× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Tourist bus service launched to visit historical places of Naogaon
hear-news
player

নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থান ঘুরতে চালু হচ্ছে ট্যুরিস্ট বাস

নওগাঁর-ঐতিহাসিক-স্থান-ঘুরতে-চালু-হচ্ছে-ট্যুরিস্ট-বাস নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘নওগাঁর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে দেশসহ বিশ্বের পর্যটকদের কাছে নতুন করে তুলে ধরতেই এমন উদ্যোগ নেয়া। নওগাঁর ইতিহাসে এই প্রথম আসন্ন ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন আনুষ্ঠানিকভাবে টুরিস্ট বাস উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।’

ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ভরা উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। এই জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রায় অর্ধশতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা। পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকদের পক্ষে এক দিনে একাধিক ঐতিহাসিক স্থান দর্শন করা সম্ভব নয়। তাই স্বল্প খরচে এক দিনে একাধিক ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ভ্রমণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রথম ট্যুরিস্ট বাস সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে।

এমন ঘোষণায় আনন্দিত নওগাঁবাসী। এরইমধ্যে ট্যুরিস্ট বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই ট্যুরিস্ট বাস সার্ভিসে বদলে যাবে প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘নওগাঁর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে দেশসহ বিশ্বের পর্যটকদের কাছে নতুন করে তুলে ধরতেই এমন উদ্যোগ নেয়া। নওগাঁর ইতিহাসে এই প্রথম আসন্ন ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যুরিস্ট বাস উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।’

নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থান ঘুরতে চালু হচ্ছে ট্যুরিস্ট বাস
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অবস্থিত প্রাচীন নিদর্শন ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি জানান, উদ্বোধনের পর প্রতিদিন ট্যুরিস্ট বাস শহরের মুক্তির মোড় থেকে সকাল ৯টায় যাত্রা শুরু করবে। মুক্তির মোড়ের পদ্মা বাস কাউন্টার থেকে এই প্যাকেজের টিকেট পাওয়া যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি বাস প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্যাকেজের মূল্য ধরা হয়েছে ৪৫০ টাকাা।

জেলা প্রশাসক জানান, এই প্যাকেজের মাধ্যমে একজন পর্যটক খুব সহজেই প্রথমে ভারত সীমান্তঘেঁষা উপজেলা ধামইরহাট উপজেলার জাতীয় উদ্যান শালবন বিহারের আলতাদীঘি, ঐতিহাসিক জগদ্দল বিহার, বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও হলুদ বিহার ভ্রমণ করতে পারবেন।

এ ছাড়া প্যাকেজের মাধ্যমে পর্যটকরা সকাল ও বিকেলের নাস্তা এবং দুপুরের খাবার পাবেন। বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে প্রতিবার ভ্রমণের দিন বিকেলে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-তাত্তিক শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।

পরে হলুদ বিহার দর্শন শেষে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে এসে শেষ হবে ওইদিনের ভ্রমণ।

নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থান ঘুরতে চালু হচ্ছে ট্যুরিস্ট বাস
ঐতিহাসিক জগদ্দল বিহার। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাথমিক পর্যায়ে ৪টি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের রুট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যটকদের চাহিদার উপর ভিত্তি করে জেলার সকল ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের জন্যও প্যাকেজ তৈরি করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান।

পর্যটকরা এই ভ্রমণের ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত হাজার হাজার বছর আগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সম্পর্কে নতুন করে জানার সুযোগ পাবেন বলেও প্রত্যাশা তার।

তিনি বলেন, ‘এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বেশি বেশি পর্যটকদের আগমনের কারণে ওই সব স্থানের আর্থসামাজিক অবস্থা আরও উন্নত হবে। চাঙা হয়ে উঠবে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা। নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে গড়ে উঠবে নতুন নতুন স্থাপনা আর সৃষ্টি হবে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান। আমূল পরিবর্তন আসবে এই পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা আর্থসামাজিক ব্যবস্থায়।’

নওগাঁ শহরের জনকল্যাণ মহল্লার বাসিন্দা মৌসুমী সুলতানা শান্ত বলেন, ‘এমন উদ্যোগ নওগাঁবাসীর জন্য সত্যিই খুবই আনন্দের। এমন উদ্যোগ নওগাঁর ইতিহাসে প্রথম। আমি নিজেও দুটি টিকিট কিনেছি আলতাদিঘী শালবনে যাব আমি ও আমার ছেলে।’

শহরের মাস্টার পাড়া মহল্লার বাসিন্দা সাইফুল আলম বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থী, ঢাকাতে পড়াশোনা করি। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। ইচ্ছে থাকলেও অনেক মানুষের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে এতোগুলো নিদর্শন ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এখন একটি প্যাকেজের মাধ্যমে খুব সহজেই ঐতিহাসিক চারটি পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ করতে পারবেন। আমি টিকিট কাটব পাঁচটি। বগুড়া ও রাজশাহী থেকে আমার আরও চার বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে যাব।’

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আলাতাদীঘি জাতীয় উদ্যান ও শালবনের বন বিট কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ‘এটি জেলা প্রশাসনের নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। নওগাঁর ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ করা উচিত। সকলের জানা উচিত এই জেলার চমৎকার কিছু স্থান রয়েছে। আর পর্যটকরা আলতাদীঘিতে এলে জাতীয় উদ্যানসহ ভারতের সীমান্তও দেখতে পারবেন।’

নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শরিফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের নওগাঁ জেলা ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিজড়িত জেলা। এই জেলায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য স্থাপনা, যেগুলোতে মিশে আছে হাজার বছর আগের ইতিহাস। তাই একজন ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য নওগাঁর এই সব ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ করার কোনো বিকল্প নেই।’

নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থান ঘুরতে চালু হচ্ছে ট্যুরিস্ট বাস
জেলার ধামইরহাট উপজেলার ঐতিহাসিক আলতা দিঘি। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে নওগাঁর পর্যটন এলাকাগুলো নতুন করে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

নওগাঁ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল মোস্তফা কালিমী বাবু বলেন, ‘অনেক নিম্ন আয়ের মানুষদের ইচ্ছে থাকলেও নিজের এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ করতে পারেন না। আবার শিক্ষার্থীদের জন্যও এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তারা ইচ্ছে করলেই একদিনে স্বল্প খরচে এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণ করতে পারবেন।’

এসব ছাড়াও জেলায় রয়েছে ঐতিহাসিক কুসম্বা মসজিদ, রবি ঠাকুরের কাচারি বাড়ি পতিসর, বলিহার, দুবলহাটি রাজবাড়িসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান।

আরও পড়ুন:
চাল বেচে দিয়েছেন কাভার্ড ভ্যানচালক, ফোনে জানলেন ব্যবসায়ী
শিশু মরিয়ম পেল ডিএমপি কমিশনারের উপহার
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের গায়ে আগুন: গৃহবধূর মৃত্যু
করাতে ধার দেয়ার সময় সান ভেঙে পেটে, যুবকের মৃত্যু
নওগাঁয় শুরু শতবলের ক্রিকেট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The blood of the martyrs is mixed in that Eidgah

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত
পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার মাত্র ২৫ বছর পেরিয়েছে তখন। ১৭৮২ সাল। দিনটি ছিল আশুরা। হিজরি ১০ মহররম। ওইদিনই শাহি ঈদগাহে টিলার ওপরে জড়ো হয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন স্থানীয় শতাধিক লোক। যার নেতৃত্বে ছিলেন নগরের কুমারপাড়া-সংলগ্ন ঝরনার পাড়ের সৈয়দ হাদি (হাদা মিয়া) ও সৈয়দ মাহদি (মাদা মিয়া) নামে দুই ভাই।

প্রায় ৩০০ বছর পুরোনো সিলেটের ঐতিহাসিক শাহি ঈদগাহ। প্রতি বছরের মতো এবারও নগরীর প্রধান ঈদ জামাত সেখানে হয়েছে। তাতে অংশ নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ ড. এ কে আবুল মোমেন।

কেবল ঈদ জামাত নয়, শাহি ঈদগাহ পরিচিত এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণেও।

জানা যায়, এই ঈদগাহ থেকেই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে অবিভক্ত ভারতবর্ষে প্রথমদিককার বিদ্রোহের সূচনা হয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ১৭৮২ সালে এই ঈদগাহেই শহীদ হন দুই ভাই। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহেরও ৭৫ বছর আগের ঘটনা এটি।

ঐতিহাসিকদের তথ্যমতে, এই ঈদগাহে মহাত্মা গান্ধী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের মতো নেতারা এসে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সমাবেশ করে গেছেন।

অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, সিলেটের শাহি ঈদগাহটি নির্মিত হয় ১৭০০ সালের প্রথম দশকে। সিলেটের তৎকালীন ফৌজদার ফরহাদ খাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এটি নির্মিত হয়।

প্রায় ৩০০ বছর আগে শহরের যে জায়গায় ঈদগাহটি নির্মিত হয়, সেই এলাকাটিও এখন শাহি ঈদগাহ নামে পরিচিত। এখানে একসঙ্গে প্রায় দুই লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

ধর্মীয় ও ইতিহাসের পাশাপাশি অপূর্ব নিমার্ণশৈলীর কারণেও সিলেটের শাহি ঈদগাহ অনন্য। এর একপাশে রয়েছে টিলাভূমি। কারুকার্যখচিত ২২টি বড় সিঁড়ি পেরিয়ে টিলায় উঠতে হয়।

টিলার ওপরে রয়েছে কারুকার্য করা ১৫টি গম্বুজ। একপাশে বিশাল পুকুর। ঈদগাহের প্রাচীর সীমানার চারদিকে রয়েছে ছোট-বড় ১০টি গেট।

২০১৫ সালে ঈদগাহ কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হয় ১৮০ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন একটি মিনার। ঈদের দিন ছাড়াও অন্য দিনগুলোতে প্রচুর মানুষ এই ঈদগাহে ঘুরতে আসেন।


ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে জড়িয়ে শাহি ঈদগাহ

পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার মাত্র ২৫ বছর পেরিয়েছে তখন। ১৭৮২ সাল। দিনটি ছিল আশুরা। হিজরি ১০ মহররম।

ওইদিনই শাহি ঈদগাহে টিলার ওপরে জড়ো হয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন স্থানীয় শতাধিক লোক। যার নেতৃত্বে ছিলেন নগরের কুমারপাড়া-সংলগ্ন ঝরনার পাড়ের সৈয়দ হাদি (হাদা মিয়া) ও সৈয়দ মাহদি (মাদা মিয়া) নামে দুই ভাই।

যথারীতি ব্রিটিশরাও শক্ত হাতে দমন করে এই বিদ্রোহ। গুলি ছোড়ে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে। ঘটনাস্থলেই শহীদ হন হাদি ও মাহদি।

ব্রিটিশের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহটি ইতিহাসে ‘হাদা মিয়া-মাদা মিয়ার বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত।

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

গবেষক ও লেখক রফিকুর রহমান লজু এই বিদ্রোহ নিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তখন সিলেটের ব্রিটিশ রেসিডেন্ট কালেক্টর ছিলেন রবার্ট লিন্ডসে। তিনি আধিপত্য বিস্তার ও সম্পদ লুণ্ঠনে মরিয়া ছিলেন। তার অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। ক্ষোভ দেখা দেয় স্থানীয়দের মধ্যে। পুঞ্জীভূত এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মহররমের দিন।

‘ওইদিন স্থানীয় মুসলমানরা ঈদগাহে জড়ো হয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন। তাদের প্রধান টার্গেটও ছিলেন লিন্ডসে। তবে বিদ্রোহ পরিচালনার জন্য তাদের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছিল না। অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্নভাবে শুধু স্থানীয় শক্তির ওপর নির্ভর করে তারা বিদ্রোহে নেমে পড়েন। ফলে উন্নত অস্ত্রধারী ও সুসংগঠিত শক্তিশালী ব্রিটিশ বাহিনীর সামনে বিদ্রোহীরা বেশি সময় টিকতে পারেননি।’

রফিকুর রহমান জানান, ভারত ছাড়ার পর স্কটল্যান্ডে স্থায়ী হয়েছিলেন রবার্ট লিন্ডসে। ১৮৪০ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ An Anecdotes of an Indian life

এই বইয়েও সিলেটের বিদ্রোহের কথা উল্লেখ আছে। লিন্ডসের আত্মজীবনীর সিলেটপর্ব- ‘সিলেটে আমার বারো বছর’ নামে অনুবাদ করেন লেখক আবদুল হামিদ মানিক। এতে দেখা যায় লিন্ডসে ওই বিদ্রোহকে ‘মহররমের দাঙ্গা’ ও ‘হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে’ অভিহিত করেছেন।

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

তবে রফিকুর রহমান লজু বলেন, ঘটনাটি তা ছিল না। এটা ছিল ইংরেজ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিলেটবাসীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, ‘সমাজের একেবারে সাধারণ স্তর থেকে উঠে আসা মানুষজন এই বিদ্রোহে অংশ নেন। যার নেতৃত্বে ছিলেন হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া।’

লজু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অসম ছিল। ইংরেজ পক্ষে লিন্ডসের সঙ্গে অস্ত্রধারী সৈন্য ছিল। অপরদিকে বিদ্রোহীদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তলোয়ার।’

বৃহত্তর সিলেট ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন ইতিহাসের সেই দিনটির বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, ‘সেই মহররমের দিন বিকেলে ঘোড়ায় চড়ে সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে শাহি ঈদগাহ ময়দানে হাজির হন হাদা ও মাদা। লিন্ডসেকে তারা আশুরা অনুষ্ঠানের সীমানায় প্রবেশে বাধা দেন। এরপর যুদ্ধ বেধে যায়।’

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

শাহিন জানান, যুদ্ধস্থল শাহি ঈদগাহের অদূরে নয়াসড়ক এলাকায় সমাহিত করা হয়েছিল শহীদ দুই ভাইকে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন সিলেটের হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া। নয়া সড়কে তাদের কবর ঐতিহাসিকদের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় ঈদগাহের মোনাজাতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা
২ বছর পর ফিরল উৎসবমুখর ঈদ
বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত
চাঁদরাতেও বেচাকেনায় জমজমাট রাজধানী
ঈদের ছুটিতে আরও ব্যস্ততা সংবাদকর্মীদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After losing to Comilla the title went to Coxs Bazar

কুমিল্লাকে হারিয়ে বলীর শিরোপা কক্সবাজারে

কুমিল্লাকে হারিয়ে বলীর শিরোপা কক্সবাজারে জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসরে জয়ী চকরিয়ার জীবন বলী। ছবি: নিউজবাংলা
জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসরের ফাইনালে ৩ পয়েন্টে শাহজাহানকে হারিয়েছেন তিনি। জিতে নিয়েছেন প্রথম পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট।

প্রায় ২০ মিনিটের লড়াই শেষে গতবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহজাহান বলীকে হারিয়ে শিরোপা জয় করলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার জীবন বলী।

জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসরের ফাইনালে ৩ পয়েন্টে শাহজাহানকে হারিয়েছেন তিনি। জিতে নিয়েছেন প্রথম পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট।

জীবন বলেন, ‘বাড়ি থেকে আসার সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে আসি যাতে চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। এর আগে দুবার রানারআপ হয়েছিলাম। আল্লাহ আমার প্রার্থনা কবুল করেছেন।’

কোভিড মহামারির কারণে দুই বছর অপেক্ষার পর চট্টগ্রামে ১১৩তম জব্বারের বলী খেলা অনুষ্ঠিত হলো সোমবার বিকেলে, নগরীর লালদীঘি চত্বরে।

বিকেলে বেলুন উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

এবার বলী খেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০০ বলী অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এদিকে বলী খেলাকে কেন্দ্র করে রোববার থেকেই শুরু হয়েছে লোকজ মেলা, যা চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। মেলায় বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রাম শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার ১৯০৯ সালে প্রথম বলী খেলার আয়োজন করেন। এর পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা ১১০ বছর চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা। এরপর করোনা মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ থাকে এটি। করোনা প্রকোপ প্রায় নিয়ন্ত্রণে আসায় আবারও হচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Baishakhi joy in the city of the moon

চান্দের নগরে বৈশাখী আনন্দ

চান্দের নগরে বৈশাখী আনন্দ বৈশাখী মেলায় নাগরদোলায় চড়তে অপেক্ষায় শিশুরা। ছবি: নিউজবাংলা
স্থানীয় রাসেল মিয়া বলেন, ‘আমরা এ মেলায় খুব আনন্দ করি। বৈশাখ আইলে এই মেলা হয়, গত দুই বছর মেলা বন্ধ আছিল করোনার কারণে। আমরা আবার এলাকায় মেলা দেখলাম অনেক দিন পর।’

বাহারি পণ্যের স্টল, মুড়ি-মুড়কি-কটকটি-বাতাসার পসরা, রঙিন নাগরদোলা, মাটির খেলনা। বৈশাখী মেলার চিরায়ত রূপ ফুটে উঠেছে এভাবেই।

এই মেলা বসেছে শেরপুর সদরের চান্দের নগরে।

আয়োজকরা জানান, বছরের পর বছর ধরে এই এলাকায় বৈশাখের শুরুতে বসে এক দিনের মেলা। এদিন গ্রামবাসী মেতে উঠে নির্মল আনন্দে। মেলায় কেবল বেচা-কেনাই নয়, খেলাধুলা ও নানা প্রতিযোগিতাও হয়।

চান্দের নগরে দুই বছর বিরতির পর এবার ফের বসেছে মেলা। শুক্রবার দিনভর গ্রামবাসী মেলা উপভোগ করেছে।

মেলার আয়োজক শেরপুর সদর চান্দের নগর মেলা উদযাপন পরিষদ। এবার তারা ঘোড়দৌড়, গাঙ্গি বা কুস্তি খেলা, মোরগ লড়াইয়ের মতো গ্রামীণ বিভিন্ন খেলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সন্ধ্যা ৬টায় ভাঙে ঐতিহ্যের মিলনমেলা।

চান্দের নগরে বৈশাখী আনন্দ

কেবল বৈশাখী মেলাই নয়, এটি হয়ে উঠেছে গ্রামের মানুষের মিলনমেলা। মেলা বসলেই বাড়ির মেয়ের জামাইদের নিমন্ত্রণ করে সেখানকার প্রায় প্রতি পরিবার। এটা সেখানকার রেওয়াজ হয়ে উঠেছে।

নিপা বেগম মেলায় এসেছেন স্বামীকে নিয়ে। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর তো শ্বশুরবাড়ি থাকি। এখানে আমাগো এলাকার মেয়ে জামাইদের মিলনমেলা হয়। আমরা সবাই জামাই নিয়া বাপের বাড়ি আসি।’

স্থানীয় রাসেল মিয়া বলেন, ‘আমরা এ মেলায় খুব আনন্দ করি। বৈশাখ আইলে এই মেলা হয়, কিন্তু গত দুই বছর মেলা বন্ধ আছিল করোনার কারণে। আমরা আবার এলাকায় মেলা দেখলাম অনেক দিন পর।’

চান্দের নগরে বৈশাখী আনন্দ

এই মেলাকে ঐতিহ্য আখ্যা দিয়ে স্থানীয় শাহিনুর ইসলাম জানান, আশপাশের জেলা থেকেও অনেকে মেলা দেখতে আসেন।

স্মৃতিচারণা করে করিম মিয়া বলেন, ‘আগে আমার বাপ আমারে কান্দো কইরা মেলায় আইছে। এহন আমি আমার পুরিরে (মেয়েকে) কান্দো নিয়া মেলা দেহাবার নিয়া আইছি। খুব ভালা নাগতছে।’

তবে মেলার পরিসর কমে যাচ্ছে বলে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত অনেকে।

চান্দের নগরে বৈশাখী আনন্দ

স্থানীয় মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই মেলা আগে বড় হইত, এখন আস্তে আস্তে জায়গা কইমা যাইতাছে। আমরা চাই সরকার কিছু অনুদান দিয়ে আমগর এই মেলাডা টিকাই রাহুক।’

ঠিক কবে থেকে এ মেলা হচ্ছে? জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ মেলা যে কত বছর থেকে এখানে হচ্ছে তা আমরাও বলতে পারি না। আমরা প্রতি বছর এ মেলার আয়োজন করার চেষ্টা করি।

‘দুই বছর করোনার কারণে বন্ধ থাকলেও আজ আবার জমে উঠেছে। আমরা প্রতি বছরই আয়োজন করার চেষ্টা করব। মেলা আগে বড় করে আয়োজন হতো, এখন জায়গা কমে যাওয়ায় পরিধি একটু কমেছে। তবে মেলায় আসা মানুষজনের সংখ্যা বেড়েছে।’

চান্দের নগরে বৈশাখী আনন্দ

মেলার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক।

তিনি বলেন, ‘এসব দেশের ঐতিহ্য। ঐতিহ্য ধরে রাখতে মেলা আয়োজনে সরকারিভাবেও সহযোগিতা করা হবে। জায়গার অভাবে এ মেলা যাতে হারিয়ে না যায়, আমরা এইটা দেখব।’

আরও পড়ুন:
সাইকেলে ১১ গ্রাম ঘুরে ৩৫০ শিক্ষার্থীর বর্ষবরণ
বিধিমুক্ত বর্ষবরণে মেতেছে পশ্চিমবঙ্গ
বর্ষবরণে শুটিংয়ের কথা জানালেন জয়া
জবিতে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ
শোভাযাত্রায় এত ‘নিরাপত্তার কড়াকড়ি’ কেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Halkhata does not have the previous image

হালখাতায় নেই আগের আমেজ

হালখাতায় নেই আগের আমেজ শাঁখারীবাজারে হালখাতা উপলক্ষে ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে দোকান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতি বছরের মতো এবারও পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা হালখাতা উৎসবের আয়োজন করেছেন। তবে গত দুই বছরের মতো এবার হালখাতা উৎসবে নেই পুরনো দিনের সেই জমজমাট আমেজ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য হালখাতার আয়োজন করা হয়েছে। তবে করোনার প্রভাবে পড়েছে এখানেও।

বাংলা নববর্ষের অন্যতম অনুষঙ্গ হালখাতা উৎসব। এ দিন পুরনো হিসাবের খাতা বন্ধ ও নতুন হিসাবের খাতা খোলার চলে আনন্দ-আয়োজন। সঙ্গে থাকে আপ্যায়ন ও আনুষ্ঠানিকতা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৫৮৪ সালে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তনের পর মূলত হালখাতার প্রচলন হয়।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের নানা আয়োজন থাকে হালখাতা ঘিরে। পঞ্জিকা অনুযায়ী পয়লা বৈশাখের দিন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা জাঁকজমকভাবে হালখাতা উৎসবের আয়োজন করেন। সে হিসাবে এ বছর শুক্রবার পুরান ঢাকায় চলছে হালখাতা উৎসব।

প্রতি বছরের মতো এবারও পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা হালখাতা উৎসবের আয়োজন করেছেন। তবে গত দুই বছরের মতো এবার হালখাতা উৎসবে নেই পুরনো দিনের সেই জমজমাট আমেজ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য হালখাতার আয়োজন করা হয়েছে। তবে করোনার প্রভাবে পড়েছে এখানেও।

সাধারণত হালখাতা উৎসব উপলক্ষে পুরান ঢাকার দোকানগুলো ফুল-বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। এ ছাড়া দোকানে ক্রেতা আসলে তাকে মিষ্টিমুখও করানো হয়।

প্রতিবারের মতো পুরান ঢাকার বেশিরভাগ দোকান হালখাতা উপলক্ষে ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। তবে সেখানে ছিল না উৎসবের আমেজ। ক্রেতা সমাগত কমই এর মূল কারণ।

হালখাতায় নেই আগের আমেজ
নতুন বছরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পূজা করছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতা ও দেনাদারদের সমাগম কম হওয়ার আশঙ্কা তারা আগেই করেছিলেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে যেহেতু বিক্রি একদমই কম ছিল তাই হালখাতা উৎসবে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, শ্যামবাজার ও বাবুবাজারের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

তাঁতীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী জগমোহন দাস বলেন, ‘পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছর পয়লা বৈশাখের দিন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা হালখাতা উৎসবের আয়োজন করেন। এবারও অল্প পরিসরে করেছি বলা যায় নিয়ম রক্ষার জন্য। সকাল থেকেই দোকান খোলা হলেও ক্রেতা ও দেনাদারদের সমাগম নেই বললেই চলে। এমনটা যে হবে তা আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম।’

একই কথা বললেন শাঁখারীবাজারের ব্যবসায়ী শঙ্কর ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘আগের মতো আর হালখাতা উৎসব হয় না। করোনার কারণে গত দুই বছরে বিক্রি একদমই কম ছিল। আগে আমরা ব্যাপক পরিসরে হালখাতা উৎসব করতাম। এবার শুধু প্রথা ধরে রাখার জন্য ফুল দিয়ে দোকান সাজিয়েছি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো ক্রেতা বা দেনাদারের দেখা পাইনি।’

শ্যামবাজারের আড়তদার বকুল মিয়া বলেন, ‘আগের মতো হালখাতা উৎসবের আমেজ পাই না। করোনার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতা সবারই অবস্থা খারাপ। এজন্য এখন আর হালখাতা উৎসব জমে না।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In that country sprinkled with water

পানি ছিটিয়ে বর্ষবরণ যে দেশে

পানি ছিটিয়ে বর্ষবরণ যে দেশে থাইল্যান্ডে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। ছবি: এএফপি
চলতি বছর পানির সংকটে ভুগছে থাইল্যান্ড। তা সত্ত্বেও এ বছর সংক্রান উদযাপনে কমতি রাখেনি থাই সরকার। করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঐহিত্যবাহী নানা আয়োজন রাখা হয় ব্যাংকক, আয়ুথায়া, সোংখলা, চিয়াং মাই, সামুত প্রাকানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোয়।

বাঙালিরা শতাব্দ বা শকাব্দ নামে যে বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে, এই একই বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করা হয় উপমহাদেশ ছাড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও। এর একটি থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডে নতুন বছরের শুরুর দিনটি ‘সংক্রান উৎসব’ নামে পরিচিত। এ উৎসবে পানি নিয়ে খেলায় মেতে ওঠে পুরো দেশ। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন চলে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে ২০১৮ সাল থেকে উৎসবের সময়কাল বাড়িয়ে দেয় থাই সরকার।

সংস্কৃত 'সংক্রান্তি' শব্দ থেকে সংক্রান শব্দটি এসেছে। এ সময়ে দেশটিতে সাধারণ ছুটি থাকে। থাই এবং মালয়েশিয়ান সিয়ামিজ গোত্রের লোকজন মূলত ধর্মীয় রীতি মেনে এ উৎসব পালন করেন, কিন্তু উদযাপন হয় গোটা দেশেই।

নববর্ষে থাইল্যান্ডে সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘পানি উৎসব’। দিনভর সব বয়সের, সব শ্রেণির মানুষ অংশ নেন এতে। নানা আয়োজনে বিভিন্ন শহরেও জাঁকজমকভাবে উদযাপন হয় সংক্রান

চলতি বছর পানির সংকটে ভুগছে থাইল্যান্ড। তা সত্ত্বেও এ বছর সংক্রান উদযাপনে কমতি রাখেনি থাই সরকার। করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঐহিত্যবাহী নানা আয়োজন রাখা হয়েছে ব্যাংকক, আয়ুথায়া, সংখলা, চিয়াং মাই, সামুত প্রাকানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোয়।

ব্যাংকক

ব্যাংককের ১০টি মন্দিরে চলছে ‘অ্যামেজিং সংক্রান ২০২২ সেলিব্রেশন’। ৯ থেকে ১৭ এপ্রিল চলা উৎসবে থাই নববর্ষের উৎস এবং ঐতিহ্যকে সম্মান দেখানোর পাশাপাশি নানা আয়োজন রাখা হয়েছে ওয়াট অরুণ, ওয়াট ফো, ওয়াট রাকাং, ওয়াট সুথাত, ওয়াট কালেয়ানামিট, ওয়াট প্রয়াউন, ওয়াট রতচানতদারম, ওয়াট মহাথাট, ওয়াট সাকেত এবং ওয়াট রচাবোফিট মন্দিরে।

আইকনসিয়ামে ১০ দিনব্যাপী ‘আইকনিক সংক্রান ফেস্টিভ্যাল ২০২২’ চলবে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত। আয়োজনে আছে প্রবীণদের শ্রদ্ধা জানানোর আচার ‘গান ন্যাম ফ্রা’ এবং ‘রোট ন্যাম ড্যাম’। আরও থাকছে পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদন, ঘুড়ি ওড়ানো ও নানান খেলা। আয়োজন ঘিরে মেলা বসে আইকনসিয়ামে।

পানি ছিটিয়ে বর্ষবরণ যে দেশে

সংক্রানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন পানি খেলা। থাই বেভারেজ পিএলসি এবার ‘ওয়াটার ফেস্টিভ্যালের’ আয়োজন করেছে। ১৩-১৫ এপ্রিল ওয়াট ফো, ওয়াট অরুণ, ওয়াট প্রয়ুন, ওয়াট কালেয়ানামিত, ওয়াট রাকাং, মহারাজ পিয়ার, লং ১৯১৯, সুক্সসিয়াম এবং এশিয়াটিকে অনুষ্ঠিত হবে পানি খেলা।

চিয়াং মাই

১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল লান্না অ্যানসিয়েন্ট হাউস এবং চারোয়েন প্রাথেট রোডে ‘ওয়াটার ফেস্টিভ্যালের’ আয়োজন করা হয়েছে।

‘নাম থিপ পাই মাই মুয়াং চিয়াং মাই’ উৎসবটি ১২-১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চিয়াং মাইয়ের ১০টি স্থানে চলছে। আয়োজন ঘিরে ওয়াট বুফফারাম, ডোই ইন্থানন এবং পিং রিভারের তিনটি স্থান থেকে ‘পবিত্র পানি’ সংগ্রহ করা হয়।

পানি ছিটিয়ে বর্ষবরণ যে দেশে

এ বছর ওয়াট ফ্রা দ্যাট ডোই সুথেপ, ওয়াট ফা লাট, থ্রি কিংস মনুমেন্ট, ওয়াট পান সাও, ওয়াট বুফফারাম, ওয়াট লোক মলি, ওয়াট থারথিপ চাই প্রদিত এবং ওয়াট পা দায়েতে মোট ১০ হাজার ৭২৬ বোতল ‘পবিত্র পানি’ বিতরণ করা হবে।

আয়ুথায়া

‘সংক্রান মিউজিক হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল ২০২২’ শুরু হয় ১২ এপ্রিল। চলবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। আয়ুথায়ার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সম্পর্কে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়াট ফ্রা রাম মন্দিরে চলছে এই আয়োজন।

সংখলা

সংখলার ঐতিহাসিক তাৎপর্য সম্পর্কে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরাতন শহরে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ‘সংক্রান মিউজিক হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল ২০২২’।

পানি ছিটিয়ে বর্ষবরণ যে দেশে

সামুত প্রাকান

সামুত প্রাকানের ফ্রা প্রাদায়েং সিটি হলে ‘ফ্রা প্রাদায়েং সংক্রান ফেস্টিভ্যাল ২০২২’ অনুষ্ঠিত হবে ২২-২৪ এপ্রিলের মধ্যে৷ উৎসবটি শহরের আশপাশের অন্যান্য অনুষ্ঠানের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কারণ এই দুই দিনে স্থানীয়রা ঐতিহ্যবাহী সোম অনুষ্ঠান পালন করবেন। উৎসবে ‘মিস সংক্রান’ প্যারেডও থাকছে।

উদন থানি

বান চিয়াং ঐতিহাসিক স্থানে ১৩-১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় ‘ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল’।

খোন কাইন

‘ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল’ ১৩ থেকে ১৪ এপ্রিল ওয়াট চাইসিতে অনুষ্ঠিত হয়।

লামফুন

ইনথিওংযোগ রোডে ১৩ থেকে ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় ‘ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল’।

পানি ছিটিয়ে বর্ষবরণ যে দেশে

প্রতিটি আয়োজনে প্রবেশের মূল শর্ত কোভিড টিকা। এ ছাড়া করোনা নেগেটিভ পরীক্ষার সনদও রাখতে হচ্ছে আগতদের। আয়োজনস্থলে অ্যালকোহল বিক্রি এবং সেবনের অনুমতি থাকছে না। এ ছাড়া জনসমাগমস্থলে পানি ছিটানো, পাউডার স্মেয়ারিং এবং ফোম পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চৈত্র সংক্রান্তিতে অসাম্প্রদায়িক ও নতুন সময় কামনা
খুবিতে ‘চৈত্রসংক্রান্তি’ ঘুড়ি উৎসব
ভাড়াভিত্তিক চার বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The panchayat office will deliver the feast from house to house on the holy Baishakh

পহেলা বৈশাখে বাড়ি বাড়ি ভোজ পৌঁছে দেবে পঞ্চায়েত দপ্তর

পহেলা বৈশাখে বাড়ি বাড়ি ভোজ পৌঁছে দেবে পঞ্চায়েত দপ্তর পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে দুপুরের থালিতে থাকছে, দেহরাদূন চালের ভাত, পোস্ত দিয়ে উচ্ছে, আলু ভাজা, টক ডাল, ইলিশ ভাপা, চিকেন কষা, চাটনি, পাপড়, মিষ্টি এবং পান। ছবি: সংগৃহীত
১৪ ও ১৫ এপ্রিল দুই দিন কলকাতা শহর ও তার আশপাশের পৌরসভার জন্য ভূরিভোজের আয়োজন করেছে পঞ্চায়েত দপ্তর। এই দুই দিন দুপুর ও রাতের রান্না থেকে গৃহিণীদের মুক্তি দিতে অল্প খরচে খাবারের সুযোগ থাকছে। বাঙালির নববর্ষ উদযাপনে গৃহিণীরা যাতে রান্নাঘর থেকে দূরে আমোদ-প্রমোদে থাকতে পারেন, সে কথা মাথায় রেখেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। পশ্চিমবঙ্গে রাত পোহালেই প্রথম পার্বণ পহেলা বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে শুক্রবার।

বঙ্গাব্দের সূচনালগ্নটিতে খাদ্যরসিক বাঙালির রসনার তৃপ্তিতে উদ্যোগী হয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে ইলিশ ভাপা থেকে বিরিয়ানি।

১৪ ও ১৫ এপ্রিল দুই দিন কলকাতা শহর ও তার আশপাশের পৌরসভার জন্য ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীন সুসংহত এলাকা উন্নয়ন পর্ষদ (সিএডিসি) এই সুবিধা নিয়ে হাজির হচ্ছে শহরবাসী বাঙালির দুয়ারে।

এই দুই দিন দুপুর ও রাতের রান্না থেকে গৃহিণীদের মুক্তি দিতে অল্প খরচে খাবারের সুযোগ থাকছে। বাঙালির নববর্ষ উদযাপনে গৃহিণীরা যাতে রান্নাঘর থেকে দূরে আমোদ-প্রমোদে থাকতে পারেন, সে কথা মাথায় রেখেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

পহেলা বৈশাখে বাড়ি বাড়ি ভোজ পৌঁছে দেবে পঞ্চায়েত দপ্তর

এই উদ্যোগে বিশেষ ধরনের মুরগির মাংস থেকে খাসি, দই কাতলা থেকে ইলিশ ভাপার মতো সনাতনী পদ বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাইছে।

পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, বর্ষবরণের দুই দিন অর্থের বিনিময়ে মিলবে বিশেষ থালি। দুপুরের থালিতে থাকছে দেহরাদূন চালের ভাত, পোস্ত দিয়ে উচ্ছে, আলু ভাজা, টক ডাল, ইলিশ ভাপা, চিকেন কষা, চাটনি, পাপড়, মিষ্টি ও পান।

কেউ যদি মুরগির মাংসের বদলে খাসির মাংস পেতে চান, তার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা থাকছে। ফোন দেয়ার সময় চাহিদার কথা জানিয়ে দিলে ইলিশ ভাপা ও মুরগির মাংসের বদলে পাওয়া যাবে দই কাতলা এবং মাটন কষা।

প্রতিটি থালি পেতে দিতে হবে ৫০০ টাকা করে। দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৮১৭০৮৮৭৭৯৪/ ৯৭৩৪৩৯৯৯১৫ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ ফোন দিলেই চাহিদামতো খাবার পৌঁছে যাবে। অনলাইনে টাকা দেয়া ছাড়াও খাবার পৌঁছে দেয়ার পর টাকা দেয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

রাতে আবার থাকছে ভিন্ন আয়োজন। রাতের খাবার হিসেবে কর্তৃপক্ষ রেখেছেন চিকেন ও মাটন বিরিয়ানি। চিকেন বিরিয়ানি পেতে খরচ করতে হবে ১৩০ টাকা। আর মাটন বিরিয়ানির ক্ষেত্রে খরচ হবে ১৭৫ টাকা।

সম্প্রতি বাড়ির পোষ্য অর্থাৎ বেড়াল ও কুকুরের বাচ্চার জন্যেও বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে সিএডিসি। বাংলা বর্ষবরণে সেই সুবিধা বহাল থাকছে। কলকাতা শহর ছাড়া বিধাননগর, বরাহনগর, উত্তর ও দক্ষিণ দমদম পৌরসভা এলাকায় এই পরিষেবা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর।

আরও পড়ুন:
দত্তের সন্দেশ যাচ্ছে ‘মমতার কাছে’
‘বর্ষবরণে প্রাণ ফিরলেও উচ্ছ্বাস নেই’
মহামারির অস্তাচলে মঙ্গলের বারতা
পিঠে বড়শি গেঁথে ৪ দশকের প্রার্থনা

মন্তব্য

উপরে