× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The minister wants to know the legal provisions for collecting fees in Jaflong
google_news print-icon

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

জাফলংয়ে-ফি-আদায়ের-আইনি-বিধান-জানতে-চান-মন্ত্রী
চিঠিতে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ উল্লেখ করেন, ‘জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহারসংক্রান্ত কোনো আইনানুগ বিধান জারি হয়েছে কি না তা জানা প্রয়োজন।’

সিলেটের জাফলংয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি আদায়ের আইনি বিধান জারি করা হয়েছে কি না তা জানতে চেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ। সাময়িকভাবে ফি আদায় বন্ধ রাখার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

ইমরান আহমেদ সিলেট-৪ জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জের সংসদ সদস্যও।

সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে এক চিঠিতে মঙ্গলবার তিনি এই অনুরোধ জানান।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহারসংক্রান্ত কোনো আইনানুগ বিধান জারি হয়েছে কি না তা জানা প্রয়োজন।’

মন্ত্রীর চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওনার একটি চিঠি আমি পেয়েছি। চিঠি পাওয়ার আগেই জাফলং থেকে প্রবেশ ফি আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির পরবর্তী বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত ফি আদায় বন্ধ থাকবে।’

পর্যটন উন্নয়ন কমিটির পরবর্তী বৈঠক কবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারিখ নির্ধারণ হলে আপনাদের জানানো হবে।’

সিলেটের অন্যতম পর্যটন এলাকা গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে সব সময়ই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। আগে সেখানে অবাধেই পর্যটকরা প্রবেশ করতেন। গত বছর থেকে ১০ টাকা প্রবেশ ফি চালু করে উপজেলা প্রশাসন।

উন্মুক্ত নদী ও পাহাড় দেখতে টাকা লাগবে কেন- এই প্রশ্ন ফি নির্ধারণের শুরু থেকেই। বিশেষত গত ৫ মে টিকিট কাউন্টারের কর্মীদের হাতে কয়েকজন পর্যটক মারধরের শিকার হওয়ার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে জাফলংয়ে প্রবেশে টিকিট ব্যবস্থা চালুর বৈধতা নিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পর্যটন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কার্যপরিধির বাইরে গিয়ে জাফলংয়ে পর্যটক প্রবেশে ফি নির্ধারণ করে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে এভাবে ফি নির্ধারণকে অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূত বলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরাও।

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

সিলেট-৪ আসনের সাংসদ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘গত ৫ এপ্রিল বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সিলেটের জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায়কে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক ও পর্যটকদের মধ্যে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

‘ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো সম্পর্কে ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে এলাকার ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা কখনই কাম্য নয়। তাছাড়া জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহারসংক্রান্ত কোনো আইনানুগ বিধান জারি হয়েছে কি না তা জানা প্রয়োজন।’

ডিসিকে দেয়া চিঠিতে মন্ত্রী ইমরান আহমদ আরও বলেন, ‘জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহারসংক্রান্ত নীতিমালা/বিধিবিধান নিম্নস্বাক্ষরকারীকে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করতঃ আমার নির্বাচনি এলাকার পর্যটন স্পটসমূহের (রাতারগুল ব্যতীত) পর্যটক প্রবেশ ফি সাময়িকভাবে বন্ধকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’


জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায় ‘অবৈধ’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে দেশের জেলাভিত্তিক পর্যটন উন্নয়ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এর ভিত্তিতেই ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর সিলেট জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির এক সভায় জাফলংয়ে ১০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।

তবে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে পর্যটন উন্নয়ন কমিটির জন্য ১৩টি কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এই কার্যপরিধির কোথাও প্রবেশ ফি আদায়ের কথা উল্লেখ নেই।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘প্রবেশ ফি হিসেবে আদায় করা অর্থ থেকে প্রয়োজনীয় জনবলের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করা হবে। পাশাপাশি সঞ্চিত অর্থ দিয়ে পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

সেই টাকা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট তহবিল গঠনের জন্য একটি ব্যাংক হিসাব খোলার কথাও বলা হয় ওই সভায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রবেশ ফি আদায় চালু হয়।


কর্মপরিধিতে যা ছিল

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপন ঘেঁটে দেখা গেছে, পর্যটন উন্নয়ন কমিটির নির্ধারিত কাজের মধ্যে রয়েছে- জেলার পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিতকরণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ; পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ; পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের স্বাচ্ছন্দ্য বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ এলাকা নির্ধারণের প্রয়োজন ও অবকাশ থাকলে সেরূপ এলাকা নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব প্রেরণ; বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ ও অবস্থানকে নিরাপদ এবং আরামদায়ক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পর্যটন স্থানগুলোর উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ এবং জেলার পর্যটন উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা আছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ; বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক গঠিত স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের সমন্বয়; উপজেলার পর্যটন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা তদারকি; বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; পর্যটন উন্নয়ন ও প্রচারসংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা ও পর্যটন উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অন্যান্য নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিশিষ্টজনরা যা বলছেন

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের কার্যপরিধিতে না থাকা সত্ত্বেও পর্যটন উন্নয়ন কমিটির এভাবে ফি আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূত। তারা এটা করতে পারে না। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কর্মপরিধির মধ্যেই তাদের থাকতে হবে।’

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

জাফলংয়ে পর্যটকদের মারধরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে বলা হলো পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত সিলেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম?

‘প্রকাশ্যে পর্যটকদের পেটাচ্ছে প্রশাসনের কর্মীরা। অথচ পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসছে না। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। এটা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট সবার ব্যর্থতা। এ জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যতম প্রধান ও সিলেটের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র জাফলং। সেখানেই যদি নিরাপত্তার এই অবস্থা হয় তাহলে অন্যগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমেয়।’


প্রশাসন যা বলছে

এদিকে পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি আদায় অবৈধ নয় বলে বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মজিবর রহমান।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে শুক্রবার তাকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি আসার আগেই চালু করা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

‘আমি সাত দিনের জন্য ফি বন্ধ রেখেছি। পরবর্তীতে কমিটির সভা ডেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করব।’

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১০ টাকার বিনিময়ে আমরা কয়েকটি সেবা দিই। পর্যটন এলাকায় চেঞ্জ রুম ও টয়লেট করা হয়েছে। পর্যটকরা এগুলো বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা। পর্যটন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার কাজও করা হয় এই টাকায়।’

‘টিকিট দেখালে সহজে ও নির্ধারিত মূল্যে ফটোগ্রাফার, ট্যুর গাইড ও নৌকার মাঝি পাওয়া যায়’- যোগ করেন ইউএনও।

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

প্রবেশ ফির পরিমাণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একেক দিন একেক পরিমাণ টাকা আদায় হয়। ভরা মৌসুমে আমি দিনে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা আদায় হতে দেখেছি।’

খরচের খাত হিসেবে তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ পর্যটকদের সেবা দেয়ার জন্য কিছু অস্থায়ী কর্মী রাখা হয়েছে। তাদেরকে ঘণ্টাপ্রতি ৫০ টাকা হিসেবে বেতন দেয়া হয়। কর্মীর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। সর্বনিম্ন পাঁচ-ছয়জন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ জন কাজ করেন।

ইউএনও জানান, উপজেলা পর্যটন কমিটি নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ ফি জমা হয়। ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ প্রসঙ্গে তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক বলা হলেও আসলে তারা স্বেচ্ছাসেবক নন। ঘণ্টা-চুক্তিতে তারা কাজ করেন। তাদের কাউকে নিয়োগও দেয়া হয়নি।’

আরও পড়ুন:
জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায় ‘অবৈধ’
শঙ্কা কাটিয়ে জাফলংয়ে আবারও পর্যটকের ঢল
জাফলংয়ে পর্যটকদের টাকা দিতে হয় কেন
জাফলংয়ে পর্যটকদের মারধরের ঘটনায় মামলা
জাফলংয়ে ৭ দিন বিনা মূল্যে প্রবেশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
34 Diplomats at Rangkut Buddhist Monastery

রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে ৩৪ কূটনীতিক

রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে ৩৪ কূটনীতিক বুধবার রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে ৩৪ কূটনীতিক। ছবি: নিউজবাংলা
বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনকালে কক্সবাজার অঞ্চলের বৌদ্ধ ইতিহাস, স্থাপনা এবং সমুদ্র সৈকত- সব মিলিয়ে অপার পর্যটন সম্ভাবনাকে তোলে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আশ্বাস দেন কূটনীতিকরা।

কক্সবাজারের রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার সফরে আসা ৩৪ কূটনীতিক।

বুধবার সকালে রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে এসে পৌঁছালে কূটনীতিকদের স্বাগত জানান বিহারাধক্ষ্য জ্যোতিসেন মহাথেরো।

তিনি জানান, এ সময় দুই হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো মহামতি বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই স্থান দেখে মুগ্ধ হন অতিথিরা। সেইসঙ্গে সম্রাট অশোক, চীনা পর্যটক হিউয়েন সাংয়ের আবক্ষ মূর্তিসহ বৌদ্ধ পুরাকীর্তি দেখে অভিভূত হন। অতিথিরা বিহারের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে কক্সবাজার অঞ্চলের বৌদ্ধ ইতিহাস, স্থাপনা এবং সমুদ্র সৈকত- সব মিলিয়ে অপার পর্যটন সম্ভাবনাকে তোলে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আশ্বাস দেন কূটনীতিকরা।

কূটনীতিকদের আগমনে বিহারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলি দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হয়।

রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে ৩৪ কূটনীতিক

পরে তারা সমুদ্র সৈকতের লাবনীর ট্যুরিস্ট মার্কেটে যান। সেখানে ঝিনুকের দোকানসহ অন্যান্য হস্তশিল্প পণ্যের দোকান পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে ২৪ দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনীতিক রেলে চড়ে কক্সবাজার যান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অ্যাম্বাসেডরস আউট রিচ’ প্রোগ্রামের আওতায় যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, কসোভো, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ভ্যাটিকান, ভুটান, স্পেন, আর্জেন্টিনা, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ফ্রান্সের মিশন প্রধানসহ এফএও, আইইউটি ও একেডিএন-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কূটনীতিকরা দুদিনের সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The names of two points of Coxs Bazar beach are changing

বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার সৈকতের দুই পয়েন্টের নাম

বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার সৈকতের দুই পয়েন্টের নাম সুগন্ধা পয়েন্টে সূর্যাস্তের দৃশ্য। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
সুগন্ধা পয়েন্টকে ‘বঙ্গবন্ধু বীচ’ এবং সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মাঝখানের খালি জায়গাটি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বীচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টকে ‘বঙ্গবন্ধু বীচ’ এবং সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মাঝখানের খালি জায়গাটি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বীচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সাহেব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযুদ্ধা সংসদ কমান্ডের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে একাদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৩তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা বীচকে ‘বঙ্গবন্ধু বীচ’ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সুগন্ধা বীচ ও কলাতলী বিচের মাঝখানের খালি জায়গা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বীচ’ নামকরণ করা হলো। একইসঙ্গে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়া হলো।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এখানে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের এটি বাস্তবায়নে আদেশ দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারগামী পর্যটকদের জন্য ‘বিশেষ ট্রেন’
সৈকতে ছিনতাই স্পটের ৫ ঝুপড়ি উচ্ছেদ
কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে মাঠে র‍্যাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Travel ban on Saint Martin from Saturday

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে শনিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে শনিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ফাইল ছবি
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে সেন্টমার্টিনে নৌ-রুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।’

মিয়ানমার সীমান্তে চলমান উত্তেজনার কারণে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে নৌ-রুটে ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ করা যাবে না।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেন।

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে সেন্টমার্টিনে নৌ-রুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।’

এর আগে সকালে বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এবং তৎসংলগ্ন বিওপি পরিদর্শনকালে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুল জামান সিদ্দিকী ওই রুটে ভ্রমণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন:
হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে আরও এক বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে
রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সুযোগ আর নয়: কাদের
সীমান্তে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বিজিবি: মহাপরিচালক
মিয়ানমার সীমান্তে যাচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক
তুমব্রু সীমান্তে আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Countries where Bangladeshis can visit without visa

বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন যেসব দেশে

বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন যেসব দেশে
হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী ভিসা ছাড়া, অন-অ্যারাইভাল এবং ইটিএ সব মিলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা মোট ৪২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবে। তবে পাসপোর্টের মেয়াদ ন্যূনপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে।

শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। সে হিসাবে চলতি ২০২৪ সালের শুরুতে গত বছরের তুলনায় অবস্থানটা এক ধাপ কমেছে। বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক-স্বীকৃত পাসপোর্ট রেটিং, হেনলি সূচকে বাংলাদেশের এমন অবস্থান জানানো হয়েছে।

মূলত আগাম ভিসা ছাড়াই পাসপোর্টধারীরা কতগুলো দেশে প্রবেশ করতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করে হেনলি সূচক প্রস্তুত করা হয়। ১০৫টি দেশে ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়।

বিদেশ ভ্রমণে ইচ্ছুক অধিকাংশ বাংলাদেশির ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা সংগ্রহ করাটা বড় ঝক্কির ব্যাপার। ভিসা পাওয়ার এই ধকল সামলাতে গিয়ে অনেকে মাঝপথেই দেশের বাইরে ভ্রমণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে এসব ঝামেলা নিমেষে উধাও হয়ে যায়, যখন সেই ভিসা করার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না।

উদ্ভূত অবস্থায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, তাহলে বাংলাদেশি পাসপোর্টে আগাম ভিসা ছাড়া দুনিয়ার কোন কোন দেশ ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা কোন দেশগুলোতে অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যেতে পারবেন।

ভিসা ছাড়াই যাওয়া যাবে যেসব দেশে

বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে আকর্ষণীয় কার্যনীতি হচ্ছে ভিসা-মুক্ত প্রবেশ। যেখানে বিদেশে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকের আগে থেকে কোনও রকম ভিসা-প্রাপ্তির প্রয়োজন পড়ে না। এই নিয়মে ভ্রমণরতদের ভিসা ফি দিয়ে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।

ঘুরে বেড়ানো বা ব্যবসা; যে কোনও উদ্দেশ্যেই এই সুবিধা নেয়া যায়। তবে এভাবে গন্তব্যের দেশটিতে অবস্থান করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, যা বিভিন্ন দেশের জন্য বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ২২টি দেশে ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন। এই দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশের ভেতরে থেকে ভিসাপ্রাপ্তির জন্য অগ্রিম আবেদন করতে হবে না। এমনকি বিমানবন্দর পেরিয়ে সেই দেশগুলোতে প্রবেশের সময়ও কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

এই অভিবাসন নীতিতে ভ্রমণকারীকে গন্তব্যের দেশে প্রবেশের ঠিক আগ মুহূর্তে ভিসা দেয়া হয়। এই ভিসা প্রদানের জায়গাটি হতে পারে সমুদ্র বন্দর, স্থল চেকপয়েন্ট অথবা বিমানবন্দর। এই প্রবেশাধিকার প্রাপ্তির জন্য তাদেরকে যাত্রা শুরুর আগে নিজেদের দেশে থাকা অবস্থায় কোনও আবেদন করতে হয় না।

অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া দেশগুলো হলো- বাহামাস, বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, কিরিবাতি, লেসোথো, মাদাগাস্কার, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নিউয়ে, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, গাম্বিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং ভানুয়াতু।

মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা এবং ভানুয়াতু গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা চালু রেখেছিল। আর ওশেনিয়া মহাদেশের দ্বীপ দেশ কিরিবাতি এ বছর এই তালিকায় নতুন সংযোজন।

এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ৬ মাস মেয়াদে ফ্রি ভিসায় থাকা যাবে বার্বাডোস, ডোমিনিকা, জ্যামাইকা এবং মন্টসেরাটে।

ফিজিতে ভ্রমণ করার জন্য বরাদ্দ রয়েছে সর্বোচ্চ ৪ মাস। ৯০ দিনের মেয়াদে অবস্থান করা যাবে কিরিবাতি, সেন্ট কিটস ও নেভিস এবং লেসোথোতে। আর বাহামা, গ্রেনাডা ও হাইতিতে অবস্থানের সময়সীমা তিন মাস।

এছাড়া কুক আইল্যান্ডসে ফ্রি ভিসার মেয়াদ ৩১ দিন; গাম্বিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, রুয়ান্ডা, ভানুয়াতু ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনসে ৩০ দিন; ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ৩০ থেকে ৯০ দিন এবং মাদাগাস্কারে সবচেয়ে কম মাত্র ১৫ দিন অবস্থান করা যাবে।

বিনা ফি-তে অনঅ্যারাইভাল ভিসা

কোনও কোনও দেশে প্রবেশের সময় অন-অ্যারাইভাল ভিসার জন্য ফি দিতে হয়। হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে ১৮টি দেশে বিনা ফিতে প্রবেশ করতে পারবে।

এই দেশগুলো হলো- বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ, কমোরো দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, নেপাল, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, তিমুর-লেস্তে, টোগো ও টুভালু।

এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় অর্থাৎ ৯০ দিন ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে গিনি-বিসাউ, নেপাল ও বলিভিয়ায়। সামোয়া ও সেশেলসে থাকা যাবে ৬০ দিন। কমোরো আইল্যান্ডসে অবস্থানের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ ৪৫ দিন। জিবুতি ও মৌরিতানিয়ায় থাকা যাবে ৩১ দিন।

এছাড়া মালদ্বীপ, কেপ ভার্দে, সোমালিয়া, মোজাম্বিক, সিয়েরা লিওন, তিমুর-লেস্তে এবং কম্বোডিয়া বেড়ানোর জন্য পাওয়া যাবে ৩০ দিন, যেখানে বুরুন্ডি এবং টুভালুর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে এক মাসের কথা। আর আফ্রিকার দেশ টোগোতে অবস্থানের জন্য পাওয়া যাবে মাত্র ১৫ দিন।

ইটিএ প্রয়োজন হবে যেসব দেশে

ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) মূলত ইলেক্ট্রনিকভাবে তথা অনলাইনে একজন ভ্রমণকারীর পাসপোর্টের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। এক কথায় এটিও একটি ভিসা ফ্রি প্রবেশাধিকার। ডিজিটাল অনুমতিটি দেশের ভেতরে থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে নিবন্ধন করার মাধ্যমে নিয়ে নেয়া যায়।

এমনকি এর জন্য আবেদনকারীকে সশরীরে নিজ দেশের অভিবাসন সেন্টারে উপস্থিত হওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। যে দেশে ইটিএ কার্যকর আছে সে দেশের অভিবাসন বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ইগয়ে সহজেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

চলতি বছরে দুটি দেশে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ইটিএ প্রয়োজন হবে- শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়া।

আগে শুধু শ্রীলঙ্কা থাকলেও এ বছরই ইটিএ সেবা নিয়ে নতুন সংযোজন হলো কেনিয়া। এখন থেকে এই ডিজিটাল ছাড়পত্রের মাধ্যমে সব বিদেশি নাগরিক ৯০ দিনের জন্য কেনিয়াতে প্রবেশ করতে পারবে।

আর শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এই অনুমতির সময়সীমা প্রাথমিকভাবে শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের তারিখ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত। এই সিঙ্গেল এন্ট্রির পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় ডাবল এন্ট্রির জন্যও ইটিএ রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকরা ইটিএ ইস্যু করার তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে দু’বার শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করতে পারবেন।

অনুমোদন একবার হয়ে যাওয়ার পর ভিসাপ্রাপ্ত ব্যক্তি শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের সময় যে কোনো চেকপয়েন্ট অনায়াসেই অতিক্রম করতে পারবেন।

হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী ভিসা ছাড়া, অন-অ্যারাইভাল এবং ইটিএ সব মিলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা মোট ৪২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবে। তবে পাসপোর্টের মেয়াদ ন্যূনপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। সূত্র: ইউএনবি

আরও পড়ুন:
পাসপোর্ট সূচকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গী বাংলাদেশ
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের, ৯৬তম বাংলাদেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh is North Koreas partner in passport index

পাসপোর্ট সূচকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গী বাংলাদেশ

পাসপোর্ট সূচকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গী বাংলাদেশ প্রতীকী ছবি
২০২৪ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৪২টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে গত বছরের তুলনায় এক ধাপ কমেছে বাংলাদেশের অবস্থান। বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক-স্বীকৃত পাসপোর্ট রেটিং, হেনলি সূচকে ২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ৯৭তম।

একই সূচক নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থান রয়েছে উত্তর কোরিয়া। তাদের অবস্থানও ৯৭তম।

মূলত আগাম ভিসা ছাড়াই পাসপোর্টধারীরা কতগুলো দেশে প্রবেশ করতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করে হেনলি সূচক প্রস্তুত করা হয়। এখানে ১০৫টি দেশে ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়।

২০২৪ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৪২টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ায় দেশ নেপালের অবস্থান ৯৮তম, পাকিস্তান রয়েছে ১০১-তে এবং আফগানিস্তান ১০৪-এ।

মালদ্বীপের অবস্থান বেশ উপরে। সূচকে তারা রয়েছে ৫৮তম স্থানে। ৯৪টি দেশে তাদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে দেশটির পাসপোর্টধারীদের, যা দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অধিকারী করেছে। এ ছাড়া সূচকে ভারত, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার পাসপোর্টের অবস্থান যথাক্রমে ৮০, ৮৭ এবং ৯৬তম।

এদিকে ২০২৪ সালে এসে ছয়টি দেশের নাগরিকরা ১৯৪টি দেশে ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এ দেশগুলো হচ্ছে- ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, সিঙ্গাপুর ও স্পেন।

অন্যদিকে তালিকার তলানির পাঁচটি দেশ হচ্ছে- ইয়েমেন, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান।

আরও পড়ুন:
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের, ৯৬তম বাংলাদেশ
৭ দিনে পাসপোর্ট পেতে নীতিমালা চেয়ে রিট
পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তির যে চিত্র তুলে ধরলেন আইনজীবী
পাসপোর্ট করতে গিয়ে হেনস্তা, বাদ যাননি ম্যাজিস্ট্রেটও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
5 tourists were robbed by the tourist police office

ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের পাশেই ছিনতাইকারীর কবলে ৫ পর্যটক

ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের পাশেই ছিনতাইকারীর কবলে ৫ পর্যটক কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্টে শুক্রবার সকালে সংঘটিত ছিনতাইয়ের চিত্র ধরা পড়ে ভিডিও ফুটেজে। ছবি: সংগৃহীত
ছিনতাইয়ের শিকার আসিফ বলেন, ‘সৈকতের লাবনী পয়েন্টে যাওয়ার পর ৫-৬ জন অস্ত্রধারী আমাদের ঘিরে ধরে সঙ্গে থাকা ৫টি মোবাইল ফোন ও টাকাপয়সা নিয়ে যায়। পরপরই ট্যুরিস্ট পুলিশকে জানালেও তারা আসে প্রায় এক ঘণ্টা পর। অথচ পাশেই তাদের অফিস! আর ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।’

কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের দুশ’ গজের মধ্যে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ব্যস্তসমস্ত শহরে একেবারে দিনের আলোয় পাঁচ পর্যটকের কাছে থাকা সবকিছু কেড়ে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা।

শুক্রবার সকালে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও রাত ১০টা পর্যন্ত কাউকে আটক বা চিহ্নিত করার তথ্য জানাতে পারেনি ট্যুরিস্ট পুলিশ।

ছিনতাইয়ের শিকার পর্যটকদের সবাই কুমিল্লা থেকে এসেছেন। তারা হলেন- আসিফ, সায়মন, সুমন, হৃদয় ও ইয়াছিন।

স্থানীয় হকার ব্যবসায়ী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাঁচ পর্যটক সকাল ৬টার দিকে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে আসেন। সেখানে ছাতা মার্কেট এলাকায় ছয়জনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র তাদের ঘিরে ধরে। ছিনতাইকারীদের হাতে ধারালো ছুরি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। তারা পাঁচজনের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন সেটসহ সঙ্গে থাকা সবকিছু লুটে নেয়।

ছিনতাইয়ের শিকার আসিফ বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে আজ (শুক্রবার) সকাল ৬টা ৫৪ মিনিটে কক্সবাজারে আসি। বাস থেকে নামার পর সৈকতের লাবনী পয়েন্টে যাই। সে সময় ৫-৬ জন অস্ত্রধারী আমাদের ঘিরে ধরে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন দাবি করে। না দেয়ায় আমাদের আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে আমাদের ৫টি ফোন ও টাকাপয়সা নিয়ে যায়।

‘ঘটনার পর পরই ট্যুরিস্ট পুলিশের নম্বরে কল করি। কিন্তু তারা আসে প্রায় এক ঘণ্টা পর। অথচ পাশেই ট্যুরিস্ট পুলিশের অফিস! আর ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।’

ছাতা মার্কেটের দোকানি মেহেদী হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানের সিসিটিভিতে বিষয়টি ধরা পড়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটেজ দিতে মানা করেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
তারা ছুটির দিনের ছিনতাইকারী
সাভারে যাত্রীবেশে ছিনতাইচক্রের প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৫
সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত
যাত্রী সেজে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইকালে চার নারী গ্রেপ্তার
ডিবি পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই, প্রবাসীসহ ৩ জন ছুরিকাহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sherpur is crowded with tourists during the peak season

ভরা মৌসুমে পর্যটকখরা শেরপুরে

ভরা মৌসুমে পর্যটকখরা শেরপুরে এবার ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকেও পর্যটকশূন্য গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ছবি: নিউজবাংলা
অবকাশের গেটের ইজারাদার রানা বলেন, ‘৬০ লাখ টাকায় গেট ইজারা নিছি। এ টাকা মনে হয় এবার লস যাবে।’

প্রতি বছর শীতের আগমনের সঙ্গে পর্যটকের আনাগোনাও বাড়তে থাকে শেরপুরের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশ ও মধুটিলা ইকোপার্কে, কিন্তু প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার এসব জায়গায় পর্যটকখরা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বছরের এ সময়ে দর্শনার্থীরা এসে থাকেন শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করতে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাণচাঞ্চল্য থাকে এসব জায়গায়।

ডিসেম্বরের শুরু থেকে সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় মানুষের ঢল নামে গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। আর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিড় জমায়, কিন্তু এ বছর ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকেও পর্যটকশূন্য গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

বিপাকে ব্যবসায়ীরা

দুটি পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন রাইড প্রায় দুই কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছন অন্তত ৩০ ব্যবসায়ী, যার পুরো টাকা উঠিয়ে লাভের মুখ দেখেন তারা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আসল টাকাই উঠবে না বলে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতের বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক ক্ষুদ্র‍ ব্যবসায়ী কাটাচ্ছেন অলস সময়; ভুগছেন হতাশায়।

অবকাশে কাপড় ব্যবসা করা রহমত বলেন, ‘পর্যটনে তো লোক নাই, বেচাবিক্রি নাই। ডিসেম্বর যাইতেছে। এই সময় ব্যবসার সময়, লাভবানের সময়।

‘আমরা অলসতার মধ্যে পড়ে গেছি। পর্যটকরা আসতাছে না। লোকজন একদমই কম।’

আরেক ব্যবসায়ী হারুন বলেন, ‘আমগোরে দিনই চলতাছে না। ধারদেনা কইরে মালটাল তুলছি। বেচাকেনাই নাই। আমরা কেমনে চলমু?’

ইজারাদার ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে। এই সময় স্পটে অনেক দর্শনার্থী আসে। হরতাল-অবরোধের কারণে দর্শনার্থী নাই বললেই চলে। তাই এবার আমরা ইজারার টাকা তুলতে পারব না।’

অবকাশের গেটের ইজারাদার রানা বলেন, ‘৬০ লাখ টাকায় গেট ইজারা নিছি। এ টাকা মনে হয় এবার লস যাবে।

‘হরতাল-অবরোধ কেটে গেলে আসল তুলতে পারতাম। হরতাল-অবরোধের কারণে লোকজন আসছে না।’

নিষ্প্রাণ পর্যটন কেন্দ্রগুলো

দর্শনার্থী না থাকায় প্রাণের উচ্ছ্বাস বিলীন হয়ে গেছে পর্যটন কেন্দ্রে। এ নিয়ে জামালপুর থেকে আসা দর্শনার্থী সাদিয়া বলেন, ‘গারো পাহাড়ের পাদদেশের এ গজনী অঞ্চলটা আসলেই খুবই সুন্দর, চমৎকার একটা পরিবেশ। দেখতে চমৎকার।

‘এর আগে আসছিলাম; অনেক লোকজন ছিল। এবার লোকজন নাই। এ জন্য একটু খারাপ লাগছে।’

শেরপুর শহর থেকে আসা জিহাদ বলেন, ‘আমি পাঁচ-ছয় বছর আগে আসছিলাম আরকি। তখন এইখানে অনেক লোকজন ছিল। তখন খুব ভালো লেগেছে, কিন্তু এ বছর এসেছি; লোকজন নাই। তাই ভালো লাগতাছে না। আসলে পিকনিকে অনেক লোকজন ছাড়া মজা লাগে না।’

জামালপুরের বকশীগঞ্জ থেকে আসা শিহাব বলেন, ‘এই জায়গাটা আসলেও খুবই সুন্দর। এই জায়গাটা আমার খুব ভালো লেগেছে, কিন্তু লোকজন না থাকায় আনন্দ কম হয়েছে।’

আশায় ব্যবসায়ীরা

পর্যটকখরার মধ্যেও আশায় বুক বেঁধে আছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের একজন গজনী পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘এ সময়ে অনেক পর্যটক আসার কথা, কিন্তু এবার হরতাল-অবরোধের কারণে এখনও পর্যটকের সাড়া পাচ্ছি না, তবে আমরা আশা করছি হয়তো জাতীয় নির্বাচনের পরে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে; দর্শনার্থীদের আগমনে জমজমাট হবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

‘এতে অনেকটা লোকসানের পরিমাণ কমে আসবে। আমরা চাই যেকোনো উপায়ে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হোক।’

আরও পড়ুন:
কমলগঞ্জে চা বাগান ঘেরা দৃষ্টিনন্দন ক্যামেলিয়া লেক
পিরের দরবার থেকে বাড়িতে ফেরা হলো না প্রভাষকের
চীনে পর্যটন খুলেছে সম্ভাবনার দুয়ার
শ্রীবরদীতে ইউপি চেয়ারম্যান, দুই ছেলের নামে জালিয়াতির মামলা
মৃত্যুর মিছিল থামছে না সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রে

মন্তব্য

p
উপরে