× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
GM Quader wishes Eid to the Prime Minister
hear-news
player

প্রধানমন্ত্রীকে জি এম কাদেরের ঈদ শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রীকে-জি-এম-কাদেরের-ঈদ-শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধদলীয় উপনেতা জি এম কাদের।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ আবু জাফর রাজুর হাতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ঈদ শুভেচ্ছা কার্ডটি পৌঁছে দেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের।

বুধবার সকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেয়া হয়। দলের দপ্তর সম্পাদক-২ এম এ রাজ্জাক খান এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ আবু জাফর রাজুর হাতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ঈদ শুভেচ্ছা কার্ডটি পৌঁছে দেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম।

আরও পড়ুন:
দলের দালালদের ক্ষমা করা হবে না: জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির নেতা অস্ত্র-গুলিসহ আটক
পদক বিক্রি করছেন জিএম কাদের, অভিযোগ বিদিশার
দ্রব্যমূল্য না কমলে দুর্বার আন্দোলন: জাতীয় পার্টি
‘সরকার চাইলেই সুষ্ঠু ভোট, না চাইলে নয়’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
It is wrong not to have Padma Bridge in the name of Sheikh Hasina Bridges Minister

পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার নামে না হওয়া অন্যায়: সেতুমন্ত্রী

পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার নামে না হওয়া অন্যায়: সেতুমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ চায় পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে করা হোক, আমিও সেই দাবি জাতীয় সংসদে করেছি। আজকেও সে দাবি জানাচ্ছি।’

পদ্মা সেতুর নাম যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে না হয়, তাহলে তার সঙ্গে অন্যায় করা হবে বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ চায় পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে করা হোক, আমিও সেই দাবি জাতীয় সংসদে করেছি। আজকেও সে দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তা চান না।’

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আবারও অনুরোধ জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা, দৃঢ়তা, দূরদর্শীতা এবং দক্ষ নেতৃত্বে পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান।’

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তারিখ নির্ধারণ করবেন শেখ হাসিনা, আপনারা অধৈর্য হবেন না।’

গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সফল কূটনীতিক ও জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে সব প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে, দেশের মানুষ তার সঙ্গে আছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাহজান খান, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

আরও পড়ুন:
জেগে উঠুক প্রতিটি মানবহৃদয়: ওবায়দুল কাদের
জনগণ কষ্ট পায়নি বলে বিরোধী দল ব্যথা পাচ্ছে: কাদের
সারা দেশেই সড়কের অবস্থা ভালো: ওবায়দুল কাদের
অতীতের চেয়ে সড়ক অনেক ভালো: কাদের
এখনও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে আছে: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Left Alliance will continue without Saiful Saki

সাইফুল-সাকিকে ছাড়াই চলবে বাম জোট

সাইফুল-সাকিকে ছাড়াই চলবে বাম জোট বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক (বাঁয়ে) ও গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয় জোনায়েদ সাকি। ছবি: সংগৃহীত
বাম জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বাম জোট তাদের মতো এগিয়ে যাবে, এখানে একসঙ্গে দুই জোটে কেউ থাকতে পারবে না।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতটি রাজনৈতিক দল মিলে হচ্ছে নতুন জোট। এতে রয়েছে জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণসংহতি আন্দোলন।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও নেতারা এই জোটকে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ বলছেন। আর এই জোট গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভাঙনের সুর বাজছে বাম গণতান্ত্রিক জোটে।

বাম জোটের অন্যতম দুই শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন যোগ দিচ্ছে নতুন জোটে। সে ক্ষেত্রে দল দুটির একসঙ্গে দুই জোটে থাকার সুযোগ নেই- এমনটাই বলছেন বাম জোটের অন্য শরিক দলের নেতারা।

তারা বলছেন, আগামীতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনকে ছাড়াই চলবে বাম জোট।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা যেতে চাচ্ছে বা অন্য একটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে তাদের নিয়ে আমরা বসব। তাদের কথা শুনব। আমরা এটা বলছি, একসঙ্গে তো দুটো জোটে থাকা যায় না।

‘এ বিষয়টি আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা ফয়সালা করব। সামনে আমাদের (বাম জোটের) একটা বৈঠক আছে তখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

বাম জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বাম জোট তাদের মতো এগিয়ে যাবে, এখানে একসঙ্গে দুই জোটে কেউ থাকতে পারবে না।’

তবে নতুন জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা জানালেও বাম জোট ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারছেন না বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের বর্তমান বাস্তবতায় আমরা বিশেষ করে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে একটা নির্বাচনকালীন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা একটা জাতীয় মঞ্চ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি।

‘সেটা নিয়ে একটা আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো ঘোষণা দিইনি। কিছু প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা হয়েছে, কিছুটা বোঝাপড়া তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। বিএনপি বা বিএনপিকেন্দ্রিক যে মেরুকরণ, বলতে পারেন ইসলামি দলগুলোর বাইরে বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গের যৌথ জাতীয় একটা প্ল্যাটফর্ম- এটারই অংশ হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চ।’

এই জোট গঠনের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগটা আকস্মিক নয়, অনেক দিন ধরেই চলছে। লেখক মুস্তাক মারা যাওয়ার পরে আমরা একটা নাগরিক পদযাত্রা করেছিলাম, তার পর থেকেই অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা চলছে। ২৩ তারিখে আমাদের সাতটা দলের (গণতন্ত্র মঞ্চের অন্তর্ভুক্ত) পরবর্তী সভা আছে, সেখানেই হয়তো এটার নামকরণ বা আমরা কীভাবে আত্মপ্রকাশ করব সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।’

সে ক্ষেত্রে বাম জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন কি না জানতে সাইফুল হক বলেন, ‘বাম জোটের শুরু থেকেই তো আমরা, আমাদেরকে কেন্দ্র করেই… বাম জোটকে আমরা বলেছি ওদের সঙ্গে (গণতন্ত্র মঞ্চ) জোট বা জোটের শরিক দলগুলো অংশ নিতে পারে। আমরা তাদেরকে জানিয়েছি এটি বাম জোটের বা অন্য কোনো জোটের প্যারালাল কোনো জোট না।

‘যেহেতু এটা একটা ন্যাশনাল মঞ্চ ফলে এখানে লেফট, প্রগেসিভ, ডেমোক্রেটিক দল ও সংগঠন আসতে পারে। আর এটা (গণতন্ত্র মঞ্চ) ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জোট হিসেবে কখনও ডেভেলপ করলে আমরা নিশ্চয় একসঙ্গে দুটো জোট প্র্যাকটিস করব না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর ভূমিকা, অ্যাটিটিউড সেটা দেখে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব। সামনে বাম জোটের একটা বৈঠক ডাকা হয়েছে, অনুমান করছি সেখানে এটা নিয়েও আলোচনা হবে।’

অন্যদিকে বাম জোটকে টিকিয়ে রেখেই আরেকটি বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার পক্ষে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাম জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে আমরা বহুদিন ধরেই প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমাদের যথাসম্ভব বৃহত্তর ঐক্য করা দরকার।

‘সেই বৃহত্তর ঐক্যের ক্ষেত্রে আমাদের ভিত্তিটা হচ্ছে, যারা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা অর্থাৎ স্থায়ীভাবে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের এবং সংবিধানের সংস্কারসহ একটা স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি বিষয়ে একমত হবে, তাদের সঙ্গে আরেকটু বৃহত্তর মঞ্চ গড়ে তোলা দরকার। বিএনপিসহ যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য লড়াই করছে, তাদের সঙ্গেও আমাদের যুগপৎ ধারায় কাজ করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, বাম জোটকে টিকিয়ে রেখেই ভোটাধিকার এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কর্মসূচির বিষয়ে যারা একমত হবেন, তাদের সঙ্গে আমাদের আরেকটি বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমরা বাম জোটের সব সংগঠনকেই একসঙ্গে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার জন্য কথা বলছি। এ আলোচনা এখনও চলছে বাম জোটের মধ্যে।’

বাম জোটের বাকি সংগঠনগুলো কেবল বাম ঐক্যের মধ্যেই থাকতে চায় উল্লেখ করে সাকি বলেন, ‘আমরা বলেছি কেবল বাম ঐক্যই ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট কৌশল নয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে রণকৌশল হচ্ছে যথাসম্ভব বৃহত্তর ঐক্য করা। সে ক্ষেত্রে আমরা একটা ভিত্তি হিসেবে বলেছি, যারা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কর্মসূচিতে একমত তাদের নিয়ে একটা মঞ্চ করা যেতে পারে।

‘সাতটি দলের সঙ্গে বৈঠক আমাদের প্রাথমিক আলোচনার সূত্রপাত। এ ধরনের বৃহত্তর একটা মঞ্চ গড়ে তোলা যায় কি না সেই লক্ষ্যে এই আলোচনা। আমরা তাদের (বাম জোট) প্রস্তাব দিয়েছি বিবেচনা করার জন্য। আবার তাদের দিক থেকেও আমাদের দিকে প্রস্তাব এসেছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

বৈঠকে ফলপ্রসূ না হলে গণসংহতি আন্দোলন বাম জোটে থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা আগে আলোচনায় বসি, তারপর দেখা যাক কী দাঁড়াচ্ছে। আর আমাদের দলেও আলোচনার বিষয় আছে। সামনে আমাদের জাতীয় পরিষদের বৈঠক আছে, সেখানে চূড়ান্ত আলোচনা করে আমাদের দল সিদ্ধান্ত নেবে।’

৯টি দল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বাম জোট। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন বাদেও এই জোটে আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাসদ- মার্কসবাদী, ওয়ার্কার্স পার্টি- মার্কসবাদী ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।

আরও পড়ুন:
দেশ ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে গেছে: মোশাররফ
রাজনৈতিক সচেতনতা ও জনগণের প্রতি দায় 
প্রজন্মের সামনে রাজনৈতিক শিক্ষাদীক্ষা
অগণতান্ত্রিক ঝড়ে টালমাটাল ইমরান খানের গদি
ছলচাতুরিতে সরকারের রক্ষা হবে না: নজরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Criticism like Arbachin is not acceptable Sheikh Hasina

অর্বাচীনের মতো সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়: শেখ হাসিনা

অর্বাচীনের মতো সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়: শেখ হাসিনা ঢাকার শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় গণভবনপ্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
তারা অর্বাচীনের মতোই একেকটা কথা বলবে, আর মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, এটা কিন্তু গ্রহণ করা যায় না।… যারা এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলবে, আমার মনে হয় তাদের বাড়ির বিদ্যুৎগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত। তারা জেনারেটর চালিয়ে চলুক। সেটি বোধহয় ভালো। তাহলে তারা বুঝবে, বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে কি না।

পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমালোচকদের ‘অর্বাচীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মিথ্যে দিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্তের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।’

এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সমালোচকদের দরকার না থাকলেও দেশের মানুষের জন্য দরকার আছে।’

যারা বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করেন তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা উচিত বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ধারণা, ‘এর মধ্য দিয়ে সমালোচকরা বুঝতে পারবেন বিদ্যুৎ কতটা প্রয়োজনীয়।’

ঢাকার শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন। গণভবনপ্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভার সভাপতিত্ব করেন সরকারপ্রধান।

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে ছড়ানো নানা কথার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের সমালোচনা ৪০ হাজার কোটি টাকা নাকি আমরা ধার করেছি। যারা এই কথাগুলো বলছেন, তাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পদ্মা সেতুর একটি টাকাও কারও কাছ থেকে আমরা ঋণ নিইনি, ধার করিনি। এটা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে। এটা তাদের জানা উচিত।

‘একেবারে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা দিয়ে আমরা তৈরি করছি। তারা অর্বাচীনের মতোই একেকটা কথা বলবে, আর মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, এটা কিন্তু গ্রহণ করা যায় না।’

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক কথা। তারপর আসল পদ্মা সেতুর রেললাইন ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে নির্মাণ করার কী দরকার ছিল? কারা চলবে এ রেললাইনে।

‘আমি অপেক্ষা করছি, রেললাইন যখন চালু হবে তখন তারা চলে কি না। এই মানুষগুলোকে আমার মনে হয় ধরে নিয়ে দেখানো দরকার যে রেলসেতুতে মানুষ চলে কি না।’

পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের অর্থনীতি বেগবান হবে বলেও মনে করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এই একটা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের যে জেলাগুলো, অঞ্চলগুলো আছে, সেখানে অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা আসবে, এই মানুষগুলোর চলাচল, পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে- সেটা তারা একবার ভেবে দেখছেন না।

‘মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। আর এখন রেলে করে তারা চলে আসবেন। আর এই রেলসেতু তো মোংলা পোর্ট পর্যন্ত সংযুক্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে পায়রা পোর্ট যখন আমরা করব, পায়রা পোর্ট পর্যন্ত যাতে সংযুক্ত হয় তার ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে খুব বেশি প্রয়োজন নেই বলে আমরা একটু ধীর গতিতে যাচ্ছি।’

রূপপুর নিয়ে সমালোচনা কেন

সবচেয়ে বেশি টাকার সরকারি প্রকল্প রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন শেখ হাসিনা।

বলেন, ‘এটা আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল যে আমাদের করতেই হবে। আজকে আমরা সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন যখন শুরু হবে, সেটা দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতি আরও সচল হবে। এটা তো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটা নিয়ে এত সমালোচনা কেন। এটা নিয়ে কারা কথা বলছেন?

‘যারা এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলবে, আমার মনে হয় তাদের বাড়ির বিদ্যুৎগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত। তারা জেনারেটর চালিয়ে চলুক। সেটি বোধহয় ভালো। তাহলে তারা বুঝবে, বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে কি না।

গরিব মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ গেছে এটা সমালোচকদের পছন্দ নয় কি না- এই প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তারাই খাবেন ভালো থাকবেন আর আমার গরিব মানুষগুলো ধুঁকে ধুঁকে মরবেন এটাই তারা চায়?’

স্যাটেলাইট দেশবাসীর প্রয়োজন আছে

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের সময়ও নানা সমালোচনা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তখনও তারা বলেছে এটার কী দরকার ছিল? যা করবেন তাতে বলবে, এটার কী দরকার ছিল? তাদের জন্য দরকার না থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের জন্য দরকার আছে।

‘তবে আমি মনে করি, আমাদের করা সব সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারও করবেন, আবার সমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্তও করবেন, এটা বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু জানে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কতগুলো নাম আর চরিত্র আছে, এদেরকে আমরা চিনি। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে।’

‘মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়েই ফিরেছি’

শেখ হাসিনা এই কথাগুলো বলেন তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৪১ বছর পূর্তির দিন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি দেশে ফেরেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্যে এই বিষয়টিও উঠে আসে। বলেন, ‘ফিরে আসি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে যে জাতির জন্য আমার বাবা সারাটা জীবন কষ্ট করে গেছেন, জেল খেটেছেন…আমরা তো পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। যে বয়সে ছেলেমেয়ে বাবার হাত ধরেই স্কুলে যায়, সেই সুযোগ তো আমাদের হয়নি।’

বাবার স্মৃতিচারণা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমরা জ্ঞান হওয়ার পর থেকে জানি আমার আব্বা জেলে। তারপর হয়তো এক বছর, দেড় বছর, তারপর আবার জেলে। জেলখানায় দেখা। এইভাবেই আমাদের জীবন কেটেছে। কিন্তু তিনি যা করেছিলেন এ দেশের মানুষের জন্য, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য।’

যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো নিশ্চিত করতে চান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন বাংলার মাটিতে ফিরে আসি, আমি এসেছি একটা লক্ষ্যই সামনে নিয়ে, এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। কারণ এটিই ছিল আমার বাবার স্বপ্ন। আমি আসার পর সারা বাংলাদেশে ঘুরেছি। ঘুরতে চেয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই কিন্তু আমি পেয়েছি বাংলাদেশের সব মানুষের ভালোবাসা, আস্থা বিশ্বাস।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব মন্দার শঙ্কায় উন্নয়ন প্রকল্পও বেছে বেছে
৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গৌতম ঘোষ
প্রধানমন্ত্রী ও পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি
উন্নতি দেখতে গ্রাম ঘুরে আসুন, সমালোচকদের প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
No one has role in agriculture except Zia and Khaleda Fakhrul

কৃষিতে জিয়া ও খালেদা ছাড়া কারও ভূমিকা নেই: ফখরুল

কৃষিতে জিয়া ও খালেদা ছাড়া কারও ভূমিকা নেই: ফখরুল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
‘দেশের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষ এখনও সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে তেমন কোনো উদ্যোগ বা তৎপরতা নেই।’

কৃষির উন্নয়নে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং পরে বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য কেউ কার্যকর ভূমিকা রাখেনি বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেই সব কাজগুলোতে হাত দেয়, যেখানে তাদের নিজস্ব মুনাফা হয়, দুর্নীতি হয়, কমিশন পায়।’

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘দেশের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষ এখনও সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে তেমন কোনো উদ্যোগ বা তৎপরতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রথম দিকে কৃষকদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করেছে। সার দেয়ার জন্য সেই কার্ডের ব্যবস্থা করলেও কৃষকদের নিকট কোনো সার পৌঁছায়নি।’

সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না বলেও মনে করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলু চাষিরা তাদের আলুর ন্যূনতম মূল্য না পেয়ে রাস্তায় আলু ফেলে প্রতিবাদ জানানোর খবরও কেউ ভুলে যায়নি। এর আগে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে পাকা ধানের জমিতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।’

হাওরে বাঁধের ভাঙনের নেপথ্যে দুর্নীতি

সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধে ভাঙনের কারণ দুর্নীতি বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। বলেন, ‘চলতি বছরে সুনামগঞ্জ জেলায় বাঁধ নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ ছিল ১২২ কোটি টাকা এবং গত ৫ বছরে এই টাকার পরিমাণ ছিল ৬২১ কোটি টাকা, যা বাঁধ রক্ষায় তেমন কোনো কাজে আসেনি। বরং এই বরাদ্দকৃত টাকা ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই টাকা হরিলুট করেছেন বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতার। বলেন, ‘যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে তা এতই দুর্বল যে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার পানির চাপ সামলাতে পারেনি।’

প্রতি বছর এভাবে বাঁধ নির্মাণের নামে হাওর অঞ্চলে সরকারি অর্থ লুটের মহোৎসব চলে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘এর ফলে কৃষকরা হয় সর্বস্বান্ত, অন্যদিকে সরকারি দলের লোকজন ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা হয় আঙুল ফুলে কলাগাছ।’

কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সুপারিশ

সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদের দুর্দশা লাঘব ও শস্য নিরাপত্তা রক্ষায় কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

সুপারিশগুলো হলো:

১। হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করতে হবে। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

২। বছর বছর বাঁধ নির্মাণ না করে সিমেন্ট ও বালু দিয়ে তৈরি করা ব্লক ফেলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

৩। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনা সুদে বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪। ঋণগ্রস্ত কৃষকের ঋণের সুদ মওকুফ এবং স্বাভাবিক অবস্থা না ফেরা পর্যন্ত ঋণের কিস্তি নেয়া বন্ধ করতে হবে।

৫। হাওর অঞ্চলে শস্যবিমা চালু করতে হবে।

৬। হাওর অঞ্চলের কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য গণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

৭। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৮। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম ও মীর সরাফত আলী সপু।

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি ফখরুলের
আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে: মির্জা ফখরুল
বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিয়ে ফখরুল শ্রীলঙ্কায়: কাদের
মনগড়া, আষাঢ়ে গল্পে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা: কাদের
পদত্যাগ করবেন ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে: কাদেরকে ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Today is the day of Sheikh Hasinas return to her homeland

শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরার দিন আজ

শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরার দিন আজ ১৯৮১ সালের ১৭ মে ঢাকায় পা রাখার পর জনতার মাঝে শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশের মাটিতে পা রাখেন শেখ হাসিনা। বিকেল ৪টায় কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে অবতরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বহনকারী বিমান। তাকে এক নজর দেখা ও বরণ করে নিতে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত সড়ক পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

আজ ১৭ মে। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর স্বামী-সন্তানসহ ছয় বছর প্রবাসে কাটিয়ে ১৯৮১ সালের আজকের দিনটিতে দেশে ফিরতে সক্ষম হন তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা।

১৯৮১ সালে প্রবাসে থাকতেই দলের নেতারা বঙ্গবন্ধুকন্যাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করেন। দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করা হয় জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ কন্যার হাতে।

বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বকে ভয় পেতে শুরু করে ঘাতক গোষ্ঠী। শেখ হাসিনা যেন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে না পারেন সে জন্য নানামুখী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান। কিন্তু সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্বদেশভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা।

দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে শিশুসন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়কে ছোট বোন শেখ রেহানার কাছে রেখে এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। এ দেশে গণতন্ত্র আর প্রগতিশীলতার রাজনীতি ফেরাতে এবং একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে জীবনের ঝুঁকি নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

দিনটি ছিল রোববার। রাজনীতির অঙ্গনের মতোই প্রকৃতিও ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। কালবৈশাখীর হাওয়া বইছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল বেগে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগও সেদিন রুখতে পারেনি গণতন্ত্রকামী লাখো মানুষের মিছিল। নগর-বন্দরের পাশাপাশি গ্রাম-গঞ্জ থেকেও মুক্তিপাগল জনতা ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়। উদ্দেশ্য তাদের একমাত্র আশার প্রদীপ বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনাকে বরণ করে নেয়া। মুষলধারার বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে তারা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিল নেত্রীর আগমনের প্রতীক্ষায়।

দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশের মাটিতে পা রাখেন শেখ হাসিনা। বিকেল ৪টায় কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে অবতরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বহনকারী বিমান। তাকে এক নজর দেখা ও বরণ করে নিতে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত সড়ক পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

দেশের মাটিতে পা দিয়ে লাখো মানুষের সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি; বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে আমার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’

বঙ্গবন্ধুকন্যার আগমন উপলক্ষে স্বাধীনতার অমর স্লোগান ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ঢাকার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্র নিনাদে ঘোষিত হয়, ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম- পিতৃহত্যার বদলা নেব।’ একই সঙ্গে যেন মুষল ধারার বর্ষণে ধুয়ে-মুছে যাচ্ছিল বাংলার মাটিতে পিতৃহত্যার জমাট বাঁধা পাপ আর কলঙ্ক চিহ্ন।

দেশে প্রত্যাবর্তনের পর নেতারা তার হাতে তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পতাকা। এরপর থেকে শেখ হাসিনা দলীয় কাউন্সিলে বারবার নির্বাচিত হয়ে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। যথাযথ প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। চলছে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তার অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনো কিছুই তাকে অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেনি। শত প্রতিকূলতাতেও হতোদ্যম হননি তিনি।

বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বারবার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন। আবির্ভূত হয়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা রূপে। আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তার নেতৃত্বে দেশে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছে দেশ। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। তলাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি পুরোপুরি সফল একজন মা। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আজ তথ্য-প্রযুক্তিবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একজন অটিজম বিশেষজ্ঞ। দেশের পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায়ও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

কর্মসূচি : শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী লীগ। তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ে হবে বিশেষ প্রার্থনা।

এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন রয়েছে। জাতীয় নেতারা ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা এই সবায় বক্তব্য দেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় দলীয় সভাপতির স্বদেশ ফেরার দিনটি উদযাপনের জন্য দলের সব স্তরের নেতা-কর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিমান্ডে
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: মুফতি হান্নানের সঙ্গে বোমা বানাতেন আজিজুল
৭৬ কেজি বোমা: প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টায় ফাঁসির আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হসিনার নামে সড়ক হচ্ছে চট্টগ্রামে
শেখ হাসিনা-ম্যাজিকে বদলে যাওয়া ১৩ বছর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
GM Quader demands punishment for those who helped in money laundering

টাকা পাচারে সহায়তাকারীদের শাস্তি দাবি জি এম কাদেরের

টাকা পাচারে সহায়তাকারীদের শাস্তি দাবি জি এম কাদেরের জি এম কাদের। ফাইল ছবি
‘দেশের মানুষ জানতে চায় কারা দেশের টাকা পাচারে সহযোগিতা করছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে অনীহা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

দেশের টাকা পাচারকারী ও পাচারে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধানের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

সোমবার জি এম কাদেরের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালীর পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ যেন পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য বলে মন্তব্য করেন জাপা চেয়ারম্যান। বলেন, ‘পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে, কখনই পাচার রোধ করা সম্ভব হবে না।’

বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে শনিবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। ওই প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতি দেন জি এম কাদের।

তিনি বলেন, ‘কারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছে তাদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। দেশের মানুষ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চায়।

‘দেশের মানুষ জানতে চায় কারা দেশের টাকা পাচারে সহযোগিতা করছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে অনীহা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘বছরে গড়ে দেশ থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে দেশ থেকে পাচার হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।’

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, আরব আমিরাত ও থাইল্যান্ডসহ ১০টি দেশে পাচার হচ্ছে। দেশের মানুষ জানতে চাচ্ছে, কীভাবে দায়িত্বশীলদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিন, কূটনৈতিকদের জি এম কাদের
প্রধানমন্ত্রীকে জিএম কাদেরের নববর্ষের শুভেচ্ছা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আস্থা নেই জাতীয় পার্টির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The information minister knows how to put BNP leaders in the hole

বিএনপি নেতাদের গর্তে ঢোকানোর কায়দা জানেন তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি নেতাদের গর্তে ঢোকানোর কায়দা জানেন তথ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার বক্তব্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা ইদানীং উঁচু গলায় কথা বলছেন। প্রেস ক্লাবের সামনে বড় বড় কথা বলছেন। নিজেরা সমাবেশ করে মারামারি করছেন। আমরা এখনো মাঠে নামি নাই; কিন্তু যদি বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হয় আমরা মাঠে নামব। যারা উঁচু গলায় কথা বলেন, কী হলে তারা গর্তে ঢুকবেন, সেটা আমরা ভালো করেই জানি।’

বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা ইদানীং উঁচু গলায় কথা বলছেন। প্রেস ক্লাবের সামনে বড় বড় কথা বলছেন। নিজেরা সমাবেশ করে মারামারি করছেন। আমরা এখনো মাঠে নামি নাই; কিন্তু যদি বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হয় আমরা মাঠে নামব। যারা উঁচু গলায় কথা বলেন, কী হলে তারা গর্তে ঢুকবেন, সেটা আমরা ভালো করেই জানি।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটির আয়োজনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সোমবার তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় জাদুঘরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মিলনায়তনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সে সময় ছোট বোন শেখ রেহানাসহ জার্মানিতে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণেই বেঁচে যান তারা।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বিকেলে ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে পৌঁছান। তার আগে বিদেশে থাকা অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের এক দিন আগেই এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটি।

কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সাংবাদিক ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাস সিংহ রায় প্রমুখ।

সভায় তথ্যমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের টাকা পাচার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘পি কে হালদারের টাকা পাচারের ঘটনা এবং গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি এ নিয়ে অনেক কথা বলছেন। কিন্তু তিনি নিজে তো চোরদের মুখপাত্র। কারণ তার দলের চেয়ারম্যান এতিমের টাকা লোপাটের দায়ে দণ্ডিত আসামি। তিনি কালো টাকাও সাদা করেছেন।

‘মির্জা ফখরুলের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান টাকা পাচার ও লোপাটের আরেক দণ্ডিত আসামি। তার টাকা পাচারের বিষয়ে এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। তারেক রহমানের ভাই এবং খালেদা জিয়ার আরেক ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর টাকা পাচারের ঘটনা সিঙ্গাপুরে উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। আর তাদের দল বিএনপির আমলে দেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। যার অর্থ দাঁড়ায়, তারা বিশ্বচোর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।’

পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচলের নৈতিক অধিকার বিএনপি নেতাদের আছে কি না তা ভেবে দেখতে বলেন আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘যখন বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে টাকা দিল না, বিএনপি নেতারা নানা সমালোচনা করল। কিন্তু কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংক হেরে গিয়ে প্রমাণিত হলো দুর্নীতি হয়নি। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের টাকায় সেতু করার ঘোষণা দেয়ার পর বিএনপি নেতারা বলল, কাজ শুরু করতে পারবে, কিন্তু শেষ করতে পারবে না।

‘আল্লাহর অশেষ কৃপায় পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায়। সেই সেতুর ওপর দিয়ে বিএনপি নেতারা যাতায়াতের আগে যেন জনগণের কাছে মাফ চেয়ে নেয়।’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন বলেই এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী বলেই দেশ আজ সমৃদ্ধির পথে।’

জাফর ওয়াজেদ বলেন, ‘পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাতারাতি সব পাল্টে গেল। তখন জেলায় জেলায় বাকশালের গভর্নররা ছিলেন। সংসদে এমপিরা ছিলেন। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করল না। বঙ্গবন্ধুর কন্যারাই এর প্রথম প্রতিবাদ করলেন। বিচারের দাবিতে দেশ-বিদেশে জনমত গড়ে তোলেন। অবশেষে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দীর্ঘ সংগ্রামের পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেন। সে সঙ্গে তিনি দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ শুরু করেন। যার কারণে আজ মানুষের আয় বেড়েছে, অর্থনৈতিক সামর্থ্য বেড়েছে। সার্বিকভাবে দেশ ও জনগণের কল্যাণ হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
‘চিকিৎসকরা সচেষ্ট থাকলে বিদেশ থেকে চিকিৎসা নিতে আসবে মানুষ’
আরএসএফের মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রত্যাখ্যান করছি: তথ্যমন্ত্রী
খোলা জিপে পাশে স্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
দুর্বৃত্তদের জায়গা আ.লীগে নেই: তথ্যমন্ত্রী
অনেক সাংবাদিক সচিবের চেয়েও পাওয়ারফুল: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

উপরে