× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Rangamati is immobile due to depletion of water in Kaptai lake
hear-news
player

কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে ‘অচল’ রাঙ্গামাটি

কাপ্তাই-হ্রদে-পানি-কমে-অচল-রাঙ্গামাটি কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে যাওয়ায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
জুরাছড়ির প্রবীণা চাকমা বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় এখন রাঙ্গামাটি শহরে যেতে এক হাজারের বেশি টাকা খরচ করতে হয়। আগে তা ৩০০ টাকায় হয়ে যেত। শুধু তা-ই নয়, হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মালামাল আনতে কষ্ট হচ্ছে দোকানিদের। তাই জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়েছে।’

রাঙ্গামাটির সদর উপজেলার সঙ্গে ৬ উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। মূলত কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চ চলাচলের মাধ্যমে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেছে। কিন্তু হ্রদটিতে সম্প্রতি পানি কমে গেছে। এতে শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলাজুড়ে মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। উপজেলাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেড়ে গেছে।

রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতি জানিয়েছে, সদর উপজেলার সঙ্গে বর্তমানে বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে লংগদু উপজেলা পর্যন্ত লঞ্চ চললেও খুব কষ্ট করে সেবা দিতে হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় জনসাধারণের ভোগান্তিই শুধু নয়, এসব লঞ্চে কাজ করা শ্রমিকরাও এখন বেকার হয়ে গেছেন। এ অবস্থায় ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত কিছু নৌকা চললেও এগুলো প্রায় সময়ই ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।

কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে ‘অচল’ রাঙ্গামাটি

অন্যদিকে ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বরাতে জানা গেছে, পানির অভাবে এই কেন্দ্রটি এখন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে চালু থাকা ২টি ইউনিটে মাত্র ৫৮ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

গত সোমবার কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা ছিল ৭৭ দশমিক ০৪ এমএসএল (মেইন সি লেভেল)। কিন্তু এই মৌসুমে হ্রদে পানির উচ্চতা থাকার কথা ছিল ৮৩ দশমিক ২০ এমএসএল। অর্থাৎ হ্রদের পানির স্তর বর্তমানে অন্তত ৬ ফুট কম রয়েছে। হ্রদটিতে পানির উচ্চতা ৬৬ এমএসএলের নিচে নেমে গেলে বিপৎসীমা হিসেবে ধরা হয়।

জুরাছড়ি থেকে প্রবীণা চাকমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় এখন রাঙ্গামাটি শহরে যেতে এক হাজারের বেশি টাকা খরচ করতে হয়। আগে তা ৩০০ টাকায় হয়ে যেত। শুধু তা-ই নয়, হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মালামাল আনতে কষ্ট হচ্ছে দোকানিদের। তাই জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়েছে।’

লংগদু থেকে নিরুপা চাকমা বলেন, ‘হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অনেক কষ্ট করে বাড়িতে যেতে হয়। এর আগে তিন ঘণ্টায় লংগদু পৌঁছাতে পারতাম। এখন সময় লাগছে ৫ ঘণ্টা।’

কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে ‘অচল’ রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়া নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময় লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে।’

মালিক সমিতির অভিযোগ, প্রতি বছর এই মৌসুমে হ্রদের পানি শুকিয়ে জনগণ দুর্ভোগে পড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে এটির নাব্যতা রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যবস্থাপক এ টি এম আব্দুর জাহের বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনে ভারি বৃষ্টিপাত না হলে পানির স্তর ৭০ দশমিক ০০ এমএসএলের নিচে নেমে যাবে। এমন হলে চালু থাকা দুটি ইউনিটও বন্ধ হয়ে যাবে।’

কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে ‘অচল’ রাঙ্গামাটি

সার্বিক বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘হ্রদ খননের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুখবরই পাচ্ছি না। তবে বিষয়টি শুধু সরকারের নয়, এটি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’

উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় কৃত্রিম জলাধার রাঙ্গামাটি কাপ্তাই হ্রদ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে ২৫৬ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিশাল এই হ্রদ সৃষ্টি করা হয়। যদিও এতে রাঙ্গামাটি জেলায় ৫৪ হাজার বিঘা কৃষিজমি পানিতে ডুবে যায়। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমির প্রায় ৪০ ভাগ। এ ছাড়া ওই বাঁধের কারণে সম্পত্তি ও ঘরবাড়ির ক্ষতি ছাড়াও লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়।

১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ হওয়ার ৬১ বছর পরও হ্রদটির নাব্যতা রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। কালক্রমে মাটি ভরাট হয়ে হ্রদের গভীরতা কমে ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল, বিদ্যুৎ উৎপাদন।

আরও পড়ুন:
কাপ্তাইয়ে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ
কাপ্তাই হ্রদের কচুরিপানা নিয়ে অসহায় ডিসি
নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাইয়ে মাছ ধরা শুরু
কাপ্তাইয়ের পানি কমায় দুর্ভোগে ছয় উপজেলাবাসী
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
7 day hill food festival in Coxs Bazar

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’ কক্সবাজারে ছয় দিনব্যাপী ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’ এর আয়োজন করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাভিদ আহসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এ আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় সংস্কৃতিতে তুলে ধরা। এখন থেকে এই পাহাড়ি খাদ্যের স্বাদ পাবেন আমাদের হোটেলে আসা অতিথিরা।’

কক্সবাজারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিন্ন স্বাদের পাহাড়ি খাবার খাওয়াতে ছয় দিনব্যাপী ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’-এর আয়োজন করেছে টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা হোটেল। এতে সাহায্য করছে ইকো ট্রাভেলার্স ও রাঙামাটি রাজবন বিহার।

হোটেলটির ‘কাসবাহ’ রেস্তোরাঁয় সোমবার রাতে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেলের উপাধি রাজা দেবাশীষ রায়।

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

তিনি জানান, এই আয়োজন চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। উৎসব চলাকালীন ছয় দিন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে কাসবাহ রেস্তোরাঁয় দুই হাজার ৪৯৯ টাকায় এ আয়োজনে অংশ নিতে পারবেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সুস্বাদু খাবারে আগ্রহীরা।

দেবাশীষ রায় বলেন, ‘সবাই দূর পাহাড়ের মানুষ। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনপদ তাদের আবাসস্থল। সেখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ আর সংস্কৃতি দেশের সমতলভূমি থেকে ভিন্ন। ভিন্নতর তাদের খাবার-দাবারও। পাহাড়ের এসব ভিন্ন খাবারের স্বাদ এখন পাবেন সমুদ্রপাড়ের হোটেলেও।’

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

উৎসবে শতাধিক খাবারের পসরা বসানো হয়। তার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলার জনপ্রিয় খাবারই ছিল অর্ধ-শতাধিক।

এতে আয়োজন হয় বেম্বু চিকেন, পাচন (চিংড়ির সঙ্গে সবজি), বাচ্চুরি (বাঁশের তরকারি), হাঙ্গারা সুগরে (কুমড়া দিয়ে কাঁকড়া), মংশো মরিচ (মুরগি এবং মরিচ ভর্তা), হুরো হুরবো (মুরগি সালাত), মাচ হ্যাবাং (শৈল মাছের ঝোল), বিনি চালের পায়েস, ঝুম লাড্ডু ও কলা পিঠাসহ ৫০ ধরনের খাবারের।

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

বিখ্যাত রাঁধুনি মিলরয় নানায়াক্কারা ও রাঙ্গামাটির বিনীতা চাকমা অনুষ্ঠানটিতে খাবার প্রদর্শন করেন।

এ ছাড়াও ৬টি স্টলে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তৈরি কাপড়, আচারসহ বিভিন্ন প্রসাধনীও তুলে ধরা হয়।

রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্টের এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে দেবাশীষ রায় বলেন, ‘একটি খাবার একটি সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। এটা আমাদের সংবিধানেও রয়েছে। কিন্তু এর মাধ্যমে পাহাড়ের প্রথাগত সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ও দেশের বাইরের লোকজনও পাহাড়ের খাবার সম্পর্কে জানতে পারবেন।’

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাভিদ আহসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এ আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় সংস্কৃতিতে তুলে ধরা। এখন থেকে এই পাহাড়ি খাদ্যের স্বাদ পাবেন আমাদের হোটেলে আসা অতিথিরা।’

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

তিনি আরও বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলার খাবার সম্পর্কে দেশের অনেক মানুষের অজানা। তাদের জানানোর পাশাপাশি বিদেশিদের কাছেও আমাদের এই দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক আজিম শাল, সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাভিদ আহসান চৌধুরীসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
দীর্ঘ অনশনে কী ঘটে শরীরে?
করোনাকালে শিশুদের খাবার
ওমিক্রন থেকে সতর্ক থাকতে খান এই পাঁচ খাবার
রান্নার তেল বারবার ব্যবহারের ঝুঁকিমুক্ত কৌশল
কক্সবাজারে খাবারের দাম আসলে কত?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Aki on the summit of Everest with a special flag made by his mother

মায়ের বানানো বিশেষ পতাকা নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায়

মায়ের বানানো বিশেষ পতাকা নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পতাকার মিশেলে বিশেষ পতাকা হাতে এভারেস্টের চূড়ায় বাঙালি আকি। ছবি: সংগৃহীত
রোববার সন্ধ্যায় বেস ক্যাম্পে ফিরে এসেছেন আকি। নেপালে কয়েকদিন অবস্থানের পর ফিরে যাবেন যুক্তরাজ্যে। আকির মা রহিমা বেগমও যুক্তরাজ্যর বাসিন্দা। তবে বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

আকি রহমান জন্মেছেন বাংলাদেশে। আর বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাজ্যে। দুই দেশেরই নাগরিক তিনি। তাই এভারেস্টের চূড়ায় গিয়েও উড়ালেন দুই দেশের পতাকা।

বাংলাদেশ আর যুক্তরাজ্যের পতাকা মিলিয়ে বিশেষ এই পতাকাটি ছেলের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন আকি রহমানের মা রহিমা বেগম।

গত শুক্রবার পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন বাঙালি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ। আকি রহমান নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম আখলাকুর রহমান।

রোববার সন্ধ্যায় বেস ক্যাম্পে ফিরে এসেছেন আকি। নেপালে কয়েকদিন অবস্থানের পর ফিরে যাবেন যুক্তরাজ্যে। আকির মা রহিমা বেগমও যুক্তরাজ্যর বাসিন্দা। তবে বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

সোমবার রহিমা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আকির বয়স যখন দেড় বছর তখন তাকে আমি যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাই। এরপর থেকেই ও সেখানে বসবাস করছে। কিন্তু এতো বছরেও সে নিজের জন্মভূমিকে ভোলেনি। তাই এভারেস্টের চূড়ায় উঠেও সে যুক্তরাজ্যের পাশপাশি বাংলাদেশের পতাকাও উড়িয়েছে। দুই দেশের পতাকাকে যুক্ত করে বিশেষ এই পতাকাটি আমিই তাকে তৈরি করে দিয়েছি।’

ছেলের এভারেস্ট জয় এবং সুস্থভাবে ফিরে আসায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রহিমা বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই তার পাহাড় চড়ার শখ। বিশ্বের অনেকগুলো পাহাড়ে সে চড়েছে। আমরাও এ কাজে তাকে উৎসাহ দিয়েছি।’

আকি রহমানের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়ায়।

মায়ের বানানো বিশেষ পতাকা নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায়

সেখানে থাকা তার চাচাতো ভাই শামীনুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যায় আকি বেস ক্যাম্পে ফিরে এসেছেন। এরপর আমাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। দুতিন দিন পর তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন।’

২০২০ সালের অক্টোবরে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এলব্রুস পর্বত জয় করেন আখলাকুর। তিনিই প্রথম বাঙালি হিসেবে এলব্রুস পর্বত জয়ের রেকর্ড করেন।

ওই বছরের ২২ জুলাই আফ্রিকা মহাদেশের সর্ববৃহৎ তানজানিয়ায় অবস্থিত কিলিমাঞ্জারো পর্বতও প্রথমবারের মতো জয় করেন তিনি। এই পর্বতটির উচ্চতা ৫ হাজার ৮৯৫ মিটার। এটি জয়ের সাত দিন পর দ্বিতীয়বারের মতো ২৯ জুলাই ইউরোপের মন্ট ব্ল্যাঙ্ক পর্বত চূড়ায় ওঠেন।

চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৃত হাজি ইছকন্দর আলীর ছেলে আখলাকুর রহমান প্রায় ৩৬ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। তখন তার বয়স ছিল দেড় বছর। লন্ডনের ওল্ডহাম শহরে তিনি বেড়ে ওঠেন। সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।

এর আগে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পা পড়েছে আরও কয়েকজন বাঙালির। এর মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১০ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ এ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন মুসা ইব্রাহীম।

আর বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ২০১২ সালে এভারেস্টে আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই বছর সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে পা রাখেন আরেক বাংলাদেশি নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন।

তারও আগে ২০১১ সালে দ্বিতীয় এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে নাম লেখান এম এ মুহিত।

আরও পড়ুন:
আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়
এভারেস্টের ২ সহস্রাব্দের বরফ গলেছে ২৫ বছরে
এভারেস্টের চূড়া ‘দেখলেন’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী
এভারেস্টেও পৌঁছে গেছে করোনা
এভারেস্টের উচ্চতা বাড়ল ৩ ফুটের বেশি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another Bengali conquered Everest

আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়

আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়
এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক আখলাকুরের চাচাতো ভাই শামীনুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আখলাকুরের এভারেস্ট জয়ের তথ্য তার সঙ্গে থাকা গাইড বেস ক্যাম্পে জানিয়েছেন। এরপর বেস ক্যাম্প থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আখলাকুরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ভাই বলেছেন- আলহামদুলিল্লাহ, আমি সাকসেস হইছি। আমার জন্য দোয়া করিও।’

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন আরেক বাঙালি। শুক্রবার নেপাল সময় সকাল ৭টার দিকে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন আখলাকুর রহমান (আকি রাহমান)।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক আখলাকুরের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়ায়।

তার চাচাতো ভাই শামীনুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আখলাকুরের এভারেস্ট জয়ের তথ্য তার সঙ্গে থাকা গাইড বেস ক্যাম্পে জানিয়েছেন। এরপর বেস ক্যাম্প থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।’

পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আখলাকুরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে জানিয়ে শামীনুর বলেন, ‘ভাই বলেছেন- আলহামদুলিল্লাহ, আমি সাকসেস হইছি। আমার জন্য দোয়া করিও।’

এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবরে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এলব্রুস পর্বত জয় করেন আখলাকুর। তিনিই প্রথম বাঙালি হিসেবে এলব্রুস পর্বত জয়ের রেকর্ড করেন।

ওই বছরের ২২ জুলাই আফ্রিকা মহাদেশের সর্ববৃহৎ তানজানিয়ায় অবস্থিত কিলিমাঞ্জারো পর্বতও প্রথমবারের মতো জয় করেন তিনি। এই পর্বতটির উচ্চতা ৫ হাজার ৮৯৫ মিটার। এটি জয়ের সাত দিন পর দ্বিতীয়বারের মতো ২৯ জুলাই ইউরোপের মন্ট ব্ল্যাঙ্ক পর্বত চূড়ায় ওঠেন।

আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৃত হাজি ইছকন্দর আলীর ছেলে আখলাকুর রহমান প্রায় ৩৬ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। তখন তার বয়স ছিল দেড় বছর। লন্ডনের ওল্ডহাম শহরে তিনি বেড়ে ওঠেন। সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।

এর আগেও মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পা পড়েছে আরও কয়েকজন বাঙালির। এর মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১০ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ এ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন মুসা ইব্রাহীম।

আর বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ২০১২ সালে এ এভারেস্টে আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই বছর সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে পা রাখেন আরেক বাংলাদেশি নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন।

তারও আগে ২০১১ সালে দ্বিতীয় এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে নাম লেখান এম এ মুহিত।

আরও পড়ুন:
এভারেস্টের ২ সহস্রাব্দের বরফ গলেছে ২৫ বছরে
এভারেস্টের চূড়া ‘দেখলেন’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী
এভারেস্টেও পৌঁছে গেছে করোনা
এভারেস্টের উচ্চতা বাড়ল ৩ ফুটের বেশি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The minister wants to know the legal provisions for collecting fees in Jaflong

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী
চিঠিতে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ উল্লেখ করেন, ‘জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহারসংক্রান্ত কোনো আইনানুগ বিধান জারি হয়েছে কি না তা জানা প্রয়োজন।’

সিলেটের জাফলংয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি আদায়ের আইনি বিধান জারি করা হয়েছে কি না তা জানতে চেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ। সাময়িকভাবে ফি আদায় বন্ধ রাখার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

ইমরান আহমেদ সিলেট-৪ জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জের সংসদ সদস্যও।

সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে এক চিঠিতে মঙ্গলবার তিনি এই অনুরোধ জানান।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহারসংক্রান্ত কোনো আইনানুগ বিধান জারি হয়েছে কি না তা জানা প্রয়োজন।’

মন্ত্রীর চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওনার একটি চিঠি আমি পেয়েছি। চিঠি পাওয়ার আগেই জাফলং থেকে প্রবেশ ফি আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির পরবর্তী বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত ফি আদায় বন্ধ থাকবে।’

পর্যটন উন্নয়ন কমিটির পরবর্তী বৈঠক কবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারিখ নির্ধারণ হলে আপনাদের জানানো হবে।’

সিলেটের অন্যতম পর্যটন এলাকা গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে সব সময়ই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। আগে সেখানে অবাধেই পর্যটকরা প্রবেশ করতেন। গত বছর থেকে ১০ টাকা প্রবেশ ফি চালু করে উপজেলা প্রশাসন।

উন্মুক্ত নদী ও পাহাড় দেখতে টাকা লাগবে কেন- এই প্রশ্ন ফি নির্ধারণের শুরু থেকেই। বিশেষত গত ৫ মে টিকিট কাউন্টারের কর্মীদের হাতে কয়েকজন পর্যটক মারধরের শিকার হওয়ার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে জাফলংয়ে প্রবেশে টিকিট ব্যবস্থা চালুর বৈধতা নিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পর্যটন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কার্যপরিধির বাইরে গিয়ে জাফলংয়ে পর্যটক প্রবেশে ফি নির্ধারণ করে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে এভাবে ফি নির্ধারণকে অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূত বলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরাও।

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

সিলেট-৪ আসনের সাংসদ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘গত ৫ এপ্রিল বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সিলেটের জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায়কে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক ও পর্যটকদের মধ্যে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

‘ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো সম্পর্কে ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে এলাকার ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা কখনই কাম্য নয়। তাছাড়া জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহারসংক্রান্ত কোনো আইনানুগ বিধান জারি হয়েছে কি না তা জানা প্রয়োজন।’

ডিসিকে দেয়া চিঠিতে মন্ত্রী ইমরান আহমদ আরও বলেন, ‘জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহারসংক্রান্ত নীতিমালা/বিধিবিধান নিম্নস্বাক্ষরকারীকে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করতঃ আমার নির্বাচনি এলাকার পর্যটন স্পটসমূহের (রাতারগুল ব্যতীত) পর্যটক প্রবেশ ফি সাময়িকভাবে বন্ধকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’


জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায় ‘অবৈধ’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে দেশের জেলাভিত্তিক পর্যটন উন্নয়ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এর ভিত্তিতেই ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর সিলেট জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির এক সভায় জাফলংয়ে ১০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।

তবে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে পর্যটন উন্নয়ন কমিটির জন্য ১৩টি কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এই কার্যপরিধির কোথাও প্রবেশ ফি আদায়ের কথা উল্লেখ নেই।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘প্রবেশ ফি হিসেবে আদায় করা অর্থ থেকে প্রয়োজনীয় জনবলের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করা হবে। পাশাপাশি সঞ্চিত অর্থ দিয়ে পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

সেই টাকা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট তহবিল গঠনের জন্য একটি ব্যাংক হিসাব খোলার কথাও বলা হয় ওই সভায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রবেশ ফি আদায় চালু হয়।


কর্মপরিধিতে যা ছিল

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপন ঘেঁটে দেখা গেছে, পর্যটন উন্নয়ন কমিটির নির্ধারিত কাজের মধ্যে রয়েছে- জেলার পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিতকরণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ; পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ; পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের স্বাচ্ছন্দ্য বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ এলাকা নির্ধারণের প্রয়োজন ও অবকাশ থাকলে সেরূপ এলাকা নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব প্রেরণ; বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ ও অবস্থানকে নিরাপদ এবং আরামদায়ক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পর্যটন স্থানগুলোর উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ এবং জেলার পর্যটন উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা আছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ; বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক গঠিত স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের সমন্বয়; উপজেলার পর্যটন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা তদারকি; বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; পর্যটন উন্নয়ন ও প্রচারসংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা ও পর্যটন উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অন্যান্য নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিশিষ্টজনরা যা বলছেন

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের কার্যপরিধিতে না থাকা সত্ত্বেও পর্যটন উন্নয়ন কমিটির এভাবে ফি আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূত। তারা এটা করতে পারে না। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কর্মপরিধির মধ্যেই তাদের থাকতে হবে।’

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

জাফলংয়ে পর্যটকদের মারধরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে বলা হলো পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত সিলেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম?

‘প্রকাশ্যে পর্যটকদের পেটাচ্ছে প্রশাসনের কর্মীরা। অথচ পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসছে না। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। এটা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট সবার ব্যর্থতা। এ জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যতম প্রধান ও সিলেটের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র জাফলং। সেখানেই যদি নিরাপত্তার এই অবস্থা হয় তাহলে অন্যগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমেয়।’


প্রশাসন যা বলছে

এদিকে পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি আদায় অবৈধ নয় বলে বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মজিবর রহমান।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে শুক্রবার তাকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি আসার আগেই চালু করা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

‘আমি সাত দিনের জন্য ফি বন্ধ রেখেছি। পরবর্তীতে কমিটির সভা ডেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করব।’

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১০ টাকার বিনিময়ে আমরা কয়েকটি সেবা দিই। পর্যটন এলাকায় চেঞ্জ রুম ও টয়লেট করা হয়েছে। পর্যটকরা এগুলো বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা। পর্যটন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার কাজও করা হয় এই টাকায়।’

‘টিকিট দেখালে সহজে ও নির্ধারিত মূল্যে ফটোগ্রাফার, ট্যুর গাইড ও নৌকার মাঝি পাওয়া যায়’- যোগ করেন ইউএনও।

জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী

প্রবেশ ফির পরিমাণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একেক দিন একেক পরিমাণ টাকা আদায় হয়। ভরা মৌসুমে আমি দিনে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা আদায় হতে দেখেছি।’

খরচের খাত হিসেবে তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ পর্যটকদের সেবা দেয়ার জন্য কিছু অস্থায়ী কর্মী রাখা হয়েছে। তাদেরকে ঘণ্টাপ্রতি ৫০ টাকা হিসেবে বেতন দেয়া হয়। কর্মীর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। সর্বনিম্ন পাঁচ-ছয়জন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ জন কাজ করেন।

ইউএনও জানান, উপজেলা পর্যটন কমিটি নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ ফি জমা হয়। ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ প্রসঙ্গে তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক বলা হলেও আসলে তারা স্বেচ্ছাসেবক নন। ঘণ্টা-চুক্তিতে তারা কাজ করেন। তাদের কাউকে নিয়োগও দেয়া হয়নি।’

আরও পড়ুন:
জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায় ‘অবৈধ’
শঙ্কা কাটিয়ে জাফলংয়ে আবারও পর্যটকের ঢল
জাফলংয়ে পর্যটকদের টাকা দিতে হয় কেন
জাফলংয়ে পর্যটকদের মারধরের ঘটনায় মামলা
জাফলংয়ে ৭ দিন বিনা মূল্যে প্রবেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Satkhira range of Sundarbans got 446 tourists on Eid

ঈদে ৪৪৮৬ পর্যটক পেল সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ

ঈদে ৪৪৮৬ পর্যটক পেল সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে পর্যটকের একটি দল।
সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা এম এ হাসান জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ ও কদমতলা- এ তিনটি ফরেস্ট স্টেশন থেকে পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমতিপত্র দেয়া হয়।

এবার ঈদের ছুটির পাঁচ দিনে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ভ্রমণ করেছেন ৪ হাজার ৪৮৬ জন প্রকৃতিপ্রেমী। ঈদের দিন মঙ্গলবার (৩ মে) থেকে শনিবার (৭ মে) পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ভ্রমণ করেন তারা।

শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, সুন্দরবনের উপকূলীয় আবাসিক রিসোর্টগুলো পর্যটকে পরিপূর্ণ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে বন দেখতে ছুটে এসেছেন এসব মানুষ।

বর্ষা রিসোর্টের ম্যানেজার রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘বর্তমানে রিসোর্টগুলোয় ভিড় লেগেছে। কোনো সিট খালি নেই। ঈদের ছুটি কাটাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সুন্দরবন দেখতে এসেছেন পর্যটকরা। এখানে ১৯টি ডাবল বেড, ৯টি কাপল বেড ও ২টি থ্রি বেডের রুম আছে। সবগুলোই এখন বুক। ৮ মের পর সিট খালি হবে।’

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর সরকারি ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এখানে চারটি ডাবল বেডের রুম। ঢাকা থেকে চারজন এসে এখন সেগুলোয় অবস্থান করছেন।’

অন্যদিকে সুশীলনের টাইগার পয়েন্ট গেস্ট হাউসটি ঈদে কর্মচারীদের ছুটি দেয়ায় এখন বন্ধ রয়েছে বলে জানান ম্যানেজার আব্দুল হামিদ। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে সরকারি কর্মকর্তার বাইরে কেউ থাকতে পারেন না। সেখানে দুটি গেস্টরুম রয়েছে।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত ৩ মে ঈদের দিন ২০টি নৌকায় ২০০ জন, ৪ মে ১১৩টি নৌকায় ২ হাজার ২৩ জন, ৫ মে ৫২ নৌকায় ৮২১ জন, ৬ মে ৬২ নৌকায় ৮৩১ জন এবং ৭ মে ৪৮ নৌকায় ৬১১ জন পর্যটক ছিলেন। অর্থাৎ ওই পাঁচ দিনে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন ৪ হাজার ৪৮৬ জন। এতে রাজস্ব এসেছে ২ লাখ ৬ হাজার ৩৫৬ টাকা এবং ২৯৫টি নৌকায় রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯২ হাজার ৪৮২ টাকা। জনপ্রতি ৪৬ টাকা ও নৌকাপ্রতি ৩১৩ দশমিক ৫০ টাকা করে রাজস্ব আদায় করে বন বিভাগ।

ঈদের তৃতীয় দিন গত ৫ মে সুন্দরবন ভ্রমণে যান সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের গাজী শাহিন। সুন্দরবনের কলাগাছিয়া পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করেন তিনি।

শাহিন বলেন, ‘কলাগাছিয়া পর্যটনকেন্দ্রটি আগের চেয়েও সুন্দর করা হয়েছে। আগে সুন্দরবনের ভেতরে কাঠের রাস্তাগুলো ভাঙাচোরা ছিল। সেগুলো এখন মেরামত করা হয়েছে।’

এই ঈদে আশাশুনি উপজেলা থেকে সুন্দরবন ঘুরে আসা আশরাফুল ইসলামও কলাগাছিয়া পর্যটনকেন্দ্রটির প্রশংসা করেছেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা এম এ হাসান জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ ও কদমতলা- এ তিনটি ফরেস্ট স্টেশন থেকে পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমতিপত্র দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে আজ (শনিবার) পর্যন্ত পাঁচ দিনে ৪ হাজার ৪৮৬ জন পর্যটক সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ ভ্রমণ করেছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শঙ্কা কাটিয়ে জাফলংয়ে আবারও পর্যটকের ঢল
টানা ছুটিতেও খাঁ খাঁ খাগড়াছড়ি
সিলেটে ভাড়া হয়ে গেছে বেশির ভাগ হোটেল
৩ দিনের পর্যটন মেলা শুরু ৩০ মার্চ
২৬ মার্চের ছুটিতে জমেনি কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jaflong entry fee is illegal

জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায় ‘অবৈধ’

জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায় ‘অবৈধ’ জাফলংয়ে প্রবেশে ফি আদায়ের জন্য স্থাপন করা কাউন্টার ঘিরে স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা। ছবি: নিউজবাংলা
পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে কার্যপরিধির কোথাও প্রবেশ ফি আদায়ের কথা উল্লেখ নেই। পর্যটন উন্নয়ন কমিটিকে কোনো স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ক্ষমতাও দেয়া হয়নি।

পর্যটন স্পটে সমৃদ্ধ জেলা সিলেট। এর মধ্যে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে জাফলং। সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার এই পর্যটন স্পটে প্রবেশ করতে টাকা গুনতে হচ্ছে পর্যটকদের।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে জাফলংয়ে প্রবেশ করতে ফি নির্ধারণ করেছে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি। এটিকে অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূত বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরাও।

উন্মুক্ত নদী ও পাহাড় দেখতে টাকা লাগবে কেন- এই প্রশ্ন ফি নির্ধারণের শুরু থেকেই। বিশেষত গত বৃহস্পতিবার টিকিট কাউন্টারের কর্মীদের হাতে কয়েকজন পর্যটক মারধরের শিকার হওয়ার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে জাফলংয়ে প্রবেশে টিকিট ব্যবস্থা চালুর বৈধতা নিয়ে।

দর্শনার্থীর কাছ থেকে ফি আদায়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু কর্মী নিয়োগ দিয়েছে প্রশাসন। এই কর্মী নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত কার্যপরিধির ৭ নম্বরে উল্লেখ রয়েছে, ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক গঠিত ভলান্টিয়ারগণের কাজের সমন্বয় করবে পর্যটন উন্নয়ন কমিটি।’ তাদের কোনো স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়নি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে দেশের জেলাভিত্তিক পর্যটন উন্নয়ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এর ভিত্তিতেই ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর সিলেট জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির এক সভায় জাফলংয়ে ১০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।

তবে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে পর্যটন উন্নয়ন কমিটির জন্য ১৩টি কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এই কার্যপরিধির কোথাও প্রবেশ ফি আদায়ের কথা উল্লেখ নেই।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘প্রবেশ ফি হিসেবে আদায় করা অর্থ থেকে প্রয়োজনীয় জনবলের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করা হবে। পাশাপাশি সঞ্চিত অর্থ দিয়ে পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’

সেই টাকা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট তহবিল গঠনের জন্য একটি ব্যাংক হিসাব খোলার কথাও বলা হয় ওই সভায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রবেশ ফি আদায় চালু হয়।

জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায় ‘অবৈধ’
ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে জাফলংয়ে। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মপরিধিতে যা ছিল

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপন ঘেঁটে দেখা গেছে, পর্যটন উন্নয়ন কমিটির নির্ধারিত কাজের মধ্যে রয়েছে- জেলার পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিতকরণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ; পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ; পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের স্বাচ্ছন্দ্য বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ এলাকা নির্ধারণের প্রয়োজন ও অবকাশ থাকলে সেরূপ এলাকা নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব প্রেরণ; বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ ও অবস্থানকে নিরাপদ এবং আরামদায়ক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পর্যটন স্থানগুলোর উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ এবং জেলার পর্যটন উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা আছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ; বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক গঠিত স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের সমন্বয়; উপজেলার পর্যটন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা তদারকি; বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; পর্যটন উন্নয়ন ও প্রচারসংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা ও পর্যটন উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অন্যান্য নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিশিষ্টজনরা যা বলছেন

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের কার্যপরিধিতে না থাকা সত্ত্বেও পর্যটন উন্নয়ন কমিটির এভাবে ফি আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূত। তারা এটা করতে পারে না। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কর্মপরিধির মধ্যেই তাদের থাকতে হবে।’

জাফলংয়ে পর্যটকদের মারধরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে বলা হলো পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত সিলেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম?

‘প্রকাশ্যে পর্যটকদের পেটাচ্ছে প্রশাসনের কর্মীরা। অথচ পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসছে না। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। এটা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট সবার ব্যর্থতা। এ জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যতম প্রধান ও সিলেটের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র জাফলং। সেখানেই যদি নিরাপত্তার এই অবস্থা হয় তাহলে অন্যগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমেয়।’

প্রশাসন যা বলছে

এদিকে পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি আদায় অবৈধ নয় বলে বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মজিবর রহমান।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে শুক্রবার তাকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি আসার আগেই চালু করা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

‘আমি সাতদিনের জন্য ফি বন্ধ রেখেছি। পরবর্তীতে কমিটির সভা ডেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করব।’

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১০ টাকার বিনিময়ে আমরা কয়েকটি সেবা দেই। পর্যটন এলাকায় চেঞ্জ রুম ও টয়লেট করা হয়েছে। পর্যটকরা এগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা। পর্যটন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার কাজও করা হয় এই টাকায়।’

‘টিকিট দেখালে সহজে ও নির্ধারিত মূল্যে ফটোগ্রাফার, ট্যুর গাইড ও নৌকার মাঝি পাওয়া যায়’- যোগ করেন ইউএনও।

প্রবেশ ফির পরিমাণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একেক দিন একেক পরিমাণ টাকা আদায় হয়। ভরা মৌসুমে আমি দিনে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা আদায় হতে দেখেছি।’

খরচের খাত হিসেবে তিনি জানান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ পর্যটকদের সেবা দেয়ার জন্য কিছু অস্থায়ী কর্মী রাখা হয়েছে। তাদেরকে ঘণ্টাপ্রতি ৫০ টাকা হিসাবে বেতন দেয়া হয়। কর্মীর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। সর্বনিম্ন পাঁচ-ছয়জন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ জন কাজ করেন।

ইউএনও জানান, উপজেলা পর্যটন কমিটি নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ ফি জমা হয়। ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ প্রসঙ্গে তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক বলা হলেও আসলে তারা স্বেচ্ছাসেবক নন। ঘণ্টা-চুক্তিতে তারা কাজ করেন। তাদের কাউকে নিয়োগও দেয়া হয়নি।’

আরও পড়ুন:
শঙ্কা কাটিয়ে জাফলংয়ে আবারও পর্যটকের ঢল
জাফলংয়ে পর্যটকদের টাকা দিতে হয় কেন
জাফলংয়ে পর্যটকদের মারধরের ঘটনায় মামলা
মেলা দেখে ফেরার পথে ‘ক্ষুরের আঘাতে’ জখম স্কুলছাত্র
জাফলংয়ে ৭ দিন বিনা মূল্যে প্রবেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Padma Bridge for Eid entertainment

ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু

ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু
দীর্ঘ সেতু নিয়ে আকর্ষণ আছেই, তার সঙ্গে পাশের টোল প্লাজা, সার্ভিস এরিয়া, কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড, রেল লাইন, এক্সপ্রেসওয়ে, সেনানিবাস, সবুজায়ন করা নগরী, পুনর্বাসন কেন্দ্রও ঘিরেও মানুষদের আগ্রহ দেখা গেছে।

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে টোল প্লাজার সামনে রীতিমতো জনসভার মতো ভিড়। এরা সবাই পদ্মা সেতু এলাকায় সময় কাটাতে এসেছে।

তবে নিরাপত্তার কারণে কাছাকাছি যাওয়া যাচ্ছে না। নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরে টোল প্লাজা থেকে ৩০০ মিটার সামনের দিকে এক্সপ্রেসওয়ে সড়কেই অবস্থান করতে হয় তাদের।

ঈদের লম্বা ছুটিতে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যাওয়ার তালিকায় বুঝি যোগ হলো দেশের সবচেয়ে বড় সেতু এলাকাটিও।

ঈদের দিন থেকেই সেতুর দুই প্রান্তেই মানুষের উপচে পরা ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। কেউ এসেছে একা, কেউ বন্ধুদের নিয়ে, কেউ স্বজনদের সঙ্গে। গান বাজিয়ে নেচে গেয়ে আনন্দ চলে শুক্রবার সকাল থেকেই।

টোল প্লাজা থেকে ৫০০ মিটার সামনে এগুতেই চোখে পড়ল আতশবাজি আর পটকা ফোটানোর ব্যস্ত কিশোরদের। এক্সপ্রেসওয়ের পাশেই খাদ্য সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন স্থানীয় দোকানিরা। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের শরবত, আখের রস, কোমল পানীয় বিক্রি হয় দেদারসে। এক্সপ্রেসওয়ের পাশেই গড়ে ওঠা বেশ কিছু রেস্টুরেন্টেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী জুনে সেটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা আছে।

দীর্ঘ সেতু নিয়ে আকর্ষণ আছেই, তার সঙ্গে পাশের টোল প্লাজা, সার্ভিস এরিয়া, কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড, রেল লাইন, এক্সপ্রেসওয়ে, সেনানিবাস, সবুজায়ন করা নগরী, পুনর্বাসন কেন্দ্রও ঘিরেও মানুষদের আগ্রহ দেখা গেছে।

ভিড়ের মধ্যে পাওয়া গেল খুলনা থেকে সপরিবারে বেড়াতে আসা নেয়ামত উল্লাহকে। ভোরে রওনা করে বেলা এগারোটার দিকে মাইক্রোবাসে করে সেতুর জাজিরা প্রান্তে পৌঁছেন তারা।

নেয়ামত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিনোদনের অনেক জায়গা আছে, কিন্তু পদ্মা সেতু দেশে একটাই। তাই এবার ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে স্বপ্নের সেতু দেখতে এসেছি। তবে নিরাপত্তার কারণে সেতুর কাছে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এত কাছে এসেও সেতুতে উঠতে না পারায় কিছুটা খারাপ লাগছে।’

শরীয়তপুরের সখিপুর থেকে বাইকে করে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সম্প্রতি বিয়ে হওয়া সুমন ও তানিয়া দম্পতি। সুমন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে এখানে এসেছি। কিন্তু এখানে প্রচুর মানুষের ভিড়।’

তিনি বলেন, ‘সেতুকে ঘিরে তৈরি করা সবুজায়ন নগরীর গাছপালা ঘেরা পরিবেশ সবচেয়ে ভালো লেগেছে। এখানকার পরিবেশটাও বেশ ঠান্ডা এবং পাশে থাকা পদ্মা নদী ও পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়।’

ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু

এক্সপ্রেসওয়ের মাঝের ওয়ালের উপর বসে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান গাইছিল কয়েকজন কিশোর। তাদের একজন শুভ দাস। নিউজবাংলাকে সে বলে, ‘এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর, রাস্তাগুলো বেশ চওড়া। পাশে থাকা গাছপালাপার কারণে পরিবেশটা আরও সুন্দর লাগে। এমন পরিবেশে কার গান গাইতে মন না চাইবে বলেন?’

সেতু এলাকায় দর্শনার্থীদের সহায়তা করছিলেন ‘বিডি ক্লিন টিম’ এর সদস্যরা। যেখানে সেখানে যেন ময়লা না ফেলা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখছিলেন তারা। দর্শনার্থীদের ফেলা আবর্জনা পরিষ্কারও করছিলেন তারা।

‘বিডি ক্লিন’ এর জাজিরা উপজেলা শাখার সমন্বয়ক পলাশ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ময়লা ফেলতে জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পরে নির্ধারিত জায়গার সব ময়লা একত্রিত করে পরিষ্কার করে আমাদের সদস্যরা।’

শরীয়তপুর-১ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাজিরা প্রান্তকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে। এখানে আসা পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা দিতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে তোলা হবে।’

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তে ভায়াডাক্ট (উড়াল সড়ক) আরও ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার।

গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে ৯৮ শতাংশ আর নদী শাসনের কাজ ৯২ শতাংশ।

এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হতে পারে সেতুটি।

এটি উদ্বোধনের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ২১ জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু জুনেই চালু: কাদের
পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে রাতে চলছে ফেরি
পদ্মা সেতুতে টোল তুলবে চায়না মেজর ও কেইসি
পদ্মা সেতু উদ্বোধন পেছাচ্ছে যে কারণে
জুনে নয়, পদ্মা সেতু চালু বছরের শেষে

মন্তব্য

উপরে