× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Bus train will resume after Eid Jayashankar
hear-news
player

ঈদের পরই দুই দেশের মধ্যে বাস-ট্রেন চালু: জয়শঙ্কর

ঈদের-পরই-দুই-দেশের-মধ্যে-বাস-ট্রেন-চালু-জয়শঙ্কর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গতি এসেছে। বিদ্যমান পারস্পরিক সম্পর্ককে আমরা কোভিডের আগের অবস্থায় নিয়ে যাব। কোভিড আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে আঞ্চলিকভাবে সাপ্লাই চেইন ও ভ্যালু চেইন বজায় রাখা কতটা জরুরি।’

ঈদের পর পরই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাস ও ট্রেন যোগাযোগ পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

কোভিড-১৯-এর কারণে দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ ছিল। কিছুদিন আগে বিমানপথে যোগাযোগ চালু হলেও বন্ধ রয়েছে বাস ও রেলপথে যাতায়াত। সেটিও দ্রুতই চালু হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘কোভিড-পরবর্তী এই সময়টা মোকাবিলা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সবকিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও উন্নত হচ্ছে। গত বছর আমাদের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে একটি মাইলফলক।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গতি এসেছে। বিদ্যমান পারস্পরিক সম্পর্ককে আমরা কোভিডের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাব। কোভিড আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে আঞ্চলিকভাবে সাপ্লাই চেইন ও ভ্যালু চেইন বজায় রাখা কতটা জরুরি।

‘দুই দেশের মধ্যে সপ্তম যৌথ পরামর্শমূলক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠক আমাদের সম্পর্কের পরবর্তী স্তরের ভিত্তি স্থাপনে একটি ভালো সুযোগ এনে দেবে।’

ভারতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জানিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘পারস্পরিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ও বাপু জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাণিজ্য, বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণদান, বিনিয়োগ ও ভ্রমণসেবা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেশ কিছু নতুন প্রকল্প শুরুর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জলবিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের জন্য এবং আঞ্চলিকভাবে সহযোগিতার অনেক সুযোগ রয়েছে। এই খাতে বিবিআইএন কাঠামোয় আমরা কাজ করতে চাই। এ খাতে উৎপাদন ও বাণিজ্য করার জন্য ভারত এ অঞ্চলে কাজ করে যাবে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসছেন আজ
প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে ঢাকায় আসছেন জয়শঙ্কর
সরকারি দল মানুষের কষ্ট নিয়ে উপহাস করে: মেনন
গণতন্ত্রে সংলাপের বিকল্প নেই: মেনন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
I want concerted efforts to implement SDG State Minister for Power

এসডিজি বাস্তবায়নে চাই সমন্বিত প্রচেষ্টা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

এসডিজি বাস্তবায়নে চাই সমন্বিত প্রচেষ্টা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ছবি: নিউজবাংলা
‘পরিবেশ সংরক্ষণ করেই আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজিয়েছি। পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অপরচুনিটি কস্ট বিবেচনা করে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিতভাবেই বাংলাদেশ সাফল্য পাবে।’

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে প্রয়োজন সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা। অংশীদারত্ব অ্যাপ্রোচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবায়ন কার্যক্রমে অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে দ্রুত এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মঙ্গলবার এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ করেই আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজিয়েছি। পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অপরচুনিটি কস্ট বিবেচনা করে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।’

নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের ফুয়েল মিক্স বহুমাত্রিক। আমরা ক্লিন ও গ্রিন এনার্জিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে প্রযুক্তি-বান্ধব করা হয়েছে এবং হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগে ৪টি মডিউলে ইআরপি বাস্তবায়িত হয়েছে। পেপারলেস অফিস করার কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ও সহনীয় মূল্যও বিবেচনায় রয়েছে। সার্বিকভাবে বলা যেতে পারে, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিতভাবেই বাংলাদেশ সাফল্য পাবে।’

এসডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যক্রম তুলে ধরেন বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য রয়েছে। ‌একটি লক্ষ্য, ৫টি টার্গেট ও ৬টি নির্দেশনা কীভাবে বিদ্যুৎ বিভাগে বাস্তবায়িত হচ্ছে তা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভএগর পক্ষে স্ব স্ব সচিবগণ এসময় এসডিজি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মাহবুব হোসেন ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. শামসুল হক বক্তব্য দেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the difference between Bangabandhu and Padma Bridge toll rates?

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য পদ্মা সেতু ও যমুনার উপর বঙ্গবন্ধু সেতুতে কিলোমিটার প্রতি টোলহারের তুলনামূলক চিত্র। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা
যে ১২ ধরনের গাড়ির জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হিসাব করে দেখা যায়, ছয় ধরনের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটার হিসাবে টোল বেশি। বাকি ছয় ধরনের গাড়িতে কম।

যান চলাচলে খুলে দেয়ার অপেক্ষায় থাকা পদ্মা সেতু পারাপারে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ফেরি পারাপারের বিদ্যমান হারের দেড় গুণ হিসাবে।

পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার এক মাসেরও বেশি সময় আগে ঘোষণা করা এই টোল হার নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে।

সেতু পারাপারে মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা আর বড় বাসের জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা দিতে হবে- সেতু বিভাগ এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর এই হার বেশি কি না, সেই আলোচনা এখন সামাজিক মাধ্যমে।

পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করা হয়েছে আট বছর আগে জারি করা টোল নীতিমালা অনুযায়ী। এই নীতিমালায় থাকা ফেরির মাশুলের তুলনায় দেড় গুণ টোল ঠিক করা হয়েছে।

এই নীতিমালায় সেতুর দৈর্ঘ্যের বিবেচনার কথাও বলা হয়েছে। সেই বিবেচনাতে যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতুর সঙ্গে তুলনা করা যায়।

পদ্মা সেতুর সঙ্গে প্রায় দুই যুগে আগে খুলে দেয়া বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল হারের তুলনা করলে দেখা যায়, উত্তরের পথের সেতুটির তুলনায় দক্ষিণের পথের সেতুর টোল হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ।

তবে দুই সেতুর নির্মাণ ব্যয় আর দৈর্ঘ্যেও পার্থক্য আছে। ১৯৯৮ সালে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া বঙ্গবন্ধু সেতুর মূল দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সঙ্গে মূল সেতুতে উঠতে দুই পাশে ভায়াডাক্ট আছে ১২৮ মিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য পাঁচ কিলোমিটারের কম।

তবে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য আরও বেশি। এখানে মূল সেতু ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। আর দুই প্রান্তের ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১৪৮ কিলোমিটার। সেই হিসাবে সেতুর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৯ দশমিক ২৯৮ কিলোমিটার।

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য

দুই সেতুর নির্মাণ ব্যয়েও আছে পার্থক্য। কংক্রিটের বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। ডলারের সঙ্গে টাকার সে সময়ের বিনিময় হারে এই ব্যয় ছিল ৪ হাজার কোটি টাকার আশপাশে। তবে বর্তমান বিনিময় হারের সঙ্গে তুলনা করলে এটি দাঁড়ায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

অন্যদিকে, চার লেনের পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে স্টিলের ওপরে, যাতে সড়কসেতুর নিচ দিয়ে রেল চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর নির্মাণে সবশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

যে ১২ ধরনের গাড়ির জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হিসাব করে দেখা যায়, ছয় ধরনের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটার হিসাবে টোল বেশি। বাকি ছয় ধরনের গাড়িতে কম।

বাইকে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারপ্রতি টোল বঙ্গবন্ধুর তুলনায় ৬০ পয়সা বেশি। পিকআপ ভ্যানে পদ্মায় কিলোমিটারে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় টোল বেশি ৭ টাকা ৩১ পয়সা।

মাঝারি বাসে বঙ্গবন্ধুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটারে টোল বেশি ১২ টাকা ১৭ পয়সা আর বড় বাসে বেশি ৫৫ টাকা ১৯ পয়সা।

ট্রাকের ক্ষেত্রে পাঁচ ধরনের গাড়ির মধ্যে পদ্মায় খরচ কম তিন আকারের গাড়িতে। অন্যদিকে বেশি ধরা হয়েছে দুই আকারের গাড়িতে।

বড় আকারের থ্রি এক্সেলের ট্রাকে যমুনার তুলনায় পদ্মা পাড়ি দিতে কিলোমিটারে বেশি খরচ হবে ১৮৫ টাকা ৬৮ পয়সা। ফোর এক্সেল ট্রাকে বেশি ৩৬ টাকা ৫৩ পয়সা।

অন্যদিকে প্রাইভেট কারে বঙ্গবন্ধুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটারে টোল কম ৩০ টাকা ৯৫ পয়সা।

মাইক্রোবাসে বঙ্গবন্ধুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটারে টোল কম ১২ টাকা ৩৭ পয়সা। ছোট বাসে এই ব্যয় কম হবে কিলোমিটারে ১ টাকা ৬২ পয়সা।

পাঁচ টনের ট্রাকে পদ্মা পাড়ি দিতে কিলোমিটারে খরচ কম পড়বে ৩০ টাকা ৮৫ পয়সা। ৮ টনের ট্রাকে এই খরচ ২৭ টাকা ৭৯ পয়সা আর ১১ টনের ট্রাকে কম ২৩ টাকা ৫৪ পয়সা।

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য

টোল নীতিমালায় কী বলা আছে

সড়ক ও সেতুর টোল নির্ধারণে ২০১৪ সালে জাতীয় টোল নীতিমালা করা হয়।

এই নীতিমালা অনুযায়ী সেতুর দৈর্ঘ্য হিসাবে টোল নির্ধারণ হবে। আর যে পথে সেতু হয়েছে, সেখানে যদি আগে থেকে ফেরি থাকে, তাহলে ফেরির মাশুলের দেড় গুণ হবে সেতুর টোল।

পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটাই হয়েছে। তবে খুচরা টাকার ঝামেলা এড়াতে কিছুটা কম-বেশি হয়েছে।

যেমন মোটরসাইকেলে ফেরি পারাপারে ৭০ টাকা লাগে। দেড় গুণ হিসাবে সেতুর টোল হয় ১০৫ টাকা। কিন্তু পাঁচ টাকা খুচরা নিয়ে ঝামেলা এড়াতে তা করা হয়েছে ১০০ টাকা।

বড় বাসের ক্ষেত্রে ফেরির মাশুলের দেড় গুণ হিসাবে হয় ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। কিন্তু ২৫ টাকা খুচরার ঝামেলা এড়াতে তা করা হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

দেশের দুই প্রধান সেতুর টোলের হিসাব-নিকাশ

সেতু বিভাগের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে একটি মোটরসাইকেলকে দিতে হবে ১০০ টাকা। মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ফেরি পার হতে এই খরচ ৭০ টাকা।

পদ্মার তুলনায় দৈর্ঘ্যে অর্ধেক বঙ্গবন্ধু সেতু পার হতে মোটরসাইকেলের খরচ ৫০ টাকা।

দৈর্ঘ্যের হিসাবে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেলের টোল দাঁড়াচ্ছে প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা ৭৫ পয়সা। আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে তার পরিমাণ ১০ টাকা ১৫ পয়সা।

সেই হিসাবে পদ্মা পাড়ি দিতে যমুনার তুলনায় মোটরসাইকেলকে প্রতি কিলোমিটারে বেশি দিতে হবে ৬০ পয়সা।

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য

পদ্মা পাড়ি দিতে প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে টোল ঠিক করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। ফেরিতে বর্তমানে এই ধরনের গাড়ি পারাপারে দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা।

যমুনা পাড়ি দিতে পদ্মার তুলনায় অর্ধেক দৈর্ঘ্যের বঙ্গবন্ধু সেতুর ক্ষেত্রে এই টোলের পরিমাণ ৫৫০ টাকা।

সে ক্ষেত্রে প্রাইভেট কারে যমুনা পাড়ি দিতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ ১১১ টাকা ৬১ পয়সা। আর পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ ৮০ টাকা ৬৬ পয়সা।

পদ্মা সেতুতে টোল প্রতি কিলোমিটারে কম ৩০ টাকা ৯৫ পয়সা।

পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপ পারাপারে ফেরিতে দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা। পদ্মা সেতু পার হতে সেই টোলের পরিমাণ ১ হাজার ২০০ টাকা।

পদ্মার তুলনায় অর্ধেক বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই টোল ৬০০ টাকা।

সেই হিসাবে এই ধরনের গাড়িতে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারপ্রতি টোল খরচ ১২৯ টাকা ৬ পয়সা। আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে তা ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা।

অর্থাৎ পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারে খরচ বাড়ছে ৭ টাকা ৩১ পয়সা।

মাওয়া প্রান্তে মাইক্রোবাস পারাপারে ফেরিতে লাগে ৮৬০ টাকা। সেটি বাড়িয়ে পদ্মা সেতুতে করা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

অর্ধেক দৈর্ঘ্যের বঙ্গবন্ধু সেতুতে মাইক্রোবাসের খরচ লাগে ৭৫০ টাকা।

সেই হিসাবে পদ্মা সেতুতে মাইক্রোবাসে প্রতি কিলোমিটারে টোল ১৩৯ টাকা ৮২ পয়সা। আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে তার পরিমাণ ১৫২ টাকা ১৯ পয়সা।

অর্থাৎ মাইক্রোবাসে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটার হিসাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় খরচ কমে আসবে ১২ টাকা ৩৭ পয়সা।

৩১ আসন বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য পদ্মা সেতুতে দিতে হবে ১ হাজার ৪০০ টাকা। ফেরিতে এসব গাড়িকে দিতে হচ্ছে ৯৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যমুনা পাড়ি দিতে এই ধরনের বাসকে দিতে হচ্ছে ৭৫০ টাকা।

তার মানে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ৩১ বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য কিলোমিটারপ্রতি টোল আসে ১৫২ টাকা ১৯ পয়সা। আর পদ্মা সেতুতে আসে ১৫০.৫৭ টাকা।

এ ক্ষেত্রে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারে খরচ কম পড়বে ১ টাকা ৬২ পয়সা।

মাওয়া প্রান্ত দিয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে মাঝারি বাসকে ফেরিতে দিতে হয় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। সেতু দিয়ে পারাপারে তা লাগবে ২ হাজার টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যমুনা পাড়ি দিতে এই ধরনের বাসকে দিতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে মাঝারি বাসের খরচ পড়বে কিলোমিটারে ২১৫ টাকা ১০ পয়সা। বঙ্গবন্ধুতে এই খরচ কিলোমিটারে ২০২ টাকা ৯৩ পয়সা।

ফলে পদ্মায় বাসমালিকদের খরচ বাড়ছে প্রতি কিলোমিটারে ১২ টাকা ১৮ পয়সা।

মাওয়া প্রান্ত দিয়ে বড় বাসে ফেরিতে পদ্মা পারাপারে লাগছে ১ হাজার ৫৮০ টাকা। সেতুতে লাগবে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই ধরনের বাসে খরচ পড়ে ১ হাজার টাকা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে বড় বাসের খরচ পড়বে কিলোমিটারে ২৫৮ টাকা ১২ পয়সা। বঙ্গবন্ধুতে এই খরচ ২০২ টাকা ৯৩ পয়সা।

ফলে পদ্মায় বড় বাসমালিকদের খরচ বাড়ছে প্রতি কিলোমিটারে ৫৫ টাকা ১৯ পয়সা।

পদ্মা সেতুতে ৫ টনের ট্রাক এ সেতু পাড়ি দিলে গুনতে হবে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাঁচ টন পর্যন্ত এই ট্রাক পারাপারে ফেরিতে দিতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই ধরনের ট্রাক পারাপারে টোল দিতে হয় ১ হাজার টাকা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে পাঁচ টনের ট্রাকের খরচ পড়বে কিলোমিটারে ১৭২ টাকা ৮ পয়সা। বঙ্গবন্ধুতে এই দূরত্বের খরচ ২০২ টাকা ৯৩ পয়সা।

ফলে পদ্মা সেতুতে ছোট ট্রাকে খরচ কমছে প্রতি কিলোমিটারে ৩০ টাকা ৮৫ পয়সা।

পাঁচ টন থেকে আট টনের মাঝারি ট্রাকের জন্য পদ্মা সেতুতে দিতে হবে ২ হাজার ১০০ টাকা, ফেরিতে লাগছে ১ হাজার ৪০০ টাকা।

একই আকারের ট্রাকের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতুতে দিতে হয় ১ হাজার ২৫০ টাকা।

এই হিসাবে পদ্মা সেতুতে পাঁচ থেকে আট টনের ট্রাকে টোলের খরচ পড়বে কিলোমিটারে ২২৫ টাকা ৮৬ পয়সা। বঙ্গবন্ধুতে এই দূরত্বের খরচ ২৫৩ টাকা ৬৫ পয়সা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে এই ধরনের ট্রাতে কিলোমিটারপ্রতি কম নেয়া হচ্ছে ২৭ টাকা ৭৯ পয়সা।

পদ্মা সেতুতে আট টন থেকে ১১ টনের মাঝারি ট্রাকের টোল ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। ফেরিতে এই ধরনের গাড়ি পারাপারে লাগছে ১ হাজার ৮৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই গাড়িগুলোকে টোল হিসেবে দিতে হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে মাঝারি ট্রাকে প্রতি কিলোমিটারে পদ্মা সেতুর খরচ ৩০১ টাকা ১৪ পয়সা। বঙ্গবন্ধুর সেতুতে এই খরচ ৩২৪ টাকা ৬৮ পয়সা।

এই হিসাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ কমবে ২৩ টাকা ৫৪ পয়সা।

থ্রিএক্সেলের ট্রাক পারাপারে পদ্মা সেতুতে টোল ঠিক করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। ফেরিতে এই ধরনের গাড়ি পারাপারে লাগছে ৩ হাজার ৯৪০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই ধরনের ট্রাক পারাপারে লাগছে ২ হাজার টাকা।

কিলোমিটারপ্রতি খরচের হিসাবে দেখা যায় পদ্মা সেতুতে ৫৯১ টাকা ৫৩ পয়সা। যা বঙ্গবন্ধু সেতুতে ৪০৫ টাকা ৮৫ পয়সা।

এ ক্ষেত্রে পদ্মা সেতুতে খরচ বাড়ছে প্রতি কিলোমিটারে ১৮৫ টাকা ৬৭ পয়সা।

মালবাহী ট্রেইলারের (ফোর এক্সেল) টোল পদ্মা সেতুতে ধরা হয়েছে ৬ হাজার টাকা। ফেরিতে এই ধরনের গাড়ি পারাপারে লাগে ৪ হাজার টাকা।

আর যমুনা পাড়ি দিতে এই ধরনের ট্রাককে দিতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা।

দেখা যাচ্ছে মালবাহী ট্রেইলারে (ফোর এক্সেল) প্রতি কিলোমিটারে পদ্মা সেতুর খরচ ৬৪৫ টাকা ৩০ পয়সা। বঙ্গবন্ধুর সেতুতে এই খরচ ৬০৮ টাকা ৭৭ পয়সা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে খরচ বাড়ছে কিলোমিটারপ্রতি ৩৬ টাকা ৫৩ পয়সা।

চার এক্সেলের ওপরে মালবাহী ট্রেইলারের জন্য প্রতি এক্সেলে পদ্মা সেতুতে যোগ হচ্ছে দেড় হাজার টাকা। আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে যোগ হচ্ছে ১ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন:
ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতু জুনেই চালু: কাদের
বঙ্গবন্ধু সেতুর মুখে যে কারণে বাইকের দীর্ঘ লাইন
পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে রাতে চলছে ফেরি
রানীশংকৈলে হাটে ‘অতিরিক্ত’ টোল আদায়ের প্রতিবাদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chief of Army Staff inspects agricultural production competition in Bogra

বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বগুড়া সেনানিবাসে কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন। ছবি: আইএসপিআর
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার স্টেশন বোট ক্লাব লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর এই বিশেষ উদ্যোগ জাতীয় মোট উৎপাদনে কিভাবে ভূমিকা রাখছে সে বিষয়ে কথা বলেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা-২০২২ পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি বগুড়া আর্মি মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন ও প্রকল্পের অগ্রগতি দেখেন। এ সময় তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আইএসপিআর জানায়, সেনাপ্রধান স্টেশন বোট ক্লাব লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর এই বিশেষ উদ্যোগ জাতীয় মোট উৎপাদনে কিভাবে ভূমিকা রাখছে সে বিষয়ে কথা বলেন।

সেনাবাহিনী প্রধান বগুড়া সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থান ‌এবং কর্মকাণ্ডও পরিদর্শন করেন। সেনানিবাসে কর্মরত অফিসারদের জন্য একটি অফিসার্স কোয়ার্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, মেজর জেনারেল এফ এম জাহিদ হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান।

বগুড়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান
সেনাবাহিনী প্রধান মঙ্গলবার বগুড়া আর্মি মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। ছবি: আইএসপিআর

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ ‘এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না’ বাস্তবায়নে সেনাপ্রধানের দিকনির্দেশনায় সেনাবাহিনীর সব এরিয়া/ফরমেশনে মৌসুমভিত্তিক অব্যবহৃত ও পতিত জমি কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেনানিবাসের সব অনাবাদি জমিতে, এমনকি প্রতিটি বাসা-বাড়ির আনাচে-কানাচে লাগানো হয়েছে বনজ, ঔষধি ও ফলের গাছ। উন্মুক্ত স্থানে চাষ করা হচ্ছে নানা জাতের মৌসুমী ও বারোমাসি ফল এবং নানা ধরনের মৌসুমী শাকসবজি। পুকুর ও জলাভূমি ব্যবহার করা হচ্ছে মাছ চাষ ও হাঁস পালনে। বিভিন্ন প্রকার খামার ছাড়াও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে শিং ও তেলাপিয়া মাছ।

প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় সেনাবাহিনী প্রধানের বিশেষ উদ্যোগে সব সেনানিবাসে কৃষিভিত্তিক উৎপাদন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে উত্তরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ প্রয়াস আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
‘সেনা নিবাসের ভেতরে কোনো পতিত জমি থাকবে না’
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাবাহিনী প্রধান
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান মনোজ পান্ডে
রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাপ্রধান
পদ্মার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If electricity prices go up commodity prices will go up further FBCCI

‘বিদ্যুতের দাম বাড়ালে পণ্যমূল্য আরও বাড়বে’

‘বিদ্যুতের দাম বাড়ালে পণ্যমূল্য আরও বাড়বে’ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বুধবার গণশুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি। ফাইল ছবি
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটির মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতের খরচ বাড়বে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ালে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মঙ্গলবার এমন মত ব্যক্ত করেছে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বুধবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। কমিশনের আইন অনুযায়ী, শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি প্রস্তাবের বিষয়ে ঘোষণা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গ্যাসের দাম আগে ঠিক করে তারপর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই গ্যাসের দাম বাড়ালে বিদ্যুতের দামও বাড়াতে হবে। আবার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে।

বিদ্যুতের দাম এই মুহূর্তে না বাড়ানোর পক্ষে বেশকিছু যুক্তি তুলে ধরেছে এফবিসিসিআই।

সংস্থাটির মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতের খরচ বাড়বে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

এফবিসিসিআই বলেছে, বর্তমানে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ আসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। কিন্তু উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। ফার্নেস অয়েলের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। কয়লার ওপর ভ্যাট, গ্যাসের ওপর ডিমান্ড চার্জসহ বিদ্যুৎ বিক্রির ওপর উৎসে কর আরোপ করা হয়েছে।

একদিকে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে অন্যদিকে জ্বালানির ওপর আরোপিত করভার যুগপৎভাবে ভোক্তাসহ দেশের উৎপাদনশীল কার্যক্রমের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটি বিধ্বংসী ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী আমদানি পণ্যের মূল্য বেড়েছে। এর প্রভাবে শিপিং খরচ বেড়েছে। একই কারণে উৎপাদন ব্যয়ও অত্যধিক বেড়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর।

একইভাবে রপ্তানি শিল্পে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এতে রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।

মতামতে বলা হয়, সঞ্চয় কমে যাওয়ার ফলে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের অর্থপ্রবাহে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়ার আশঙ্কাকে বিবেচনায় নেয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষি, শিল্প ও সেবা উৎপাদন খাতে।

মূল্যস্ফীতির বিরূপ প্রভাবে জনজীবনে নেমে আসতে পারে হতাশা। সর্বোপরি এতে অর্থনীতির উন্নয়নে চলমান ধারাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবটি গ্রহণ করা ঠিক হবে না বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন:
অসৎ ব্যবসায়ীদের সভাপতি হতে চাই না: এফবিসিসিআই সভাপতি
‘রপ্তানিমুখীর মতো স্থানীয় শিল্পও নিরাপদ হবে’
ব্যক্তি করে ছাড় বাড়ানোর প্রস্তাব এফবিসিসিআইয়ের
দুবাইয়ে হবে এফবিসিসিআইয়ের ট্রেড সেন্টার
দুবাই চেম্বারের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সমঝোতা স্মারক সই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The government wants more investment in the power and energy sector

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগ চায় সরকার

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগ চায় সরকার
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিনিয়োগে নিরাপত্তাসহ ১৫ বছরের শুল্ক ছাড়, আমদানি শুল্কে রেয়াতসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। চলমান আটটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটিই বেসরকারি খাতের। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বেসরকারি খাতের ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হয়েছে।’

দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে সরকার। তৈরি করা হয়েছে বেসরকারি খাতের জন্য পলিসি গাইডের খসড়া। যার মাধ্যমে ন্যাশনাল গ্রিড বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

ইকনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক (ইএসসিএপি) ও সাসটেইনেবল এনার্জি ফর অল যৌথভাবে আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে মঙ্গলবার তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগে নিরাপত্তাসহ ১৫ বছরের শুল্ক ছাড়, আমদানি শুল্কে রেয়াতসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) নবায়ণযোগ্য জ্বালানির প্রসারে লজিস্টিক ও কারিগরি সহযোগিতা করছে।

‘বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করায় গত দশকে বিদ্যুৎ খাতে ১২ বিলিয়ন বিনিয়োগ হয়েছে। আগামী ১২ বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাত হতে ৪৪ শতাংশ আসছে। চলমান আটটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটিই বেসরকারি খাতের। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বেসরকারি খাতের ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হয়েছে।’

সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সৌরবিদ্যুৎ রোডম্যাপ ২০২১-৪১ খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সমন্বিত বিদ্যুৎ জ্বালানি মাস্টারপ্ল্যানে ক্লিন এনার্জিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন উৎসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২৯টি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অফসোর উইন্ড, গ্রিন হাইড্রোজেন, ভাসমান সোলার, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, সোলার রূফটপ ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

সেমিনারে সংযুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন ইএসসিএপির নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আসিজাবানা, ভারতের বিদ্যুৎ, নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিমন্ত্রী রাজ কুমার সিং, ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী আরিফিন তাসরিফ, নেপালের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. সুরেন্দ্র লাব কর্ণ ও ফিজির জ্বালানিবিষয়ক পরিচালক মিকেলি বেলেনা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
PK Haldar to be brought to India before trial Law Minister

পি কে হালদারকে দেশে আনা হবে: আইনমন্ত্রী

পি কে হালদারকে দেশে আনা হবে: আইনমন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
‘আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তাকে ফিরিয়ে আনা। এবং যে মুহূর্তে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে, তখন থেকে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে সেই অভিযোগের বিচার করে তার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।’

মূল অপরাধ যেহেতু বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে, সেহেতু ভারতে বিচারের আগে প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারকে ঢাকা ফেরত চাইবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার ফরেন এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের প্যারালাল সেশন-১ এ যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আনিসুল হক।

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে একটি গণমুখী বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

‘জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে করোনা মহামারির সময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আইন ও বিচার বিভাগ ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালু করে। এই পদক্ষেপ করোনাকালে জরুরি সমস্যা মোকাবেলা এবং কারাগারে বন্দিদের বাড়তি চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নের যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে একটি সমন্বিত কর্মপদ্ধতি নিয়েছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোর ম্যাপিং, আর্থিক কৌশল, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, ডেটা গ্যাপ বিশ্লেষণ, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, এপিএ-তে এসডিজি অর্ন্তভুক্তিসহ অনেক কাজ সম্পন্ন করেছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার একটি জনকেন্দ্রিক আধুনিক গণতন্ত্র গ্রহণ করেছে। ফলে দেশে সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালীসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। আর এসব উন্নয়ন বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে।’

সম্মেলনে বক্তব্য শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন। তবে মানি লন্ডারিং আইন যেহেতু বিশ্বের সব জায়গায় কঠোরভাবে মানা হচ্ছে, তাই টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

‘আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তাকে ফিরিয়ে আনা। এবং যে মুহূর্তে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে, তখন থেকে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে সেই অভিযোগের বিচার করে তার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকোর সময় যে ব্যাপারটা ছিল, তখন আমরা যাদের সঙ্গে কোলাবরেট করেছিলাম তাদের জন্য টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

‘এখন পি কে হালদারের পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনাটা আরও সহজ হবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সারাবিশ্বে মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইন করা হয়েছে। তা আমাদের দেশেও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিলে অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

‘আমি এ ব্যাপারে অ্যাডভান্স কিছু বলতে চাই না। নিশ্চয়ই আমরা তাদের সঙ্গে আলাপে বসব। আমাদের এখানে যেহেতু মূল অপরাধটা করা হয়েছে, আমরা তাকে আগে চাইবো সেটাই স্বাভাবিক।’

এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার প্যারালাল সেশন-১ এ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবগণ তাদের স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগের এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

এই সেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোসাররফ হোসেন ভূঁইয়া। আলোচক ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।

আরও পড়ুন:
পি কে হালদারকে আজ আদালতে তোলা হচ্ছে
পি কে হালদারকে কবে ফিরিয়ে আনা যাবে
পি কে হালদারকে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু দুদকের
‘অভিযোগ ভিত্তিহীন, দেশে ফিরতে চাই’
পি কে হালদারের অর্থ পাচার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সহায়তায়: মোশাররফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dont panic and work for the development of the country Prime Minister

পত্রিকার সংবাদে না ঘাবড়ে, দেশের উন্নয়নে কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী

পত্রিকার সংবাদে না ঘাবড়ে, দেশের উন্নয়নে কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিআইডি
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক সময় পত্রিকা পড়ে আপনারা অনেকে ঘাবড়ান। এই পত্রিকা এই সমালোচনা করেছে। বাংলাদেশের কিছু পত্রিকা আছে, তারা সব কিছুতে একদিন ভালো লিখলে পরের সাতদিন লিখবে খারাপ। এটা তাদের চরিত্র। আমি চিনি সবাইকে।’

সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ পড়ে ঘাবড়ে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কিছু পত্রিকা আছে তারা একদিন ভালো লিখলে পরের সাতদিন লিখবে খারাপ।’ পত্রিকায় কী লিখল, তা দেখে নয়, দেশের মানুষ ও উন্নয়নের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক সময় পত্রিকা পড়ে আপনারা অনেকে ঘাবড়ান। এই পত্রিকা এই সমালোচনা করেছে। বাংলাদেশের কিছু পত্রিকা আছে, তারা সব কিছুতে একদিন ভালো লিখলে পরের সাতদিন লিখবে খারাপ। এটা তাদের চরিত্র। আমি চিনি সবাইকে।’

নিজেকে দেশের প্রবীণ রাজনীতিক একজন বলেও উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘হাই স্কুল থেকে তো রাজনীতি করি। সবাইকে আমার চেনাই আছে। সব পরিবারকেও চেনা আছে। এটা তাদের চরিত্র। কাজেই ওই পত্রিকা দেখে ঘাবড়ানোর কোনো দরকার নেই। আর পত্রিকা পড়েও সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার নেই।’

টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নেব দেশের মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে, দেশের কথা চিন্তা করে, দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে। এই কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে। কারণ, আমি সেইভাবেই চলি।

‘আর সেইভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছি বলেই আজ দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমি যদি ভয়ে ভয়ে থাকতাম, ও কী লিখলো, ও কী বললো, ও কী করলো, তাহলে কোনো কাজ করতে পারতাম না। নিজের বিশ্বাস হারাতাম।’

কর্মকর্তাদের নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলারও পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমি বলব অনেক সময় আপনাদের অনেকের মুখেই শুনি এই পত্রিকা লিখেছে। ওটা নিয়ে কখনও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ওটা নিয়ে চিন্তাও করবেন না। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলবেন। সেটাই আমি চাই। তাহলে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।’

কারও নাম উল্লেখ না করে এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারাই বেশি কথা বলে, তারাই সমালোচনা বেশি করে, যারা ইমার্জেন্সি সরকারের পদলেহন করেছে, চাটুকারি করেছে। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। যাই হোক কে, কী বললো সেটা নিয়ে আমি কখনও ঘাবড়াইও না, চিন্তাও করি না। দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষের জন্য যেটা করা ন্যায়সঙ্গত সেটাই করি।’

আরও পড়ুন:
অর্বাচীনের মতো সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়: শেখ হাসিনা
বিশ্ব মন্দার শঙ্কায় উন্নয়ন প্রকল্পও বেছে বেছে
৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গৌতম ঘোষ
প্রধানমন্ত্রী ও পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি

মন্তব্য

উপরে