× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Mayor Sayediks threat on Facebook Live
hear-news
player

ফেসবুক লাইভে মেয়র সা‌দিকের হুমকি

ফেসবুক-লাইভে-মেয়র-সা‌দিকের-হুমকি জনভোগান্তি নিরসনে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা
বরিশাল সিটির মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পদ চাঁদাবাজি করার জন্য দেয়া হয়নি। কার পার‌মিশ‌নে এসব দোকা‌ন বসা‌নো হই‌ছে?’

সড়কের পাশে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে দলের এক নেতাকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। ফেসবুক লাইভে তিনি শেখর দাস খোকন নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ঈদের আগেই বহিষ্কার করা হবে বলেও জানিয়েছেন।

দলীয় নেতারা জানান, বরিশাল নদী বন্দরে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের সেবায় বুধবার রাতে সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ। নিজ বাসায় ফেরার পথে নগর ভবনের সামনে তিনি গাড়ি থেকে নামেন। সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয় নিয়ে তিনি উপস্থিতদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপরই এক নেতার নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির বিষয়ে কথা বলেন।

মেয়রের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে করা লাইভে দেখা যায়, ঈদের কারণে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ঈদ করতে আসা মানুষের ভিড় বাড়ার কারণে যাতে যানজট না হয় সে কারণে রাতে নগর ভবনের সামনের সড়কে থাকা কাপড়ের দোকান সরাতে নির্দেশ দেন মেয়র। ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো ফুটপাতে উঠিয়ে ব্যবসা করতে বলেন তিনি।

সালাম নামের এক নেতাকে মেয়র সড়কের ওপরে থাকা দোকান সরিয়ে ফুটপাতে নিতে বলেন। তখন সালাম জানান, জাদুঘরের সামনের সড়ক তার মধ্যে নয়, সেটা শেখর দেখভাল করেন।

শেখরের নাম শুনেই ক্ষিপ্ত হন মেয়র সাদিক। তিনি লাইভে বলেন, ‘ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস খোকন এখানে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করেন। স্পীডবোট থেকেও তিনি টাকা নিয়ে থাকেন।’

ঈদের আগেই শেখরকে বহিষ্কার করা হবে বলে মেয়র লাইভে ঘোষণা দেন।

সাদিক আব্দুল্লাহ এ সময় বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পদ চাঁদাবাজি করার জন্য দেয়া হয়নি। কার পার‌মিশ‌নে এসব দোকা‌ন বসা‌নো হই‌ছে?’

জাদুঘরের সামনের সড়কে থাকা সব দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য তিনি সিটি করপোরেশনের রোড ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস খোকন বলেন, ‘ওখানকার মানুষ বিপদে পড়লে আমি গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াই। সেখানকার দোকানদারদের সঙ্গে আমার অন্য সম্পর্ক নেই। মেয়র কী ভেবে চাঁদাবাজির কথা বলেছেন তা সৃষ্টিকর্তাই জানেন।’

আরও পড়ুন:
তারা আমার একটা লাউ-বেগুনও পায় নাই: জাহাঙ্গীর
লাঠি হাতে রাখা সুন্নত: সমালোচনার জবাবে মেয়র আরিফ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Sakku millionaire A League candidate does not have cash

সাক্কু কোটিপতি, নগদ টাকা নেই আ.লীগ প্রার্থীর

সাক্কু কোটিপতি, নগদ টাকা নেই আ.লীগ প্রার্থীর উপর থেকে ডান দিকে যথাক্রমে মনিরুল হক সাক্কু সাক্কু, আরফানুল হক রিফাত,মাসুদ পারভেজ ইমরান, নিজামউদ্দিন কায়সার, মো.রাশেদুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম বাবুল
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে সাবেক বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার নগদ টাকা রয়েছে কোটি টাকার বেশি। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত জানিয়েছেন, তার নগদ টাকা নেই।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে সাবেক বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার নগদ টাকা রয়েছে কোটি টাকার বেশি।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত জানিয়েছেন, তার নগদ টাকা নেই।

কী আছে সাক্কুর হলফনামায়

তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। নিজের ও স্ত্রীর মিলে দুটি গাড়ি রয়েছে। তার পেশা ঠিকাদারি।

তবে মেয়র থাকাকালীন তিনি ঠিকাদারি কাজ করেননি। নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ টাকা। ব্যাংকে আছে ২ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। স্বর্ণ আছে নিজের ১০ তোলা, স্ত্রীর ১০ তোলা। দুদক ও আয়কর বিভাগের দুই মামলা বিচারাধীন।

কী আছে রিফাতের হলফনামায়

তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ। তার দুটি গাড়ি রয়েছে। পেশা ঠিকাদারি। নগদ টাকা নেই। ব্যাংকে আছে ৬১ লাখ ২ হাজার ৪৯৫ টাকা। পোস্টাল সেভিংসে আছে ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৪ টাকা।

স্বর্ণ নিজের ২০ ভরি, স্ত্রীর রয়েছে ৩০ ভরি। কোনো মামলা চলমান নেই।

আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরান উল্লেখ করেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসএস। নিজের ও স্ত্রীর মোট দুটি গাড়ি রয়েছে। তার পেশা ঠিকাদারি।

নগদ টাকা আছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৪২ টাকা। ব্যাংকে আছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ২৮৮ টাকা। স্বর্ণ নিজের ২৫ তোলা, স্ত্রীর রয়েছে ৫০ তোলা। তার নামে ফৌজদারি দুটি মামলা বিচারাধীন।

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কায়সার উল্লেখ করেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম। তার গাড়ি নেই। পেশা ব্যবসা। নগদ টাকা আছে ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৫ টাকা। ব্যাংকে আছে ৩ লাখ ২ হাজার ৪৯৭ টাকা। স্বর্ণ নিজের ২০ তোলা, স্ত্রীর আছে ২০ ভরি। তার আটটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুল উল্লেখ করেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। তার গাড়ি নেই। পেশা ব্যবসা। নগদ টাকা আছে ৩ লাখ ২০ হাজার, পাশে লেখা ব্যবসার পুঁজি। ব্যাংকে আছে ৫ হাজার টাকা। স্বর্ণ বিয়ের উপহার ৩০ ভরি। তার দুটি মামলা বিচারাধীন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল। যা এমএ সমমান। গাড়ি নেই। পেশায় কলেজশিক্ষক।

তার নগদ টাকা আছে ৫০ হাজার। ব্যাংকে আছে ২ লাখ ৪২৮ টাকা। স্ত্রীর স্বর্ণ আছে দুই ভরি। তার নামে মামলা নেই।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষ তারিখ ২৬ মে। ২৭ মে প্রতীক বরাদ্দ। ১৫ জুন নির্বাচন হবে।

আরও পড়ুন:
১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ঠুকলেন রিফাত
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র নিলেন আ.লীগের রিফাত
মেয়র যে-ই হোক, আপনারা সহযোগিতা করবেন: নগরবাসীকে সাক্কু
কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদার
কুমিল্লায় আ.লীগের ‘ভূত’ বিএনপির ঘাড়ে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 candidates are contesting for the post of mayor in Comilla

কুমিল্লায় মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে ৬ প্রার্থী

কুমিল্লায় মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে ৬ প্রার্থী কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী সিটি নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র পদে মনোনয়নপত্রে বৈধতা পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপি), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার (বিএনপি), কামরুল আহসান বাবুল ও মাসুদ পারভেজ খান ইমরান এবং ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

কাগজপত্রে অসংগতি থাকায় ৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও একজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী এ ঘোষণা দেন।

মেয়র পদে মনোনয়নপত্রে বৈধতা পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপি), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার (বিএনপি), কামরুল আহসান বাবুল ও মাসুদ পারভেজ খান ইমরান এবং ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম।

নির্বাচন কমিশন থেকে জানা যায়, ১৭ মে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ১৬৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ৬ মেয়র প্রার্থী, ১২০ সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৩৮ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী।

মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীরা হলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্লাল হোসেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবির আহমেদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. এরশাদ হোসেন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম আজাদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ রুমন আহমেদ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের জুয়েল, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিন্টু, জামাল হোসেন কাজল ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম আজাদ।

সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফারজানা আক্তারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী জানান, মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীরা ২০ থেকে ২২ মের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
মেয়র যে-ই হোক, আপনারা সহযোগিতা করবেন: নগরবাসীকে সাক্কু
কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদার
কুমিল্লায় আ.লীগের ‘ভূত’ বিএনপির ঘাড়ে
প্রথম পরীক্ষার আগে কঠিন প্রস্তুতি সিইসির
ভোটের প্রচারের আগেই কুমিল্লায় বিজিবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sakku who was expelled for standing in the polls said he had left the BNP

ভোটে দাঁড়ানোয় বহিষ্কার, সাক্কু বললেন, ‘বিএনপি ছেড়েছি’

ভোটে দাঁড়ানোয় বহিষ্কার, সাক্কু বললেন, ‘বিএনপি ছেড়েছি’ বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন গত দুইবার জয় পাওয়া সাক্কু। সাম্প্রতিক ছবি
নিউজবাংলাকে সাক্কু বলেন, ‘আমি যে দলের রাজনীতি করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই দলের একটা পোস্টে থাইক্যা নির্বাচন করছি, এহন আবার নির্বাচন করব। দল তো নির্বাচনে আইত না। আমার কিছু কাম বাহি আছে। এই কুমিল্লার মানুষ আমারে পছন্দ করে। আমি নির্বাচিত হইলে আমার যে আর কিছু কাজ বাকি আছে, হেইডি আমি শেষ করমু। আমার দলের নেতা-কর্মীরাও চাইতাছে আমি যেন নির্বাচনটা করি।’

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোটে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় গত দুই বারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তার দলীয় সব পদের পাশাপাশি প্রাথমিক সদস্যপদও কেড়ে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এতে এখন থেকে দলের নেতাকর্মীদেরকে তার সঙ্গে কোনো ধরণের যোগাযোগ না রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে সাক্কু নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তিনি ভোট করতে নিজেই দল থেকে নিজেই অব্যাহতি নিয়েছেন। দলের নেতা-কর্মীদের চাওয়ার কারণেই তিনি দলীয় সদস্যপদ ছেড়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন।

বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু সাক্ষরিত সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।’

শৃঙ্খলাবিরোধী কী কাজ তিনি করেছেন, সেটি বিএনপির বিবৃতিতে জানানো হয়নি। তবে এটি যে সাক্কুর ভোটে দাঁড়ানো সংক্রান্ত, সেটি নিশ্চিত করেছেন দলটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা।

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে বিএনপির। তবে কুমিল্লায় আগামী ১৫ জুন আওয়ামী লীগ বিএনপির লড়াই হতে যাচ্ছে ভিন্ন এক আমেজে।

গত জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াই হয়েছিল পরোক্ষভাবে। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোটে লড়েন। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাকে জেতাতে পারেননি। টানা তৃতীয় জয় পান আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী।

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে আরফানুল হক রিফাতকে। তিনি লড়বেন নৌকা নিয়ে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন সাক্কু, যার মার্কা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি।

বিএনপি ভোট বর্জন করায় দলটির মার্কা ধানের শীষ কেউ পাবেন না। ফলে সাক্কুকে এবার বেছে নিতে হবে অন্য মার্কা। এরই মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে সাক্কু বলেন, ‘আমি যে দলের রাজনীতি করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই দলের একটা পোস্টে থাইক্যা নির্বাচন করছি, এহন আবার নির্বাচন করব। দল তো নির্বাচনে আইত না। আমার কিছু কাম বাহি আছে। এই কুমিল্লার মানুষ আমারে পছন্দ করে। আমি নির্বাচিত হইলে আমার যে আর কিছু কাজ বাকি আছে, হেইডি আমি শেষ করমু। আমার দলের নেতা-কর্মীরাও চাইতাছে আমি যেন নির্বাচনটা করি।’

সাক্কুর পদত্যাগপত্র

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি জারির দিনই দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি রাবেয়া চৌধুরীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান সাক্কু।

রাবেয়া চৌধুরী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাক্কুর পদত্যাগপত্রটির অনুলিপি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সাক্কুর তিনে তিন

সাক্কুর মধ্যে বিশেষ কিছু যে আছে, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট। তিনি ২০০৫ সালে যখন পৌরসভার মেয়র হিসেবে জেতেন, তখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তার দল বিএনপি।

এই ভোটের চার বছরের মাথায় জাতীয় নির্বাচনে বিপর্যয় ঘটে যায় বিএনপির। কুমিল্লা সদর আসনে গো-হারা হেরে যান দলের প্রার্থী। ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো নৌকার প্রার্থী হিসেবে জয় পান আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হয় কুমিল্লা। দল ক্ষমতায়, এই অবস্থায় ২০১২ সালে করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে উন্নয়নের স্বার্থে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেবে- এমন আশা পূরণ হয়নি ক্ষমতাসীনদের জন্য। দলের ডাকসাইটে নেতা আফজল খান হেরে যান ৩৫ হাজার ভোটে।

পরের নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান আরও নড়বড়ে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচালের আন্দোলন ও পরের বছর সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফেরার পর জাতীয় রাজনীতিতে দাপট তৈরি হয় আওয়ামী লীগের। তবু সাক্কুর হাত থেকে কুমিল্লা দখলে নিতে ব্যর্থ হয় তারা।

২০১৭ সালে দলীয় প্রতীকে প্রথম ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করে আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে। সীমা তার বাবার তুলনায় ভোট পেয়েছেন বেশি। ব্যবধান কমাতে পারেন অনেকটাই। সাক্কু জয় পান ১১ হাজারের কিছু বেশি ভোটে।

তবে এবার সাক্কুর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার। তিনিও স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র নিলেন আ.লীগের রিফাত
মেয়র যে-ই হোক, আপনারা সহযোগিতা করবেন: নগরবাসীকে সাক্কু
কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদার
কুমিল্লায় আ.লীগের ‘ভূত’ বিএনপির ঘাড়ে
প্রথম পরীক্ষার আগে কঠিন প্রস্তুতি সিইসির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People are happy to see Padma bridge Mr Fakhrul is upset Kader

পদ্মা সেতু দেখে মানুষ খুশি, ফখরুল সাহেবের মন খারাপ: কাদের

পদ্মা সেতু দেখে মানুষ খুশি, ফখরুল সাহেবের মন খারাপ: কাদের
পদ্মা সেতু হয়ে গেল, মানুষ খুশি। ফখরুল সাহেবের মন খারাপ। দেশের মানুষ ভালো আছে, ফখরুল সাহেবের মন খারাপ। মানুষ ভালো থাকলে বিএনপির সকলের মন খারাপ হয়ে যায়।’

পদ্মা সেতু দেখে বিএনপির গায়ে জ্বালা হচ্ছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, এই সেতুর কারণে আওয়ামী লীগবিরোধীদের মন খারাপ।

জুন মাসে দেশের সবচেয়ে বড় এই সেতুতে যান চলাচল শুরু হবে, সেটি আবারও জানান সেতুমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধান অতিথি হিসেবে। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকেই বিএনপি এই প্রকল্প নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছে। বিএনপি সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতিচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর সরকারের সমালোচনায় মুখর ছিল।

কানাডার আদালত বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ বলে উড়িয়ে দেয়ার পরও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছে। দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এমনও বলেছেন, সরকার জোড়াতালি দিয়ে যে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, সেটি ভেঙে পড়বে এবং সেই সেতুতে যেন কেউ না ওঠে।

নানা ঘটনাপ্রবাহে এক যুগ পার হওয়ার পর আগামী মাস থেকে যখন সেতু চালুর অপেক্ষা, সে সময় আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিকে পাল্টা আক্রমণ করছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে গেল, মানুষ খুশি। ফখরুল সাহেবের মন খারাপ। দেশের মানুষ ভালো আছে, ফখরুল সাহেবের মন খারাপ। মানুষ ভালো থাকলে বিএনপির সকলের মন খারাপ হয়ে যায়।’

জুন মাস থেকে পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলবে নিশ্চিত করে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই সময় দেবেন। আমরা তার সময়মতো পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ প্রেস কনফারেন্স করে সমগ্র জাতিকে জানিয়ে দেব।’

পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ করছি, শতভাগ সততার সঙ্গে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বিশ্বব্যাংক অবশেষে নিজেরাও স্বীকার করেছে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে গিয়ে তারা ভুল করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এদিন পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলেন ঠাকুরগাঁওয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, এই সেতু নির্মাণের নামে টাকা লুট হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১০ হাজার কোটি টাকার সেতু তারা ৩০ হাজার কোটি টাকায় বানিয়েছে।’

কাদের বলেন, ‘প্রমত্তা পদ্মা নদীতে প্রবল খরস্রোতা থাকায় নদীর এপার-ওপার ভাঙাগড়ার খেলায় অনেক কষ্টে এই ভাঙনের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সফলভাবে পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতাদের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এই সেতু নিয়ে স্বচ্ছতার প্রমাণ বিদেশি আদালতে হয়েছে বলেও জানান কাদের। বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হেনস্তা করতে চেয়েছিল। তারা দুর্নীতির অভিযোগে কানাডার আদালতে মামলা করেছিল। আর তাতে প্রমাণ হয়েছে, এ প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি।’

এই সেতু নির্মাণের পুরো কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিতে চান সেতুমন্ত্রী। বলেন, ‘শেখ হাসিনা প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বলেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অর্জনে বিশ্বের বিস্ময়। দেশ আজ অন্ধকার থেকে আলোর পথে।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তা মোকাবিলা করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে।’

বিআরটি প্রকল্প শেষের দিকে

গাজীপুর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্বিঘ্নে বাস চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পে আর বিলম্ব হবে না বলেও জানান কাদের।

এই প্রকল্পের কারণে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজীপুরের মানুষ রাজধানীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, গাজীপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই পথে যাতায়াতে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগছে। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

‘বিআরটির নিচ দিয়ে চলাচলে আর দুর্ভোগ হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা খুব কাছাকাছি এসে গেছি, কাজ সমাপ্তের পথে। আপনারা ৩০ মিনিটে গাজীপুর থেকে ঢাকা চলে আসবেন।’

বিএনপি পচনশীল দল

প্রায় দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি আর কোনো দিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেন কাদের। বলেন, দলটি এখন ফেসবুকে আন্দোলন করে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বর্তমানে পচনশীল একটি দল। তাদের রাজপথের আন্দোলনের কথা শুনতে শুনতে ১৩ বছর পার হলো। বিএনপি আর কোনো দিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। ওরা এখন ফেসবুকে আন্দোলনপ্রিয় দল।’

গাজীপুর আওয়ামী লীগে কোনো কোন্দল দেখতে চান না বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, ময়েজ উদ্দীনের গাজীপুরে কেন দলীয় কোন্দল? নেতাকর্মীদের আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

১৯ বছর পর এই সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকে শহরের রাজবাড়ী মাঠে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হন। কড়া নিরাপত্তাবলয় তৈরিসহ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন:
বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিয়ে ফখরুল শ্রীলঙ্কায়: কাদের
মনগড়া, আষাঢ়ে গল্পে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা: কাদের
পদত্যাগ করবেন ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে: কাদেরকে ফখরুল
ভূমি অধিগ্রহণে প্রতারণা, সার্ভেয়ারকে বরখাস্তের সুপারিশ
আল জাজিরার সাংবাদিক হত্যায় ফখরুলের নিন্দা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chubni in Padma Fakhrul warns of legal system

পদ্মায় চুবনি: আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ফখরুলের

পদ্মায় চুবনি: আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ফখরুলের
খালেদা জিয়ার উক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বলেছে, স্প্যানগুলো যে বসাচ্ছে, সেটা ছিল তার কাছে জোড়াতালি দেয়া। পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, তাতে চড়া যাবে না, চড়লে সেটা ভেঙে যাবে। তার সঙ্গে তার কিছু দোসররা। তাদের কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে পদ্মা নদীতে টুস করে ফেলে দেয়া উচিত।’

পদ্মা সেতুতে নিয়ে চোবানোর যে কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাকে হত্যার হুমকি হিসেবে দেখছে বিএনপি। সরকারপ্রধানকে এই ধরনের কথা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নইলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আওয়ামী লীগপ্রধান পদ্মা সেতু, বেগম খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূসকে নিয়ে বক্তব্য রাখার পরদিন বৃহস্পতিবার তার জবাব দেন ফখরুল।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শ্রমিক দলের আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি ক্ষমা চেয়ে পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে পারবে- তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন একটি উক্তির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফখরুল বলেন, ‘এই সেতু তথ্যমন্ত্রীর বাবার টাকায় হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় এই ধরনের উক্তি করলে তার যে আইনগত বিষয় থাকে, সেটা আমরা নেব।’

কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

আগের দিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগের দলীয় এক আলোচনায় শেখ হাসিনা জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক যেন সরে যায়, সে জন্য ড. ইউনূস, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক নানা সক্রিয় চেষ্টা চালিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, এই সেতু ভেঙে পড়ে যাবে- এই ধরনের বক্তব্য রাখায় খালেদা জিয়ার প্রতিও ক্ষোভ জানান শেখ হাসিনা।

নানা বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি পদ্মা সেতুবিরোধীদের সেতুতে নিয়ে চোবানোর কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার উক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বলেছে, স্প্যানগুলো যে বসাচ্ছে, সেটা ছিল তার কাছে জোড়াতালি দেয়া। পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, তাতে চড়া যাবে না, চড়লে সেটা ভেঙে যাবে। তার সঙ্গে তার কিছু দোসররা। তাদের কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে পদ্মা নদীতে টুস করে ফেলে দেয়া উচিত।’

ড. ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি (ড. ইউনূস) এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো টাকা বন্ধ করেছেন, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দুটি চুবনি দিয়ে উঠিয়ে নেয়া উচিত, মরে যাতে না যায়। পদ্মা নদীতে দুটি চুবনি দিয়ে সেতুতে উঠিয়া নেয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়।’

‘এটা প্রচ্ছন্নভাবে হত্যার হুমকি’

ফখরুল বলেন, তিনি মনে করেন সরকারপ্রধানের এই বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূসকে হত্যার হুমকি।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি রয়েছেন, যেভাবেই আসুন না কেন। তিনি এই ধরনের উক্তি করতে পারেন না।

‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, তাকে সরাসরি হত্যার হুমকির শামিল। সেতু থেকে ফেলে দেয়া- এটা কখনই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। আমরা বিস্মিত হয়েছি এবং ক্ষুব্ধ হয়েছি এবং প্রচণ্ডভাবে নিন্দা জানাই তার এই উক্তিকে।’


আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের মিশনে মাহফুজ আনামও: প্রধানমন্ত্রী

ফখরুল বলেন, ‘এই রকম অরাজনৈতিক, অশালীন বক্তব্য কেউ কখনও আশা করতে পারে না। কিন্তু ওনার স্বভাবই এটা। তিনি এভাবেই কথা বলেন এবং এভাবেই তার প্রতিপক্ষকে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং আক্রমণ করেন, যা রাজনৈতিক কোনো শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।

‘আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের জাতি এই ধরনের নেতৃত্ব থেকে এই ধরনের কথাবার্তা শুনেছে।’

ড. ইউনূস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটি নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এটাও পুরোপুরিভাবে আমি মনে করি যে সমস্ত রকম রাজনৈতিক শিষ্টাচার, শালীনতা, ভদ্রতা, সবকিছুর বাইরে। এই কথাটা বলার অর্থই হচ্ছে তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি বলা যায়। জীবনের প্রতি হুমকিই বলা যায়।’

আগের দিন পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার পেছনে ড. ইউনূসের ভূমিকা আছে বলে পুরোনো অভিযোগ নতুন করে তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

বলেন, ‘পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করাল ড. ইউনূস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে, ইমেরিটাস উপদেষ্টা হিসেবে থাকার জন্য, আরও উচ্চ মানের। কিন্তু সেখানে সে থাকবে না। তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না।

‘কিন্তু প্রতিহিংসা নেয় ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম। তারা আমেরিকায় চলে যায়, স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ইমেইল পাঠায়। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিস্টার জোয়েলিক তার শেষ কর্মদিবসে কোনো বোর্ডসভায় না, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।’

ওনার বাপের টাকায় সেতু নয়

ক্ষমা চেয়ে বিএনপিকে পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ যে পরামর্শ দিয়েছেন, তার কী জবাব দেবেন- এমন প্রশ্ন ছিল একজন সাংবাদিকের।

জবাবে ফখরুল বলেন, ‘এটা ওনার বাবার টাকায় তৈরি করা না, বাংলাদেশের মানুষের টাকায় তৈরি করা। বাংলাদেশের মানুষের এটা পুরোপুরি ট্যাক্সের টাকা। এই টাকাও তারা লুট করেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার সেতু তারা ৩০ হাজার কোটি টাকায় বানিয়েছে।

এই সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে হওয়া উচিত বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য রেখেছেন, সে বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে ফখরুল কিছু বলতে রাজি হননি। বলেন, ‘এটা আমার বিষয় না।’

সরকারকে বাধ্য করা হবে

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করার ঘোষণাও দিয়েছেন ফখরুল।

বিএনপির নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা এখন কোনো চিন্তা করছি না। নির্বাচন কীভাবে হবে, সেই চিন্তা করছি। আমাদের কথা একদম পরিষ্কার, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর নতুন করে একটা নির্বাচনের অধীনে জনগণের ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সরকার যদি না মানে তাহলে কী করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারকে মানাতে বাধ্য করব আমরা, জনগণ বাধ্য করবে।’

গত দুটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি কখনও বলে না ভুল ছিল। নির্বাচনে না যাওয়াও ভুল ছিল না, যাওয়াটাও ভুল ছিল না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাইনি কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে, পরবর্তী নির্বাচনে গেছি এটা প্রমাণ করতে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।’

আপনারা সব সময় এই মুহূর্তে সরকারের পদত্যাগ চান। তাহলে জাতীয় সংসদে বিএনপির সদস্যরা কেন পদত্যাগ করছেন না- এমন প্রশ্ন রাখেন একজন সাংবাদিক।

উত্তরে ফখরুল বলেন, ‘সময় এলেই পদত্যাগ করবে। সময় যখন আসবে, তখন দেখবেন ঠিকই পদত্যাগ করেছে।’

বিদেশিদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে বিএনপি আগামী নির্বাচকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে বলে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফখরুল বলেন, ‘এটা সব সময় তারা বলে থাকেন। নির্বাচন তো তারা লুট করে নিয়ে যান। গত দুটি নির্বাচন তারা চুরি করে, ডাকাতি করে নিয়ে গেছেন। জনগণকে ভোট দিতে দেননি। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে দেননি। উল্টো বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপান।

‘আমেরিকায় গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন, নির্বাচনে যেন বিএনপি আসে। আমরা বিদেশিদের সঙ্গে এই ধরনের কোনো অনুরোধ করি না।’

‘লুটপাটের কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি’

এর আগে ফখরুল নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিএনপির কর্মিসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সেখানেও তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের লুটপাটের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দেশের রিজার্ভ সংকটে ফেলে দিয়েছে সরকার। অথচ এদিকে কোনো খেয়াল নেই। বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Who is in charge of Gazipur A League?

কার হাতে যাচ্ছে গাজীপুর আ.লীগের দায়িত্ব?

কার হাতে যাচ্ছে গাজীপুর আ.লীগের দায়িত্ব?
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ঘুরে ফিরে আলোচনা একটাই। কারা আসছেন গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে? বিশেষ করে শীর্ষ দুই পদকে নিয়েই সবার আগ্রহ।

প্রায় দুই দশক ধরে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের কোনো সম্মেলন হয় না। সেই সম্মেলনের অপেক্ষা ফুরাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জেলার ঐতিহাসিক রাজবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। পুরো জেলাজুড়ে সম্ভাব্য নেতা ও তাদের অনুসারীরা তৈরি করেছেন নানা ধরনের ফেস্টুন, ব্যানার।

শহরের ভাওয়াল রাজবাড়ি ময়দানে বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে সম্মেলনের জন্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি থাকবেন।

সম্মেলনের প্রস্তুতি এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। রাত পোহালেই দলে দলে নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন সম্মেলনে।

সম্মেলন উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ছবি দিয়ে বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন। বিশেষ করে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর শহরের রাজবাড়ি ময়দান পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কের উপরে স্থাপন করা হয়েছে বেশ কিছু তোরণ।

আর সড়কের দুই পাশে শত শত ব্যানার ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। পুরো শহর জুড়ে ব্যাপক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ঘুরে ফিরে আলোচনা একটাই। কারা আসছেন গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে? বিশেষ করে শীর্ষ দুই পদকে নিয়েই সবার আগ্রহ।

ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে নতুন ও পুরাতন নেতাদের আমলনামা নিয়ে। কারা নেতৃত্বে আসলে জেলা আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হবে তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সবশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১৯ বছর আগে, ২০০৩ সালের ২৯ জুন। ওই সম্মেলনে তৎকালীন গাজীপুর পৌরসভার মেয়র আ ক ম মোজাম্মেল হক সভাপতি এবং টঙ্গী পৌরসভার মেয়র আজমতউল্লাহ খান সাধারণ সম্পাদক হন।

তার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর সম্মেলন ছাড়াই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে পুনরায় সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১৭ সালের ২২ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এরপর আর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি।

সম্মেলনকে ঘিরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন জনের নাম নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ফিরছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে তারা হলেন বর্তমান সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক, ডাকসুর সাবেক ভিপি-জিএস আখতারউজ্জামানের নাম।

মোজাম্মেল হক ছাত্রাবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তৎকালীন গাজীপুর মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি তিন বার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪ বার পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে পৌর মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করে গাজীপুর-১ আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন। পরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও সংসদ সদস্য হন।

সময় তিনি সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৬ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

আখতারউজ্জামান ১৯৭৯-১৯৮১ পর্যন্ত ডাকসুর জিএস এবং ১৯৮২-৮৩ সালে ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে গাজীপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্যও ছিলেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম আলোচনা হচ্ছে তারা হলেন- জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমানত হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী রহমত আলীর ছেলে জামিল হাসান দূর্জয়, শ্রীপুর উপজেলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান আরিফ।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এমপির বিরুদ্ধে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। ওই নির্বাচনে তাদের নির্বাচনি এলাকায় নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দেলু জানান, সভাপতি-সম্পাদক পদের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ আগ্রহ প্রকাশ করেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও কারও পক্ষে সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণা করেছেন। সম্মেলনের দিন দ্বিতীয় অধিবেশনে আগ্রহী প্রার্থীদের নাম জানা যাবে। তবে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

আরও পড়ুন:
৩ উপজেলা, ৬ পৌরসভা, ১৩৬ ইউপিতে আ.লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত
সম্মেলনের মধ্যেই আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
শ্রীলঙ্কার দৃষ্টান্ত ও কিছু পুরোনো ছবি
আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ‘নেই’ মোশাররফ
ফরিদপুরে ৬ বছর পর আ.লীগের সম্মেলন কাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sheikh Hasina is in power injustice has been removed Amu

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বলেই বিচারহীনতা দূর হয়েছে: আমু

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বলেই বিচারহীনতা দূর হয়েছে: আমু আমির হোসেন আমু। ফাইল ছবি
‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো দূরের কথা, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারই হতো না। একমাত্র শেখ হাসিনার সাহসিকতার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই দেশ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু।

শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বুধবার ১৪ দলের ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমু বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে এসেছেন বলেই তার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ দমন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গঠনে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য গড়ে উঠেছে। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার কারণে বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়েছে।

‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো দূরের কথা, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারই হতো না। একমাত্র শেখ হাসিনার সাহসিকতার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ১৪ দল জোটবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে জানান জোটটির মুখপাত্র।

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ ১৪ দলের নেতারা।

মন্তব্য

উপরে