× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Beware of cheating in the name of lottery for permanent residency in America
google_news print-icon

সাবধান, আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের লটারির নামে প্রতারণা

লটারি
অনলাইনে ইউএসএ লটারির এমন বিজ্ঞাপন দিচ্ছে ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
হু হু করে জমা পড়ছে আবেদন। প্রতিটি আবেদনের জন্য ফি হিসেবে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকা। ‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখের বেশি মানুষ আবেদন করেছেন। এ তথ্য সঠিক হলে অন্তত ৪২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন আবেদনকারীরা।

“ডিভি লটারির মতোই ‘ইউএসএ লটারি’ ফরমটি সঠিকভাবে ফিলআপ করে সাবমিট করুন এবং আপনার আবেদন সম্পূর্ণ করে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাস করুন।”

‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনলাইনে চালানো হচ্ছে এমন প্রচার। তাদের দাবি, আবেদনকারীদের মধ্যে বিজয়ীদের বেছে নিতে ৩০ এপ্রিল রাত ১০টায় ঢাকায় ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে ড্র। এরপর দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হবে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া নির্বাচিতদের তালিকা।

এই ঘোষণায় সাড়া দিয়ে হু হু করে জমা পড়ছে আবেদন। প্রতিটি আবেদনের জন্য ফি হিসেবে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকা। ‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখের বেশি মানুষ আবেদন করেছেন। এ তথ্য সঠিক হলে অন্তত ৪২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন আবেদনকারীরা।

তবে ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাসের কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন, এ ধরনের কোনো প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেই। এভাবে আয়োজিত লটারি জিতে আমেরিকায় স্থায়ী আবাস গড়ারও কোনো সুযোগ নেই।

আর ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তাদের হল বুকিং বাতিল করা হয়েছে। বুকিং বাতিল হওয়ার পর ‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’ তাদের ফেসবুক পেজে আগের ঘোষণায় পরিবর্তন এনে অনলাইনে লটারির ফল ঘোষণার কথা জানিয়েছে।

সাবধান, আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের লটারির নামে প্রতারণা
‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’-এর ওয়েবসাইট

ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার নামের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের লটারির প্রচার চালানো হচ্ছে। ওয়েবসাইটে ঢুকলে লটারিতে অংশ নিতে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়।

গুগল প্লে স্টোরে ‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’ নামেই অ্যাপটি রয়েছে। ইউএসএ ট্যুর ফেয়ারের ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৮ বার ডাউনলোড হয়েছে অ্যাপটি। এই অ্যাপের মাধ্যমে পূরণ করতে হয় আবেদন ফরম। এরপর সাবমিটের সময় ফি হিসেবে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকা।

আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এসএসসি বা দাখিল পাস, বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছর এবং বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক।

ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রতিষ্ঠানটি দুটি ঠিকানা ব্যবহার করছে। একটি নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ প্লাজা, অন্যটি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড।

ঢাকায় ইউএসএ ট্যুর ফেয়ারের যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সেটি ‘ট্রাস্ট ট্যুর ট্রাভেলস অ্যান্ড কনসালটেন্সি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবন মোড়ের কাছে খাইরুন নেসা ম্যানশনের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে পার্টিশন দিয়ে তিনটি জায়গা আলাদা করা হয়েছে। প্রথম অংশে রিসিপশন, মাঝেরটিতে গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনার জায়গা, আর অন্য অংশ প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরের জন্য নির্ধারিত।

প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মিজানুর রহমান নিউজবাংলার কাছে দাবি করেন, লটারির বিষয়টি পুরোপুরি দেখভাল করছে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান ‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’। বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের সুবিধার্ধে ট্রাস্ট ট্যুর ট্রাভেলস অ্যান্ড কনসালটেন্সির সঙ্গে ইউএসএ ট্যুর ফেয়ারের চুক্তি হয়েছে। ছয় মাস আগে এই চুক্তি হয়।

তিনি বলেন, ‘যারা তথ্য জানতে আসছে, আমরা শুধু তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা দিচ্ছি। পুরো মেকানিজম রয়েছে আমেরিকায়।’

সাবধান, আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের লটারির নামে প্রতারণা
‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’-এর ফেসবুক পেজ

কত আবেদন পড়ল- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গত ১৮ এপ্রিল আমরা জানতে পেরেছি ইতোমধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ আবেদন করেছেন।’

তিনি দাবি করেন, ‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’ বহু বছর ধরেই এভাবে লটারির মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিচ্ছে।

ট্রাস্ট ট্যুর ট্রাভেল অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেডের ডিরেক্টর জাহিদ হোসাইন দাবি করেন, ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সাবধান, আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের লটারির নামে প্রতারণা
‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’-এর ওয়েবসাইটের ডোমেইন কেনা হয় গত জানুয়ারিতে

তবে নিউজবাংলা যাচাই করে দেখেছে, ইউএসএ ট্যুর ফেয়ারের ওয়েবসাইটটি গত জানুয়ারিতে তৈরি। ওয়েবসাইটের ডোমেইন কেনা হয় ১৬ জানুয়ারিতে। আর যে ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে সেটি তৈরি হয়েছে ২২ জানুয়ারি। আবেদনের অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি।

আমেরিকা থেকে লটারির পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার দাবি করা হলেও ফেসবুক পেজে দেখা গেছে, যে চার ব্যক্তি পেজটি পরিচালনা করছেন তাদের অবস্থান বাংলাদেশে।

সাবধান, আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের লটারির নামে প্রতারণা
‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’-এর অ্যাপ ২ লাখের বেশি ডাউনলোড হয়েছে

আমেরিকার বাংলাদেশ প্লাজায় অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করেছে ‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’। নিউজবাংলার পক্ষ থেকে ওই ঠিকানাটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ট্রাস্ট ট্যুর ট্রাভেল অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেডের ডিরেক্টর জাহিদ হোসাইনের দাবি, ঢাকায় তাদের প্রতিষ্ঠানও সাত বছর ধরে ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ করছে।

একই মালিকানায় ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার পরিচালিত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চারজন আছেন মালিকানায়। আমিও আছি। বাকিদের মধ্যে ওখানকার আইনজীবী ও অন্য পেশায় জড়িত ব্যক্তি আছেন।’

জাহিদ হোসাইন বলেন, ‘আবেদনকারীদের মধ্যে যারা লটারিতে বিজয়ী হতে পারবেন না তারা ২ হাজার ১০০ টাকা ফেরত পাবেন। তবে সেটা সরাসরি ক্যাশে নয়। ট্রাস্ট ট্যুর ট্রাভেল অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড থেকে সেবা নিতে হবে। ওই সেবার যে ফি আসবে, সেখান থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা ছাড় দেয়া হবে।

‘আমরা ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ করে থাকি। আবেদনকারীদের কেউ ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ করালে যে ফি আসবে সেখান থেকে লটারির আবেদন ফি ২ হাজার ১০০ টাকা ছাড় দেয়া হবে।’

সাবধান, আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের লটারির নামে প্রতারণা
ঢাকায় ট্রাস্ট ট্যুর ট্রাভেল অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেডের কার্যালয়

‘ট্রাস্ট ট্যুর ট্রাভেলস অ্যান্ড কনসালটেন্সি’র কর্মকর্তারা জানান, ৩০ এপ্রিল রাতে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে লটারির ড্রয়ে বিজয়ী ১০০ জনকে বেছে নেয়া হবে। তাদের মধ্যে ১০ জন আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন। বাকি ৯০ জন বিজয়ীকে বিভিন্ন দেশে ঘুরিয়ে আনা হবে।

তবে হোটেল ওয়েস্টিন ক্যাটারিং সেলস বিভাগের সহযোগী পরিচালক মুনিরুল কবির নিউজবাংলাকে জানান, তারা ‘ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার’-এর বুকিং বাতিল করেছেন। তিনি শনিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লটারি দিয়ে আমেরিকা নিয়ে যাবে, এমন একটি ইভেন্টের রিজার্ভেশন ছিল। তবে ইভেন্টটির বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার পর হোটেলের সুনাম রক্ষার্থে আমরা তা বাতিল করেছি।’

অন্যদিকে ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, এভাবে লটারিতে বিজয়ী হয়ে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিভি লটারি থেকে বাংলাদেশের নাম অনেক আগেই বাদ পড়েছে। আর ইউএসএ লটারি নামে আমেরিকান সরকারের কিছু নেই। প্রতারণার উদ্দেশ্যে অনেকে এ ধরনের নাম ব্যবহার করে।’

আরও পড়ুন:
প্রতারণা মামলা: ৫ হাজার টাকায় জামিন পৌর মেয়রের
ডিসির সঙ্গে ‘প্রতারণা’, বাবা-ছেলে আটক
প্রতারণা মামলায় বাবা-ছেলে জেলে
র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকসের এমডির নামে প্রতারণা মামলা
স্বামীসহ চিকিৎসকের নামে প্রতারণা মামলা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The young woman who complained of rape is not the pressure of influential people or an arranged drama

ধর্ষণের অভিযোগকারী তরুণী নিরুদ্দেশ, প্রভাবশালীদের চাপ নাকি সাজানো নাটক!

ধর্ষণের অভিযোগকারী তরুণী নিরুদ্দেশ, প্রভাবশালীদের চাপ নাকি সাজানো নাটক! খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ (বাঁয়ে); অভিযোগকারী তরুণী। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি, সেখান থেকে অভিযোগকারীর লোকজনের মাধ্যমে অপহরণ এবং উদ্ধারের পর থানা থেকে বেরিয়েই নিরুদ্দেশ তরুণী। এদিকে ঘটনাক্রমের সঙ্গে অভিযোগেও মিলছে অসঙ্গতি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে- ওই তরুণী প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে আত্মগোপন করেছেন নাকি পুরো ঘটনাটাই সাজানো?

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা তরুণীর কোনো খোঁজ মিলছে না। প্রভাবশালীদের চাপে ওই তরুণী আত্মগোপনে রয়েছেন নাকি তার আনা অভিযোগগুলো সাজানো ছিলো তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দেশ জুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়া সংবেদনশীল এই অভিযোগ তদন্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নারাজ।

ঘটনার শুরু শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। ওই সময়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে নিয়ে আসেন তিন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ৬৫ বছর বয়সী গোলাম রসুল দাবি করেন, ওই তরুণী তার বোন। উপজেলা চেয়্যারম্যান এজাজ আহমেদ বিয়ের প্রলোভনে কয়েক বছর ধরে তার বোনকে ধর্ষণ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতেও তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

গোলাম রসুলের এমন বক্তব্যের বরাতে তাৎক্ষণিক এই খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তরুণীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)। তবে পরদিন রোববার সকাল থেকে আর দেখে মেলেনি ভাই পরিচয় দেয়া গোলাম রসুলের।

এই প্রতিবেদক ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন যে গোলাম রসুল নামে তাদের পরিচিত কেউ নেই। গোলাম রসুলের ছবি দেখালেও তারা কেউ চিনতে পারেননি।

মঙ্গলবার উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষে ডুমুরিয়াতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেখা মিলেছে গোলাম রসুলের। মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে ভুল বুঝিয়ে ওই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। আমার নাম দিয়ে কৌশলে তাকে ভর্তি করানো হয়েছে। আমি এর জন্য ক্ষমা প্রার্থী। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ওই তরুণী যদি ধর্ষণের শিকার হন তা হলে পুলিশ বা পরিবারের সহায়তা না নিয়ে অপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কেন হাসপাতালে এলেন- এই প্রশ্নের কোনো উত্তরও মিলছে না। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাত্র ১৪ মিনিট আগেও পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে ওই তরুণী কথা বলেন। সে সময়ও তিনি ধর্ষণের ব্যাপারে কোনো তথ্য তাদেরকে জানাননি।

তরুণীর নানীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তিনি জানিয়েছেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর এক প্রতিবেশী ওই তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তরুণী রাজি না হওয়ায় ওই ব্যক্তি নানা সময়ে হয়রানি করেছেন। এক পর্যায়ে তরুণীর বিরুদ্ধে তিনটি ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলাও করেছেন ওই ব্যক্তি। ওই মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে আইনজীবীর সহায়তা নেয়ার জন্য তরুণী বিভিন্ন সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের কাছে যেতেন।

শনিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে আমার নাতনী জানায় যে উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিসে আইনজীবী এসেছে। মামলার বিষয়ে কথা বলতে এখনই শাহপুর বাজারে যেতে হবে। এই বলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।’

তরুণীর নানী জানান, রাত ১১টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান পরিচয়ে এক ব্যক্তি প্রতিবেশী আব্দুলাহর কাছে মোবাইলে কল দিয়ে জানান যে ওই তরুণী এত রাতে একাকী বাড়ি ফিরতে পারবে না। রাতে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে ঘুমাবে।

তবে রাত ১২টার দিকে আরেক প্রতিবেশী এসে তাকে জানান, তার নাতনী খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই খবর পেয়ে তরুণীর মা হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।

উপজেলা চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতিবেশী আব্দুলাহর কাছে যে ফোন কলটি এসেছিল, তার রেকর্ড সংরক্ষিত আছে এই প্রতিবেদকের কাছে। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফোনের অপর প্রান্তের কণ্ঠটি উপজেলা চেয়ারম্যানের নয়। আর কলটি এসেছিল রাত ১১টা ১ মিনিটে। আর তরুণী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১টা ১৫ মিনিটে।

যে স্থানে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেখান থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব ২০ কিলোমিটারের বেশি। এই সীমিত সময়ে ধর্ষণ ও হাসপাতালে পৌঁছানোও সম্ভব নয়।

এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে- ওই তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ তুলে বলছেন যে শাহপুর বাজারে উপজেলা চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাকে ওই রাতে ধর্ষণ করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন এই প্রতিবেদক। শাহপুর বাজারে তিন শতাধিক দোকান রয়েছে। ওই বাজারের মাঝখানে দোতলা একটি ভবনের নিচতলায় চেয়ারম্যানের কার্যালয়। ওই কার্যালয়ের পাশে আরও প্রায় ২০টি দোকান রয়েছে। জনবহুল একটি স্থানে ধর্ষণের মতো ঘটনার পর আশপাশের দোকানদাররা জানার আগে অপরিচিত গোলাম রসুল কী করে ধর্ষণের ঘটনা জানলেন, সে প্রশ্নেরও উত্তর মিলছে না।

এছাড়া ওই তরুণীর মোবাইল কল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শনিবার তিনি তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছেন। দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে একবার। এছাড়া রাত ৮টা ৩ মিনিট ও ৮টা ২৮ মিনিটের দিকে কথা বলেছেন।

তরুণীর বাড়ি থেকে এজাজের কার্যালয়ের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। তিনি প্রতিবেশী পীর আলির ভ্যানে করে বাড়ি থেকে শাহপুর বাজারে এসেছিলেন।

পীর আলি জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই তরুণীকে তিনি শাহপুর বাজারে পৌছে দেন। এরপর কী হয়েছে তা তিনি জানেন না।

অন্যদিকে তরুণীর শাহপুর বাজার থেকে হাসপাতালে পৌঁছাতে কমপক্ষে এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অর্থ্যাৎ সাড়ে ৮টার পর থেকে ১০টার মধ্যে তিনি কোথায় ছিলেন ও কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন তার কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

অপহরণের পর বদলে গেল বক্তব্য

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে শনিবার রাতে ভর্তি হন ওই তরুণী। রোববার তাকে ছাড়পত্র দেয়া হবে- এই খবরে সেদিন দুপুর থেকেই ওসিসির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস। উপস্থিত ছিল উপজেলা চেয়্যারম্যানপন্থী ১০ থেকে ১২ ব্যক্তি। বিকেল ৫টায় ওই তরুণীকে ওসিসি থেকে ছাড়পত্র দিয়ে মা ও মামির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ওই সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে অন্যরা টানাহেঁচড়া করে ওই তরুণীসহ তার মা ও মামিকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত ব্যক্তিরা মো. তৌহিদুজ্জামানকে ধরে পুলিশে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনার পর মো. তৌহিদুজ্জামানকে নেয়া হয় খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায়। রাত পৌনে ১১টার দিকে সেই একই মাইক্রোবাসে করে তরুণীসহ তিনজনকে থানায় নিয়ে আসেন তুলে নেয়া ব্যক্তিরা স্বয়ং।

ওই সময়ে তরণীর বক্তব্য পাল্টে যায়। অপহরণ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে তিনি বলেন, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়নি। আমি আমার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে গিয়েছিলাম।’

ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদের সঙ্গে সম্পর্ক কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এজাজ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার ম্যালা দিনের সম্পর্ক। বিভিন্ন সময় সুবিধা-অসুবিধার জন্য তার কাছে যা‌ই।’

ধর্ষণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ, আমাকে সুযোগ দেন সুস্থ হওয়ার। তখন আপনারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যদি উত্তর দিতে না পারি আমার বিরুদ্ধে লেখেন, কিছু বলব না।’

এই একই প্রশ্ন আবারও জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘কোথা থেকে কী হয়েছে না হয়েছে, আমি কিছু বলতে পারি না।’

ওই রাতে থানা থেকে আবারও ওই গাড়িতে করে অতি দ্রুতগতিতে তাদেরকে ডুমুরিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকেই নিরুদ্দেশ ওই তরুণী।

প্রভাবশালীদের চাপে ওই তরুণী আত্মগোপনে রয়েছেন নাকি ধর্ষণের অভিযোগটাই সাজানো ছিল- তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। যদিও ওই রাতে থানায় তিনি দাবি করেছেন, হাসপাতাল থেকে তারা যশোরের কেশবপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

তদন্তে নারাজ পুলিশ

ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকান্ত সাহা জানান, ধর্ষণ কিংবা অপহরণের অভিযোগে ওই তরুণী কোনো মামলা করেননি। অন্য কেউও থানায় এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ দেননি। তাই তাদের কিছু করার নেই।

তবে ওসিসির দায়িত্বে থাকা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমন রায় বলেন, ‘রোববার ডুমুরিয়া থানার ওসি ওসিসিতে এসে ওই তরুণীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।

‘গাইনি ওয়ার্ডে তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তার যে সোয়াব (শ্লেষ্মা) সংগ্রহ করা হয়েছিল তা পরদিন ওসিসিতে মাইক্রো বায়োলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরিহিত পায়জামাসহ কিছু জিনিস ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য সংরক্ষণ এবং বয়স নির্ধারণের জন্য এক্স-রে করা হয়। মাইক্রো বায়োলজিক্যাল রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে।’

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের উচিত, বিষয়টিকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা।’

আরও পড়ুন:
আমাকে অপহরণ করা হয়নি: খুলনার সেই তরুণী
খুমেক হাসপাতাল থেকে অপহৃত ‘ধর্ষণের শিকার’ তরুণী যশোরে উদ্ধার
উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা তরুণীকে হাসপাতাল থেকে ‘অপহরণ’
উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Members social service in Souz land

সওজের জমিতে মেম্বারের ‘সমাজসেবা’

সওজের জমিতে মেম্বারের ‘সমাজসেবা’ দরিদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে অস্থায়ী দোকান ঘর তুলে দেয়া হচ্ছে বরাদ্দ। ছবি: নিউজবাংলা
সাবেক মেম্বার মিজানুর রহমান বলেন, ‘সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে অনেকেই বিল্ডিং নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে, কিন্তু আমরা সমাজসেবা করছি। মানুষ যাতে সেখানে ভালো করে ব্যবসা করতে পারে, তার জন্যই এ ব্যবস্থা।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের জমিতে প্লাস্টিকের ঘের দিয়ে কাপড়ের দোকান, ছাউনি দিয়ে জুতা পলিশ, টেবিল বসিয়ে চা বিস্কুটের দোকান করে বছরের পর বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন গরিব ব্যবসায়ীরা। এতে কখনও ভাড়া গুনতে হয়নি তাদের, কিন্তু হঠাৎ এ জায়গা দখলে নিয়ে টিনশেডের সারি সারি ছয়টি দোকানঘর নির্মাণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল।

আরও ছয়টি ঘর নির্মাণ হবে বলে জানিয়েছেন এসব ব্যবসায়ী। দোকানঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর চৌধুরী হাট বাজার সংলগ্ন ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে রোববার দুপুরে দেখা যায় এমন দৃশ্য। সড়ক ও জনপথের জমিতে সারি করে নতুন টিন ও কাঠ দিয়ে এসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দেবেন বর্মন বলেন, ‘আমি যে ঘরটিতে ছিলাম, সেটি ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তি বরাদ্দ নিয়েছেন। তিনি আমাকে এসে আমার ছাউনি নামাতে বলেন। আমি সেটা নামিয়ে নিয়েছি৷ এখন এ ঘরে ঠাঁই নিয়ে আছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে কাপড় বিক্রি করি। হঠাৎ যারা ঘর নির্মাণ করছে, তারা এসে বলল, আমি যেন আমার ব্যবস্থা নেই। তাদের থেকে ঘর না নিলে হয়তো এখানে থাকতে দেবে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সহযোগীদের নিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মিজানুর রহমান সড়কের এসব জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছেন।

মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে অনেকেই বিল্ডিং নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে, কিন্তু আমরা সমাজসেবা করছি। মানুষ যাতে সেখানে ভালো করে ব্যবসা করতে পারে, তার জন্যই এ ব্যবস্থা।’

এ সময় তিনি ছয়টি ঘর নির্মাণের কথা স্বীকার করেন, তবে এসব ঘর থেকে ভাড়া আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ফজলে রাব্বী চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ফজলে রাব্বী চৌধুরীকে খুঁজে বের করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘অফিসের কাজে ব্যস্ত আছেন’ জানিয়ে রবিউল ইসলাম নামের আরেকজনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হাট ইজারাদার সাবেক মেম্বার মিজানুর রহমান এসব ঘর তুলেছেন।’

এটি সমাজসেবামূলক কাজ, নাকি দখল জানতে চাইলে তিনি দখলের কথা অকপটে স্বীকার করেন।

পরবর্তী সময়ে আবারও মিজানুর মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সবাই যেভাবে সড়কের জমি দখল করে দোকান ঘর করেছেন, আমরাও তাই করেছি।’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।’

ওই সময় তিনি সড়কের দুই পাশে এসব স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সব উচ্ছেদ করে দেয় তাহলে দিতে পারে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় যেসব গরিব মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন, তাদের ওপর যেন জুলুম কেউ না চালান। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা না করতে পারেন এবং সেগুলো যেন উচ্ছেদ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘সমাজসেবার আড়ালে কারও অসৎ উদ্দেশ্য আছে কি না, তারও তদন্ত চাই আমরা।’

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়রা আমাকে এ বিষয়ে অবগত করেছেন। আমরা মাপজোক করে শিগগিরই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আরও পড়ুন:
সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ
বিরোধপূর্ণ জমি দখলের অভিযানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর
চলছে রেলের জমি দখলের মহোৎসব, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ
ময়মনসিংহে জোর করে জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন
মন্দিরের জায়গা দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতা মীর নাছির ও তার ছেলের বিরুদ্ধে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Those who are in the five broker circle of sharing patients from DMK
সরেজমিন প্রতিবেদন

ঢামেক থেকে রোগী ভাগানোর ৫ দালাল চক্রে যারা, যেভাবে

ঢামেক থেকে রোগী ভাগানোর ৫ দালাল চক্রে যারা, যেভাবে উপরে বাঁ থেকে- হেদায়েতউল্লাহ, টুটুল ও হান্নান; নিচে বাঁ থেকে- ইমরান ইমন, সাবিত ও শুভ এবং রাশেদ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নিতে তৎপর বেশ কয়েকটি দালাল চক্র। নিউজবাংলার অনুসন্ধানে এমন পাঁচটি চক্রের বিষয়ে নানা তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে তিনটি চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক চার নেতা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নিতে বেশকিছু দালাল চক্র সক্রিয়। নিউজবাংলার এই প্রতিবেদক তাদের মধ্যে পাঁচটি দালাল চক্রের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সাবেক চার নেতা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢামেক থেকে বেসরকারি হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি করাতে পারলে চক্রের সদস্যদের রোগীপ্রতি পার্সেন্টেজ দেয়া হয়। সে রোগীর কত বিল হয়, তার ওপর নির্ভর করে পার্সেন্টেজের পরিমাণ। এই পার্সেন্টেজ সর্বনিম্ন পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। রোগী যতদিন ভর্তি থাকবেন, সে হিসাবেও টাকা নেয়ার সুযোগ আছে।

আবার চক্রের সদস্যের প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে নিতে না চাইলে স্বজনদের মারধরেরও শিকার হতে হয়।

ঢামেক হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) উজ্জ্বল বেপারী ও ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া চক্রগুলোকে নিরাপত্তা দেয়ার বিনিময়ে মাসোহারা পান বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুজনই তা অস্বীকার করেন।

ঢামেক হাসপাতালে আসা যেসব রোগীর এনআইসিইউ বা আইসিইউ প্রয়োজন হয়, সেসব রোগীকে লক্ষ্য করেই পাঁচটি চক্র কাজ করে। সাধারণ রোগীরাও তাদের লক্ষ্যে পরিণত হন।

ঢামেক হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন দেয়ালে ‘দালাল দেখলে ধরিয়ে দিন’ শীর্ষক যেসব স্টিলের প্লেট লাগানো হয়েছে, সেখানে থাকা যোগাযোগের নম্বরগুলো কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে। নির্বিঘ্নে দালালি চালিয়ে যেতে চক্রের সদস্যরাই নম্বরগুলো মুছে ফেলেছেন- এমন তথ্য জানা গেছে একাধিক সূত্রে।

পাঁচ চক্রের নেতৃত্বে যারা

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি চক্রের একটির নেতৃত্ব দেন শেখ স্বাধীন সাবিত ও ইয়ামিন রহমান শুভ। এর মধ্যে শেখ স্বাধীন সাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি।

একটি চক্রের নেতৃত্ব দেন হেদায়েত উল্লাহ সরকার ও কাজী রাশেদ। এর মধ্যে হেদায়েত ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। আর রাশেদ একই হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-সম্পাদক।

অন্য এক চক্রের নেতা ইমরান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি।

বাকি দুই চক্রের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা কেউই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও জড়িত নন। তারা হলেন হান্নান ও কাশেম। তাদের মধ্যে কাশেম ‘ট্যাক্সি কাশেম’ নামে হাসপাতাল এলাকায় পরিচিত।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সাবিত-শুভ ও হেদায়েত-রাশেদ চক্রটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হাসপাতালের ২১১ ও ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে। এ দুটি এনআইসিইউ ও গাইনি ওয়ার্ড। সার্বক্ষণিকই এ দুই ওয়ার্ডের সামনে চক্রের সদস্যদের অবস্থান থাকে। এ দুই ওয়ার্ডে বাকি তিন চক্রের কেউ কাজ করতে পারেন না। তবে পাঁচটি চক্রই কাজ করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে। চক্রের সদস্যদের সবাই কাজ করেন সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। দিনের বেলা তাদের তৎপরতা তেমন একটা থাকে না।

যে চক্র যেসব হাসপাতালে রোগী পাঠায়

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শেখ স্বাধীন সাবিত ও ইয়ামিন রহমান শুভর নেতৃত্বে থাকা চক্রটি মেডিফেয়ার জেনারেল হাসপাতাল, ইউনিহেলথ, আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, প্রাইম ও ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে রোগী পাঠায়। এ চক্রের ছয় সদস্যের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- জুয়েল, নিপু, মেহেদী, টুটুল, আল আমিন ও এসএম খলীল। তারা মাসিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনে সাবিত ও শুভর হয়ে কাজ করেন।

হেদায়েত ও রাশেদ একটি চক্রের হয়ে কাজ করেন। চক্রটি মেডিফেয়ার, সুপার স্পেশালিস্ট, প্রাইম এবং ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে রোগী পাঠায়। এ চক্রের হয়ে কাজ করেন আলমগীর, রিপন, নাদিম, মিরাজ ও হানিফ।

ইমরান খানের চক্রটি হসপিটাল টোয়েন্টি সেভেন ও বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল কেয়ারে রোগী পাঠায়। এ চক্রের সদস্যরা হলেন- ইব্রাহিম, নয়ন ও নাফিস। তবে ইমরান তাদের মাসিক ভিত্তিতে বেতন দেন না। রোগীভিত্তিক টাকা দেন। আর মাস শেষে প্রত্যেকের টাকার পরিমাণ ২০ থেকে ২২ হাজারে পৌঁছায়।

ট্যাক্সি কাশেমের নেতৃত্বাধীন চক্রটি আমার বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল কেয়ার, প্রাইম ও ক্রিসেন্ট হাসপাতালে রোগী পাঠায়। আর এ চক্রের অধীনে কাজ করে এরকম দুজনের তথ্য পাওয়া গেছে, যারা হলেন মনির ও বিল্লাল।

হান্নানের নেতৃত্বাধীন চক্রটি বিএনকে, এ ওয়ান, প্রাইম ও হেলথ কেয়ারে রোগী পাঠায়। এই চক্রে কাজ করা সদস্যরা হলেন- শরিফ, ইসমাইল, তুষার ও অপু।

হান্নানের নেতৃত্বাধীন চক্রটি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ তুনানের নাম ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে খবর পাওয়া যায়।

চক্রের সদস্যদের হাসপাতালগুলোর মধ্যে মেডিফেয়ার অবস্থিত মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে, ইউনিহেলথ পান্থপথ সিগন্যালে, আহমেদ স্পেশালাইজড চানখাঁরপুলে এবং প্রাইম ও ঢাকা হেলথ কেয়ার অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বিপরীত পাশে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের দুই ও তিনতলায়। সুপার স্পেশালিস্ট, হসপিটাল টোয়েন্টি সেভেন ও বাংলাদেশে ক্রিটিক্যাল কেয়ার অবস্থিত ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে। বিএনকে হাসপাতাল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের পাশে। আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল অবস্থিত শ্যামলি বাসস্ট্যান্ডের পাশে।

এসব হাসপাতালে যারা রোগী পাঠায় তাদের প্রত্যেকের নামে একটি কোড তৈরি হয়। যখনই কোনো একটি কোডের অধীনে সেই হাসপাতালে কোনো একজন রোগী ভর্তি হয় আর চিকিৎসা শেষে যখন সেই রোগী ওই হাসপাতাল ছাড়ে, তখন রোগীর সম্পূর্ণ বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ টাকা সংশ্লিষ্ট কোডের লোককে পরিশোধ করা হয়।

চক্রের সদস্যের ছদ্মবেশে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, চক্রের নেতাদের নামে তাদের হাসপাতালে কোড আছে। এসব কোডের অধীনে তারা সেখানে রোগী পাঠান এবং রোগীভেদে তারা প্যাকেজ বা রোগী হাসপাতালে যতদিন থাকবে, এর প্রতিদিন হিসাবে টাকা পান।

চক্রের সদস্য ছদ্মবেশে জানতে চাইলে এওয়ান হাসপাতালের পরিচালক সাইয়েদ ইসলাম সাইফ বলেন, ‘কোনো আইসিইউ রোগী এনে দিতে পারলে রোগী ভর্তি হওয়ার পরপরই আপনি ১৮ হাজার টাকা পেয়ে যাবেন। এটা হলো প্যাকেজ সিস্টেম। আর পার ডে হিসেবে নিলে দৈনিক পাবেন ৫ হাজার টাকা।’

ছদ্মবেশে চক্রের কয়েকজন নেতাকে ফোন দিলে তারাও এই প্রতিবেদককে রোগী যতদিন ভর্তি থাকবে দিনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে দেয়ার প্রস্তাব দেন।

দালাল চক্রের সদস্যরা যেভাবে কাজ করে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চক্রের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যখনই কোনো রোগী আসে, চক্রের সদস্যরা তাদের অনুসরণ করেন। তারা রোগীর স্বজন, হাসপাতালের ট্রলি ম্যান বা যে অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে আনা হয়েছে, সেই অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সঙ্গে কথা বলে রোগীর রোগের ধরন জানার চেষ্টা করেন। কথা বলে রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হতে পারে এ রকম কোনো ধারণা পেলে তারা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে থেকে তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর তারা রোগীর সঙ্গে ডাক্তারের রুম পর্যন্ত যান। ডাক্তার যদি বলেনযে রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন, তখন থেকেই তাদের বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা শুরু হয়। এটিকে তাদের ভাষায় বলা হয় মার্কেটিং।

রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে দালালরা ডাক্তারের রুম পর্যন্ত রোগীকে নিতে দিতে চান না। এর আগেই তারা রোগীর অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক কথা বলে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করে দেন। যখনই কোন রোগী তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে সম্মত হন, তখনই চক্রের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ফোন দিয়ে রোগীর নাম এবং রোগীর বাবা বা মায়ের নাম জানিয়ে সেই রোগীকে তাদের চক্র প্রধানের নামে থাকা কোডে বুকিং দিতে বলেন।

অনেক সময় এক রোগীর জন্য কয়েকটি চক্রের সদস্যরা একসঙ্গে ফোন করেন। তখন যে চক্রের সদস্যরা আগে ফোন দেন, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয় ‘কল ক্লিয়ার’। আর যারা পরে ফোন দেন তাদের বলা হয় ‘কল বুকড’।

আর যে দুটি চক্র ঢাকা মেডিক্যালের ২১১ ও ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ করে তাদের সদস্যরা এসব ওয়ার্ডের সামনে প্রায় সময় অবস্থান করেন। সেখানে থেকে তারা খেয়াল রাখেন কোনো রোগীর এনআইসিইউ বা আইসিইউ প্রয়োজন হচ্ছে কি না। আইসিইউ বা এনআইসিইউ প্রয়োজন হতে পারে এমন রোগীদের টার্গেটের পাশাপাশি অনেক সময় তারা যেসব রোগীর এসবের প্রয়োজন নেই তাদেরও টার্গেট করেন। তাদের শিশুদের জন্য এনআইসিইউ প্রয়োজন বা এনআইসিউতে না নিলে তাদের বাচ্চার সমস্যা হয়ে যাবেসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

চক্রের সদস্যরা রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বিভিন্ন প্রতারণা, বিশেষ করে কম খরচে রোগীর চিকিৎসা করানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। আর চিকিৎসা শেষে বিলের কাগজ দেখে কপালে হাত দিতে হয় রোগীর স্বজনদের।

প্রতিবাদ করলে রোগীর স্বজনদেরও করা হয় মারধর

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিট নেই এবং রোগীর জরুরি ভিত্তিতে এনআইসিইউ প্রয়োজন- এমনটা জানিয়ে দালাল চক্রের সদস্যরা এক রোগীকে বাইরে নিয়ে যেতে চাইলে এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় সেই রোগীর স্বজনদেরও মারধর করেন সাবিত-শুভরা।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রাসেল শান্ত বলেন, “২৬ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমার ভাতিজার জন্ম হয়। কিছুক্ষণ পর এক লোক এসে নিজেকে হাসপাতালের লোক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমাদের এখানে সিট নেই। আপনারা এখানে ভর্তি হতে পারবেন না। বাচ্চাকে সুস্থ রাখতে চাইলে এখান থেকে দ্রুত নিয়ে যান।’ পাশেই মেডিফেয়ার নামে একটা হাসপাতাল আছে। সেখানে সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’

আমরা জিজ্ঞেস করি, মেডিফেয়ারে নেয়ার বিষয়টা ডাক্তার বলেছেন কি না।

“তখন তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’।’ এরপর আমরা তাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে চাইলে সে ডাক্তারের কাছে যেতে গড়িমসি করছিল। তখন আমরা বুঝতে পারি, সে দালাল।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর ওই লোকটাকে আমরা ঢাকা মেডিক্যালের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। এ সময় সেখানে সাবিত (স্বাধীন সাবিত) ভাইও হাজির হয়। ছাত্রলীগ করার কারণে আমি ওনাকে চিনি। এরপর ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু ভাই বিষয়টা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে সমাধান করে দিয়েছে।

“সমাধান করার পর যখন আমরা ফাঁড়ি থেকে বের হই তখন সাবিত ভাই তার লোকজনকে নিয়ে এসে আমাকে মারা শুরু করেন।”

ঘটনার সময় সেখানে শাহবাগ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক খালেকও উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী যদি এই ঘটনায় মামলা করে তাহলে আমরা অবশ্যই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করব। একটা বিষয় সমাধান হওয়ার পর তো তারা কারও গায়ে হাত তুলতে পারে না।’

অতিষ্ঠ অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও

চক্রের সদস্যদের কথা অনুযায়ী কাজ না করলে খড়্গ নেমে আসে ঢাকা মেডিক্যালে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ওপর। তাদের মারধরের শিকার হতে হয়। এসবের প্রতিবাদে কয়েক মাস আগে ধর্মঘটও ডাকেন অ্যাম্বুলেন্স চালকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার বলেন, ‘তাদের কাছে আমরা অসহায়। আমরা যখন ঢাকা মেডিক্যাল থেকে কোনো রোগীকে নিয়ে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হই, তখন এই সাবিত-ইমনরা এসে আমাদের বলে দেয় রোগী যেই হাসপাতালের কথা বলছে, সেই হাসপাতাল না, আমরা যেই হাসপাতালে বলব, সেই হাসপাতালে নিয়ে যাবি। অনেক সময় তারা আমাদের সাথে গাড়িতে উঠে বসে। আবার অনেক সময় তারা বাইক নিয়ে আমাদের গাড়ি ফলো করে।

‘তাদের কথা অনুযায়ী সেই হাসপাতালে না নিয়ে গেলে আমাদের মারধর করে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে রোগীদের ওইসব হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হই। অনেক সময় তারা রোগীর সঙ্গে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে উঠে সারা রাস্তা রোগীদের উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে রাজি করানোর চেষ্টা করে।’

ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বলেন, ‘গরিব, অসহায় মানুষদের বেসরকারিতে ভর্তি করানোর জন্য তারা যে টানাহেঁচড়াটা করে, এগুলো অমানবিক। ছাত্রলীগের নাম দিয়ে এরা যা করছে এগুলো মানার মতো না।’

বাবুল বলেন, ‘এই সাবিত-ইমনদের কথা অনুযায়ী না চললে অনেক অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে তাদের হাতে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি তারা আমাকেও একদিন মারছে।’

সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাবুল বলেন, ‘এক মাস আগে ঢাকা মেডিক্যাল থেকে বের হয়ে আমার অ্যাম্বুলেন্সে একজন রোগী ওঠে। উনি যাবেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। এসময় দালাল চক্রের নেতা ইমন আমার অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে চায়। আমি তাকে বলি- আমার অ্যাম্বুলেন্সে আপনাকে তুলবো না। আপনি রোগীর লোক না। উনারা যেখানে বলে সেখানেই আমি যাব।

‘এরপর কেন তাকে আমি এই কথা বললাম, এ জন্য আমার গায়ে হাত তুলেছে। পরে সাবিত-শুভসহ সবাই এসে আমাকে হেলমেট দিয়ে এলোপাতাড়ি মারা শুরু করেছে। এজন্য পরদিন আমি ধর্মঘট ডাকি। পরে তারা এসে ক্ষমা চায়।’

তিনি বলেন, ‘এদের জ্বালা-যন্ত্রণায় তিন দিন আগে আমরা নতুন নিয়ম করেছি, যেন গাড়ির সামনে কোন দালাল উঠে রোগীদের বিরক্ত করতে না পারে। যদিও কয়েক দিন আগে জোর করে এক অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর সাথে উঠে যায় ইমন। এ জন্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি হিসেবে ওই ড্রাইভারের অ্যাম্বুলেন্সকে ২৪ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং সেই ড্রাইভারকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

বাবুল বলেন, এই দালালরা হাসপাতালের ট্রলি ম্যানদের সাথেও কন্টাক্ট করে রাখছে। কোন রোগীর কন্ডিশন কী রকম ট্রলিম্যানরা ফোন দিয়ে তাদের এসব তথ্য জানায়।

দালাল চক্রের খপ্পরে পড়া ভুক্তভোগীদের ভাষ্য

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৬ ডিসেম্বর রাত আড়াইটার সময় দেখা যায়, এক যুবক একটি শিশুকে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে ছিল সাবিত-শুভ গ্রুপের সদস্য টুটুল। তাদের পিছু পিছু যাওয়ার পর দেখা যায়, তারা জরুরি বিভাগের গেট থেকে একটি অটোরিকশা নিয়ে সেই শিশুকে চানখাঁরপুলের আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করান।

পরে জানা যায়, সেই যুবকটির নাম হৃদয়। তিনি শিশুটির বাবা। ১৫ জানুয়ারি নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ওই হাসপাতালে এক দিন থাকার পর বুঝেছি যে আমি দালালের খপ্পরে পড়েছি।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ঢাকা মেডিক্যালের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলাম। আমার বউয়ের বাচ্চা হওয়ার পর সেখানে থাকা এক বৃদ্ধ আমাকে বলে, ‘আপনার বাচ্চার নিউমোনিয়া। এ জন্য এনআইসিইউ প্রয়োজন।’ ভেবেছি সে হাসপাতালেরই কেউ। তার কথা শুনে আমরা এনআইসিউতে কথা বলার জন্য বের হলে আরেকজন আমাকে জিজ্ঞেস করে আমাদের এনআইসিউ প্রয়োজন কি না। আমরা ‘হ্যাঁ’ বললে সে আমাকে বলে, ‘ঢাকা মেডিক্যালে এনআইসিইউ আছে। কিন্তু এ জন্য পাঁচ হাজার টাকা প্রয়োজন।’ পরে আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে সে স্বীকার করে সে বাইরের লোক।

“পরে তার সাথে বাগবিতণ্ডা করতে করতে আমি নিচে নেমে যাই। এ সময় তাকে একটা থাপ্পড় মারি। তখন সেখানে তার পক্ষের আরও অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়। পরে ঝামেলা শেষ করে টুটুল নামের একজন এসে আমাকে বলে, ‘আপনাদের কী নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। আমি বলি, এনআইসিইউ নিয়ে।’ এরপর সে আমাকে বলে, ‘আমার হাতে একটা হাসপাতাল আছে। সেখানে এনআইসিইউ আছে। আপনারা সেখানে যেতে পারেন।”

হৃদয় আরও বলেন, “তার কথামতো আমরা চানখাঁরপুলের আহমেদ স্পেশালাইজড হসপিটালে যাই। তবে সে আমাকে বলেনি, কত টাকা প্রয়োজন। ঢোকামাত্র হাসপাতালে ভর্তির জন্য আমার কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা এবং আরেকটু পরেই ওষুধের কথা বলে আরও ১৪০০ টাকা নেয়। এরপর সেখানে আমার থাকার জায়গা না থাকায় বাচ্চাকে রেখে আমি বের হয়ে চলে আসি। পরের দিন সকালে গেলে হাসপাতাল থেকে আমাকে বলা হয়, ‘আপনার বাচ্চাকে দেখতে একজন ডাক্তার আসবে। তার জন্য এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।’ তখন থেকে আমার সন্দেহ শুরু হয়।

“এরপর আমি ডাক্তার দেখাব না জানালে তারা বলে, ‘তাহলে সাত হাজার টাকা জমা দিয়ে আসেন।’ এই টাকা কিসের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, ‘গতকাল মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত এনআইসিইউর ফি।’ এই কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কারণ তারা আমাকে বলেনি, অর্ধ দিনেই এত টাকা আসবে।

“অনেক ঝগড়ার পর চার হাজার টাকা দিয়ে আমার বাচ্চাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসি। এরপর আমরা ফের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই।’

২৬ ডিসেম্বর মধ্যরাতেই আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতালেই দেখা মেলে আরেক রোগীর স্বজনের। সে সময় তিনি নেবুলাইজার লাগানো তার ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে বের করে হেঁটে ঢাকা মেডিক্যালের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার গতিরোধ করে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় সাবিত-শুভ চক্রের সদস্য টুটুলকে।

এই রোগীর বাবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের টুটুল নামের এই লোকটি এই হাসপাতালে ভালো ব্যবস্থা আছে বলে এখানে নিয়ে আসে। তার কথায় প্রভাবিত হয়ে আমরা চলে আসি, কিন্তু এসে দেখি, হাসপাতালের পর্যায়েও পড়ে না এটা। তাই আবার ঢাকা মেডিক্যালেই চলে যাচ্ছি।’

ভিডিও করায় হেনস্তার মুখে প্রতিবেদক

২৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে একটি চক্রের নেতা ইমরান খানকে অনুসরণ করতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি হাসপাতালের নিচতলায় নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে আসা এক রোগীর সঙ্গে কথা বলছেন। এ সময় তার গতিবিধি এবং রোগীর সঙ্গে হওয়া তার কথোপকথন গোপন ক্যামেরায় ভিডিও করার চেষ্টা করলে তিনি বুঝে ফেলেন এবং নিজেকে হাসপাতালের লোক পরিচয় দিয়ে প্রতিবেদককে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

পরে ওই রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি এসেছেন কুমিল্লা থেকে। ইমরান খানের ছবি দেখিয়ে তার সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঢাকা মেডিক্যালে সিট সংকট জানিয়ে ইমরান খান তাকে অন্য একটি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এর একটু পরেই দেখা যায়, সেই রোগী একটি অ্যাম্বুলেন্স করে হাসপাতাল ছাড়ছেন। তার সঙ্গে ইমরান খানকেও দেখা যায়।

এই ঘটনার ভিডিও করে প্রতিবেদক ভোর ৩টার দিকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে এলে তার পথরোধ করেন ফাঁড়ির এক কনস্টেবল। জ্যাকেটে নেমপ্লেট ঢাকা থাকায় তার নাম জানা যায়নি। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন সাবিত, শুভ, তাদের অনুসারী টুটুল ও অন্য চক্রের নেতা ইমরান খানও। পুলিশ কনস্টেবল তাদের দেখিয়ে প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান কেন তাদের অনুসরণ এবং ভিডিও করা হয়েছে। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের মোবাইল য়োন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করার চেষ্টা করেন।

যা বলছেন অভিযুক্তরা

রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাবিত-শুভ গ্রুপের সদস্য টুটুলকে ফোন করা হলে তিনি সাবিতের সঙ্গে কথা বলতে বলে ফোন কেটে দেন।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ স্বাধীন সাবিত বলেন, ‘আমরা কোন হাসপাতালের মার্কেটিং (দালালি) করি না। আমি মেডিফেয়ার হাসপাতালের মালিক। আমার এখানে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগী আসে। আর ঢাকা মেডিক্যালে আমরা যাই না। সেখানে আমাদের হয়ে কাজ করে এরকম কোনো সদস্যও নেই।’

মেডিক্যালে আসার ছবি ও ভিডিও আছে জানালে তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে। থাকলে আপনি পাবলিশ করে দেন।’

রোগীর স্বজন ও অ্যাম্বুলেন্সের চালককে মারধরের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবিত বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনার কাছে তথ্য থাকলে আপনি যা ইচ্ছা করেন। এটা নিয়ে আমার অতো বেশি মাথাব্যথা নেই।’

এ গ্রুপের আরেক সদস্য ইয়ামিন শুভ বলেন, ‘আমরা কোনো হাসপাতালে মার্কেটিং করি না। আপনার এগুলো প্রিপ্ল্যান্ড (পূর্বপরিকল্পিত) কথাবার্তা। এগুলো বাদ দেন।’

অন্য একটি চক্রের নেতা হেদায়েত সরকার বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে আমাদের প্রতিনিধি আছে। তারা বেতনভুক্ত। তারা সেসব হাসপাতালে আমাদের হয়ে মার্কেটিং করবে। তবে হাসপাতালের কোনো কর্মচারী বা অন্য কেউ রোগী পাঠালে তাদের আমরা কমিশন দিই না। এসব কাজ করে মেডিফেয়ার বা আহমেদ স্পেশালাইজডের মতো হাসপাতালগুলো।’

এ চক্রের অন্য নেতা কাজী রাশেদ বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় বা অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি, এটা সত্য। এদের মাধ্যমে যদি আমাদের হাসপাতালে কোনো রোগী আসে, তাদের আমরা পার ডে ভিত্তিতে বা এককালীন একটা পার্সেন্টেজ দেই। এই টাকাটা পপুলার বা ল্যাবএইডের মতো হাসপাতালও দেয়।

‘এখন এদের যদি আমরা টাকা না দেই, তারা তো আমাদের রোগী দেবে না। তাই এই টাকাটা দিতে হয়। তবে আমরা নিজেদের কোনো লোক হাসপাতালের ভেতরে রাখি না।’

তাহলে এ গ্রুপের সদস্য হানিফ, মিরাজ বা আলমগীর এরা কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরা আমাদের হাসপাতালের কর্মচারী।’

তারা ঢাকা মেডিক্যালে কী করে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

আরেকটি চক্রের নেতা ইমরান খান বলেন, ‘এই অভিযোগগুলো হাস্যকর। এগুলো বলে কে আপনাদের? তবে এসব বিষয়ে সরাসরি কথা বলাই ভালো।’

অ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধর বা রোগীদের কনভিন্স করতে তাদের অ্যাম্বুলেন্সের সামনের সিটে উঠে বসার চেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো কোনো কিছুই হয় না।’

ইব্রাহিম, নাফিস ও নয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জানতে চাইলে ইমরান বলেন, ‘এসব বিষয়ে আপনি জিজ্ঞেস করছেন কেন? এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা হবে।’

অন্য চক্রের নেতা হান্নান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে এমনিতেই রোগী আসে। মার্কেটিংয়ের জন্য কেউ নেই। আর রোগী নিয়ে আসলে কাউকে টাকা দেয়া হয় না।’

অভিযোগের বিষয়ে আবুল কাশেম টিপু বলেন, “২০১৯ সাল পর্যন্ত আমি এই ব্যবসা করতাম। এখন ব্যবসা করে হেদায়েত-রাশেদ ও সাবিতরা। আমি এখন রাজনীতি করি। তবে আমার দুই ছোট ভাই মনির ও বিল্লাল, তাদেরকে আমি কিছু দিতে পারিনি। তারা মার্কেটিং করে মাসে এখন কয়েকটা ‘কল’ পায়।

“তবে এই ‘কল’ কোনোভাবেই দশটার উপরে না। এতে যদি কারও সমস্যা হয় আমাকে বলতে পারেন। আপনি বরং দেখেন এখানে কে রাঘববোয়াল আর কে রাঘববোয়াল না। হেদায়েত-রাশেদ- সাবিতদের মারামারিতে তারা (মনির-বিল্লাল) গত কয়েক মাস ধরে কোনো কলই পাচ্ছে না।”

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই দালাল চক্রের ব্যাপারে আমরা অবহিত। আমরা তাদের উৎখাত করার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে তাদের দুই সদস্যকে আমরা গ্রেপ্তারও করেছি। এই চক্রের নেতারা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, সেটাও আমরা অবহিত। এটি নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টর মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করার চিন্তা করছি।

‘স্যারদের আমরা অবহিত করেই এরপর এদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী এসব কাজে জড়িত থাকা লজ্জাজনক বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার হাসপাতালের আনসার, পুলিশ এবং ওয়ার্ড মাস্টারদের আমরা ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি- বিভিন্ন ল্যাবরেটরি বা বেসরকারি হাসপাতালের কোনো লোক যদি আমাদের হাসপাতালে আসে, তাদের ধরে যেন পুলিশে সোপর্দ করা হয়।’

পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও আনসার প্লাটুনের কমান্ডারের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়ে ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘এ বিষয়টাও আমি শুনেছি। কিন্তু যেহেতু তারা সরকারি কর্মকর্তা, তাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কিছুটা কঠিন।’

হাসপাতালের দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো ‘দালাল দেখলে ধরিয়ে দিন’ শীর্ষক প্লেটে থাকা নম্বর মুছে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সবেমাত্র দুই সপ্তাহ হয়েছে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত নই। এটি আমি দেখব।’

আরও পড়ুন:
ঢামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান
ঢামেকে রোগীকে জিম্মি করে টাকা দাবির অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Online gambling millionaire network spread in Qatar

অনলাইন জুয়ায় কোটিপতি, নেটওয়ার্ক ছড়িয়েছে কাতারে

অনলাইন জুয়ায় কোটিপতি, নেটওয়ার্ক ছড়িয়েছে কাতারে সেলুনে কাজ করতে করতে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন সাগর বৈদ্য। কোলাজ: নিউজবাংলা
সূত্রের তথ্যানুযায়ী, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শতাধিক কিশোর ও তরুণ নিষিদ্ধ অনলাইন জুয়া ও স্ক্যামিংয়ে জড়িত। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ডলার কামানোর মোহে পড়েছেন গৃহবধূ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরাও। আর এর পরিসর দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের তৎপরতার পরও কৌশলে পিঠ বাঁচিয়ে চলছেন এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িতরা।

সাগর বৈদ্য, বছর কয়েক আগেও সেলুনে কাজ করতেন। আর এখন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে গেছেন; গড়ে তুলেছেন বণিক সমিতি। এলাকায় প্রভাশালী হয়ে উঠেছেন। বসবাস করেন বিলাসবহুল বাড়িতে।

সাগরের এই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে কাজ করেছে তার অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক। এর কারণে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন, তবুও থামেনি তার জুয়ার প্ল্যাটফর্ম। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সংকর সেন গ্রামের নারায়ণ বৈদ্যর ছেলে সাগর বৈদ্য এখন যাপন করেন বিলাসবহুল জীবন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই বছর আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ রোডের জেন্টস পার্লারে কাজ করতেন সাগর। সেখান থেকেই শুরু করেন অনলাইনে জুয়া খেলা। কয়েক দিন যেতে না যেতেই তার জীবনের চাকা ঘুরে যায়; হয়ে ওঠেন কোটিপতি। কয়েক বছরের মধ্যে অর্থ-সম্পত্তি বেড়ে যাওয়ায় বাড়তে থাকে সাগরের ব্যবসাও। শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজারে ফার্ম ফ্রেশ মিট জোন নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। সাঘরদিঘি রোডে সুমনা পোল্ট্রি হাউজ নামে আরেকটি খাদ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। এ ছাড়া তিনি গড়ে তুলেছেন আশার আলো শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামে একটি সমিতি, যার মাধ্যমে শুরু হয় তার দাদন ব্যবসা। সেটি এখন একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। আর এ সবকিছু ঘটে গেছে একপ্রকার চোখের নিমেষে। অনলাইনে জুয়া খেলে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন তিনি।

২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল জুয়া খেলার দায়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হন সাগর। পরে ছাড়া পেয়ে নতুন উদ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক বাড়াতে থাকেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীমঙ্গলের এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাগর কাতার প্রবাসীদের দিয়ে জুয়ার প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। শ্রীমঙ্গলের শতাধিক অনলাইন স্ক্যামার ও জুয়াড়িকে জুয়া খেলা শেখায়, এমনকি তাদের ডলার দিয়েও সহায়তা করে সে।’

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শতাধিক কিশোর ও তরুণ নিষিদ্ধ অনলাইন জুয়া ও স্ক্যামিংয়ে জড়িত। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ডলার কামানোর মোহে পড়েছেন গৃহবধূ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরাও। আর এর পরিসর দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের তৎপরতার পরও কৌশলে পিঠ বাঁচিয়ে চলছেন এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িতরা।

স্ক্যামিং একপ্রকার অনলাইনকেন্দ্রিক প্রতারণার ফাঁদ। স্ক্যামাররা অনলাইনে যৌন-সংক্রান্ত ফাঁদ পেতে দেশি-বিদেশি ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সম্পত্তি কেনা-বেচার মধ্যাস্থতাও করেন তারা। দ্রুত ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় এই অন্ধকার গলিতে কোনোকিছু না ভেবেই পা বাড়াচ্ছে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা।

অনলাইন স্ক্যামিংয়ে অভিযুক্ত স্থানীয় মো. লকন নামের এক যুবক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওয়ানএক্সবেট, মিলবেটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গেম খেলে ও বাজি ধরে এসব জায়গা থেকে ডলার আসে। আবার অভিজ্ঞ স্ক্যামাররা গ্রাহকদের সঙ্গে চ্যাট করেন। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের পর বিশেষ কায়দায় তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়।’

এ বিষয়ে জানতে সাগর বৈদ্যর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া ও স্ক্যামিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই ক্ষেপে যান তিনি। বলেন, ‘আমি কীভাবে কী করেছি তা আপনাকে জানাব কেন? অনলাইনে কী করি না করি তা আপনাকে জানানোর কিছু নেই। এসব জেনে আপনার কী দরকার?’ বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘দেশে অনলাইনে জুয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

আরও পড়ুন:
জুয়ার সফটওয়্যার ডেভেলপারসহ তিনজন গ্রেপ্তার
জুয়ার বিজ্ঞাপন বন্ধে হাইকোর্টের রুল
জুয়ায় হেরে নিজেকে ‘অপহরণ’
জুয়ার ৩৩১ ওয়েবসাইট বন্ধ করল বিটিআরসি
অনলাইন জুয়ার সাইটের তিন এজেন্ট গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra Dal leader to drug lord

ছাত্রদল নেতা থেকে মাদক সম্রাট

ছাত্রদল নেতা থেকে মাদক সম্রাট সাহাব উদ্দিনের ইয়াবা কারবারের কয়েকটি ছবি নিউজবাংলার হাতে এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা
• কলজছাত্রের মুখোশ পরে মাদক ব্যবসা, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ • মাসোয়ারা দেয়ায় অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যান • স্থল ও আকাশ পথে রাজধানীতে ঢোকে তার ইয়াবার চালান • রোহিঙ্গাদের সমন্বয়ে তৈরি করেছেন সিন্ডিকেট

সাহাব উদ্দিন। বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়া এলাকায়। পরিচয় দেন কলেজছাত্র হিসেবে। তবে ছাত্রত্বের মুখোশের আড়ালে তার রয়েছে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য।

সম্প্রতি পাকস্থলিতে ইয়াবা এনে গণনার কিছু ছবি নিউজবাংলার হাতে এসেছে। যাতে দেখা যায়, এক সহযোগীকে নিয়ে ইয়াবা গণনা করছেন সাহাব উদ্দিন। ইয়াবার ছোট ছোট বড়িগুলো যে পাকস্থলিতে বহন করা হয়েছে, তা ছবিতে স্পষ্ট। ঠিক কত হাজার ইয়াবা তিনি বহন করেছেন- ওই চালানে তা নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, ওই চালানে অন্তত আড়াই হাজার ইয়াবা ছিল। সেগুলো উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনে পাকস্থলিতে করে নিয়ে আসেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, ২০০৮ সাল থেকে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সাহাব উদ্দিন। পাকস্থলিতে ইয়াবা বহনের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে তার। ফলে সহজেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যান তিনি। যে সকল কর্মকর্তার তার এ অবৈধ ব্যবসা নজরে এসেছে তাদের নিয়মিত মাসোয়ারা দেন সাহাব উদ্দিন। যে কারণে ওইসব কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন না। এ কারণে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তার ইয়াবার সিন্ডিকেট। কক্সবাজার সদর উপজেলায় তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ক্যাম্প-কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট, যা এলাকার মানুষের অজানা নয়।

সুত্রটি আরও বলছে, সাহাব উদ্দিন গত তিনবার ছাত্রদলের ঝিলংজা ওয়ার্ড কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। নাশকতাসহ নানামুখী কর্মকাণ্ডেও প্রথম সারিতে থাকেন তিনি। একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে সাহাব উদ্দিনের সম্পদ এখন পৌঁছেছে ৮টি ভাড়া বাসা, দামী বাইক এবং নিজের বাড়িতে। তার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের মাদকের আস্তানাগুলো, যেখানে প্রতিদিন পথশিশুদের দিয়ে খুচরা ইয়াবা সরবরাহ করছে তার কর্মীরা। বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় হলেও মাসোয়ারা দেয়ার সুবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেকোনো অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যান তিনি। ফলে অভিযানে গিয়েও বারবার খালি হাতে ফিরতে হয় পুলিশের।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে সাহাব উদ্দিনের এলাকার লোকজন অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন। বলেন, ‘সাহাব উদ্দিনসহ তার পরিবার ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের চলাফেরা দেখেই বুঝা যায় তারা মাদক কারবারে জড়িত।’

সাহাব উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলেও তার মা-বাবার সঙ্গে কথা হয়। তার বাবা মো. আলী বলেন, ‘আপনারা কী জন্য এসেছেন আমরা জানি। আমার ছেলে বাসায় নাই। যা বলার আমাকে বলেন, না হয় চলে যেতে পারেন।’

সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থী। আমি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। আমার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ দেখা করার কথা বললে ফোন কেটে বন্ধ করে দেন তিনি।

এ বিষয়ে ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইউনূস বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি তদন্ত করে দেখব। সে যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে আইনের সগযোগিতা নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (ইন্টেলিজেন্স) দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘খবর পেয়ে একাধিকবার তার আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। এখনো তার বাসার চারপাশ পুলিশ নজরদারিতে রেখেছে। যেকোনো মুহুর্তে গ্রেপ্তার হবে এই মাদক কারবারি।’

নিউজবাংলার কাছে থাকা সাহাব উদ্দিনের মাদক কারবারের ছবিগুলো পুলিশও পেয়েছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-এর কোম্পানি কমান্ডার অ্যাডিশনাল এসপি আনোয়ারুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Money and rice are lost by showing the implementation of the project on paper

প্রকল্প কাগজে-কলমে, বাস্তবায়ন দেখিয়ে টাকা ও চাল লোপাট

প্রকল্প কাগজে-কলমে, বাস্তবায়ন দেখিয়ে টাকা ও চাল লোপাট কাগজে-কলমে কাবিখা (বাঁয়ে) ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও কাজের অস্তিত্ব মেলেনি সরেজমিনে। কোলাজ: নিউজবাংলা
সরেজমিনে গিয়ে মহাদেবপুরে কাবিখার ‘নাটশাল বটতলীর পাকা রাস্তা হতে আনোয়ারের মিল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ এবং ‘মহাদেবপুর কলেজ রোড পাইকড়ের গাছ হতে ব্র্যাক অফিস হয়ে নজরুল বাবুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। কিন্তু এ বছরের জুন মাসে কাগজে-কলমে প্রকল্প দুটি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।

গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দরিদ্র জনগণের আয় বৃদ্ধি, দেশের সর্বত্র খাদ্য সরবরাহের ভারসাম্য আনতে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। কিন্তু এর ব্যতিক্রম নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা।

প্রকল্পের টাকা দরিদ্র শ্রমিকদের পকেটে যাওয়ার বদলে ঢুকেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাদের পকেটে। প্রকল্প বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, প্রকল্পের নামে এক কোদাল মাটি পর্যন্ত খোঁড়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যশস্য হাপিশ করেছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে মহাদেবপুরে কাবিখার ‘নাটশাল বটতলীর পাকা রাস্তা হতে আনোয়ারের মিল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ এবং ‘মহাদেবপুর কলেজ রোড পাইকড়ের গাছ হতে ব্র্যাক অফিস হয়ে নজরুল বাবুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। কিন্তু এ বছরের জুন মাসে কাগজে-কলমে প্রকল্প দুটি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।

গত পাঁচযুগ থেকে মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল গ্রামে বসবাস করছেন ৬০ বছর বয়সী নরেশ পাল। অথচ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় তাদের গ্রামে বাস্তবায়িত ‘নাটশাল বটতলীর পাকা রাস্তা হতে আনোয়ারের মিল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।

জানতে চাইলে নরেশ পাল বলেন, ‘গত ১৫ বছর আগে একবার এই রাস্তায় মাটি কাটার কাজ হয়েছে। এরপর আর সংস্কার তো দূরের কথা, এক কোদাল মাটি পর্যন্ত খোঁড়া হয়নি।’

প্রকল্প কাগজে-কলমে, বাস্তবায়ন দেখিয়ে টাকা ও চাল লোপাট
নওগাঁর মহাদেবপুরে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও নাটশাল বটতলী-আনোয়ারের মিল সড়কে এক কোঁদাল মাটি পর্যন্ত খোঁড়া হয়নি। ছবি: নিউজবাংলা

শুধু নরেশ পাল একা নয়, এমন কোনো প্রকল্পের কাজ হতে দেখেননি বলে নিশ্চিত করেছেন ওই গ্রামের মকলেছার, খলিল, আজিজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই।

এ ছাড়া একই অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের অধীনে ‘মহাদেবপুর কলেজ রোড পাইকড়ের গাছ হতে ব্র্যাক অফিস হয়ে নজরুল বাবুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে বলে মহাদেবপুর সদর ইউপি কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। তবে এ প্রকল্পের কাজেরও কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।

ওই এলাকার মনিমালা, আব্দুল জব্বার, অনিতাসহ ১০-১২ জন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত কয়েক বছরে রাস্তাটি সংস্কার করা হয়নি। এটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

প্রকল্প কাগজে-কলমে, বাস্তবায়ন দেখিয়ে টাকা ও চাল লোপাট
কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও কলেজ পাড়া পাইকড়ের গাছ-নজরুল বাবুর বাড়ি সড়টির এখনও বেহাল দশা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ না করেই নামসর্বস্ব শ্রমিকের তালিকা তৈরি করে ভূয়া মাস্টার রোলের মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যশস্য পরিশোধ দেখিয়েছেন প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আরও কঠোর হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের লাগাম টেনে ধরতে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি মহাদেবপুর সদর ইউপি কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় উপজেলার নাটশাল গ্রামে ‘নাটশাল বটতলীর পাকা রাস্তা হতে আনোয়ারের মিল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ এবং উপজেলা সদরের কলেজ পাড়া এলাকায় ‘মহাদেবপুর কলেজ রোড পাইকড়ের গাছ হতে ব্র্যাক অফিস হয়ে নজরুল বাবুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ নামে পৃথক দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এর একটিতে পাঁচ টন চাল ও অপরটিতে চার লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মহাদেবপুর সদর ইউপি সদস্য শিহাব রায়হান ও জান্নাতুল ফেরদৌসী। কাগজে-কলমে ‘প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে’ উল্লেখ করে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য ও অর্থ উত্তোলন করেছেন পিআইসির সভাপতি ও সম্পাদক।

প্রকল্প কাগজে-কলমে, বাস্তবায়ন দেখিয়ে টাকা ও চাল লোপাট
মহাদেবপুরে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের কাবিখা ও কাবিটার বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পের তালিকা।

কাজ না করেই বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যশস্য আত্মসাতের বিষয়ে মোবাইল ফোনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও মহাদেবপুর সদর ইউপি সদস্য শিহাব রায়হান। প্রতিবেদককে তিনি সামনাসামনি ‘দেখা করতে’ বলেন।

অন্যদিকে প্রকল্পের বিষয়ে তেমন কিছুই জানাতে পারেননি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুলতান হোসেন। তিনি বলেন, ‘দেখতে হবে প্রকল্পের কী অবস্থা।’

তার যোগসাজশে অস্তিত্বহীন ওই দুটি প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ ও খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে যান এ সরকারি কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহাগের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনিও এ প্রতিবেদককে ‘অফিসে এসে দেখা করতে’ বলেন।

আরও পড়ুন:
জোনভুক্ত হয়েও সরকারি সুবিধা পান না গাইবান্ধার জেলেরা
সরিয়ে দেয়া হলো ‘ঘুষখোর’ সেই ভূমি কর্মকর্তাকে
সরকারি খরচে পোষায় না ভূমি কর্মকর্তার
মাদ্রাসায় ‘লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য’, প্রতিবাদ করায় বরখাস্তের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The land officer does not pay for government expenses

সরকারি খরচে পোষায় না ভূমি কর্মকর্তার

সরকারি খরচে পোষায় না ভূমি কর্মকর্তার ভূমি কর্মকর্তার (বাঁয়ে) সহকারী আহম্মদের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে। কোলাজ: নিউজবাংলা
ভিডিওতে আহম্মদকে বলতে শোনা যায়, এর আগে অন্য আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি খারিজ বাবাদ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের রাজিপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়া-সংক্রান্ত একটি ভিডিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি কর্মকর্তা সানোয়ারের নির্দেশে জমি খারিজ করে দেয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিচ্ছেন অফিস সহকারী আহম্মদ। এ সময় ২০ শতাংশ জমি খারিজ করে দিতে ১৮ হাজার টাকা চান আহম্মদ। পরে দর কষাকষি করে ১৫ হাজার টাকা নেন তিনি, বাকি তিন হাজার টাকা পরে দিতে বলা হয়। এই টাকার ভাগ ভূমি কর্মকর্তা সানোয়ারের হাতে যাবে বলে জানানো হয়।

ভিডিওতে আহম্মদকে বলতে শোনা যায়, এর আগে অন্য আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি খারিজ বাবাদ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ভূমি কর্মকর্তা সানোয়ারের বাড়ি ভূমি অফিসের কাছাকাছি। তিনি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। ফলে নিজের ইউনিয়নের ভূমি অফিসে এসে ঘুষ বাণিজ্য পসরা সাজিয়ে বসেছেন তিনি। এলাকার সবার সঙ্গে তার পরিচয় থাকায় নিজ হাতে ঘুষ গ্রহণ না করে অফিস সহকারী আহম্মদ ও অস্থায়ী ভিত্তিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করা হিরনকে ঘুষের দরকষাকষি ও তা সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। সরকারি খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা (ঘুষ) না দিলে পোষায় না এ কর্মকর্তার। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না তার মাধ্যমে।

মাহফুজ আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তির অভিযোগ, নিজের জমি খারিজ করতে সানোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে মাহফুজ বলেন, ‘খারিজ (জমি) করতে গেলে ভূমি কর্মকর্তার সহকারী আহম্মদের মাধ্যমে ইচ্ছামতো টাকা দাবি করা হয়। শুধুমাত্র সরকারি খরচে কখনওই ভূমি অফিসে কাজ করা যায় না। তো আহম্মদ ১৮ হাজার টাকা দাবি করলে নগদ ১৫ হাজারে মিটিয়েছি।’

উজ্জ্বল নামের আরেকজন বলেন, ‘মাস তিনেক আগে আমার কাছ থেকেও ভূমি কর্মকর্তা সানোয়ারের নির্দেশে জমি খারিজ বাবদ ১২ হাজার টাকা নিয়েছে কম্পিউটার অপারেটর হিরন। এই ভূমি অফিস থেকে ঘুষখোর ভূমি কর্মকর্তাকে সরানো প্রয়োজন।’

মেহেদী হাসান মঞ্জু নামে আরও একজন বলেন, ‘আমার ৪০ শতাংশ জমি খারিজ করতে গেলে ৬০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমি টাকার পরিমাণ কমাতে বললেও কমায়নি। এত টাকা আমার পক্ষে দেয়া অসম্ভব, তাই এখনও খারিজ করাতে পারিনি।’

এ বিষয়ে জানতে ভূমি অফিসের সহকারী আহম্মদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। ভিডিও থাকলেও ঘুষ নেয়ার বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে বসেন। বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি।’

‘আপনি খারিজ বাবদ ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন, ভিডিওতে এটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে’- জানালে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ফোন কেটে নম্বরটি বন্ধ করে দেন।

পরে রাজিবপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অনুমিতভাবেই নিজের সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নির্দেশে আহম্মদ-হিরন টাকা নেয় না। আহম্মদ ওই টাকা কেন নিয়েছিল তা আমার জানা নেই।’

তার দাবি, ‘আমি ভেজাল কাজ করি না বলেই কিছু লোক ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে বদনাম ছড়াচ্ছে। ওই ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক প্রশ্ন করতেই দৌড় ‘বায়োমিল’ রিপ্রেজেনটেটিভের
মাদ্রাসায় ‘লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য’, প্রতিবাদ করায় বরখাস্তের অভিযোগ
অনুমতি না নিয়েই বিদেশে চলে গেলেন প্রাথমিকের এক শিক্ষিকা
‘দুর্নীতির টাকার ভাগ তো স্যারও পেয়েছেন’
বৈধ অস্ত্র ভাড়া নিয়ে চলছিল অপহরণ-দখল

মন্তব্য

p
উপরে