× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
On the ticket line from Friday
hear-news
player

‘শুক্রবার থেকে টিকিটের লাইনে’

শুক্রবার-থেকে-টিকিটের-লাইনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পাননি অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা
সাদ্দাম নামের টিকিটপ্রত্যাশী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার থেকে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছি, কিন্তু শনিবারও টিকিট পাইনি, রোববারও পেলাম না। তাই সোমবারের টিকিটের জন্য সিরিয়াল দিয়ে রাখছি।’

ঠাকুরগাঁওগামী ট্রেনের টিকিট কিনতে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শুক্রবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন। ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর দিন শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেও টিকিট পাননি।

হাল ছাড়েননি সাদ্দাম। রোববারও লাইনে দাঁড়ান তিনি, কিন্তু টিকিটের দেখা মেলেনি আজও। বাধ্য হয়ে সাদ্দাম সিরিয়াল দিয়ে রেখেছেন সোমবারের।

সাদ্দাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার থেকে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছি, কিন্তু শনিবারও টিকিট পাইনি, রোববারও পেলাম না। তাই সোমবারের টিকিটের জন্য সিরিয়াল দিয়ে রাখছি।’

ঈদের আগাম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে সাদ্দামের মতো অনেকেই টিকিট না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিক্রির সময় থাকলেও দুপুর ১২টার পরপরই টিকিট শেষ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ারকে কল করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুটি মোবাইল চুরি হয়েছিল মাসুদের।

সোমবারের টিকিটের সিরিয়াল

টিকিট না পেয়ে আজ অনেকেই সোমবারের টিকিটের জন্য সিরিয়াল দিয়ে রেখেছেন। তাদের একজন মধ্যবাড্ডা থেকে আসা মাহমুদুল হাসান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসেছিলাম রোববারের টিকিটের জন্য, কিন্তু পেলাম না। তাই সোমবারের টিকিটের সিরিয়াল দিচ্ছি।’

রেলের স্টাফ পরিচয় দেয়া ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘এবার অনেক কড়াকড়ি, ভাই। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। কালকের টিকিটের জন্য তাই আজকেই সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি। বাড়ি তো আমাদেরও যেতে হবে।’

ইয়াসির জানালেন, তার বাড়ি গাইবান্ধা। রংপুর কিংবা লালমনিরহাট এক্সপ্রেসের টিকিট প্রয়োজন তার।

গাইবান্ধার টিকিটের জন্য কমলাপুরে আসেন সুবল চন্দ্র। রোববার টিকিট না পেয়ে সোমবারের জন্য লাইনে দাঁড়ান তিনি।

রোববার দুপুর থেকেই সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টোকেন নিয়ে যাব। তারপর টিকিট পাব কি না জানি না।’

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে আসা মিল্টন বিশ্বাস বলেন, ‘এখন সিরিয়াল দিতে আসছি। সিরিয়াল দিলে আমাকে একটি টোকেন নাম্বার দেবে। এ জন্য শুধু আমার নাম লিখে যেতে হবে।

‘কালকে টিকিট কাটার জন্য আসতে হবে। তখন জাতীয় পরিচয়পত্র সহকারে টিকিটের জন্য আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
এনআইডির মাধ্যমে দেয়ায় ট্রেনের টিকিটে ধীরগতি
টিকিটের জন্য অপেক্ষা অন্তহীন
ফুলবাড়িয়া রেল কাউন্টার সরব ৫৪ বছর পর
এনআইডি ছাড়া মিলছে না ট্রেনের টিকিট
ভিড় নেই চট্টগ্রাম স্টেশনে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Money laundering case Barkat Rubel allegations hearing on June 22

অর্থ পাচার মামলা: বরকত-রুবেলের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন

অর্থ পাচার মামলা: বরকত-রুবেলের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল। ছবি: সংগৃহীত
তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এদিন মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি হয়। শেষ না হওয়ায় আগামী ১২ জুন নতুন দিন ধার্য করা হয় অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য।

২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১২ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ দিন ধার্য করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এদিন মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি হয়। শেষ না হওয়ায় আগামী ১২ জুন নতুন দিন ধার্য করা হয় অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য।

এর আগে গত ৭ মার্চ আসামিদের নির্দোষ দাবি করে আইনজীবী শাহিনুর রহমান অব্যাহতির আবেদন করেন। এরপর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। তবে তা শেষ না হওয়ায় অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আদালত দিন ধার্য করে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, আসিকুর রহমান ফারহান, খন্দোকার মোহতেসাম হোসেন বাবর, এ এইচ এম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মুহাম্মদ আলি মিনার ও তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম।

২০২১ সালের ৩ মার্চ বরকত, রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উত্তম কুমার বিশ্বাস। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

২০২০ সালের ২৬ জুন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ২ হাজার কোটি টাকা উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন বরকত ও রুবেল। এ ছাড়া তারা মাদক কারবার ও ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসি ও নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ডাম্প ট্রাক, বোল্ডার ও পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন দুই ভাই।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন বরকত-রুবেল। রাজবাড়ীতে ১৯৯৪ সালে এক আইনজীবী হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন তারা।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৮ জুন মিরাজ আল মাহমুদ তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বরকত ও রুবেল অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

আরও পড়ুন:
প্ল্যাকার্ড নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করবেন মাদক মামলার আসামি
খাদ্যে ভেজালসহ নানা অনিয়ম রোধে ডিএনসিসির অভিযান
শেবাচিম হাসপাতাল থেকে আটক ২ দালাল, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড
চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা: সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে
আদালতের হাজতখানা থেকে আসামি চম্পট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The report of the murder of the heroine Shimu is 26 June

অভিনেত্রী শিমু হত্যার প্রতিবেদন ২৬ জুন

অভিনেত্রী শিমু হত্যার প্রতিবেদন ২৬ জুন চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। ফাইল ছবি
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল এদিন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য আদালত নতুন এ দিন ধার্য করে।

অভিনয়শিল্পী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৬ জুন দিন ঠিক করেছে আদালত।

ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ইয়াসমিনের আদালত বৃহস্পতিবার নতুন এ দিন ধার্য করেন।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল এদিন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য আদালত নতুন এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২০ জানুয়ারি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও নোবেলের বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদকে রিমান্ড চলাকালীন হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ওই সময় আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে আসামি নোবেল এবং ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিশকাত শুকরানার আদালতে আসামি ফরহাদ জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

এর আগে ১৮ জানুয়ারি আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চুন্নু মিয়া। শুনানি শেষে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নোবেল ও তার বাল্যবন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা করেন শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ। মামলায় বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে পরিচয় মিলছিল না। পরে ওইদিন রাতে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নাম-পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টার জন্য পিবিআইকে খবর দেয়া হলে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেন। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ার পর তার নাম-পরিচয়, বয়স ও বাসার ঠিকানা শনাক্ত করে পিবিআই।

চিত্রনায়িকা শিমুর মরদেহ রাখা হয় রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) মর্গে। সেখানে যাওয়ার পরই শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদকে আটক করে র‌্যাব।

ওই সময় তাদের কাছ থেকে একটি রক্তমাখা প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। পরে তাদের পুলিশে হস্তান্তর করে র‌্যাব।

স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর কলাবাগান এলাকার বাসায় থাকতেন শিমু। গত ১৬ জানুয়ারি সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি আর ফেরেননি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় রাতেই কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন ১৭ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শিমুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
অভিনেত্রী শিমু হত্যা: পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ
হত্যাকারীদের ফাঁসি চান অভিনেত্রী শিমুর বাবা
শিমুর সঙ্গে ২ বছরেও কথা হয়নি: জায়েদ
নিখোঁজের আগের ঘটনা জানালেন শিমুর বোন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Flood Sylhet City Corporation employees leave canceled

বন্যা: সিলেট সিটি করপোরেশন কর্মীদের ছুটি বাতিল

বন্যা: সিলেট সিটি করপোরেশন কর্মীদের ছুটি বাতিল
১৩ দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে সিলেটে ফিরে নগরের একাধিক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও বন্যার্তদের সেবায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে ফিরে বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

নগরের পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় নগর ভবনে জরুরি সভাও ডেকেছেন তিনি।

১৩ দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে সিলেটে ফিরে নগরের একাধিক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘সিলেট মহানগরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নগরের নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। খাবার পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

‘দ্রুত সময়ের মধ্যে প্লাবিত এলাকার পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাঠানো হয়েছে। খাবার পানির সংকট নিরসনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হবে।’

তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দল কাজ করছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান মেয়র আরিফুল।

তিনি বলেন, ‘অব্যাহতভাবে ঢল ও অতিবৃষ্টি হলে সুরমা নদী খনন ছাড়া কোনোভাবেই সিলেট নগরের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নদী খননের বিষয়টি বলা হচ্ছে। কারণ, সুরমা নদী পানির ধারণক্ষমতা হারিয়েছে। খনন হলে মানুষের এই ভোগান্তি হতো না।

‘পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার জেলার মনু নদী খনন হওয়ায় মৌলভীবাজার শহর বন্যামুক্ত হয়েছে। সুরমা নদী খনন করা হলে সিলেট শহরও বন্যামুক্ত থাকবে।’

সিটি করপোরেশন জানিয়েছেন, পানিবন্দি মানুষকে ঠাঁই দিতে সিটি করপোরেশেনের সাতটি ওয়ার্ডে খোলা হয়েছে ১৭টি আশ্রয়কেন্দ্র।

অব্যাহত ঢল ও অতিবৃষ্টিতে গত ১১ মে থেকে সিলেটে বন্যা সৃষ্টি হয়। সিলেটের বেশিরভাগ এলাকাই এখন তলিয়ে আছে।

জেলা ত্রান ও দুর্যোগ বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পানিবন্দি আছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বর্ষার আগেই নদী খনন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিস্তায় বাড়ছে পানি, হুমকিতে ইচলি বাঁধ
বন্যার পানি গোটা সিলেটে
বন্যায় কোনো কিছুই ঠিক নেই সিলেট নগরীর
আসামে বন্যা: পানির স্রোতে উল্টে গেল ট্রেনের বগি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why flood in Sylhet again and again

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

বারবার সিলেটে কেন বন্যা বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেটের বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে প্রধান নদীগুলো বিশেষত সুরমা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া, নগর ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জলাশয় ভরাট, দখল হওয়া এবং সিলেটের উজানে মেঘালয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই এই বন্যা।

দেশের অনেক ভাটি অঞ্চল যখন পুড়ছে তীব্র দাবদাহে, তখন সিলেট ভাসছে জলে। সেখানে বিরাজ করছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি।

এর আগে গত এপ্রিলে বন্যায় তলিয়ে যায় সিলেটসহ আশপাশের হাওর এলাকার ফসল। এর মাসখানেক না যেতেই সিলেটে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যা।

এবার বন্যা এসেছে আরও ভয়ঙ্কর রূপে। তলিয়ে গেছে প্রায় পুরো সিলেট। সুনামগঞ্জেরও বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন।

বারবার কেন সিলেটে বন্যা হচ্ছে? বন্যা কেন এত তীব্র আকার ধারণ করছে?

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে প্রধান নদীগুলো বিশেষত সুরমা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া, নগর ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জলাশয় ভরাট, দখল হওয়া এবং সিলেটের উজানে মেঘালয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই এই বন্যা।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

বুধবার দুপরে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেনও এসব কারণকে দায়ী করেছেন। বলেছেন, ‘সিলেটে এই মৌসুমে সব সময়ই ঢল নামে। আমাদের ছেলেবেলায়ও এমনটি দেখেছি। তখন পানি আটকে থাকত না, চলে যেত। কারণ আমাদের শহরে অনেক পুকুর ছিল।

‘প্রত্যেক বাড়ির সামনে পুকুর ছিল। আর সিলেটকে বলা হতো দিঘির শহর। এখন আমরা নগরের ভেতরের সব পুকুর-দিঘি ভরাট করে বড় বড় বিল্ডিং করেছি। হাওরগুলো ভরাট করে ফেলেছি। এ ছাড়া প্রধান নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। খালি মাঠগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে পানি নামতে পারতেছে না। যেকোনো দুর্যোগেই সিলেটের জন্য এটা একটা ভয়ের কারণ।’

নদীর তলদেশ ভরাট

সিলেটের প্রধানতম নদী সুরমার দুই রূপ। বর্ষায় দুকোল উপচে ডুবিয়ে দেয় জনবসতি। আর গ্রীষ্মে পানি শুকিয়ে পরিণত হয় মরা গাঙে। জেগে উঠে চড়।

প্রায় ২৪৯ কিলোমিটার দৈর্ঘের সুরমা দেশের দীর্ঘতম নদী। ভারতের বরাক নদী থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনায় মিলিত হয়েছে। এই নদী বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে পানিহীন, মৃতপ্রায়।

পলি জমে ভরাট হয়ে পড়েছে নদীর তলদেশ। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সুরমা হয়ে পড়ে বালুভূমি। অপরদিকে অল্প বৃষ্টিতেই নদী উপচে নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দেয় বন্যা। বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে তলিয়ে যায় হাওরের ফসল।

ভরাট হয়ে পড়েছে এ নদীর উৎসমুখও। নদীর উৎসমুখের ৩২ কিলোমিটারে জেগেছে ৩৫টি চর। দুই দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যৌথ নদী কমিশনে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আটকে আছে উৎসমুখ খননও।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সুরমা নদীর উৎসমুখ খননে ২০১২ সালে সিলেট থেকে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর নদী খননে সমীক্ষা চালানো হয়।

সমীক্ষার পর নদী খননে উদ্যোগ নেয়ার কথা ওই সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এরপর এ বিষয়ে আর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

পরে ২০১৮ সালে সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে ৬০০ মিটার সুরমা নদী খনন করা হয়। ওই সময় সিলেট সদর উপজেলা এবং কানাইঘাট উপজেলার কয়েকটি অংশে নদী খননের জন্য প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির মৌসুমে নদী উপচে পড়ে পানি। ভরাট হয়ে গেছে সিলেটের অপর প্রধানতম নদী কুশিয়ারাও। এই দুই নদী খনন ছাড়া বন্যা থেকে উত্তোরণ সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে আছে। এ ছাড়া নাগরিক বর্জ্য, বিশেষ করে প্লাস্টিকজাত দ্রব্য সুরমা নদীর তলদেশে শক্তভাবে বসে আছে। এ কারণে নদী পানি ধারণ করতে পারছে না।

‘যৌথ নদী হওয়ায় নদীর উৎসমুখ ভরাট করতে দুই দেশের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাই আমরা সিলেট মহানগরের অংশে সুরমা নদী খননের দাবি অসংখ্য বার জানিয়েছি। সেই দাবি আমলে নিলে নদীর পানি উপচে বন্যা হতো না, সিলেট নগরের ছড়া ও খালের পানিও অনায়াসে নেমে যেতে পারত।’

সুরমাসহ এই এলাকার নদীগুলো খননের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুরমাসহ এই এলাকার বেশির ভাগ নদীই নাব্য হারিয়েছে। এগুলো খনন করা প্রয়োজন। নদী খননের জন্য গত বছর আমরা ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সম্ভাব্যতা যাছাই শেষে এটি এখন মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন।’

আগামী বর্ষার আগেই নদী খনন করা হবে উল্লেখ করে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের নদীগুলো খননের ব্যাপারে আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। আমরা নদী খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী বর্ষার আগেই নদীগুলো খনন করতে হবে।’

নগরের জলাশয় ভরাট ও দখল

সাগরদিঘির পাড়, লালদিঘির পাড়, রামেরদিঘির পাড়সহ সিলেট নগরীর অন্তত ২০/২৫টি এলাকার নাম এমন। দিঘির নামে এলাকার নাম ঠিকই আছে, কিন্তু নেই দিঘিগুলো। ভরাট হয়ে গেছে অনেক আগেই। গত তিন দশকে ভরাট হয়ে গেছে নগরীর অর্ধশতাধিক দিঘি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসেবে, ১৫/২০ বছর আগেও সিলেট নগরে অর্ধশতাধিক বৃহৎ দিঘি ছিল। অথচ এখন ঠিকে আছে মাত্র ১০/১১টি। বাকিগুলো ভরাট হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হিসাবে, সিলেটে পুকুর-দিঘি মিলিয়ে তিন শতাধিক জলাশয় ছিল। এর দুই তৃতীয়াংশই ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জলাশয় ভরাট করে সরকারি প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে।

বারবার সিলেটে কেন বন্যা

এ ছাড়া সিলেটের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোট-বড় প্রায় ২৫টি প্রাকৃতিক খাল। যা ‘ছড়া’ নামে পরিচিত। পাহাড় বা টিলার পাদদেশ থেকে উৎপত্তি হয়ে ছড়াগুলো গিয়ে মিশেছে সুরমা নদীতে। এসব ছড়া দিয়েই বর্ষায় পানি নিষ্কাশন হতো। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না।

এখন অনেক স্থানে এসব ছড়ার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। ছড়াগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৩টি বড় ছড়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৩ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরেই এসব ছড়ার দু’পাশ দখল করে রেখেছে স্থাপনা নির্মাণ করেছে অবৈধ দখলদাররা।

এ ছাড়া নগরের উপশহর এলাকার হাওর ভরাট করে গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা। বাঘা এলাকার হাওর ভরাট করে হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট।

জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরের পানি ধারণের ক্ষমতা কমে গেছে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এখন বৃষ্টি হলেই নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আর ঢল নামলে বন্যা হয়ে যায়।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩০ কিলোমিটার ছড়া উদ্ধার করেছি। এতে নগরীতে আগেরমতো আর জলাবদ্ধতা হয় না। বেশি বৃষ্টিতে নগরীর কিছু এলাকায় পানি জমলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা নেমে যায়।

‘আমরা নগরের জলাশয়গুলো রক্ষায়ও বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আর কোনো জলাশয় ভরাট করতে দেয়া হচ্ছে না।’

উজানে অতিবৃষ্টি

সিলেটে গত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে। এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে চেরাপুঞ্জিতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চেরাপুঞ্জিতে গত পাঁচ দিনে ১ হাজার ২৩৮ মিলিমিটিার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটেও অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। এই পানি নদী ধারণ করতে পারছে না।’

বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুল হক সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে এসেও একই তথ্য জানান। বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। এক দিনেই প্রায় ১ হাজার ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ঢল হয়ে সিলেটের দিকে নামছে, ফলে বন্যা দেখা দিয়েছে।’

পরিবেশ আন্দোলনের নেতা আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘ভারতের উজানের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের সঙ্গে প্রচুর মাটি আর বালুও আসছে। কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতে বিশেষ করে মেঘালয় বৃক্ষশূন্য করার কারণেই এমন ভূমিক্ষয় হচ্ছে।

‘এতে সুরমাসহ সিলেটের অন্য নদ-নদীর তলদেশ আরও ভরাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সুরমা, কুশিয়ারাসহ সিলেটের অন্য নদ-নদীর খনন করা প্রয়োজন। তবেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

গত এপ্রিলে সুনামগঞ্জের হাওরের পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের নদীগুলো খননে উদ্যোগ নেয়া হবে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় কোনো কিছুই ঠিক নেই সিলেট নগরীর
আসামে বন্যা: পানির স্রোতে উল্টে গেল ট্রেনের বগি
১৮ বছরের মধ্যে সিলেটে সবচেয়ে বড় বন্যা
সুনামগঞ্জে পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of the suspect in the murder of the chairmans child was recovered

চেয়ারম্যানের সন্তান হত্যায় সন্দেহভাজনের মরদেহ উদ্ধার

চেয়ারম্যানের সন্তান হত্যায় সন্দেহভাজনের মরদেহ উদ্ধার বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে শিশু আল রাফসানকে। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি চেয়ারম্যানের ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তি টাওয়ার থেকে পড়ে মারা গেছেন। স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করেছিল বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের শিশুপুত্র আল রাফসানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর পাশের ইউনিয়নের একটি টাওয়ারের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক ব্যক্তির মরদেহ। এর আধাঘণ্টা আগে পাশের ভাঙ্গা উপজেলায় এক ইউনিয়নে নিহত ব্যক্তির ভাইকে পিটুনি দিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

এসব ঘটনা বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় ঘটেছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) ফাহিমা কাদের চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি চেয়ারম্যানের ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি টাওয়ার থেকে পড়ে মারা গেছেন। তাকে স্থানীয়রা ধাওয়া করেছিল বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা তিনি নিশ্চিত করেননি।

মিজানুর রহমান সদর উপজেলার ঢেউখালী ইউপির চেয়ারম্যান। তিনি সাতরশি ইউনিয়নের সদরপুর পোস্ট অফিসের কাছে নতুন বাড়ি করেছেন। সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। সেই বাড়িতেই বুধবার বিকেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার ৯ বছরের ছেলে রাফসান ও স্ত্রী দিলজান বেগমকে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিমা জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাফসানকে কুপিয়েছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তার মা। গুরুতর অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রাফসানকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওমর ফয়সাল নিউজবাংলাকে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার আগেই রাফসানের মৃত্যু হয়। দিলজান বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: বাড়িতে ঢুকে চেয়ারম্যানের শিশুসন্তানকে কুপিয়ে হত্যা

চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাশের ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের বালিয়াহাটি বাজারে স্থানীয়রা ইমরান মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে পিটুনি দেয়। ভাঙ্গা থানা পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এরপর সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার আটরশি ইউনিয়নে একটি মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ারের নিচে পাওয়া যায় ইমরানের ভাই এরশাদ মোল্লার মরদেহ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিমা নিউজবাংলাকে জানান, এরশাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান মিজানের ছেলে রাফসানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। এর জেরে স্থানীয়রা এরশাদকে ধাওয়া দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, জনরোষ থেকে বাঁচতে তিনি টাওয়ারে ওঠেন। তবে তিনি নিজ থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন নাকি তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।

ক্ষোভের জেরেই তার ভাইকে আরেক এলাকায় পেয়ে স্থানীয়রা পিটুনি দিয়েছে বলে ধারণা পুলিশের এই কর্মকর্তার।


এরশাদ কেন সন্দেহভাজন?

চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের সড়কের পাশে মুদির দোকান আছে স্থানীয় আদেল ব্যাপারীর। হামলার ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা হয়েছে বলে আশপাশে চেঁচামেচি হচ্ছিল। তখন আমি এরশাদকে চাপাতি হাতে দৌড়ে যেতে দেখি। বিষয়টি বুঝতে পারিনি, সবার সঙ্গে আমিও দৌড়ে চেয়ারম্যান বাড়িতে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত পড়ে আছে চেয়ারম্যানের ছেলে ও স্ত্রী।’

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার নিউজবাংলাকে জানান, আদেলের মতো এলাকার অনেকেই এরশাদকে পালিয়ে যেতে দেখেছে। ইউপি চেয়ারম্যান মিজানের ওপর এরশাদ ক্ষিপ্ত ছিলেন। এ কারণে এই হামলা চালিয়েছেন বলে ধারণা ভাইস চেয়ারম্যানের।

কী কারণে এরশাদ ক্ষিপ্ত ছিলেন?

ভাইস চেয়ারম্যান জানান, এরশাদ ও ইমরান সদরপুরের ঢেউখালী ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির ছেলে। এরশাদ দুই সন্তানের বাবা। তার স্ত্রীর নাম রাহিমুন। স্ত্রীর সঙ্গে এরশাদের অনেক দিন ধরে কলহ চলছিল। রাহিমুনকে তিনি তালাক দিতে চেয়েছেন। রাহিমুন তাতে নারাজ ছিলেন।

ভাইস চেয়ারম্যান আরও জানান, তালাকের এই ইস্যুটি সালিশ পর্যন্ত গড়ায়। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গত সোমবার এই সালিশ বসে। তাতে ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর ও ঢেউখালী ইউপির চেয়ারম্যান মিজান দুজনই উপস্থিত ছিলেন।

সালিশে এরশাদকে তালাক দিতে মানা করেন ইউপি চেয়ারম্যান মিজান। তবে এরশাদ জানান, স্ত্রীকে তিনি তালাক দিবেনই। এরপর চেয়ারম্যান তাকে শর্ত দেন, তালাক দিতে হলে আগে দুই দিনের মধ্যে স্ত্রীকে দেনমোহরের সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

ভাইস চেয়ারম্যানের ধারণা, সালিশে চেয়ারম্যান মিজানের এই শর্তে ক্ষুব্ধ ছিলেন এরশাদ। বুধবার তার দেনমোহর পরিশোধ করার কথা ছিল। সে দিনই চেয়ারম্যানের বাড়ি হামলা করেন এরশাদ।

তবে এরশাদের ভাইকে পিটুনির বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এসব ঘটনার বিষয়ে চেয়ারম্যান মিজানের মন্তব্য জানতে তাকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ করেননি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিমা জানান, শিশু রাফসানের মরদেহ সদর থানায় আছে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে পাঠানো হবে। আর রাফসানের মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হচ্ছে। চেয়ারম্যান মিজান ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন। হামলার খবর শুনে তিনি ফরিদপুর আসেন। তবে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি আবার ঢাকায় যাচ্ছেন।

এদিকে ঢেউখালী ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহীদ সরদার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানিয়েছেন, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নিহত এরশাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাত ১০টার দিকে আগুন দেয়া হয় এরশাদের বাড়িতে। তবে সেখানে কেউ ছিলেন না বলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাড়িটি আগুনে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে চেয়ারম্যানের শিশুসন্তানকে কুপিয়ে হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Being an industrialist is not a guarantee ACC lawyer

শিল্পপতি হলেই জামিন নয়: দুদক আইনজীবী

শিল্পপতি হলেই জামিন নয়: দুদক আইনজীবী
দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আসামিপক্ষের দাবি অনুযায়ী পৃথক পৃথক অপরাধ দেখলে হবে না। এটা ছিল পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। যেখানে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার হয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতির বিচার হয়, সাবেক সেনা প্রধানের বিচার হয়, সেখানে একজন শিল্পপতি বলে জামিন নেয়ার কোনো সুযোগ নাই।’

অর্থ আত্মসাতের মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চার সদস্য এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান ও মোহাম্মদ শাহজাহান আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। আবেদনের আংশিক শুনানি হয়েছে বুধবার।

বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানি শেষে জামিন আবেদন বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন শুনানি হয়।

আদালতে জামিনের আবেদন করা এম এ কাশেম ও রেহানা রহমানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি, বেনজীরের পক্ষে ছিলে এএফ হাসান আরিফ আর শাহজাহানের পক্ষে ছিলেন ফিদা এম কামাল।

অন্য দিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মুহাম্মদ মোর্শেদ, ডেপুটি অ্যাটনি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ, একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আগাম জামিন প্রার্থনা করে বলেন, ‘আদালতের আদেশের মাধ্যমেই তারা জমি কিনেছেন। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সুতরাং এ অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলে না। এ ছাড়া অনেকেই আছেন শিল্পপতি। এ অবস্থায় আমরা জামিন প্রার্থনা করি।’

জামিন বিরোধিতা করে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আসামিপক্ষের দাবি অনুযায়ী পৃথক পৃথক অপরাধ দেখলে হবে না। এটা ছিল পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। যেখানে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার হয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতির বিচার হয়, সাবেক সেনা প্রধানের বিচার হয়, সেখানে একজন শিল্পপতি বলে জামিন নেয়ার কোনো সুযোগ নাই।’

শুনানিতে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘দুর্নীতিবাজের কোনো গ্রাউন্ড নাই। একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এখানে অপরাধের গভীরতা দেখতে হবে। এ অবস্থায় তাদের আবেদন খারিজ করে জেলে পাঠানোর জন্য আদালতের কাছে আদেশ প্রার্থনা করছি।’

জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে আসামিপক্ষ ফের তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে চান। যে কারণে আদালত বৃহস্পতিবার শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দেয়।

গত ৫ মে মামলা করে দুদক। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, নর্থ সাউথের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দীন আহমেদ, আশালয় হাউজিংয়ের আমিন মো. হিলালী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড আর্টিকেলস (রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় একটি দাতব্য, কল্যাণমুখী, অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারের সুপারিশ বা অনুমোদনকে পাশ কাটিয়ে বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের কিছু সদস্যের অনুমোদন বা সম্মতির মাধ্যমে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্টের নামে ৯ হাজার ৯৬ দশমিক ৮৮ ডেসিমেল জমির ক্রয়মূল্য বাবদ ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা অতিরিক্ত অর্থ অপরাধজনকভাবে প্রদান/গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের টাকা আত্মসাতের হীন উদ্দেশ্যে কম দামে জমি কেনা সত্ত্বেও বেশি দাম দেখিয়ে প্রথমে বিক্রেতার নামে টাকা দেন আসামিরা।

পরে বিক্রেতার কাছ থেকে নিজেদের লোকজনের নামে নগদ চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে আবার নিজেদের নামে এফডিআর করে রাখেন তারা। সে এফডিআরের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

আরও পড়ুন:
নর্থ-সাউথের বিলাসবহুল ১০ গাড়ি বিক্রির নির্দেশ
নর্থ সাউথের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের ৫ জনের নামে দুদকের মামলা
কুড়িল ফ্লাইওভারে নিহত নর্থ সাউথের ছাত্রী
নর্থ-সাউথে অনিয়ম: রেহেনা ও বেনজীরকে দুদকে তলব
নর্থ সাউথের বোর্ড অব ট্রাস্টিদের দুর্নীতির তদন্ত দ্রুত শেষের দাবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The child Samiul was killed to avenge the divorce

বিয়েবিচ্ছেদের প্রতিশোধ নিতেই শিশুকে খুন

বিয়েবিচ্ছেদের প্রতিশোধ নিতেই শিশুকে খুন শিশু সামিউলকে হত্যায় অভিযুক্ত ফজলুল হক ও অনীতা রানী। ছবি: নিউজবাংলা
বগুড়ার এসপি সুদীপ কুমার বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড ফজলুল একাই করেছে। অনীতা মোবাইলে নকল মা সেজে ফজলুলকে সহযোগিতা করায় অপরাধ করেছে। হত্যার ঘটনায় দুইজনের নামে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

বিয়ের দু সপ্তাহের মাথায় স্বামীর সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদ করেন নিহত শিশু সামিউলের মা। এর কারণও ছিল সামিউল। বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন ফজলুল হক। তাই প্রতিশোধ নিতে খুন করেন শিশু সামিউলকে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে বগুড়ার শাজাহানপুরের লাউয়ের ক্ষেত থেকে ৮ বছরের শিশু সামিউলের গলায় ফাঁস দেয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বিকেলে সামিউলের সৎ বাবা ফজলুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ও সহযোগিতা করার অপরাধে অনীতা রাণীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফজলুল শাজাহানপুরের খরনা ইউনিয়নের কমলাচাপড় গ্রামের এবং অনীতা চেলোগ্রামের বাসিন্দা। তারা একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি সুদীপ কুমার জানান, সামিউলের বাবা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে মা সালেহা বেগম গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ফজলুল হককে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে ফজলুল সৎ ছেলে সামিউলকে মেনে নিতে পারেননি।

তিনি প্রায়ই সামিউলকে সালেহার মা ও বোনের কাছে রেখে আসতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। ফজলুল প্রায়ই রাতের বেলা সামিউলকে ঘরের বাইরে রেখে দরজা বন্ধ করে দিতেন। এমনকি খাবার না দিয়ে তাকে অনাহারে রাখতেন। ঈদে সামিউল তার মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যেতে চাইলে ফজলুল তাদের মারধর করে সালেহার বোনের বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

এসব কারণে গত ১১ মে সালেহা ফজলুলের সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদ করেন। এ ঘটনার পর থেকেই ক্ষুব্ধ হন ফজলুল।

এসপি আরও জানান, পরে ১৬ মে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সামিউলের মাদ্রাসায় যান ফজলুল। সেখানে গিয়ে সামিউলকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। কিন্তু মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী মায়ের অনুমতি ছাড়া ছাত্রদের বাইরে যাওয়ার নিষেধ থাকায় অসম্মতি জানান মাদ্রাসার শিক্ষক আবু মুছা।

এ সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অনীতা রানী সামিউলের মা সেজে মোবাইলে কথা বলেন মাদ্রাসা শিক্ষকের সঙ্গে। কথা বলে নিশ্চিত হলে সামিউলকে ফজলুলের সঙ্গে যেতে দেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

এর পরপরই ফজলুল সামিউলকে মানিকদিপা এলাকার লাউ ক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে সামিউলের গলায় সুতার রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

সুদীপ কুমার বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড ফজলুল একাই করেছে। অনীতা মোবাইলে নকল মা সেজে ফজলুলকে সহযোগিতা করায় অপরাধ করেছে। তবে অনিতা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতেন না। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনের নামে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
লাউয়ের ক্ষেতে শিশুর মরদেহ 

মন্তব্য

উপরে