× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Medical college is not getting teachers
hear-news
player

শিক্ষক পাচ্ছে না মেডিক্যাল কলেজ

শিক্ষক-পাচ্ছে-না-মেডিক্যাল-কলেজ ফাইল ছবি
বুনিয়াদি বিষয়গুলো পড়ানোর জন্য শিক্ষক পাচ্ছে না দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ। দীর্ঘদিন নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও শিক্ষক সংখ্যা বাড়াতে না পারায় বুনিয়াদি বিষয়ের বাইরে অন্য কোর্সগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নতুন নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে শিক্ষকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ৩৭টি মেডিক্যাল কলেজের বুনিয়াদি বিষয়ে পাঠদান চলছে অর্ধেকের কম শিক্ষক দিয়ে। চিকিৎসকরা এসব বিষয়ে পাঠদানে উৎসাহিত হচ্ছেন না। এ ব্যাপারে প্রণোদনা ঘোষণাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েও তেমন সাড়া নেই।

জনবল ঠিক না করে মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদন দেয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বুনিয়াদি আটটি বিষয়ে ৫২ শতাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আটটি বুনিয়াদি বিষয়ে পড়ানোর জন্য অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক মিলে ৮৯৫টি পদ আছে। অথচ এসব বিষয়ে পাঠদান চলছে ৪২৭ জন শিক্ষক দিয়ে।

দীর্ঘদিন নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও শিক্ষক সংখ্যা বাড়াতে না পারায় বুনিয়াদি বিষয়ের বাইরে অন্য কোর্সগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নতুন নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ) অধ্যাপক ডা. মাসুদ রহমান বলেন, ‘সারা দেশে পদের বিপরীতে অর্ধেকেরও কম শিক্ষক রয়েছেন। প্রতি বছরই বুনিয়াদি বিষয়ের ২৫ থেকে ৩০ জন করে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অবসরে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে চিকিৎসকরা আগ্রহী না হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

বুনিয়াদি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে চিকিৎসকরা আগ্রহী হচ্ছেন না কেন জানতে চাইলে মাসুদ রহমান বলেন, ‘বুনিয়াদি বিষয়ের চিকিৎসকরা নন-প্র্যাকটিসিং। কিন্তু ক্লিনিক্যাল বিষয়ের চিকিৎসকরা শিক্ষকতা ও প্র্যাকটিস দুটিই করতে পারেন। শুধু কনসালট্যান্টরা প্র্যাকটিস করতে পারেন। এ কারণে ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলোর দিকে চিকিৎসকদের নজর বেশি। সবাই কনসালট্যান্ট হতে চান। বেশ কয়েক বছর ধরে বুনিয়াদি বিষয়গুলোর ওপর চিকিৎসকদের আগ্রহ কমতে শুরু করেছে।’

সংকটের কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে অনেক ইনস্টিটিউট হয়েছে, তবে সেখানে জনবলের সংকট আছে। হাসপাতালগুলোতে সাড়ে ৮ হাজার চিকিৎসক যোগ দেবেন। শিক্ষক তৈরির বিষয়েও কাজ চলমান রয়েছে।’

চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেডিক্যাল শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়া হলে পদ শূন্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া তৈরি হওয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। যথাসময়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয় না। এতে প্রভাব পড়ছে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ওপর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মেডিক্যাল শিক্ষাবিষয়ক প্রতিটি সভায় নীতিমালা মেনে চলার ওপর আমরা জোর দিই। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।’

মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ সংকট থেকে উত্তরণের একটাই পথ– নতুন শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। তবে শিক্ষক এক দিনে তৈরি করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নিলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

‘যে হারে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই হারে শিক্ষক তৈরি হচ্ছে না। সরকারি মেডিক্যালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা। যে কারণে শিক্ষক সংকট রয়েই গেছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে হয়তো এই সংকট থাকবে না। যে কারণে এখন থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
মাইগ্রেশনের দাবি কেয়ার মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের
মেডিক্যালে সুযোগ পাওয়া দরিদ্র মারুফার পাশে র‌্যাব
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ঘিরে কী ঘটেছিল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
It is not right to compare Bangladesh with Sri Lanka Finance Minister

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা ঠিক নয়: অর্থমন্ত্রী

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা ঠিক নয়: অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করে- বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে কিনা? তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, বাংলাদেশ বিদেশ থেকে যে ঋণ নেয় তার ৭২ শতাংশই নমনীয় ও সহজ শর্তের। আর শ্রীলঙ্কার নেয়া ঋণের সবই কঠোর শর্তের। আমাদের বিদেশি ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৩৫ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন।’

বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ একটি সেরা দেশ। শ্রীলঙ্কা কিংবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা যাবে না। অন্য কোনো দেশের সঙ্গেও তুলনা করা ঠিক নয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন। আগামী জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাজেট করি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। আগামী বাজেট হবে স্বচ্ছ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অনেকে আমাকে কাছে প্রশ্ন করে- বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে কিনা? তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, বাংলাদেশ যেভাবে এগুচ্ছে তাতে শ্রীলঙ্কা তো নয়ই; অন্য কোনো দেশের সঙ্গেও তুলনা করা ঠিক নয়।

‘বাংলাদেশ বিদেশ থেকে যে ঋণ নেয় তার ৭২ শতাংশই নমনীয় ও সহজ শর্তের। আর শ্রীলঙ্কার নেয়া ঋণের সবই হার্ড লোন বা কঠোর শর্তের। আমাদের বিদেশি ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৩৫ শতাংশ, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন।

‘বাণিজ্যিকভাবে কোনো ঋণ নেয় না বাংলাদেশ। আমাদের নেয়া সব ঋণেই সুদ কম। তাছাড়া আমরা ঋণ নিয়েছি কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পের জন্য। অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করে আমরা ঋণ নিয়ে থাকি। কাজেই বাংলাদেশের কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। বরং অনেক দেশের তুলনায় আমরা ভালো আছি।’

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি ৩০ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৪ শতাংশ আর বাংলাদেশে ৬ শতাংশের কিছু বেশি। সে হিসাবে ওইসব দেশের তুলনায় আমাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ ও অনলাইন পোর্টাল বিডিনিউজ২৪ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Indian Rupee Five point drop in 10 days

ভারতীয় রুপির মান স্মরণকালের সর্বনিম্ন

ভারতীয় রুপির মান স্মরণকালের সর্বনিম্ন
আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বৃহস্পতিবার শুরুতে ডলার পিছু রুপির দাম ছিল ৭৭ রুপি ৭২ পয়সা। এক পর্যায়ে দাম আরো কমে ডলার পিছু দাঁড়ায় ৭৭ রুপি ৭৬ পয়সা। পরে তা হয় ৭৭ রুপি ৭৩ পয়সা।

ভারতীয় মুদ্রা রুপির মান স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বৃহস্পতিবার ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ রুপি ৭৩ পয়সা।

ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতনের কারণে বাংলাদেশের মতোই ভারতের পুঁজিবাজারেও চলছে অস্থিরতা। দেশটির পুঁজিবাজারে গত ১০টি ট্রেডিং সেশনে এ নিয়ে পাঁচ দফা দরপতন হয়েছে রুপির।

বুধবার মুদ্রা মান ১৮ পয়সা কমে ৭৭ রুপি ৬২ পয়সায় বন্ধ হয়েছিল। ভারতে মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক মন্দার জন্য এদিন রুপির দাম কমে যায়। রাশিয়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকে রুপির দাম পড়তে থাকে।

আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বৃহস্পতিবার শুরুতে ডলার পিছু রুপির দাম ছিল ৭৭ রুপি ৭২ পয়সা। এক পর্যায়ে দাম আরো কমে ডলার পিছু দাঁড়ায় ৭৭ রুপি ৭৬ পয়সা। পরে তা হয় ৭৭ রুপি ৭৩ পয়সা।

রুপির দরপতনের প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও।

বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে সেনসেক্স ১,৪১৬.৩০ পয়েন্ট বা ২.৬১ শতাংশ কমে ৫২,৭৯২.২৩ তে শেষ হয়েছে। যেখানে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে নিফটি ৪৩০.৯০ পয়েন্ট বা ২.৬৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫,৮০৯.৪০।

বুধবার পুঁজিবাজারে মূল বিক্রেতা ছিল বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। এদিন তারা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুসারে তারা ১ হাজার ২৫৪.৬৪ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করে।

আরও পড়ুন:
ভারতের নিষেধাজ্ঞা: বিশ্ববাজারে বাড়ল গমের দাম
দিল্লিতে ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা
মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ভারতের
রাজস্থানের তাপমাত্রা ৪৮ পেরোল, দিল্লিতে সতর্কতা
দিল্লিতে চার তলা ভবনে আগুন, ২৭ মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Comments about me are not factual Mahfuz Anam

আমার বিষয়ে করা মন্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়: মাহফুজ আনাম

আমার বিষয়ে করা মন্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়: মাহফুজ আনাম মাহফুজ আনাম ও পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘প্রতিহিংসা নেয় ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম। তারা আমেরিকায় চলে যায়, স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ই-মেইল পাঠায়। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিস্টার জোয়েলিক তার শেষ কর্মদিবসে কোনো বোর্ডসভায় না, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।’

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করতে কোনো ধরনের চেষ্টার কথা নাকচ করেছেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, সেটি তথ্যভিত্তিক নয়।

সরকারপ্রধান এ বিষয়ে অভিযোগ আনার পরদিন বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টারের বাংলা ভার্সনে ‘মাহফুজ আনামের ব্যাখ্যা’ নামে তার বক্তব্য ছাপা হয়।

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, আমি এ ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে কখনো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাইনি, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাইনি, কখনও হিলারি ক্লিনটনকে কোনো ই-মেইল পাঠাইনি, ওয়াশিংটনে বা বিশ্বের অন্য কোনো জায়গায় বা শহরে পদ্মা সেতুর অর্থায়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক বা যোগাযোগ করিনি।

‘বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমার বিষয়ে করা মন্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়।’

যা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৯৮১ সালের ১৭ এপ্রিল শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মরণে বুধবার আওয়ামী লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে অন্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ নিয়ে নানা বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক যেন সরে যায়, সে জন্য ড. ইউনূস, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক নানা সক্রিয় চেষ্টা চালিয়েছেন।

পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার শুরু থেকেই তুমুল আলোচনা হচ্ছে। প্রথমে সেতুর অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ যোগাযোগ করে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে। পাশাপাশি আইডিবি, এডিবি ও জাইকারও কিছু সহযোগিতা থাকার কথা ছিল।

তবে সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক নানা বক্তব্য দেয়ার পর ২০১৩ সালে এই সেতু প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়।

শুরু থেকেই সরকার এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে আসছিল। দাতারা সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর অভিযোগ করা হয়, সংস্থাটির এই সিদ্ধান্তের পেছনে ড. ইউনূসের হাত আছে।

গ্রামীণ ব্যাংক আইন অনুযায়ী ৬০ বছর বয়স হলেই তিনি এমডি পদের জন্য অযোগ্য হন। ইউনূসের বয়স ৭১ হওয়ার পর তাকে অপসারণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সে সময় তাকে এই পদে বহাল রাখতে নানা চাপ দেয়া হয়েছিল। সরকার রাজি না হওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করাল ড. ইউনূস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে, ইমেরিটাস উপদেষ্টা হিসেবে থাকার জন্য, আরও উচ্চ মানের। কিন্তু সেখানে সে থাকবে না। তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না।

‘কিন্তু প্রতিহিংসা নেয় ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম। তারা আমেরিকায় চলে যায়, স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ই-মেইল পাঠায়। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিস্টার জোয়েলিক তার শেষ কর্মদিবসে কোনো বোর্ডসভায় না, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।’

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে সেদিন মাহফুজ আনামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না’।

বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ কানাডার আদালতে নাকচ

পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে সেতুর নির্মাণকাজে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় শুরুতেই।

উড়ো খবরের সূত্রে দাতা সংস্থাটি সে সময় জানতে পেরেছিল, কানাডীয় কোম্পানি এস এম সি লাভালিন এই কাজ পেতে ঘুষ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

বিশ্বব্যাংক সে সময় বাংলাদেশের যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি করেছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তা করতে রাজি হয়নি।

বিশ্বব্যাংক এ ঘটনায় একটি মামলা করে কানাডার একটি আদালতে। সেই মামলা বাংলাদেশের জন্য শাপেবর হয়েছে।

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার আদেশ কানাডা থেকে আসার পর আর কেউ প্রশ্ন তোলার সুযোগই পায়নি।

রায়টি দেয়া হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। তবে গণমাধ্যমে রায় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ছিল এক মাস। আর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হয়।

রায়ে অন্টারিও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ইয়ান নরডেইমার বলেন, বিশ্বব্যাংক যেসব তথ্য দিয়েছে সেগুলো ‘অনুমানভিত্তিক, গালগল্প ও গুজবের বেশি কিছু নয়।’

আরও পড়ুন:
আগামী বছরের জুনের মধ্যে পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলবে: রেলমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী সময় দিলেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন
জুনে উদ্বোধন মাথায় রেখেই পদ্মা সেতুর কাজ
ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতু জুনেই চালু: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
1900 deaths per day in the country due to non communicable diseases

অসংক্রামক রোগে দেশে দিনে ১৯০০ মৃত্যু

অসংক্রামক রোগে দেশে দিনে ১৯০০ মৃত্যু বৃহস্পতিবার বনানীতে হোটেল শেরাটন আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ একবার দেখা দিলে আজীবন চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল। এই রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধিতে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায়ও।’

বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে বছরে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ (৭ লাখ) মৃত্যুই অসংক্রামক রোগে ঘটে থাকে। সে হিসাবে দেশে দিনে গড়ে এক হাজার ৯০০ মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটন আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে এ কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হারে বাড়ছে। আগে এই রোগের প্রবণতা বয়স্ক মানুষের মধ্যে দেখা যেত। এখন তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষের জীবনাচার পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ।

‘দেশে প্রতিবছর ১০ লাখ মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে। এর মধ্যে ৭ লাখই মারা যায় অসংক্রামক রোগে। সে হিসাবে প্রতিদিন মারা যায় ১৯০০ মানুষ।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ একবার দেখা দিলে আজীবন চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল। এই রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধিতে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায়ও।

‘আমরা ভালো ও উন্নত চিকিৎসা দিতে গেলে গবেষণা দরকার। গবেষণা থাকলে সঠিক দিকনির্দেশনা আসে। তাতে করে নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়।

‘আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংক্রামক রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরই মাঝে অসংক্রামক রোগ বেড়ে গেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে মানসিক সমস্যা বেড়েছে। এর প্রভাবে আত্মহত্যা বাড়ছে।

এমন বাস্তবতায় আজ (বৃহস্পতিবার) মানসিক স্বাস্থ্য পলিসি কেবিনেট নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

সেমিনারে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন-অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘দেশে ৩৮টি মেডিক্যাল কলেজ ও পাঁচটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এগিয়ে গেছে। একইসঙ্গে সমস্যাও বেড়েছে। ভালো স্বাস্থ্য সেবার জন্য প্রয়োজন অবকাঠামো, ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর্মী। স্বাস্থ্য খাত সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল। আমারা টিবি, কলেরা, ডায়রিয়া নিয়ে কাজ করেছে। এসব এখন নিয়ন্ত্রণে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন। বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবীরসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
করোনায় হাসপাতালে বেড়েছে সুবিধা, এখন সেবায় নজর মন্ত্রীর
করোনা চিকিৎসায় বাংলাদেশ রোল মডেল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনা নিয়ন্ত্রণে বলেই অর্থনীতি ভালো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে, প্রস্তুত হোন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 
বুস্টার ডোজের বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু শিগগিরই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The name of the bridge is Padma Bridge

সেতুর নাম ‘পদ্মা সেতু’ই

সেতুর নাম ‘পদ্মা সেতু’ই নদীর নামেই হতে পারে পদ্মা সেতু। ছবি: নিউজবাংলা
পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুই হবে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে যেকোনো সময় ক্লিয়ার করবেন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

জুনের শেষ সপ্তাহে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এই সেতু কার নামে হবে, এমন প্রশ্নে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন সেতুর নাম নদীর নামেই হতে পারে।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রিসভা বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বসে মন্ত্রিসভা বৈঠক। এতে নির্ধারিত বিষয়ের বাইরেও নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে মন্ত্রিসভা সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ক্লিয়ার করবেন আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে জিনিসটা। পদ্মা সেতু জুন শেষে উদ্বোধন হচ্ছে, এটা তো উনি বলেই দিয়েছেন। আমরাও রেডি আছি।’

এক দশক ধরে দেশের দক্ষিণের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই সেতুর জন্য। এটি দেশের সবচেয়ে বড় সেতু- বিষয়টি কেবল এমন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়েছে রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক বহু ঘটনাপ্রবাহ। যে কারণে সেতুটি নিয়ে আলোচনা আরও বেশি। এর প্রতিটি স্প্যান বসানো সংবাদ হয়ে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, প্রতিটি বাধাবিঘ্ন গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে তুলেছে তোলপাড়।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে সেতুর সর্বশেষ স্প্যানটি বসানোর পরই জানানে হয় চলতি বছরের জুনে যান চলাচল শুরু করা হবে। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেন, ডিসেম্বরের শেষে সেতুর কাজ শেষ হবে।

তার এই বক্তব্যে দেখা দেয় বিভ্রান্তি। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পরে একাধিকবার নিশ্চিত করে বলেন, জুনেই যান চলাচল শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী ওই মাসে যেদিন সময় দেবেন, সেদিনই যান চলাচল শুরু হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আশা করি জুনের শেষ সপ্তাহের আগেই ব্রিজ রেডি হয়ে যাবে। উদ্বোধনের তারিখটা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ডেটটা ধরে রাখেন জুনের শেষের দিকের কোনো একদিন যেদিন উনি (প্রধানমন্ত্রী) কমফোর্ট ফিল করবেন। অনেক জিনিস দেখতে হয়, সেগুলো দেখে আমরা আশা করি শেষ সপ্তাহের আগেই আমরা ব্রিজ রেডি করে দিতে পারব।’

সেতুর নামকরণ প্রসঙ্গ

পদ্মা সেতু হওয়ার পর এটি কার নামে হবে, সেটি নিয়েও তুমুল আলোচনা চলছে। পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক এই সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর অর্থায়ন জটিলতায় সেতুটি আদৌ হবে কি না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন নিজ অর্থে সেতু করার।

তার এই সিদ্ধান্তের পর দেশবরেণ্য অর্থনীতিবিদরা বলেছিলেন, এত বড় প্রকল্প নিজে নিজে করার মতো আর্থিক সামর্থ্য বাংলাদেশের হয়নি। এতে রিজার্ভ চাপে পড়বে, অন্য উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হবে।

বিশ্বব্যাংক এই অভিযোগ তোলার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অভিযোগকে মিথ্যা বলে আসছিলেন। বিশ্বব্যাংক সে সময়ের যাতায়াতমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানানোর পর আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দেন শেখ হাসিনা।

বিশ্বব্যাংক সে সময় কানাডার একটি আদালতে পদ্মা সেতু নিয়ে মামলা করে। সে দেশের কোম্পানি এসএমসি লাভালিন এই দুর্নীতি চেষ্টায় জড়িত ছিল- এমন অভিযোগে করা মামলাটি ২০১৭ সালে উড়িয়ে দেয় অন্টারিওর একটি আদালত। বিচারক বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ বলেও উড়িয়ে দেন।

শেখ হাসিনার অমনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তার নামে এই সেতু করার চেষ্টা করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে শেখ হাসিনা এতে রাজি হচ্ছেন না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুই হবে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে যেকোনো সময় ক্লিয়ার করবেন।’

টোল নির্ধারণ কোন নীতিতে

সেতু উদ্বোধনের আগের মাসে পারাপারে যে টোল ঠিক করা হয়েছে, তা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, টোল বেশি ধরা হয়েছে।

সেতু পারাপারে মোটরসাইকেলকে ১০০, প্রাইভেট কার ৭৫০ ও বড় বাসকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

সেতুর টোল নির্ধারণের বিষয়টিও স্পষ্ট করে সচিব বলেন, ‘যখনই যেখানে ব্রিজ করে স্ট্যান্ডার্ড হলো ফেরির ১ দশমিক ৫ গুণ ধরা হয়। সেটা ধরেই করা হয়েছে। এর পরও সরকার যদি মনে করে এটা বেশি হয়েছে...।

‘অনেকে পদ্মা সেতুকে বঙ্গবন্ধু সেতুর সঙ্গে তুলনা করেন। বঙ্গবন্ধু সেতু হলো পাঁচ কিলোমিটার, আর পদ্মা সেতু হলো ৯ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার। প্রায় দ্বিগুণ।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টাকা সেতু কর্তৃপক্ষকে ১ শতাংশ হার সুদে সরকারকে ফেরত দিতে হবে। সুতরাং সেতু কর্তৃপক্ষকে ওই জায়গা থেকে টাকা উপার্জন করতে হবে। পৃথিবীর কোথাও এই ধরনের স্থাপনার ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় পয়সা না দিয়ে যাওয়ার কোনো সিস্টেম নেই।’

এই সেতু নির্মাণে সেতু বিভাগকে মোট ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। ১ শতাংশ সুদহারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

সেতুর নির্মাণ ব্যয় তুলতে ধারণার চেয়ে কম সময় লাগবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ছিল যে ২৪-২৫ বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে। এখন মনে হচ্ছে ১৬-১৭ বছরের মধ্যেই টাকাটা উঠে আসবে।

‘ওই পাড়ের যেসব কাজকর্ম এবং যেগুলো আছে, সেগুলো ফিজিবিলিটি স্টাডিতে আসেনি। মোংলা পোর্ট যে এত স্ট্রং হবে, পায়রা বন্দর হবে, এত শিল্পায়ন হবে- এগুলো কিন্তু আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘ধারণা ছিল পদ্মা সেতু ১ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি আনবে। এটা ২-এর কাছাকাছি চলে যাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী সময় দিলেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন
জুনে উদ্বোধন মাথায় রেখেই পদ্মা সেতুর কাজ
ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতু জুনেই চালু: কাদের
পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে রাতে চলছে ফেরি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Land acquisition only after setting up of hat bazaar

ব্যক্তি উদ্যোগে হাট-বাজার বসলেই জমি অধিগ্রহণ

ব্যক্তি উদ্যোগে হাট-বাজার বসলেই জমি অধিগ্রহণ অধিগ্রহণের বিধান রেখে আনা হাট-বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন-২০২২ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ফাইল ছবি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা আগে ১৯৫৯-এর একটা অর্ডিন্যান্স ছিল। সেটিকে যুগোপযোগী করে আইনের খসড়া বানানো হয়েছে। এতে প্রায় ২৬টি ধারা রয়েছে। এই আইনের বিধান না মেনে কোথাও হাট-বাজার বসানো যাবে না। কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থায়ী হাট-বাজার বসালে ওই জমি খাস হিসেবে গণ্য করে নিয়ে নেবে সরকার।’

ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোথাও স্থায়ী হাট-বাজার বসানো হলে তা অধিগ্রহণের বিধান রেখে আনা হাট-বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন-২০২২ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা আগে ১৯৫৯-এর একটা অর্ডিন্যান্স ছিল। সেটিকে যুগোপযোগী করে আইনের খসড়া বানানো হয়েছে। এতে প্রায় ২৬টি ধারা রয়েছে। এই আইনের বিধান না মেনে কোথাও হাট-বাজার বসানো যাবে না। হাট-বাজার বসানো হলে ওই জমি খাস হিসেবে গণ্য করে নিয়ে নেবে সরকার।

‘আমি যদি আমার বাড়িতে কোনো হাট-বাজার বসাই, এটা মোহন মিয়ার একটি মামলা ছিল সরকারের সঙ্গে। উনি তখন কোর্টে গিয়ে এটা ব্যক্তিগত হাট-বাজার উল্লেখ করে মামলায় জিতে গেলেন। এটা বিখ্যাত একটি মামলা। পরবর্তীতে সরকার ডেফিনেশন পরিবর্তন করে বলল- যেখানেই কেউ হাট-বাজার বসাবে সেটা খাস জমি হয়ে যাবে। এখনও সরকারের পারমিশন ছাড়া কোনো হাট-বাজার বসানো যাবে না। এখানেও আগের ডেফিনেশন স্ট্যান্ড করবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক অনুমতি দেবেন।’

ব্যক্তি উদ্যোগে হাট-বাজার বসলেই জমি অধিগ্রহণ
মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘হাট-বাজারের কোনো জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত করা যাবে না। তবে এ সংক্রান্ত বিধিমালা অনুসরণ করে জেলা প্রশাসক অস্থায়ীভাবে একজনের বিপরীতে সর্বোচ্চ আধা শতক জায়গা দিতে পারবে। এর বেশি একজনকে দেয়া যাবে না।

‘সরকার গেজেট দিয়ে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণ প্রদানের পর অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯২ ধারা অনুসারে খাস ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তারিখ থেকে যে কোনো হাট ও বাজার দখল করতে পারবে।’

সচিব বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাতে বলা হয়েছে। বছরে যদি একদিন হাট-বাজার বসে সেটা অন্য কথা। কিন্তু স্থায়ীভাবে হাট-বাজার বসলে সরকার ওই জমি নিয়ে নেবে।

‘ডেফিনেশনটা হলো- হাট ও বাজার অর্থ যে স্থানে জনসাধারণ দৈনিক অথবা সপ্তাহের নির্দিষ্ট কোনো দিন কৃষিপণ্য, ফলমূল, হাঁস-মুরগি, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় পণ্য বা অন্য কোনো পণ্য বা শিল্পজাত পণ্য ও দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয় হয়। সেই স্থানে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য স্থাপিত দোকানও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।’

আরও পড়ুন:
মন্ত্রিসভার ৬৬৬ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
আনসারের অপরাধের বিচারে দুই আদালত
জাতীয় স্লোগান হচ্ছে ‘জয় বাংলা’
টিটির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ছে
মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কমেছে ১৯ শতাংশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The day of inauguration of Padma bridge was not final

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন চূড়ান্ত হয়নি

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন চূড়ান্ত হয়নি জুনের শেষ সপ্তাহের আগেই প্রস্তুত হবে পদ্মা সেতু। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জুনের শেষ সপ্তাহের আগেই সেতুটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ফেরির দেড় গুণ।

জুনে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কথা থাকলেও দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তবে জুনের শেষ সপ্তাহের আগেই সেতুটি প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রিসভা বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ফেরি খরচের দেড় গুণ হিসাবে।’

সেতুর নামকরণ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সেতুর নাম পদ্মা সেতুই হবে। নামকরণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

জুনে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কথা থাকলেও দিন-ক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তবে জুনের শেষ সপ্তাহের আগেই সেতুটি প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রিসভা বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ফেরির দেড় গুণ।’

আগামী জুন মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরে সব কিছু এগিয়ে চলছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ধরে সেতুর কাজ এগিয়েছে। প্রতিটি অংশের কাজ শেষ করার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা আছে। সে হিসাবে জুন শেষ হওয়ার আগেই শেষ হবে পদ্মা সেতুর মূল কাজ। সেতুটি যান চলাচলের জন্য উপযুক্ত হবে। তবে সেতু কবে উদ্বোধন হবে তা ঠিক হবে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। সবুজ সংকেত পেলে যেকোনো দিন খুলে দেয়া হবে এ সেতু।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। সব কিছুই পরিকল্পনা মতো এগোচ্ছে। আগামী জুনকে ঘিরে আমাদের সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, সব কাজও হচ্ছে।’

আগে থেকেই সরকারের ঘোষণা রয়েছে, আগামী জুনে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বহুল প্রতীক্ষিত এ সেতু। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের মূল সেতু ছাড়াও ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটারের ভায়াডাক্ট বা সংযোগ সেতু মিলিয়ে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার।

গত ২৮ মার্চ সেতুর সর্বশেষ অবস্থা ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সেতু বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। পরে ৩০ মার্চ এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী ৩০ জুন পদ্মা সেতু চালু হবে।

আরও পড়ুন:
জুনে উদ্বোধন মাথায় রেখেই পদ্মা সেতুর কাজ
ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতু জুনেই চালু: কাদের
পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে রাতে চলছে ফেরি
পদ্মা সেতুতে টোল তুলবে চায়না মেজর ও কেইসি

মন্তব্য

উপরে