× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Headmaster beaten No one was arrested in two days
hear-news
player
print-icon

প্রধান শিক্ষককে মারধর: দুদিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

প্রধান-শিক্ষককে-মারধর-দুদিনেও-গ্রেপ্তার-হয়নি-কেউ চিকিৎসাধীন মারধরে আহত পাবনা টাউন গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রবিউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা
এসআই ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় ২৫ তারিখ লিখিত অভিযোগ আসে থানায়। বিষয়টি তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলায় এজাহার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’

স্কুল গেটে কাউন্টার বসাতে বাধা দেয়ায় পাবনা টাউন গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রবিউল করিমকে পিটিয়ে আহত করার দুই দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে গত ২৫ মার্চ প্রধান শিক্ষক পাবনা সদর থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বুধবার প্রতিবাদ সভা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলা শিক্ষক সমিতির নেতারা ও মানবাধিকার কর্মীরা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পাবনার মধ্য শহরের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ টাউন গার্লস হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক রবিউল করিম সম্প্রতি স্কুল গেটে মুজিব কানন (বাগান) তৈরির উদ্যোগ নেন। গত ২৫ এপ্রিল রনি, জ্যাকির নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল স্কুলের কম্পাউন্ডে এসে লাঠি, লোহার রড দিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে সহকর্মীরা তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধান শিক্ষক রবিউল করিম কৃষ্ণপুর এলাকার রেন্ট-এ কার চালক জ্যাকি ও রনির নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতপরিচয়ে ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় ২৫ তারিখ লিখিত অভিযোগ আসে থানায়। বিষয়টি তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলায় এজাহার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’

পাবনা টাউন গার্লস হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শহরের প্রাণকেন্দ্র আব্দুল হামিদ সড়কে প্রায় দেড় শ বছরের প্রাচীন বিদ্যাপিঠ টাউন গার্লস হাইস্কুল। গত কয়েক মাস ধরে রনি, জ্যাকিসহ বেশ কিছু রেন্ট-এ কারচালক স্কুল গেটে কাউন্টার বসানোর চেষ্টা করে আসছেন। বাধা দেয়ায় প্রধান শিক্ষক রবিউল করিমের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তারা।

‘প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিব্রত করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে চালকরা স্কুল গেটে বেঞ্চ পেতে বসে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন তারা। একাধিকবার নিষেধের পরও তারা স্কুল গেটে গাড়ি রেখে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের সম্মান বাঁচাতে শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানে এভাবে মারপিটের শিকার হওয়া শিক্ষক সমাজের জন্য অপ্রত্যাশিত, অবমাননাকর ও আতঙ্কের বিষয়।’

প্রতিবাদ সভায় পাবনা জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নওশের আলম মন্টু বলেন, ‘স্কুল কম্পাউন্ডে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হওয়ায় জেলা শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাই।

‘আসামিদের শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে জেলার শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করবে।’

হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক পাবনার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব মন্টু বলেন, ‘পাবনা টাউন গার্লস হাইস্কুল বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের সামনে সড়কে রেন্ট-এ কার চালকরা অবৈধভাবে একাধিক কাউন্টার বসিয়েছেন। তারা যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি স্কুলছাত্রী ও পথচারীদের উত্ত্যক্ত করেন।

‘সন্ধ্যা হলেই প্রকাশ্যে এসব কাউন্টারে অসামাজিক কাজ করে। আমরা শিক্ষকের ওপর হামলার বিচার দাবির পাশাপাশি এসব কাউন্টার উচ্ছেদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানাই।’

প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক পাবনার চেয়ারম্যান আব্দুল মতীন খান, শিক্ষক উম্মে হাবিবাসহ জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক।

এদিকে শিক্ষক হামলার ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রেন্ট কার চালক জ্যাকি। তিনি বলেন, ‘কাউন্টার বসানো নিয়ে বিরোধ থাকলেও মারপিটের ঘটনায় আমাদের সম্পৃক্ততা নেই। অভিভাবকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে তিনি লাঞ্চিত হয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
কথিত কবিরাজ ও গৃহবধূকে মারধর: ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার
রোগীর স্বজনদের ‘মারধর’, আটকে রাখা হলো হাসপাতালে
পুলিশের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বাসহ ৭ জনকে মারধরের অভিযোগ
ইউপি চেয়ারম্যানকে ‘লাঞ্ছিত’ করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান
চেয়ারে বসায় ‘পেটালেন’ পাসপোর্ট কর্মকর্তা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Residents of Namal area on the road of Municipal Councilor occupying the field

মাঠ দখল পৌর কাউন্সিলরের, রাস্তায় নামল এলাকাবাসী

মাঠ দখল পৌর কাউন্সিলরের, রাস্তায় নামল এলাকাবাসী
পৌর মেয়র আলহাজ্ব মাহমুদ আলম লিটন বলেন, ‘এলাকাবাসীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পৌর কাউন্সিলর মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে খেলার মাঠ দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই মাঠটিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী চড়ক মেলাও আয়োজন করা হতো। মাঠটি দখলমুক্ত করতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

বুধবার দুপুরে মাঠ দখলের প্রতিবাদ জানিয়ে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চাঁদপাড়া গ্রাম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শতাধিক শিশু-কিশোরসহ স্থানীয় অনেক নারী-পুরুষ।

মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন করে প্রতিবাদকারীরা। মানববন্ধন শেষে খেলার মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়ে ইউএনও এর কাছে গণস্বাক্ষর করা একটি লিখিত অভিযোগ দেন তারা।

মাঠ দখল পৌর কাউন্সিলরের, রাস্তায় নামল এলাকাবাসী

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার চাঁদপাড়া এলাকায় ছোট যমুনা নদীর তীর সংলগ্ন সুজাপুর মৌজার ১৮১৫ দাগের সম্পত্তিটি সরকারি এবং এসএ খতিয়ানে তা জনসাধারণের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জায়গাটিকে বছরের পর বছর ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছে স্থানীয়রা। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলাও অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। কিন্তু ওই এলাকার পৌর কাউন্সিলর মাজেদুর প্রভাব খাটিয়ে নিজের সম্পত্তি দাবি করে মাঠটি দখল করে নিয়েছেন।

এর আগে মাঠটি উদ্ধারে চাঁদপাড়া এলাকাবাসী পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে মাঠ উদ্ধারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে নেমেছেন তারা।

মাঠ দখল পৌর কাউন্সিলরের, রাস্তায় নামল এলাকাবাসী

মানববন্ধনে অংশ নেয়া স্থানীয় সুমন, লুৎফর, মৃদুলসহ এলাকাবাসী জানান, তারা অনেক বছর ধরে ওই মাঠটিতে খেলাধুলা করে আসছেন। এ ছাড়া তাদের আর কোনো মাঠ নেই। ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাজেদুর হঠাৎ করেই মাঠটি দখলে নিয়ে খেলার পরিবেশ নষ্ট করেছেন। তাই খেলার মাঠটি উদ্ধারে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।

এদিকে পৌর কাউন্সিলর মাজেদুর রহমান বলেন, ‘দখল নেয়া জায়গাটি আমার বাপ-দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি; যার দাগ নাম্বার ১৮১৬। আমি কারো জায়গা দখল করিনি। এলাকাবাসীর দাবি করা জমিটি ১৮১৫ দাগের। সেই অনুযায়ী তাদের জমি আলাদা।’

এ বিষয়ে পৌর মেয়র আলহাজ্ব মাহমুদ আলম লিটন বলেন, ‘এলাকাবাসীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

অভিযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও।

আরও পড়ুন:
থানার দখলে গোলারটেক খেলার মাঠ
মাঠ রক্ষার নেতা রত্না পেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ধন্যবাদ
তেঁতুলতলা মাঠ: মা-ছেলেকে ‘বেআইনিভাবে’ আটকের তদন্ত দাবি
তেঁতুলতলায় ফিরেছে প্রাণ
মাঠ ফিরে পেয়ে রত্না বললেন ‘লাভ ইউ বুবু’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mango unloading festival has started in Naogaon

নওগাঁয় শুরু হয়েছে আম নামানোর ‘উৎসব’

নওগাঁয় শুরু হয়েছে আম নামানোর ‘উৎসব’ গুটিজাতের আম নামানো শুরু হয়েছে নওগাঁয়। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে চাষিরা গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জেলায় আম নামানোর উৎসব শুরু হলো। তবে উন্নত জাতের আমগুলো নামানোর জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করলে ভালো হবে।’

নওগাঁয় চলতি মৌসুমে গুটিজাতের আম নামানো শুরু হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে বুধবার জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো আম কেনাবেচার ‘উৎসব’।

বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম সরবরাহ নিশ্চিতে আগে থেকেই এই সূচি ঠিক করেছিল জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় জাতভেদে আম নামানোর সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়। সভায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ছাড়াও আমচাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় গুটিজাতের আম নামানোর তারিখ ঠিক করা হয় ২৫ মে।

এ ছাড়া গোপালভোগ ৩০ মে ও ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর ৫ জুন, নাগ ফজলি ৮ জুন, ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙ্গা ১২ জুন, ফজলি আম ২২ জুন ও আম্রপালি ২৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সর্বশেষ ১০ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা, বারী-৪ ও গৌরমতি জাতের আম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামছুল ওয়াদুদ বলেন, ‘বাগানমালিক, ব্যবসায়ী, জেলা প্রশাসন সবার সঙ্গে আলোচনা করে আম সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। তারিখ অনুযায়ী আম সংগ্রহ করতে জেলাজুড়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। পরিপক্ব ও ক্ষতিকারক কেমিক্যালমুক্ত আম খাওয়াতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে চাষিরা গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জেলায় আম নামানোর উৎসব শুরু হলো।’

উন্নত জাতের আমগুলো নামানোর জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করলে ভালো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে যদি কোনো বাগানের আম পেকে যায়, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে চাষিরা আম পাড়তে পারবেন।’



নওগাঁয় শুরু হয়েছে আম নামানোর ‘উৎসব’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে নওগাঁর আমের খুব সুনাম রয়েছে। এ জন্য কয়েক বছর থেকে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আম পাকানো, সংরক্ষণ বা বাজারজাতে কেমিক্যালের ব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি রয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ফলন ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৫০ টন। আশা করা হচ্ছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ টন আম উৎপাদন হবে। যার বিক্রয় মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৪২ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে বিদেশে আম রপ্তানির জন্য কয়েকজন আমচাষিকে প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ আম প্রস্তুতের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। তাদের বাগান থেকেই আম ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, দুবাই, কাতার, সুইডেন ও ওমানে রপ্তানি করা হবে।

আরও পড়ুন:
ফজলি নিয়ে রাজশাহী-চাঁপাই লড়াই
নওগাঁর আমের ১৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা
কবে আসছে আমিরের ‘লাল সিং চাড্ডা’র ট্রেলার
আ.লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আমুর
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো

মন্তব্য

বাংলাদেশ
EC has called Comilla candidates in Dhaka to show EVM

ইভিএম দেখাতে কুমিল্লার প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকেছে ইসি

ইভিএম দেখাতে কুমিল্লার প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকেছে ইসি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন যাচাই করে দেখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ছবি: সংগৃহীত
প্রার্থীদের জন্য ইভিএম কাস্টমাইজেশন কার্যক্রম আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে করা হবে। প্রার্থী অথবা তার মনোনীত কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। যারা আসতে চান, তাদের ২৬ মে বিকেল ৪টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কাছে বা প্রতিনিধির নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন যাচাই করে দেখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আসতে হবে। সেখানেই ইভিএম কাস্টমাইজেশন করে দেখানো হবে।

কুমিল্লা সিটি ভোটের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান।

আগামী ১৫ জুন কুমিল্লায় ভোট পুরোপুরি ইভিএমে নেয়া হবে। এই যন্ত্র ব্যবহারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর আপত্তি না থাকলেও স্বতন্ত্র পরিচয়ে দাঁড়ানো বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা ব্যালটে ভোট নেয়ার দাবি করছেন। তাদের দাবি, ইভিএমে কারচুপি করা যায়।

এই পরিস্থিতিতে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য ইভিএম কাস্টমাইজেশন কার্যক্রম আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে করা হবে। সেখানে কাস্টমাইজেশন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তার মনোনীত কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।

যারা এখানে আসতে চান, তাদের ২৬ মে বিকেল ৪টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কাছে বা প্রতিনিধির নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ মের মধ্যে আবেদন না করলে ধরে নেয়া হবে যে ওই প্রার্থী ইভিএম কাস্টমাইজেশন প্রক্রিয়া দেখতে আগ্রহী নন।
২৬ মে নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২৭ মে।

দুটি পৌরসভাকে একীভূত করে ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। পরের বছর হয় প্রথম নির্বাচন হয়। এরপর ২০১৭ সালে এসে এ সিটিতে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে আয়তন বাড়ানো হয় প্রায় তিন গুণ। এতে দেখা দেয় সীমানা জটিলতা। বর্তমানে এই সিটিতে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে।

দুটি নির্বাচনেই কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ভোটেই জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু। তার দল এবার ভোট বর্জন করায় গত দুবারের মেয়র এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের প্রচারে নেমেছেন।

আওয়ামী লীগ এখানে পরপর তিনটি নির্বাচনে নতুন মুখ দিয়ে জয়ের চেষ্টায় আছে। প্রথম নির্বাচনে কুমিল্লা আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা আফজল খানকে দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরের বার তার মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমাও পেরে ওঠেননি।

এবার নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাতকে।

দুই দলেই আছে কোন্দল। সাক্কুর বিরোধিতা করে মাঠে আছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার। অন্যদিকে প্রয়াত আফজল খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান নৌকা না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে ৬ প্রার্থী
দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা নিজাম উদ্দিনের
কুমিল্লায় রিফাত-সাক্কুর মনোনয়ন বৈধ
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: মেয়র পদে ৬ জনের মনোনয়নপত্র জমা
১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ঠুকলেন রিফাত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Driver killed in bus truck collision

বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত

বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় ট্রাকটি। ছবি নিউজবাংলা

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে এক চালক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নুরে আলম ফিলিং স্টেশনের কাছে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ৬০ বছর বয়সী বারিক সরদারের বাড়ি পাবনার বাহিরচর গ্রামে। তাৎক্ষণিক আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাস রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নুরে আলম ফিলিং স্টেশনের কাছে এলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়।

এতে ট্রাকের চালক বারিকসহ অন্তত ১১ জন আহত হন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বারিকের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘণ্টাব্যাপী যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ করেনি।’

আরও পড়ুন:
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Workers on the highway to collect arrears of wages

বকেয়া বেতন আদায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কে

বকেয়া বেতন আদায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কে
আন্দোলনকারী শ্রমিক শেফালি বেগম বলেন, ‘এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস না দিয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদের আগে কারখানা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।’

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক আটকে অবরোধ করেছেন। পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দিয়েছে।

কোনাবাড়ীর এন‌টি‌কে‌সি নামে ওই কারখানার শ্রমিকরা বুধবার সকালে কারখানার সামনের মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

আন্দোলনকারী শ্রমিক শেফালি বেগম বলেন, ‘এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস না দিয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদের আগে কারখানা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এর পর থেকে কারখানায় আর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়নি।

‘প্রতিদিনই আমরা কারখানার ফটকে এসে ফিরে যাই। তাই আজকে সকালে আমরা বিক্ষোভ করি।’

বিক্ষোভরত আরেক শ্রমিক মো. মামুন জানান, তারা ন্যায্য দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন। পুলিশ তাদের ওপর হামলা করেছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও শিল্প পুলিশের পরিদর্শক এনামুল হক জানান, পুলিশ গিয়ে প্রথমে শ্রমিকদের অবরোধ তুলে নিতে বলে। তাতে তারা রাজি না হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।

শ্রমিকরা তখন ফের ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। তখন তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে কারখানা প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেন।

এনামুল আরও জানান, দুপুরে পুলিশ কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া মেটানোর বিষয়টি জানায়। তারা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা দুপুরে বাড়ি ফিরে যান।

কারখানার জিএম বুলবুল আহমেদ জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী জুন মা‌সের ৫ তারিখে বকেয়া বেতন ও বোনাস দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ট্যানারির ড্রামে শ্রমিকের মরদেহ
কিশোরী শ্রমিককে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে
৩ হাসপাতালে নিয়েও বাঁচানো গেল না শিশু জুনায়েদকে
ইটভাটায় শ্রমিক দম্পতিকে নির্যাতন
বিদেশগামী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Almond sesame paddy lost farmers have drowned in the flood waters

ঢলের পানিতে ডুবেছে বাদাম-তিল-ধান, দিশেহারা কৃষক

ঢলের পানিতে ডুবেছে বাদাম-তিল-ধান, দিশেহারা কৃষক ফরিদপুরে পানিতে ডুবে যাওয়া অপরিপক্ব বাদাম তুলছেন এক কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হযরত আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে বাদাম, তিল ও ধানের কিছু ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাদাম পরিপক্ব না হলেও খেতে পানি ঢোকার কারণে তুলে ফেলতে হচ্ছে; এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

উজানের ঢলের পানির প্রভাব পড়েছে ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চলেও। ঢলে বেড়েছে পদ্মা নদীর পানি। ফলে চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

কয়েকদিনের হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে কৃষকের বিভিন্ন ফসল ডুবে গিয়েছে। অন্য বছর সাধারণত নদীতে এই সময় স্বাভাবিক পানি থাকে। তাই কৃষকরা চরাঞ্চলে করেছিলেন বিভিন্ন ফসলের চাষ।

আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের বাদাম, তিল ও ধান ক্ষেত ডুবিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে কৃষকেরা অপরিপক্ব অনেক ফসল ঘরে তুলছেন।

পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যেই তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের শতাধিক একর বিভিন্ন জমির ফসল। এর মধ্যে বেশিরভাগই বাদাম ও তিল। তবে কয়েকদিনের মধ্যে যে ধান কেটে তোলার কথা ছিল কৃষকের, সেগুলোও ডুবেছে উজানের ঢলের পানিতে।

বুধবার গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ লিডার সালমা খাতুন জানান, গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বুধবার ৩ সেন্টিমিটার কমে ৬ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। যা মঙ্গলবার ছিল ৬ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার।

গত ১৯ মে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নদীতে পানি বৃদ্ধি পায় ৮০ সেন্টিমিটার, ২০ মে বৃদ্ধি পায় ৪৬ সেন্টিমিটার, ২১ মে ২৪ সেন্টিমিটার, ২২ মে ১১ সেন্টিমিটার, ২৩ মে ৮ সেন্টিমিটার ও ২৪ মে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মার নিম্নাঞ্চল ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পালডাঙ্গি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাদাম ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষক অপরিপক্ক বাদাম তুলছেন।

এ ছাড়া ধান ও তিলও তুলতে দেখা যায়। নদীর অন্য প্রান্তেও তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত।

পালডাঙ্গি এলাকার কৃষক রমজান আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি আট বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। ৪-৫ দিন পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে সব জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। আর মাত্র ১৫ দিন থাকলে বাদাম পরিপক্ব হয়ে যেতো। কিন্তু এখন বাদাম তুলে ফেলতে হচ্ছে। এই বাদাম এখনও পরিপক্ব হয়নি। তুলে নিয়ে গরু, ছাগলকে খাওয়াব। অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।’

সুফিয়া বেগম নামের একজন বলেন, ‘এক একর জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। আবাদ করতে খরচ হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা। এই বাদাম বিক্রি করেই আমাদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে, কিন্তু এ বছর সব শেষ হয়ে গেল। গত কয়েকদিন পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরিপক্ক বাদাম তুলে ফেলতে হচ্ছে। এই বাদাম গরুকে খাওয়ানো ছাড়া আর কিছুই করা যাবে না।’

নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন আরেক কৃষক শেখ জুলমত হোসেন। তিনি বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে বাদাম ও তিল আবাদ করেছিলাম। আর দশটা দিন থাকলে ভালোভাবে ফসল ঘরে উঠাতে পারতাম। পানি বৃদ্ধির ফলে এখনই তুলে ফেলতে হচ্ছে। শুধু আমাদের এলাকা নয়, চরাঞ্চলে যারা আবাদ করেছিল সবারই একই অস্থা হয়েছে।

মুরাদ হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম বাদাম চাষ। আর এই বাদাম চাষ করেই যা রোজগার হয় তা দিয়েই সারা বছরের সংসার চলে। কিন্তু হঠাৎ করে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়ে গেলো। অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা পেলে এই কৃষকেরা বেঁচে থাকতে পারবে।’

ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু বলেন, ‘হঠাৎ করেই উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকাই চরাঞ্চলবেষ্টিত। এখানে বসবাসরত বেশিরভাগ বাসিন্দারাই বাদাম চাষ করে। পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাদাম অপরিপক্ব অবস্থায় তুলে ফেলতে হচ্ছে। কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ওদের অন্যতম আয়ের উৎস এই বাদাম।’

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর পাঁচ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার ৩৭৪ হেক্টর জমিতে তিল ও ২২ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলে বাদাম ও তিল আবাদ হয়েছে বেশি।

মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ১০৯ হেক্টর জমি সম্পূর্ণভাবে এবং ১৯৪ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে পানিতে ডুবে গেছে।

অধিদপ্তর জানায়, পানি বাড়ায় সবচেয়ে বেশি ফসলি জমি ডুবেছে চরভদ্রাসন উপজেলায়। এই উপজেলার চার ইউনিয়নে ৫১ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৭ হেক্টর জমির চীনা বাদাম, ৭ হেক্টর বোরো ধান ও ১১ হেক্টর বোনা আউশ, ৮ হেক্টর ভুট্টা এবং ৮ হেক্টর জমির তিল ডুবে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হযরত আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে বাদাম, তিল ও ধানের কিছু ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাদাম পরিপক্ব না হলেও খেতে পানি ঢোকার কারণে তুলে ফেলতে হচ্ছে; এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারিভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করার আশ্বাস দেন তিনি।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, ‘পদ্মার পানি আজ থেকে কমতে শুরু করেছে। এর আগে ১০ দিনে দুই মিটারের বেশি পানি বেড়েছে।’

আরও পড়ুন:
ট্রেনে কাটা পড়ে কোল কৃষকের মৃত্যু
৭২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা
তিড়িং পোকা কাটছে পাতা-ডগা
ঘূর্ণিঝড় আসানি: আধাপাকা ধান কাটছেন চাষি
আগুনে পুড়ল কৃষকের সম্বল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Deputy Inspector General of Factory arrested with bribe money

‘ঘুষের’ টাকাসহ কলকারখানার উপমহাপরিদর্শক আটক

‘ঘুষের’ টাকাসহ কলকারখানার উপমহাপরিদর্শক আটক শহরের বালুয়াডাঙ্গার অফিসে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে দুদক। ছবি: নিউজবাংলা
সমন্বিত জেলা দুদকের উপপরিচালক আহসানুল কবির পলাশ বলেন, ‘ভুক্তভগি রাসেল এ বিষয়ে ২৩ মে দিনাজপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। বুধবার তিনি ৮০ হাজার ঘুষের টাকাসহ কাগজপত্র মোস্তাফিজুরকে দেন। দুপুরে অভিযান চালিয়ে টাকাসহ আমরা তাকে আটক করি। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

দিনাজপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘুষের ৮০ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়েছে।

শহরের বালুয়াডাঙ্গার অফিসে বুধবার বিকেল ৪টার পর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সমন্বিত জেলা দুদকের উপপরিচালক আহসানুল কবির পলাশ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ীতে অবস্থিত ইশান এগ্রো অ্যান্ড ফুডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. রাশেদুজ্জামান রাসেল গত ২৫ এপ্রিল দিনাজপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে লাইসেন্স নবায়ন করতে যান। তখন উপমহাপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান লাইসেন্স নবায়নের জন্য তার কাছে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। রাসেলকে ২৭ এপ্রিল টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন তিনি।

‘এ সময়ের মধ্যে টাকা না দেয়ায় রাসেলকে ফোন করে উপমহাপরিদর্শক জানান, কারখানার কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ ও ম্যানেজার আশরাফুলের নামে মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা থেকে রেহাই পেতে হলে ২৩ মে টাকাসহ অফিসে আসতে হবে। এদিন সকালে কাগজপত্র নিয়ে গেলে রাসেলের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর।’

দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ঘটনায় এদিন রাসেল দিনাজপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। বুধবার তিনি ৮০ হাজার ঘুষের টাকাসহ কাগজপত্র মোস্তাফিজুরকে দেন। দুপুরে অভিযান চালিয়ে টাকাসহ আমরা তাকে আটক করি। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক
সুন্দরবনের অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় ৭ জেলে আটক
ট্রাকচাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনায় চালক আটক
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য আটক
ট্রাকচাপায় অটোরিকশার চালক নিহত

মন্তব্য

p
উপরে