আগামী জুন থেকে কানাডার টরন্টোতে পুরোদমে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। কানাডীয় কর্তৃপক্ষকে ১২ জুন থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে বিমান। কানাডা বলছে, ২৬ জুনের পর থেকে ফ্লাইট শুরুর কথা। এখন দুই সংস্থা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
তবে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, এই রুটটিতে আপাতত সরাসরি ফ্লাইট শুরু না করে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার শহরে স্টপওভারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান। এর কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, রাশিয়ায় যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার নিরাপদ নয়। এটি এড়াতেই মূলত এই স্টপওভারের চিন্তা।
এর আগে, গত ২৬ মার্চ টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭০ যাত্রী নিয়ে উড়াল দেয় বিমানের প্রুভেন (পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক) ফ্লাইট। ঢাকা থেকে উড়াল দিয়ে টানা সাড়ে ১৮ ঘণ্টা আকাশে থেকে কানাডায় পৌঁছায় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ।
দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে একটানা এতক্ষণ আকাশে ওড়ার নজির আর নেই। বিশ্বেও এমন নজির খুব কমই রয়েছে। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং বলছে, এটি যাত্রী নিয়ে কোনো সেভেন এইট সেভেন উড়োজাহাজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ একটানা ওড়ার রেকর্ড।
বিমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়ার পরিস্থিতির কারণে আপাতত আমরা ম্যানচেস্টারে স্টপওভার দিয়ে টরন্টোতে ফ্লাইট চালানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেহেতু সেখানে আমাদের একটি রুট আছে। আর এখান থেকে যাত্রী নিতেও কোনো বাধা নেই।
‘আমরা চেষ্টা করছি, কানাডা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফিফথ ফ্রিডমের অনুমোদন নিতে। সেটি পাওয়া গেলে ম্যানচেস্টার থেকে যাত্রী নিতেও কোনো বাধা থাকবে না।’
আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালানোর ক্ষেত্রে দুটি গন্তব্যের মধ্যবর্তী কোনো গন্তব্য থেকে যাত্রী নিতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমোদন নিতে হয়। এভিয়েশনের পরিভাষায় এটিকে ফিফথ ফ্রিডম বলা হয়।
বাণিজ্যিক ফ্লাইট কবে নাগাদ শুরু হবে জানতে চাইলে বিমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত যে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা, সেটি হলো, আমরা ১২ জুন থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করতে কানাডীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, ২৬ জুন থেকে সেখানে ভ্যাকেশন শুরু হচ্ছে। সে সময় থেকে আমরা ফ্লাইট শুরু করতে পারি কি না।
‘এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের মার্কেটিং বিভাগ কাজ করছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাব। এরপর তারিখ ঘোষণা করা হবে। পুরো পরিস্থিতি আমরা এখন পর্যবেক্ষণ করছি।’
ঢাকা থেকে আকাশপথে টরন্টোর যে দূরত্ব, এটিকে এভিয়েশনের পরিভাষায় বলা হয় ‘আল্ট্রা লং হওল’। বিশ্বে এই ধরনের গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চলার নজির খুব বেশি নেই।
এয়ারলাইনসগুলো সাধারণত তৃতীয় কোনো গন্তব্যে স্টপওভার করেই ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর একটি বড় কারণ, এ ধরনের দূরত্বে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে উড়োজাহাজে পর্যাপ্ত জ্বালানি বহন করতে হয়। বাড়তি জ্বালানি বহন করার কারণে উড়োজাহাজের ভারসাম্য ঠিক রাখতে কমিয়ে রাখা হয় যাত্রীসংখ্যা। এভিয়েশনের পরিভাষায় এটিকে বলে লোড পেনাল্টি।
ঢাকা থেকে সরাসরি টরন্টো যেতে সময় লাগে প্রায় ১৬ ঘণ্টা। এই রুটে বিমান ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তৈরি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। এই উড়োজাহাজগুলোর জ্বালানি খরচ অন্যগুলোর চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ কম। আর এ কারণে এগুলো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে একটানা ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে উড়তে পারে।
সাড়ে ১৮ ঘণ্টা উড়াল দিয়ে বিমানের যে উড়োজাহাজটি টরন্টোয় গিয়েছিল, এই পথ পাড়ি দেয়ার জন্য সেটিতে বহন করা যেত সর্বোচ্চ ১৪০ যাত্রী। অথচ বিমানের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ২৯৮ জন।
১৬ ঘণ্টায় টরন্টো পৌঁছানোর রুট ব্যবহার করে যদি এই উড়োজাহাজটি দিয়ে সরাসরি টরন্টো ফ্লাইট করা হতো, তাহলে সেখানে সর্বোচ্চ বহন করা যেত ২৩০ যাত্রী।
ঢাকা থেকে জাপানের নারিতা হয়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং কানাডার টরন্টো হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে আকাশপথে যুক্ত হতে চেষ্টা বেশ কয়েক বছর ধরেই চালিয়ে আসছে বিমান। কিন্তু করোনার কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
এ রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল পুরোদমে শুরু হলে এয়ারলাইনসটি তার বহরে থাকা লম্বা পাল্লার উড়োজাহাজগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিমানের বহরে লম্বা দূরত্বে উড়তে সক্ষম অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ থাকলেও রুট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সেগুলোর সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭ ও চারটি বোয়িং ৭৭৭ মডেলের উড়োজাহাজ। এর প্রত্যেকটি টানা ১৬ ঘণ্টার বেশি উড়তে সক্ষম।
লম্বা দূরত্বের মধ্যে বর্তমানে ফ্লাইট চালু রয়েছে শুধু লন্ডন রুটে। এ রুটে সরাসরি যেতে সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা।
বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা কোনো এয়ারলাইনসেরই ঢাকা থেকে টরন্টোয় সরাসরি ফ্লাইট নেই। বিমান আশা করছে, নারিতা ও টরন্টোয় ফ্লাইট শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক আন্তর্জাতিক যাত্রী তারা পাবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন জুয়া এবং ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য জানান।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে টাকা পাচার ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন বন্ধে সরকার সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করেছে, যার ২০ ধারায় অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অংশগ্রহণ বা এতে সহায়তার বিপরীতে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই আইন জারির পর বিএফআইইউ কর্তৃক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে গত মে মাসে সিআইডিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গ্রাহকদের সচেতন করার পাশাপাশি কোনো মার্চেন্ট বা সাধারণ গ্রাহক এতে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব এমএফএস প্রোভাইডারকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনযোগে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ ও বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (জিএসিসি)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন। এ সময় স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে সম্মান জানিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে চীনের ঐতিহ্যবাহী দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিং সফরকালীন তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এই গেস্ট হাউসেই অবস্থান করবেন।
এর আগে বেলা ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই সফরে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল সাথে রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সফরে সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, বেইজিং পৌঁছানোর আগে সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে তিনি চীনে পৌঁছান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সরকারের দায়িত্ব হলো সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।
বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দিরের উন্নয়ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শেষে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বা বুলেট ট্রেনে করে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি বেইজিং স্টেশনে এসে পৌঁছান। এ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতা, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিশাল মিলনমেলা ঘটে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গিনি, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রোর সরকারপ্রধানরা এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গ্রীষ্মকালীন এই দাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিশ্বের সেরা অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতাকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই সফর বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছিলেন। বেইজিংয়ে তাঁর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অস্ট্রেলীয় সরকারের মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ-এর মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার এই তহবিলের মাধ্যমে নতুন এক মানবিক উদ্যোগের সূচনা হলো।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিশেষ অনুদান মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অনুষ্ঠানটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” মন্ত্রী এই বিশাল সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি বলেন, তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই ১৬ মিলিয়ন ডলারের তহবিলটি মূলত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৩,১৬২ কোটি টাকা) বৃহৎ মানবিক সহায়তা প্যাকেজের একটি অংশ। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সরকার এই আঞ্চলিক সমস্যা মোকাবিলায় মোট ১.২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা ১০,৭৭০ কোটি টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। মানবিক এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলন সম্পন্ন করে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় তিনি হাই স্পিড ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
সফরসূচি অনুযায়ী, বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ সভায় বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এক বিশাল সমাবেশ ঘটে।
এই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা সর্বোত্তম অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার পথ প্রশস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলন শেষে তিনি এখন রাজধানী বেইজিংয়ের পথে রয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ (WEF)-এর মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ (Innovating at Scale) শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাগতিক চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ। বিশ্বনেতারা এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
সেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিবেশনের বিরতিতে বিশ্বনেতারা সম্মিলিতভাবে এক ফটোসেশনেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য