× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
The comet blue sea left the platform late
hear-news
player

দেরিতে প্ল্যাটফর্ম ছাড়ল ধূমকেতু-নীলসাগর

দেরিতে-প্ল্যাটফর্ম-ছাড়ল-ধূমকেতু-নীলসাগর কমলাপুর থেকে আজ দেরিতে ছেড়েছে দুটি ট্রেন। ছবি: নিউজবাংলা
রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৬টা। ৩৫ মিনিট দেরিতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যায় সেটি। অন্যদিকে চিলাহাটীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে সাড়ে ৭টায়।

ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন শনিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেরিতে ছেড়েছে দুটি ট্রেন। একটি ৩০ মিনিট ও অন্যটি ৫০ মিনিট দেরিতে প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে।

ট্রেন দুটি হলো ‘‍ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ও ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’।

আগের দিনগুলোর মতো আজও দেরিতে ছেড়ে গেছে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, তবে সময় কমেছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৬টা। ৩৫ মিনিট দেরিতে ৬টা ৩৫ মিনিটে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যায় সেটি।

অন্যদিকে চিলাহাটীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও প্ল্যাটফর্ম ছেড়েছে সকাল সাড়ে ৭টায়। অর্থাৎ ৫০ মিনিট দেরি করে ছেড়ে গেছে এটি।

বাকি ট্রেনগুলো যথাসময়েই স্টেশন থেকে গন্তব্যের দিকে গেছে। এগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ৭টায়, কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী সোয়া ৭টায়, দেওয়ানগঞ্জ বাজারগামী তিস্তা এক্সপ্রেস সাড়ে ৭টায়, চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী পৌনে ৮টায়, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সোয়া ৮টায় এবং মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার সকাল সাড়ে ৮টায় স্টেশন ছেড়ে যায়। রংপুর এক্সপ্রেস ৯টা ১০ মিনিটে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যায়।

দেরিতে ছাড়া ট্রেনের যাত্রীদের ভাষ্য

ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. শাহিন যাবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের চাপেই বসে থাকা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। সামনে এয়ারপোর্ট স্টেশনে এটা আরও বেশি হবে। এর মধ্যে যদি এভাবে ট্রেন ছাড়তে দেরি করে, তাহলে কীভাবে চলবে?’

অনেকেই আধা ঘণ্টা দেরি হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। একই ট্রেনের যাত্রী আবু ফয়সাল বলেন, ‘ঈদযাত্রায় শিডিউল ফেঁসে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। মাত্র আধা ঘণ্টা দেরি করে ছেড়ে যাচ্ছে। এটা সৌভাগ্যের ব্যাপার।’

এদিকে আর কোনো ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছে রেলওয়ের একটি সূত্র।

আরও পড়ুন:
চাপ কম গাবতলীতে, টিকিট মিলছে তাৎক্ষণিক
উত্তরের ঈদযাত্রায় স্বস্তি
‘যত কষ্টই হোক, বাড়িতে ফিরতে হবে’
লঞ্চ ভিড়তে পারছে না বরিশাল বন্দরে
স্ট্যান্ডিং টিকিটের কদর বেড়েছে কমলাপুরে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Mass beating youth killed on suspicion of snatching in Ashulia

চলন্ত বাসে ‘ডাকাতকে’ পিটুনি: হাসপাতালে মৃত্যু

চলন্ত বাসে ‘ডাকাতকে’ পিটুনি: হাসপাতালে মৃত্যু
আশুলিয়া থানার এসআই মো. আসলামুজ্জামান জানান, সোমবার রাতে নবীনগর এলাকায় পিটুনিতে গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে আটক করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকার সাভারে চলন্ত বাসে অস্ত্র ধরে ডাকাতির অভিযোগে আটক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পিটুনি দেয়া ওই ব্যক্তির নাম, পরিচয় জানা যায়নি।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসলামুজ্জামান নিউজবাংলাকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সোমবার রাতে নবীনগর এলাকায় পিটুনিতে গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে আটক করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

এসআই বলেন, ‘চলন্ত বাসে ডাকাতির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ডাকাতির সময় বাসের দুই থেকে তিনজন যাত্রী আহত হওয়ার কথা শুনলেও আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের পাইনি।’

নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলা ইমরান খান নামের এক যুবক বলেন, ‘রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় সেনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন এক নারীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলা দেয়া হয়। অন্য যাত্রীরা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করছিল।

‘মার্কেটের সামনে থাকা ট্রাফিক পুলিশের এক এসআই ওই নারীকে ফেলে দিতে দেখে দৌড়ে গিয়ে বাসে ওঠেন।’

হেলাল উদ্দিন নামের ওই এসআই বলেন, ‘ডাকাতির কথা শুনে কোনো কিছু চিন্তা না করে আমি যাত্রীদের বাঁচাতে যাই। আমার কাছে কোনো অস্ত্র বা লাঠি কিছুই ছিল না। বাসে তিনজন অস্ত্রধারী ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে জাপটে ধরে ইঞ্জিনের ওপর ফেললে বাকি দুজন পালিয়ে যায়।

‘এরপর বাসের ও বাইরের লোকজন ওই ডাকাতকে পিটুনি দেয়। আমি একা তাদের থামাতে পারিনি। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা ওই ব্যক্তিকে আটক করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ছুরিটাও পুলিশ উদ্ধার করেছে। তবে সাভার পরিবহনের বাসটা সুযোগ বুঝে পালিয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম, টাকা-স্বর্ণালংকার লুট
মধ্যরাতে মহাসড়কে ডাকাতির অভিযোগ
৪ জনকে কুপিয়ে জখম, পিটুনিতে নিহত ‘হামলাকারী’ যুবক
‘অস্ত্র বেচাকেনার পাশাপাশি হান্নান ডাকাতি করত’
ঈদ করতে বাড়ি ফিরে ‘মারধরে’ নিহত পোশাকশ্রমিক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bail for a young woman who took up residence in her boyfriends house demanding marriage

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া তরুণীর জামিন

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া তরুণীর জামিন জামিনে মুক্ত হয়েছেন প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া সেই তরুণী। ছবি: নিউজবাংলা
আসামিপক্ষের আইনজীবী এম মজিবুল হক কিসলু জানান, বেলা ১১টার দিকে তরুণীকে আদালতে নেয়া হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তরুণীকে জামিন দেন। জামিনে কোনো শর্ত দেয়া হয়নি।

বিয়ের দাবিতে বরগুনায় প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া জামালপুরের সেই তরুণীকে জামিন দিয়েছে আদালত।

বরগুনা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে তরুণীকে জামিন দেন। আগের দিন আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এম মজিবুল হক কিসলু।

তিনি জানান, বেলা ১১টার দিকে তরুণীকে আদালতে নেয়া হয়। এরপর উভয় পক্ষের আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।
শুনানি শেষে বিচারক মাহবুবুর রহমান তরুণী ও তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি জামিন দেন। জামিনের কোনো শর্ত দেয়া হয়নি বলেও জানান এ আইনজীবী।

তবে আইন ভঙ্গ হয় এমন কোনো কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলা হয়। একই সঙ্গে কারো বিরুদ্ধে তার অভিযোগ থাকলে আইনি পদ্ধতিতে এগোতে বলা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইমুল ইসলাম রাব্বি বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, আসামির ভাইয়ের জিম্মায় জামিন দেয়া হলে বাদীপক্ষের আপত্তি নেই। পরে আদালত তাকে জামিন দেয়।’

তরুণীর বড় ভাই বলেন, ‘ছেলে মাহমুদুল হাসানের মামা আমাকে ফোন করে আলোচনার জন্য তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে আসার আগেই তারা আমার বোনের নামে মামলা দিয়ে জেলে পাঠায়। আমার বোন আমাদের বলেছে, সে বিয়ে করেছে, শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছে। তাই আমরা আর দুশ্চিন্তা করিনি।’

মাহমুদুল হাসানের পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এর আগে শুক্রবার ভোরে বেতাগী থানা পুলিশ চান্দখালি এলাকার মাহমুদুল হাসানের বাড়ি থেকে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করে। পরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক নাহিদ ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাহমুদুল হাসানকে প্রেমিক দাবি করে গত ২৮ এপ্রিল থেকে বিয়ের জন্য তার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে ছিলেন ওই তরুণী।

বেতাগী থানার শাহ আলম হাওলাদার জানান, ওই তরুণীর বিরুদ্ধে মাহমুদুলের বাবা মোশাররফ হোসেন বৃহস্পতিবার মামলা করেছেন। তাতে জিম্মি করে তালা ভেঙে বাসায় প্রবেশ, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও আত্মহত্যার হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই মামলায় মেয়েটিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যা ঘটেছিল

ওই তরুণী জানিয়েছিলেন, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তার গ্রামের বাড়ি। ঢাকার উত্তরায় থাকেন এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

মেয়েটির দাবি, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। তিন বছর প্রেমের পর সম্প্রতি বিয়ের কথা বললে নানা অজুহাতে তরুণীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন মাহমুদুল। রোজার শুরুতে যুবকটি গ্রামের বাড়ি চলে আসেন।

এরপর গত ২৮ এপ্রিল ওই তরুণী বেতাগীর চান্দখালীতে মাহমুদুল হাসানের বাসার সামনে বিয়ের দাবি নিয়ে অবস্থান নেন। তবে সে সময় মাহমুদুলের বাসা তালাবদ্ধ পান।

গত রোববার দুপুরে ওই তরুণী জানান, তিন দিনেও মাহমুদুল বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়ে তার দাবি মেনে না নেয়া হলে বাসার সামনেই আত্মহত্যা করবেন।

সেদিন মেয়েটির খোঁজ নিতে গেলে মাহমুদুলের মামা আবদুস সোবাহান গাজীকে স্থানীয়দের সহায়তায় অবরুদ্ধ করে রাখেন সেই তরুণী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাহমুদুলকে হাজির করার আলটিমেটাম দেন।

নিউজবাংলাকে বেতাগী থানার ওসি জানান, ওই তরুণীর বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করেন মাহমুদুল হাসানের বাবা মোশাররফ হোসেন। বিচারক সেদিনই মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালত মাহবুবুর রহমান বেতাগী থানার ওসি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী সাইমুল ইসলাম রাব্বি মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে জানান, ওই তরুণী মাহমুদুলের মামাকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয়দের সহায়তায় তালা ভেঙে ওই বাড়িতে ঢোকেন। বিয়ের দাবি মেনে না নিলে সেখানেই আত্মহত্যার হুমকি দেন। বাড়ি ফিরলে মাহমুদুলের মা-বাবাকেও মেয়েটি অবরুদ্ধ করেন।

ওসি শাহ আলম নিউজবাংলাকে জানান, মেয়েটির নামে ৪৮৪, ৩০৯, ৩৪৪, ৪২৭, ২৯০, ৫০৬ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তাতে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪ থেকে ৫ জনকে।

আরও পড়ুন:
বিয়ের দাবিতে জামালপুরের তরুণী বরগুনায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I want to return to the country without allegations

‘অভিযোগ ভিত্তিহীন, দেশে ফিরতে চাই’

‘অভিযোগ ভিত্তিহীন, দেশে ফিরতে চাই’ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ইডি শনিবার গ্রেপ্তার করে পি কে হালদারকে। ফাইল ছবি
পশ্চিমবঙ্গে ইডির কার্যালয়ে লিফটের এক কোনায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন পি কে হালদার। ওই সময় লিফটের বাইরে থাকা সাংবাদিকরা তার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান।

হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

দেশে ফিরতে চান বলেও জানিয়েছেন আলোচিত এ ব্যক্তি।

ভারতের অর্থসংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) শনিবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগর থেকে পি কে হালদারসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে এক নারী রয়েছেন।

ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তারের দিনই আদালতে উপস্থাপন করা হলে পাঁচজনকে তিন দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পায় ইডি। গ্রেপ্তার নারীকে কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

গোয়েন্দা সংস্থাটির হেফাজতে থাকা পি কে হালদারসহ পাঁচ পুরুষকে সোমবার সকালে রুটিন চেকআপের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঘণ্টাখানেক রাখার পর ইডির সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের অফিসে তাদের ফিরিয়ে আনেন তদন্তকারীরা।

ইডির কার্যালয়ে লিফটের এক কোনায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন পি কে হালদার। ওই সময় লিফটের বাইরে থাকা সাংবাদিকরা তার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান।

জবাবে পি কে হালদার বলেন, ‘আমি দেশে ফিরতে চাই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।’

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ

ইডি সূত্র জানিয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে পি কে হালদারসহ পাঁচজনকে রোববার দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ইডি আরও জানায়, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও নকল পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে অবৈধভাবে দেশটিতে ছিলেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। তারা জালিয়াতি করে যাচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পি কে গ্রেপ্তারে সর্বস্বান্তদের মনে আশার আলো
পি কে হালদারের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পি কে হালদার ৩ দিনের রিমান্ডে
পি কে গ্রেপ্তার: আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষায় সরকার
পি কে হালদারের যত অপকর্ম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The child fell into the toilet with a broken pulse

নাড়ি ছিঁড়েই টয়লেটে পড়ে সেই শিশুটি

নাড়ি ছিঁড়েই টয়লেটে পড়ে সেই শিশুটি বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এই পাইপ ভেঙে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। ছবি: নিউজবাংলা
হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চার নাড়ি ছিঁড়ে গিয়েছিল। এ কারণে কোনো বাধা ছাড়াই পাইপে বাচ্চাটি ঢুকে যায়। পাশাপাশি বাচ্চার সাইজ থেকে পাইপের সাইজ বড় হওয়ায় বাচ্চাটি সহজে পাইপে ঢুকে গিয়েছিল।’

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের টয়লেটে নাড়ি ছিঁড়েই পড়ে গিয়েছিল সেই শিশুটি। হাসপাতালের তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে এমনটিই নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলামের কাছে সোমবার দুপুরে এক পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

এই কমিটির সদস্য সচিব ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান শাহিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টয়‌লে‌টের প‌্যা‌নের সঙ্গে পাইপ সরাসরি যুক্ত ছিল। কোনো বাঁকা লাইন হয়ে পাইপ যুক্ত থাকলে বাচ্চাটি পড়ে প্রাণহানির শঙ্কা থাকত। পাইপ সরাসরি প্যানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বাচ্চাটি পাইপে পড়ে গেছে।

‘তা ছাড়া বাচ্চাটির ওজন ছিল ১ কেজি ৩০০ গ্রাম এবং আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। এ কারণে সহজেই টয়লেটের পাইপে পড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চার মায়ের প্রসব ব্যথার মধ্যে মলত্যাগের বেগ পেলে তিনি টয়লেটে যান। টয়লেটে তিনি বাচ্চা প্রসব করেছিলেন। প্রথমে বিষয়টি টের পাননি তিনি। তা ছাড়া তদন্তে পাওয়া গেছে, বাচ্চার নাড়ি স্বাভাবিকভাবেই ছিঁড়ে গেছে।’

নাড়ি ছিঁড়েই টয়লেটে পড়ে সেই শিশুটি
শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পাইপ ভেঙে উদ্ধার নবজাতক

তদন্ত কমিটির সভাপতি বরিশাল মেডিক্যালের শিশু বিভাগের প্রধান মুজিবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘তদন্তে উঠে এসেছে বাচ্চাটি ৪৭ মিনিটের মতো পাইপের মধ্যে আটকা ছিল। মেডিক্যাল সায়েন্সে এ রকম ঘটনার নজির নেই। বাচ্চাটি নাড়ি ছিঁড়েই পড়ে গিয়েছিল। বাচ্চার কোনো রক্তক্ষরণও হয়নি।

‘বাচ্চা কীভাবে বেঁচে আছে সেটা অলৌকিক, মিরাকল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক্সপ্লেইন করার সুযোগ নেই।’

এ ঘটনায় হাসপাতালের কারও গাফিলতি ছিল না বলে জানান পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে তিনি জানান, এক পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কারও গাফিলতির বিষয় উঠে আসেনি। রোগী তার স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজে থেকেই মলত্যাগের জন্য টয়লেটে যান। সেখানেই বাচ্চা প্রসব করেন।

তিনি বলেন, ‘বাচ্চার নাড়ি ছিঁড়ে গিয়েছিল। এ কারণে কোনো বাধা ছাড়াই পাইপে বাচ্চাটি ঢুকে যায়। পাশাপাশি বাচ্চার সাইজ থেকে পাইপের সাইজ বড় হওয়ায় বাচ্চাটি সহজে পাইপে ঢুকে গিয়েছিল।’

গত ৭ মে বরিশাল মেডিক্যালের প্রসূতি বিভাগের টয়লেটে বাচ্চা প্রসব করেন পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির গণমান শেখপাড়া বাজারের শিল্পী বেগম। এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। তার চার বছরের আরেকটি মেয়ে আছে।

ওই টয়লেটের পাইপ তিন তলা থেকে সোজা নেমে গেছে দোতলায় শিশু ওয়ার্ডে। শিশু ওয়ার্ডের ছাদের নিচের পাইপ ভেঙে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

টয়লেটে ভূমিষ্ঠ হওয়া কোনো শিশু কী করে পাইপের ভেতরে গেল এবং তাকে কী করে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হলো তা জানতে তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করে।

হাসপাতালের পরিচালক জানান, শিল্পীকে প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। তিনি এখন শিশু বিভাগে তার সন্তানের কাছে আছেন। বাচ্চাটাকে শিগগিরই রিলিজ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
টয়‌লে‌টের পাইপ ভে‌ঙে সদ্যোজাত শিশু উদ্ধার
হাসপাতালে ‘অক্সিজেন না পেয়ে’ নবজাতকের মৃত্যু
খড়ের গাদায় ফেলে যাওয়া নবজাতক পেল বাবা-মা
জন্মের পর নিখোঁজ, ৫ দিনেও মেলেনি খোঁজ
আল্ট্রাসাউন্ডে ‘যমজ সন্তান’, প্রসব একটির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
TTE against Shafiqul

টিটিই শফিকুল অন্যায় করেননি, তিনি নির্দোষ: তদন্ত প্রতিবেদন

টিটিই শফিকুল অন্যায় করেননি, তিনি নির্দোষ: তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
ডিআরএম শাহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিবেদনে টিটিইকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলা হয়েছে। ওই ট্রেনের গার্ড শরিফুল ইসলাম বিনা টিকেটের যাত্রী ইমরুল কায়েস প্রান্তকে টিটিইর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে বাধ্য করেন।

পাকশী রেল বিভাগের ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার (টিটিই) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসাদাচরণের কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। তাকে নির্দোষ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা নেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহিদুল ইসলাম। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি ৪০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়।

ডিআরএম শাহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিবেদনে টিটিইকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলা হয়েছে। ওই ট্রেনের গার্ড শরিফুল ইসলাম বিনা টিকেটের যাত্রী ইমরুল কায়েস প্রান্তকে টিটিইর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে বাধ্য করেন।

রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করার অপরাধে গত ৫ মে ইমরুল কায়েস প্রান্ত, ওমর এবং হাসানকে জরিমানা করেছিলেন টিটিই শফিকুল। এর মধ্যে প্রান্ত টিটিই শফিকুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

৫ মে রাতের এ ঘটনার পর ওই টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় সমালোচনা।

প্রান্তর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে রেল বিভাগ। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পরে এই সময় দুদিন বাড়িয়ে ১৬ মে করা হয়।


টিটিই শফিকুল অন্যায় করেননি, তিনি নির্দোষ: তদন্ত প্রতিবেদন


এর আগে ৮ মে তাকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়ার কথা জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। ১০ মে কাজে যোগ দেন শফিকুল।

তবে তাকে বরখাস্ত করার দায় চাপানো হয় পাকশীর রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্য কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনের ওপর।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে খবর আসে, রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আকতার মনির নির্দেশে শফিককে বরখাস্ত করা হয়। শাম্মীর মামাতো বোন ইয়াসমিন আক্তার নিপা বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। রেলমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, তার স্ত্রী টিটিই শফিকুলের বিরুদ্ধে টেলিফোন করে অভিযোগ দিয়েছিলেন।

এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ৮ মে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তার ‘নবপরিণীতার’ বোঝার এখনও অনেক কিছু বাকি।

আরও পড়ুন:
বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ার ‘সুযোগ দেন’ রেলকর্মীরাই
ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু
কুমিল্লায় ট্রেন লাইনচ্যুতিতে চট্টগ্রামে শিডিউল বিপর্যয়
কর্মস্থলে টিটিই শফিকুল
দশ ঘণ্টা পর ৩ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু 

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How the locals see the arrest of PK

পি কের গ্রেপ্তারকে কীভাবে দেখছেন এলাকাবাসী

পি কের গ্রেপ্তারকে কীভাবে দেখছেন এলাকাবাসী হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার পি কে হালদার। ছবি: সংগৃহীত
মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে পি কে হালদারকে দেশে এনে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এ ধরনের ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে।’

হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এ নিয়ে তার জন্মস্থান পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দীঘিরজান গ্রামের বাসিন্দারা কী ভাবছেন, তা জানতে চেয়েছে নিউজবাংলা।

ওই গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে লজ্জিত। পি কে হালদার যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পান, তবে পি কের এক আত্মীয় বলছেন, তাকে ফাঁসানো হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।

দীঘিরজান গ্রামের যুবক দীপু বড়াল ও পিন্টু বড়াল জানান, পি কে বুয়েটে পড়াশোনা করে অনেক বড় চাকরি করেন। এ নিয়ে অনেক আগে গর্ব করতেন তারা,কিন্তু এখন তার কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রামের লোকজন লজ্জা পাচ্ছেন।

পি কের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন দীঘিরজানের এ দুই বাসিন্দা।

পি কের গ্রেপ্তারকে কীভাবে দেখছেন এলাকাবাসী
পি কে হালদারকে নিয়ে তার জন্মস্থান পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দীঘিরজান গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে পি কে হালদারকে দেশে এনে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এ ধরনের ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে।

‘শিক্ষিত হয়েও এমন জঘন্য কাজ কাম্য নয়। তার জন্য এখন আমাদের সম্মানহানি হচ্ছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।’

ভিন্ন কথা বলেছেন পি কে হালদারের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী আলো হালদার। তিনি বলেন, ‘দাদা (পিকে হালদার) গ্রামের অনেক মানুষকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন।

‘দাদা এমন একটা ঝামেলায় পড়তে পারেন বা পড়েছেন সেটা মানতে কষ্ট হচ্ছে। সরকারেরও ক্ষতিয়ে দেখা উচিত এর পেছনে কারা জড়িত।’

পি কের জন্ম-বেড়ে ওঠা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকায় দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান হিসেবে সবাই চিনত পি কে হালদারকে। বাবা মৃত প্রণবেন্দু হালদার পেশায় ছিলেন দীঘিরজান বাজারের দর্জি। মা লীলাবতি হালদার ছিলেন স্কুলশিক্ষক। পি কে হালদার দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও পাশের বাগেরহাটের সরকারি পিসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

এরপর বুয়েটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের জুট ফ্যাক্টরিতে চাকরি শুরু করেন। পরে পরিচিত পায় একজন বড় ব্যবসায়ী ও দানশীল মানুষ হিসেবে। তবে দুদকের মামলার পরে মানুষ তার প্রতারণার বিষয় জানতে পারে। সবশেষ শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর এলাকা থেকে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পি কের গ্রেপ্তারকে কীভাবে দেখছেন এলাকাবাসী
দরিদ্র পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা পি কে হালদারের। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে গ্রামবাসীর তথ্যে জানা যায়, পি কের মা লীলাবতি হালদারের নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর ২০০২ সালে তিনি এলাকায় এসেছিলেন। সে সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে কলেজ সংক্রান্ত বিষয় দিয়ে লাঞ্চিত হওয়ার পর আর আসেননি দীঘিরজানে। তবে গ্রামের অনেকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো নিয়মিত।

অর্থপাচারের কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষিকা মা আরেক ছেলে প্রীতিশ হালদারের বাড়ি ভারতের অশোকনগরে চলে গেছেন। পি কে হালদারের আরেক ভাই প্রাণেশ হালদারও কানাডায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। আপন আত্মীয় বলতে তার চাচাতো ভাইয়ের বউ (কাকাতো ভাইয়ের বৌ) আলো হালদার থাকেন সেখানে গ্রামে। আত্মীয় আলো হালদার কোনো ভাবেই মানতেই পারছেন না তিনি এ ধরনের কাজ করতে পারেন।

ভারতে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করে দেশ থেকে পলাতক পি কে হালদারকে শনিবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ সময় পি কেসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে সংস্থাটি। ওই দিনই আদালতে তুলে তাকে তিন দিনের হেফাজতে নেয় তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘বাংলাদেশের ওই ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। মূল অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার, তার ভাই গণেশ হালদারসহ বাংলাদেশের বাসিন্দা ইমাম হোসেন, স্বপন মৈত্র, উত্তম মৈত্র এবং আমানা সুলতানা ওরফে শর্মি হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

বিচারক শর্মিকে ১৭ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। অন্য পাঁচ জনকে তিন দিন করে রিমান্ড আদেশ দেয়া হয় বলে জানান তিনি।

ওই আইনজীবী জানান, বাংলাদেশে ভুয়া সংস্থা তৈরি করে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা তোলেন মূল অভিযুক্ত পি কে হালদার। অভিযোগ, বিভিন্ন ঘুর পথে সেই টাকা পাচার রুটে পশ্চিমবঙ্গে পাঠিয়ে দেয়া হতো।

এই ঘটনায় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি।

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা করেছে। ভারতের অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী এনফোর্সমেন্ট ডিরেকটরেটের কর্মকর্তারা পি কে হালদারসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সংবাদ পিরোজপুরে গ্রামের বাড়িতে ছড়িয়ে পরলে এলাকাবাসীর কেউ কেউ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One morning brought darkness in the life of little Nusrat

ছোট্ট নুসরাতের জীবনে অন্ধকার নিয়ে এলো এক সকাল

ছোট্ট নুসরাতের জীবনে অন্ধকার নিয়ে এলো এক সকাল
নুসরাত ভেবেছিল বাবা কিছুটা সুস্থ হলে মা ও বোনের মৃত্যুর খবর তাকে জানাবে। তবে সে সুযোগ আর হয়নি, যন্ত্রণায় ছটফট করে মেয়েটির চোখের সামনেই মারা গেলেন বাবুল। এক দিনে পুরো পরিবার হারিয়ে অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল নুসরাত।

মা-বাবা-ছোট বোন নিয়ে নুসরাত জাহানের পরিপাটি জীবন ছিল। সে নিজেও ছোট, বয়স ১৩। স্থানীয় স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তার পরিপাটি, হাসিখুশি জীবন হঠাৎ এলোমেলো হয়ে যায় রোববার সকালে। সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও ৪ বছরের বোনকে হারিয়ে হতবাক সে। তাকে নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় স্বজনরা।

নুসরাতদের বাড়ি নওগাঁর নিয়ামতপুরের চণ্ডিপুর গ্রামে। তার মা বিথি আক্তার ছিলেন গৃহবধূ, বাবা বাবুল আক্তার কাজ করতেন স্থানীয় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকায় রোববার সকালে দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়; সে সময় একটি ট্রাক্টর সেগুলোকে ধাক্কা দেয়। বিথি, বাবুল ও তাদের শিশুসন্তান মরিয়ম জান্নাত ছিলেন একটি বাইকে। ঘটনাস্থলে মরিয়ম ও আরেক বাইকের চালক মারা যায়। আহত অবস্থায় বিথি ও বাবুলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে বিথির মৃত্যু হয় সেখানে। চিকিৎসাধীন বাবুলও বিকেলে মারা যান।

দুর্ঘটনার খবর শুনে স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালে এসেছিল নুসরাত। বাবা যখন চিকিৎসাধীন, ছটফট করছিলেন ব্যথায়, তখনও তাকে ফিরে পাওয়ার আশায় ছলছল চোখে চুপচাপ পাশে দাঁড়িয়ে ছিল সে। বাবার যন্ত্রণা সইতে না পেরে কিছুক্ষণ পর দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিল।

ছোট্ট নুসরাতের জীবনে অন্ধকার নিয়ে এলো এক সকাল
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবুল আক্তার। ছবি: নিউজবাংলা

সে ভেবেছিল বাবা কিছুটা সুস্থ হলে মা ও বোনের মৃত্যুর খবর তাকে জানাবে। তবে সে সুযোগ আর হয়নি, যন্ত্রণায় ছটফট করে মেয়েটির চোখের সামনেই মারা গেলেন বাবুল। এক দিনে পুরো পরিবার হারিয়ে অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল নুসরাত।

বাবুলের ভাই রুহুল আমিন জানান, কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বিথি। তাকে ডাক্তার দেখাতে রাজশাহী মেডিক্যালেই যাচ্ছিলেন বাবুল। ছোট মেয়েটা সঙ্গে ছিল। পথে এই দুর্ঘটনা হয়।

ভাই-ভাবি-ভাতিজিকে হারানোর শোকের সঙ্গে যোগ দিয়েছে নুসরাতের জন্য দুশ্চিন্তা। বারবার তিনি বলে উঠছিলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল’।

আর ছোট্ট নুসরাত তখনও স্তব্ধ, কেবল ডুকরে কাঁদছিল।

আরও পড়ুন:
‘এই শোক আমি সইব কী করে’
মোটরসাইকেল-প্রাইভেট কারে বাসের ধাক্কা, নিহত ৯
করিমন উল্টে নিহত মা, আহত ছেলে 
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
বাস-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত

মন্তব্য

উপরে