্ট' বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ম্যান্ডারিন ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে চীন শিক্ষক ও অবকাঠামো দিয়ে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নেও চীন তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সাথে শেয়ার করতে আগ্রহী বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে যাচ্ছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারিসহ উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজনে চীন ভ্রমণের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকা নিয়ে মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বেইজিং যেকোনো ধরনের সংলাপ ও সহযোগিতায় প্রস্তুত রয়েছে।
পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হয়েছে, যার ফলে আগামী দিনগুলোতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের আয়োজন করা হবে। একই সাথে বৈশ্বিক জোট ব্রিকসে (BRICS) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে চীন স্বাগত জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে দেশটির টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং গুমের সঙ্গে জড়িত দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘International Day in Support of Victims of Torture-2026’ উপলক্ষে ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার’ বিষয়ক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালু করা হবে। বিষয়টি চলতি বাজেটেই অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সকল লড়াই-সংগ্রামে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।
সংলাপে বিগত শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বজন হারানোর বেদনাময় স্মৃতিচারণ ও আহাজারিতে মিলনায়তনের পরিবেশ আবেগঘন হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এখন কান্নার সময় নয়, এখন সময় অধিকার আদায়ের, এখন সময় ন্যায়বিচার পাওয়ার। তিনি মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গুম-সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিবৃন্দ।
এই আয়োজনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তাঁদের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া ও চীনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ শুক্রবার রাতে সরাসরি বেইজিং থেকে ঢাকা পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার শোডাউন, রাজনৈতিক মিছিল কিংবা গণজমায়েত না করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং সড়কপথে সাধারণ মানুষের চলাচল সুশৃঙ্খল রাখতে এই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন যে, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে এই নির্দেশনার কথা সকল স্তরের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী সফর বাংলাদেশের কূটনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের সাফল্যের বার্তা নিয়ে এসেছে। বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আগে তাঁর মালয়েশিয়া সফরেও দুই দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এই সফরগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য