× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
One of the ghats in Shimulia is only for motorcycle crossings
hear-news
player

শিমুলিয়ার এক ঘাট কেবল মোটরসাইকেল পারাপারে

শিমুলিয়ার-এক-ঘাট-কেবল-মোটরসাইকেল-পারাপারে
নাহিদা আক্তার তার স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে রওনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মোহাম্মদপুর থেকে সকাল বেলা রওনা হয়েছি। ঘাট এলাকায় ১০টায় এসেছি। মোটরসাইকেলের অনেক চাপ... আমি তো ছায়ায় দাঁড়াতে পেরেছি। আমার স্বামী মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।’

এবারের ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেলের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। সড়কপথের পাশাপাশি ঘাটগুলোতেও মোটরসাইকেলে বাড়ি যেতে দেখা গেছে বিপুল যাত্রীদের।

শুধুমাত্র মোটরসাইকেল পার করার জন্য মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ার একটি ঘাট নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত এ ঘাট দিয়ে ৯টি ফেরি কেবল মোটরসাইকেল নিয়ে ছেড়ে গেছে। প্রতিটি ফেরিতেই ছিল হাজারের উপর মোটরসাইকেল।

শনিবার সেহরির পর থেকেই এ ঘাটে ভিড়তে শুরু করেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। বেশিরভাগকেই দেখা গেছে মোটরসাইকেলে।

মোটরসাইকেল কেন? জানতে চাইলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুলনাগামী আরাফাত রহমান বলেন, ‘আমরা যদি বাসে বা ভেঙে যাই, যেতে লাগবে ৩০০০ টাকা, আসতে ৩০০০ টাকা। মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছি, ৯০০ টাকার তেল ভরেছি। আশা করি এই টাকায় আমি বাড়িতে পৌঁছে যাব।’

এক নম্বর ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকা আলম বেপারী বলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘাট এলাকায় এসেছি। রাস্তা খুবই ভাল। যাব নড়াইল। ফেরিতে ওঠার জন্য এক নম্বর ঘাটে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অনেক ফেরি আসছে, চলে যাচ্ছে, উঠতে পারি নাই।’

নাহিদা আক্তার তার স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে রওনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মোহাম্মদপুর থেকে সকাল বেলা রওনা হয়েছি। ঘাট এলাকায় ১০টায় এসেছি। মোটরসাইকেলের অনেক চাপ। আমি আসার পর ৩টি ফেরি ছেড়ে গেছে। ঘাটে এক একটা করে ফেরি আসছে আর মোটরসাইকেল উঠছে।

‘আরও বেশ সময় লাগবে মনে হচ্ছে ফেরিতে উঠতে। ঘাটে অনেক গরম। আমি তো ছায়ায় দাঁড়াতে পেরেছি। আমার স্বামী মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।’

শিমুলিয়ার এক ঘাট কেবল মোটরসাইকেল পারাপারে

টঙ্গি থেকে রওনা দিয়ে খুলনা যাচ্ছেন জহির রায়হান। তিনি বলেন, ‘এক নম্বর ফেরিঘাটে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় আড়াই ঘণ্টার উপরে। অনেকগুলো ফেরি আসছে, উঠতে পারি নাই। কখন উঠতে পারব তাও জানি না। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করব, সবার কেনাকাটা মায়ের জন্য শাড়ি, বৌয়ের জামাকাপড়, বাচ্চাদের জামাকাপড় সব আমার সঙ্গে। এখন যেতে পারলেই হলো।’

মোটরসাইকেলের জন্য ঘাট সুনির্দিষ্ট করে দেয়ায় অন্য ঘাটে চাপ কমেছে বলে জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জামাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেলের চাপ বেশি। ফেরিতে কী পরিমাণ মোটরসাইকেল পার হয়েছে তা এখন বলা মুশকিল। তবে হাজার হাজার মোটরসাইকেল পার হয়েছে। এক নম্বর ফেরিঘাটে হাজার হাজার মোটরসাইকেল পারাপারের অপেক্ষায় আছে। মোটরসাইকেলে একটি ঘাট হওয়ায় অন্যান্য ফেরিঘাটগুলোতে প্রতিবন্ধকতা হয় নাই। গাড়ি সহজে লোড-আনলোড করতে পারছি।’

এদিকে, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেড়েছে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। ফেরির অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা প্রখর রোদে নাজেহাল।

ফরিদপুরের আমেনা বেগম বলেন, ‘ভোর ৫টা থেকে পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি পারের জন্য অপেক্ষা করছি। বেলা ১১টার দিকে ফেরির দেখা পাই। প্রচণ্ড রোদে বাচ্চাদের নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’

শিমুলিয়ার এক ঘাট কেবল মোটরসাইকেল পারাপারে

আরেক যাত্রী শিউলি বেগম বলেন, ‘ফেরিপারের জন্য পাটুরিয়া ঘাটে প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু তারপরও ফেরি পাইনি। এখন রোদের মধ্যে বসে আছি।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম শাহ মোহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ জানান, শনিবার রাত থেকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে। এর পরে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপদে ঘাট পারাপারের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। আশা করছি বিকেল নাগাদ যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমবে।’

এর আগে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাইকচালকদের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় ফেসবুকে। বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘বাইকজটের’ ওই ছবি শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সেতুর পূর্ব প্রান্তের।

সেতুর টোলপ্লাজা ইনচার্জ প্রবীর ঘোষ নিউজবাংলাকে জানান, ওই দিন হুট করে একসঙ্গে অনেক মোটরসাইকেল আরোহী সেতু এলাকায় চলে আসেন। এতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। সাধারণ সময়ে সব লাইন দিয়ে মোটরসাইকেল প্রবেশ করলেও ঈদের কারণে গোলচত্বর থেকেই বাইকারদের আলাদা লাইনে টোলপ্লাজায় যেতে হচ্ছে। এতে করে ওই জট তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
প্রখর রোদে ক্লান্ত যাত্রীরা
নিখোঁজের ২ দিন পর শিমুলিয়া ঘাটে মিলল মরদেহ
চাঁদ দেখে সোম-মঙ্গলবারের ট্রেনের টিকিট
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঢাকা ছাড়ার চাপ, জট নেই
ময়মনসিংহের বাসের অপেক্ষায় মহাখালীতে দীর্ঘ লাইন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Four days without water and electricity in Sylhet

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন
সিলেট নগরীর শেখঘাট এলাকার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাও ঘরে ঢুকছে। এর মধ্যে থাকতে থাকতে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাসায় খাওয়ার পানি ও স্যানিটেশনের সমস্যা। তাই গিয়ে হোটেলে উঠেছি।’

সিলেট নগরীর চালিবন্দর এলাকার কুন্তি দাসের ঘর চার দিন ধরে পানিতে তলিয়ে আছে। ঘরে-বাইরে চারদিক থইথই পানিতে। তবু খাওয়ার জন্য নেই এক ফোঁটাও। নেই বিদ্যুৎও।

১৫ মিনিট হেঁটে গিয়ে একটি কারখানা থেকে প্রতিদিন খাওয়ার পানি নিয়ে আসেন তিনি।

কুন্তি বলেন, ‘পানির কারণে না হয় বিছানার ওপরে উঠে বসে থাকা যায়। কষ্ট করে রান্নাবান্নাও করা যায়। কিন্তু পানি ছাড়া তো থাকা যায় না। চার দিন ধরে পানি পাচ্ছি না। টয়লেটও পানিতে তলিয়ে গেছে। সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, যে কারখানা থেকে পানি আনা হয়, সেখানে গিয়ে টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে ঘরের সবাইকে।

সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎহীনতা। সব মিলিয়ে বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ এখন চরমে। জেলার অর্ধেক এলাকাই এখন বিদ্যুৎহীন।

কুন্তির প্রতিবেশী দীপক রবি দাস বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সিটি করপোরেশন থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বন্যায় সিটি করপোরেশনের পানির লাইন তলিয়ে গেছে। এখন পাইপ দিয়ে ময়লা পানি আসে। আর তাতে খুব দুর্গন্ধ। খাওয়া তো দূরের কথা, হাতেই নেয়া যায় না।’

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

চালিবন্দরের পাশের উপশহরেও মিটার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

উপশহরের বি-ব্লকের নাজাত আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে ঘরে পানি। ঘর থেকে বের হওয়ারও উপায় নেই। চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। খাওয়ার পানি নেই। টয়লেটের ব্যবস্থাও নেই। সব মিলিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটছে আমাদের।’

এসব সমস্যার কথা জানিয়ে সি-ব্লকের আব্দুল আহাদ বলেন, ‘লজ্জায় আশ্রয়কেন্দ্রেও যেতে পারছি না। বাচ্চারা সেখানে থাকতেও পারবে না। আবার ঘরেও থাকতে পারছি না। বন্যায় আমাদের সংকট বলে বোঝানো যাবে না।’

কোমর পানি নগরীর তালতলা এলাকাতেও। সেখানে বাড়ি বেসরকারি চাকরিজীবী মিলন তালুকদারের।

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পানি বন্ধ। ফিল্টারে করে পানি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এদিকে আসছে না বন্যার কারণে। তাই বোতলজাত পানি কিনে পান করতে হচ্ছে। আমরা সামান্য আয়ের মানুষ। এভাবে কতদিন চলতে পারব। চাকরির কারণে গ্রামের বাড়িও যেতে পারছি না।’

নগরের ঝালোপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা পানি সংগ্রহ করতে আসেন শাহেদ আহমদ।

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিনে একবার আসে। এই পানিতে এলাকার অর্ধেক মানুষের এক বেলার চাহিদাও মেটে না।

‘আগে পাশের সুরমা নদীতে আমরা গোসল করতে পারতাম। কিন্তু এখন নদীর পানি এত ময়লা হয়েছে যে তাতে গোসল করারও উপায় নেই।’

নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তরা সেন পম্পা বলেন, ‘নোংরা পানিতে পায়ে ঘা হয়ে গেছে। আজ বাধ্য হয়ে বাচ্চাকে নিয়ে আরেকটি পরিবারের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখানেও খাওয়ার পানি নেই।’

ঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে নগরের একটি হোটেলে গিয়ে উঠেছেন শেখঘাট এলাকার কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাও ঘরে ঢুকছে। এর মধ্যে থাকতে থাকতে আমার পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বাসায় খাওয়ার পানি ও স্যানিটেশনের সমস্যা। তাই একটি হোটেলে উঠেছি।’

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে প্লাবিত এলাকায় বুধবার থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ সরবরাহের পাইপে কোনো ছিদ্র থাকলে তাতে বন্যার পানি মিশে রোগবালাই দেখা দিতে পারে।’

তবে এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে আলিম বলেন, ‘যেসব এলাকা প্লাবিত হয়নি, সেসব এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।’

নগরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে দুর্ভোগ আরও বেশি।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে ১০৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৫টি সম্পূর্ণ ও ১৫টি ইউনিয়ন আংশিকভাবে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি আছে ১৫ লাখ মানুষ।

জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের সুপ্রাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বন্যায় এলাকার বেশির ভাগ টিউবওয়েল ডুবে গেছে। খাওয়ার পানি পাওয়া যাচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে। ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্নাও করা যাচ্ছে না।’

‘ঘরে অনেকগুলো গরু আছে। নিজেরা তবু কোনো রকমে খেতে পারছি। কিন্তু মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।’

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

নগরের দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর এলাকা প্লাবিত না হলেও বরইকান্দি এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশন তলিয়ে যাওয়ায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই কোথাও।

গোটাটিকর এলাকার সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বন্যা আসেনি এখনও। তবে আমরাও দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছি না। তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।’

তবে বিশুদ্ধ পানির সংকটের তথ্য নেই জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামের কাছে।

তিনি বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি সংকটের তেমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি। পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি অবশ্য বলেছেন, সিলেট জেলায় ১৩ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানিয়েছেন, দুটি উপকেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকেছে। সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি উপকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আর শাহজালাল উপশহর এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় যারা অবস্থান করছেন, তাদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিটি মেয়র জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও বন্যার্তদের সেবায় করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সিলেট ৪ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন

১৩ দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে বৃহস্পতিবার সিলেটে ফিরে নগরের একাধিক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে মেয়র বলেন, ‘সিলেট মহানগরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নগরের নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। খাওয়ার পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

‘দ্রুত সময়ের মধ্যে প্লাবিত এলাকার পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাঠানো হয়েছে। খাওয়ার পানির সংকট নিরসনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হবে।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় বন্ধ সিলেটের ৭ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘মাঠের পর ঘরেও ধান নষ্ট বানের জলে’
সিলেটে বর্ষার আগেই নদী খনন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিস্তায় বাড়ছে পানি, হুমকিতে ইচলি বাঁধ
বন্যার পানি গোটা সিলেটে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 candidates are contesting for the post of mayor in Comilla

কুমিল্লায় মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে ৬ প্রার্থী

কুমিল্লায় মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে ৬ প্রার্থী কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী সিটি নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র পদে মনোনয়নপত্রে বৈধতা পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপি), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার (বিএনপি), কামরুল আহসান বাবুল ও মাসুদ পারভেজ খান ইমরান এবং ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

কাগজপত্রে অসংগতি থাকায় ৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও একজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী এ ঘোষণা দেন।

মেয়র পদে মনোনয়নপত্রে বৈধতা পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপি), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার (বিএনপি), কামরুল আহসান বাবুল ও মাসুদ পারভেজ খান ইমরান এবং ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম।

নির্বাচন কমিশন থেকে জানা যায়, ১৭ মে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ১৬৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ৬ মেয়র প্রার্থী, ১২০ সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৩৮ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী।

মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীরা হলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্লাল হোসেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবির আহমেদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. এরশাদ হোসেন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম আজাদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ রুমন আহমেদ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের জুয়েল, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিন্টু, জামাল হোসেন কাজল ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম আজাদ।

সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফারজানা আক্তারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী জানান, মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীরা ২০ থেকে ২২ মের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
মেয়র যে-ই হোক, আপনারা সহযোগিতা করবেন: নগরবাসীকে সাক্কু
কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদার
কুমিল্লায় আ.লীগের ‘ভূত’ বিএনপির ঘাড়ে
প্রথম পরীক্ষার আগে কঠিন প্রস্তুতি সিইসির
ভোটের প্রচারের আগেই কুমিল্লায় বিজিবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Madrasa student arrested in rape case

বলাৎকারের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

বলাৎকারের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
মামলার বরাতে ওসি জানান, রবিউল ছেলেটিকে কয়েকবার বলাৎকার করেছেন। সবশেষ গত ৯ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে।। এরপর ছেলেটি ভয়ে মাদ্রাসায় যেতে চাইতো না।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার দাঁড়েরপাড়া কওমী এতিমখানা ও মাদ্রাসা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি জাবীদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামির নাম রবিউল ইসলাম। তার বাড়ি রাজশাহী জেলায়। তিনি ওই মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক।

ওসি জাবীদ হাসান বলেন, ‘বুধবার মধ্যরাতে মাদ্রাসাটির চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের বাবা বলাৎকারের মামলা করেন। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষক রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে দৌলতপুর আমলী আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

মামলার বরাতে ওসি জানান, রবিউল ছেলেটিকে কয়েকবার বলাৎকার করেছেন। সবশেষ গত ৯ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে।। এরপর ছেলেটি ভয়ে মাদ্রাসায় যেতে চাইতো না। গত বুধবার সে বলাৎকারের কথা বাবাকে জানায়। এরপরই মামলা করেন তার বাবা।

আরও পড়ুন:
বলাৎকারের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা, মাদ্রাসাশিক্ষক আটক
ভ্যানচালককে ‘বলাৎকার’: কারাগারে এসআই স্বপন
ভ্যানচালককে ‘বলাৎকার’: এসআই স্বপন গ্রেপ্তার
পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে বলাৎকারের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The sound of crying around the hill village

পাহাড়ি গ্রামে চারদিকে কান্নার আওয়াজ

পাহাড়ি গ্রামে চারদিকে কান্নার আওয়াজ
সুন্দরপুর পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মল্লিক চান বলেন, ‘এ এলাকার মানুষ বাদাম চাষের সঙ্গে ধানও রোপণ করেন। ছেলেমেয়েরা এই উঠানেই খেলাধুলা করত, এখন চারদিকে কান্নার আওয়াজ।’

‘আমার বাজানটা আমার লগে ক্ষেতও গেছিল, বৃষ্টি আইয়া আমার ধান-বাদাম সব নিছে, এখন আমার জানের টুকরাটারে নিসে গি আল্লায়, আমি এখন বাঁচতাম কিলা।’

১২ বছরের মেয়ে রিপা বেগমকে বজ্রপাতে হারিয়ে বিলাপ করছেন বাবা ফজর রহমান। একই অবস্থা অন্য দুই পরিবারেও।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দরপুর পাহাড়ি গ্রামে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বজ্রপাতে একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়।

হঠাৎ আসা ঝড় থেকে রক্ষা পেতে শিশুরা কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিয়েছিল, রেহাই মেলেনি। এ সময় আহত হন আরও আটজন। গোটা এলাকা শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।

সুন্দরপুর পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মল্লিক চান বলেন, ‘এ এলাকার মানুষ বাদাম চাষের সঙ্গে ধানও রোপণ করেন। ছেলেমেয়েরা এই উঠানেই খেলাধুলা করত, এখন চারদিকে কান্নার আওয়াজ।

‘আমরা এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারব কি না জানি না, তবে এটাই বলতে পারব পেটের দায়ে বেরিয়ে বজ্রপাতে সন্তানদের হারিয়েছেন তাদের বাবা-মা।’

আরেক প্রতিবেশী সত্তার মিয়া বলেন, ‘যখন বৃষ্টি আসে ছেলেমেয়েরা দৌড় দিয়া কুঁড়েঘরও আশ্রয় নিসিল। বজ্রপাতটা ওই জায়গাই হয়। তারারে যখন তুলার লাগি গেছি, গিয়া দেখি তিনটা বাচ্চা পড়িয়া রইছে। এইসব দেখিয়া কিতা কইতাম, আল্লাহ তারারে এই কষ্ট সহ্য করার তৌফিক দিতা।’

তিন শিশুর দাফনের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ হাজার টাকা করে দিয়েছেন বাদাঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘খবর পাওয়ামাত্র ছুটে এসেছি। এ এলাকার মাটি বাদাম চাষের জন্য খুব ভালো। শিশুরাও বাবা-মাকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করে আসছিল। সকালে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিন শিশু মারা যায়।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন শিশুর পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে। প্রশাসন এই পরিবাগুলোর পাশে রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে দুই প্রাণহানি
বজ্রপাতে শেষ ১০ পরিবারের ঈদ
ঈদের সকালে বজ্রপাতে গেল ৫ প্রাণ
ঈদের সকালে বজ্রপাতে ৩ কিশোরের মৃত্যু
‘বজ্রপাতের শব্দে’ ইটভাটায় শ্রমিকের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Nomination of 6 councilors including mayor in 2 municipalities of Gopalganj has been canceled

গোপালগঞ্জের ২ পৌরসভায় মেয়রসহ ৬ কাউন্সিলরের মনোনয়ন বাতিল

গোপালগঞ্জের ২ পৌরসভায় মেয়রসহ ৬ কাউন্সিলরের মনোনয়ন বাতিল
জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, মুকসুদপুর পৌরসভা নির্বাচনে এক মেয়র প্রার্থীসহ পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভায় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ ও মুকসুদপুর পৌরসভায় এক মেয়র প্রার্থীসহ ছয়জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফায়জুল মোল্যা বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, মুকসুদপুর পৌরসভা নির্বাচনে এক মেয়র প্রার্থীসহ পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভায় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফায়জুল মোল্যা বলেন, ‘মুকসুদপুর পৌরসভায় মেয়র পদে ৬, কাউন্সিলর পদে ৩৪ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

‘মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী তহমিনা বেগম, কাউন্সিলর পদে ২ নম্বর ওয়ার্ডে শরিফুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভল্লব কুণ্ডু ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মিজান মোল্লার মনোনয়ন বাতিল হয়। ফলে মুকসুদপুর পৌরসভায় মেয়র পদে পাঁচজন, কাউন্সিলর পদে ৩১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেয়া হয়।‘

ফায়জুল মোল্যা আরও বলেন, ‘গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভা নির্বাচনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সবুজ খানের মনোনয়ন বাতিল হয়। ফলে এ পৌরসভায় মেয়র পদে ১১, কাউন্সিলর পদে ৬৭ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।’

আগামী ১৫ জুন গোপালগঞ্জ সদর ও মুকসুদপুর পৌরসভার নির্বাচন হবে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে এবং প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১৫ জুন।

আরও পড়ুন:
জামানত হারানো বিদ্রোহী পেলেন নৌকা
৩ নেতার বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এমপির
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
এক ইউপিতেই বিএনপির ৩৬ মনোনয়নপ্রত্যাশী
বিচারক পদে ব্যারেটকে মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The left bank of the Jamuna collapsed on the dam

যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বাঁধে ধস

যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বাঁধে ধস
স্থানীয় বাসিন্দা লাবিব আক্তার বলেন, ‘যমুনা নদীর বাম তীর প্রকল্পে বাঁধ নির্মাণের পর আমরা একটু ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু এই বাঁধ ধসের কারণে এই স্বপ্ন বারবার ভেঙে যাচ্ছে। আমরা চাই এই ধস রোধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিক।’

জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বাঁধের ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বসতভিটাসহ নানা স্থাপনা।

কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট এলাকায় বুধবার বিকেলে এ ধস দেখা দেয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ।

তিনি জানান, ‘বাঁধ ধস রোধে জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং করা হচ্ছে। আমরা এই জায়গাটি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে আরও জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং করার ব্যবস্থা করব।’

স্থানীয় বাসিন্দা লাবিব আক্তার বলেন, ‘যমুনা নদীর বাম তীর প্রকল্পে বাঁধ নির্মাণের পর আমরা একটু ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু এই বাঁধ ধসের কারণে এই স্বপ্ন বারবার ভেঙে যাচ্ছে। আমরা চাই এই ধস রোধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিক।’

আরেক বাসিন্দা আহসান আলী মণ্ডল বলেন, ‘আমার এই জীবনে ৮ বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি। এখন এই বাঁধ ধস হলে মরণ ছাড়া উপায় নাই।’

আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার বিকেল থেকে ধস দেখা দেয়। আমরা আতঙ্কে আছি। এই ধস দ্রুত না থামলে তাদের বাড়িঘর সব বিলীন হয়ে যাবে।’

এসব বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে অতিবৃষ্টির কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া এই জায়গায় নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে। নতুন একটি চ্যানেল হয়েছে। তাই এখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের ফুটানি বাজার থেকে ইসলামপুরের কুলকান্দি পর্যন্ত ৮ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে।

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলার জয়োৎসবে’ উজ্জ্বল হাতিরঝিল
‘বন্দুকযুদ্ধ’ কমলেও হেফাজতে মৃত্যু বেড়েছে: এমএসএফ
রামপুরায় দেয়াল ধসে শিশুসহ দুজন আহত
ধস এড়াতে পাহাড় কাটার প্রস্তাব
পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Aus is also going to the water after Boro

বোরোর পর আউশও যাচ্ছে জলে

বোরোর পর আউশও যাচ্ছে জলে
সিলেট জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, ‘জেলায় বন্যার্তদের মধ্যে এরই মধ্যে ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ১৪৯ টন চাল, ১৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আশয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ পানি দেয়া হচ্ছে।’

সিলেটে ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বোরো ধান। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আউশ ধান চাষে মনোযোগী হয়ে ছিলেন সিলেটের গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং এলাকার কৃষক নিজাম উদ্দিন।

দুই একর জমিতে আউশের বীজ রোপন করেছিলেন। বীজ থেকে চারাও গজিয়ে ছিল। কিছুদিনের মধ্যে এই চারা রোপনের পরিকল্পনা করছিলেন নিজাম। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় গুড়েবালি। বন্যায় তলিয়ে গেছে নিজামের বীজতলা।

নিজাম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘৪ দিন ধরে বীজতলা পানিতে ডুবে আছে। সব চারা পচে যাবে। গত মাসে বন্যায় বোরো ধান গেছে। এবার আউশও চলে গেলে আমাদের বছর চলবে কী করে? খাবো কী?

কেবল নিজাম উদ্দিন নন, এই আক্ষেপ এখন সিলেটের বেশিরভাগ কৃষকের। গত মার্চ-এপ্রিলের অসময়ের বন্যায় সিলেটের সুনামগঞ্জে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবারের বন্যায় বোরোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আউশও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের হিসেবে, চলমান বন্যায় বুধবার পর্যন্ত আউশ ধানের বীজতলা এক হাজার ৩০১ হেক্টর, বোরো ধান এক হাজার ৭০৪ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি এক হাজার ৪ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে সিলেটে বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে পানি বৃদ্ধি। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিও। জেলা প্রশাসনের হিসেবেই, সিলেটে ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পাওয়া হিসেবে, সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত সিলেট জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ৩৪ বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে বিভিন্ন এলাকায়।

বন্যায় সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পর এবার বিয়ানীবাজার এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলারও বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পানি উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলা কমপ্লেক্সে। এসব উপজেলার অনেক বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রেও পানি উঠে গেছে। এতে আশ্রিতরা পড়েছেন বিপাকে।

সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে এবং ১৫টি ইউনিয়ন আংশিকভাবে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে সিলেট সদর ও জৈন্তাপুর উপজেলায় নৌকাডুবিতে ৩ জন মারা গেছেন। গোলাপগঞ্জে পাহাড় ধসে একজন মারা গেছেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, ‘জেলায় ২৭৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬৪৭৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। গবাদিপশুর জন্য ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বন্যার্তদের মধ্যে এরই মধ্যে ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ১৪৯ টন চাল, ১৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আশয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ পানি দেয়া হচ্ছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আরও ২৫ লাখ টাকা, ২০০ টন চাল ও ৪০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাওয়া গেছে।’

আরও পড়ুন:
তিস্তায় বাড়ছে পানি, হুমকিতে ইচলি বাঁধ
বন্যার পানি গোটা সিলেটে
বন্যায় কোনো কিছুই ঠিক নেই সিলেট নগরীর
আসামে বন্যা: পানির স্রোতে উল্টে গেল ট্রেনের বগি
১৮ বছরের মধ্যে সিলেটে সবচেয়ে বড় বন্যা

মন্তব্য

উপরে