× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Pants or panties which are you coming to buy?
google_news print-icon
নিউ মার্কেটে দুর্ব্যবহার

‘প্যান্ট নাকি পেন্টি- কোনটা কিনতে আসছেন?’

প্যান্ট-নাকি-পেন্টি--কোনটা-কিনতে-আসছেন?
সংঘর্ষের ঘটনায় সামনে এসেছে নিউ মার্কেটের দোকানিদের দুর্ব্যবহার, কটূক্তির বিষয়টি। এখন ব্যবসায়ী সমিতি রীতিমতো মাইকিং করছে ভালো ব্যবহারের জন্য। ছবি: নিউজবাংলা
ক্রেতা, বিশেষ করে নারী ক্রেতাদের সঙ্গে ঢাকার নিউ মার্কেটের দোকানদারদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরেই উঠছে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সূত্রে এই অভিযোগগুলো আবার সামনে এসেছে। নিউজবাংলা কথা বলেছে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে।

নিউ মার্কেট ও আশপাশের কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের মধ্যকার সংঘর্ষের দিন থেকেই ‍তুমুল আলোচনা দোকানিদের দুর্ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে। সামাজিক মাধ্যমের এ শোরগোলের বিষয়টি ব্যবসায়ীদের কানেও গিয়েছে। এতদিন পাত্তা না দিলেও তাদের এখন ভাবতেই হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে।

মঙ্গলবার দুই পক্ষ যখন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় দিন পার করছিল, তখন ভুক্তভোগী নারীরা ফেসবুকে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরছিলেন। পরে ছেলেরাও লিখতে থাকে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো।

ক্রেতারা যে ক্ষিপ্ত, সেটি এখনও স্পষ্ট। আর এতদিন পর হুঁশ ফিরেছে ব্যবসায়ী নেতাদের। এখন ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে বলছেন তারা। ঈদের পর বিষয়টি নিয়ে কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলছে দোকান মালিক সমিতি।

তবে ব্যবসায়ী নেতাদের এসব কথাবার্তায় ক্রেতাদের যে আস্থা নেই, সেটি সামাজিক মাধ্যমের লেখনীতেই স্পষ্ট।

কটূক্তির কারণে মামলা করেও লাভ হয়নি

গণমাধ্যমকর্মী মারুফা রহমান নিউ মার্কেট লাগোয়া ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের নন্দিতা ফ্যাশনে প্যান্ট কিনতে গিয়ে কটূক্তি ও অপমানজনক কথাবার্তা শোনার পর মামলা করেছিলেন। সেই মামলা তুলে নিতে আবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ‍হুমকিও এসেছিল।

কয়েক বছর আগের ঘটনাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগটির শুনানিও হয়েছিল আদালতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে কিছুই জানেন না মারুফা।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, ছোট বোনকে নিয়ে প্যান্ট কিনতে গিয়ে পছন্দ হলেও কোমরের সাইজ না হওয়ায় নেবেন না জানালে দোকানি বাজে ব্যবহার করেন। দোকান থেকে বের হয়ে আসার সময় বাজে ভাষায় গালি দেন।

মারুফার ভাষ্য, তখন ফিরে গিয়ে ‘গালি কেন দিচ্ছেন’- এটা বললে দোকানি বলেন, ‘গালি দিছি, ঠিক করছি। তুই চলে যা। না হলে চোর সাজাইয়া মার্কেটের লোক দিয়া পিটামু।’

‘প্যান্ট নাকি পেন্টি- কোনটা কিনতে আসছেন?’
গণমাধ্যম কর্মী মারুফা রহমান কটূক্তির কারণে মামলা করেও সুরাহা পাননি

তখন আশপাশের দোকানিদের কাছে অভিযোগ জানান মারুফা। তারা উল্টো তাকে ধমক দিয়ে বলে, ‘মেয়ে মানুষ এত কথা না বলে মাথা নিচু করে চলে যান। আপনি আবার ফিরে আসছেন ক্যান? এতগুলো মাল দেখছেন নিবেন না কেন?’

তখন সবাই এক হয়ে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে।

বাইরে বের হয়ে টহলরত এসআইকে বিষয়টি জানালে তিনি থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন মারুফাকে। থানায় গিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকার পর বিকেলে একজন এসআই তার সঙ্গে মার্কেটে যান। কিন্তু যারা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিল, তারা সে সময় ছিল না।

এরপর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মারুফা। সেখান থেকে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপকমিশনার কিছুদিন পর জানাবেন।

এরপর দোকানের মালিক সমিতি থেকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে ফোন আসে মারুফার কাছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য চাপ দেয়া হয়।

মামলার দুই বছর পর বিচারিক আদালত থেকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। কিন্তু এরপর মার্কেটে গিয়ে একাধিকবার নন্দিতা ফ্যাশনে সেই কর্মচারীকে দেখেছেন তিনি।

মারামারির তিন দিন আগেও নিউমার্কেটে গিয়ে কটূক্তির শিকার হন মারুফার পরিচিত একজন। সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এই গণমাধ্যমকর্মী লেখেন, “নিউ মার্কেট থেকে একজন নারী প্যান্ট কিনতে গেলে দামাদামির একপর্যায়ে মেয়েটা দাম কম বললে দোকানদার উত্তর দেয়, ‘প্যান্ট নাকি পেন্টি- কোনটা কিনতে আসছেন?’

“দোকানদারের উপর চিল্লায়ে উঠলে আশপাশের দোকানদার মিলে মেয়েটাকেই দোষারোপ করে কম দাম বলার জন্য। এখন বলেন কী বলবেন এদের নিয়ে?”

না কিনলেই আজেবাজে মন্তব্য

আরেক গণমাধ্যমকর্মী মরিয়ম সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দোকান কর্মচারীদের এমন অবস্থা যে, কোনো দোকানে জিনিস দেখলেই কিনতে হবে। না নিলে আজেবাজে মন্তব্য করে।

‘এত বছরেও নিউ মার্কেটের আকার বড় হলো না। গলি, ওভারব্রিজসহ আশপাশে এত সংকীর্ণ (কনজাস্টেড) যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।’

‘প্যান্ট নাকি পেন্টি- কোনটা কিনতে আসছেন?’
প্রতিবাদ করার শক্তি না থাকলে নিউ মার্কেটে যাওয়ার ক্ষেত্রেই সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আরেক গণমাধ্যমকর্মী মরিয়ম সুলতানা

তিনি মঙ্গলবার সংঘর্ষ চলাকালে ফেসবুকে লেখেন, ‘নিউ মার্কেট একটা সার্কাসের ময়দান, কারণ এখানে গেলে মাথায় রাখতে হয়- ব্যাগ সামনে নিয়ে হাঁটতে হবে। ভিড়ের মধ্যে অ্যাঙ্গেল করে হাঁটতে হবে। ১ হাজার টাকা দাম চাইলে ৫০০ টাকা, পারলে তারও কম বলতে হবে। জিন্স-টিন্স না পরে ঢিলেঢালা সালোয়ার-কামিজ পরতে হবে (সালোয়ার-কামিজ পরে ভিড়-ভাট্টা, যানবাহনে চলাচল রিস্কি হওয়া সত্ত্বেও), বাজে মন্তব্যের প্রতিবাদ করার শক্তি না থাকলে ওড়না ঠিকঠাক রাখতে হবে, অরিজিনাল লেদার আর আর্টিফিশিয়াল লেদারের পার্থক্য গুগল-টুগল করে আগে-ভাগে নিজে জেনে যেতে হবে, ইত্যাদি।’

এক দোকানি কটূক্তি শুরু করলে যোগ দেয় অন্যরাও

আরেক ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান বলেন, ‘মার্কেটে গিয়েছি প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনতে৷ দাম শুনে বেশি মনে হওয়ায় বন্ধুকে বললাম- থাক দরকার নেই৷ দোকান থেকে বের হওয়ার সময় দোকানি বললেন, কিনবেন না তো এখানে আসছেন ক্যান? শুধু শুধু সময় নষ্ট করলেন।’

কটূক্তি করেই থাকেননি সেই দোকানি, পাশের দোকানিকেও বলেন সে কথা।

নুসরাত বলেন, ‘একদম বেরিয়ে যাচ্ছি; দেখি দোকানি ভদ্রলোক পাশের দোকানের লোকের দিকে তাকিয়ে বলছে, ‘কিনতে আসছে নাকি ঘুরতে আসছে৷ ভাব কত।’

তখন নুসরাত প্রতিবাদ জানান। বলেন, ‘আপনি এমন আচরণ করছেন কেন? আমি তো আপনার সঙ্গে একটা বাক্যও ব্যয় করিনি।’

এমন কথা শুনে সেই দোকানি ও আশপাশের অন্যরা একজোট হয়ে পড়ে। একজন বলেন, ‘আরে যান যান। এত কথা বাড়াচ্ছেন কেন?

নুসরাত বলেন, ‘এখানে এক দোকান কর্মচারী বাজে কথা বললে, পাশের হাজারো দোকানি একসঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলে। তখন সবাই এক! অথচ ভালো কাজের জন্য দুটো মানুষও খুঁজে পাওয়া যায় না।’

আরেক ক্রেতা দৌলত আকতার তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই মার্কেটগুলোর বেশির ভাগ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলতে হয় সাবধানে। উচ্চমূল্য দাবি করলেও রেগে যাওয়া যাবে না। ঠান্ডা মাথায় দরদাম করতে হবে নতুবা এরা একজোট হয়ে কথার বাক্যবানে জর্জরিত করবে আপনাকে। যাদের বাজারমূল্য সম্পর্কে ধারণা নেই, তাদের ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমিও ঠকে ঠকেই শিখেছি কী করে দামদর করতে হয়। এখনো যে ঠকি না তা নয়।’

পণ্য কিনলেও বাদ যাবে না দুর্ব্যবহার

এ তো গেল কাপড়ের দোকানের কাহিনি। রুম্পা রায় দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন খাবারের দোকানে গিয়ে।

তিনি বলেন, ‘খাবারের দোকানের সামনে দিয়ে কর্মচারীদের ডাকাডাকি চলতেই থাকে। ছোট বোনকে নিয়ে নিউ মার্কেটের নিচে খাবারের দোকানে জুস অর্ডার করে অপেক্ষা করছি। দোকানটি ছিল পরিপূর্ণ। কিছুক্ষণ পর চার-পাঁচজন এলে বসার জায়গা না পেয়ে বেরিয়ে যায়।

“মাত্র খাওয়া শুরু করেছি এমন সময় কর্মচারী বলেন, ‘আপনাদের জন্য অন্য কাস্টমার এসে চলে গেছে। দুজন মেয়ে এমনভাবে বসছেন পাশে কাউকে বসানো যাচ্ছে না। খাবার অর্ডার করছেন কম, কিন্তু বসবেন বেশি সময়’।”

রুম্পা প্রতিবাদ করলে অন্য কর্মচারীরা তাকে গালাগাল করতে থাকে। একপর্যায়ে দোকানের অন্য ক্রেতারা একজোট হয়ে প্রতিবাদ করলে দোকানিরা চুপ হয়।’

নিউ মার্কেট বর্জনের ডাক

সংঘর্ষের মধ্যে নিউ মার্কেট বর্জনের ঘোষণাও এসেছে ফেসবুকে।

একাত্তর টিভির কর্মী হাসান আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি নিউ মার্কেটে আর কেনাটাকা করবেন না। ফেসবুকেই তিনি লেখেন, ‘নিউ মার্কেট আর এর ফুটপাত থেকে আর কখনো কিছু কিনবো না। শত কম দাম হলেও।’

সালেহ আখন্দ লিখেছেন, ‘আসুন কেনাকাটায় নিউ মার্কেট ও এর আশপাশের মার্কেটগুলো বর্জন করি।’

এতদিনে ফিরেছে হুঁশ

সোমবার রাতে শুরু হওয়া মারামারির জেরে ঈদ মৌসুমেও পরের দুদিন নিউ মার্কেট ছিল কার্যত বন্ধ। বুধবার রাতে সাদা পতাকা ওড়ানোর পরদিন বৃহস্পতিবার খোলে মার্কেট।

সেদিন ব্যবসায়ী, কর্মচারী, দোকান মালিকদের উদ্দেশে মাইকিং করা হয় নিউ মার্কেটে। তাতে বলা হয়, ‘খারাপ আচরণ করবেন না। কাউকে দোকানে নেয়ার জন্য বাধ্য করবেন না। হাতে ধরবেন না। পণ্যের মূল্য বলার পরেও ক্রেতাসাধারণ যদি তা নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে, সে ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সেই অধিকার প্রদানের জন্য দোকানিদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।‘

মাইকিংয়ে আরও বলা হয়, ‘কেউ কোনো প্রকার অসদাচরণ করবেন না। ক্রেতাসাধারণ অসন্তুষ্ট হয়, এমন আচরণ কেউ করবেন না। আপনাদের অনুরোধ করা হচ্ছে, ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে যদি কোনো দোকান মালিক, ব্যবসায়ী, কর্মচারী এ ধরনের কোনো আচরণ করেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে সমিতি কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’

বুধবার ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি সংবাদ সম্মেলনে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে। ঈদের পর দোকানিদের এ বিষয়ে কাউন্সেলিং করানোর ঘোষণাও দেয়।

সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের কর্মচারীরা খুব বেশি শিক্ষিত না। তাদের বোঝাতে হবে। কাস্টমারের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হয় সে বিষয়ে শেখাতে হবে।’

কোথাও দুর্ব্যবহারের শিকার হলে অভিযোগ করার পরামর্শও দেন হেলাল উদ্দিন। বলেন, ‘কোনো কাস্টমারের সঙ্গে তারা খারাপ ব্যবহার বা বেয়াদবি করলে সমিতির অফিসে অভিযোগ জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Mother and daughter killed in Mohammadpur

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা হত্যার পর স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় গৃহিনী মালাইলা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যার পর বাথরুমে গোসল করে গৃহকর্মী আয়েশা (২৩)। এরপর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, মাত্র চার দিন আগে বাসার দারোয়ান মালেকের মাধ্যমে ওই মেয়েকে আনা হয়। পরে গৃহকর্মী হিসেবে নিহত মালাইলা আফরোজের বাসায় কাজ দেওয়া হয়। তখন নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেয়। পরে মা-মেয়েকে হত্যার পর নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে যায় সেই মেয়ে।

ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত মালাইলা আফরোজ (৪৮) গৃহিণী। মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম পেশায় শিক্ষক। তিনি উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক।

ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নাফিসার বাবা স্কুলের উদ্দেশে সকাল ৭টার দিকে বের হয়ে যান। সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসার লিফটে ওঠে সাত তলায় যায় গৃহকর্মী আয়েশা। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ড্রেস পরে মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফিসার বাবা বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

নিহত নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাসায় একজন কাজের মহিলা দরকার ছিল। সাধারণত গেটে অনেকে কাজের সন্ধানে আসেন। চার দিন আগে একটি মেয়ে আসে। বোরকা পরিহিত মেয়েটি বাসার দারোয়ান খালেকের কাছে কাজের সন্ধান করলে সে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেয়।

পরে স্ত্রীর মুখে শুনেছি, মেয়েটার নাম আয়েশা। বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর। জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকে। বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তার শরীরেও আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটা কাজ শুরুর পর প্রথম দুদিন সময়মতো এসেছে। গতকাল সে সাড়ে ৯টার দিকে আসে। আজ কী হয়েছে, এটা তো আর বলার অবস্থায় নেই।

এদিকে ঘটনাস্থল ফ্ল্যাটটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ। বাসার আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা।

পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, মাকে হত্যার পর ওই মেয়েটি দৌড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হয়তো ইন্টারকমে সিকিউরিটি গার্ডকে ফোন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে ইন্টারকমের লাইনটি খোলা পাওয়া যায়। মেয়েটি খুব সুন্দরভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে নাফিসার স্কুলের ড্রেস পরে নির্দ্বিধায় গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়।

তল্লাশি করে বাথরুমে একটি সুইচ গিয়ার ও একটি ধারাল অস্ত্র পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দুটি দিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করেছে গৃহকর্মী আয়েশা। এ ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পায়। মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে নেওয়ার পর মারা যায়। পরে লাশ দুটি সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই-বাছাই চলছে।

গৃহকর্মীর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে-পরে তার উপস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব।

বাসার ভেতরের অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বলছে, বাসায় ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে, মেঝেতে এবং দেওয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে। আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ অবস্থায় রয়েছে। যা মনে করছি, প্রাথমিকভাবে কিছু খোয়া যেতে পারে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা একজনকেই দেখেছি, পরে দেখব আশপাশে আরও কেউ ছিল কি না?

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ধারাল ছুরি উদ্ধার করেছে এবং হত্যাকারী ফ্রেশ হয়েছে বাথরুমে— এমন আলামত পাওয়া গেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Youth Dal leader shot dead in Mirpur

মিরপুরে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

মিরপুরে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বরের সি-ব্লক মোড়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজুর রহমান গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি পল্লবী থানা যুবদলের নেতা ছিলেন। তবে কে বা কারা গুলি করেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক জানান, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নেয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য থেকে জানা যায়, কিবরিয়াকে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিএনপি নেতাকে গুলি করার খবর এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা কি নিয়ে এই গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী সেকশন-১২ এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারিতে বসে থাকা অবস্থায় পল্লবী থানা যুবদল সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে মোটরসাইকেলযোগে এসে তিনজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তার মাথা, বুকে ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে ৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cocktail explosions set two buses on fire in the capital at midnight

রাজধানীতে মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণ, দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ

রাজধানীতে মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণ, দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ

রাজধানীতে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে গুলিস্তান, সূত্রাপুর, মিরপুর বেড়িবাঁধ, হাতিরঝিল ও কারওয়ান বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত সরে পড়ে।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সূত্রাপুর ও মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

একই রাতে হাতিরঝিলের রেইনবো ক্রসিং ও কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এভাবে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগে নাশকতার আশঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, কাকরাইল মোড়, কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে অন্তত ২০টির বেশি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ১১টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রাজধানীতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জনগণের মাঝে ভীতি ছড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য।”

তিনি আরও বলেন, “রাজধানীতে শঙ্কার কিছু নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে।”

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই রাজধানীর বাইরে থেকে আসা বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতাকারীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
8 party leaders are gathering at Paltan intersection

৮ দলের সমাবেশ, পল্টন মোড়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

৮ দলের সমাবেশ, পল্টন মোড়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

পাঁচ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের ডাকা গণসমাবেশে অংশ নিতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। বেলা দুইটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বায়তুল মোকাররম মসজিদের আশপাশে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বাস্তবায়ন, নভেম্বরে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আট দল।

এর আগে গত ছয়ই নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিল এই দলগুলো।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
34 leaders and workers of A League and allied organizations were arrested in the capital

রাজধানীতে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৩৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New elite Gulshan South Club approved in Gulshan

গুলশানে অনুমোদন পেল নতুন অভিজাত ‘গুলশান সাউথ ক্লাব’

গুলশানে অনুমোদন পেল নতুন অভিজাত ‘গুলশান সাউথ ক্লাব’

রাজধানীর গুলশানে আরও একটি নতুন অভিজাত ক্লাবের যাত্রা শুরু হলো। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস থেকে ‘গুলশান সাউথ ক্লাব’ নামে একটি নতুন ক্লাবের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে।

গতকাল (৩ নভেম্বর ) ক্লাবটির নিবন্ধন অনুমোদনের পর এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

গুলশান সাউথ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড. সৈয়দ মো. শাহান শাহ শাহীন। উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জনাব মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

এছাড়া ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আরও সাতজন— খান মোহাম্মদ ইকবাল, কৃষিবিদ মো. ইউনুস আলী, মো. খালিদুজ্জামান, মোহাম্মদ নূর নবী, আব্দুল আউয়াল বিপ্লব, মো. এনামুল হক এবং জুবাইদা নাজনীন প্রমুখ।

নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে গুলশান এলাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Online service has been launched in BMU to avoid suffering from long queues for booking tickets and seeing doctors

টিকেট কাটা ও ডাক্তার দেখাতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি এড়াতে বিএমইউতে অনলাইন সেবা চালু

টিকেট কাটা ও ডাক্তার দেখাতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি এড়াতে বিএমইউতে অনলাইন সেবা চালু

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর বহির্বিভাগ টিকেট কাটতে এখন থেকে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। রোগীরা বিএমইউ এর ওয়েবসাইটে (https://bmu.ac.bd) গিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট সম্পন্ন করে ব্যবস্থাপত্রটি (টিকেট) প্রিন্ট করে টিকেটে উল্লেখিত বিভাগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন। মূলত রোগীদের ভোগান্তি নিরসন ও দুর্ভোগ লাঘবসহ অযাচিত ভিড় এড়াতে এবং বহিবির্ভাগ চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম চালু করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এরফলে এখন থেকে বাসায় বসেই অনলাইনে কাটা যাবে বিএমইউ এর বহির্বিভাগের টিকেট। একইসঙ্গে সকাল থেকেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখাতে করতে হবে না দীর্ঘ অপেক্ষা। আজ বুধবার ২৯ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বিএমইউ ও পূবালী ব্যাংক এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বিএমইউ এর সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালানায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, অনলাইন টিকেট সিস্টেম দেশের প্রয়োজনে চালু করা হয়েছে। যেকোনো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সবসময় জনগণ কেন্দ্রিক হয়। শিক্ষা ও গবেষণা দেশের মানুষের জন্যই হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে দেশের মানুষের জন্য। আমরা অনেকদিন থেকে ভাবছিলাম রোগীদের যেন দীর্ঘ অপেক্ষা করতে না হয়। অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমাবে। এই পদ্ধতিতে রোগীরা তাদের চাহিদামতো সময়ে চিকিৎসককে দেখাতে পারবেন। সময়ের ব্যবধানে সবকিছু অনলাইন সিস্টেমে হবে। অনলাইন নানাদিক থেকে সুবিধা দিবে। টিকেট কাটতে আর হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন দিতে হবে না জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, ওয়েটিং টাইমটাকে চেম্বার বা হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যেতে চাই। হাসপাতালে অপেক্ষা করা লাগবে না। তবে এই কার্যক্রমে শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তা ওভারকাম করার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাংবাদিক, গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলে বিএমইউ এর এই প্রচেষ্টা অবশ্যই সাফল্য পাবে। প্রায় সকল রোগীই বিএমইউ এর চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট। কিন্তু দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটা, ডাক্তার দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা তাদেরকে কষ্ট দেয়। সেই কষ্ট দূরীকরণের লক্ষ্যেই আজকের এই উদ্যোগ। বিএমইউকে ডিজিটালাইজড হাসপাতালে রূপান্তরেরর কার্যক্রম চলমান আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে অটোমেশনের বিকল্প নাই। বিএমইউ এর অটোমেশন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতেই হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, পূবালী ব্যাংক লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

তারা বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাসেবা, উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা ও গবেষণায় একটি আস্থার নাম। আজকেরই এই উদ্যোগ দেশের জন্য একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে মূলত রোগীরাই সবচাইতে বেশি উপকৃত হবেন। আগামী দিনে সেবার সকলক্ষেত্রেই এটা চালু করতে পারলে রোগীরা স্বাছন্দ্যে টিকেট কাটা থেকে শুরু করে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

মন্তব্য

p
উপরে