× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
If you give 500 in Benapole 5 minutes or hours after hours
hear-news
player
google_news print-icon

বেনাপোলে ৫০০ দিলে ৫ মিনিটে, নয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা

বেনাপোলে-৫০০-দিলে-৫-মিনিটে-নয়তো-ঘণ্টার-পর-ঘণ্টা
বেনাপোল বন্দরে যাত্রী পারাপার বেড়েছে।
বাংলাদেশ অংশ পাড়ি দিয়ে ভারতের অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনেও হয়রানিতে পড়ছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা। ওই ইমিগ্রেশনে বর্তমানে ৪০টি ডেস্ক থাকলেও অফিসার আছেন মাত্র ৩ জন। ওই অফিসাররা আড়াই হাজার যাত্রীর ইমিগ্রেশন সিল মারতে সময় নিচ্ছেন ১৬/১৭ ঘণ্টা।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরাপারে করোনা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে দুই দেশই। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর থেকেই যশোরের বেনাপোল বন্দরে ভারতে গমণেচ্ছুক মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তাদের কেউ বেড়াতে যাচ্ছেন, কেউ চিকিৎসক দেখাতে আবার কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।

তবে, এমন ভিড় থেকে সুবিধা আদায় করতে বন্দরটিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে একটি অসাধু চক্র। টাকার বিনিময়ে তারা কারও কাজ পাঁচ মিনিটে করে দিচ্ছে, আবার কেউ টাকা না দিলে তাকে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, করোনার আগে আন্তর্জাতিক এই চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার যাত্রী ভারতে যেতেন। ২০২০ সালে মার্চ মাসে মহামারি তীব্র আকার ধারণ করলে দুই পারের চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে যায়।

গত মাসে করোনার সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ টুরিস্ট ভিসা চালু করায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার ব্যাপক হারে বেড়েছে। বর্তমানে এই চেকপোস্ট দিয়ে আগের মতোই যাত্রী চলাচল শুরু হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ১৫ হাজার ৩০০ জন যাত্রী ভারতে গেছেন। আর ভারত থেকে এসেছেন ৭ হাজার ২৫৭ জন। ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভিড় বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।

এমন ভিড়ে যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। একজন পাসপোর্টধারী যাত্রীকে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পৌঁছাতে বাংলাদেশ অংশে অন্তত ৮টি স্থানে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

এভাবে সোনালী ব্যাংক শুরু করে ইমিগ্রেশন চেক আউট গেট অর্থাৎ নো ম্যান্স ল্যান্ড পর্যন্ত একজন যাত্রীকে পৌঁছাতে অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগছে।

তবে মাথা পিছু ৫০০ টাকা দিলে সেই স্থানে মাত্র ৫ মিনিটেই পৌঁছানো যাচ্ছে। আর এসব কাজ করছেন বন্দরে কর্মরত আনসার, লেবার ও কয়েকজন নারী ক্লিনার। যাত্রীরা যখন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে উঠছেন, লেবার ও নারী ক্লিনাররা তখন কিছু যাত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়ে আনসার সদস্যদের কাছে দিচ্ছেন। আনসাররা তখন গেট খুলে টাকা দেয়া যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের ভেতরে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন।

এদিকে ভারতগামী যাত্রীদের নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় গিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদ বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ মিনিটি পর পর ৭/৮ জন যাত্রী ভারতে ঢুকে ইমিগ্রেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রবেশ করছেন। সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ প্রত্যেক যাত্রীকে করোনার পিসিআর টেস্ট করছে। এতে সময় লাগে আরও ৪০ মিনিটি।

এরপর ভারতের অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনেও হয়রানিতে পড়ছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা। ওই ইমিগ্রেশনে বর্তমানে ৪০টি ডেস্ক থাকলেও অফিসার আছেন মাত্র ৩ জন। ওই অফিসাররা আড়াই হাজার যাত্রীর ইমিগ্রেশন সিল মারতে সময় নিচ্ছেন ১৬/১৭ ঘণ্টা।

এ অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে, ছোট বাচ্চা ও রোগীদের নিয়ে মহা বিপাকে পড়ছেন তারা।

বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের ইমিগ্রেশনে যাত্রী আসলে তেমন সময় লাগছে না। ওপারে স্বাস্থ্য বিভাগে অনেক সময় লাগায় বাংলাদেশী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।’

আরও পড়ুন:
বেনাপোল বন্দরে জায়গা সংকট, হাজারও ট্রাকের অপেক্ষা
বেনাপোলে পুড়ল ভারতের ৫ ট্রাক
বেনাপোলে বোমা বিস্ফোরণ: পৌর কাউন্সিলরকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
বেনাপোল বন্দরে বোমা বিস্ফোরণ, জড়িতদের বিচার দাবি
বেনাপোল বন্দরে পণ্য লোডিং-আনলোডিং শুরু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Portugal visa process will be easy from Dhaka

পর্তুগালের ভিসা ঢাকা থেকেই, সহজ হবে প্রক্রিয়া

পর্তুগালের ভিসা ঢাকা থেকেই, সহজ হবে প্রক্রিয়া পর্তুগালের লিসবন। ছবি: সাইফুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেয়া
পর্তুগালে বর্তমানে ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন এবং সংখ্যাটি ক্রমেই বাড়ছে। এই অধিবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ কিছু সমস্যায় আছেন। তাদের সেই সমস্যার সমাধানে সে দেশের সরকার কাজ করছে বলেও জানান পর্তুগালের নেতা।

কনস্যুলেট অফিস খুলে ঢাকা থেকে পর্তুগালগামীদের ভিসা দেবে লিসবন। আরও বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নেয়ার পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতেও রাজি হয়েছে দেশটি।

ঢাকা সফরে আসা পর্তুগালের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো আনদ্রে শুক্রবার এ কথা জানান।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক মতবিনিময়ে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। আয়োজনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশ-পর্তুগাল রিলেশন্স: কোয়েস্ট ফর ডিপার বাইলেটারাল কো-অপারেশন।’

পর্তুগিজ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পর্তুগালের শ্রমবাজার সারা বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত। বাংলাদেশি শ্রমিকরা যাতে সেই বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারে, সে জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করাসহ সব ধরনের উদ্যোগ নেবে লিসবন।’

কনস্যুলেট অফিস খুললে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি শ্রমিক নেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি। জানান, কৃষি খাত ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জনবলের বহু চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ তার দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় বলেও জানান তিনি।

পর্তুগালের ভিসা ঢাকা থেকেই, সহজ হবে প্রক্রিয়া

শুক্রবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পর্তুগালের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো আনদ্রে ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বেশি হারে বৃত্তি পাওয়ার ব্যবস্থা করতে পর্তুগাল সরকার কাজ করছে বলেও জানান দেশটির প্রতিমন্ত্রী।

পর্তুগালে বর্তমানে ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছে এবং সংখ্যাটি ক্রমেই বাড়ছে। এই অধিবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ কিছু সমস্যায় আছেন। তাদের সেই সমস্যার সমাধানে সে দেশের সরকার কাজ করছে বলেও জানান পর্তুগালের নেতা।

ফ্রান্সিসকো আনদ্রে বলেন, ‘পাঁচ শ বছর আগে পর্তুগিজদের এ দেশে আগমন। দুই দেশ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি পালন করছে। বাংলাদেশে আমিই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আশা করি, এতে সম্পর্কের নতুন জানালা খুলেছে। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিতে চায় আমার দেশ।’

পর্তুগাল নিজের ৬০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণ করে জানিয়ে এই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহও প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুৎ সহযোগিতার বড় ক্ষেত্র হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

পর্তুগিজ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতির চলমান সংকট নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সর্বত্রই জ্বালানিসংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে হাজির হচ্ছে। আমাদের আলোচনায় এটাকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে পর্তুগাল একমত বলেও জানান তিনি। তার দেশ বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন। বলেন, ‘আমরা মনে করি, শরণার্থী সংকটের সমাধান শুধু একটি দেশের একার দায়িত্ব নয়, এটা এ অঞ্চলের সব দেশের দায়িত্ব।’

সামরিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে পর্তুগাল সরকার রাজি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নৌবাহিনীসহ সব বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে আগ্রহী আমরা।’

বাংলাদেশকে খেলাধুলায় সহায়তা করতেও তার দেশ প্রস্তুত বলে জানান ফ্রান্সিসকো আনদ্রে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালের ভিসা করার বিষয়টি আমরা মে মাস থেকে বলে আসছি। অচিরেই সেই সুসংবাদ পাব। এখন আমাদের জনগণকে দিল্লি গিয়ে ভিসা করতে অনেক টাকা, সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়, সেই সঙ্গে থাকে অনিশ্চয়তা।’

আমরা দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি জাহাজ চলাচল নিয়েও কাজ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) সাব্বির আহমেদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত কাজি ইমতিয়াজ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন।

বক্তারা বলেন, এই অঞ্চলের সঙ্গে পর্তুগালের বাণিজ্যের শুরু ষোড়শ শতাব্দীতে। মাঝে ভাটা পড়লেও নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ আছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবসম্পদ রপ্তানি, সমুদ্র প্রযুক্তি, সুনীল অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, ডিজিটাইজেশন এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশ কাজ করতে পারে বলে মত দেন তারা।

ঢাকায় পর্তুগালের কূটনৈতিক মিশন খোলার গুরুত্বও তুলে ধরা হয় মতবিনিময়ে।

আরও পড়ুন:
রোড টু মক্কা চুক্তি হচ্ছে
দেখে নিন পর্তুগাল, ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দল
৩ বছরে আমেরিকায় পুলিশ গুলি করে মেরেছে ৩০৭৬ জনকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুবরাজ সালমান
সরকার কাউকে জোর করে নিয়ে মারে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Explosion in Istanbul Bangladeshis are safe

ইস্তাম্বুলে বিস্ফোরণ: নিরাপদে আছেন বাংলাদেশিরা  

ইস্তাম্বুলে বিস্ফোরণ: নিরাপদে আছেন বাংলাদেশিরা

  ইস্তাম্বুলের ইস্তিকলাল অ্যাভিনিউয়ে বিস্ফোরণে ৬ জন প্রাণ হারান। ছবি: সংগৃহীত
ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নূরে-আলম নিউজবাংলাকে জানান, ইস্তাম্বুলের পর্যটন কেন্দ্র ইস্তিকলালে কয়েক হাজার বাংলাদেশির বসবাস। এর বাইরে কিছুসংখ্যক পর্যটকও প্রায় সবসময় এই এলাকায় থাকেন। ইস্তিকলাল অ্যাভিনিউতে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো বাংলাদেশি হতাহত হওয়ার খবর তারা পাননি।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সবশেষ খবর অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণে ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৬ জন।

রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ইস্তাম্বুলের ইস্তিকলাল অ্যাভিনিউয়ে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর আলি ইয়েরলিকায়া।

এই বিস্ফোরণের কারণ ও কারা এর সঙ্গে জড়িত সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের গভর্নর আলি ইয়ারলিকায়া জানিয়েছেন যে প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ইস্তিকলাল অ্যাভিনিউয়ে বিস্ফোরণে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৬ জন। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ইস্তাম্বুলে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত ৱহওয়ার খবর মেলেনি। এই অঞ্চলে কয়েক হাজার বাংলাদেশি বসবাস করলেও তাদের সবাই সুস্থ ও নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাস।

ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নূরে-আলম নিউজবাংলাকে জানান, ইস্তাম্বুলের পর্যটন কেন্দ্র ইস্তিকলাল অ্যাভিনিউতে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো বাংলাদেশি হতাহত হয়নি।

এখানে কয়েক হাজার বাংলাদেশির বসবাস। এর বাইরে কিছুসংখ্যক পর্যটকও প্রায় সবসময় এই এলাকায় থাকেন। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত হওয়ার খবর পাইনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 Bangladeshis ran in New York City Marathon

নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে দৌড়ালেন ৬ বাংলাদেশি

নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে দৌড়ালেন ৬ বাংলাদেশি ম্যারাথন শেষ করছেন বাংলাদেশের রানার প্রশান্ত রায়। ছবি: সংগৃহীত
স্ট্যাটেন্ট আইল্যাল্ডে শুরু হয়ে নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইনস হয়ে শহরের ৫টি বিখ্যাত ব্রিজ অতিক্রম করে সেন্ট্রাল পার্কে এসে শেষ হয়।

গত রোববার নিউ ইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় ম্যারাথন। এতে অংশ নেন বাংলাদেশের ৬ দৌড়বিদ। স্ট্যাটেন্ট আইল্যাল্ডে শুরু হয়ে নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইনস হয়ে শহরের ৫টি বিখ্যাত ব্রিজ অতিক্রম করে সেন্ট্রাল পার্কে এসে শেষ হয়।

নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে বাংলাদেশ থেকে দুইজন রানার প্রশান্ত রায় ও মোহাম্মদ ইসলাম বাবু ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন। এ ছাড়াও নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি রানার শাহদিদুল মিহাল আহসান, তোয়ামিম রহমান, হাবিব খান এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান খালিদ কবির সফলভাবে এই দৌড় সমাপ্ত করেন।

নিউ ইয়র্ক রোড রানার্স আয়োজিত এ ম্যারাথন প্রথমবার ১৯৭০ সালে সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিত হয়।

কেভিড মহামারির কারণে ২০২০ সালে ম্যারাথন হয়নি। ২০২১ সালে সীমিত আকারে আয়োজিত হয়। এবারের দৌড়ে প্রায় ৫০ হাজার দৌড়বিদ অংশ নেন ও ৪৭ হাজার ৮৩৯ জন দৌড় শেষ করেন। ১৩১টি দেশের রানাররা অংশ নিয়েছেন এই ম্যারাথনে।

আরও পড়ুন:
ক্যানাডার ম্যারাথনে অংশ নিলেন বাংলাদেশের প্রশান্ত
ভারতের আল্ট্রা ম্যারাথনে বাংলাদেশের প্রশান্ত ও শাহজাদা
বঙ্গবন্ধু ঢাকা ম্যারাথনে বিজয়ী যারা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Expatriates killed over bamboo cutting

বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী খুন

বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী খুন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
১০ দিন আগেই সৌদি আরব থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন নিহত মোবারক হোসেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন এক প্রবাসী। এ সময় উভয়পক্ষের আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বড়বাড়ি গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

নিহত ৪০ বছর বয়সী মোবারক হোসেন ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ১০ দিন আগেই সৌদি আরব থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন।

কাপাসিয়া মডেল থানার ওসি এ এফ এম নাসিম বলেন, ‘মোবারক ও প্রতিপক্ষ হাদিউলের বাড়ি পাশাপাশি। হাদিউলের বাড়ির ঝাড়ের বাঁশ গিয়ে মোবারকদের বাড়ির ওপর পড়েছে। এতে মোবারকদের সমস্যা হওয়ার কথা জানালেও হাদিউলরা বাঁশ কেটে নেননি।

‘এ নিয়ে শনিবার সকালে মোবারক ও হাদিউলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাদিউল মোবারককে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় সংঘর্ষে মোবারকের ভাই আলম ও বোন খালেদা ছাড়াও আহত হন প্রতিপক্ষের হাদিউল ও তার ভাই রফিকুল ইসলাম।’

ওসি জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজন পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
৮ মাসে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স, ৩৪ বিলিয়নে নামছে রিজার্ভ
উচ্চ আয়ের প্রবাসীরাও পাবেন ডলারপ্রতি ১০৭ টাকা
প্রেমের সম্পর্ক না মানায় সাউথ আফ্রিকায় প্রবাসীর ‘আত্মহত্যা’
রেমিট্যান্স কমছেই, ২৭ দিনে এসেছে ১৩৬ কোটি ডলার
বাসচাপায় প্রবাসীর স্ত্রী নিহত, ছেলে হাসপাতালে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Torture in Libya by talking about Italy

ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন

ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার আন্তদেশীয় পাচারকারী চক্রের হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বাদশা ও রাজিব মোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা
মানব পাচারকারীদের টাকা দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় অপহৃত হয়েছিলেন সফিকুল ইসলাম। সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে দেশে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই চক্রের দেশি সদস্যদের।

ইতালি পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন পিরোজপুরের নাজিপুরের সফিকুল ইসলাম ওরফে শফিউল্লাহ শেখ। এর জন্য বাদশা নামে একজনের সঙ্গে ১৩ লাখ টাকা চুক্তি করেন তিনি।

ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ার বেনগাজিতে নিয়ে তাকে অপরহণ করা হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের পর ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এভাবে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার শফিউল্লাহ শেখ শফিক জানান, তিনি ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৭ লাখ টাকা দেন মানব পাচারকারী একটি চক্রের হাতে। ওই চক্রের সদস্যরা তাকে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে দুবাই পাঠান, সেখান থেকে তাকে তারা সিরিয়া হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যান।

তিনি বলেন, ‘দুবাই এয়ারপোর্ট আমাদের ৭ জনকে রাজিবের সহযোগী সবুজ নামে একজন একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখান থেকে আমাদের ৪২ জনকে তারা সিরিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে আমরা তিন দিন খাবার খেতে পারি নাই। সেখান থেকে আমাদের লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়।

‘লিবিয়ার বিমানবন্দর থেকে একটু দূরে বেনগাজিতে একটি বাসায় নিয়ে যায়। ওরা আমাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে রাজিবের ভগ্নিপতি সুলতান এবং অন্যরা আমাদের নির্যাতন করে এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। পরে পরিবারকে ফোন দিয়ে টাকা চায়। সময় যত যায়, আমাদের ওরা তত মারধর করতে থাকে।

‘পরে আমার ভগ্নিপতি দেশে পুলিশের সহয়তা নেন। লিবিয়া থেকে আমাকে ফেরত আনা হয়।’

শফিউল্লাহর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (তেজগাঁও) বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনাল টিম গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এসব জায়গা থেকে ইউরোপ, ইতালিসহ মধ্যপ্রাচ্যে আন্তদেশীয় সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বাদশা ও রাজিব মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর-রশিদ বলেন, ‘রাজিবের আত্মীয় দুবাইতে অবস্থানকারী পাচারকারী চক্রের সদস্য সবুজ দুবাই এয়ারপোর্টে ভুক্তভোগীসহ আরও ২০ জনকে রিসিভ করে একটি বাসায় নিয়ে যান। দুবাই থেকে সিরিয়া হয়ে লিবিয়ার মিসরাত এলাকার একটি ক্যাম্পে বাদশা ও রাজিবের বোনজামাই সুলতানের নেতৃত্বে ভিকটিমকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।’

হারুন-অর রশিদ আরও জানান, ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করে মোবাইল ফোনে তার পরিবারের কান্না শুনিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার নিরুপায় হয়ে গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের শরণাপন্ন হলে যাত্রাবাড়ী থানায় মানব পাচার আইনে গত ২৭ অক্টোবর একটি মামলা করা হয়। গোয়েন্দা তেঁজগাও বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের দেশীয় দুই সদস্য বাদশা ও রাজিব মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাধ্যমে লিবিয়ায় অবস্থান করা সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের সদস্য সুলতানের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপহৃত সফিকুল ইসলামকে লিবিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে গোয়েন্দাপ্রধান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তদেশীয় সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তারা দেশের বেকার যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার করে থাকে। এ চক্রের বিদেশে অবস্থান করা অন্য সদস্যদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের অপহরণ করে ক্যাম্পে আটক রেখে শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে ভিকটিমদের পরিবারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন:
টেক্সাসের লরিতে মৃতদেহ, চালকসহ অভিযুক্ত ২
লিবিয়ায় আটকদের ফেরত আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
লিবিয়া উপকূলে ৫০০ বাংলাদেশি আটক
ন্যায্যতার ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের দাবি
মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার ও অভিবাসনের সংকট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
High income expats will also get 107 taka per dollar

উচ্চ আয়ের প্রবাসীরাও পাবেন ডলারপ্রতি ১০৭ টাকা

উচ্চ আয়ের প্রবাসীরাও পাবেন ডলারপ্রতি ১০৭ টাকা উচ্চ আয়ের পেশাজীবী বা 'হোয়াইট কলারধারী’ প্রবাসীরাও ডলারপ্রতি পাবেন ১০৭ টাকা। ফাইল ছবি
এখন থেকে হোয়াইট কলার ওয়েজ আর্নার প্রবাসীরাও ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা করে পাবেন। রেমিট্যান্স-প্রবাহ বাড়াতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতদিন তাদের রপ্তানি দর অনুযায়ী ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা করে দেয়া হতো।

এখন থেকে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের প্রবাসী পেশাজীবীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো আপাতত রেমিট্যান্স আহরণ বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুলও নেবে না বলে জানা গেছে।

ফলে হোয়াইট কলার ওয়েজ আর্নাররাও ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা করে পাবেন। রেমিট্যান্স-প্রবাহ বাড়াতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতদিন তাদের রপ্তানি দর অনুযায়ী ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা করে দেয়া হতো।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘হোয়াইট কলার’ চাকরি বলতে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, ব্যাংকার, নার্সসহ উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের বোঝায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম, এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী 'হোয়াইট কলার' ওয়েজ আর্নার হিসেবে প্রবাসীদের মতো রেমিট্যান্স দর পাওয়ার কথা।

৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাফেদার ওপর ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

১২ সেপ্টেম্বর এবিবি ও বাফেদা ডলারপ্রতি রেমিট্যান্স, রপ্তানি নির্দিষ্ট করে দেয়। তখন রেমিট্যান্স ঠিক হয় সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা, যা গত ১৩ সেপ্টেম্বর কার্যকরের ঘোষণা দেয়।

এরপর দুই দফা বৈঠকে রেমিট্যান্স দর ১ টাকা কমিয়ে ১০৭ টাকা করা হয়৷ যেটা বর্তমানে কার্যকর আছে।

বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত ওয়েজ আর্নার্সদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না।

এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও সেবিকাদের আয় ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালেও এখন থেকে তারাও ওয়েজ আর্নার্সদের মতো সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা দর পাবেন।

এতদিন হোয়াইট কলার জবে সম্পৃক্তরা ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালেও তারা রপ্তানি বিল হারে ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা করে পেতেন।’

তিনি বলেন, ‘এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোতে তাদের শুধু ১০৭ টাকা দরে দেয়া হতো।'

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স-প্রবাহ বাড়াতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের এক্সচেঞ্জ হাউস বিদেশে খোলার জন্য সহজতর করে দিয়েছে। রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য বিদেশে প্রচার-প্রচারণা যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি কিছু মাশুল ছাড় দেয়া যায় কি না, সেটা নিয়েও আলাপ হয়েছে।'

বিনিময় হারের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে এর আগে রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছিলেন ‘বর্তমান বিনিময় হার নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি সাময়িক। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার নির্ধারণে একটি ইউনিফাইড ফর্মুলা নির্ধারণ করবে।’

তারই অংশ হিসেবে রিজার্ভ বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ থেকে ডলার পাবে না বেসরকারি ব্যাংকগুলো
প্রেমের সম্পর্ক না মানায় সাউথ আফ্রিকায় প্রবাসীর ‘আত্মহত্যা’
রেমিট্যান্স কমছেই, ২৭ দিনে এসেছে ১৩৬ কোটি ডলার
ডলার প্রিমিয়াম ও ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগে এনআইডি লাগবে না
বাসচাপায় প্রবাসীর স্ত্রী নিহত, ছেলে হাসপাতালে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the relationship between sweet pumpkins and Halloween?

হ্যালোইনের সঙ্গে মিষ্টিকুমড়ার সম্পর্ক কোথায়

হ্যালোইনের সঙ্গে মিষ্টিকুমড়ার সম্পর্ক কোথায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খামারে ফলানো মিষ্টিকুমড়া। ছবি: নিউজবাংলা
শরতের বিদায় ও শীতের আগমনী যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ‘ফল’ নামে পরিচিত, এই সময়টায় কুমড়া শুধু হ্যালোইনের জন্যই নয়। ‘থ্যাংকস গিভিং’ উৎসবেরও অন্যতম প্রধান উপাদান।

পশ্চিমে তা উত্তর আমেরিকা হোক অথবা ইউরোপ, হ্যালোইন এক জনপ্রিয় উৎসব। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ দিনটায় পালিত হয় উৎসবটি, যা হয়তো পুবের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগের নানামুখী প্রসারের কারণে এখন আমরা সবাই জানি।

এই হ্যালোইন উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ বলা যেতে পারে মিষ্টিকুমড়া। হ্যালোইনের সঙ্গে এর যোগসূত্র কোথায়? এ নিয়ে কী ধরনের জনশ্রুতিই বা প্রচলিত আছে জেনে নেয়া যাক।

সেপ্টেম্বর মাস থেকেই পশ্চিমের খামারগুলোয় শুরু হয় কুমড়া প্রদর্শনী। উত্তর আমেরিকার খামারিরা নিজেদের খামারে উৎপাদিত কুমড়া তো প্রদর্শন করেনই, সঙ্গে থাকে কে কত বড় ফলাতে পেরেছে, কার্ভিং বা নকশা কাটা, এটি দিয়ে তৈরি খাবারের প্রতিযোগিতাও। পুরো বিষয়টাই যুক্তরাষ্ট্রের খামারগুলোয় ‘পাম্পকিন প্যাচ’ নামে পরিচিত।

পাম্পকিন প্যাচের অন্যতম একটি কর্মকাণ্ড হলো কুমড়া তোলার প্রতিযোগিতা। সামান্য অর্থের বিনিময়ে এতে অংশ নেয়া যায়। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের জন্য বিনে পয়সায়ও এ আয়োজন করে থাকে।

বলে রাখা ভালো, আমাদের দেশে মিষ্টিকুমড়া সবজি হিসেবে পরিচিত হলেও, পশ্চিমে কিন্তু এটি ফল হিসেবে পরিচিত।

আমেরিকান শ্বেতাঙ্গদের বৃহদাংশের পূর্বপুরুষ এসেছে আয়ারল্যান্ড থেকে। তাই হ্যালোইন এবং মিষ্টিকুমড়ার সঙ্গে আইরশিদের একটি সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হয়। সেখানে নাকি স্টিঞ্জি জ্যাক নামে এক মাতাল বাস করত। যে কিনা একবার শয়তানকে মদ্যপানের দাওয়াত দিয়ে বসে।

স্বয়ং শয়তানকে মদ্যপানের আমন্ত্রণ জানানো তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। তাই জ্যাক ফন্দি আঁটে কীভাবে তাকে ধোঁকা দেয়া যায়। কিন্তু যথারীতি শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে মৃত্যু হয় তার।

স্বর্গদ্বারে প্রবেশের মুহূর্তে তাকে জানানো হয়, মদ্যপান ও কিপটেমির জন্য সে কোনোভাবেই সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। ওদিকে প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিয়ে বসে থাকা শয়তান তাকে নরকেও আশ্রয় দেয় না। বদলে জ্যাকের আত্মাকে একটি শালগমের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেরত পাঠানো হয় পৃথিবীতে। সেই শালগম আকারে সে যেকোনো অশুভকে প্রতিহত করে আসছে হাজার বছর ধরে-এমনটাই প্রচলিত রয়েছে।

কালের বিবর্তনে শালগমের ‘অল হ্যালোস ডে’ বা ‘হ্যালোইন’ উৎসবে ভূত তাড়াতে বিশেষ আকৃতিতে কুমড়াকে নকশা করে রেখে দেয়া হয় বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে। ওই বিশেষ নকশার কুমড়ার ভেতরে আলো জ্বালালে তা আবার ‘স্টিঞ্জি জ্যাক ল্যান্টার্ন’ নামেও পরিচিত হয়।

যদিও শরতের বিদায় ও শীতের আগমনী যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ‘ফল’ নামে পরিচিত, এই সময়টায় কুমড়া শুধু হ্যালোইনের জন্যই নয়। ‘থ্যাংকস গিভিং’ উৎসবেরও অন্যতম প্রধান উপাদান।

এ-সংক্রান্ত একটি মিথ বা শ্রুতি জানা গেল যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের ‘বগার্স অরচোর্ড’ গিয়ে। এক খামারি বললেন, যে বছর যত দ্রুত কুমড়ার রং গাঢ় কমলা হবে শীত নাকি ততই বেশি পড়বে।

ফার্মঘুরে জাতভেদে কুমড়াগুলোর নানা মজার নামও জানা গেলো। যেমন ‘হোয়াইট মিস্টিক পাম্পকিন’ অথবা ‘মিস্ট্রি অব অরেঞ্জ’। যার বাংলা করা যেতে পারে রহস্যময় সাদা কুমড়া বা কমলার রহস্য। খামারিরা নিজেদের ইচ্ছেমতোই নামকরণ করে থাকে।

এ মুহূর্তে পশ্চিমের বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নানা রঙের কুমড়ায় সেজে আছে। কুমড়ার নকশাগুলোই বুঝিয়ে দিচ্ছে কোনটি হ্যালোইন আর কোনটি থ্যাংকস গিভিং-এর চিহ্ন বহন করছে।

৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় হ্যালোইন দিবসটি ছুটির দিনও। অনেকের কাছেই আবহাওয়ার কারণে এই দিনটি বড়দিনের চেয়েও জনপ্রিয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।

আরও পড়ুন:
কেবল কুমড়ার বাজার এটি

মন্তব্য

p
উপরে