× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Railways are no longer an illegal facility notification
hear-news
player

রেলে আর ‘অবৈধ সুবিধা’ নয়

রেলে-আর-অবৈধ-সুবিধা-নয়
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের অগোচরে তাদের রেফারেন্সে আত্মীয়-পরিবারের সদস্য বা বন্ধু অথবা স্বাক্ষ্যপরিচিতি উল্লেখ করে বিভিন্ন রেল স্টেশনে টিকিট দাবিসহ ট্রেনে উঠে বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং আত্মীয় স্বজনদের পরিচয় বা রেফারেন্সে কোনো প্রকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করতে নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

রোববার রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্ম-সচিব) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনা জারি করা হয়।

সম্প্রতি রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের আত্মীয় দাবি করা তিন ব্যক্তি ট্রেনের এসি কামরায় বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছিলেন, তখন টিটিই তাদের কাছে টিকিট না পেয়ে জরিমানা করেন। তারা মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেয়ার পরও জরিমানা করায় পরের দিনই জরিমানা করা ওই টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে রেলমন্ত্রী ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন। প্রথমে তিনি জরিমানা করা ওই তিন ব্যাক্তিকে চেনেন না বলে জানান। পরে অবশ্য আত্মীয় হিসেবে স্বীকার করলেও রেলমন্ত্রী দাবি করেন, তিনি তাদের বরখাস্তের আদেশ দেননি বলে জানান।

এমন অবস্থায় নতুন জারি করা নিদর্শনায় বলা হয়, সম্প্রতি আবারও পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের অগোচরে তাদের রেফারেন্সে আত্মীয়-পরিবারের সদস্য বা বন্ধু অথবা স্বাক্ষ্যপরিচিতি উল্লেখ করে বিভিন্ন রেল স্টেশনে টিকিট দাবিসহ ট্রেনে উঠে বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন।

আরও বলা হয়, অনেকেই মন্ত্রী মহোদয়ের একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের কাছে আত্মীয় পরিচয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকদের কাছ হতে বিভিন্ন প্রকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধার জন্য মোবাইল ফোনে যোগযোগ করছেন মর্মে অবগত হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করা হলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করার পাশাপাশি মোবাইল নম্বরগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠিয়ে তাদের সঠিক পরিচয় জানার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভ্রান্ত না হতে এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো কর্মকাণ্ড না করার নির্দেশ দেয়া হয় ওই প্রজ্ঞাপনে।

এর আগেও রেলে এমন সব সুবিধা বন্ধ করতে চিঠি দেয়া হয়েছিল বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
লাইনচ্যুতের ৬ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম: টিটিই শফিক
মন্ত্রীর স্ত্রীর কথায় টিটিইকে বহিষ্কার সমীচীন নয়: তথ্যমন্ত্রী
ওর এখনও অনেক বোঝার বাকি: স্ত্রীকে নিয়ে রেলমন্ত্রী
রেলমন্ত্রীর খড়্‌গ এবার ডিসিও নাসিরের ওপর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Peoples Commission has no legal basis Home Minister

গণকমিশনের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণকমিশনের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার দুপুরে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ২৭তম বার্ষিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী বলেন, ‘গণকমিশনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। তারা একটি বই প্রকাশ করেছে ২ হাজার দিন সন্ত্রাস নামে। বইয়ের ভেতরে কী লিখেছে, তা আমি জানি না। এগুলো আমাদের দেখতে হবে।’

দেশের এক হাজার মাদ্রাসা ও শতাধিক ইসলামি বক্তার বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের’ দুর্নীতির তদন্তের আহ্বান জানানো গণকমিশনের আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার দুপুরে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ২৭তম বার্ষিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘গণকমিশনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। তারা একটি বই প্রকাশ করেছে ২ হাজার দিন সন্ত্রাস নামে। বইয়ের ভেতরে কী লিখেছে, তা আমি জানি না। এগুলো আমাদের দেখতে হবে।

‘তারা কাদের নামে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির দায় দিয়েছেন এগুলো আমরা কেউই কোনো তদন্ত করিনি। সুতরাং এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। তারা দিয়েছেন। আমরা না দেখে বলতে পারব না। দেখে বলতে হবে।’

গণকমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে হেফাজত আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা আন্দোলনে নামলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইন কেউ হাতে নিলে আমাদের যা করণীয়, সেটাই করব। এটা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি।

‘আমরা একটি কথা জোর দিয়ে বলতে চাই, যে অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই, সে অভিযোগ আমরা আমলে নিই না।’

প্রেক্ষাপট

গত ১১ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লার কাছে শ্বেতপত্র ও সন্দেহভাজন শতাধিক ব্যক্তির তালিকা হস্তান্তর করে ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’।

কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সদস্যসচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল এ তালিকা হস্তান্তর করে।

গণকমিশনের তালিকায় সন্দেহভাজন হিসেবে ১১৬ জনের নাম রয়েছে। শ্বেতপত্র ও তালিকাটি একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও দেয়া হয়েছে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘুবিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠন করা হয় গণকমিশন।

এর আগে ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন’ শীর্ষক শ্বেতপত্রটির মোড়ক উন্মোচন করা হয় ১২ মার্চ।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের নেতৃত্বে থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হরতালে ভাঙচুর হলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কারও হুংকারে দেশ স্বাধীন হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৬ মার্চ সকালে আমিনবাজার সড়কে সাধারণ যানবাহন বন্ধ
খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Gaffar Chowdhurys body is coming to the country on Monday

গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ দেশে আসছে সোমবার

গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ দেশে আসছে সোমবার বরেণ্য লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। ফাইল ছবি
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘শুক্রবার বাদ জুমা লন্ডনের উকলেন্ড মসজিদে গাফ্‌ফার চৌধুরীর জানাজা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে শহীদ আলতাব আলী পার্ক শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাফ্‌ফার চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে তার স্ত্রীর কবরের পাশে শায়িত করা হবে।’

বরেণ্য লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ সোমবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আনা হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিমের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি

একুশের গানের রচয়িতা বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানানো হয়েছে জানিয়ে সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘তার মরদেহ বারনেট হাসপাতালে রাখা হয়েছে, যেখানে বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

‘যুক্তরাজ্য থেকে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে আগামী সপ্তাহে তার মরদেহ ঢাকায় পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার বাদ জুমা লন্ডনের উকলেন্ড মসজিদে তার জানাজা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে শহীদ আলতাব আলী পার্ক শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

হাইকমিশনার বলেন, গাফ্‌ফার চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে তার স্ত্রীর কবরের পাশে শায়িত করা হবে।

লন্ডনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী মারা যান। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী শোক জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা এবং বিশিষ্টজনও শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক জয় বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। বরিশালের উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে তার জন্ম ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী উলানিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে।

১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে বিএ অনার্স পাস করেন।

বরিশাল শহরে কিছুদিন মার্কসবাদী দল আরএসপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। ছাত্রজীবনেই তার সাহিত্যচর্চা শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে ‘সওগাত’ পত্রিকায় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর প্রথম গল্প ছাপা হয়।

১৯৫০ সালে গাফ্‌ফার চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু হয়। এর পর থেকে তিনি ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে ‘সংবাদ’, ‘সওগাত’, ‘মেঘনা’, ‘চাবুক’, ‘আজাদ’, ‘জনপদ’, ‘বাংলার ডাক’, ‘সাপ্তাহিক জাগরণ’, ‘নতুন দেশ’, ‘পূর্বদেশ’সহ অনেক পত্রিকায় কাজ করেন।

বাংলাদেশ ছেড়ে প্রবাসে বসেও গাফ্‌ফার চৌধুরী বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকাগুলোয় নিয়মিত লিখেছেন। তার লেখা বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘নাম না জানা ভোর’, ‘নীল যমুনা’, ‘শেষ রজনীর চাঁদ’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’ ও ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’।

বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, ইউনেসকো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, সংহতি আজীবন সম্মাননা পদক, স্বাধীনতা পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Raghabboyal Kara behind PK

পি কের পেছনের রাঘববোয়াল কারা

পি কের পেছনের রাঘববোয়াল কারা পি কে হালদার। কার্টুন: মামুন হোসাইন
পি কে হালদারের জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের এই অপকর্মের নেপথ্যের কুশীলব রাঘববোয়ালদের এখনো সামনে আনেনি দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা। বলা হচ্ছে, পি কের এই জালিয়াতির সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬২ জনকে শনাক্ত করেছে দুদক।

ভারতে আটক হওয়ার পর প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) নাম নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে। একই সঙ্গে জোরেশোরে প্রশ্ন উঠেছে, জালিয়াতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের হোতা পি কে হালদারের পেছনে কারা। বলা হচ্ছে, পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে তার পেছনের রাঘববোয়ালদের সন্ধান মিলবে।

২০১৯ সাল থেকে পি কে হালদারের অর্থ কেলেঙ্কারি অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকা এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুরুতেই এই তদন্ত থামানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এস কে সুর ও নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম।’

অন্যদিকে পি কে হালদার-সংশ্লিষ্ট তদন্তে আটক প্রায় সবাই আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম বলেন। অনেকেই এদেরকে পি কে হালদারের গডফাদার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আটক রাশেদুল হক জবানবন্দিতে বলেন, ‘পি কে হালদারের নির্দেশেই তিনি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন। অর্থ লোপাটের তথ্য ধামাচাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক এক ডেপুটি গভর্নরকে দুই লাখ টাকা করে মাসোহারা দিতেন পি কে।’

পি কের পেছনের রাঘববোয়াল কারা

পি কে হালদার-সংশ্লিষ্ট তদন্তে আটক প্রায় সবাই আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে পি কে হালদারের গডফাদার হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এস কে সুরের নাম বলেন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট টিমকে ম্যানেজ করতে লাখ লাখ টাকা ঢেলেছেন পি কে হালদার- এমনটাও দাবি করা হয়েছে জবানবন্দিতে। তবে আরও বড় কোনো শক্তি পি কে হালদারের পেছনে আছে বলে মনে করেন কেউ কেউ।

সারা দেশ যখন ক্যাসিনোকাণ্ডে তোলপাড়, ঠিক তখনই সামনে আসে একটি নাম, প্রশান্ত কুমার হালদার। সংক্ষেপে তাকে ডাকা শুরু হয় পি কে হালদার। ঢাকা শহরের ক্লাব ও অভিজাত এলাকায় যখন ক্যাসিনোবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে গলদঘর্ম আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ঠিক তখনই পি কের বোমা ফাটায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের রেশ না কাটতেই ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পি কের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা ঠুকে দেয় দুদক। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোল।

একে একে বের হতে থাকে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে পি কে হালদারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের ঘটনা। প্রকাশ হতে থাকে তার সহযোগীদের নামও। অভিযোগ আছে, দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির পেছনে রয়েছে রাঘববোয়ালদের প্রচ্ছন্ন সহায়তা।

এই রাঘববোয়ালদের এখনো সামনে আনেনি দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা। যদিও বিভিন্ন সময়ে জানা গেছে, পি কের এই জালিয়াতির সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬২ জনকে দুদক শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে। তাদেরকে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে ডাকাও হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, পি কে হালদার পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) দায়িত্বে থেকেই প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লুট করেছেন।

পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের নামে এখন পর্যন্ত ৩৯টি মামলা করেছে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে করা টিম অনুসন্ধানের মাধ্যমে এসব মামলা করেন।

পি কের পেছনের রাঘববোয়াল কারা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর পি কে হালদার। ফাইল ছবি

এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল কুমার নন্দী, শংখ বেপারী, রাশেদুল হক, অবন্তিকা বড়াল ও নাহিদা রুনাইসহ ১০ জন দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া ১ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের সম্পদ অবরুদ্ধ ও জব্দ করা হয়েছে।

আদালতের মাধ্যমে ৮৩ জনের বিদেশযাত্রায় দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। একই ইস্যুতে ৩৩ ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮৩ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও তাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে রেখেছে দুদক।

পিকের বান্ধবীরা

আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারের ৮০ জন বান্ধবী থাকা নিয়ে একসময় তুমুল আলোচনা ছিল। তবে দুদকের তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের তথ্য মিলেছে। তারা হলেন অবন্তিকা বড়াল, শিমু রায়, নাহিদা রুনাই, পূর্ণিমা রানি, সুপ্তি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম, হালি আকতার, সুস্মিতা, সামিয়া বেগম, অনিন্দিতা মৃধা, আতশী, পাপিয়া, শুভ্রা রানি, লামিয়া ও সাজিয়া রহমান।

এই বান্ধবীদের নামে ৮৬৭ কোটি পাচার করেছেন পি কে। কেবল তাই নয়, এসব বান্ধবীকে কোটি কোটি টাকার উপহার, গয়না ও ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন এই জালিয়াত।

এদের মধ্যে অবন্তিকা বড়ালকে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকায় ধানমন্ডির ১০/এ সড়কে ৩৯ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট কিনে দেন পি কে। যদিও অবন্তিকা আয়কর নথিতে তা গোপন রাখেন। গোপন রাখেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা নগদ ১০ কোটি টাকার তথ্যও। বর্তমানে তিনি আটক রয়েছেন।

শিমু রায়ের ব্যাংক হিসাবে ৬৫ কোটি টাকা দিয়েছিলেন পি কে। ময়মনসিংহের আলোচিত কুমির খামারের নামে এই টাকা নিয়েছিলেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্সের বাণিজ্য বিভাগের প্রধান নাহিদা রুনাইয়ের নামে কয়েক কোটি টাকা রেখেছিলেন পিকে, যা বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হয়।

পূর্ণিমা রানির ব্যাংক হিসাবে ১০০ কোটি টাকা দেন পি কে। এই টাকা একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে দেয়া লোন হিসেবে দেখানো হয়। হালি আক্তারকে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে দেন ৭০ কোটি টাকা। অবনিতার কাগুজে প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় ৮৪ কোটি টাকা।

সুপ্তি চৌধুরীকেও কোটি কোটি টাকা দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। যদিও তদন্ত শুরুর গন্ধ পেয়ে কানাডায় চলে যান পি কের এই বান্ধবী। কানাডায় তার আশ্রয়েই পি কে ছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে দুদকের তদন্তে।

বান্ধবী শাহনাজকে ৬০ কোটি টাকা দেন পি কে। আবার সুস্মিতা ও সামিয়া বেগমের কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে দেন ৬২ কোটি টাকা করে মোট ১২৪ কোটি টাকা।

অনিন্দিতা মৃধাকে উইন্টেল ইন্টারন্যাশনাল নামে ঠিকানাহীন প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় ৭০ কোটি টাকা।

একই কায়দায় আতশি বেগমকে দেন ৮০ কোটি টাকা।

পাপিয়াকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পরিচালক দেখান পি কে। এই পরিচয়ে এফএএস থেকে তাকে ১২০ কোটি টাকা ঋণ তুলে দেন তিনি। কাগুজে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে শুভ্রা রানীকে দেয়া হয় ৮০ কোটি টাকা। একই কায়দায় সুস্মিতাকে দেয়া হয় ৭০ কোটি টাকা।

লামিয়া নামে একজন পার্টি এক্সপার্ট বান্ধবীও ছিল পি কের। তাকে নিয়ে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের পার্টিতে যেতেন পি কে। তার ব্যাংক হিসাবেও মিলেছে বিপুল টাকা। দুদককে দেয়া জবানবন্দিতে লামিয়া বলেছেন তার অতীত জীবনের সেই অধ্যায়।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাজিয়া রহমান নামে এক নারীও এসব পার্টিতে লামিয়ার সঙ্গী হতেন। তার হিসাবেও রয়েছে পি কের জালিয়াতির অর্থ। পি কে হালদার তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে বান্ধবীসহ ঘনিষ্ঠদের নামে সরিয়ে নেন বলে নিশ্চিত হয়েছে দুদক।

পি কের সহযোগী কারা

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পি কের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধবী, সহযোগী, ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে নাম এসেছে প্রায় ১০০ জনের। এদের সবাইকে পিকের অর্থ লুটপাটের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ও আসামি করেছে দুদক।

অর্থ লুটপাটে পি কে হালদারের সহযোগী হিসেবে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন হাল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুস্মিতা সাহা ও এমডি মৈত্রেয়ী রানী বেপারী, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক মো. আবুল শাহজাহান, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, মাহফুজা রহমান বেবী, সোমা ঘোষ, ডা. উদ্ভব মল্লিক, অরুণ কুমার কুণ্ডু, প্রদীপ কুমার নন্দী, এফএএস ফাইন্যান্সের স্বতন্ত্র পরিচালক বীরেন্দ্র কুমার সোম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল শাহরিয়ার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হক গাঙ্গী, সিনিয়র অফিসার মৌসুমী পাল, ম্যানেজার আহসান রাকিব, প্রাক্তন সিনিয়র অফিসার তাসনিয়া তাহসিন রোজালিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর ইমাদুল হক, প্রাক্তন ডিপি মনিরুজ্জামান আকন্দ, সাবেক এসভিপি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া এবং সাবেক এসইভিপি ও সিএডির প্রধান প্রাণ গৌরাঙ্গ দে।

সহযোগীদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসুদের ব্যানার্জি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের পরিচালক নওশেরুল ইসলাম, অঞ্জন কুমার রায়, মোস্তাইন বিল্লাহ, উজ্জ্বল কুমার নন্দী, আর বি এন্টারপ্রাইজের মালিক রতন কুমার বিশ্বাস, আর্থ-স্কোপ লিমিটেডের এমডি প্রশান্ত দেউরি, পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, নিউট্রিক্যাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান স্বপন কুমার মিস্ত্রি, ওয়াকামা লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুব্রত দাস, পরিচালক সুভ্রা রাণী ঘোষ ও তোফাজ্জল হোসেন, কোলাসিন লিমিটেডের এমডি উত্তম কুমার মিস্ত্রি, চেয়ারম্যান অতশী মৃধা, জিঅ্যান্ডজি এন্টারপ্রাইজের মালিক গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, দ্রিনান অ্যাপারেলসের এমডি মোহাম্মদ আবু রাজিব মারুফ, কণিকা এন্টারপ্রাইজের মালিক রাম প্রসাদ রায় ও ইমেক্রো’র মালিক ইমাম হোসেন।

এ ছাড়া রয়েছেন দিয়া শিপিং লিমিটেডের পরিচালক শিব প্রসাদ ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি এবং এফ এ এসের চেয়ারম্যান এমএ হাফিজ। এরা সবাই দুদকের করা মামলার আসামি।

আরও পড়ুন:
পি কেকে ফেরাতে পশ্চিমবঙ্গে যাবে কমিটি
পি কে হালদারকে ফেরত চেয়ে ইন্টারপোলে আবার চিঠি দুদকের
পি কে হালদারের নামে আরেক মামলা দুদকের
পি কে হালদারকে ফেরাতে দুদকের কমিটি
ঘরে-বাইরে পি কে আছে অনেক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
16 crore internet users in the country Mustafa Jabbar

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৮ কোটি: মোস্তাফা জব্বার

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৮ কোটি: মোস্তাফা জব্বার বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল ইনোভেশন কংগ্রেসে বক্তব্য দেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছবি: সংগৃহীত
‘ইন্টারনেট বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী নেতৃত্ব এবং এই খাতের সব অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতায় কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব সময়েও বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।’

২০২১ সালের শেষ দিকে এসে দেশে মোবাইল ব্রডব্যান্ড কভারেজ ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল মাত্র চার কোটি।

সিঙ্গাপুরে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল ইনোভেশন কংগ্রেস-২০২২। সম্মেলনের প্রথম দিনে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল স্ট্র‍্যাটেজি অ্যান্ড প্র‍্যাকটিস’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মোস্তাফা জব্বার এ তথ্য জানান।

হুয়াওয়ে থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনা ঘোষিত হওয়ার পর বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাত দ্রুত বিকাশ লাভ করার চিত্রও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী নেতৃত্ব এবং এই খাতের সব অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতায় কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব সময়েও বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।’

২০২১ সালে জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশন প্রকাশিত বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন অর্থাৎ সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের মানুষকে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল সেবা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তার ওপর আলোকপাত করেন মোস্তাফা জব্বার।

হুয়াওয়ের আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রী দাতো শ্রী ড. আদহাম বিন বাবা, হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান কেন হু, আসিয়ান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ইয়াং মি ইং, থাইল্যান্ডের ডিজিটাল অর্থনীতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আজারিন পাত্তানাপাঞ্চাই, হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন বক্তব্য দেন।

হুয়াওয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে হুয়াওয়ে একটি পরিপূর্ণ আইসিটি সল্যুশন পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠা করেছে, যা গ্রাহকদের টেলিকম ও এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক, ডিভাইস এবং ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা দিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি ১৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে, যা বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার সমান। এক লাখ ৯৭ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে বিশ্বব্যাপী টেলিকম অপারেটর, উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে হুয়াওয়ে।

আরও পড়ুন:
সত্যিই কি নতুন স্মার্টফোন আনছে হুয়াওয়ে
চীনের ট্রেনিং শেষে এখন গ্লোবাল কম্পিটিশনে বাংলাদেশ দল
হুয়াওয়ে ক্লাউডে প্রথম ভার্চুয়াল মানুষ
তরুণদের নিয়ে আবার শুরু হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার
স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির সরঞ্জাম দিল হুয়াওয়ে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inflation is taking away the extra income of garment workers

মূল্যস্ফীতি কেড়ে নিচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের বাড়তি আয়

মূল্যস্ফীতি কেড়ে নিচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের বাড়তি আয়
সানেমের জরিপের তথ্য বলছে, পোশাক শ্রমিকরা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করছেন। বেতন ও ওভারটাইম মিলে আয় বাড়লেও বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে তা ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।

করোনা মহামারি কাটিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম বাড়লেও তা খেয়ে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি। কারণ এ সময়ে চালে ব্যয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ আর বাড়িভাড়া বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

পোশাক শ্রমিকরা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করছেন। গড়ে ১০ ঘণ্টার শ্রমে ভালো পারিশ্রমিক আসছে। এর সঙ্গে আছে ওভারটাইম। বেতন ও ওভারটাইম মিলে আয় বাড়লেও বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে তা পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং (সানেম) এবং পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ চ্যানেল দ্য গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিসের (জিডব্লিউডি) যৌথ জরিপের এ তথ্য বৃহস্পতিবার তুলে ধরে সানেম।

জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন সানেম চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার এবং জিডব্লিউডির মাঠ ব্যবস্থাপক ফারাহ মারজান।

জরিপে শ্রমিকদের এ সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘২০২০ সাল থেকে সপ্তাহভিত্তিতে শ্রমিকদের গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা এবং শ্রমিকদের কাছে থাকা ডায়েরি থেকে নেয়া হিসাবের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

জরিপে উঠে আসা ফল থেকে ব্র্র্যান্ড-ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও মালিক পক্ষ যাতে নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নিতে পারে সে ব্যাপারে সহায়তা দেয়াও জরিপের উদ্দেশ্য।

এক হাজার ৩০০ শ্রমিক জরিপে অংশ নেন, যাদের ৭৬ শতাংশই নারী। জরিপ এলাকা ছিল ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রাম।

জরিপে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২০ সালের এপ্রিলে লকডাউন শুরুর পর থেকেই শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা বেড়েছে। এতে বেতনের সঙ্গে ওভারটাইমসহ শ্রমিকদের আয়ও বেড়েছে। তবে যে পরিমাণ আয় বেড়েছে তার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে চালের দাম।

এ সময়ে শ্রমিকরা যে ধরনের চাল কিনে থাকেন সেগুলোর দর বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এ সময়ে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

জরিপের সাক্ষাৎকারে একজন শ্রমিক জানান, করোনা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় এখন তারা ভালো আছেন। কারণ করোনার আগে কারখানায় কাজ কম ছিল। এ কারণে বেতনও নিয়মিত ছিল না। প্রতি মাসে বেতনের অর্ধেকের মতো খাওয়া বাবদ খরচ হয়ে যেত। এখন নিয়মিত বেতন পান তিনি।

জরিপে দেখা যায়, করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন অন্তত ৮০ শতাংশ শ্রমিক। নারী শ্রমিকদের মধ্যে এ হার ৭৭ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় ডোজ কত শ্রমিক পেয়েছেন সে ব্যাপারে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

করোনাকালে মাত্র ১০ শতাংশ শ্রমিক তাদের সন্তানের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক খাতে রপ্তানি আদেশ অনেক বেড়েছে। ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন উদ্যোক্তারা। এতে শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে। এ কারণে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করাতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাকালে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকারের দেয়া প্রণোদনার আওতায় ডিজিটাল মাধ্যমে বেতন পেতেন শ্রমিকরা।

২০২০ সালের এপ্রিলে ৭৬ শতাংশ বা প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক এ ব্যবস্থায় যুক্ত ছিলেন। তবে তার তিন মাস পরই আবার নগদ বেতন পরিশোধের পদ্ধতিতে ফিরে গেছেন মালিকরা। এখন তা ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

কী কারণে ডিজিটালাইজেশনের এ প্রক্রিয়া থেমে গেল তা জেনে ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন:
প্রতিবন্ধিতা জরিপ: পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে সমাজসেবার সমন্বয় দাবি
করোনার ধাক্কা সামলেছে ৬০ ভাগ প্রতিষ্ঠান: সানেম
ভূমি জরিপের ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of Gaffar Chowdhury is being brought to the country

দেশে আনা হচ্ছে গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ

দেশে আনা হচ্ছে গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। ফাইল ছবি
লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘শুক্রবার বাদ জুমা লন্ডনের উকলেন্ড মসজিদে তার জানাযা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ আলতাব আলী পার্ক শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

বরেণ্য লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ দেশে আনা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, গাফ্‌ফার চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে তার স্ত্রীর কবরের পাশে শায়িত করা হবে।

লন্ডনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী মারা যান। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী শোক জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্টজনও শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গাফ্‌ফার চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানানো হয়েছে জানিয়ে সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘শুক্রবার বাদ জুমা লন্ডনের উকলেন্ড মসজিদে তার জানাযা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে শহীদ আলতাব আলী পার্ক শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক জয় বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। বরিশালের উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে তার জন্ম ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী উলানিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে।

১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে বিএ অনার্স পাস করেন। ১৯৪৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর তাকে চলে যেতে হয় বরিশাল শহরে। তিনি ভর্তি হন আসমত আলী খান ইনস্টিটিউটে।

সে সময় আর্থিক অনটনের শিকার হয়ে উপার্জনের পথ খুঁজতে থাকেন। ১৯৪৭ সালে তিনি কংগ্রেস নেতা দুর্গা মোহন সেন সম্পাদিত ‘কংগ্রেস হিতৈষী’ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।

বরিশাল শহরে কিছুদিন মার্কসবাদী দল আরএসপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তার সাহিত্যচর্চা শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে ‘সওগাত’ পত্রিকায় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর প্রথম গল্প ছাপা হয়।

১৯৫০ সালেই গাফ্‌ফার চৌধুরীর কর্মজীবন পরিপূর্ণভাবে শুরু হয়। এ সময়ে তিনি ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ‘সংবাদ’, ‘সওগাত’, ‘মেঘনা’, ‘চাবুক’, ‘আজাদ’, ‘জনপদ’, ‘বাংলার ডাক’, ‘সাপ্তাহিক জাগরণ’, ‘নতুন দেশ’, ‘পূর্বদেশ’সহ অনেক পত্রিকায় কাজ করেন। প্রবাসে বসেও গাফ্‌ফার চৌধুরী বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকাগুলোয় নিয়মিত লিখেছেন। তার লেখা বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘নাম না জানা ভোর’, ‘নীল যমুনা’, ‘শেষ রজনীর চাঁদ’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’ ও ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’।

বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, ইউনেসকো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, সংহতি আজীবন সম্মাননা পদক, স্বাধীনতা পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
‘বাঙালির হৃদয়ে চির অম্লান গাফ্‌ফার চৌধুরী’
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রয়াণ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mujib Biography of L Bangabandhu in the trailer

‘মুজিব’: ট্রেলারে এল বঙ্গবন্ধুর জীবনী

‘মুজিব’: ট্রেলারে এল বঙ্গবন্ধুর জীবনী ‘মুজিব- দ্য মেকিং অফ আ নেশন’ ছবিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। ছবি: সংগৃহীত
ট্রেলারে খণ্ড খণ্ড করে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি, পরিবার, মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী সময়কাল। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা- সবই এসেছে ট্রেলারে। পাশাপাশি দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের। ট্রেলার শেষ হয়েছে নুসরাত ইমরোজ তিশার কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ ভাষণ দিয়ে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক সিনেমা ‘মুজিব- দ্য মেকিং অফ আ ন্যাশন’-এর ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। সিনেমাটির ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ট্রেলার ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে।

ফ্রান্সে বিশ্বখ্যাত কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৫তম আসরের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভারতীয় প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই বায়োপিকের ট্রেলার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর।

ট্রেলারে খণ্ড খণ্ড করে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি, পরিবার, মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী সময়কাল। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা- সবই এসেছে ট্রেলারে।

পাশাপাশি দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের। ট্রেলার শেষ হয়েছে নুসরাত ইমরোজ তিশার কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ ভাষণ দিয়ে।

ট্রেলারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চলচ্চিত্রটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, জাতির জন্য সংগ্রাম থেকে বিজয় ও পরম আত্মত্যাগের চিত্র ফুটে উঠেছে।

‘বঙ্গবন্ধু, মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো মহান মানুষদের জীবনী একটি চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তোলা দুরূহ হলেও বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমা বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে যুগে যুগে জাগ্রত রাখবে এবং মানবতার জন্য আত্মনিবেদনে প্রেরণা যোগাবে।’

অনুরাগ সিং ঠাকুর তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর জীবনচিত্র নির্মাণের এ কাজকে তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বলে বর্ণনা করেন।

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা, ভারতের রাষ্ট্রদূত জাভেদ আশরাফ, ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার সচিব অপূর্ব চন্দ্র, বায়োপিকের পরিচালক শ্যাম বেনেগাল, নির্বাহী প্রযোজক এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, বঙ্গবন্ধুর চরিত্রাভিনেতা আরেফিন শুভ, বঙ্গমাতার চরিত্রাভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, চিত্রনাট্যকার অতুল তিওয়ারি ও শামা জায়েদি, বাংলাদেশ অংশের কাস্টিং পরিচালক বাহার উদ্দিন খেলনসহ দুই দেশের অভিনয় শিল্পীরা ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য

উপরে