× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Mango damaged crop fields have also fallen in Kalbaishakhi
hear-news
player

কালবৈশাখীতে ঝরেছে আম, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠও

কালবৈশাখীতে-ঝরেছে-আম-ক্ষতিগ্রস্ত-ফসলের-মাঠও কালবৈশাখীতে আমগাছ। ছবি: নিউজবাংলা
আমচাষিরা জানিয়েছেন, ঝড়ে আম বাগানের প্রায় ১০-১৫ শতাংশ আম ঝরে পড়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, তারা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেনি।

নওগাঁ ও মেহেরপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়েছে আমসহ বিভিন্ন ধরনে উঠতি ফসলের মাঠ। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের।

নওগাঁ

কালবৈশাখী ঝড়ে নওগাঁয় আম, ভুট্টা, গম, ধানসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘর-বাড়ি। উড়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা।

শনিবার মধ্য রাতে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে দমকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৮০ কিলোমিটার।

আমচাষিরা জানিয়েছেন, ঝড়ে আম বাগানের প্রায় ১০-১৫ শতাংশ আম ঝরে পড়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেনি।

জেলার বিভিন্ন আম বাগানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগানে-বাগানে মাটিতে পড়ে আছে ঝরে পড়া আম। ফেটে নষ্ট হয়েছে অনেক ফল। অনেক বাগানে আম গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে।

ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার ছিল বলে জানিয়েছে নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া কার্যালয়।

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় এ বছর ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ৫হাজার ২০০ আম চাষির প্রায় সাড়ে ৮ হাজার বাগান রয়েছে। এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৫ মেট্রিক টন।

এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ আম উৎপাদন হয় পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলা উপজেলায়।

পোরশা উপজেলার সারাইগাছী গ্রামের আমচাষি শফিকুর রহমান বলেন, ‘৩০ বিঘা জমির ওপর আমার দুটি বাগান রয়েছে। ঝড়ে বাগানের দুই হাজার গাছের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আম পড়ে গেছে। বেশ কিছু গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে।

‘আম এখনও পরিপক্ক না হওয়ায় ঝরে পড়া আম ৩-৪ টাকা কেজির বেশি বিক্রি হবে না। আর যেসব আম ফেটে গেছে, সেসব কেউ কিনবে না।’

সাপাহার উপজেলার পাতারী গ্রামের আমচাষি বেলাল হোসেন বলেন, ‘২০বিঘা জমিতে আম চাষ করেছিলাম। প্রায় অর্ধেকের মত আম ঝড়ে গেছে। এতে ব্যাপকভাবে লোকশানের আশংকা করছি।’

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, ‘পোরশায় এবার ১০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এবার বাগানে আম ভালো ধরেছিল। তবে রাতে ও চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে আমের বেশ ক্ষতি হয়ে গেল।

‘গত রাতের ঝড়ে আমের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা যায়নি, তবে কিছু বাগান পরিদর্শন করে ধারণা হচ্ছে, বড় আম গাছের প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ আম পড়ে গেছে। আর ছোট গাছের প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে।’

ঝড়ে আম ছাড়াও বোরো ধানের খেতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধানগাছ হেলে পড়ায় এবং জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ধান চিটা হয়ে যাওয়া এবং পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

কালবৈশাখীতে ঝরেছে আম, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠও

রাণীনগর উপজেলার তিলাবদুর গ্রামের কৃষক নরেন চন্দ্র বলেন, ‘মধ্য রাতের ঝড়ে ধানের শিষ মাটিকে নুইয়ে পড়েছে। এতে করে ফলন কম হবে। হঠাৎ ঝড়ে ক্ষতি হয়ে গেল।’

একই উপজেলার শলিয়া গ্রামের কৃষক তাহেল হোসেন বলেন, ‘১০ বিঘা জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। এতে করে ফলন কম হবে। আর ধান কর্তনে শ্রমিক খরচও বেশি পড়বে। খুব চিন্তায় আছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ বলেন, ‘গত রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে নওগাঁয় আম ও ধানের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। নওগাঁর ৭০ ভাগই বাগানই আম্রপালি জাতের আম চাষ হয়েছে। আম্রপালি গাছ আকারে ছোট হওয়ায় ঝড়ে এসব গাছের আম কম পড়েছে। তবে খিরসাপাতি, ফজলি ও গোপালভোগ আমের গাছ বড় হওয়ায় ওই সব গাছের আম বেশি পড়েছে।

‘ছোট-বড় গাছ মিলে গড়ে ৫ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। এছাড়া ঝড়ে ধানের গাছ হেলে পড়ায় এবং জমিতে পানি জমে থাকায় ধানের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হবে। আগামী এক-দুই সপ্তাহ আবহাওয়া এ রকমই বৈরী থাকবে। খেতের ৮০ শতাংম ধান পেকে গেলেই আমরা কৃষকদের ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি।’

মেহেরপুর

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় বারের মত কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়েছে মেহেরপুরে বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত। ভুট্টা কলা, লিচু,আম সহ ধানের বেশি ক্ষতির আশংকা করছেন চাষিরা।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ঘণ্টা ধরে চলা বৃষ্টি থামলেও রাতব‍্যাপী চলে দমকা বাতাস।

এর ফলে কাঁচা ও আধাপাকা ধান ক্ষেতে নুয়ে পড়েছে মাটিতে। যে ধানে এখনো দানা হয়নি সেগুলোতে ফলন কমে যাবে অর্ধেক। বিভিন্ন এলাকায় গাছের ডাল পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে বিদ্যুত সরবরাহ।

ফলের বাগান ব‍্যাবসায়ী রমিক হাসান নিউজবাংলাকে জানান, তার এ বছর প্রায় ৫৭ বিঘা আমের বাগান নেয়া আছে। সন্ধ‍্যার পর কালবৈশাখী ঝড়ে অনেক আম ঝরছে। এতে তার প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মত ক্ষতি হবে।

কালবৈশাখীতে ঝরেছে আম, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠও

ধানচাষি আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমার ক্ষেতে থাকা কাচা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এ ধানগুলো অর্ধেক চিটি হয়ে যাবে। এতে ফসলের ফলন অর্ধেক হয়ে যাবে।’

মেহেরপুর কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক শষ‍্য কামরুজ্জামান জানান, ঝড়ে বোরো ধান, সহ কলা বাগানের ক্ষতি হয়েছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
আমবাগানে মিলল যুবকের মরদেহ
করোনা: তাড়িয়েছেন বাড়িওয়ালা, আমবাগানে রাতযাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Chief of Army Staff inspects agricultural production competition in Bogra

বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বগুড়া সেনানিবাসে কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন। ছবি: আইএসপিআর
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার স্টেশন বোট ক্লাব লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর এই বিশেষ উদ্যোগ জাতীয় মোট উৎপাদনে কিভাবে ভূমিকা রাখছে সে বিষয়ে কথা বলেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা-২০২২ পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি বগুড়া আর্মি মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন ও প্রকল্পের অগ্রগতি দেখেন। এ সময় তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আইএসপিআর জানায়, সেনাপ্রধান স্টেশন বোট ক্লাব লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর এই বিশেষ উদ্যোগ জাতীয় মোট উৎপাদনে কিভাবে ভূমিকা রাখছে সে বিষয়ে কথা বলেন।

সেনাবাহিনী প্রধান বগুড়া সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থান ‌এবং কর্মকাণ্ডও পরিদর্শন করেন। সেনানিবাসে কর্মরত অফিসারদের জন্য একটি অফিসার্স কোয়ার্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, মেজর জেনারেল এফ এম জাহিদ হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান।

বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান
সেনাবাহিনী প্রধান মঙ্গলবার বগুড়া আর্মি মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। ছবি: আইএসপিআর

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ ‘এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না’ বাস্তবায়নে সেনাপ্রধানের দিকনির্দেশনায় সেনাবাহিনীর সব এরিয়া/ফরমেশনে মৌসুমভিত্তিক অব্যবহৃত ও পতিত জমি কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেনানিবাসের সব অনাবাদি জমিতে, এমনকি প্রতিটি বাসা-বাড়ির আনাচে-কানাচে লাগানো হয়েছে বনজ, ঔষধি ও ফলের গাছ। উন্মুক্ত স্থানে চাষ করা হচ্ছে নানা জাতের মৌসুমী ও বারোমাসি ফল এবং নানা ধরনের মৌসুমী শাকসবজি। পুকুর ও জলাভূমি ব্যবহার করা হচ্ছে মাছ চাষ ও হাঁস পালনে। বিভিন্ন প্রকার খামার ছাড়াও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে শিং ও তেলাপিয়া মাছ।

প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় সেনাবাহিনী প্রধানের বিশেষ উদ্যোগে সব সেনানিবাসে কৃষিভিত্তিক উৎপাদন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে উত্তরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ প্রয়াস আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
‘সেনা নিবাসের ভেতরে কোনো পতিত জমি থাকবে না’
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাবাহিনী প্রধান
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান মনোজ পান্ডে
রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাপ্রধান
পদ্মার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Where will Bangladesh get wheat?

কোথায় গম পাবে বাংলাদেশ?

কোথায় গম পাবে বাংলাদেশ? খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে গম রপ্তানির অনুরোধ করা হলে বাংলাদেশের ডাকে ভারত সরকার সাড়া দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক ও পিআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর করা কখনোই সুখকর হয় না। অতীতে বারবার তা প্রমাণ হয়েছে। সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব অল্টারনেটিভ সোর্স কান্ট্রি নির্ধারণ করা এবং সেসব বাজার থেকে গম আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।’

তীব্র দাবদাহের প্রভাবে উৎপাদন হ্রাস ও স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত। তবে এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না তা নিয়ে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।

ভারত সরকার শুক্রবার হঠাৎ করেই গম রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে বাংলাদেশেও এটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ী পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণের মধ্যেও এই আলোচনায় ডালপালা গজিয়েছে।

সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এই অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। রোববার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার দাবি করেন, গম রপ্তানিতে ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। আর সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশকে গম দেবে।

প্রকৃত ঘটনা হলো, গম রপ্তানির ওপর ভারত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার খবর যেমন সত্য, তেমনি বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর দাবিও অসত্য নয়।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) শুক্রবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে বিশ্বব্যাপী গম রপ্তানির ওপর সরকারি-বেসরকারি আমদানিকারকদের জন্য সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

তবে প্রজ্ঞাপনে দুটি ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগও রাখা হয়েছে। একটি হলো ১২ মের আগে খোলা যেসব ঋণপত্র (এলসি) বাতিলযোগ্য নয়, তার বিপরীতে গম রপ্তানি করা যাবে।

অর্থাৎ এখানে সরকারি-বেসরকারি দুভাবেই ১২ মের আগে চুক্তির বিপরীতে সম্পন্ন হওয়া এলসির বিপরীতে চাহিদাকৃত গম রপ্তানি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি হলে বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা নিতে পারবেন।

তবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে খোলা এলসির বিপরীতে গম রপ্তানির সুযোগ কোনো দেশের ক্ষেত্রেই বিবেচিত হবে না।

প্রজ্ঞাপনে রাখা অপর সুযোগটি হলো খাদ্য ঘাটতিতে থাকা দেশের সরকারের অনুরোধের বিপরীতে ভারত সরকার অনুমতি দিলে সে দেশে গম রপ্তানি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আবার প্রতিবেশী দেশকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

অর্থাৎ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে গম রপ্তানির অনুরোধ করা হলে বাংলাদেশের ডাকে ভারত সরকার সাড়া দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার বনাম সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ভারত থেকে গম আমদানির সুযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি বলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার যে দাবি করেছেন সেটি মূলত ভারত সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় সুযোগটিকে ভিত্তি করে। একইভাবে ভারত বাংলাদেশকে গম দেবে- বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন দাবির সারকথাও সেটিই।

ভারতের বাণিজ্য দপ্তরের সচিব বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যমের বক্তব্যে বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর এ বক্তব্যের সত্যতা মেলে। রোববার তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও খাদ্যসংকটে থাকা দেশগুলোতে সরকারি পর্যায়ে গম রপ্তানির সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া আগের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলোকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৪৩ লাখ টন গম রপ্তানির অনুমতি দেবে।

এদিকে গমের বৈশ্বিক দাম বৃদ্ধি এবং রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তাকে কিছুটা হুমকির মুখে ফেলছে।

যদিও ভারতের বাণিজ্য দপ্তর দাবি করেছে, গম রপ্তানির ওপর এ নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী নয় এবং যেকোনো সময় সিদ্ধান্তে বদল আসতে পারে।

ভারতের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে জিটুজি পর্যায়ে অনুরোধ সাপেক্ষে আমদানির সুযোগ থাকলেও ভারত থেকে বেসরকারি পর্যায়ে দেশে গম আমদানি আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দেশে বার্ষিক গমের চাহিদা ৭৫ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাদ দিলে বছরে ৬২ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। এর প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি হয়ে থাকে বেসরকারিভাবে। আর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন মাসে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির ৬৩ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। এর পরিমাণ ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন। এ অবস্থায় ভারতের গম রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বে শীর্ষ গম রপ্তানিকারক দেশ হলো রাশিয়া, ইউক্রেন, চীন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, বুলগেরিয়া ও ভারত। চীনে এ বছর গমের উৎপাদন ভালো হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ইউরোপে যুদ্ধের প্রভাব পড়ায় আমদানি অনিশ্চয়তা আছে কানাডার বাজার থেকেও। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা।

এত সব ঘটনায় ইতোমধ্যে দেশে গম নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গমের অভ্যন্তরীণ মজুতও শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

বাণিজ্য বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা সাময়িক হলে দাম বৃদ্ধি ছাড়া বড় কোনো সমস্যা হবে না। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর করা কখনোই সুখকর হয় না। অতীতে বারবার তা প্রমাণ হয়েছে। সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব অল্টারনেটিভ সোর্স কান্ট্রি নির্ধারণ করা এবং সেসব বাজার থেকে গম আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

‘একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে অতিসত্বর আরও গম আমদানির চুক্তি করার পদক্ষেপ নিতে হবে। এ দুইয়ের ব্যত্যয় হলে এবং সেটি দীর্ঘ মেয়াদে চলতে থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে স্বল্প মেয়াদে কোনো ঝুঁকি না থাকলেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা ভোক্তাকে বেশ ভোগাবে।’

অনুরূপ মন্তব্য করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত বেসরকারি খাতের জন্য রপ্তানি বন্ধ করলেও সেখানে সরকারিভাবে আমদানির সুযোগ এখনও রয়েছে। সরকারকে দ্রুত ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে এই জিটুজি পর্যায়ের সুযোগটি নিতে হবে। এর মাধ্যমে বড় চালানের প্রয়োজনীয় গম আনতে পারে সরকার। পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও যাতে গম আমদানি করা যায় তার অনুরোধ করতে হবে। আর ভারতের বাইরে অন্য দেশগুলো থেকেও দ্রুত গম আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারত রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর সরকার আরও পাঁচটি দেশ থেকে গম আমদানির পথ খুঁজছে। ইতোমধ্যে কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে গম আমদানির বিষয়ে কথা হয়েছে। বুলগেরিয়ার সঙ্গেও চুক্তি পর্যায়ে পৌঁছানো গেছে। আর ভারত রপ্তানি বন্ধ করলেও প্রতিবেশী হিসেবে তারা আমাদের গম দেবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

খাদ্যসচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম জানিয়েছেন, জিটুজিতে গম আনার বিষয়ে ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া বেসরকারি খাত যদি গম আমদানির ব্যাপারে সহায়তা চায়, আমরা অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:
গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য নয়
ভারতের নিষেধাজ্ঞা: বিশ্ববাজারে বাড়ল গমের দাম
ভারতের গম রপ্তানি বন্ধে দেশে প্রভাব পড়বে
ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি: খাদ্যমন্ত্রী
পোশাক শিল্পের দ্যুতি বিশ্বকে দেখাতে ঢাকায় বিশাল আয়োজন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ripe soybean of 5000 hectares of land has been submerged

তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা সয়াবিন

তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা সয়াবিন
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা সয়াবিন এখন পানির নিচে। ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছি আমরা। সামনে যদি আরও বৃষ্টি হয় বা জোয়ারের পানি আসে তাহলে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাবে।’

সপ্তাহখানেক পর থেকে সয়াবিন কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চাষিরা। সয়াবিন বিক্রি করে শোধ করবেন মহাজনের ঋণের টাকা।

তবে কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষেত। এত দিনের পরিশ্রমের পর এমন অবস্থায় পড়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

অনেকের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ ও খাল-বিল সংস্কার না করায় জমিতে পানি জমেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর লক্ষ্মীপুরে ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন।

এই জেলায় সয়াবিন চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৭০ হাজার কৃষক। দেশে মোট উৎপাদিত সয়াবিনের ৭০ ভাগ হয় এখানে। গত বছর প্রতি মণ সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৬ শ থেকে ১৮ শ টাকায়। এবার বাজার দর ২২ শ থেকে আড়াই হাজার টাকা।

তবে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে মেঘনা উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা সয়াবিন। এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা সয়াবিন

কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স এলাকার হাজি জাফর মিয়া জানান, ঋণ নিয়ে সয়াবিন চাষ করেছিলেন। বৃষ্টির পানিতে ডুবে পাকা সয়াবিন নষ্ট হয়ে গেছে।

মতিরহাটের মো. লিটনও ঋণ নিয়ে সয়াবিন চাষ করেছিলেন। সয়াবিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

জাফর, লিটনের মতো একই অবস্থা লক্ষ্মীপুর সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার চরাঞ্চলের হাজারও কৃষকের।

রামগতির চরপোড়া গাছারা এলাকার রফিক উল্যাহর অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ ও খাল-বিল সংস্কার না করায় জমিতে পানি জমে তাদের এই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

সয়াবিনের পাশাপাশি অনেকে চিনা বাদাম, মুগডাল ও মরিচ লাগিয়েছিলেন। পানিতে এই ফসলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা সয়াবিন এখন পানির নিচে। ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছি আমরা। সামনে যদি আরও বৃষ্টি হয় বা জোয়ারের পানি আসে তাহলে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাবে।’

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা করা হয়ে গেলে প্রণোদনা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
পুরোনো বোতলের সয়াবিন নতুন দামে বিক্রি, জরিমানা
বাড়ছে সয়াবিন তেলের সরবরাহ
পুরোনো দরের তেল নতুন দরে বিক্রি, জরিমানা
ঘূর্ণিঝড় আসানি: আধাপাকা ধান কাটছেন চাষি
সরিষার তেল কি সয়াবিনের বিকল্প হতে পারবে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why there are less fish eggs in Halda

হালদায় মাছের ডিম কম কেন

হালদায় মাছের ডিম কম কেন
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘পানির কোয়ালিটি, পাহাড়ি ঢল, বজ্রসহ বৃষ্টি এসবের ওপর মাছের ডিম ছাড়া নির্ভর করে। এবার তো পাহাড়ি ঢল নেই। তা ছাড়া ভোরে বৃষ্টিও হয়নি। তাই ডিমের পরিমাণ কম।’

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদায় ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মাছ।

বৈশাখী পূর্ণিমার জোয়ারের সময় সোমবার ভোরে হালদার বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ ডিম ছাড়ে।

তবে ডিম সংগ্রহকারী ও গবেষকরা বলছেন, পানি কম থাকায় মাছ ডিম দিয়েছে অল্প পরিমাণে।

হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘ভোরে মদুনাঘাট থেকে রামদাস মুন্সির হাট পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে অল্প পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা মাছ। ডিম সংগ্রহকারীরা এখন পরবর্তী জোয়ার ও বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছেন।

‘হালদায় সাধারণত এই সময়টায় অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ার-ভাটার মধ্যে মা মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে। এই সময় বলতে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে একদম মে মাসের শেষ পর্যন্ত। পানির কোয়ালিটি, পাহাড়ি ঢল, বজ্রসহ বৃষ্টি এসবের ওপর মাছের ডিম ছাড়া নির্ভর করে।’

মনজুরুল আরও বলেন, ‘এবার তো পাহাড়ি ঢল নেই। তা ছাড়া ভোরে বৃষ্টিও হয়নি। তাই ডিমের পরিমাণ কম।’

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী বলেন, ‘হালদায় মা মাছ প্রাথমিকভাবে ডিম ছেড়েছে। ডিম সংগ্রহকারীরা বলছেন তা পরিমাণে কম। তারা মাছের ডিম ছাড়ার চূড়ান্ত সময়ের অপেক্ষা করছেন।’

সংগ্রহকারীরা জাল দিয়ে পানি থেকে ডিম সংগ্রহ করেন। তারপর হ্যাচারিতে সেই ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদন করা হয়। প্রতি কেজি রেনু বিক্রি হয় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Where did the fish of Pangas Haor go in Boal market?

বোয়ালের বাজারে পাঙাশ, হাওরের মাছ গেল কই?

বোয়ালের বাজারে পাঙাশ, হাওরের মাছ গেল কই? সুনামগঞ্জের কারেন্টের বাজারের মোড়ে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে বোয়াল মাছের ভাস্কর্যটি। ছবি: নিউজবাংলা
দেশীয় প্রজাতির মাছের অন্যতম উৎস হাওরাঞ্চল। কিন্তু এই অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেল এক অস্বাভাবিক চিত্র। স্থানীয় কোনো মাছই নেই বাজারগুলোতে। প্রায় সব বিক্রেতার কাছেই ছিল চাষের মাছ। কেন এমন অবস্থা হলো তা জানতে গিয়ে বেরিয়ে এলো আরও নানা তথ্য।

জড়াজড়ি করে আছে দুটি বোয়াল। তবে মাছের আড়ত কিংবা মৎস্যজীবীর জালে নয়; বোয়াল দুটি জড়াজড়ি করে আছে বাজারের মোড়ে- ভাস্কর্যে!

এই মোড়ের নাম বোয়াল চত্বর। আর এলাকার নাম কারেন্টের বাজার। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার এই বাজারের মোড়ে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে বোয়াল মাছের ভাস্কর্যটি।

সুনামগঞ্জের হাওরের বোয়াল মাছের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। খ্যাতি থেকেই বোয়ালের এই ভাস্কর্য। কিন্তু বোয়াল চত্বরের পাশের কারেন্টের বাজারে ঢুকে কোনো বোয়াল মাছ পাওয়া গেল না। আরেকটু এগিয়ে গেলেই বিশ্বম্ভরপুর বাজার, সেখানেও নেই বোয়াল মাছ। এমনকি টাঙ্গুয়ার হাওরঘেরা তাহিরপুর বাজারেও নেই হাওরের কোনো মাছ!

বোয়ালের বাজারে পাঙাশ, হাওরের মাছ গেল কই?
বোয়াল চত্বরে আছে শুধু পাঙ্গাস মাছ। ছবি: নিউজবাংলা

এই সবকটি বাজার ঘুরেই দেখা গেছে, খামারের মাছের আধিক্য। বিশেষত, গরিবের আমিষের উৎস হিসেবে খ্যাত পাঙাশ মাছের ছড়াছড়ি সবখানে।

মিঠাপানির মাছের অন্যতম উৎস হিসেবে খ্যাত হাওর। অথচ হাওর এলাকার বাজারেই খামারের মাছের আধিক্য কেন- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, হাওরের ধানই আসলে মাছের জন্য কাল হয়েছে। বন্যার হাত থেকে ধান বাঁচাতে হাওরের যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ, অবাধে কীটনাশক ব্যবহার, পোনা নিধন, সেচ দিয়ে মাছ ধরাসহ নানা কারণে কমছে হাওরের মাছ। ইতোমধ্যে হাওরের মাছের অনেক জাত বিলুপ্তও হয়ে গেছে।

হাওরে কেন খামারের মাছ

‘হাওরের পানি নাইরে, হেথায় নাইরে তাজা মাছ’- সিলেট ছেড়ে কলকাতায় থিতু হওয়ার আক্ষেপ নিয়ে লেখা গানে এমনটি বলেছিলেন গণসংগীতশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস। কিন্তু হাওর এলাকায়ই এখন নেই হাওরের মাছ।

দেশের অন্যতম বৃহৎ হাওর টাঙ্গুয়া। এই হাওর ঘেঁষেই তাহিরপুর বাজার। গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে তাহিরপুর বাজারে প্রবেশের আগ মুহূর্তেই দেখা যায়, হাতে মাছ ঝুলিয়ে বাজার থেকে ফিরছেন নানা বয়সের লোক। প্রায় সবার হাতেই একই মাছ- পাঙাশ। বাজারে ঢুকেও দেখা যায় এখানকার প্রায় সব বিক্রেতার কাছেই চাষের মাছ। এর মধ্যে পাঙাশই বেশি। এ ছাড়া চাষের তেলাপিয়া, পাবদা, কৈও আছে কিছু। শুধু এক বিক্রেতাকে দেখা গেল, স্থানীয় বিল থেকে ধরে আনা কিছু ছোট মাছ নিয়ে বসেছেন।

এই বাজারেই মাছ কিনতে আসা এরশাদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘এখন তো হাওরে মাছই পাওয়া যায় না। আগে আমরা কী বড় বড় মাছ দেখতাম। জালে ধরা পড়ত বিশাল একেকটা বোয়াল। এখানকার বাচ্চাকাচ্চারা এগুলো মনে করে গল্প।’

আক্ষেপের সুরে তিনি আরও বলেন, ‘কী দিন আইল, মাছের দেশের মানুষেরও খামারের মাছ খাইতে হয়। এসব মাছে কোনো স্বাদ নাই।’

তবে এই মৌসুমে বাজারে হাওরের মাছ এমনিতেই কম থাকে বলে জানান মাছ বিক্রেতা রবীন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘এখন নয়া (নতুন) পানি আইতেছে। হাওরে এখন মাছ ঢুকব। বর্ষার পর এইগুলা ধরা অইব।’

বোয়ালের বাজারে পাঙাশ, হাওরের মাছ গেল কই?
পাঙাশ মাছ দামে কম হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রাধানগর বাজারে গিয়েও দেখা যায়, সড়কের ধারে বসে পাঙাশ মাছ বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা। তিনি বলেন, ‘পাঙাশ দামে সস্তা। এই এলাকার বেশির ভাগ মানুষই গরিব। তারা দামি মাছ কিনতে পারে না। তাই পাঙাশ মাছই বেশি আনি।’

পরদিন ২৮ এপ্রিল দিরাই বাজারে গিয়েও দেখা যায়, চাষের মাছের ছড়াছড়ি। কিছু রুই, মৃগেল, গ্রাসকার্পও আছে এই বাজারে। তবে এগুলো সুনামগঞ্জের বাইরে থেকে আনা।

এখানকার মাছ বিক্রেতা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘হাওরে তো এখন মাছ পাওয়া যায় না। তাই চাষের মাছই ভরসা।’

মাছ কিনতে আসা চেরাগ মিয়া বলেন, ‘এই সময়ে হাওরে মাছ পাওয়া যায় না। কারণ শুষ্ক মৌসুমে হাওরের বিল শুকিয়ে সব মাছ ধরে ফেলা হয়। এখন নতুন পানির সঙ্গে নতুন মাছ আসবে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে আবার সেগুলো ধরা হবে। ফলে এই সিজনে বাজারে হাওরের মাছ পাওয়া যায় না।’

বিল শুকিয়ে মাছ ধরার কারণেই হাওরের মাছের উৎপাদন ও বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে, দাবি করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশ বায়োলজি ও জেনেটিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নির্মল চন্দ্র রায়। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে বিলগুলো একেবারে শুকিয়ে মাছ ধরা হয়। এটা খুবই ক্ষতিকর। এতে অনেক জাত হারিয়ে যায়। এটা নিষিদ্ধও। তবু কেউ তা মানছে না।’

ধানের জন্যে মাছের ক্ষতি!

জামালগঞ্জের হালির হাওরের একটি বিল কয়েক বছর ধরে ইজারা নিচ্ছে স্থানীয় একটি মৎস্যজীবী সমিতি। এই সমিতির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বিল ইজারা নিয়ে লাভের চেয়ে এখন লোকসানই বেশি গুনতে হয়। হাওরের ধান বাঁচাতে বিলে সবদিকে বাঁধ দেয়া হয়। এই বাঁধের কারণে মাছ ঢুকতে পারে না। যেগুলো আছে সেগুলোও চলাচল করতে পারে না। ফলে শুষ্ক মৌসুম বিল সিচেও তেমন মাছ পাওয়া যায় না।’

হাওর এলাকায় বছরে একবারই ধান হয়। স্থানীয়দের কাছে ‘বৈশাখী’ হিসেবে পরিচিত বোরো ধানই তাদের খাদ্যের প্রধানতম উৎস। প্রায় প্রতি বছরই মার্চের দিকে ঢল আর ভারি বৃষ্টিতে হাওর এলাকায় অকাল বন্যা দেখা দেয়। এতে তলিয়ে যায় ফসল। এই ধান রক্ষায় হাওরে যেন ঢলের পানি প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নির্মাণ করা হয় ফসলরক্ষা বাঁধ।

এ বছরও সুনামগঞ্জে ১২৪ কোটি টাকা ব্যয় করে ৫৩২ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী তাহিরপুর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন মনে করেন, ধান রক্ষায় নির্মাণ করা এসব বাঁধই হাওরের মাছের জন্য বড় বাধা। তিনি বলেন, ‘দিন দিন বাঁধ উঁচু হচ্ছে। এতে ধান হয়তো রক্ষা পাচ্ছে। কিন্তু সময়মতো পানি হাওরে ঢুকতে পারছে না। এতে মাছও আসছে না। মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাঁধের কারণে মাছ ইচ্ছামতো পানিতে ঘুরে বেড়াতে পারছে না। এ কারণে হাওরের মাছ কমে যাচ্ছে।’

বোয়ালের বাজারে পাঙাশ, হাওরের মাছ গেল কই?
হাওরে এখন মাছ পাওয়া যায় না তাই চাষের মাছই ভরসা। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য ধানগাছে কীটনাশক প্রয়োগ করেন কৃষকরা। বৃষ্টি আর বন্যায় এই কীটনাশক গিয়ে মিশে হাওরের পানিতে। অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগেও হাওরের মাছের ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘কীটনাশকের কারণে মাছ ডিম কম দিচ্ছে। সব ডিম থেকে পোনাও ফুটছে না। অনেক সময় হাওরে মাছ মরে ভেসে উঠতেও দেখা যায়।’

এ ছাড়া রামসার সাইট (মাছের অভয়াশ্রম) হিসেবে ঘোষণার পর টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে মাছ ধরা বন্ধ থাকা, সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়া, হাওরে সময়মতো পানি না আসা আর অবাধে মাছ শিকারের কারণেও হাওরের মাছ এখন কম পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণকে হাওরের মাছ কমে যাওয়ার বড় কারণ বলে মনে করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডও।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘মুক্ত জলাশয়ের মাছের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল খুব জরুরি। এটি বাধাগ্রস্ত হলে মাছের প্রজনন ব্যাপকভাবে কমে যায়। হাওরে এটা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নদীর মাছ আগে হাওর ও বিলে গিয়ে আশ্রয় নিতো। এখন বাঁধের কারণে মাছ নদী থেকে হাওর বা বিলে যেতে পারছে না।’

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক বলেন, ‘ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। স্বাভাবিকভাবেই সরকার ধান রক্ষায় অধিক মনোযোগ দেবে। তবে কীটনাশক ব্যবহারে আমরা সব সময়ই কৃষকদের নিরুৎসাহিত করি।’

তবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নির্মল চন্দ্র রায় মনে করেন, ধান ও মাছ দুটির ব্যাপারেই সরকারের মনোযোগী হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকৃতির অনুকূলে কাজ করতে হবে। যে জায়গায় ধান হয় সেখানে ধান চাষ করতে হবে। আর যে জায়গায় ধান হয় না, অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় সেখানে ধান চাষ না করে মাছ চাষে মনোযোগী হতে হবে।’

এই গবেষক বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা বাঁধ দিচ্ছি ধান চাষের জন্য। কিন্তু ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এই টাকা মাছ চাষে খরচ করলে আরও অনেক বেশি টাকার মাছ পাওয়া যেত।’

তিনি বলেন, ‘আবার এসব বাঁধের মাটি বৃষ্টি আর পানির স্রোতে হাওর ও বিলে যাচ্ছে। এতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মাটি জমছে হাওরে। ফলে বিলের পানি বেশি সময় থাকছে না। অদূর ভবিষ্যতে তো বিলগুলোই থাকবে না। সব সমতল ভূমি হয়ে যাবে! ফলে ধান ও মাছ দুটিরই ক্ষতি হবে।’

এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মণ্ডল দাবি করেছেন, হাওরের মাছ কমলেও সুনামগঞ্জে মাছের উৎপাদন আগের চেয়ে বেড়েছে। কারণ মানুষজন মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছে, মাছের খামার গড়ে তুলছে। সরকারও তাদের সহায়তা করছে।

তিনি জানান, মাছের উৎপাদন বাড়াতে এই এলাকায় এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষে প্রযুক্তি সহায়তা সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প নামে দুটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের কারণে মাছ চাষ বেড়েছে। কিন্তু চলতি বছরই এই দুই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পগুলোর মেয়াদ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’

অবাধে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন

‘আজই আপনি সিলেটের যে কোনো বাজারে যান, দেখবেন- অবাধে বিক্রি হচ্ছে রেণু পোনা। প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে এগুলো। কেউ বাধা দিচ্ছে না!’

হাওরের মাছ নিয়ে গবেষণা করা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নির্মল চন্দ্র রায়ের এই মন্তব্যটি যে যথার্থ, তা বোঝা গেল গত ২৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে। সব বাজারেই দেদার বিক্রি হচ্ছে রেনু পোনা। বৈশাখের নতুন পানির সঙ্গে নদী ও হাওরে প্রবেশ করেছিল এই পোনাগুলো। জেলেরা এগুলো অবাধে শিকার করে বাজারে আনছে।

এ ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে যে সচেতনতার অভাব, তা সাইফুল ইসলাম নামে এক কিশোরের বক্তব্যে স্পষ্ট। দেখার হাওরে ঠেলা-জাল দিয়ে পোনা মাছ ধরছিল সে।

সাইফুল বলে, ‘আমরা তো সব সময়ই এগুলো ধরি। জালে যা উঠে তাই-ই ধরি। কেউ কখনো মানা করেনি। তা ছাড়া মাছ না ধরলে খামু কি?’

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, ‘মাছের প্রজাতির বিলুপ্তি ঠেকাতে ও উৎপাদন বাড়াতে অবশ্যই পোনা মাছ এবং ডিমওয়ালা মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে ক্ষতিকর জালের ব্যবহারও। হাওর এলাকায় এসব কেউ মানছে না।’

শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ ধরা বন্ধে জেলেদের সচেতন করতে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।

বিলুপ্ত অনেক প্রজাতি

সুনামগঞ্জসহ সিলেটের বিভিন্ন হাওর থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে প্রায় ৩২ প্রজাতির মাছ।

সিলেট মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে- হাকালুকি, টাঙ্গুয়া, দেখার হাওর, শনির হাওরসহ সিলেট বিভাগের হাওরগুলোতে এক যুগ আগেও প্রায় ১০৭ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে বেশকিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত হওয়ার পথে আরও কিছু প্রজাতি।

বছর তিনেক আগে মৎস্য অধিদপ্তরের সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপকূলীয় ও জলাভূমি প্রকল্প জরিপ নামে একটি জরিপ চালানো হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এনসিআরএস, আইডিয়া ও প্রচেষ্টা এই জরিপ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।

বোয়ালের বাজারে পাঙাশ, হাওরের মাছ গেল কই?
বাজার জুড়ে পাঙ্গাস মাছে ছয়লাভ। ছবি: নিউজবাংলা

জরিপে দেখা গেছে, সিলেটের হাওরগুলোর ১০৭ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৩২ প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। জরিপের ফলাফলে বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হচ্ছে- মহাবিপন্ন, সঙ্কটাপন্ন ও বিপন্ন প্রজাতি।

এর মধ্যে মহাবিপন্ন প্রজাতি মাছের মধ্যে রয়েছে- টাটকিনি, ঘারুয়া, বাঘাইড়, রিটা, রাণী, পাঙাশ, বামোশ, নাফতানি, চিতল, একথুটি ও চাকা।

সংকটাপন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে- বাচা, ছেপচেলা, ঢেলা, বাঁশপাতা, কুঁচে, নাপতে কই, বাতাসিয়া টেংরা, ফলি ও গুজিআইড়।

আর বিপন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে- গুলশা, গনিয়া, দাড়কিনা, আইড়, পাবদা, বড় বাইম, গজার, তারাবাইম, তিতপুঁটি, নামা চান্দা ও কালিবাউশ।

এ বিষয়ে আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক বলেন, ‘হাওরের মাছের বিলুপ্তি রোধ ও বিস্তারে অসময়ে পোনা মাছ ধরা বন্ধসহ ডিম ছাড়ার মৌসুম বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বিল শুকিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করা ও মৎস্য আইন সম্পর্কেও মৎস্যজীবীদের সচেতন করতে হবে। এ ছাড়া হাওরের যত্রতত্র বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কমাতে হবে কীটনাশকের ব্যবহারও।’

সুনামগঞ্জে মাছের উৎপাদন কত

সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত অর্থ বছরে এই জেলা থেকে ৯০ হাজার ১৩০.২৫ মেট্রিক টন মাছ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নদী থেকে ৪ হাজার ৫৪৪.৪৫ মেট্রিক টন, বিল থেকে প্রাকৃতিকভাবে ২৮,৬২৪.৩৯ মেট্রিক টন, বিলে পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে ৬০.৯০ মেট্রিক টন, হাওর থেকে ৩৪ হাজার ১৩৪.০৭ মেট্রিক টন এবং প্লাবনভূমি থেকে ২৭১৫.২৫ মেট্রিক টন মাছ পাওয়া যায়।

ওই কার্যালয় আরও জানায়, জেলায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জায়গাজুড়ে ২০ হাজার ৭৬৯টি মৎস্য খামার আছে। গত অর্থবছরে খামারগুলোতে উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৭৯৮.৮৫ মেট্রিক টন মাছ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মণ্ডল বলেন, ‘মাছ আরও বেশি পাওয়া যায় আসলে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কর ফাঁকি দিতে অনেক সময় তথ্য গোপন করে।’

আরও পড়ুন:
পড়া ফেলে ধান কাটায় হাওরের শিশুরা
ধান কাটার ধুম: ‘হাওরেই খাইদাই ঘুমাই’
হাওরে এবার ভাঙল স্থায়ী বাঁধ
উজানের পানিতে ভেসে গেল হাওরের ঈদ
শোল মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Government assistance will be provided for the cultivation of fallow lands

পতিত জমিতে চাষাবাদে মিলবে সরকারি সহায়তা

পতিত জমিতে চাষাবাদে মিলবে সরকারি সহায়তা নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: সংগৃহীত
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘তেল জাতীয় ফসল আবাদে উৎপাদন খরচ কম এবং লাভ বেশি। এ বিষয়ে কৃষিবান্ধব শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বীজ, সার, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়া হবে।’

পতিত জমিতে কৃষি কাজ করলে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে রোববার স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তাকে টেকসই ও আরও মজবুত করতে হলে চরাঞ্চল, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা, পাহাড়ি প্রতিকূল এলাকার জমিকে চাষের আওতায় আনতে হবে। কোন জমি অনাবাদি রাখা যাবে না।

‘পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। পতিত জমিতে যারা চাষ করবে, তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

এ সময় অনাবাদি পতিত জমিতে তেল জাতীয় ফসল সয়াবিন, সূর্যমুখী ও সরিষার আবাদ বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দেন কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তেল জাতীয় ফসল আবাদে উৎপাদন খরচ কম এবং লাভ বেশি। এ বিষয়ে কৃষিবান্ধব শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বীজ, সার, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়া হবে।

‘নোয়াখালীর অনাবাদী পতিত জমিগুলোকে আবাদের আওতায় আনতে আউশ ধানের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে আমাদের বিজ্ঞানীরা। আপনারা স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন অধিক ফলনশীল এ জাতগুলো রবি ফসল কর্তনের পরপরই আবাদ করবেন। চাষাবাদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সহযোগিতা দিতে বিএডিসি বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। জাতগুলো কৃষকের কাছে সম্প্রসারণের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করছে।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘লবণাক্ততা উপকূলীয় এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা। লবণাক্ত জমিতে চাষোপযোগী জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। লবণাক্ত এলাকায় লাউ, সীম, তরমুজ, সূর্যমুখী, মিষ্টি আলু ও সয়াবিন ফসলের ফলন ভালো হয়। এ ফসলগুলোর ক্রপিং প্যাটার্নে অন্তর্ভুক্ত করে চর এলাকার প্রত্যেকটি জমি আবাদের আওতায় আনতে হবে।’

ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় এবং বোরো ধানের ক্ষতি হওয়ায় চালের দাম বাড়বে কিনা জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর বোরোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। হাওরে ও সারা দেশে বৈরি আবহাওয়ায় যা ক্ষতি হয়েছে, তা সামান্য। বোরোতে আশানুরূপ ফলন পাব। ফলে, চালের দামে প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

‘এক দিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, অন্যদিকে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় মিলাররা বেশি বেশি করে ধান কিনছে। সে জন্য, ভরা মৌসুমেও চালের দাম কমছে না।’

‘রিমোট কন্ট্রোলে দল চালিয়ে ক্ষমতায় আসা যাবে না’

ক্ষমতায় আসতে হলে বিএনপিকে মানুষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অবর্তমানে যিনি বিএনপি চালাবেন সেই তারেক রহমান লন্ডনে বসে ভোগবিলাস করছেন, রিমোট কন্ট্রোলে দল চালাচ্ছেন। আর সেই রিমোট কন্ট্রোলে দল চালিয়ে, হুমকি দিয়ে আওয়াজ তুলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

‘ক্ষমতায় আসতে হলে মানুষের কাছে যেতে হবে। মানুষের দুঃখ কষ্টের সঙ্গী হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো পর্দার অন্তরালে ষড়যন্ত্র করে নীলকুঠি, লালকুঠিতে বসে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। আমাদের ভিত্তি জনগণ, আমরা জনগণকে নিয়ে এগোচ্ছি, জনগণ যদি আমাদের প্রত্যাখ্যান করে আমরা চলে যাব; এটা নিয়ে আমাদের কোনো দুঃখ নেই।’

আরও পড়ুন:
পটাশিয়াম রপ্তানি অব্যাহত রাখতে কানাডাকে অনুরোধ
আলু নিয়ে অসহায় কৃষিমন্ত্রী
আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য: কৃষিমন্ত্রী
‘মাথাপিছু আয়ের বড় অংশই গুলশান-বনানীতে’
শেখ হাসিনা থাকতে খাদ্যসংকট-দুর্ভিক্ষ হবে না: কৃষিমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Concerned neo hippies and their global warming ill tell ya

৭২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা

৭২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা তলিয়ে যাওয়া ফসল কাটছেন কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণাগার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর মিয়া বলেন, ‘আসানির প্রভাবে সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত তিন দিনে ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন উত্তরাঞ্চলে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

কুড়িগ্রামে জেলায় শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। যে সময় কৃষকের মুখে হাসি ফোটার কথা, সে সময় অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

কুড়িগ্রামের ১৬টি নদনদীর পানি বাড়ায় প্রায় পাঁচ শতাধিক নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ পাকা ধান এবং খড় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকে রোববার পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টায় ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টিতে শত শত বিঘা জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে।

৭২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের পানাতি পাড়া গ্রামের কৃষক উত্তম কুমার বলেন, ‘আমার এক বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আধা পাকা ধান কাটছি। প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই ফসলে সেই খরচ উঠবে না।’

একই এলাকার চাষি অমিদাস বলেন, ‘প্রায় ৫৫ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করে ১০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছি। অকাল বৃষ্টিতে এক বিঘার ওপর বোরো আবাদ তলে গেছে। এখন খরচ কীভাবে উঠবে সেটা মালিক (ঈশ্বর) জানে।’

৭২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা

শুলকুর বাজার ছড়ার পাড়ের কৃষক সইদুল ইসলাম বলেন, ‘এক বুক পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। দুই বিঘা বোরো ধান পানির নিচে। কামলা পানিতে নেমে ধান কাটে না। মজুরিও চায় বেশি। তাই নিজেরাই কাটছি।’

একই এলাকার কৃষক মকবুল মিয়া বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদে খরচ গেছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। আগে এই জমিতে ধান পাইতাম ২৫/২৮ মণ । এবার পানিতে ডুবে থাকা ধান ১২/১৪ মণের ওপর হবে না। খরচও উঠবে না। খড়ের অবস্থা খারাপ। গরুর খাবারও সংকট হবার শঙ্কা আছে।’

কৃষানি শিল্পী বেগম বলেন, ‘পানিত ডুবে থাকা ধান কেটে শুকাতে পাচ্ছি না, রোদ নাই। খড় স্যাঁত স্যাঁত হয়ে যাচ্ছে। ধান ভেজা থাকলে নষ্ট হয়ে যায়।’

হলোখানা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘অকাল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বোরো, বাদাম, পেঁয়াজসহ সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে। ঋণ করে অনেক কৃষক আবাদ করলেও ক্ষতির মুখে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।’

প্রান্তিক এসব কৃষকের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

৭২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর মিয়া বলেন, ‘আসানির প্রভাবে সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত তিন দিনে ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন উত্তরাঞ্চলে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে সদরে ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধানগুলো এখনো জমিতে রয়েছে।

‘এসব ধান নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন কৃষক। গত তিন দিন অফিস বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কাছে বোরো ধান জলমগ্ন হওয়ার কোনো পরিসংখ্যান নেই।’

আরও পড়ুন:
চলনবিলে এক মণ ধানের দামে এক শ্রমিকের মজুরি
বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গ্রন্থাগারের ভিত্তি স্থাপন
বুদ্ধের আদর্শে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ায় ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী
পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান, কৃষকের হাহাকার
পাকা ধান ডোবায় দিশেহারা চাষিরা

মন্তব্য

উপরে