× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Corporation employees case in the name of councilor
hear-news
player
print-icon

কাউন্সিলরের নামে করপোরেশন কর্মীর মামলা

কাউন্সিলরের-নামে-করপোরেশন-কর্মীর-মামলা
সিটি করপোরশেনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লবের নামে মারধরের অভিযোগে মামলা করেছেন করপোরেশনের রোড ইন্সপেক্টর রাজিব হোসেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের রোড ইন্সপেক্টর রাজিব হোসেন খানকে মারধরের অভিযোগে কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লবের নামে মামলা হয়েছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় রোববার রাতে মামলা করেন রাজিব নিজেই। বিপ্লবের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামানসহ পাঁচজন। তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে বাধা, আটকে রেখে মারধর ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিষয়টি সোমবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন।

এর আগে রোববার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিপ্লবের বিরুদ্ধে রাজিবকে মারধরের অভিযোগ তুলে সড়কে বিক্ষোভ করেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাল্টা বিক্ষোভ করে সড়কে অবস্থান নেন বিপ্লব ও অনুসারীরা।

পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশে রোববার দুপুর থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। পুলিশের আশ্বাসে ৭ ঘণ্টা পর রাতে রাস্তা থেকে সরে যান অবরোধকারীরা, যান চলাচল শুরু হয়।

যে কারণে বিক্ষোভ

রোড ইন্স‌পেক্টর রাজীব হো‌সেন খান নিউজবাংলাকে ব‌লেন, ‘এক‌টি ভব‌নের প্ল্যান চেক কর‌তে যাওয়ার পর কাউ‌ন্সিলর বিপ্লব আমা‌কে ফোন দি‌য়ে নানা কথা ব‌লে হোসাই‌নিয়া মাদ্রাসায় ডে‌কে নেন। এরপর তাকে না বলে কেন প্ল্যান চেক করতে গিয়েছি সেই অভিযোগ তুলে আমা‌কে মারধর ক‌রেন। এরপর অন‌্য স্টাফরা এ‌সে আমা‌কে উদ্ধার ক‌রেন।’


কাউন্সিলরের নামে করপোরেশন কর্মীর মামলা


এসব বিষ‌য়ে কাউ‌ন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘আমার ওয়া‌র্ডে একটা কাজ কর‌তে আসবে সেটা আ‌মিই জা‌নি না। আমার সব স্টাফ নিয়ে গেছে মেয়র সা‌দিক আব্দুল্লাহ। আ‌মি শুধু ওই স্টাফকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করে‌ছি।’

তিনি রোববার রাতে বলেন, ‘একজন কাউ‌ন্সিলর‌কে হেনস্থার চেষ্টা করায় আ‌মিও থানায় অ‌ভি‌যোগ জানাব।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Wife and children beaten to death Accused in jail

স্ত্রী-সন্তানদের পিটিয়ে হত্যা: আসামি কারাগারে

স্ত্রী-সন্তানদের পিটিয়ে হত্যা: আসামি কারাগারে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার মামলায় গিয়াসউদ্দিনকে তোলা হচ্ছে আদালতে। ছবি: নিউজবাংলা
গিয়াস পিবিআইকে জানান, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে প্রতিবেশী রেনুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিতে পারবেন ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন বলে গিয়াস ধারণা করেন। সেই ধারণা থেকে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

নরসিংদীর বেলাবতে স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে হত্যার মামলায় গিয়াসউদ্দিন শেখকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চতুর্থ আদালতে সোমবার বিকেলে তোলা হলে বিচারক রকিবুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গিয়াসের নামে তার শ্যালক মো. মোশারফ রোববার রাতে বেলাব থানায় হত্যা মামলা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে গিয়াসের দেয়া তথ্যের বরাতে পরিদর্শক সালাউদ্দিন জানান, তিনি রংমিস্ত্রির ঠিকাদারের কাজ করেন। তার জমি ও বাড়ি নিয়ে প্রতিবেশী রানু শেখের সঙ্গে অনেকদিনের বিরোধ ছিল। তিনি নিয়মিত জুয়া খেলতেন। জুয়ার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, এলাকার লোকজন ও শ্বশুরবাড়ির অনেকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন বিভিন্ন সময়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ঋণ তার। পাশাপাশি আরেক নারীর সঙ্গে তার বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কও চলছিল।

গিয়াস পিবিআইকে আরও জানান, ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে রেনু শেখের সঙ্গে জমির বিরোধের জেরে তার তর্কাতর্কি হয়, যা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এরপর থেকে রেনুর উপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। সেইসঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপও ছিল। তিনি ভাবেন, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে রেনুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিতে পারবেন ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন। সেই ধারণা থেকে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

আরও পড়ুন:
হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে ‘হত্যা’, গৃহকর্মী আটক
হত্যা মামলায় নারীর যাবজ্জীবন
স্কুলছাত্র হত্যায় ১৭ কিশোরের কারাদণ্ড
বেয়াইনের বিরুদ্ধে বেয়াইকে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The hearing of the emperors bail will be canceled in the full bench on May 30

বাতিলই থাকছে সম্রাটের জামিন, ৩০ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি

বাতিলই থাকছে সম্রাটের জামিন, ৩০ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সম্রাটকে ঢাকার বিশেষ আদালত জামিন দেয়ার পর তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আগামী ৩০ মে আপিল বিভাগে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন বাতিল করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। পরে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছে চেম্বার আদালত।

সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আগামী ৩০ মে আপিল বিভাগে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

জামিন বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সম্রাট।

চেম্বার আদালতে সম্রাটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

১৮ মে হাইকোর্ট সম্রাটের জামিন বাতিল করে সাত দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে আদেশটি স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন সম্রাট।

গত ১১ মে সম্রাটকে জামিন দেয় ঢাকার বিশেষ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান।

সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগে মামলা হয়। মামলা করে দুদকও। সব মামলাতেই তিনি জামিনে ছিলেন।

দুদকের মামলা থেকে জানা গেছে, ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলা করেন।

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর মামলাটি তদন্ত করে সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদকের ওই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
সম্রাট জামিনে মুক্ত, থাকছেন হাসপাতালেই
সব মামলাতেই এখন জামিনে সম্রাট
সম্রাটের জামিন আবেদন খারিজ
অর্থ পাচার: সম্রাটের জামিন শুনানি হলো, আদেশ পরে
দুই মামলায় সম্রাটের জামিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Haji Selim from prison to hospital

কারাগার থেকে হাসপাতালে হাজি সেলিম

কারাগার থেকে হাসপাতালে হাজি সেলিম আদেশের পর হাজি সেলিমকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
কা‌র্ডিও‌লজি বিভাগের অধ্যাপক হা‌রিসুল হক বলেন, ‘আদালতের নির্দেশেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বেলা ১১টার সময় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি ৫১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি রয়েছেন। তিনি আমার অধীনেই চিকিৎসাধীন। ভর্তির পর তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া হয়েছে।’

দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজি মোহম্মদ সেলিমকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালটির কা‌র্ডিও‌লজি বিভাগের অধ‌্যাপক ডা. হা‌রিসুল হক নিউজবাংলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বেলা ১১টার সময় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি ৫১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি রয়েছেন। তিনি আমার অধীনেই চিকিৎসাধীন। ভর্তির পর তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট পাওয়া যাবে। তখন হয়তো এ বিষয়ে জানতে পারব। ওনার আগে থেকেই তো অনেক সমস্যা রয়েছে। ওনার হার্ট, ব্রেনে সমস্যা রয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

হাজি সেলিমের চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

হাইকোর্টের নির্দেশে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের পর দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য রোববার আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক সে দিনই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর আদেশ শোনার পর আদালত চত্ত্বরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন হাজি সেলিম। তাকে চিকিৎসা ও কারাগারে ডিভিশনের জন্যও আবেদন করেন তার আইনজীবী। পরে আদালত এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেয়।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিচারিক আদালত হাজি সেলিমকে ১৩ বছরের দণ্ড দিয়েছিল। রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন।

২০২০ সালের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চুয়াল বেঞ্চ তার ১০ বছরের সাজা বহাল রাখে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই রায় প্রকাশ হয়। এতে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ৯ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

এই হিসেবে ৯ এপ্রিলের মধ্যে কেন হাজি সেলিম আত্মসমর্পণ করেননি, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তার আইনজীবী।

তার আইনজীবী জানান, ২০২১ সালের মার্চ মাসে মৌখিকভাবে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে। এরপর চলতি বছরের ৯ মার্চ অনলাইনে রায়টি প্রকাশ করা হয়। আর রায়টি অফিশিয়ালি বিচারিক আদালতে কমিউনিকেট করা হয় গত ২৫ এপ্রিল। সে হিসেবে তারপর থেকে এক মাস, অর্থাৎ ২৫ মে পর্যন্ত সময় হাতে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
আত্মসমর্পণ করে আপিল করবেন হাজী সেলিম
হাজি সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় প্রকাশ
হত্যাচেষ্টা মামলা: হাজি সেলিমপুত্রের জামিন স্থগিত
করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাজি সেলিম হাসপাতালে
ঢাকার বাইরে ‘মানসিক প্রশান্তি’ খুঁজছেন হাজি সেলিম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
562 km of flood damaged roads in Sylhet

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের ৫৮২ কিলোমিটার সড়ক

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের ৫৮২ কিলোমিটার সড়ক পানি কমতে থাকায় ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বন্যায় সিলেটে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার প্রায় ৫৮২ কিলোমিটার সড়ক ডুবে যায়। এর মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৬৭ কিলোমিটার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন ১০ সড়কের ৬৫ কিলোমিটার পানিতে তলিয়ে যায়। এসব সড়কের বহুলাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভেঙে গেছে দুটি কালভার্টও।

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নামতে শুরু করেছে পানি। সোমবার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সব কটি পয়েন্টেই কমেছে। তবে এখনও বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত রয়েছে।

এদিকে পানি কমতে থাকায় ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বন্যায় সিলেটে ধান ও মাছের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার প্রায় ৫৮২ কিলোমিটার সড়ক ডুবে যায়। এর মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৬৭ কিলোমিটার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন ১০ সড়কের ৬৫ কিলোমিটার পানিতে তলিয়ে যায়। এসব সড়কের বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভেঙে গেছে দুটি কালভার্টও।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সড়কের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠছে। তবে এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ সড়ক পানির নিচে ডুবে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এবং সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

এদিকে প্লাবিত এলাকার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, পুনর্নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাসাবাড়ির তালিকা প্রণয়ন এবং নগরকে বন্যামুক্ত রাখতে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি উচ্চতর সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। রোববার মহানগরের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

এলজিইডির অধীন সিলেট জেলার ১০টি উপজেলার ১১১টি সড়কের ২৬৭ কিলোমিটার পানিতে তলিয়ে যায়। এসব সড়ক অনেক জায়গায়ই ভেঙে গেছে। এখন পর্যন্ত এই দপ্তরের হিসাবে বন্যায় ১৭২ কোটি ২৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সড়কগুলোতে পানি থাকায় এখন ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র জানা যাবে না। পুরো চিত্র জানতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে বন্যায় আমাদের ১১১টি রাস্তার ২৬৭ কিলোমিটার অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া সদর উপজেলা ও কোম্পানীগঞ্জে ২টি কালভার্ট ভেঙেছে।’

এলজিইডির অধীন কানাইঘাট উপজেলার কানাইঘাট-সুরাইঘাট সড়ক। রোববার ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, পানির তোড়ে স্থানে স্থানে ভেঙে গেছে সড়ক। সড়কের মাঝখানেই তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্তের। পানি উঠে যাওয়া বেশির ভাগ সড়কেরই এমন অবস্থা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এলজিইডির সিলেট কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বন্যায় জেলার গোয়াইনঘাটে ২৭টি সড়কে ৮২ দশমিক ১৩ কিলোমিটার, কানাইঘাটে ১৫টি সড়কে ৩০ দশমিক ৫ কিলোমিটার, জৈন্তাপুর উপজেলার ১১টি সড়কে ৩২ কিলোমিটার, সদরের ১২টি সড়কে ২১ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার, গোলাপগঞ্জে ১০টি সড়কে ২২ কিলোমিটার, কোম্পানীগঞ্জে চারটি সড়কে ৩৪ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার, দক্ষিণ সুরমার চারটি সড়কে সাড়ে তিন কিলোমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে একটি সড়কে দেড় কিলোমিটার, ওসমানীনগর উপজেলায় একটি সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার ও বালাগঞ্জে একটি সড়কে দেড় কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে নিউজবাংলাকে সওজের সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনও পানি পুরোপুরি না নামায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে তলিয়ে যাওয়া সব সড়কই সংস্কার করতে হবে।’

সওজ কার্যালয় সূত্র জানায়, সারি-গোয়াইনঘাট সড়কের ১২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের ১ দশমিক ২০, কানাইঘাটের দরবস্ত-কানাইঘাট-শাহবাগ সড়কের ১৪ দশমিক ৮০ এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পানির নিচে ছিল।

এ ছাড়া সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রশিদপুর-লামাকাজি সড়ক, কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক সড়ক, শেওলা-সুতারকান্দি সড়ক এবং বিমানবন্দর-বাদাঘাট-কুমারগাঁও সড়কের বিভিন্ন জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বন্যায় তলিয়ে গেছে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার ১৪টি ওয়ার্ডের ২৫০ কিলোমিটার সড়ক।

সড়কসহ বন্যার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী বিধায়ক রায় চৌধুরী।

রোববার দুপুরে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সভার আয়োজন করে সিলেট সিটি করপোরেশন। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সোমবার বলেন, ‘আগামী বর্ষায় যাতে বন্যার পানি মহানগরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য মহানগরের যেসব এলাকায় নদীর পাড় নিচু সেসব পাড় উঁচু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া সুরমা নদী খননের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘নগরের প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বাসাবাড়ির তালিকা প্রণয়ন ও করণীয় বিষয়ে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, সওজ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সিলেট শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন বন্যার্তরা
কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি
৩ নদীর মোহনার বাঁধ ভেঙে সিলেটে বাড়ল পানি
সুনামগঞ্জ শহরে বাসাবাড়িতে পানি  
বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ayman confessed to the three accused in the murder

আয়মন হত্যায় তিন আসামির ‘দায় স্বীকার’

আয়মন হত্যায় তিন আসামির ‘দায় স্বীকার’ আয়মন হত্যায় গ্রেপ্তার তিন আসামি নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
বেগমগঞ্জ মডেল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, আয়মন হত্যা মামলার তিন আসামি পাভেল, রাকিব ও নীরবকে রোববার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৌহিদুল ইসলামের খাস কামরায় নেয়া হয়।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামি নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৌহিদুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রোববার রাত ৯টার দিকে আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বেগমগঞ্জ পৌরসভার গণিপুর গ্রামের আয়মন হত্যা মামলার তিন আসামি পাভেল, রাকিব ও নীরবকে রোববার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তৌহিদুল ইসলামের খাস কামরায় নেয়া হয়। রাত ৯টার দিকে জবানবন্দি নেয়া শেষে আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে চৌমুহনী বাজারের মেইন রোডে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় আয়মনকে। আয়মন চৌমুহনীতে খোলা বাজারে জুতার ব্যবসা করতেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজিব জানান, রাকিব তার সহযোগীদের নিয়ে তিন মাস আগে আয়মনের কাছে চাঁদা দাবি করেন। তখন তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ আয়মনের অভিযোগের ভিত্তিতে রাকিবকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

তিন মাস জেল খেটে রাকিব গত ১৯ মে জামিনে বের হন। বের হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য রাকিব, পাভেল ও রিমন আয়মনকে ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয়রা তাকে লাইফ কেয়ার হাসপাতালে নেয়ার পথে আয়মন মারা যান।

এ ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় বেগমগঞ্জের আটিয়াবাড়ী এলাকা থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

এরপর রোববার সকালে আয়মনের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম আটক তিন যুবকসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত-আটজনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
চাঁদাবাজির অভিযোগ করায় আয়মনকে হত্যা, দাবি বাবার
নিজ দোকানের সামনে ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
19000 farmed fish in Ban water in Sylhet

সিলেটে বানের জলে ১৯ হাজার খামারের মাছ

সিলেটে বানের জলে ১৯ হাজার খামারের মাছ সিলেট মৎস্য অফিসের হিসাবে, বন্যায় ভেসে গেছে ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার মাছ। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, বন্যায় ২ কোটি ১৩ লাখ মাছের পোনা এবং ২ হাজার ৩০৫ টন মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৬৩ জন মৎস্যচাষী। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরে প্রায় দুই একর জায়গা নিয়ে মৎস্য খামার করেছেন কয়ছর আজিজ। খামারের মাছ বড়ও হয়ে গিয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যে বন্যা এসে ওলট-পালট করে দিয়েছে সব। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে কয়ছরের খামার। ভেসে গেছে সব মাছ।

আক্ষেপ করে কয়ছর বলেন, ‘নিজের সব পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলাম এখানে। এক বছর ধরে পরিশ্রম করেছি। অথচ হঠাৎ বন্যা এসে সব শেষ হয়ে গেল!’

প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এখন আমার পথে বসার অবস্থা।’

শুধু কয়ছর আজিজ নন, বর্তমানে এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিলেটের বেশির ভাগ মৎস্য চাষি। চলমান বন্যায় তলিয়ে গেছে জেলার প্রায় ১৯ হাজার পুকুর, দিঘি, হ্যাচারি ও মাছের খামার। জেলা মৎস্য অফিসের হিসেবেই এই বন্যায় ভেসে গেছে ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার মাছ।

রোববার সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের পাশেই বানের পানিতে মাছ ধরার ধুম পড়েছে। ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরেছেন অনেকে। এই সড়কের পাশেই মৎস্য খামার করেছিলেন নয়ন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘আমার খামার উপচে মাছ বেরিয়ে গেছে। এই মাছই লোকজন জাল দিয়ে ধরে খলুই ভরে মাছ নিয়ে যাচ্ছে।’

নয়ন জানান, বন্যা শুরু হওয়ার পর নেট দিয়ে খামারের চারপাশ উঁচু করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পানির তোড়ে ভেসে গেছে সব।

ঢল ও অতিবৃষ্টিতে গত ১১ মে থেকে সিলেটে বন্যা শুরু হয়। বন্যায় সিলেটের ১৩ উপজেলার ১১টিই প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। এতে বোরো ধানের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে আউশের বীজতলাও। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মৎস্য চাষিদেরও।

সিলেটে বানের জলে ১৯ হাজার খামারের মাছ

সিলেট জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সিলেটে ৫৩ হাজারের অধিক পুকুর, হ্যাচারি ও খামারে মাছের চাষ হয়। এর মধ্যে চলমান বন্যায় ১৮ হাজার ৭৪৯টিই তলিয়ে গেছে।

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে জানান, বন্যায় ২ কোটি ১৩ লাখ মাছের পোনা এবং ২ হাজার ৩০৫ টন মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৬৩ জন মৎস্য চাষি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের কোনো প্রণোদনা দেয়া যায় কি না- এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবে।’

এ ছাড়া পানি যদি আরও বাড়ে তাহলে আরও অসংখ্য মৎস্য খামারের ক্ষতি হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, শুক্রবার থেকেই সিলেটের নদ-নদীর পানি কমছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আপাতত পানি বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় মাছের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, বিশ্বনাথ, জৈন্তাপুর ও বিয়ানীবাজার উপজেলায়। এসব উপজেলায়ই মৎস্য খামার সবচেয়ে বেশি।

এর মধ্যে জকিগঞ্জে ৬ হাজার ৩৫০টি মাছের খামার তলিয়ে ৬২২ কোটি টাকা, গোয়াইনঘাটে ২ হাজার ৫৯২টি খামার তলিয়ে ১৪০ কোটি টাকা, কানাইঘাটে ২ হাজার ৩৫০টি খামার তলিয়ে ৬৪ কোটি টাকা, বিশ্বনাথে ২ হাজার ১৫০টি খামার তলিয়ে ১৫৫ কোটি টাকা, জৈন্তাপুরে ২ হাজার ১০০টি খামার তলিয়ে ৬৭৪ কোটি টাকা ও বিয়ানীবাজারে ১ হাজার ৪০২টি খামার তলিয়ে ২১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া সিলেট সদর উপজেলায় ৫৩৫টি, গোলাপগঞ্জে ৮৪৫টি, বালাগঞ্জে ৭০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১৪৫টি ও দক্ষিণ সুরমায় ২১০টি মাছের খামার তলিয়ে গেছে।

বন্যায় কয়েক হাজার মৎস্য চাষি সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেছেন জানিয়ে মৎস্য চাষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পাওয়া বিশ্বনাথের রুবা খানম বলেন, ‘অনেকে ব্যাংক ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। তাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।’

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে মানুষজন মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে এই খাতে বিনিয়োগ করবে না।’

আরও পড়ুন:
কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি
৩ নদীর মোহনার বাঁধ ভেঙে সিলেটে বাড়ল পানি
সুনামগঞ্জ শহরে বাসাবাড়িতে পানি  
বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার
বানের স্রোতে ভেঙে পড়েছে সেতু, ছাতক বিচ্ছিন্ন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After 7 days the water of Sunamganj is below the danger level

৬ দিন পর সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার নিচে পানি

৬ দিন পর সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার নিচে পানি সুনামগঞ্জে ঢলের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, ‘ঢল আর বৃষ্টিতে পৌর শহরের অনেক আবাসিক এলাকায় পানি উঠেছে। আমরা লোকজনের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। খাওয়ার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও দেয়া হচ্ছে সঙ্গে।’

পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে টানা ৬ দিন সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন সেটি নিচে নেমেছে।

শনিবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করলেও রাতে জেলায় সুরমার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থাকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা জানান, আবহাওয়া ভালো হওয়ায় নদীর পানি কমেছে। বর্তমানে জেলায় সুরমার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তাই বলা যায়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে তবে ছাতকে এখনও সুরমার পানি বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীর পানি কমে গেলেও শহরের বিভিন্ন এলাকার পানি স্থির থেকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটছে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের।

নবী নগর এলাকার রত্না বেগম বলেন, ‘এ বছর পানি দ্রুত এসে আমাদের গৃহস্থির সবকিছু ভিজে গেছে। মাঠের ধান গোলায় তোলার পরও তা ভিজে গেছে। এখন ঘরের মধ্যেই কোনো রকম দিন কাটছে আমাদের।’

ময়লা পানির সঙ্গে বসবাস

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বাসাবাড়ির পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবে ড্রেনেজ সমস্যার কারণে পানি দ্রুত নামছে না বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা।

মরাটিলা এলাকার সুবল দাস বলেন, ‘পানি কমছে খুব ধীরগতিতে। জমে থাকা পানি থেকে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা খুবই কষ্টকর।’

শহরের নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা অঞ্জন রায় বলেন, ‘হাওরের পানি শহরে চলে এলেও স্থির হয়ে থেকে যায়। এটার মূল কারণ সুনামগঞ্জের পৌর শহরের সব ড্রেন ময়লায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ। আর এখন এই ময়লা পানির সঙ্গেই ২ দিন ধরে আছি।’

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, ‘ঢল আর বৃষ্টিতে পৌর শহরের অনেক আবাসিক এলাকায় পানি উঠেছে। আমরা লোকজনের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। খাওয়ার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও দেয়া হচ্ছে সঙ্গে।’

আরও পড়ুন:
৩ নদীর মোহনার বাঁধ ভেঙে সিলেটে বাড়ল পানি
সুনামগঞ্জ শহরে বাসাবাড়িতে পানি  
বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার
বানের স্রোতে ভেঙে পড়েছে সেতু, ছাতক বিচ্ছিন্ন
বন্যা: সিলেট সিটি করপোরেশন কর্মীদের ছুটি বাতিল

মন্তব্য

p
উপরে