× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Homes were vandalized and looted in two murders in Faridpur
hear-news
player

বোয়ালমারীতে ২ খুন: স্বজনের মামলার অপেক্ষায় পুলিশ

বোয়ালমারীতে-২-খুন-স্বজনের-মামলার-অপেক্ষায়-পুলিশ
ঈদের দিন জোহরের নামাজ শেষে মোস্তফা জামান সিদ্দিকী ও তার সমর্থকরা স্থানীয় গোহাইলবাড়ী বাজারের একটি দোকানে বসে ছিলেন। বেলা ২টার দিকে আরিফ খালাসির ১০ থেকে ১২ জন সমর্থক তাদের ওপর হামলা চালান। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত খাইরুল শেখ ও আকিদুল শেখ নামে দুজন নিহত হন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ঈদের দিন দুজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। পুলিশের দাবি, নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে তারা।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটকও করা হয়নি। প্রধান অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ খালাসি ঘটনার পর থেকে এলাকায় নেই। আরিফসহ তার কয়েক সমর্থকের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জামান সিদ্দিকী এবং গোহাইলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আলফাডাঙ্গায় কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ খালাসির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

ঈদের দিন জোহরের নামাজ শেষে মোস্তফা জামান সিদ্দিকী ও তার সমর্থকরা স্থানীয় গোহাইলবাড়ী বাজারের একটি দোকানে বসে ছিলেন। বেলা ২টার দিকে আরিফ খালাসির ১০ থেকে ১২ জন সমর্থক তাদের ওপর হামলা চালান। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত খাইরুল শেখ ও আকিদুল শেখ নামে দুজন নিহত হন। মোস্তফার দুই ভাইসহ আহত হন ১০ জন।

স্থানীয়রা জানান, গত মাসে গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে মোস্তফা ও আরিফের গ্রুপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আরিফকে পরাজিত করে মোস্তফা জামান সিদ্দিকী স্কুল কমিটির ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এতে দুজনের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

মঙ্গলবারের হামলায় নিহত খাইরুল ও আকিদুলের ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের স্থানীয় খরসূতী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নিহত খায়রুলের মা জরিনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। যারা আমার ছেলেকে ঈদের দিন হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।’

খায়রুলের মেয়ে রাবেয়া বেগম বলেন, ‘ঈদের দিন আমি শ্বশুরবাড়ি মধুখালী থেকে বাবার বাড়ি গোহাইলবাড়ী আসছিলাম। বাবা আমাকে এগিয়ে আনতে দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন। তখন গোহাইলবাড়ী গ্রামের আরিফের অনুসারী আমজেদসহ কয়েকজন আমার বাবাকে কুপিয়ে মেরেছে। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

খুনের ঘটনায় বাকরুদ্ধ আকিদুল শেখের স্বজন। তার পাঁচ বছরের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন আকিদুলের ৭০ বছর বয়সী অসুস্থ মা সাহেদা বেগম।

দুই খুনের পর গোহাইবাড়ী ও দৌত্যেরকাঠি গ্রামে আরিফ অনুসারীদের অন্তত ১২টি বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন কর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই হত্যার ঘটনায় বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত বোয়ালমারী থানায় কোনো মামলা হয়নি। এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুমন কর বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তবে অনেকে হামলার শঙ্কায় বাড়ির মালপত্র সরিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তাদের পুলিশ বাধা দেয়নি।’

আরও পড়ুন:
নিউ মার্কেটে সংঘর্ষ: দোকান কর্মচারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার
সংঘর্ষে ৪ প্রাণহানি: দুই পক্ষের মামলা
বিরোধের জেরে হামলায় নিহত দুই
কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষে ৪ প্রাণহানি: গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম
ঈদের দিন আ.লীগের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিতলিয়া

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Four days without water and electricity in Sylhet

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন
সিলেট নগরীর শেখঘাট এলাকার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাও ঘরে ঢুকছে। এর মধ্যে থাকতে থাকতে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাসায় খাওয়ার পানি ও স্যানিটেশনের সমস্যা। তাই গিয়ে হোটেলে উঠেছি।’

সিলেট নগরীর চালিবন্দর এলাকার কুন্তি দাসের ঘর চার দিন ধরে পানিতে তলিয়ে আছে। ঘরে-বাইরে চারদিক থইথই পানিতে। তবু খাওয়ার জন্য নেই এক ফোঁটাও। নেই বিদ্যুৎও।

১৫ মিনিট হেঁটে গিয়ে একটি কারখানা থেকে প্রতিদিন খাওয়ার পানি নিয়ে আসেন তিনি।

কুন্তি বলেন, ‘পানির কারণে না হয় বিছানার ওপরে উঠে বসে থাকা যায়। কষ্ট করে রান্নাবান্নাও করা যায়। কিন্তু পানি ছাড়া তো থাকা যায় না। চার দিন ধরে পানি পাচ্ছি না। টয়লেটও পানিতে তলিয়ে গেছে। সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, যে কারখানা থেকে পানি আনা হয়, সেখানে গিয়ে টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে ঘরের সবাইকে।

সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎহীনতা। সব মিলিয়ে বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ এখন চরমে। জেলার অর্ধেক এলাকাই এখন বিদ্যুৎহীন।

কুন্তির প্রতিবেশী দীপক রবি দাস বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সিটি করপোরেশন থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বন্যায় সিটি করপোরেশনের পানির লাইন তলিয়ে গেছে। এখন পাইপ দিয়ে ময়লা পানি আসে। আর তাতে খুব দুর্গন্ধ। খাওয়া তো দূরের কথা, হাতেই নেয়া যায় না।’

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

চালিবন্দরের পাশের উপশহরেও মিটার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

উপশহরের বি-ব্লকের নাজাত আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে ঘরে পানি। ঘর থেকে বের হওয়ারও উপায় নেই। চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। খাওয়ার পানি নেই। টয়লেটের ব্যবস্থাও নেই। সব মিলিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটছে আমাদের।’

এসব সমস্যার কথা জানিয়ে সি-ব্লকের আব্দুল আহাদ বলেন, ‘লজ্জায় আশ্রয়কেন্দ্রেও যেতে পারছি না। বাচ্চারা সেখানে থাকতেও পারবে না। আবার ঘরেও থাকতে পারছি না। বন্যায় আমাদের সংকট বলে বোঝানো যাবে না।’

কোমর পানি নগরীর তালতলা এলাকাতেও। সেখানে বাড়ি বেসরকারি চাকরিজীবী মিলন তালুকদারের।

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পানি বন্ধ। ফিল্টারে করে পানি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এদিকে আসছে না বন্যার কারণে। তাই বোতলজাত পানি কিনে পান করতে হচ্ছে। আমরা সামান্য আয়ের মানুষ। এভাবে কতদিন চলতে পারব। চাকরির কারণে গ্রামের বাড়িও যেতে পারছি না।’

নগরের ঝালোপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা পানি সংগ্রহ করতে আসেন শাহেদ আহমদ।

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিনে একবার আসে। এই পানিতে এলাকার অর্ধেক মানুষের এক বেলার চাহিদাও মেটে না।

‘আগে পাশের সুরমা নদীতে আমরা গোসল করতে পারতাম। কিন্তু এখন নদীর পানি এত ময়লা হয়েছে যে তাতে গোসল করারও উপায় নেই।’

নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তরা সেন পম্পা বলেন, ‘নোংরা পানিতে পায়ে ঘা হয়ে গেছে। আজ বাধ্য হয়ে বাচ্চাকে নিয়ে আরেকটি পরিবারের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখানেও খাওয়ার পানি নেই।’

ঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে নগরের একটি হোটেলে গিয়ে উঠেছেন শেখঘাট এলাকার কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাও ঘরে ঢুকছে। এর মধ্যে থাকতে থাকতে আমার পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বাসায় খাওয়ার পানি ও স্যানিটেশনের সমস্যা। তাই একটি হোটেলে উঠেছি।’

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে প্লাবিত এলাকায় বুধবার থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ সরবরাহের পাইপে কোনো ছিদ্র থাকলে তাতে বন্যার পানি মিশে রোগবালাই দেখা দিতে পারে।’

তবে এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে আলিম বলেন, ‘যেসব এলাকা প্লাবিত হয়নি, সেসব এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।’

নগরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে দুর্ভোগ আরও বেশি।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে ১০৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৫টি সম্পূর্ণ ও ১৫টি ইউনিয়ন আংশিকভাবে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি আছে ১৫ লাখ মানুষ।

জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের সুপ্রাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বন্যায় এলাকার বেশির ভাগ টিউবওয়েল ডুবে গেছে। খাওয়ার পানি পাওয়া যাচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে। ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্নাও করা যাচ্ছে না।’

‘ঘরে অনেকগুলো গরু আছে। নিজেরা তবু কোনো রকমে খেতে পারছি। কিন্তু মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।’

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

নগরের দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর এলাকা প্লাবিত না হলেও বরইকান্দি এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশন তলিয়ে যাওয়ায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই কোথাও।

গোটাটিকর এলাকার সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বন্যা আসেনি এখনও। তবে আমরাও দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছি না। তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।’

তবে বিশুদ্ধ পানির সংকটের তথ্য নেই জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামের কাছে।

তিনি বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি সংকটের তেমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি। পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি অবশ্য বলেছেন, সিলেট জেলায় ১৩ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানিয়েছেন, দুটি উপকেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকেছে। সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি উপকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আর শাহজালাল উপশহর এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় যারা অবস্থান করছেন, তাদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিটি মেয়র জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও বন্যার্তদের সেবায় করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

১৩ দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে বৃহস্পতিবার সিলেটে ফিরে নগরের একাধিক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে মেয়র বলেন, ‘সিলেট মহানগরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নগরের নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। খাওয়ার পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

‘দ্রুত সময়ের মধ্যে প্লাবিত এলাকার পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাঠানো হয়েছে। খাওয়ার পানির সংকট নিরসনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হবে।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় বন্ধ সিলেটের ৭ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘মাঠের পর ঘরেও ধান নষ্ট বানের জলে’
সিলেটে বর্ষার আগেই নদী খনন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিস্তায় বাড়ছে পানি, হুমকিতে ইচলি বাঁধ
বন্যার পানি গোটা সিলেটে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Israeli lie in journalist Shirins murder

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহক। ছবি: এএফপি
ইসরায়েলের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা- বিটস্লেম বলছে, ইসরায়েল শিরিনের হত্যা নিয়ে যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, সে জায়গাটি হত্যাকাণ্ডের স্থান থেকে ৩০০ মিটার (৯৮৫ ফুট) দূরে। শিরিনের কর্মস্থল আল জাজিরার সানাদ নিউজ ভেরিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারাও দাবি করেছেন ভিডিওটি ভুয়া।  

আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে যেদিন হত্যা করা হয়, সেদিন তার মাথায় ছিল হেলমেট, গায়ে ছিল ভেস্ট। যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল ‘প্রেস’।

গুলি হেলমেট ও ভেস্টের ঠিক মাঝখান দিয়ে শিরিনের ঘাড়ে বিদ্ধ হয়। এ সময় শিরিনের সহকর্মীরা এবং পথচারীরা তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলে গুলি চলতে থাকে। তাই তারা এগিয়ে আসতে পারেননি। নিথর পড়ে ছিল শিরিনের দেহ।

শুরুতে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। বিষয়টি প্রমাণে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তেল আবিব। যেখানে দেখা যায়, একদল ফিলিস্তিনি গুলি ছুড়তে ছুড়তে একটি সরু গলি পার হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা- বিটস্লেম ওই ভিডিও ধারণের স্থানটি খুঁজে পেয়েছেন। তারা বলছে, ওই ভিডিওটি শিরিন হত্যাকাণ্ডের স্থান থেকে ৩০০ মিটার (৯৮৫ ফুট) দূরের একটি স্থান।

শিরিনের কর্মস্থল আল জাজিরার সানাদ নিউজ ভেরিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারাও দাবি করেছেন ভিডিওটি ভুয়া।

প্রপাগান্ডায় কাজ না হওয়ায় আগের অবস্থান থেকে সরে আসে ইসরায়েল সরকার। তারা এই হত্যার তদন্ত করার আশ্বাস দেয়। তবে শেষমেশ আগের রূপেই ফিরেছে ইসরায়েল সরকার। তদন্ত না করার ইঙ্গিত দিয়েছে তেল আবিব। অতীতে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় তদন্ত করে নিজ দেশে সমালোচিত হয়েছিল দেশটির সরকার।

পশ্চিম জেরুজালেম থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইমরান খান বলেন, ‘আসলে সক্রিয় সামরিক অভিযানে একজন চাকরিরত ইসরায়েলি সেনা অফিসার বা সৈনিকের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত খুলতে হবে। ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টা এখন একেবারেই অসম্ভব।

‘তদন্ত হলে সরকারের ওপর হামলা হবে। বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ছাড়া সাধারণত ইসরায়েলিরা সেনাবাহিনীকে অন্য চোখে দেখে। তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে সেনারা তাদের রক্ষক।’

ইসরায়েলের জনপ্রিয় দৈনিক হারেটজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় ফৌজদারি আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ নেই। ইসরায়েলি সেনারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা ভেবেছিল ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের দিকে গুলি ছোড়া হচ্ছিল। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাংবাদিক শিরিনের আশপাশে কোনো গুলি চলেনি।

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার
গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক শিরিনের নিথর দেহের পাশে এক সহকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

শিরিনের শরীর থেকে বের করা বুলেটের টুকরা প্রমাণ হিসেবে রেখেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলের সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, তদন্ত হলে ইসরায়েলি সেনাদের সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি ইসরায়েলি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেটজের বরাতে বৃহস্পতিবার এ খবর ছেপেছে জেরুজালেম পোস্ট।

সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করেছেন। ২০০০ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা বিদ্রোহের সময় পশ্চিম তীরের প্রধান শহরগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বড় বড় হামলাগুলো কভার করে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন শিরিন।

পশ্চিম তীরের শহর জেনিনে গত ১১ মে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর কভার করার সময় গুলিতে নিহত হন ৫১ বছরের শিরিন। প্রত্যক্ষদর্শী এবং তার সহকর্মীদের দাবি, ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন শিরিন।

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার
পূর্ব জেরুজালেমে নেয়া হচ্ছে সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকের মরদেহ। ছবি: এপি

হারেটজের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় শিরিনের পরিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মৃত্যুর তদন্ত না করায় তারা বিস্মিত নয়।

‘আমরা এটিই আশা করছিলাম। এ কারণেই আমরা চাইনি তারা (ইসরায়েল) তদন্তে অংশ নিক। আমরা এই কাজের জন্য দায়ী যে কাউকেই জবাবদিহি করতে চাই।

‘যেহেতু তিনি একজন আমেরিকান নাগরিক, তাই আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ তদন্ত শুরুর পাশাপাশি এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। নিজের নাগরিকের হত্যার তদন্তে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
পশ্চিম তীরে আরও ৪ হাজার বসতি গড়বে ইসরায়েল
ক্ষমা চেয়েছেন পুতিন: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলে হামলায় তিনজন নিহত
‘ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান’
অজানা জন্ডিসে আক্রান্ত ইসরায়েলের ১২ শিশু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Money laundering case Barkat Rubel allegations hearing on June 22

অর্থ পাচার মামলা: বরকত-রুবেলের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন

অর্থ পাচার মামলা: বরকত-রুবেলের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল। ছবি: সংগৃহীত
তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এদিন মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি হয়। শেষ না হওয়ায় আগামী ১২ জুন নতুন দিন ধার্য করা হয় অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য।

২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১২ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ দিন ধার্য করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এদিন মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি হয়। শেষ না হওয়ায় আগামী ১২ জুন নতুন দিন ধার্য করা হয় অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য।

এর আগে গত ৭ মার্চ আসামিদের নির্দোষ দাবি করে আইনজীবী শাহিনুর রহমান অব্যাহতির আবেদন করেন। এরপর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। তবে তা শেষ না হওয়ায় অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আদালত দিন ধার্য করে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, আসিকুর রহমান ফারহান, খন্দোকার মোহতেসাম হোসেন বাবর, এ এইচ এম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মুহাম্মদ আলি মিনার ও তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম।

২০২১ সালের ৩ মার্চ বরকত, রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উত্তম কুমার বিশ্বাস। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

২০২০ সালের ২৬ জুন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ২ হাজার কোটি টাকা উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন বরকত ও রুবেল। এ ছাড়া তারা মাদক কারবার ও ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসি ও নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ডাম্প ট্রাক, বোল্ডার ও পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন দুই ভাই।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন বরকত-রুবেল। রাজবাড়ীতে ১৯৯৪ সালে এক আইনজীবী হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন তারা।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৮ জুন মিরাজ আল মাহমুদ তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বরকত ও রুবেল অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

আরও পড়ুন:
প্ল্যাকার্ড নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করবেন মাদক মামলার আসামি
খাদ্যে ভেজালসহ নানা অনিয়ম রোধে ডিএনসিসির অভিযান
শেবাচিম হাসপাতাল থেকে আটক ২ দালাল, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড
চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা: সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে
আদালতের হাজতখানা থেকে আসামি চম্পট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The report of the murder of the heroine Shimu is 26 June

অভিনেত্রী শিমু হত্যার প্রতিবেদন ২৬ জুন

অভিনেত্রী শিমু হত্যার প্রতিবেদন ২৬ জুন চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। ফাইল ছবি
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল এদিন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য আদালত নতুন এ দিন ধার্য করে।

অভিনয়শিল্পী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৬ জুন দিন ঠিক করেছে আদালত।

ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ইয়াসমিনের আদালত বৃহস্পতিবার নতুন এ দিন ধার্য করেন।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল এদিন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য আদালত নতুন এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২০ জানুয়ারি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও নোবেলের বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদকে রিমান্ড চলাকালীন হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ওই সময় আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে আসামি নোবেল এবং ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিশকাত শুকরানার আদালতে আসামি ফরহাদ জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

এর আগে ১৮ জানুয়ারি আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চুন্নু মিয়া। শুনানি শেষে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নোবেল ও তার বাল্যবন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা করেন শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ। মামলায় বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে পরিচয় মিলছিল না। পরে ওইদিন রাতে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নাম-পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টার জন্য পিবিআইকে খবর দেয়া হলে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেন। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ার পর তার নাম-পরিচয়, বয়স ও বাসার ঠিকানা শনাক্ত করে পিবিআই।

চিত্রনায়িকা শিমুর মরদেহ রাখা হয় রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) মর্গে। সেখানে যাওয়ার পরই শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদকে আটক করে র‌্যাব।

ওই সময় তাদের কাছ থেকে একটি রক্তমাখা প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। পরে তাদের পুলিশে হস্তান্তর করে র‌্যাব।

স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর কলাবাগান এলাকার বাসায় থাকতেন শিমু। গত ১৬ জানুয়ারি সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি আর ফেরেননি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় রাতেই কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন ১৭ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শিমুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
অভিনেত্রী শিমু হত্যা: পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ
হত্যাকারীদের ফাঁসি চান অভিনেত্রী শিমুর বাবা
শিমুর সঙ্গে ২ বছরেও কথা হয়নি: জায়েদ
নিখোঁজের আগের ঘটনা জানালেন শিমুর বোন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Flood Sylhet City Corporation employees leave canceled

বন্যা: সিলেট সিটি করপোরেশন কর্মীদের ছুটি বাতিল

বন্যা: সিলেট সিটি করপোরেশন কর্মীদের ছুটি বাতিল
১৩ দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে সিলেটে ফিরে নগরের একাধিক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও বন্যার্তদের সেবায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে ফিরে বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

নগরের পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় নগর ভবনে জরুরি সভাও ডেকেছেন তিনি।

১৩ দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে সিলেটে ফিরে নগরের একাধিক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘সিলেট মহানগরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নগরের নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। খাবার পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

‘দ্রুত সময়ের মধ্যে প্লাবিত এলাকার পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাঠানো হয়েছে। খাবার পানির সংকট নিরসনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হবে।’

তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দল কাজ করছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান মেয়র আরিফুল।

তিনি বলেন, ‘অব্যাহতভাবে ঢল ও অতিবৃষ্টি হলে সুরমা নদী খনন ছাড়া কোনোভাবেই সিলেট নগরের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নদী খননের বিষয়টি বলা হচ্ছে। কারণ, সুরমা নদী পানির ধারণক্ষমতা হারিয়েছে। খনন হলে মানুষের এই ভোগান্তি হতো না।

‘পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার জেলার মনু নদী খনন হওয়ায় মৌলভীবাজার শহর বন্যামুক্ত হয়েছে। সুরমা নদী খনন করা হলে সিলেট শহরও বন্যামুক্ত থাকবে।’

সিটি করপোরেশন জানিয়েছেন, পানিবন্দি মানুষকে ঠাঁই দিতে সিটি করপোরেশেনের সাতটি ওয়ার্ডে খোলা হয়েছে ১৭টি আশ্রয়কেন্দ্র।

অব্যাহত ঢল ও অতিবৃষ্টিতে গত ১১ মে থেকে সিলেটে বন্যা সৃষ্টি হয়। সিলেটের বেশিরভাগ এলাকাই এখন তলিয়ে আছে।

জেলা ত্রান ও দুর্যোগ বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পানিবন্দি আছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বর্ষার আগেই নদী খনন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিস্তায় বাড়ছে পানি, হুমকিতে ইচলি বাঁধ
বন্যার পানি গোটা সিলেটে
বন্যায় কোনো কিছুই ঠিক নেই সিলেট নগরীর
আসামে বন্যা: পানির স্রোতে উল্টে গেল ট্রেনের বগি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why flood in Sylhet again and again

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

বারবার সিলেটে কেন বন্যা বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেটের বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে প্রধান নদীগুলো বিশেষত সুরমা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া, নগর ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জলাশয় ভরাট, দখল হওয়া এবং সিলেটের উজানে মেঘালয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই এই বন্যা।

দেশের অনেক ভাটি অঞ্চল যখন পুড়ছে তীব্র দাবদাহে, তখন সিলেট ভাসছে জলে। সেখানে বিরাজ করছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি।

এর আগে গত এপ্রিলে বন্যায় তলিয়ে যায় সিলেটসহ আশপাশের হাওর এলাকার ফসল। এর মাসখানেক না যেতেই সিলেটে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যা।

এবার বন্যা এসেছে আরও ভয়ঙ্কর রূপে। তলিয়ে গেছে প্রায় পুরো সিলেট। সুনামগঞ্জেরও বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন।

বারবার কেন সিলেটে বন্যা হচ্ছে? বন্যা কেন এত তীব্র আকার ধারণ করছে?

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে প্রধান নদীগুলো বিশেষত সুরমা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া, নগর ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জলাশয় ভরাট, দখল হওয়া এবং সিলেটের উজানে মেঘালয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই এই বন্যা।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

বুধবার দুপরে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেনও এসব কারণকে দায়ী করেছেন। বলেছেন, ‘সিলেটে এই মৌসুমে সব সময়ই ঢল নামে। আমাদের ছেলেবেলায়ও এমনটি দেখেছি। তখন পানি আটকে থাকত না, চলে যেত। কারণ আমাদের শহরে অনেক পুকুর ছিল।

‘প্রত্যেক বাড়ির সামনে পুকুর ছিল। আর সিলেটকে বলা হতো দিঘির শহর। এখন আমরা নগরের ভেতরের সব পুকুর-দিঘি ভরাট করে বড় বড় বিল্ডিং করেছি। হাওরগুলো ভরাট করে ফেলেছি। এ ছাড়া প্রধান নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। খালি মাঠগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে পানি নামতে পারতেছে না। যেকোনো দুর্যোগেই সিলেটের জন্য এটা একটা ভয়ের কারণ।’

নদীর তলদেশ ভরাট

সিলেটের প্রধানতম নদী সুরমার দুই রূপ। বর্ষায় দুকোল উপচে ডুবিয়ে দেয় জনবসতি। আর গ্রীষ্মে পানি শুকিয়ে পরিণত হয় মরা গাঙে। জেগে উঠে চড়।

প্রায় ২৪৯ কিলোমিটার দৈর্ঘের সুরমা দেশের দীর্ঘতম নদী। ভারতের বরাক নদী থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনায় মিলিত হয়েছে। এই নদী বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে পানিহীন, মৃতপ্রায়।

পলি জমে ভরাট হয়ে পড়েছে নদীর তলদেশ। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সুরমা হয়ে পড়ে বালুভূমি। অপরদিকে অল্প বৃষ্টিতেই নদী উপচে নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দেয় বন্যা। বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে তলিয়ে যায় হাওরের ফসল।

ভরাট হয়ে পড়েছে এ নদীর উৎসমুখও। নদীর উৎসমুখের ৩২ কিলোমিটারে জেগেছে ৩৫টি চর। দুই দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যৌথ নদী কমিশনে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আটকে আছে উৎসমুখ খননও।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সুরমা নদীর উৎসমুখ খননে ২০১২ সালে সিলেট থেকে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর নদী খননে সমীক্ষা চালানো হয়।

সমীক্ষার পর নদী খননে উদ্যোগ নেয়ার কথা ওই সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এরপর এ বিষয়ে আর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

পরে ২০১৮ সালে সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে ৬০০ মিটার সুরমা নদী খনন করা হয়। ওই সময় সিলেট সদর উপজেলা এবং কানাইঘাট উপজেলার কয়েকটি অংশে নদী খননের জন্য প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির মৌসুমে নদী উপচে পড়ে পানি। ভরাট হয়ে গেছে সিলেটের অপর প্রধানতম নদী কুশিয়ারাও। এই দুই নদী খনন ছাড়া বন্যা থেকে উত্তোরণ সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে আছে। এ ছাড়া নাগরিক বর্জ্য, বিশেষ করে প্লাস্টিকজাত দ্রব্য সুরমা নদীর তলদেশে শক্তভাবে বসে আছে। এ কারণে নদী পানি ধারণ করতে পারছে না।

‘যৌথ নদী হওয়ায় নদীর উৎসমুখ ভরাট করতে দুই দেশের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাই আমরা সিলেট মহানগরের অংশে সুরমা নদী খননের দাবি অসংখ্য বার জানিয়েছি। সেই দাবি আমলে নিলে নদীর পানি উপচে বন্যা হতো না, সিলেট নগরের ছড়া ও খালের পানিও অনায়াসে নেমে যেতে পারত।’

সুরমাসহ এই এলাকার নদীগুলো খননের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুরমাসহ এই এলাকার বেশির ভাগ নদীই নাব্য হারিয়েছে। এগুলো খনন করা প্রয়োজন। নদী খননের জন্য গত বছর আমরা ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সম্ভাব্যতা যাছাই শেষে এটি এখন মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন।’

আগামী বর্ষার আগেই নদী খনন করা হবে উল্লেখ করে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের নদীগুলো খননের ব্যাপারে আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। আমরা নদী খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী বর্ষার আগেই নদীগুলো খনন করতে হবে।’

নগরের জলাশয় ভরাট ও দখল

সাগরদিঘির পাড়, লালদিঘির পাড়, রামেরদিঘির পাড়সহ সিলেট নগরীর অন্তত ২০/২৫টি এলাকার নাম এমন। দিঘির নামে এলাকার নাম ঠিকই আছে, কিন্তু নেই দিঘিগুলো। ভরাট হয়ে গেছে অনেক আগেই। গত তিন দশকে ভরাট হয়ে গেছে নগরীর অর্ধশতাধিক দিঘি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসেবে, ১৫/২০ বছর আগেও সিলেট নগরে অর্ধশতাধিক বৃহৎ দিঘি ছিল। অথচ এখন ঠিকে আছে মাত্র ১০/১১টি। বাকিগুলো ভরাট হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হিসাবে, সিলেটে পুকুর-দিঘি মিলিয়ে তিন শতাধিক জলাশয় ছিল। এর দুই তৃতীয়াংশই ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জলাশয় ভরাট করে সরকারি প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

এ ছাড়া সিলেটের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোট-বড় প্রায় ২৫টি প্রাকৃতিক খাল। যা ‘ছড়া’ নামে পরিচিত। পাহাড় বা টিলার পাদদেশ থেকে উৎপত্তি হয়ে ছড়াগুলো গিয়ে মিশেছে সুরমা নদীতে। এসব ছড়া দিয়েই বর্ষায় পানি নিষ্কাশন হতো। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না।

এখন অনেক স্থানে এসব ছড়ার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। ছড়াগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৩টি বড় ছড়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৩ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরেই এসব ছড়ার দু’পাশ দখল করে রেখেছে স্থাপনা নির্মাণ করেছে অবৈধ দখলদাররা।

এ ছাড়া নগরের উপশহর এলাকার হাওর ভরাট করে গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা। বাঘা এলাকার হাওর ভরাট করে হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট।

জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরের পানি ধারণের ক্ষমতা কমে গেছে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এখন বৃষ্টি হলেই নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আর ঢল নামলে বন্যা হয়ে যায়।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩০ কিলোমিটার ছড়া উদ্ধার করেছি। এতে নগরীতে আগেরমতো আর জলাবদ্ধতা হয় না। বেশি বৃষ্টিতে নগরীর কিছু এলাকায় পানি জমলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা নেমে যায়।

‘আমরা নগরের জলাশয়গুলো রক্ষায়ও বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আর কোনো জলাশয় ভরাট করতে দেয়া হচ্ছে না।’

উজানে অতিবৃষ্টি

সিলেটে গত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে। এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে চেরাপুঞ্জিতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চেরাপুঞ্জিতে গত পাঁচ দিনে ১ হাজার ২৩৮ মিলিমিটিার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটেও অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। এই পানি নদী ধারণ করতে পারছে না।’

বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুল হক সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে এসেও একই তথ্য জানান। বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। এক দিনেই প্রায় ১ হাজার ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ঢল হয়ে সিলেটের দিকে নামছে, ফলে বন্যা দেখা দিয়েছে।’

পরিবেশ আন্দোলনের নেতা আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘ভারতের উজানের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের সঙ্গে প্রচুর মাটি আর বালুও আসছে। কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতে বিশেষ করে মেঘালয় বৃক্ষশূন্য করার কারণেই এমন ভূমিক্ষয় হচ্ছে।

‘এতে সুরমাসহ সিলেটের অন্য নদ-নদীর তলদেশ আরও ভরাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সুরমা, কুশিয়ারাসহ সিলেটের অন্য নদ-নদীর খনন করা প্রয়োজন। তবেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

গত এপ্রিলে সুনামগঞ্জের হাওরের পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের নদীগুলো খননে উদ্যোগ নেয়া হবে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় কোনো কিছুই ঠিক নেই সিলেট নগরীর
আসামে বন্যা: পানির স্রোতে উল্টে গেল ট্রেনের বগি
১৮ বছরের মধ্যে সিলেটে সবচেয়ে বড় বন্যা
সুনামগঞ্জে পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of the suspect in the murder of the chairmans child was recovered

চেয়ারম্যানের সন্তান হত্যায় সন্দেহভাজনের মরদেহ উদ্ধার

চেয়ারম্যানের সন্তান হত্যায় সন্দেহভাজনের মরদেহ উদ্ধার বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে শিশু আল রাফসানকে। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি চেয়ারম্যানের ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তি টাওয়ার থেকে পড়ে মারা গেছেন। স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করেছিল বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের শিশুপুত্র আল রাফসানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর পাশের ইউনিয়নের একটি টাওয়ারের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক ব্যক্তির মরদেহ। এর আধাঘণ্টা আগে পাশের ভাঙ্গা উপজেলায় এক ইউনিয়নে নিহত ব্যক্তির ভাইকে পিটুনি দিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

এসব ঘটনা বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় ঘটেছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) ফাহিমা কাদের চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি চেয়ারম্যানের ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি টাওয়ার থেকে পড়ে মারা গেছেন। তাকে স্থানীয়রা ধাওয়া করেছিল বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা তিনি নিশ্চিত করেননি।

মিজানুর রহমান সদর উপজেলার ঢেউখালী ইউপির চেয়ারম্যান। তিনি সাতরশি ইউনিয়নের সদরপুর পোস্ট অফিসের কাছে নতুন বাড়ি করেছেন। সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। সেই বাড়িতেই বুধবার বিকেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার ৯ বছরের ছেলে রাফসান ও স্ত্রী দিলজান বেগমকে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিমা জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাফসানকে কুপিয়েছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তার মা। গুরুতর অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রাফসানকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওমর ফয়সাল নিউজবাংলাকে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার আগেই রাফসানের মৃত্যু হয়। দিলজান বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: বাড়িতে ঢুকে চেয়ারম্যানের শিশুসন্তানকে কুপিয়ে হত্যা

চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাশের ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের বালিয়াহাটি বাজারে স্থানীয়রা ইমরান মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে পিটুনি দেয়। ভাঙ্গা থানা পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এরপর সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার আটরশি ইউনিয়নে একটি মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ারের নিচে পাওয়া যায় ইমরানের ভাই এরশাদ মোল্লার মরদেহ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিমা নিউজবাংলাকে জানান, এরশাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান মিজানের ছেলে রাফসানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। এর জেরে স্থানীয়রা এরশাদকে ধাওয়া দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, জনরোষ থেকে বাঁচতে তিনি টাওয়ারে ওঠেন। তবে তিনি নিজ থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন নাকি তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।

ক্ষোভের জেরেই তার ভাইকে আরেক এলাকায় পেয়ে স্থানীয়রা পিটুনি দিয়েছে বলে ধারণা পুলিশের এই কর্মকর্তার।


এরশাদ কেন সন্দেহভাজন?

চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের সড়কের পাশে মুদির দোকান আছে স্থানীয় আদেল ব্যাপারীর। হামলার ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা হয়েছে বলে আশপাশে চেঁচামেচি হচ্ছিল। তখন আমি এরশাদকে চাপাতি হাতে দৌড়ে যেতে দেখি। বিষয়টি বুঝতে পারিনি, সবার সঙ্গে আমিও দৌড়ে চেয়ারম্যান বাড়িতে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত পড়ে আছে চেয়ারম্যানের ছেলে ও স্ত্রী।’

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার নিউজবাংলাকে জানান, আদেলের মতো এলাকার অনেকেই এরশাদকে পালিয়ে যেতে দেখেছে। ইউপি চেয়ারম্যান মিজানের ওপর এরশাদ ক্ষিপ্ত ছিলেন। এ কারণে এই হামলা চালিয়েছেন বলে ধারণা ভাইস চেয়ারম্যানের।

কী কারণে এরশাদ ক্ষিপ্ত ছিলেন?

ভাইস চেয়ারম্যান জানান, এরশাদ ও ইমরান সদরপুরের ঢেউখালী ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির ছেলে। এরশাদ দুই সন্তানের বাবা। তার স্ত্রীর নাম রাহিমুন। স্ত্রীর সঙ্গে এরশাদের অনেক দিন ধরে কলহ চলছিল। রাহিমুনকে তিনি তালাক দিতে চেয়েছেন। রাহিমুন তাতে নারাজ ছিলেন।

ভাইস চেয়ারম্যান আরও জানান, তালাকের এই ইস্যুটি সালিশ পর্যন্ত গড়ায়। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গত সোমবার এই সালিশ বসে। তাতে ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর ও ঢেউখালী ইউপির চেয়ারম্যান মিজান দুজনই উপস্থিত ছিলেন।

সালিশে এরশাদকে তালাক দিতে মানা করেন ইউপি চেয়ারম্যান মিজান। তবে এরশাদ জানান, স্ত্রীকে তিনি তালাক দিবেনই। এরপর চেয়ারম্যান তাকে শর্ত দেন, তালাক দিতে হলে আগে দুই দিনের মধ্যে স্ত্রীকে দেনমোহরের সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

ভাইস চেয়ারম্যানের ধারণা, সালিশে চেয়ারম্যান মিজানের এই শর্তে ক্ষুব্ধ ছিলেন এরশাদ। বুধবার তার দেনমোহর পরিশোধ করার কথা ছিল। সে দিনই চেয়ারম্যানের বাড়ি হামলা করেন এরশাদ।

তবে এরশাদের ভাইকে পিটুনির বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এসব ঘটনার বিষয়ে চেয়ারম্যান মিজানের মন্তব্য জানতে তাকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ করেননি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিমা জানান, শিশু রাফসানের মরদেহ সদর থানায় আছে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে পাঠানো হবে। আর রাফসানের মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হচ্ছে। চেয়ারম্যান মিজান ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন। হামলার খবর শুনে তিনি ফরিদপুর আসেন। তবে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি আবার ঢাকায় যাচ্ছেন।

এদিকে ঢেউখালী ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহীদ সরদার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানিয়েছেন, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নিহত এরশাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাত ১০টার দিকে আগুন দেয়া হয় এরশাদের বাড়িতে। তবে সেখানে কেউ ছিলেন না বলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাড়িটি আগুনে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে চেয়ারম্যানের শিশুসন্তানকে কুপিয়ে হত্যা

মন্তব্য

উপরে