× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
TIBs claim on additional cost of vaccine is speculative
hear-news
player

টিকায় ‘বাড়তি ব্যয়’ নিয়ে টিআইবির দাবি অনুমাননির্ভর

টিকায়-বাড়তি-ব্যয়-নিয়ে-টিআইবির-দাবি-অনুমাননির্ভর ফাইল ছবি
টিআইবির গবেষক মোহাম্মদ জুলকারনাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটি এস্টিমেশন (আনুমানিক হিসাব) করেছি। তাতে দেখা গিয়েছে, ১১ হাজার কোটি থেকে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে। আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ করছি, আসলে কী কী বাবদ কত টাকা খরচ হয়েছে সেটা জনসমক্ষে প্রকাশ করলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তবে এটা যে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে, বিষয়টা এমন নয়।’

করোনাভাইরাসের টিকা কেনা এবং তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকার যে হিসাব দিয়েছে, প্রকৃত খরচ তার চেয়ে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা কম বলে দাবি করেছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সেই দাবি পুরোটা অনুমাননির্ভর বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির গবেষক।

বাংলাদেশ সরকার কার কাছ থেকে কত টাকা মূল্যে টিকা নিয়েছে, এসব বিষয়ে সংস্থাটির তথ্যের উৎস ইউনিসেফ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মার্কেট ড্যাশবোর্ড। এতে আন্তর্জাতিকভাবে সব টিকার দাম উল্লেখ করা হলেও বাংলাদেশ সেখানে উল্লিখিত দামেই যে টিকা পেয়েছে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই টিআইবির কাছে।

সরকার যে হিসাব দিয়েছে, তাতে ক্রয়, সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রয়োগ মিলিয়ে প্রতি টিকায় খরচ দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৩৫ টাকার কিছু বেশি। অন্যদিকে টিআইবি যে দাবি করেছে, তাতে খরচ হয় ৬০০ টাকার কিছু বেশি।

এই খরচের হিসাব বের করতে যে গবেষণা করা হয়েছে, তার গবেষক মোহাম্মদ জুলকারনাইন নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তাদের তথ্য ‘অনুমাননির্ভর’। তিনি একাধিকবার এই কথাটি বলেছেন।

তবে গবেষকের এই বক্তব্যের বিপরীতে গিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান দাবি করেছেন, তারা অনুমানভিত্তিক তথ্য দেননি, প্রকাশিত নানা তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলেছেন।

এখন পর্যন্ত দেশে টিকা এসেছে ২৯ কোটি ৬৪ লাখ টিকা, এর মধ্যে প্রয়োগ হয়ে গেছে ২৫ কোটির বেশি। অবশ্য এই টিকার সবগুলো সরকারকে কিনতে হয়নি। উপহার হিসেবেও এসেছে লাখ লাখ ডোজ।

গত ১২ এপ্রিল টিআইবি সংবাদ সম্মেলন করে গবেষণার ভিত্তিতে টিকার খরচের তথ্য পাওয়ার কথা জানালেও কীসের ভিত্তিতে খরচের হিসাব করা হয়েছে, সেই তথ্য জানানো হয়নি।

তবে গণমাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধী পক্ষ সরকারের বিরুদ্ধে টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে। আর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস কড়া সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, ‘আমাদের খালি চোর বলবেন, এটা তামাশা পাইছেন নাকি আপনারা? শুধু বাংলাদেশকে চোর বলবেন, এটা কি ফাইজলামি নাকি?’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেহেতু কথা উঠেছে, তাই কিছু দিনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

টিআইবির গবেষণায় তথ্য

গত ১২ এপ্রিল ‘করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় সুশাসন: অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতার চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে এই গবেষণা প্রকাশ করে টিআইবি। এই গবেষণায় সংস্থাটি দাবি করেছে, দেশে টিকা ক্রয় ও বিতরণে ১১ হাজার থেকে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে কোভ্যাক্স রেডিনেস অ্যান্ড ডেলিভারি ওয়ার্কিং গ্রুপ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর টিকার পরিচালন ব্যয় সম্পর্কে একটি মডেল দাঁড় করিয়েছে। টিকা কার্যক্রমের বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবলের ব্যবহার এবং আউটরিচ কেন্দ্রের অনুপাত বিবেচনায় তারা প্রতি ডোজ টিকার একটি খচর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেই অনুয়ায়ী বিদ্যমান জনবল দিয়ে যদি কোনো দেশ টিকা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে দশমিক ৮৪ ডলার খরচ হবে প্রতি টিকায়। আর যদি টিকার জন্য আর ১০ শতাংশ জনবল নিয়োগ করতে হয় এবং ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী টিকাকেন্দ্র যদি ৫০:৫০ হয় তাহলে ২ দশমিক ৬৪ ডলার পরিচালনা ব্যয় হতে পারে। প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ধরলে টিকাপ্রতি ব্যয় হয় ২২৭ টাকা।

টিআইবি হিসাব করেছে, এভাবে টিকার ব্যবস্থাপনা খাতে খরচ হতে পারে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে যে টিকা আনা হয়েছে, সেটির দাম অনুমান করে ধরেছে ১১ হাজার ২৫৪ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। অর্থাৎ টিআইবি টিকাপ্রতি দাম ধরেছে সাড়ে পাঁচশ টাকার মতো, যা ৭ ডলারেরও কম।

আমরা অনুমান করেছি: টিআইবির গবেষক

টিআইবি কীভাবে সরকারের টিকা ক্রয় ও ব্যবস্থাপনা খাতে খরচের তথ্য পেল জানতে চাইলে গবেষক মোহাম্মদ জুলকারনাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটি এস্টিমেশন (আনুমানিক হিসাব) করেছি। তাতে দেখা গিয়েছে, ১১ হাজার কোটি থেকে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে।’

অনুমানের ভিত্তিতে এত বড় অনিয়মের অভিযোগ আনা এই গবেষক বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ করছি, আসলে কী কী বাবদ কত টাকা খরচ হয়েছে সেটা জনসম্মুখে প্রকাশ করলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তবে এটা যে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে, বিষয়টা এমন নয়।’

অনুমানের ভিত্তি কী- এই প্রশ্নে টিআইবির গবেষক জুলকারনাইন বলেন, ‘টিকা কেনার সময় বিভিন্ন সোর্স থেকে টিকার যে দাম জানানো হয়েছে, সেটা নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বা সেকেন্ডারি সোর্সের মাধ্যমে টিকা ক্রয়ে যে তথ্য পেয়েছি সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমার এস্টিমেশন তথ্য প্রকাশ করেছি।’

চীনের সিনোফার্ম থেকে দেশে বড় সংখ্যক টিকা আসছে, এই টিকার দাম প্রকাশ করেনি সরকার তাহলে আপনারা যে তথ্য প্রকাশ করেছেন সেই তথ্যের ভিত্তি কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ের সরকারের প্রকাশিত তথ্য এবং আমাদের প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি সোর্সের মাধ্যমে তথ্যে থেকে নেয়া হয়েছে। তবে এটা আমাদের এস্টিমেশন।’

গবেষক ও ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্য ভিন্ন

টিআইবির গবেষক তিন বার অনুমানের কথা উল্লেখ করলেও টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান দাবি করেছেন উল্টো। তিনি বলেন, ‘আমরা অনুমানের ভিত্তিতে কোনো তথ্য দেইনি। সিনোফার্ম টিকার দাম নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকেই দিয়েছি।

‘যেহেতু সরকার টিকা ক্রয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যে দেয়নি। আমরা যেটা ম্যাক্সিমাম পসিবল আন্তর্জাতিক সোর্সের মাধ্যমে যে তথ্যগুলো সহজলভ্য সেই তথ্যেগুলো থেকে ক্যাটাগরি ভাগ করে তথ্য সংগ্রহ করেছি দামের তথ্য প্রকাশ করেছি।’

সেই তথ্যের উৎস কী?-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও কোভ্যাক্স রেডিনেস অ্যান্ড ডেলিভারি ওয়ার্কিং গ্রুপের টিকার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় সম্পর্কে একটি মডেল দাঁড় করিয়েছে, সেখান থেকে টিকা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের তথ্য নেয়া হয়েছে। টিকা ক্রয়ে তথ্য নেয়া হয়েছে ইউনিসেফ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মার্কেট ড্যাশবোর্ড থেকে। সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে সব টিকার দাম উল্লেখ করা হয়েছে।

‘যেমন অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা ৫ ডলার, সিনোফার্মের ১০ ডলার, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যে টিকা এসেছে এটা ৫ দশমিক ৫ ডলার দাম উল্লেখ করে হয়েছে। এসব দাম একসঙ্গে করে ম্যাক্সিমাম দাম ধরে হিসেব করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ টিকা কিনতে টাকা পে করেছে সেটাও করা হয়েছে ইউনিসেফ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মার্কেট ড্যাশবোর্ডে।’

সিরামের টিকা ছিল কম মূল্যে, চীনের টিকার দাম অনেক বেশি

করোনার টিকা যখন ভারতীয় কোম্পানি সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা হয়, তখন সরকার তার ব্যয় প্রকাশ করেছিল। ৪ ডলার ভিত্তিমূল্য ধরে টিকা কেনা হয়। তবে এতে উল্লেখ ছিল, ভারত সরকার যে দরে টিকা কিনবে, সেটি যদি ৪ ডলারের কম হয়, তাহলে বাংলাদেশ সেই দামেই টিকা পাবে। আর যদি ভারত সরকার ৪ ডলারের বেশিতে টিকা কেনে, তাহলে বাংলাদেশ ৪ ডলারই দেবে। পরে এই কোম্পানিটি যখন টিকা সরবরাহে সফল হয়নি, তখন সরকার চুক্তি করে চীনের সঙ্গে।

প্রথমে জানানো হয়, চীনের টিকার দাম পড়ে সিরামের টিকার দ্বিগুণেরও বেশি, ১০ ডলার। তবে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর চীন টিকা চুক্তি বাতিলের হুমকি দেয়। কারণ, তারা অন্যান্য দেশে আরও বেশি দামে টিকা বিক্রি করেছে, বাংলাদেশকে তারা বিশেষ ছাড় দেয়। পরে চীনের শর্ত মেনেই টিকা কেনায় কত টাকা ব্যয়- এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অবশ্য চীনের কাছ থেকে টিকা আসার পর বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকে ভর্তুকি মূল্যে সরকার কোটি কোটি টিকা পেয়েছে। তবে টিকাপ্রতি ব্যয় কত, সেটি আর জানানো হয়নি।

চীনের কাছ থেকে টিকা কেনার সময় দাম ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারায় সে সময় সরকারের সমালোচনাও হয়েছে।

সরকার কী বলছে

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা ক্রয় এবং সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রী যে হিসাব তুলে ধরেছেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। কোন টিকা কী পরিমাণ দেশে আসছে এবং তার কত টাকা দান সেটা হিসাব একবারে পরিষ্কার। এখানে আড়াল করার কিছু নেই।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবীর বলেন, ‘যেহেতু স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়েছেন, অবশ্যই সঠিক তথ্যই তিনি দিয়েছেন।’

টিকার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।’

তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান এই হিসাব প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দেশের বাইরে অবস্থা করছেন। তিনি দেশে ফিরলে এই বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন।’

অনুমানের ভিত্তিতে টিআইবির এই হিসাব প্রকাশের বিষয়টি জানালে এ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘টিআইবি যেহেতু একটি আন্তর্জাতিক তথ্যের বরাত দিয়ে তথ্য দিয়েছে, এ বিষয়ে আমরা এখনই কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। কিছু দিনের মধ্যে সরকারের জায়গা থেকে টিকা দামের সঠিক তথ্য জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
সব রোগের টিকা দেশে উৎপাদন হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
টিকায় ব্যয় ৪০ হাজার নয়, ১৮ হাজার কোটি: টিআইবি
টিকাকেন্দ্রে ঢুকে ২ স্বেচ্ছাসেবীকে ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Lockdown in North Korea Kims face mask

উত্তর কোরিয়ায় লকডাউন, কিমের মুখে মাস্ক

উত্তর কোরিয়ায় লকডাউন, কিমের মুখে মাস্ক নতুন কোভিড নিয়মের রূপরেখার বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার শাসক কিমকে প্রথমবারের মতো মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত
কেসিএনএ বলছে, ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ‘সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা জারি করেছেন কিম জং উন। ধারণা করা হচ্ছে, এই আদেশের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে লকডাউন এবং কর্মক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আসতে পারে।

করোনা মহামারির তৃতীয় বছরে লকডাউনের পথে হাঁটল উত্তর কোরিয়া। দেশটিতে কোভিড শনাক্তের পর বিধিনিষেধ কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছে পিয়ংইয়ং। তবে ঠিক কতজন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, সে হিসাব মেলেনি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর বরাতে এ খবর ছেপেছে বিবিসি

করোনায় প্রথম দিকে সংক্রমণের কারণে বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছিল, উত্তর কোরিয়া তখন ছিল নিশ্চুপ। করোনার কোনো তথ্য তা সরবরাহ করেনি বিশ্বকে। এমনকি করোনার টিকা নেয়ার ক্ষেত্রেও তারা ছিল উদাসীন। বিভিন্ন দেশ টিকা সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও নাকচ করে দেয় পিয়ংইয়ং।

এসবের বদলে সীমান্ত সিলগালা করে ভাইরাসটির নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী ছিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের।

অনেক বিশ্লেষক বলছেন, দেশটির আড়াই কোটি মানুষ করোনার টিকা কর্মসূচির অভাবে ঝুঁকিতে আছেন। গত বছর কয়েক মিলিয়ন অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং চীনের তৈরি সিনোভ্যাক টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেন কিম জং উন।

নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত উত্তর কোরিয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ আছে।

কেসিএনএ বলছে, কিম জং উন প্রাদুর্ভাব নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি করোনা সংক্রমণের বিষয়টিকে ‘গুরুতর জাতীয় জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন।

নতুন কোভিড নিয়মের রূপরেখার বৈঠকে দেশটির শাসক কিমকে প্রথমবারের মতো মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। অবশ্য কিছুক্ষণ পরই তিনি মাস্ক খুলে ফেলেন।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিলেন কিম উন। এতে দেশটিতে খাদ্যের মতো অতি প্রয়োজনীয় প্যণের সংকট দেখা দেয়; আরও দুর্বল হয়ে পড়ে দেশটির অর্থনীতি।

কেসিএনএ বলছে, ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ‘সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা জারি করেছেন কিম জং উন। ধারণা করা হচ্ছে, এই আদেশের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে লকডাউন এবং কর্মক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আসতে পারে।

উত্তর কোরিয়ায় লকডাউন, কিমের মুখে মাস্ক
পিয়ংইয়ংয়ে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্ক অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার নিউজ আউটলেট আরও বলছে, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রথম কেস চার দিন আগে রাজধানীতে শনাক্ত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সিউলভিত্তিক মনিটরিং সাইট এনকে নিউজ বলছে, সর্বশেষ ঘোষণার আগে পিয়ংইয়ংয়ের কিছু এলাকার বাসিন্দারা কমপক্ষে দুই দিন লকডাউনে ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বলেছে, প্রাদুর্ভাবের খবরের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তরকে মানবিক সহায়তার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আরও পড়ুন:
স্কুইড গেম দেখায় উত্তর কোরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড
ডুবোজাহাজ থেকে উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র জাপান সাগরে
মাথা দিয়ে ইট ভেঙে, রড বাঁকিয়ে দেখাল উত্তর কোরিয়ার সেনারা
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bone marrow transplantation in the country by haplo transplant method

দেশে প্রথম ‘হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট’ পদ্ধতিতে বোনম্যারো প্রতিস্থাপন

দেশে প্রথম ‘হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট’ পদ্ধতিতে বোনম্যারো প্রতিস্থাপন বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে দেশে প্রথমবারের মতো হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতিতে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের খবর জানায় এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের হেমাটোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া রোগের একমাত্র নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। এ ক্ষেত্রে বড় বাধা রক্তের গ্রুপ না মেলা। তবে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতিতে রক্তের গ্রুপ অর্ধেকটা মিললেও বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্ভব।’

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতিতে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দুই বছর বয়সী রোগীর বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৫ মে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এভারকেয়ার হাসপাতালের হেমাটোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। জিনগত কারণে থ্যালাসেমিয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে এই রোগের একমাত্র নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। এ ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল রক্তের গ্রুপ না মেলা। তবে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতিতে রক্তের গ্রুপ অর্ধেকটা মিললেও বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্ভব।’

থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসার প্রতিবন্ধকতার উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ডোনার না পাওয়া। কারণ থ্যালাসেমিয়া রোগীর পরিবার ছোট আকারের হওয়ায় ডোনার পাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের নিচে। তাই এর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে অর্ধেকটা ম্যাচ করা ডোনার দ্বারা ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়।

‘এই পদ্ধতির চিকিৎসায় পরিবারের যে কেউ ডোনার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর ডোনার নিয়ে আর ভোগান্তি পোহাতে হয় না। আর দেশে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসা ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যেই দেয়া সম্ভব।’

আমাদের দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, যাদের অধিকাংশই এ সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানান ডা. আবু জাফর। তিনি বলেন, বেশিরভাগই বাহক বা ক্যারিয়ার যা সহজে ধরা পড়ে না। ফলে একে সাইলেন্ট কিলারও বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী আছেন যাদের চিকিৎসা প্রয়োজন।

‘বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের জন্য এটি একটি বড় সুখবর এবং এর মাধ্যমে এভারকেয়ার হসপিটালের হাত ধরে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।’

এভারকেয়ারের মেডিক্যাল সার্ভিসেসের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সব ধরনের চিকিৎসা এই হাসপাতালে রয়েছে। তাই চিকিৎসার জন্য আর বিদেশে যেতে হবে না। এখানে আমরা আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট বা হাফ ম্যাচ ট্রান্সপ্লান্ট বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা খাতে একটি মাইলফলক।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতাল, বাংলাদেশের এমডি ও সিইও ডা. রত্নদীপ চাসকার, চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আমৃত্যু তারুণ্য ধরে রাখার এ কেমন অদ্ভুত উপায়
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন কাদের
হিমোফিলিয়ার চিকিৎসা শুধুই ঢাকাকেন্দ্রিক
ঢাকায় স্নায়ুরোগীর শরীরে পেসমেকার
মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ, নার্সকে শোকজ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In India 79 of children under the age of 2 are malnourished

ভারতে খাদ্যের অভাব ২ বছরের কম বয়সী ৮৯% শিশুর

ভারতে খাদ্যের অভাব ২ বছরের কম বয়সী ৮৯% শিশুর ভারতে কম বয়সী শিশুদের বড় অংশ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পায় না। ফাইল ছবি
সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২১ সালে স্তন্যপান করা ৬ থেকে ২৩ মাসের ৮৮.৯ শতাংশ শিশু পর্যাপ্ত খাবার পায়নি। ২০১৫-১৬ সালে এ হার ছিল ৯১.৩ শতাংশ।

ভারতে ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী ৮৯ শতাংশ শিশু ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পায় না।

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা প্রতিবেদনে (এনএফএইচএস-৫) এ চিত্র উঠে এসেছে।

এর আগের সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশটিতে গ্রহণযোগ্য খাদ্য পায় না দুই বছরের কম বয়সী ৯০.৪ শতাংশ শিশু।

এনএফএইচএস সমীক্ষায় দুই বছর না হওয়া পর্যন্ত স্তন্যপান করা এবং বুকের দুধ পান না করা শিশুদের পর্যাপ্ত খাদ্যের ওপর নজর দেয়া হয়।

সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৯-২১ সালে স্তন্যপান করা ৬ থেকে ২৩ মাসের ৮৮.৯ শতাংশ শিশু পর্যাপ্ত খাবার পায়নি। ২০১৫-১৬ সালে এ হার ছিল ৯১.৩ শতাংশ।

এতে বলা হয়, স্তন্যপান না করা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ৮৭.৩ শতাংশ ২০১৯-২১ মেয়াদে পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়নি। ২০১৫-১৬ মেয়াদে এ হার ছিল ৮৫.৭ শতাংশ।

সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর ওপর এ সমীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, দুই বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (২৮.৫ শতাংশ) ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাবার পেয়েছে মেঘালয়ের শিশুরা। অন্যদিকে সর্বনিম্ন (৫.৯ শতাংশ) খাবার পেয়েছে উত্তর প্রদেশের শিশুরা।

অন্য রাজ্যগুলোর মধ্যে আসামে ৭.২ শতাংশ, রাজস্থানে ৮.৩ শতাংশ, মহারাষ্ট্রে ৮.৯ শতাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশে ৯ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশে ৯ শতাংশ, তেলেঙ্গানায় ৯ শতাংশ, ছত্তিশগড়ে ৯.১ শতাংশ, ঝাড়খণ্ডে ১০ শতাংশ শিশু ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাবার পেয়েছে।

এ বিষয়ে দ্য কোয়ালিশন ফর ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সিকিউরিটির প্রধান উপদেষ্টা ডা. বসন্ত কর বলেন, ‘খাদ্যাভ্যাসের ঘাটতি হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর অন্যতম দারিদ্র্য, পুষ্টির (শস্য, ফল, সবজি, ডিম ইত্যাদি) অভাব, সচেতনতার অভাব এবং নিম্ন শিক্ষা।’

আরও পড়ুন:
বিজেপির ‘মুসলিম দাসত্বের’ ধুয়া, দিল্লির সড়কের নাম বদল দাবি
প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে ৩ শিশুর নামে হত্যাচেষ্টার মামলা
মাহিন্দা পতনে ভারতের জয়, চীনের পরাজয়?
১২ বছরের পর কেন শিশুরা মায়ের ‘অবাধ্য’
নাগরিকত্ব না পেয়ে ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে ৮০০ হিন্দু শরণার্থী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Former Food Minister Kamrul at the hospital

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল হাসপাতালে

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল হাসপাতালে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘সাবেক খাদ্যমন্ত্রীর সুচিকিৎসার জন্য অধ্যাপক খলিলুর রহমানকে প্রধান করে ৯ চিকিৎসককে নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছেন।’ 

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অসুস্থ অবস্থায় বুধবার সকালে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তার অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়। সুচিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম ইয়াজদানী।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামরুল ইসলামকে হাসপাতালের ভিভিআইপি কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে। সাবেক এ খাদ্যমন্ত্রীর অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়। সকালে তার অন্তত ১০ বার পাতলা পায়খানা হয়েছে।

ভর্তির পর তাকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে, বিপি কমে গেছে। তার জন্য আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সেটি কাজে লাগানো হবে।

শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘সাবেক খাদ্যমন্ত্রীর সুচিকিৎসার জন্য অধ্যাপক খলিলুর রহমানকে প্রধান করে ৯ জন চিকিৎসককে নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছেন।’

মঙ্গলবার তিনি রাজশাহী এসেছেন বলে জানান শামীম ইয়াজদানী।

আরও পড়ুন:
দেশে খাদ্যসংকট নেই, কেউ না খেয়ে নেই: খাদ্যমন্ত্রী
সততার সঙ্গে দেশ গঠনে অবদান রাখুন: খাদ্যমন্ত্রী
কাঁদলেন খাদ্যমন্ত্রী
সারা দেশে ২০০ পেডি সাইলো নির্মাণ করবে সরকার
মাদকের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে কমিটি নয়: খাদ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Birds are suffering from heatstroke in India

ভারতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে পাখিরা

ভারতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে পাখিরা একজন পশু চিকিৎসক গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া একটি শকুনকে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। ছবি: ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস
ইতিহাস বলছে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অতীতে অনেক প্রাণি বিলুপ্ত হয়েছে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী জন জে. উইয়েনসের ধারণা, বৈশ্বিক উষ্ণতা যদি সামান্য পরিমাণও বাড়ে তবে ২০৭০ সালের মধ্যে পৃথিবীর সব উদ্ভিদ ও প্রাণির প্রজাতির ১৬ শতাংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

তীব্র গরমে নাজেহাল দক্ষিণ এশিয়া। ভারতে এরই মধ্যে মারা গেছেন অন্তত ২৪ জন। প্রচন্ড এই গরম কেবল মানুষের জীবনকেই বিপন্ন করছে না, অন্যান্য প্রাণিকেও ফেলেছে হুমকির মুখে। দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে শতাধিক পাখিকে পাঠাতে হয়েছে হাসপাতালে।

ভারতের গুরগাঁও শহরের একটি হাসপাতাল বলছে, জ্বর, ডিহাইড্রেশন এবং হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রেকর্ড সংখ্যক পাখির চিকিৎসা দিয়েছে তারা। চলতি সপ্তাহে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১৪.৮ ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়েছে।

উত্তর ভারতের গুরগাঁওয়ের চ্যারিটেবল বার্ড হাসপাতালের চিকিত্সক রাজকুমার রাজপুত বলেন, ‘দায়ী হলো তাপ। হাসপাতালে গত বছরের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি পালকযুক্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।’

ভারতে ১২২ বছরে সবচেয়ে উষ্ণতম মাস রেকর্ড হয়েছে মার্চে। ৭২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়-উষ্ণতম এপ্রিল দেখেছে রাজধানী দিল্লি; গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪.৪ ফারেনহাইট)। প্রতিবেশী পাকিস্তানেও অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার খবর পাওয়া গেছে।

ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর মুখপাত্র অরিন্দিতা স্যান্ডিল্যা বলেন, ‘আমরা একের পর ফোন পাচ্ছি। অথচ এখন কেবল মে মাস।’

ভারতের প্রাণী উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, মার্চ থেকে তাপজনিত অসুস্থতায় ২৫০টি পাখির চিকিৎসা দিয়েছে তারা।

‘আশঙ্কা করছি গ্রীষ্ম পুরোপুরি শুরু হলে এই সংখ্যা বাড়বে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় উপমহাদেশে এমন গরমের কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। এর প্রভাবে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহ বেড়েছে।

ভারতে গত ৫০ বছরে তাপপ্রবাহে কমপক্ষে ১৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও তাপজনিত মৃত্যুগুলোর রেকর্ড রাখার হার খুবই কম।

ভারতের মহারাষ্ট্রে গত দুই মাসে হিটস্ট্রোকে ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি রাজ্যও মৃত্যুর খবর দিয়েছে।

পাখি এবং অন্যান্য প্রাণির ওপর তাপপ্রবাহের প্রভাব সম্পর্কে সরকারি কোনো তথ্য নেই। ভারতের একটি রাজ্যে পোল্ট্রি খামারিরা সম্প্রতি হাজার হাজার মুরগির মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। অন্য একটি রাজ্যে চারটি নেকড়ে শাবক চিড়িয়াখানার ঘেরে গরমে মারা গেছে

ভারতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে পাখিরা
গরমের তীব্রতায় অসুস্থতায় ভুগছে এমন একটি পাখি ভারতে দাতব্য বার্ড হাসপাতালে পৌঁছায়৷ ছবি: রাজকুমার রাজপুত

ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে গত বছর কানাডার পশ্চিমাঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। দাবানলের কারণে ১০০ কোটির বেশি সামুদ্রিক প্রাণি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়।

গরমের তীব্রতা থেকে রেখাই পাচ্ছে না পাখিরাও। দক্ষিণ ভারতের শহর হায়দ্রাবাদে গত দুই মাসে ১৬৬টি ডিহাইড্রেড পাখি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।

চ্যারিটেবল বার্ড হাসপাতালের চিকিৎসক রাজপুত বলেন, ‘এপ্রিল থেকে হাসপাতালে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ৮০টি পাখি ভর্তি হয়েছে। বেশিরভাগ পাখি কবুতর। কিছু পোষা প্রাণি আছে, বাকিগুলো বন্য।

রাজপুত বলেন, ‘পাখিরা আমাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল যেমন জঙ্গলের নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাদের ক্ষতি প্রাকৃতিকে প্রভাবিত করবে।’

ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর প্রধান কার্তিক সত্যনারায়ণ বলছেন, তাদের দল এমন সব পাখিকে উদ্ধার করেছে যেগুলো আকাশের অনেক ওপরের দিকে উড়ে। শিকার বা জলের সন্ধানে নামার সময় তারা মাটিতে পড়ে যায়। তখন এগুলোকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হয়।

পশ্চিম গোলার্ধে গত বছর রেকর্ড তাপমাত্রা ছিল। তাপ সহ্য করতে না পেরে সে সময় বাচ্চা বাজপাখিদের তাদের বাসা থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। এভাবে পড়ে অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। যারা বেঁচে থাকে তারা কোনো না কোনো আঘাত বয়ে বেড়ায়।

ইতিহাস বলছে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অতীতে অনেক প্রাণি বিলুপ্ত হয়েছে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী জন জে. উইয়েনসের ধারণা, বৈশ্বিক উষ্ণতা যদি সামান্য পরিমাণও বাড়ে তবে ২০৭০ সালের মধ্যে পৃথিবীর সব উদ্ভিদ ও প্রাণির প্রজাতির ১৬ শতাংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই শতাব্দীতে একাধিক প্রাণি উষ্ণ আবহাওয়ার টিকে থাকার জন্য তাদের শরীরের আকার পরিবর্তন করতে বিবর্তিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বেশ কয়েকটি প্রজাতির পাখির ঠোঁটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে; যা তাপ ছড়ানোর জন্য রক্ত ​​​​প্রবাহকে সরিয়ে দিতে সহায়তা করে।

নয়াদিল্লির ন্যাশনাল কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের গবেষক অশ্বিন বিশ্বনাথন বলেন, ‘পাখিদের হুমকির অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম অতিরিক্ত গরম। উষ্ণ জলবায়ু তাদের খাদ্য সরবরাহ, প্রজনন এবং বাসস্থানকে প্রভাবিত করে৷

‘এই প্রভাবের বিষয়ে অনেক কিছু আছে যা আমরা দেখতে পাই না। তবে আমাদের এটিতে মনোযোগ দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চুয়াডাঙ্গায় হাসফাঁস
উত্তাপ নিয়ে এলো বৈশাখ
এত গরম আট বছরেও দেখেনি রাজশাহী
গরম চরমে রাঙ্গামাটিতে, বৃষ্টির আভাস রংপুর, সিলেটে
বৈশাখের আগেই ‘উত্তপ্ত’ পশ্চিমবঙ্গ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
An additional 15 crore deaths in the first two years of Corona

করোনার প্রথম দুই বছরে অতিরিক্ত দেড় কোটি মৃত্যু

করোনার প্রথম দুই বছরে অতিরিক্ত দেড় কোটি মৃত্যু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে,২০২০ ও ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে দেড় কোটি মানুষের।
দুই বছরে ১ কোটি ৪৯ লাখ মৃত্যুর ৮১ শতাংশ হয়েছে মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এর মধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার ৫৩ শতাংশ; উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এই সময়ে ১৫ শতাংশ এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই হার ৪ শতাংশ।

করোনা মহামারি চলাকালীন গত দুই বছরে (২০২০-২০২১) বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত দেড় কোটি মানুষের। এসব মৃত্যুর জন্য করোনা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ডব্লিওএইচও বলছে, মৃত্যুর সংখ্যাটা ১ কোটি ৩৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে মৃত্যু হার, মহামারি বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতির মৃত্যু হারের সঙ্গে তুলনা করে এই অতিরিক্ত হার বের করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘বিস্ময়কর তথ্যগুলো কেবল মহামারির প্রভাবকেই নয়, বিশ্বজুড়ে আরও স্থিতিস্থাপক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকেও নির্দেশ করে। শক্তিশালী স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাসহ সংকটে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলো কার্যকর রাখতে বিনিয়োগ প্রয়োজন।’

সরাসরি (রোগের কারণে) বা পরোক্ষভাবে (স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সমাজে মহামারির প্রভাবের কারণে) মৃত্যুগুলো এই অতিরিক্ত তালিকায় যোগ করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চাপে সে সময় অন্যান্য চিকিৎসা নিতে না পেরে মৃত্যুকে ফেলা হয়েছে পরোক্ষ তালিকায়।

অতিরিক্ত মৃত্যু বেশি হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ এবং আমেরিকায়। এই হার ৮৪ শতাংশ। অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ৬৮ শতাংশ ঘটেছে মাত্র ১০টি দেশে।

দুই বছরে ১ কোটি ৪৯ লাখ মৃত্যুর ৮১ শতাংশ হয়েছে মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এর মধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার ৫৩ শতাংশ; উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে ২৮ শতাংশ।

অন্যদিকে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এই সময়ে ১৫ শতাংশ এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ৪ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে।

এই দুই বছরে মৃত্যুকে লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে, বিশ্বজুড়ে নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যু হার বেশি। ৫৭ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে নারী মৃত্যু ৪৩ শতাংশ। মোট মৃত্যুর মধ্যে বেশির ভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। অতিরিক্ত মৃত্যুগুলো আবার নির্ভর করে জনসংখ্যার ওপর।

ডব্লিউএইচও-এর ডেটা, অ্যানালিটিক্স এবং ডেলিভারির সহকারী মহাপরিচালক সামিরা আসমা বলেন, ‘অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব মহামারির প্রভাব বুঝতে অপরিহার্য। এগুলো মৃত্যু হার কমাতে এবং ভবিষ্যতের সংকট রোধে নীতিনির্দেশক তথ্য দিয়ে থাকে। অনেক দেশে ডেটা সিস্টেমে সীমিত বিনিয়োগের কারণে অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যায়।

ইমারজেন্সি রেসপন্সের সহকারী মহাপরিচালক ইব্রাহিমা সোসাই পতন বলেন, ‘বিশ্বকে নিরাপদ রাখতে এবং অসহায়দের সেবা দেয়ার জন্য আমাদের প্রতিদিনের কাজের ভিত্তি হলো ডেটা। আমরা জানি তথ্যের ফাঁকফোকরগুলো কোথায়। অবশ্যই সেসব দেশের প্রতি আমাদের সমর্থন জোরদার করতে হবে। এতে প্রতিটি দেশই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে পারবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিকবিষয়ক বিভাগের (ইউএন ডিইএসএ) সমন্বয়ে গঠিত একটি দল প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা বের করার কাজ করেছে। এই দলে আছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা। দলটি তুলনামূলক মৃত্যুর অনুমান তৈরির জন্য একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করে

পদ্ধতিটি অসাধারণ। কারণ অনেক দেশে এখনও নির্ভরযোগ্য মৃত্যু হারে নজরদারির সক্ষমতার অভাব রয়েছে। তাই এসব দেশ অতিরিক্ত মৃত্যু হার গণনার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সংগ্রহ ও তৈরি করে না। ব্যবহার করে সার্বজনীনভাবে উপলব্ধ পদ্ধতি।

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের আন্ডার সেক্রেটারি লিউ জেনমিন বলেন, ‘মহামারিতে হারিয়ে যাওয়া জীবনের একটি প্রামাণিক মূল্যায়ন করার জন্য আমরা কাজ করছি। এটি মৃত্যুর অনুমান উন্নত করতে হু, ইউএন ডিইএসএ এবং অন্য অংশীদারদের সঙ্গে চলমান সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

ইউএন ডিইএসএ-এর পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালক স্টেফান শোয়েইনফেস্ট বলেন, ‘ডেটার ঘাটতি মানুষের জীবনের জন্য গুরুতর পরিণতিসহ কোনো সংকটের প্রকৃত মূল্যায়ন করাকে কঠিন করে তোলে।’

আরও পড়ুন:
ভারতের করোনার প্রভাব দেশে পড়তে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দুই বছর পর ভারতে উঠল করোনাবিধি
এসএমএস ছাড়াই মিলছে বুস্টার ডোজ
দ্বিতীয় ডোজের ৪ মাস পর বুস্টার নেয়া যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সচিবালয়ে ফের চালু দর্শনার্থী পাস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh provides medicine assistance of Tk 20 crore to Sri Lanka

শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি টাকার ওষুধ সহায়তা বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি টাকার ওষুধ সহায়তা বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কাকে ওষুধ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ সংশ্লিষ্টরা। ছবি: নিউজবাংলা
শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ১০ কোটি টাকার এবং বাংলাদেশ ওষুধ উৎপাদক সমিতি দিয়েছে ১০ কোটি টাকার ওষুধ।

শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি টাকার জরুরি ওষুধ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বুধবার এই জরুরি ওষুধ হস্তান্তর করা হয় ঢাকায় নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার প্রফেসর সুদর্শন সেনেভিরাত্নের কাছে।

সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ১০ কোটি টাকার এবং বাংলাদেশ ওষুধ উৎপাদক সমিতি দিয়েছে ১০ কোটি টাকার ওষুধ।

শ্রীলঙ্কাকে জরুরি ওষুধ উপহার হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (সচিব-পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় জরুরি এই সহায়তা দেয়া হলো। আরও সহায়তা দেয়া হবে। শ্রীলঙ্কা চাহিদা দেয়ার পর সেই চাহিদামতো সাহায্য দেয়া হবে।’

ঢাকায় শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার সুদর্শন সেনেভিরাত্নে বলেন, ‘৩০ বছরের গৃহযুদ্ধ, বিধ্বংসী সুনামি ও চলমান মহামারিতে শ্রীলঙ্কা আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন একটা কঠিন সময় পার করছি আমরা।

‘আমাদের নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা জরুরি ওষুধের সংকটের মধ্যে আছে। তাদের জন্য এই ওষুধ খুব কাজে লাগবে।’

আরও পড়ুন:
লঙ্কান সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

মন্তব্য

উপরে