× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Service is not profit in government institutions Prime Minister
google_news print-icon

সরকারি প্রতিষ্ঠানে লাভ নয়, সেবাটা মুখ্য: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি-প্রতিষ্ঠানে-লাভ-নয়-সেবাটা-মুখ্য-প্রধানমন্ত্রী
কমলাপুর রেল স্টেশনে বুধবার সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর এবং ৪৬টি লোকোমেটিভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের সেবা করাটাই হচ্ছে আমাদের কাজ। যে কারণে বিআরটিসি একসময় বলা হয়েছিল বন্ধ করে দেয়া হবে, কারণ ওটা লাভজনক না। সরকারি প্রতিষ্ঠান কতটুকু লাভ করল বা কতটুকু লাভ করল না সেটার থেকে বড় কথা, মানুষের সেবা কতটুকু দিতে পারল। মানুষ কতটুকু সেবা পেল। মানুষের জীবনমান কতটা সহজ হলো। সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।’

সরকারি প্রতিষ্ঠান কতটা লাভজনক সেটাকে বড় করে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ কতটা সেবা পেল, জীবনমান কতটা উন্নত ও সহজ হলো সেটাই মুখ্য মনে করেন তিনি।

তাই বিশ্বব্যাংক বা বিদেশি পরামর্শকদের কথা শুনে বিএনপি সরকার বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিটিআরসি) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিতে চাইলেও আওয়ামী লীগ সরকার তা করেনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে বুধবার সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর এবং ৪৬টি লোকোমোটিভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের সেবা করাটাই হচ্ছে আমাদের কাজ। যে কারণে বিআরটিসি একসময় বলা হয়েছিল বন্ধ করে দেয়া হবে, কারণ ওটা লাভজনক না। সরকারি প্রতিষ্ঠান কতটুকু লাভ করল বা কতটুকু লাভ করল না সেটার থেকে বড় কথা, মানুষের সেবা কতটুকু দিতে পারল। মানুষ কতটুকু সেবা পেল। মানুষের জীবনমান কতটা সহজ হলো। সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।’

আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করলে সব প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব জায়গায় সব কিছু যে লাভবান হবে, সেটা না। কিন্তু লাভবান করা যায়। আমরা বিআরটিসিকেও যেমন লাভবান করেছি, আজকে রেল যেটাকে অলাভজনক বলে বন্ধ করতে বলা হয়েছিল এবং বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি সরকার, আজকে সেটা চালু করে এটাও প্রমাণ করেছি রেলকেও লাভবান করা যেতে পারে এবং করা যায়। রেল আজকে লাভবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

রেল খাতে জনবলের অভাব রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই লোকবল আমাদের বাড়াতে হবে। তার জন্য ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটা দ্রুত কার্যকর করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এখানে লোকবল আরও ভালোভাবে দিতে পারলে পরে লাইনগুলো আরও সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন নতুন যে লাইনগুলো তৈরি করছি, সেগুলো চালু হয়ে গেলে আমি মনে করি এটা আরও লাভবান হবে।’

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় রেলকে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘বিআরটিসি বন্ধ করার পরিকল্পনা, রেল বন্ধ করার পরিকল্পনা- এসব কিছুর পরামর্শ দিয়েছিল কিন্তু ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে রেলের ১০ হাজার কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অনেক রেললাইন বন্ধ করে দেয়া হয়। রেল আসলে মুখ থুবড়ে পড়ে।’

রেল খাতের উন্নয়নে ২০১১ সালে রেল মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বাংলাদেশে রেল যোগাযোগকে আরও বর্ধিত করা, যে সমস্ত অঞ্চলে রেল নেই সেখানেও রেল লাইন নিয়ে যাওয়া এবং রেলের ব্যাপক সম্প্রসারণে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। যার ফলে আজকে যে কোন দুর্যোগেও রেল আমাদের মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

দেশের মানুষের যাতায়াত সুগম করার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনকে সহজ করতে চান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একেক অঞ্চলে অনেক পণ্য উৎপাদন হয়। সেগুলো সহজলভ্য করে দেয়া। বাজার তৈরির সুযোগ করে দেয়া। যাতে আমাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত হবে এবং আমাদের মানুষ লাভবান হবে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা সেই পদক্ষেপ নিয়েছি।’

ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নৌ, সড়ক, আকাশপথের চেয়ে রেলপথকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তিনি। বলেন, ‘রেল এর মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সব থেকে বেশি পণ্য পরিবহন করতে পারে রেল। আবার মানুষ যাতায়াত করতে পারে রেলে অল্প খরচে।’

‘আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস করেছিল বিএনপি’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মর্যাদা ধরে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তবে মাঝে মাঝে বিপত্তি আসে। এটা হচ্ছে দুঃখজনক।’

২০১৩-১৪ সালের বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের নামে সহিংসতার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যখন আমরা নতুন নতুন কোচ কিনলাম, আমরা নতুন নতুন লোকোমোটিভ কিনলাম, ইঞ্জিন কিনলাম সেই সময় বিএনপি শুরু করল অগ্নিসন্ত্রাস। সব থেকে দুঃখজনক এই যে নতুন রেলগুলো যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে, সেই রেলে আগুন দেয়া হলো।…রেল লাইন, রেল কোচ, ইঞ্জিন বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল। এটা নাকি তাদের আন্দোলন!’

আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি জানিনা মানুষকে পুড়িয়ে মারা বা চলন্ত বাস, গাড়ি অথবা রেলে আগুন দিয়ে, লঞ্চে আগুন দিয়ে, এটা কোন ধরনের আন্দোলন। এটাতো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’

বিএনপি দেশের মানুষের কল্যাণে কখনও কিছু করেনি বলেও জানান সরকারপ্রধান। নিজের কথার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘তারা তো ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে ক্ষমতায় বসে প্রতিষ্ঠিত পার্টি। জনগণের মধ্যে থেকে তো উঠে আসেনি। কাজেই জনগণের কল্যাণের দিকে তাদের দৃষ্টি থাকে না। ক্ষমতার লোভটাই তাদের বড়। কারণ মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি, এগুলোই তো তাদের কাজ ছিল। তারা তো দেশের মানুষের কল্যাণে কিছু করেনি।’

রেল যাবে পায়রা বন্দরে

বরিশাল বিভাগের ১৮টি উপজেলাকে সংযুক্ত করে পায়রার বন্দর পর্যন্ত একটি রেল লাইন নির্মাণে অ্যালাইনমেন্ট করা হয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এটার ফিজিবিলিটি এখনও স্টাডি হচ্ছে, সেখানে রেল লাইন কিভাবে স্থাপন করা যায়।’

এটি হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, যে অঞ্চলের মানুষ জলবায়ুর অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যাচ্ছে, সেখানে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে থেকে ওই অঞ্চলের মানুষ যাতে রক্ষা পায়। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে সুগম হয়। আমরা নদীগুলোর ড্রেজিং করে নৌপথ সচল করে দিচ্ছি।’

অনেক অঞ্চলে রেল লাইন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতার দিকটিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দেখতে হবে যে, আমাদের নদী নালা খাল-বিলের দেশ। আমাদের মাটি অনেক নরম। সেটা বিবেচনা করে কতটা, কিভাবে কোন কোন জায়গায় রেল লাইন করা দরকার সেগুলো আমরা বিবেচনা করেছি।’

পদ্মা সেতুতে রেল যুক্ত করার প্রসঙ্গটি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল লাইন যুক্ত করে যেমন ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ফরিদপুর হয় সেই রেল সংযোগ করে দিচ্ছি। যশোর থেকে খুলনা হয়ে একেবারে মংলা পোর্ট পর্যন্ত এ রেল লাইন সংযোগ স্থাপন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুন্দর করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সচল করা আরও উন্নত করা তারই পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর

একটি ব্রডগেজ ও একটি মিটারগেজ কোচ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর।

এটি নির্মাণ করায় রেল মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার যে অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বা বাঙালি জাতির জন্য সেটা আমাদের দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপিরবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস আপন গতিতে ফিরে আসে। ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না এবং সেটাই আজ প্রমাণিত সত্য আজকে শুধু বাংলাদেশ না সারা বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার অবদান এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলের স্থান পেয়েছে।’

রেল বহরে যুক্ত হলো লোকোমোটিভ

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংগ্রহ করা ৩০টি মিটারগেজ ও ১৬টি ব্রডগেজ লোকোমেটিভেরও উদ্বোধন ঘোষণা করেন সরকারপ্রধান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কদিন পরে ঈদ। ঈদে লোক চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আজকে যে নতুন লোকোমোটিভ চালু হতে যাচ্ছে তাতে আমাদের দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে ঈদের উৎসবে যোগ দিতে পারবেন, নিজের আপন ঘরে ফিরতে পারবেন, সেই সুবিধাটা হবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Freeze 55000 accounts related to online gambling digital hundi Finance Minister in Parliament

অনলাইন জুয়া-ডিজিটাল হুন্ডি সংশ্লিষ্ট ৫৫ হাজার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

অনলাইন জুয়া-ডিজিটাল হুন্ডি সংশ্লিষ্ট ৫৫ হাজার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ: সংসদে অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন জুয়া এবং ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য জানান।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে টাকা পাচার ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন বন্ধে সরকার সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করেছে, যার ২০ ধারায় অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অংশগ্রহণ বা এতে সহায়তার বিপরীতে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই আইন জারির পর বিএফআইইউ কর্তৃক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে গত মে মাসে সিআইডিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গ্রাহকদের সচেতন করার পাশাপাশি কোনো মার্চেন্ট বা সাধারণ গ্রাহক এতে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব এমএফএস প্রোভাইডারকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Red carpet reception for Prime Minister in Beijing

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা
ছবি: সংগৃহীত

চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনযোগে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ ও বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (জিএসিসি)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন। এ সময় স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে সম্মান জানিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে চীনের ঐতিহ্যবাহী দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিং সফরকালীন তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এই গেস্ট হাউসেই অবস্থান করবেন।

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

এর আগে বেলা ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই সফরে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল সাথে রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সফরে সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

উল্লেখ্য যে, বেইজিং পৌঁছানোর আগে সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে তিনি চীনে পৌঁছান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Government will give top priority to protect rights of minorities and minority communities Local Government Minister

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সরকারের দায়িত্ব হলো সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।

বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দিরের উন্নয়ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister arrived in Beijing

বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শেষে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বা বুলেট ট্রেনে করে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি বেইজিং স্টেশনে এসে পৌঁছান। এ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতা, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিশাল মিলনমেলা ঘটে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গিনি, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রোর সরকারপ্রধানরা এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গ্রীষ্মকালীন এই দাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিশ্বের সেরা অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতাকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই সফর বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছিলেন। বেইজিংয়ে তাঁর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Tk 137 crore aid agreement with Australia for Rohingya and other communities

রোহিঙ্গা ও জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১৩৭ কোটি টাকার সহায়তা চুক্তি

রোহিঙ্গা ও জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১৩৭ কোটি টাকার সহায়তা চুক্তি ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অস্ট্রেলীয় সরকারের মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ-এর মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার এই তহবিলের মাধ্যমে নতুন এক মানবিক উদ্যোগের সূচনা হলো।

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিশেষ অনুদান মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অনুষ্ঠানটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” মন্ত্রী এই বিশাল সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি বলেন, তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই ১৬ মিলিয়ন ডলারের তহবিলটি মূলত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৩,১৬২ কোটি টাকা) বৃহৎ মানবিক সহায়তা প্যাকেজের একটি অংশ। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সরকার এই আঞ্চলিক সমস্যা মোকাবিলায় মোট ১.২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা ১০,৭৭০ কোটি টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। মানবিক এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Minister on his way to Beijing by high speed train

উচ্চগতির ট্রেনে সস্ত্রীক বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী

উচ্চগতির ট্রেনে সস্ত্রীক বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

চীনের দালিয়ানে ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলন সম্পন্ন করে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় তিনি হাই স্পিড ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

সফরসূচি অনুযায়ী, বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ সভায় বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এক বিশাল সমাবেশ ঘটে।

এই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা সর্বোত্তম অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার পথ প্রশস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলন শেষে তিনি এখন রাজধানী বেইজিংয়ের পথে রয়েছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister attended the plenary session of the World Economic Forum

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ (WEF)-এর মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ (Innovating at Scale) শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।


এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাগতিক চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ। বিশ্বনেতারা এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।


সেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিবেশনের বিরতিতে বিশ্বনেতারা সম্মিলিতভাবে এক ফটোসেশনেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য

p
উপরে