× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Watermelon at low price due to storm
hear-news
player
print-icon

দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা

দাম-কমেছে-তরমুজের-শঙ্কায়-চাষিরা- খুলনার দাকোপে তরমুজের দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমির তরমুজ সাধারণত এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তবে সম্প্রতি দাম অনেকটা কমে গেছে। ফলে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের খেজুরিয়া গ্রামের কৃষক উৎপল রপ্তান এবার চার বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। পেয়েছেন কাঙ্খিত ফলনও। তবে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

তরমুজ চাষিরা বলছেন, রমজান মাস শেষ হওয়ায় বাজারে তরমুজের চাহিদা কমে গেছে। এ ছাড়া ঈদের পরে রাজধানী ছেড়েছে লাখ লাখ মানুষ। এ কারণে ঢাকার আড়ৎদাররা এখন তরমুজ নিতে চাচ্ছেন না।

তাদের দাবি, এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আসানির ভয় দেখিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে তরমুজ কিনতে সিন্ডিকেট বেধেছেন স্থানীয় ফড়িয়া ও আড়ৎদাররা। এ কারণে উৎপাদিত ফলের দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে বসেছেন কৃষকরা।

দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা

কৃষক উৎপল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার আমার জমিতে বেশি তরমুজের ফলন হয়েছে। তবে একই পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ করে গত বছর যে দাম পেয়েছিলাম, এই বছর তার চার ভাগের এক ভাগ দামও পাচ্ছি না। এবার আমি চার বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম যার মধ্যে নিজের জমি দুই বিঘা, বাকি দুই বিঘা ১৩ হাজার টাকা দিয়ে লিজ নিয়েছিলাম।

‘এই চার বিঘা জমিতে চাষ, বীজ, সার ও কিটনাশক প্রয়োগ করতে আমার আরও প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়াও ৯০দিন আমার পরিবারে ৩ জন ব্যক্তি দিনরাত একাকার করে জমিতে পরিচর্যা করেছেন।’

তিনি জানান, সবমিলিয়ে তরমুজ চাষ করতে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে তার। ঈদের আগে ওই জমির উৎপাদিত তরমুজের দাম ফড়িয়ারা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলেছিলেন।

কৃষক উৎপল আরও বলেন, ‘তবে আমার জমিতে অনেক বেশি তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে। ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের প্রায় পাঁচ হাজার পিস তরমুজ আমার ক্ষেতে হয়েছে। যার দাম একেবারে সর্বনিম্ন হলেও ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা হওয়া উচিত। ভেবেছিলাম ইদের কিছুদিন পরে তরমুজ বিক্রি করব। তবে ঈদের আগে বর্ষা হওয়ায় তরমুজগুলি বেশ বড় হয়েছে। এখনি বিক্রি করার উপযুক্ত সময়।’

দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা

‘এমনি সময়ে ঝড়ের দোহাই দিয়ে ফড়িয়ারা আমার জমির তরমুজের দাম এখন এক লাখ টাকাও দিতে চাচ্ছেন না।’

তিনি জানান, দুই বিঘা জমির তরমুজ যা খরচ হয়েছে, তার অর্ধেক টাকাও তুলতে পারিনি। বাকি দুই বিঘা জমির তরমুজ এখনও ক্ষেতে থাকায় শঙ্কায় আছেন তিনি।

দাকোপের কৌলাসগঞ্জ ইউনিয়নের ধৌপাদি গ্রামের কৃষক কানাই মন্ডল বলেন, ‘আমি দুইটি ক্ষেতে তরমুজ চাষ করেছিলাম। একটি ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছি, তাতে শুধু খরচটা উঠেছে। বাকিটা এখনও বিক্রি করতে পারিনি। ’

কৃষক ললিত মন্ডল বলেন, ‘দুই বিঘা জমির তরমুজ কেটে যশোর নিয়ে আড়তে বিক্রি করেছি। সেখানে দাম পেয়েছি ৬০ হাজার টাকা, তবে পরিবহন খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া আমার চাষাবাদে খরচ হয়েছিল আরও ৫০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে আমার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।’

কৃষক সৈতাব গাইন বলেন, ‘রৌদে পুড়ে তরমুজ চাষ করেছি। খুব ভালো ফলনও পেয়েছি। কিন্তু এই তরমুজের যা দাম ফড়িয়ারা বলছেন তাতে খরচের টাকাও উঠছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লোনে টাকা নিয়ে তরমুজ চাষ করেছিলাম। এখন সেই টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো বুঝতে পারছি না।’

কৃষকদের অভিযোগে প্রেক্ষিতে কয়েকজন ফড়িয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক। শরিফুল ইসলাম নামের এক ফড়িয়া বলেন, ‘আগে কৃষকরা দাম পেয়েও তরমুজ বিক্রি করতে চাননি। এখন সবাই একসঙ্গে তরমুজ বিক্রি করতে চায়। ফলে দাম কিছুটা কমেছে।’

দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা

সরাফাত নামের আরেক ফড়িয়া বলেন, ‘ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে আড়ৎ পর্যন্ত নিতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি। তাই বেশি দামে ক্ষেত কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’

খুলনার বড়বাজারের আড়ৎদার জুলফিকার বলেন, ‘ঝড়ের আতঙ্কে এখন কৃষকরা সবাই একসঙ্গে তরমুজ বিক্রি করতে চাইছে। যে কারনে প্রতিদিন প্রচুর তরমুজ আসছে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে এখন পাইকারি ক্রেতারাও কম আসছে, এতে দাম অনেকটা কমে গেছে।’

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ১৩ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাকোপে ৭ হাজার ৬২৫ হেক্টরে। এ ছাড়া বটিয়াঘাটায় ৩ হাজার ৬০০, পাইকগাছায় ১ হাজার ৫১০, কয়রায় ৮৯৫, ডুমুরিয়ায় ৩৫০, রূপসায় ৫, তেরখাদায় ৩ ও ফুলতলা উপজেলায় ১ ও শহরে আরও ১ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

কৃষকদের দাবি এখনও খুলনা জেলার প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি হয়নি।

দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমির তরমুজ সাধারণত এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তবে সম্প্রতি সময়ে দাম অনেকটা কমে গেছে। ফলে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক অফিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। ঝড়টি বাংলাদেশের ওপর আঘাত হানবে এখনও এমন কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। এখন শুধু ওই ঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Complaint of eviction from Jhumbhoomi by fire

আগুন দিয়ে জুমভূমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ

আগুন দিয়ে জুমভূমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে জুমভূমি। ছবি: নিউজবাংলা
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৪০০ একরের অধিক জুমভূমি এবং ফলদ বাগান আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ। তিন সংগঠন ১৪ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।’

বান্দরবানের লামায় আগুন লাগিয়ে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জুমভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন পার্বত্য অঞ্চলকেন্দ্রিক একাধিক সংগঠন।

চট্টগ্রামস্থ সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ভুলন ভৌমিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৪০০ একরের অধিক জুমভূমি এবং ফলদ বাগান আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ।

‘চট্টগ্রামস্থ সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘হিল কালচারাল ফোরাম’ ও ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার’- এই তিন সংগঠন মিলে ১৪ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভুলন ভৌমিক বলেন, ‘পাহাড় পুড়িয়ে দেয়ায় ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৩৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে লাংকম পাড়ার ১২ পরিবারের ৭০ জন, জয়চন্দ্র পাড়ার ১৬ পরিবারের ৮৭ জন এবং রেঙয়েংপাড়ার ১১ পরিবারের ৬৮ জন রয়েছে৷ তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে এসব পাহাড়ে ভোগদখলীয় জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৩-৯৪ সালে লামার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি ও সরই মৌজায় মোট ৬৪ জনকে ২৫ একর করে মোট এক হাজার ৬০০ একর জায়গা রাবার চাষের জন্য ৪০ বছরের জন্য ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। এ সময় ইজারাদারদের ২৮টি শর্ত দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হচ্ছে, ইজারা চুক্তির ১০ বছরের মধ্যে বাবার বাগান সৃজন না করলে ইজারা বাতিল হয়ে যাবে।

‘কিন্তু ২৯ বছর পর এসে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৪০০ একর জুমভূমি ও ফলদ বাগান দখলের চেষ্টা করছে, যা আইনবহির্ভূত ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’

আগুন দিয়ে জুমভূমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরে পার্বত্য অঞ্চলকেন্দ্রিক একাধিক সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আগুনে লক্ষাধিক ফলদ ও বনজ চারা, ৭ একর ধানি জমি ও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বাঁশ বাগান পুড়ে গেছে। অথচ এসবই ওই এলাকার মানুষের জীবিকার মাধ্যম।

‘গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ১৭০ থেকে ২০০ জন রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে ৪০০ একর বনের গাছপালা কেটে পরিষ্কার করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে বন কাটায় বাধা দিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শ্রমিকদের দিয়ে ভয় দেখায়। গাছ-গাছালি কাটার পর ২৬ এপ্রিল জুমে আগুন দেয় তারা। এতে ৩৯টি পরিবার চরম খাদ্য সংকটে পড়ে।’

রাবার কোম্পানির লোকজনের ভয়ে তিন পাড়ার মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন ভুলন ভৌমিক।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ৭টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- ম্রো ও ত্রিপুরাদের জুম চাষের ৪০০ একর ভূমি অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে। আগুনে ক্ষতিগ্ৰস্ত ফলদ ও বনজ বাগান, ধানের খেত এবং শ্মশানভূমির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

এ ছাড়া ভূমি দখলদারদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা বিতরণসহ প্রয়োজনীয় কৃষি সহযোগিতা দিতে হবে, আতঙ্কিত পাড়াবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ম্রো ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক কামাল উদ্দিন এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই এলাকাটি ১৯৯৩ থেকে ৯৫ সালের মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে আমরা কয়েকজন মিলে ইজারা নিয়েছিলাম। পরে কাজের সুবিধার্থে সবাই মিলে একটি কোম্পানি করেছি। আমরা লিজ নেয়ার পর ওই পাহাড়ে রাবার বাগানও করেছিলাম। তবে ২০১৬ সালে সেই বাগান কারা যেন পুড়িয়ে দেয়।

‘এরপর আশপাশ ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ওরা এসে সেখানে ঘর করে। আমরাও বাধা দেইনি। ভেবেছিলাম আমাদেরও শ্রমিক দরকার, তাদের হয়তো কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু পরে দেখি তারা ওটা নিজেদের বলে দাবি করছে। ওরা যেসব অভিযোগ করছে সেসব মিথ্যা। তাদের ভয় দেখানো বা রোহিঙ্গা দিয়ে কাজ করানো, শিশুদের স্কুলে যেতে না দেয়া সব মিথ্যা। স্কুল তো তাদের পাড়াতেই, আমরা কেন স্কুলে যেতে দেব না?

‘ঘটনাটি অনেকেই তদন্ত করেছেন। এসিল্যাড রিপোর্ট দিয়েছেন, সব আমাদের পক্ষে। আমাদের ধারণা, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন বন্ধ করতে কোনো মহল তাদের দিয়ে এসব করাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
লেমিনেট করা পোস্টারে ছেয়ে গেছে বান্দরবান
'বন্দুকযুদ্ধে' রোহিঙ্গা মাদক কারবারি নিহত
চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণে প্রতিবাদ
চিম্বুকে হোটেল নির্মাণ বন্ধ চায় অ্যামনেস্টি
থানচির দুর্গম এলাকা থেকে গর্জন কাঠ জব্দ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Settlement of Rajshahi Chapai dispute over Fazli

ফজলি রাজশাহীরও, চাঁপাইয়েরও

ফজলি রাজশাহীরও, চাঁপাইয়েরও ফজলি আম। ছবি: সংগৃহীত
জিআই সনদের মাধ্যমে কোনো পণ্যের উৎপত্তির স্থান নির্ধারণ করা হয়। এই হিসেবে ফজলি আমকে সম্প্রতি রাজশাহীর জিআই সনদ দিলে আপত্তি জানায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। অবশেষে এক রায়ের মাধ্যমে ফজলির জিআই সনদ নিয়ে দুই জেলার বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে।

ফজলি আম নিয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের লড়াই আপতত শেষ। সুস্বাদু এই আমের জিআই সনদ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই স্নায়ুযুদ্ধ চলেছে জেলা দুটির মধ্যে।

মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে- ফজলি আম শুধু রাজশাহীর একার নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জেরও এর ওপর অধিকার রয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমের এই জাতটিকে এখন থেকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি হিসেবেই পরিচিত হবে।

তবে কীসের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি রোববার প্রকাশ করবে সংস্থাটি।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে ফজলি আমকে রাজশাহীর ফজলি নামে জিআই সনদ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর। পরে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আপত্তিপত্র জমা দেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশন। সেই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে শুনানি।

এদিকে একটি পণ্যের জিআই সনদ দুই এলাকাকে দেয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল বিজ্ঞানী। তার মতে, জিআই সনদের মূল বিষয়টা হলো ভৌগোলিক নির্দেশক। অর্থাৎ পণ্যটির উৎপত্তির স্থান বা শেকড় কোথায় তা বের করেই জিআই সনদ দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘একই পণ্য দুই জায়গার হয় কেমন করে?’

শুনানিতে অংশ নেয়া ফল গবেষণা কেন্দ্র রাজশাহীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, ‘কীসের ভিত্তিতে এ রায় দেয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আমরা রোববার পাব।’

নতুন সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নতুন করে জার্নাল প্রকাশ পাবে। তখন এটি নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে জানাতে পারবেন। আগে যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আপত্তি জানিয়েছিল। আমরাও এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেব।’

এর আগে রাজশাহীর নামে ফজলি আমের জিআই সনদ দেয়া নিয়ে আপত্তি জানানো চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, সবার সঙ্গে কথা বলে বুধবার আমাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়েই আমরা রাজশাহীর নামে ফজলির জিআই সনদ দেয়ার বিরোধিতা করেছিলাম।’

এদিকে নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, ‘নতুন সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এককভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ফজলির জিআই সনদ দিলে বেশি খুশি হতাম।’

উল্লেখ্য এর আগে ২০১৭ সালে ক্ষীরসাপাত আমেরও জিআই সনদ পেয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আমুর
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বলেই বিচারহীনতা দূর হয়েছে: আমু
মেহেরপুরে আম পাড়া শুরু ২৫ মে
৪০ কেজিতে আমের মণ নির্ধারণে সভা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The wages of the workers have gone up due to the rains

বৃষ্টিতে ধান পানির নিচে, বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি

বৃষ্টিতে ধান পানির নিচে, বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টিতে পাকা ধান তলিয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া কৃষি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আব্দুর সবুর মিয়া বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পূবালী বায়ু চাপের কারণে গত কয়েক বছরের তুলনায় এপ্রিল ও মে মাসে সর্বাধিক ৯৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে।’

কুড়িগ্রামে এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের শত শত একর বোরো ধানসহ সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকট। তাই পাকা ধান নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকের।

জেলায় কৃষিতে ৪১২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় জেলা কৃষি বিভাগ।

যে কারণে শ্রমিকের সংকট

প্রতি বছর মৌসুমের ধান কাটার জন্য কুড়িগ্রামের শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যান। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে একসঙ্গে সবাই ধান কাটায় ব্যস্ত। এ কারণে শ্রমিক সংকট আরও বেশি।

অনেক চাষি তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিজেরাই ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু পুরুষ শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদের মজুরি বেশি। তাই অনেকেই নারী শ্রমিক দিয়েও ধান মাড়াই করছেন।

বৃষ্টিতে ধান পানির নিচে, বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি

ধান কাটতে পুরুষ শ্রমিকরা নিচ্ছেন বিঘাপ্রতি দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। আর নারী শ্রমিকরা প্রতি এক হাজার ধানের আঁটি মাড়াই করতে নিচ্ছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

কী বলছেন চাষিরা

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন জেলার কৃষকরা। অতিমাত্রায় বৃষ্টির কারণে লোকসানের পাল্লাটা আরও ভারী হচ্ছে বোরো চাষিদের।

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সুভার কুটি গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে নিজেরাই ধান কেটে নারী শ্রমিক দিয়ে আঁটি ডাঙ্গায় নিতে হচ্ছে। এতে খরচও বেশি হচ্ছে।

বৃষ্টিতে ধান পানির নিচে, বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি

পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুল বাজারের পানাতিপাড়া গ্রামের চাষি শ্রী অমিদাস বলেন, ‘প্রায় ৫৫ হাজার টাকার একটি গরু বিক্রি করে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করছি। কিন্তু অকাল বৃষ্টিতে এক বিঘার ওপর ধান তলায় গেছে। শ্রমিক সংকটের ওপর যে দুই-একজন শ্রমিক পাওয়া যায়, তাদের মজুরিও বেশি। তাই সন্তানরা নিজেরাই ধান কাটছে।’

বৃষ্টিতে ধান পানির নিচে, বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি

একই এলাকার ছড়ার পাড় গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার এক বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আধাপাকা ধান কাটছি। প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন এই ফসলের ১৬ আনার মধ্যে ৪ আনা পাওয়া যাবে। এতে আবাদের খরচ উঠবে না। এক বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিক নেয় ২০০০ হাজার থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত। এবার আবাদের পুরোটাই লস।’

শ্রমিকসংকটের কথা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তরের শ্রমিকরা চলে গেছে। এত বোরো মৌসুমে শ্রমিকসংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা।’

যা বলছে কৃষি বিভাগ

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৫ হাজার ৫৫৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ১২০ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে হাইব্রিড-৫৩ হাজার হেক্টর, উপশি-৬১ হাজার ৮৯০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাত- এক হাজার ২৩০ হেক্টর।

বৃষ্টিতে ধান পানির নিচে, বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি

চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৩ টন। এর মধ্যে হাইব্রিড দুই লাখ ৬৫ হাজার টন, উপশি দুই লাখ ৫০ হাজার ৬৫৪ টন এবং স্থানীয় জাতে দুই হাজার ১৮৯ টন চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।

গত দুই মাসের বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষিতে ৪১২ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে বোরো ধান ২৬৫ হেক্টর, পাট ৯৫ হেক্টর, শাকসবজি ১২ হেক্টর, তিল ১০ হেক্টরসহ অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি টাকার অঙ্কে কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রশীদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৮৩ ভাগ বোরো ধান কাটা হয়েছে। রোদ না থাকায় কৃষকদের একটু সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’

বৃষ্টিতে ধান পানির নিচে, বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া কৃষি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আব্দুর সবুর মিয়া বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পূবালী বায়ু চাপের কারণে গত কয়েক বছরের তুলনায় এপ্রিল ও মে মাসে সর্বাধিক ৯৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে।

‘চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৭২ মিলিমিটার। এ ছাড়া ২৩ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫১৮ মিলিমিটার।’

আরও পড়ুন:
বোরোর মৌসুমে ধান সংগ্রহ শুরু
পঞ্চগড়ে বোরোতে ব্লাস্ট, কৃষকের মাথায় হাত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Litchi farmers grown in Meherpur

মেহেরপুরে ব‍্যস্ত লিচু চাষিরা

মেহেরপুরে ব‍্যস্ত লিচু চাষিরা মৌসুমের শুরুতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন মেহেরপুরের লিচু চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা
মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সামসুল হক বলেন, ‘প্রাকৃতিক কারণেই এ অঞ্চলের লিচু দেশের অন্য জেলার তুলনায় আগে পাকে। এ বছর জেলায় লিচুর ফলনও ভালো। তাই মৌসুমের শুরুতে সারা দেশে মেহেরপুরের লিচুই বাজারে বেশি পাওয়া যায়।’

প্রাকৃতিক কারণে দেশের অন্য জেলার তুলনায় কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে লিচু আগেভাগেই পেকে যায়। ফলনও হয় ভালো। একই সঙ্গে দামও ভালো পাওয়ায় প্রতি বছরই ব্যাপকহারে লিচু চাষে ঝুঁকছেন এ জেলার চাষিরা।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রায় প্রতিটি লিচুগাছেই ঝুলতে দেখা গেছে পাকা পাকা লিচু। সেই লিচুগাছ থেকে পেরে বিক্রিতে ব‍্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

মেহেরপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। এ বছর লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫০ টন। এর বতর্মান বাজারমূল্য ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকা।

মেহেরপুরে ব‍্যস্ত লিচু চাষিরা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেহেরপুরে আগে লিচু ওঠা, খেতে মিষ্টি ও তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার লিচু ব‍্যবসায়ীরা ভিড় করেন এখানকার বাগানগুলোতে।

জেলায় বেশ কয়েকটি জাতের লিচু চাষ হয়ে থাকে। যার মধ‍্যে মোজাফফর, বোম্বাই ও চায়না থ্রি জাতের লিচুর চাষ বেশি করা হয়।
মেহেরপুরের উৎপাদিত লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৭০ ভাগই ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। আগে পাকার কারণে এ জেলার লিচুর চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।

তাই জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতেই লিচুগাছ থেকে ভাঙতে, ক‍্যারেট সাজাতে, বাগান পাহারাসহ বিক্রির জন‍্য প্রস্তুত করতে ব‍্যস্ত সময় পার করেন শ্রমিক ও বাগান মালিকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের লিচু ব‍্যবসায়ী করীম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর ধরে মেহেরপুরে লিচু কিনতে আসি। এখানকার লিচু আগেই পাকার কারণে আগে থেকেই বাগান কিনে রাখি। সেই লিচু ভেঙে ঢাকায় বিক্রি করে লাভ ভালোই হয়।’

মেহেরপুরে ব‍্যস্ত লিচু চাষিরা

মেহেরপুর সদর উপজেলার লিচু চাষি শাহজাহান আলী জানান, তার প্রায় ৪০টি লিচুর বাগান আছে। এর মধ্যে কয়েকটি বাগানে শতাধিক গাছ আছে। লিচু ভাঙার সময় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন করে শ্রমিক লাগে। জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয় তাদের।

লিচু বাছাই করতে আসা শ্রমিক শামীম বলেন, ‘আমরা পাঁচ বন্ধু লিচু বাছাইয়ের কাজে এসেছি। সকালে আসি বিকেলে বাড়ি যাই। লিচু বাছা তেমন ভারী কাজ না হলেও মজুরি ভালো পাওয়া যায় এ কাজে।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সামসুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক কারণেই এ অঞ্চলের লিচু দেশের অন্য জেলার তুলনায় আগে পাকে। এ বছর জেলায় লিচুর ফলনও ভালো। তাই মৌসুমের শুরুতে সারা দেশে মেহেরপুরের লিচুই বাজারে বেশি পাওয়া যায়।’

আরও পড়ুন:
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
52000 tons of wheat came from India

ভারত থেকে এলো সাড়ে ৫২ হাজার টন গম

ভারত থেকে এলো সাড়ে ৫২ হাজার টন গম ভারত থেকে এসেছে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম। ফাইল ছবি: এএফপি
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের বলেন, ‘এই মাসে গম নিয়ে আরও দুটো জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৬ মে একই পরিমাণ গম নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে।’

গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ভারত থেকে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে এমভি স্টার নামে জাহাজ।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে শনিবার এসে ভিড়েছে জাহাজটি।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য এবং চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবদুল কাদের।

এর আগে গত ১৪ মে অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত সংস্থা ডিজিএফটি এ ঘোষণা দেয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ ঘোষণার আগে লেটার অফ ক্রেডিট (এলওসি) ইস্যু হয়েছে এমন সব রপ্তানি চালান সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো যাবে। এর বাইরে কোনো দেশের অনুরোধে গম রপ্তানি করা যাবে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছে দেশটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের ঢাকা দূতাবাস জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারত থেকে গম রপ্তানিতে দেয়া নয়াদিল্লির নিষেধাজ্ঞা প্রতিবেশীদের জন্য নয়।

এই চালান আসায় দেশের অস্থির গমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি নেমেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের বলেন, ‘সোমবার থেকে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে এসব গম পতেঙ্গায় সাইলো জেটিতে খালাস করা শুরু হবে। ইতোমধ্যে গমের মান যাচাইসহ নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর এসব গম দেশের বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদামে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

‘এই মাসে গম নিয়ে আরও দুটো জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৬ মে একই পরিমাণ গম নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে।’

সরকারি ব্যবস্থাপনায় গম আসায় বাজারে এর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে মণপ্রতি গম বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে গমের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

চট্টগ্রামের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ‘সরকারিভাবে আমদানি করা গমভর্তি জাহাজ আসার খবরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের উচিত আমাদের মতো যেসব প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে গম আনার বিষয়ে চুক্তি করেছে তা দেশে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো। তাহলেই গমের বাজার স্থিতিশীল থাকবে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে গত ১ জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টন গম দেশে এসেছে।

আরও পড়ুন:
ভারতের গম রপ্তানি বন্ধে দেশে প্রভাব পড়বে
ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি: খাদ্যমন্ত্রী
মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ভারতের
জুনে পশ্চিমবঙ্গে ভোজ্যতেলের দাম কমবে, আশা ব্যবসায়ীদের
ঘোষণা ছাড়া তিনবিঘা করিডর হঠাৎ বন্ধে দুর্ভোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farmers are in dire straits with the increase of water due to rain hill slope

বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি, ধান নিয়ে বিপাকে চাষি

বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি, ধান নিয়ে বিপাকে চাষি
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জানান, ‘আমাদের হিসাবে এ পর্যন্ত ৫০০ একর বোরো জমি নিমজ্জিত হয়েছে। তবে এসব জমির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে।’ তবে কৃষকরা দাবি করেছেন, নিমজ্জিত জমির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। তা ছাড়া কিছু কিছু এলাকার ৫০ ভাগ ধান এখনও কাটা হয়নি।

কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ফসল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে বহু পুকুরের মাছ। দেখা দিয়েছে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ, মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাউবোর বেলা ৩টার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কলমাকান্দা পয়েন্টে উব্দাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বৃদ্ধি পাওয়া পানি নদী ও খাল-বিল দিয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকছে ফসলি হাওরগুলোতে। রোববার বিকেল নাগাদ উপজেলার মেদির বিল, সোনাডুবি, মহিষাসুরা, চানপুর, খাসপাড়া ও নাগডড়া হাওরের বিস্তীর্ণ জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জানান, ‘আমাদের হিসাবে এ পর্যন্ত ৫০০ একর বোরো জমি নিমজ্জিত হয়েছে। তবে এসব জমির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে।’

তবে কৃষকরা দাবি করেছেন, নিমজ্জিত হওয়া জমির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। তা ছাড়া কিছু কিছু এলাকার ৫০ ভাগ ধান এখনও কাটা হয়নি।

কৃষিবিদ ফারুক আহমেদ বলেন, ‘পানি ও বৃষ্টির কারণে কোনো কোনো কৃষকের ধানের রং নষ্ট হয়ে গেছে। এটির দাম কম পাওয়ার কারণ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য উপজেলায় পর্যাপ্ত কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন রয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি ও রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় মেশিনগুলো আনা-নেয়া করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ধানকাটা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।’

বিশরপাশা গ্রামের কৃষক তপন সাহা বলেন, ‘আমার দুই একর ধানক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছি না। যেটুকু কেটেছি তা-ও শুকাতে পারছি না রোদের অভাবে।’

এই কৃষক আরও বলেন, ‘একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ জমি নিমজ্জিত হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।’

অনেক এলাকায় কৃষক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও ধান কাটতে দেখা গেছে।

আবুল কালাম নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘অনেক কষ্টে ৫৬ শতক জমির ধান কেটে বাড়িতে এনেছি। বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় কিছু ধানে চারা গজিয়ে গেছে।’

অনেকের হাওরে থাকা ধানের খড়ের পুঞ্জিও তলিয়ে গেছে, যা গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের কারণ হবে, জানিয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ৮টি ইউনিয়নের ১৬৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির কর মওকুফ হচ্ছে
অর্থনীতি নিয়ে জরুরি বৈঠকের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
কক্সবাজারে যেখানে-সেখানে স্থাপনা নয়: প্রধানমন্ত্রী
পুনর্ভবায় পানি বৃদ্ধি, ভেসে গেছে কেটে রাখা ধান
বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What are we eating in the name of premium tea?

‘প্রিমিয়াম টি’র নামে কী খাচ্ছি

‘প্রিমিয়াম টি’র নামে কী খাচ্ছি প্রতীকী ছবি
চা বিজ্ঞানী ডা. মাঈনউদ্দিন জানান, ‘কিছু ভালো চা পাতাকে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির চা পাতা বলা হয়। এর আলাদা কোনো জাত নেই। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত ২১টি চা গাছের ভ্যারাইটি বের করা হয়েছে, যেগুলো বিটি-১ (বাংলাদেশ টি), বিটি-২ এমন বিভিন্ন নামে আছে।’

বাজারে ‘প্রিমিয়াম টি’ নামে চা পাওয়া যায়। ক্যানসার প্রতিরোধক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ওজন হ্রাস, হার্ট ভালো রাখে, হজমশক্তি বাড়ায়, মানসিক চাপ কমায়— এমন নানা উপকারিতা তুলে ধরে বিক্রি হয় এই চা। ফলে ভোক্তাদের কাছে এই চায়ের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

কী কারণে প্রিমিয়াম টি বলা হচ্ছে, এর বৈশিষ্ট্য কী— এসব জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।

শ্রীমঙ্গলের একজন খুচরা চা বিক্রেতা রাজু ঘোষ বলেন, ‘প্রিমিয়াম টি ভালো চা পাতা, তবে এটা আলাদা কোনো জাত নয়। সাধারণত চায়ের ভালো যে জাত রয়েছে, যেমন বিটি-২, কর্ণফুলী, কোদালি এগুলার মিশ্রণে যে চা বিক্রি করা হচ্ছে তাই প্রিমিয়াম টি নামে পরিচিত। এই চায়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে অনেক। বিশেষ করে বিত্তবানদের কাছে এই চায়ের কদর বেশি।

‘কোনো একটি চায়ের স্বাদ ভালো, কোনোটিতে রং ও কোনোটির গন্ধ ভালো। এই তিনটি চা পাতা যখন একসঙ্গে মিক্স করবেন, তখন গ্রাহক স্বাদ, গন্ধ ও রং সবই পাচ্ছেন। এটিকে প্রিমিয়াম বলে বিক্রি করা হয়।’

পদ্মা টি সাপ্লাইয়ের পরিচালক মেঘনাদ হাজরা বলেন, ‘প্রিমিয়ামটি আলাদা কোনো জাত নয়। তবে ভালো পাতাকে প্রিমিয়াম টি বলা হয়। চা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা চায়ের গাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের উন্নত গাছ তৈরি করেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিটি-২। এই চায়ের গন্ধ ও স্বাদ দুটোই ভালো।

‘সাধারণত এটিকেও প্রিমিয়াম টি বলা হয়। সেই সঙ্গে ভালো যেকোনো চা পাতাকে প্রিমিয়াম টি বলা হয়। বিটি-২ আড়াই পাতা (দুটি পাতা, একটি কুড়ি) থেকেই হয়। তবে এতে শুধু ব্ল্যাক টি না, গ্রিন টি বা ওয়াইট টিকেও প্রিমিয়াম বলা হয় যদি কোয়ালিটি ভালো হয়।’

মেঘনাদ হাজরা আরও বলেন, ‘আমি পাইকারি এবং খুচরা বিক্রি করি। এই চাপাতাগুলো যেহেতু কম উৎপন্ন হয়, তাই দাম ধরেও নির্দিষ্ট কোনো হিসাব থাকে না। দেখা গেল পাতা আছে এক লাখ কেজি, কিন্তু নিলামে ক্রেতা কম, ফলে স্বাভাবিকভাবে দাম কমবে আবার চাহিদা বেশি থাকলে বাড়বে।

‘কিছু বাগান আছে, যারা আবহাওয়া এবং সময়ের ওপর নির্ভর করে চা গাছে আলাদা চর্চা করে, ফলে তার চা পাতা স্বাদে ও গন্ধে ভালো হয়।’

পাথখোলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক সামশুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘প্রিমিয়াম টি বলতে কোনো জাত নেই। যেকোনো ভালো জিনিসকেই আমরা প্রিমিয়াম টি বলি।’

সম্প্রতি মিডিয়ায় কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে জানিয়ে আরেক চা বাগানের ব্যবস্থাপক বলেন, ‘প্রিমিয়াম টি বলতে কিছু নেই। বাজারে যা প্রিমিয়াম বলা হচ্ছে, তা ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রয়োজনে এবং স্বার্থে প্রিমিয়াম টি বলছে। চায়ের অনেক জাত রয়েছে, এখানে কোনটিকে প্রিমিয়াম বলা যাবে, কোনটিকে বলা যাবে না তার মানদণ্ড নেই।

‘যে যার সুবিধামতো প্রিমিয়াম টি নাম দিয়ে যাচ্ছে। যদি কোনো ভোক্তা প্রিমিয়াম টি কে আলাদা টি মনে করে কেনেন, তবে তিনি প্রতারিত হচ্ছেন।’

বাংলাদেশ চা সংসদ সিলেট ভ্যালির চেয়ারম্যান জি এম শিবলিও একই তথ্য দেন। তিনি জানান, প্রিমিয়াম টি নামে আলাদা কোনো জাত নেই। যারা বাজারে বিক্রি করে তারা নিজেরা ব্র্যান্ডিং করছে এই নামে। বিটি-২, বিটি-৩ বা বিটি-১ এ রকম চায়ের অনেক জাত রয়েছে। তার মধ্যে একেকজনের কাছে একেকটা ভালো লাগে।’

চা বিজ্ঞানী ডা. মাঈনউদ্দিন জানান, ‘কিছু ভালো চা পাতাকে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির চা পাতা বলা হয়। এর আলাদা কোনো জাত নেই। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত ২১টি চা গাছের ভ্যারাইটি বের করা হয়েছে, যেগুলো বিটি-১ (বাংলাদেশ টি), বিটি-২ এমন বিভিন্ন নামে আছে।’

মন্তব্য

p
উপরে