× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Thanks to the Foreign Minister in a letter to Syeda Ratna
hear-news
player
print-icon

মাঠ রক্ষার নেতা রত্না পেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ধন্যবাদ

মাঠ-রক্ষার-নেতা-রত্না-পেলেন-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর-ধন্যবাদ- তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা ছিল সৈয়দা রত্নার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
চিঠিটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাতে পান সৈয়দা রত্না। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘চিঠি পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। সবার সমর্থনে আমাদের আন্দোলন সফল হতে যাচ্ছে।’

রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার আন্দোলনকারী সৈয়দা রত্নাকে চিঠি পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

মাঠ রক্ষার আন্দোলনে প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মন্ত্রী।

চিঠিটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাতে পান সৈয়দা রত্না। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘চিঠি পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। সবার সমর্থনে আমাদের আন্দোলন সফল হতে যাচ্ছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল প্যাডে পাঠানো চিঠিতে মন্ত্রী লেখেন, ‘সালাম নেবেন। কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার আন্দোলনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠটি এই ওয়ার্ডে বসবাসরত তিন লাখ মানুষের একমাত্র উন্মুক্ত স্থান এবং খেলার মাঠ হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত।’

চিঠিতে মাঠের অভাবে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি লেখেন, ‘এই মাঠ রক্ষার ক্ষেত্রে আপনার উদ্যোগের কথা পত্রিকায় পড়তে গিয়ে আমার শৈশব ও কৈশোরকালের কথা মনে পড়ে যায়। সেই সময়ে সিলেট অঞ্চলে অনেক খেলার মাঠ এবং বড় বড় পুকুর বা দীঘি ছিল, যেখানে আমাদের শৈশবকাল অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে অতিবাহিত হয়েছে।

‘বর্তমানে জলাশয়গুলো ভরাট করে অট্টালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং খেলার মাঠগুলোতে বিভিন্ন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে এলাকার যুবসমাজ এবং কিশোর-কিশোরীরা খেলার মাঠের অভাবে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মাদকদ্রব্য সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।’

চিঠির শেষাংশে মন্ত্রী লেখেন, ‘দেশের প্রত্যেক শহরে উন্মুক্ত মাঠ ও পুকুর বা জলাশয় থাকা একান্ত প্রয়োজন এবং আরও বেশি প্রয়োজন যে সমস্ত এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ (সেগুলোতে)।’

সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর কাছ থেকে ধন্যবাদপত্র পেয়ে উচ্ছ্বসিত সৈয়দা রত্না নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্তাব্যক্তির কাছ থেকে ধন্যবাদ চিঠি আসা মানে অনেক কিছু। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই মাঠটাকে রক্ষা করতে চাই।’

প্রেক্ষাপট

রাজধানীর কলাবাগানে পরিত্যক্ত তেঁতুলতলা মাঠটি বরাদ্দ পেয়ে গত ৩১ জানুয়ারি সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেয় পুলিশ। কলাবাগান থানার স্থায়ী ভবন নির্মাণ হবে বলে টানানো হয় সাইনবোর্ড। এরপর থেকেই শুরু হয় তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার আন্দোলন।

গত ২৪ এপ্রিল সকালে মাঠ রক্ষার আন্দোলনে থাকা সৈয়দা রত্না ও তার ছেলে ঈসা আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশ। প্রায় ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান মা ও ছেলে।

রত্না ও তার ছেলেকে আটক করার পর মাঠ রক্ষার আন্দোলন আরও জোরদার হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অধিকারকর্মীরা মাঠ রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত হন।

দফায় দফায় সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেন।

সচিবালয়ে ২৭ এপ্রিল অধিকারকর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না দিলেও বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

পরদিন ২৮ এপ্রিল দুপুরে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সেখানে আপাতত থানা করতে নিষেধ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা আসার পর আনন্দে মেতে ওঠে শিশু-কিশোর, স্থানীয় বাসিন্দা ও অধিকারকর্মীরা। ২৮ এপ্রিল রাতেই মাঠ থেকে পুলিশি পাহারা উঠিয়ে নেয়া হয়।

মাঠের প্রান্তে সীমানাপ্রাচীর করা হলেও ভেতরে যাওয়ার জন্য এক পাশ খোলা রয়েছে। মাঠটি খেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে শিশু-কিশোররা। ঈদের জামাতও হয়েছে সেখানে।

আরও পড়ুন:
তেঁতুলতলা মাঠ: মা-ছেলেকে ‘বেআইনিভাবে’ আটকের তদন্ত দাবি
তেঁতুলতলায় ফিরেছে প্রাণ
মাঠ ফিরে পেয়ে রত্না বললেন ‘লাভ ইউ বুবু’
আপাতত থানা নয় তেঁতুলতলায়
খেলার জায়গা দরকার, থানাও প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Arna lost her parents together

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির অর্ণা বিশ্বাস তার দাদী সুন্দরী বিশ্বাসের সঙ্গে। ছবি: নিউজবাংলা
অর্ণার দাদা অসীম বিশ্বাস বলেন, ‘একসময়ে আমাদের পরিবারে অনেক অভাব ছিল। এসএসসি পরীক্ষার ফি জমা না দিতে পেরে ছেলে অভিজিত লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। পরে সে সংসারের হাল ধরে। ছেলের অনেক শখ ছিল তাদের মেয়ে অর্ণাকে অনেক লেখাপড়া শেখাবে। এখন অর্ণাকে নিয়ে আমরা আছি। সে কিছু বুঝছে না, কাঁদছেও না। অর্ণাকে নিয়ে ছেলে যে স্বপ্ন দেখত, আমি যতদিন বেঁচে থাকি ছেলের স্বপ্ন পূরণ করব, অনেক লেখাপড়া শেখাব।’

মায়াভরা মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে চার বছর বয়সী অর্ণা বিশ্বাস। সে জানে না তার মা-বাবা আর নেই। কেউ জিজ্ঞেস করলে কখনও সে উত্তর দিচ্ছে তার মা-বাবা হাসপাতালে, আবার কখনও উত্তর দিচ্ছে না।

খুলনার ডুমুরিয়ার কুলটি গ্রামে নিজ ঘরে গত বুধবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে মারা যান অর্ণার বাবা অভিজিত বিশ্বাস ও মা কেয়া বিশ্বাস। ওই সময় আহত হয় অর্ণাও।

সম্প্রতি অর্ণাদের বাড়িতে যান নিউজবাংলার প্রতিবেদক। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে আছেন অর্ণার দাদা অসীম বিশ্বাস ও দাদি সুন্দরী বিশ্বাস।

সেই উঠানে খেলা করছে অর্ণা। তার ডান হাত ও ডান পায়ে রয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ক্ষত। ব্যথায় হাত নাড়াতে না পারলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে অর্ণা।

ঘটনার দিন কী হয়েছিল জানতে চাইলে অর্ণার দাদি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকে ছেলে ও বউমা একসঙ্গে ধান মাড়াই করছিল। পরে গোসল করে এসে ভাত খেয়ে ছেলে, বউমা ও অর্ণা একত্রে ঘরে যায়। আমি ও আমার স্বামী তখন বাড়ির উঠানে ধান মাড়াই করছিলাম।

‘হঠাৎ বউমা আমাকে ডেকে একটা চিৎকার দেয়। পরে আর কোনো শব্দ করেনি। আমি ও আমার স্বামী তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি ছেলে ঘরের বারান্দায় মাথা গুটিয়ে বসে টিনের বেড়া ধরে কাঁপছে। বউমা তার পাশে শুয়ে একইভাবে কাঁপছে। অর্ণা পড়ে আছে তার মায়ের কোলে।’

তিনি জানান, সন্তান ও বউমার এমন পরিস্থিতি দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। আগে অর্ণাকে টেনে তাদের কাছ থেকে আলাদা করে পরে ছেলে ও বউমাকে ছাড়াতে গেলে বিদ্যুতের শক খেয়ে বাইরে ছিটকে পড়েন তিনি।

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির

পরে প্রতিবেশীরা এসে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেয়। ছেলে ও তার বউকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

অর্ণার দাদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল থেকে ছেলে ও বউমার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে শ্মশানঘাটে নিয়ে তাদের সৎকার করা হয়।’

‘বাবা হয়ে সন্তানের চিতায় আগুন দেয়া যে কত কষ্টের, তা যে বাবা দিয়েছে শুধু সেই জানে। আমার সেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ছেলে আমাদের কত আশা দেখাত। এর আগেই আমাদের সব আশা শেষ হয়ে গেল। তার মৃত্যুতে আমিও যেন মারা গেলাম।’

তিনি জানান, অভিজিত তার একমাত্র ছেলে। তার দুই মেয়ে আছে, তারা বিবাহিত।

তিনি বলেন, ‘একসময়ে আমাদের পরিবারে অনেক অভাব ছিল। এসএসসি পরীক্ষার ফি জমা না দিতে পেরে ছেলে অভিজিত লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। পরে সে সংসারের হাল ধরে। ছেলের অনেক শখ ছিল তাদের মেয়ে অর্ণাকে অনেক লেখাপড়া শেখাবে।

‘এখন অর্ণাকে নিয়ে আমরা আছি। সে কিছু বুঝছে না, কাঁদছেও না। অর্ণাকে নিয়ে ছেলে যে স্বপ্ন দেখত, আমি যতদিন বেঁচে থাকি ছেলের স্বপ্ন পূরণ করব, অনেক লেখাপড়া শেখাব।’

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শরীফ আসিফ রহমান বলেন, ‘আমি অর্ণার কাছে গিয়েছিলাম। তার দাদা-দাদির সঙ্গেও দেখা করেছি। তখন ওই পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে।’

যেভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন অর্ণার বাবা-মা

অর্ণার বাবা-মা টিনের ঘরে থাকতেন। ঘরের ভেতর মাঝামাঝি এক স্থানে একটি বিদ্যুতের সার্কিট র‍য়েছে। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে বিদ্যুতের তার।

মৃত অভিজিতের ভগ্নিপতি দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘরের মাঝামাঝি যে সার্কিটটি আছে, সেখানে মেইন সুইচ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এসেছে। সেই সার্কিটটি ভালো করে ফিটিং ছিল না।’

‘ওই সার্কিট থেকে একটি তার বের হয়ে টিনের বেড়ার সঙ্গে বিদুৎসংযোগ লেগে যায়। এতে পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। ’

তিনি বলেন, ‘দুপুরে খাবার খেয়ে অর্ণার বাবা-মা ঘরের ভেতরে খাটে ছিল। ওই খাটের পাশেও টিনের বেড়া আছে। সেই বেড়া থেকে তারা প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে সেখান থেকে ছিটকে বারান্দায় পড়ার পর আবারও টিনের বেড়ায় হাত লাগায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তারা।’

আরও পড়ুন:
লোহাগড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পর্শে শ্বশুর-জামাইয়ের মৃত্যু
ইজিবাইকে চার্জ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পথচারীর মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু
ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The water is going down in Sylhet city

পানি নেমে যাচ্ছে সিলেট নগরের

পানি নেমে যাচ্ছে সিলেট নগরের সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক থেকে পানি সরে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
গত ১১ মে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। নগর তলিয়ে যেতে শুরু করে ১৬ মে থেকে। ৮ দিন পর নগর থেকে নামল পানি। ১৩ দিন পর সিলেটে সুরমা নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাঁচ দিন আগেও সিলেটের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুর ওপর পানি ছিল। নৌকাও চলতে দেখা গেছে শহরের মধ্য দিয়ে। তবে এখন পানি সরে সড়ক ফিরে পেয়েছে আগের পরিচিত রূপ।

সিলেট উপশহরের প্রধান সড়কে মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়ক পানিশূন্য। এই আবাসিক এলাকার অন্য সড়কেও পানি নেই। শুধু কয়েকটি নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে।

তালতলা এলাকার বাসাবাড়ি থেকেও পানি নেমে গেছে। অথচ কয়েক দিন আগে তালতলার অনেক এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানি ছিল।

গত ১১ মে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। নগর তলিয়ে যেতে শুরু করে ১৬ মে থেকে। ৮ দিন পর নগর থেকে নামল পানি।

১৩ দিন পর সিলেটে সুরমা নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে।

কুশিয়ারা নদীর পানি সব পয়েন্টেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এলাকা থেকে পানি কমলেও এখনও দুর্ভোগে আছে নগরবাসী। পানি নেমে যাওয়ায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে পচা দুর্গন্ধ। অনেকেরই বাড়ি ও দোকানের বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবে পচন ধরেছে। নষ্টও হয়ে গেছে অনেক সামগ্রী।

কয়েক দিন পানিবন্দি থাকার পর নগরবাসী এখন ব্যস্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে।

তালতলা এলাকার রজত কান্তি গুপ্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাত দিন ঘরের ভেতরে পানি ছিল। এখন পানি নামলেও ঘরে ড্রেনের ময়লার স্তূপ জমে আছে। দুর্গন্ধে থাকা দায়। পুরো এলাকায়ই দুর্গন্ধ। মশার উৎপাতও বেড়েছে।’

ঘাসিটুলা এলাকার বিমল রায় জানান, তারা এখন ব্লিচিং পাউডার দিয়ে নিজেদের বাসাবাড়ি পরিষ্কার করছেন। আসবাব ধোয়া-মোছার কাজও চলছে। তবু দুর্গন্ধ কমছে না।

সিলেট সিটি করপোরেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডই জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। এখন দু-একটি এলাকা বাদে সব জায়গা থেকে পানি নেমে গেছে।

সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানি নেমে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মীরা দল গঠন করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। সেই সঙ্গে মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গ নিধনের জন্য ওষুধ এবং ময়লার দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, নিজেদের বাড়িঘর নিজেদেরই পরিষ্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করতে পারে।

নগরের পানি কমলেও গ্রামাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। জেলার ১২টি উপজেলায় এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছে কয়েক লাখ মানুষ।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ বলেন, ‘সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দ্রুতই পুরো জেলার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ফের বাড়ছে সুরমার পানি
মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ি, পুলিশের ‘লাঠিপেটা’
সুনামগঞ্জে পানি কমলেও কাটেনি শঙ্কা
সিলেট শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন বন্যার্তরা
কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
From fire welding at Square Pharmas factory

স্কয়ার ফার্মার কারখানায় আগুন ‘ওয়েল্ডিং’ থেকে

স্কয়ার ফার্মার কারখানায় আগুন ‘ওয়েল্ডিং’ থেকে
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, ‘আগুন নেভাতে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল কারখানার বিশাল আয়তন। প্রায় ৬০-৭০ হাজার স্কয়ার ফিটের কমপেক্ট কারখানার বহুতল ভবনটিতে সংস্কার ও ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।’

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের কারখানায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় আগুন লেগে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর সোমবার রাত ৮টায় সাংবাদিকদের একথা জানান ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (অপারেশন) লেফট্যানেন্ট কর্নেল রেজাউল করিম।

তিনি জানান, আগুনে স্যালাইন ও নানা ট্যাবলেট তৈরির বিপুল উপকরণ ও কেমিক্যাল পুড়ে গেছে।

কারখানার লার্জ ভলিউম প্যারেন্টাল ইউনিটে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, ‘আগুন নেভাতে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল কারখানার বিশাল আয়তন। প্রায় ৬০-৭০ হাজার স্কয়ার ফিটের কমপেক্ট কারখানার বহুতল ভবনটিতে সংস্কার ও ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

‘অনেক বড় বিল্ডিং এবং চারিদিক থেকে প্রবেশপথ খুবই স্বল্প ছিল। স্টিল এবং গ্লাসের পার্টিসান ছিল, সেগুলো ভেঙে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এ কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। এর ফলে দুপুরের দিকে আগুনের ব্যপকতা বেড়ে যায়। বিকেল নাগাদ আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।’

তিনি জানান, এত বড় কোম্পানিতে যে পরিমাণ নিজস্ব অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকার কথা, তা ছিল কি না সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের লিকেজের আগুনে দগ্ধ আনোয়ারের মৃত্যু
প্রাণ নিয়ে থামল চট্টগ্রাম ইপিজেডের পাশের এলাকার আগুন
২ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে পোশাক কারখানার গুদামের আগুন
আগুনে পুড়ছে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পাশের এলাকা
পোশাক কারখানার গুদামে আগুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rape case in boyfriends name after suicide threat

আত্মহত্যার হুমকির পর প্রেমিকের নামে ধর্ষণের মামলা

আত্মহত্যার হুমকির পর প্রেমিকের নামে ধর্ষণের মামলা
মামলার বরাত দিয়ে পরিদর্শক জহিরুল জানান, দেলোয়ারের সঙ্গে বাদীর প্রেমের সম্পর্ক চলছে ১৩ বছর ধরে। বিয়ের আশ্বাস দেয়ায় তার সঙ্গে বাদীর একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। হঠাৎ বাদী জানতে পারেন আগামী বৃহস্পতিবার পারিবারের পছন্দে দেলোয়ার অন্য কাউকে বিয়ে করছেন।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিয়ের দাবিতে এক যুবকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া তরুণী ওই যুবকের নামে ধর্ষণের মামলা করেছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সোমবার দুপুরে তিনি ওই মামলা করেন বলে জানান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না।

এর আগে শনিবার রাত ৮টা থেকে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে দেলোয়ার হোসেন নামে ওই যুবকের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন ওই তরুণী। দেলোয়ার তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন। তবে বাড়িতে নেই দেলোয়ার।

মামলার বরাত দিয়ে পরিদর্শক জহিরুল জানান, দেলোয়ারের সঙ্গে বাদীর প্রেমের সম্পর্ক চলছে ১৩ বছর ধরে। বিয়ের আশ্বাস দেয়ায় তার সঙ্গে বাদীর একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। হঠাৎ বাদী জানতে পারেন আগামী বৃহস্পতিবার পারিবারের পছন্দে দেলোয়ার অন্য কাউকে বিয়ে করছেন।

এ কারণে তিনি বিয়ের দাবিতে দেলোয়ারের বাড়িতে অবস্থান নেন।

সোমবার সন্ধ্যায় মেয়ের বড় ভাই নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার পরামর্শে বোন অনশন ভেঙেছে। তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে বলে জানিয়েছে। এখন সে ধর্ষণ মামলা করে আইনের আশ্রয় নিয়েছে।’

থানার ওসি পীরজাদা শেখ মোহাম্মদ মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ‘মামলার পর তরুণীর ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামির বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
‘নিষিদ্ধ প্রেম’ এক দশক পর শেষ হলো মৃত্যুতে
জোর করে বিয়ে গড়াল তরুণ-তরুণীর বিষ পানে
স্ত্রী-সন্তান রেখে ছাত্রীকে নিয়ে পালালেন শিক্ষক
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া তরুণী কারাগারে
বিয়ের দাবিতে অবস্থান, তরুণীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wife and children beaten to death Accused in jail

স্ত্রী-সন্তানদের পিটিয়ে হত্যা: আসামি কারাগারে

স্ত্রী-সন্তানদের পিটিয়ে হত্যা: আসামি কারাগারে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার মামলায় গিয়াসউদ্দিনকে তোলা হচ্ছে আদালতে। ছবি: নিউজবাংলা
গিয়াস পিবিআইকে জানান, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে প্রতিবেশী রেনুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিতে পারবেন ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন বলে গিয়াস ধারণা করেন। সেই ধারণা থেকে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

নরসিংদীর বেলাবতে স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে হত্যার মামলায় গিয়াসউদ্দিন শেখকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চতুর্থ আদালতে সোমবার বিকেলে তোলা হলে বিচারক রকিবুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গিয়াসের নামে তার শ্যালক মো. মোশারফ রোববার রাতে বেলাব থানায় হত্যা মামলা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে গিয়াসের দেয়া তথ্যের বরাতে পরিদর্শক সালাউদ্দিন জানান, তিনি রংমিস্ত্রির ঠিকাদারের কাজ করেন। তার জমি ও বাড়ি নিয়ে প্রতিবেশী রেনু শেখের সঙ্গে অনেকদিনের বিরোধ ছিল। তিনি নিয়মিত জুয়া খেলতেন। জুয়ার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, এলাকার লোকজন ও শ্বশুরবাড়ির অনেকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন বিভিন্ন সময়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ঋণ তার। পাশাপাশি আরেক নারীর সঙ্গে তার বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কও চলছিল।

গিয়াস পিবিআইকে আরও জানান, ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে রেনু শেখের সঙ্গে জমির বিরোধের জেরে তার তর্কাতর্কি হয়, যা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এরপর থেকে রেনুর উপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। সেইসঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপও ছিল। তিনি ভাবেন, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে রেনুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিতে পারবেন ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন। সেই ধারণা থেকে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

আরও পড়ুন:
‘প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে’ স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা
জুয়ার টাকা দিতে না পেরে ‘আত্মহত্যা’
বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
রৌমারীতে মা-শিশুকে গলা কেটে হত্যা
মিয়াজি হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The hearing of the emperors bail will be canceled in the full bench on May 30

বাতিলই থাকছে সম্রাটের জামিন, ৩০ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি

বাতিলই থাকছে সম্রাটের জামিন, ৩০ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সম্রাটকে ঢাকার বিশেষ আদালত জামিন দেয়ার পর তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আগামী ৩০ মে আপিল বিভাগে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন বাতিল করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। পরে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছে চেম্বার আদালত।

সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আগামী ৩০ মে আপিল বিভাগে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

জামিন বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সম্রাট।

চেম্বার আদালতে সম্রাটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

১৮ মে হাইকোর্ট সম্রাটের জামিন বাতিল করে সাত দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে আদেশটি স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন সম্রাট।

গত ১১ মে সম্রাটকে জামিন দেয় ঢাকার বিশেষ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান।

সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগে মামলা হয়। মামলা করে দুদকও। সব মামলাতেই তিনি জামিনে ছিলেন।

দুদকের মামলা থেকে জানা গেছে, ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলা করেন।

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর মামলাটি তদন্ত করে সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদকের ওই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
সম্রাট জামিনে মুক্ত, থাকছেন হাসপাতালেই
সব মামলাতেই এখন জামিনে সম্রাট
সম্রাটের জামিন আবেদন খারিজ
অর্থ পাচার: সম্রাটের জামিন শুনানি হলো, আদেশ পরে
দুই মামলায় সম্রাটের জামিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Haji Selim from prison to hospital

কারাগার থেকে হাসপাতালে হাজি সেলিম

কারাগার থেকে হাসপাতালে হাজি সেলিম আদেশের পর হাজি সেলিমকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
কা‌র্ডিও‌লজি বিভাগের অধ্যাপক হা‌রিসুল হক বলেন, ‘আদালতের নির্দেশেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বেলা ১১টার সময় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি ৫১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি রয়েছেন। তিনি আমার অধীনেই চিকিৎসাধীন। ভর্তির পর তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া হয়েছে।’

দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজি মোহম্মদ সেলিমকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালটির কা‌র্ডিও‌লজি বিভাগের অধ‌্যাপক ডা. হা‌রিসুল হক নিউজবাংলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বেলা ১১টার সময় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি ৫১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি রয়েছেন। তিনি আমার অধীনেই চিকিৎসাধীন। ভর্তির পর তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট পাওয়া যাবে। তখন হয়তো এ বিষয়ে জানতে পারব। ওনার আগে থেকেই তো অনেক সমস্যা রয়েছে। ওনার হার্ট, ব্রেনে সমস্যা রয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

হাজি সেলিমের চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

হাইকোর্টের নির্দেশে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের পর দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য রোববার আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক সে দিনই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর আদেশ শোনার পর আদালত চত্ত্বরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন হাজি সেলিম। তাকে চিকিৎসা ও কারাগারে ডিভিশনের জন্যও আবেদন করেন তার আইনজীবী। পরে আদালত এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেয়।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিচারিক আদালত হাজি সেলিমকে ১৩ বছরের দণ্ড দিয়েছিল। রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন।

২০২০ সালের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চুয়াল বেঞ্চ তার ১০ বছরের সাজা বহাল রাখে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই রায় প্রকাশ হয়। এতে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ৯ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

এই হিসেবে ৯ এপ্রিলের মধ্যে কেন হাজি সেলিম আত্মসমর্পণ করেননি, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তার আইনজীবী।

তার আইনজীবী জানান, ২০২১ সালের মার্চ মাসে মৌখিকভাবে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে। এরপর চলতি বছরের ৯ মার্চ অনলাইনে রায়টি প্রকাশ করা হয়। আর রায়টি অফিশিয়ালি বিচারিক আদালতে কমিউনিকেট করা হয় গত ২৫ এপ্রিল। সে হিসেবে তারপর থেকে এক মাস, অর্থাৎ ২৫ মে পর্যন্ত সময় হাতে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
আত্মসমর্পণ করে আপিল করবেন হাজী সেলিম
হাজি সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় প্রকাশ
হত্যাচেষ্টা মামলা: হাজি সেলিমপুত্রের জামিন স্থগিত
করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাজি সেলিম হাসপাতালে
ঢাকার বাইরে ‘মানসিক প্রশান্তি’ খুঁজছেন হাজি সেলিম

মন্তব্য

p
উপরে