× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Inauguration of Bangladesh Pavilion at Venice Art Biennale
hear-news
player

ভেনিস আর্ট বিএনালে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন

ভেনিস-আর্ট-বিএনালে-বাংলাদেশ-প্যাভিলিয়ন-উদ্বোধন ভেনিস আর্ট বিএনালে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত
এ চিত্র প্রদর্শনীকে চিত্রকলা বিষয়ে সারা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পীরা এই আসরে তাদের চিত্রকর্ম প্রদর্শন করে থাকেন।

ইতালির ভেনিস নগরীতে ৫৯তম আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনীতে (লা বিএনালে দি ভেনেযিয়া) বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার ছয় মাসের এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান।

এ চিত্র প্রদর্শনীকে চিত্রকলা বিষয়ে সারা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পীরা এই আসরে তাদের চিত্রকর্ম প্রদর্শন করে থাকেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সফরকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সমন্বয়ক সাবিহা পারভীন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের কমিশনার লিয়াকত আলী লাকী, মিলানে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এম জে এইচ জাবেদ, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের কিউরেটর ভিভিয়ানা ভানুচি, চিত্র সমালোচক ও বিশ্লেষক অধ্যাপক মইনুদ্দিন খালিদ, বাংলাদেশ ও ইতালির অংশগ্রহণকারী শিল্পী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ও ইতালির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিত্রানুরাগী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আহসান বলেন, ‘চিত্রকর্মের রয়েছে একটি সর্বজনীন আবেদন যা দেশকালের সীমা ছাপিয়ে যায়। আর এটি বিশ্ব নাগরিকদের মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় করতে জোরাল ভূমিকা রাখে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ইতালির কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে ভেনিসে চলমান এই চিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।’

অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন বলেন, ‘শিল্প- সংস্কৃতিতে বাংলাদেশের চিরন্তন ঐতিহ্য রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার এই ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চায়।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন। বিশ্বের ৮০টি দেশের অংশগ্রহণে জাকজমকপূর্ণ এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস, জামালউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ ইকবাল, হারুন-আর-রশীদ, সুমন ওয়াহিদ প্রমীতি হাসানের শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।

এছাড়া ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী মার্কো কাসারা, ফ্রাংকো মারোক্কো এবং জোসেপ্পে দিয়েগো স্পিনেরলী কিছু শিল্পকর্ম বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে স্থান পায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একটি ককটেল রিসেপশানের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
গ্রামটির আছে নিজস্ব পতাকা-মুদ্রা, হতে চায় রাষ্ট্র
মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন রোম দূতাবাসের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
UAE president to be remembered in history PM

আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
দেশটির প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে শুক্রবার রাতে আবুধাবির যুবরাজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে শোকবার্তা পাঠান প্রধানমন্ত্রী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে বাংলাদেশের ‘বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, গতিশীল নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা ও আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।

দেশটির প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে শুক্রবার রাতে আবুধাবির যুবরাজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে শোকবার্তা পাঠান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শোক ও দুঃখের এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মহামান্যের প্রতি এবং আপনার মাধ্যমে রাজপরিবারের শোকাহত সদস্যদের এবং আমিরাতি ভাই-বোনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক, আবুধাবির একজন মহান শাসক এবং মুসলিম উম্মাহর একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তার গতিশীল নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় উন্নয়ন এবং ইসলামিক অগ্রগতির প্রতি তার আত্মনিবেদন তাকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবে।’

দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের ‘বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশেষ করে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের একজন অভিভাবক ছিলেন।’

বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা তার চির শান্তির জন্য প্রার্থনায় হাত মিলিয়েছি যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে জান্নাতে সর্বোচ্চ স্থান দান করবেন। আমরা শোকাহত রাজপরিবারের সদস্যদের এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার জন্য সাহস ও শক্তিদানে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি।’

আরও পড়ুন:
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করছে আমিরাত
জাহাজে বিস্ফোরণ, কাঁপল আমিরাতের শহর
নিষেধাজ্ঞার আগে দুবাইয়ে বিমানের জোড়া ফ্লাইট
বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাত
নাগরিকত্বের দুয়ার খুলছে আমিরাত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Museum in the shape of shoes

জুতার আকৃতিতে জাদুঘর

জুতার আকৃতিতে জাদুঘর যুক্তরাষ্ট্রে জুতা জাদুঘর। ছবি: নিউজবাংলা
দালানটির সম্মুখভাগ ছাড়া বাকি পুরোটাই জাদুঘর। প্রতিটি তলাতেই আছে বিশেষভাবে সাজানো কক্ষ। সেসব কক্ষ ঘুরতে ঘুরতেই পাওয়া যাবে অদ্ভুত সুন্দর আর মজার এই দালানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের অদ্ভুত সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ বা ভূদৃশ্য দেখতে দেখতে চলেছেন ইয়র্ক কাউন্টির রাস্তা ধরে। হঠাৎই চোখে পড়ল বিশালাকায় এক জুতা। একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছেন আর অবাক হচ্ছেন জুতাটির বিশালতায়।

একদম কাছে গিয়ে আবিষ্কার করলেন, যেনতেন কোনো ভাস্কর্য নয়, এটি জুতার আদলে নির্মিত আস্ত একটি পাঁচতলা বাড়ি। ভেতরে জাদুঘর ও রেস্তোরাঁ। যেখানকার আইসক্রিম আবার সুপরিচিত।

কিন্তু এই আকৃতির দালান নির্মাণের নেপথ্য কারণ কী? কেনইবা পরে জাদুঘরে পরিণত করা হয় জুতা বাড়িটিকে?

‘দ্য হাইন্স সু হাউস’-এ কর্মরত, একাধারে কিউরেটর ও রেস্তোরাঁকর্মীদের তথ্য বলছে, দালানটির সম্মুখভাগ ছাড়া বাকি পুরোটাই জাদুঘর। প্রতিটি তলাতেই আছে বিশেষভাবে সাজানো কক্ষ। সেসব কক্ষ ঘুরতে ঘুরতেই পাওয়া যাবে অদ্ভুত সুন্দর আর মজার এই দালানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য।

কর্নেল ম্যালন এন হাইন্সের জন্ম ওহাইও রাজ্যের ওল্ড ওয়াশিংটনে। জাত ব্যবসায়ী হাইন্সের ছিল জুতার কারবার। বয়স যখন ৩০, তখন অর্থাৎ সেই ১৯০৫ সালে তিনি চলে আসেন পেনসিলভেনিয়ার ইয়র্কে। খবর পেয়েছিলেন এখানে জুতার ব্যবসায় পসার ভালো হবে। সঙ্গে ছিল ১২৭ ডলারের জুতার চালান।

জুতার আকৃতিতে জাদুঘর

দিনে দিনে তার ব্যবসা এতই বেড়ে যায় যে পেনসিলভেনিয়া ও মেরিল্যান্ডজুড়ে ৪০টির বেশি দোকান খুলে ফেলেন তিনি। নিজে পরিণত হন লাখপতি ব্যবসায়ীতে। আর কর্মসংস্থান হয় বহু মানুষের।

কীভাবে অল্প দিনে এত পরিচিতি পেলেন এবং পরিণত হলেন 'সু উইজার্ড' বা 'জুতার জাদুকরে’?

হাইন্সের মাথায় ছিল বিজ্ঞাপনের আজব আর নাটকীয় সব বুদ্ধি, যার প্রতিফলনই হলো এই সু হাউস। জুতার বিজ্ঞাপনের এর চাইতে অভিনব কৌশল আর কী-ইবা হতে পারে?

জুতা বাড়ি বানানোর কাজ শুরু হয় ১৯৪৮ সালে। বাড়িটির মোট উচ্চতা ২৫ ফুট। চওড়ায় বাইরে থেকে ৪৮ ফুট আর ভেতরে ১৭। মোট ১৫০০ বর্গফুটের বাড়িটিতে রয়েছে তিনটি ঘর, দুটি বাথরুম, একটি বসার ঘর এবং একটি রান্নাঘর।

১৯৪৯ সালে বাড়িটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পরই এটিকে সিনিয়র সিটিজেন বা বয়স্ক দম্পতিদের জন্য ভাড়া দেয়া শুরু করেন হাইন্স।

ভাড়া দেয়া হতো সেখানে মধুচন্দ্রিমা করতে ইচ্ছুক দম্পতিদেরও। থাকত সপ্তাহান্তে একটি দিন বিনা মূল্যে থাকার লোভনীয় অফার। সঙ্গে নিজের জুতার ব্র্যান্ডের প্রচারও হয়ে যেত।

হাইন্স সাহেব কিন্তু কখনই থাকেননি এই বাড়িতে। রাস্তার ওপারেই ছিল তার নিজের বাড়ি। ১৯৬২ সালে তার মৃত্যুর পর বাড়িটি তারই শর্ত মতে দেয়া হয় সেখানকার কর্মচারীদের। একপর্যায়ে তারা বাড়িটি ভাড়া দেন এক দন্ত চিকিৎসককে। পর্যায়ক্রমে জুতা বাড়ি পরিণত হয় আইসক্রিম পারলারে।

এটিকে পাকাপাকিভাবে পরিণত করা হয় আজকের হাইন্স সু হাউসে। এটিকে জাদুঘরে পরিণত করার পেছনে অবদান রয়েছে মেলানি শুমাকের। যিনি এটির মালিক ছিলেন ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত। এটির প্রতিটি ঘর সাজাতে তিনি সেই পঞ্চাশের দশকের আসবাব ব্যবহার করেছেন। সঙ্গে রেখেছেন জুতা তৈরিতে হাইন্সের কারখানায় ও তৎকালীন ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো। সংরক্ষিত আছে ম্যালন হাইন্সের নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র। ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে তখনকার সময়ে জুতার বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হাতপাখা আদলের ইশতেহার ও জুতার চালানপত্রও।

জুতার আকৃতিতে জাদুঘর

সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বেশ কিছু তৈজসপত্র যেমন লবণ বা মরিচদানিগুলোর আদলও জুতার আকারেই। আছে সেই আমলের ডাকবাক্সটিও।

সেই আমলের দালান হলে কী হবে, যুক্তরাষ্ট্রের অগ্নিনির্বাপন নীতিমালা অনুযায়ী হাউসের পেছনে এখনও রয়েছে আদ্যিকালের ফায়ার এক্সিটটিও। রাখা আছে হাইন্স সাহেবের কুকুরের ঘরটি। বেড়াগুলোতেও রয়েছে জুতার নকশা।

রাখা আছে ৭৪ বছর আগের বেশ কিছু জুতাও। যেমন, মেয়েদের লোফার ঘরানার একজোড়া জুতা যেটি তখন বিকোত ৪৮ সেন্ট মূল্যে, বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান দরে হয় ৪১ টাকা ৭৬ পয়সা।

হাইন্সের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পেনসিলভেনিয়ার ইয়র্ক কাউন্টির হ্যালেম শহরতলির ওই সড়কটির নাম রাখা হয়েছে ‘সু হাউস রোড’। সড়ক ধরে ঢোকার সময় থেকেই আশপাশে তাকালেই চোখে পড়বে জাদুঘরের প্রভাব। এমনকি সেই চত্বরে দাঁড়িয়ে রবিঠাকুরের জুতা আবিষ্কার কবিতার দুটো লাইন আবৃত্তির ইচ্ছেও জাগতে পারে বটে।

‘নিজের দুটি চরণ ঢাকো, তবে

ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If you give 500 in Benapole 5 minutes or hours after hours

বেনাপোলে ৫০০ দিলে ৫ মিনিটে, নয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা

বেনাপোলে ৫০০ দিলে ৫ মিনিটে, নয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেনাপোল বন্দরে যাত্রী পারাপার বেড়েছে।
বাংলাদেশ অংশ পাড়ি দিয়ে ভারতের অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনেও হয়রানিতে পড়ছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা। ওই ইমিগ্রেশনে বর্তমানে ৪০টি ডেস্ক থাকলেও অফিসার আছেন মাত্র ৩ জন। ওই অফিসাররা আড়াই হাজার যাত্রীর ইমিগ্রেশন সিল মারতে সময় নিচ্ছেন ১৬/১৭ ঘণ্টা।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরাপারে করোনা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে দুই দেশই। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর থেকেই যশোরের বেনাপোল বন্দরে ভারতে গমণেচ্ছুক মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তাদের কেউ বেড়াতে যাচ্ছেন, কেউ চিকিৎসক দেখাতে আবার কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।

তবে, এমন ভিড় থেকে সুবিধা আদায় করতে বন্দরটিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে একটি অসাধু চক্র। টাকার বিনিময়ে তারা কারও কাজ পাঁচ মিনিটে করে দিচ্ছে, আবার কেউ টাকা না দিলে তাকে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, করোনার আগে আন্তর্জাতিক এই চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার যাত্রী ভারতে যেতেন। ২০২০ সালে মার্চ মাসে মহামারি তীব্র আকার ধারণ করলে দুই পারের চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে যায়।

গত মাসে করোনার সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ টুরিস্ট ভিসা চালু করায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার ব্যাপক হারে বেড়েছে। বর্তমানে এই চেকপোস্ট দিয়ে আগের মতোই যাত্রী চলাচল শুরু হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ১৫ হাজার ৩০০ জন যাত্রী ভারতে গেছেন। আর ভারত থেকে এসেছেন ৭ হাজার ২৫৭ জন। ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভিড় বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।

এমন ভিড়ে যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। একজন পাসপোর্টধারী যাত্রীকে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পৌঁছাতে বাংলাদেশ অংশে অন্তত ৮টি স্থানে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

এভাবে সোনালী ব্যাংক শুরু করে ইমিগ্রেশন চেক আউট গেট অর্থাৎ নো ম্যান্স ল্যান্ড পর্যন্ত একজন যাত্রীকে পৌঁছাতে অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগছে।

তবে মাথা পিছু ৫০০ টাকা দিলে সেই স্থানে মাত্র ৫ মিনিটেই পৌঁছানো যাচ্ছে। আর এসব কাজ করছেন বন্দরে কর্মরত আনসার, লেবার ও কয়েকজন নারী ক্লিনার। যাত্রীরা যখন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে উঠছেন, লেবার ও নারী ক্লিনাররা তখন কিছু যাত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়ে আনসার সদস্যদের কাছে দিচ্ছেন। আনসাররা তখন গেট খুলে টাকা দেয়া যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের ভেতরে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন।

এদিকে ভারতগামী যাত্রীদের নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় গিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদ বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ মিনিটি পর পর ৭/৮ জন যাত্রী ভারতে ঢুকে ইমিগ্রেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রবেশ করছেন। সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ প্রত্যেক যাত্রীকে করোনার পিসিআর টেস্ট করছে। এতে সময় লাগে আরও ৪০ মিনিটি।

এরপর ভারতের অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনেও হয়রানিতে পড়ছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা। ওই ইমিগ্রেশনে বর্তমানে ৪০টি ডেস্ক থাকলেও অফিসার আছেন মাত্র ৩ জন। ওই অফিসাররা আড়াই হাজার যাত্রীর ইমিগ্রেশন সিল মারতে সময় নিচ্ছেন ১৬/১৭ ঘণ্টা।

এ অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে, ছোট বাচ্চা ও রোগীদের নিয়ে মহা বিপাকে পড়ছেন তারা।

বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের ইমিগ্রেশনে যাত্রী আসলে তেমন সময় লাগছে না। ওপারে স্বাস্থ্য বিভাগে অনেক সময় লাগায় বাংলাদেশী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।’

আরও পড়ুন:
বেনাপোল বন্দরে জায়গা সংকট, হাজারও ট্রাকের অপেক্ষা
বেনাপোলে পুড়ল ভারতের ৫ ট্রাক
বেনাপোলে বোমা বিস্ফোরণ: পৌর কাউন্সিলরকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
বেনাপোল বন্দরে বোমা বিস্ফোরণ, জড়িতদের বিচার দাবি
বেনাপোল বন্দরে পণ্য লোডিং-আনলোডিং শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The slope of remittances before Eid

ঈদের আগে রেমিট্যান্সের ঢল

ঈদের আগে রেমিট্যান্সের ঢল ছবি: সংগৃহীত
রোজার ২৭ দিনে দেশে যে হারে রেমিট্যান্স এসেছে, সে হিসেবে এপ্রিল শেষে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার বা ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। এক বছর আগে গত বছরের মে মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি (২.১৭ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নেমেছে। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ততই বাড়ছে। চলতি এপ্রিল মাসের ২৭ দিনেই ১৮২ কোটি ২০ লাখ (১.৮২ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১৫ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। এ হিসাবে ঈদের আগে এই ২৭ দিনে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এপ্রিল মাস শেষ না হতেই বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। ৩ এপ্রিল থেকে রোজা শুরু হয়েছে। সে হিসাবে ২ অথবা ৩ মে ঈদ উদযাপিত হবে দেশে। এপ্রিলের পুরো মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য ঈদের পর ছাড়া পাওয়া যাবে না।

তবে, এই ২৭ দিনে দেশে যে রেমিট্যান্স এসেছে, সে হারে এলে এপ্রিল শেষে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার বা ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

এর আগে গত বছরের মে মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি (২.১৭ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঈদের বাকি এই কয় দিনে আরও বেশি রেমিট্যান্স আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে হিসাবে এপ্রিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ সোয়া দুই বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।’

সর্বশেষ গত মার্চে ১৮৬ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

টানা পাঁচ মাস কমার পর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ফের হোঁচট খায়। ওই মাসে ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

তার আগের দুই মাস ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এসেছিল যথাক্রমে ১৬৩ কোটি ৬ লাখ ও ১৭০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিন হওয়ায় ওই মাসে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমেছিল বলে জানায় ব্যাংকগুলো। তবে মার্চে এই সূচকে ফের গতি ফিরে আসে। ওই মাসে ফেব্রুয়ারির চেয়ে ২৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রণোদনা বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সামনে দুটি ঈদ উৎসব আছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনগুলোয় রেমিট্যান্স আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে গত কয়েকটি ঈদ ভালোভাবে করতে পারেনি দেশের মানুষ। এবার করোনামুক্ত পরিবেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে ভিন্ন আমেজে ঈদ উদযাপিত হবে। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিপণিবিতানগুলোতে ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। ঈদে বাড়তি কেনাকাটার প্রয়োজন হয়; খরচ বেড়ে যায়। সে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন।’

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর রেমিট্যান্সপ্রবাহেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ওই বছরের এপ্রিলে মাত্র ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। এর পর থেকে অবশ্য মহামারির মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরোটা সময়ে (২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন) রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন দেখা যায়।

ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা দেখা যায়। প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অক্টোবরে আসে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে আরও কম, ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। গত জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে পাঠাচ্ছেন তিনি ১০২ টাকা ৫০ পয়সা তুলতে পারছেন।

তবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ৯ মাসের (জুলাই-মার্চ) হিসাবে এখনও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে রেমিট্যান্স। এই ৯ মাসে ১ হাজার ৫৩০ কোটি (১৫.৩০ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৮৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার (১৮.৫৯ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এবারের ৯ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, এপ্রিলের ২১ দিনে (১ থেকে ২১ এপ্রিল) রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ২৬ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১১১ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আর পাঁচটি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

রিজার্ভ ৪৪.২৫ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে অস্বাভাবিক আমদানি বৃদ্ধির পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৫৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে ৯ মাসের (জুলাই-মার্চ) রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি। তাতে দেখা যায়, এই সময়ে ৩৮ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন রপ্তানিকারকরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে রেমিট্যান্সে স্রোত
১৩ দিনেই ৮ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সে ঢল
৮ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স মার্চে
রোজা সামনে রেখে বাড়ছে রেমিট্যান্স

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Saida Muna Tasnim the best diplomat of the year

বর্ষসেরা কূটনীতিক সাইদা মুনা তাসনিম

বর্ষসেরা কূটনীতিক সাইদা মুনা তাসনিম সম্মাননা হাতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত
সোমবার লন্ডনের বিল্টমোর মেফেয়ারে ২৫০ জনেরও বেশি কূটনীতিকের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ‘ডিপ্লোম্যাট’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক হাইকমিশনারের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন।

জলবায়ু কূটনীতিতে অসামান্য অবদান রাখায় ‘ডিপ্লোম্যাট অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ হয়েছেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ‘ডিপ্লোম্যাট’ ম্যাগাজিন তাকে এই সম্মাননা দিয়েছে।

সোমবার লন্ডনের বিল্টমোর মেফেয়ারে ২৫০ জনেরও বেশি কূটনীতিকের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ‘ডিপ্লোম্যাট’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক হাইকমিশনারের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন।

এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি কূটনীতিককে যুক্তরাজ্যে এমন স্বীকৃতি দেয়া হলো।

এটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার, যা যুক্তরাজ্য ১৬৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূতদের মনোনয়ন এবং ভোটের ভিত্তিতে প্রতি বছর দেয়া হয়।

হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে পুরস্কার প্রদানের সময় ‘ডিপ্লোম্যাট’ যুক্তরাজ্যের সম্পাদক ভেনিশা ডি ব্লক ভ্যান কাফেলার বলেন, ‘লন্ডনে জলবায়ু কূটনীতিতে অসামান্য অবদান ও নেতৃত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত উদ্যোগ ও সাফল্যের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে।’

পুরস্কার গ্রহণ করে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, ‘এই স্বীকৃতি যা বিশেষ করে জলবায়ু কূটনীতির জন্য প্রদান করা হলো, তা আমার এবং আমার দেশের জন্য একটি বড় গর্বের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘এই অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও গভীরভাবে কৃতজ্ঞ, যিনি আমাকে কপ-২৬ এবং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্সির গুরুত্বপূর্ণ বছরে লন্ডনে বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতির সুযোগ দিয়েছেন।’

জলবায়ু বিপর্যয়ে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখোমুখি মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং অন্যতম প্রভাবশালী জলবায়ুর নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকা রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন মুনা।

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদেরও অশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। বিশেষ করে জলবায়ু কূটনীতি বিষয়ে তিনি আমাদের শিক্ষক-স্থানীয়।’

অ্যাওয়ার্ডটি লাখো জলবায়ু অভিবাসী এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকার অগণিত মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেন সাইদা মুনা তাসনিম।

১২ বছর ধরে প্রচলিত ‘ডিপ্লোম্যাট অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ লন্ডনের কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এটি লন্ডনে অবস্থিত ১৬৫টিরও বেশি দেশের কূটনীতিকদের কর্মদক্ষতা ও সাফল্যের একটি অন্যতম প্রতিফলক।

আরও পড়ুন:
ডুবন্ত শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ব্রিটিশ কূটনীতিক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the United Kingdom too there is confidence in the price of goods

পণ্যমূল্য নিয়ে নাভিশ্বাস যুক্তরাজ্যেও

পণ্যমূল্য নিয়ে নাভিশ্বাস যুক্তরাজ্যেও
বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকেন শফিক আহমেদ। সদ্য বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে এক সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনতাম। এখন অল্প করে কিনি। যে জিনিসপত্রের দাম হাতের নাগালে, সেটা পরিমাণে বেশি কিনে সংরক্ষণ করে রাখি। আগে মার্কেটে গেলেই চোখে যেটা ভালো লাগত কিনে ফেলতাম, এখন সেটা না করে যেটা ঠিক প্রয়োজন সেটাই কিনছি।’

করোনা পরিস্থিতির উন্নয়নের পর দেশে দেশে পণ্যমূল্য নিয়ে যে অস্থিরতা, তার বাইরে নয় যুক্তরাজ্যও। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সেখানেও সাধারণের জীবনযাপনের ব্যয় গেছে বেড়ে।

রমজান মাসে যখন এমনিতে দোকানে থাকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়, সে সময় যুদ্ধের ডামাডোল আর দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকটাই ভাঙা হাটের রূপ নিয়েছে।

লন্ডনের বাঙালি কমিউনিটির বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, সব জায়গার চিত্র মোটামুটি একই ।

বাংলা টাউন ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি নামে খ্যাত প্রতিষ্ঠানটির মালিক এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ইম্পোরটারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রফিক হায়দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রমজান মাসে পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। তাই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি পণ্য মজুত করা হয়। কিন্তু দাম বেশি থাকার কারণে সাধারণ ক্রেতারা সেভাবে কিনতে পারছেন না।’

তার মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম সহনীয় মাত্রায় স্থির হলে পণ্যের দাম কমবে এবং ব্যবসায় স্থিতিশীলতা আসবে। আর এটা দ্রুত না হলে অনেক ব্যবসায়ী মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়বেন বলে আশঙ্কা তার।

জামান ব্রাদার্স নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এক বিক্রেতা জানান, তাদের এখানে একটি ছোট মুরগি বিক্রি হতো দুই পাউন্ডে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২০ টাকা), এখন তা ২.৮০ পাউন্ডে উঠেছে (আনুমানিক ৩১০ টাকা)।

মাঝারি আকারের চারটি মুরগি বিক্রি হতো ১০.৯৯ পাউন্ডে (বাংলাদেশি টাকায় ১ হাজার ২১০ টাকা), এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৯৯ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় ১ হাজার ৪৩০ টাকা)।

ভেড়ার মাংসের কেজি ছিল ৫.৯৯ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় ৬৬০ টাকা) এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৯৯ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় ৮৮০ টাকা)।

বিক্রেতা আবদুর রহমান জানান, দেড় মাস ধরে পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবেই বাড়তির দিকে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের।

আগে সূর্যমুখী তেলের ৫ লিটারের ক্যান বিক্রি হতো ৪.৫০ থেকে ৬ পাউন্ডে (বাংলাদেশি টাকায় ৫০০ থেকে ৬৬০ টাকা) এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৫০ থেকে ৯ পাউন্ডে (বাংলাদেশি টাকায় ৯৩৫ থেকে ৯৯০ টাকা)।

সবজি বিক্রেতা সোহেল মিয়া জানান, বেশির ভাগ সালাদ আইটেমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ধনেপাতা, লেটুস, টম্যাটো, শসার দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

আগে দুই আঁটি ধনেপাতা বিক্রি হতো এক পাউন্ডে, এখন এক আটিই ০.৮০ থেকে ১.২৫ পাউন্ডে বিক্রি হচ্ছে ।

সোহেলের দোকানে কিছু ক্রেতাকে দেখা গেছে দাম দেখে পণ্য না কিনেই চলে যেতে, কেউ কাঙ্ক্ষিত দামে না পেয়ে অন্য কোনো পণ্য কিনে নিচ্ছেন।

দুই সন্তানসহ চারজনের সংসারের জন্য বাজার করতে আসা এক নারী ক্রেতা জানালেন, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে তার জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন করতে হয়েছে। বাজার করার ক্ষেত্রে হিসাব কষে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

চেইন ফুডশপে কাজ করেন মনিরা খান। তিনি বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেটা না কিনলেই নয় সেটাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে এভাবে খরচ বেশ খানিকটা কমিয়ে ফেলেছি।’

বন্যা আহমেদ নামে আরেকজন বলেন, ‘ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমিয়েছি। আগে যেখানে মাসে ১০ কেজি তেল রান্নার কাজে ব্যবহার করতাম, এখন সেটা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি।’

বাড়ি ভাড়াসংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকেন শফিক আহমেদ। সদ্য বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনতাম। এখন অল্প করে কিনি। যে জিনিসপত্রের দাম হাতের নাগালে, সেটা পরিমাণে বেশি কিনে সংরক্ষণ করে রাখি।

‘আগে মার্কেটে গেলেই চোখে যেটা ভালো লাগত কিনে ফেলতাম, এখন সেটা না করে যেটা ঠিক প্রয়োজন সেটাই কিনছি।’

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে রেমিট্যান্সে স্রোত
প্রবাসীদের বিমান ভাড়া কমাতে সুপারিশ
১৩ দিনেই ৮ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সে ঢল
রোজা সামনে রেখে বাড়ছে রেমিট্যান্স

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Detainees to be returned to Libya Foreign Minister

লিবিয়ায় আটকদের ফেরত আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লিবিয়ায় আটকদের ফেরত আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া ৫ শতাধিক বাংলাদেশির মধ্যে ২৪৪ জন দেশে ফিরতে রাজি। তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ছবি: আইওএম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে আনব। কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর আমার সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করে বলে গেলেন, যাদের লিবিয়া থেকে ফেরত আনা হয়, তারা আবারও একই পথ অবলম্বন করেন। এটা বন্ধ করা দরকার। যদিও এমন প্রবণতা আগের চেয়ে কমে এসেছে।’

লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের ফেরত আনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তবে অবৈধ, অমর্যাদাকর বিপজ্জনক এমন যাত্রা সবার আগে বন্ধ করা দরকার বলে জানান তিনি।

নিউজবাংলার সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে আনব। কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কান্ট্রিডিরেক্টর আমার সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করে বলে গেলেন, যাদের লিবিয়া থেকে ফেরত আনা হয়, তারা আবারও একই পথ অবলম্বন করেন। এটা বন্ধ করা দরকার। যদিও এমন প্রবণতা আগের চেয়ে কমে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে লিবিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ ছিল। এখন সেটা আবার চালু হয়েছে। বেশির ভাগ স্কিল্ড লোকজন হাজার হাজার ডলার বেতনের চাকরি নিয়ে সেখানে যাচ্ছেন। যদিও সেখানে অস্থিরতা চলছে। দুই অংশে দুই সরকার। তবু তাদের কিছু থেমে নেই।’

লিবিয়ায় অবৈধ যাত্রা থামাতে তিনি জনসচেতনতা তৈরিতে জনগণ ও গণমাধ্যমের সহায়তা চেয়েছেন।

এদিকে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন নিউজবাংলাকে জানান, ‘লিবিয়া হয়ে সমুদ্রে ইউরোপ যাত্রা বন্ধে ক্রাস প্রোগ্রাম নেয়ার চিন্তা করছে সরকার। তিনিও এ জন্য গণমাধ্যমের সহায়তা চেয়েছেন।

এদিকে ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া ৫ শতাধিক বাংলাদেশির মধ্যে ৪০০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল এস এম শামিম-উজ জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দূতাবাসের তৈরি করা টিম আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে ডিটেনশন সেন্টারে গিয়ে কথা বলেছে। তারা দুই দিনে প্রায় ৪০০ জনের ইন্টারভিউ নিয়েছেন।

‘তাদের সঙ্গে কথা বলে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। যেহেতু তারা অবৈধভাবে গেছেন। ফলে তাদের কাছে পাসপোর্ট বা অন্য কোনো ডকুমেন্ট নেই।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এর মধ্যে ২৪৪ জন দেশে ফিরতে রাজি। তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।’

আইওএমের মাধ্যমে তাদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরানো হবে। ওই দলে আরও প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি (ডিটেনশন সেন্টারে) রয়েছেন। দু-এক দিনের মধ্যে তাদের সাক্ষাৎকার নেবে দূতাবাস টিম। সেখানেও দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি পাওয়া যাবে।

এদিকে উদ্ধার ও আটক সবাই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে ত্রিপোলিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। ঢাকায় পাঠানো দূতাবাসের ‘লিবিয়ায় উপকূল থেকে ৫০০ জন বাংলাদেশি উদ্ধার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, 'উপযুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, লিবিয়ার জাওয়ারিখ উপকূল থেকে একটি ট্রলারে করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাত্রাকালে দেশটির কোস্ট গার্ড ৫০০ বাংলাদেশি নাগরিকসহ ৬০০ অভিবাসীকে উদ্ধার করে। দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে লিবিয়ার অভিবাসন অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল লিবিয়ার উপকূল থেকে উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের একটি নৌকা থেকে ৫০০ বাংলাদেশিসহ ৬০০ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছে।’

তাদের বর্তমানে ত্রিপোলি শহরের তারিক মাতার ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ওই বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেয়া এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত যেতে আগ্রহীদের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় দেশে পাঠাতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই লক্ষ্যে দূতাবাস থেকে লিবিয়ার অভিবাসন অধিদপ্তর, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে উদ্ধারকৃত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রচেষ্টা চলছে।

এদিকে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানাচ্ছে, নাগরিকত্ব যাচাই করে লিবিয়ান কোস্ট সিকিউরিটি জানিয়েছে, ওই দলে ৫৩২ বাংলাদেশি রয়েছেন। তা ছাড়া আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিশরের ৬, সুদানের ১ এবং সিরিয়ার ৬ অভিবাসী রয়েছেন।

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে। এ লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ করছে।’

মন্ত্রী জানান, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি নিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। আটক লোকেরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। লিবিয়া কর্তৃপক্ষ দেশটির মিসরাতা এলাকা থেকে তাদের আটক করেছে। বর্তমানে তাদের আল-তারেক ডিটেনশন সেন্টার নামের একটা ডিটেনশন সেন্টারে আটক রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, লিবিয়া কর্তৃপক্ষ ৫৪১ জনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি তা জানার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে। কতজন বাংলাদেশি আছেন, সেটা সবার সঙ্গে কথা বলার পর জানা যাবে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫২৮ জন বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিসরাতা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ আটকের বিষয় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিলেন বলে মিসরাতা পুলিশ উল্লেখ করে। আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের নাগরিক। তারা নৌকাযোগে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

তবে দূতাবাস জানিয়েছে, ইন্টারভিউ দেয়া ৪০০ জনের ২৪৪ জন দেশে ফিরতে রাজি হয়েছেন। বাকিরা ফিরতে না চাইলে আইনি কাঠামোয় তাদের ফেরত আনা জটিল ও সময়সাপেক্ষ বিষয় হবে।

আরও পড়ুন:
লিবিয়া উপকূলে ৫০০ বাংলাদেশি আটক

মন্তব্য

উপরে