× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Truck drivers terrified of extortion in Majhirghat
google_news print-icon

মাঝিরঘাটে চাঁদাবাজ আতঙ্কে ট্রাকচালকরা

মাঝিরঘাটে-চাঁদাবাজ-আতঙ্কে-ট্রাকচালকরা
শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট ফেরিঘাটে চাঁদা আদায়ের চিত্র দেখা যায় প্রায়ই। ছবি: নিউজবাংলা
শরীয়তপুরের এসপি এস এম আশ্রাফুজ্জামান বলেন, ‘ফেরিঘাটে চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ পাইনি। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকায় সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাত দেড়টা। ফেরিঘাট থেকে মাঝিরঘাট-শরীয়তপুর সড়কে প্রায় দুই কিলোমিটারে যানবাহনের সারি।

ঘাট থেকে ৩০০ মিটার এগোতেই চোখে পড়ে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের বিতণ্ডা। কাছাকাছি গিয়ে জানা গেল, ফেরিতে ওঠার সিরিয়ালের জন্য ট্রাকচালকদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে দাবি করছেন ওই লোকজন।

গত রোববার শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট ফেরিঘাটে চাঁদা আদায়ের এমন চিত্র দেখা যায়।

এ নিয়ে ট্রাকচালকদের একজন মো. রফিকের সঙ্গে কথা বলে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘ট্রাক নিয়ে বিকাল থেকে সিরিয়ালে দাঁড়ায়া ছিলাম। মাঝরাতে সিরিয়াল অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার জন্য ট্রাক চালু করার সঙ্গে সঙ্গে ছয়-সাতজনের একটা দল আইসা ১২০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।

‘টাকা দিতে না চাইলে তারা আমার গায়ে হাত তোলে। ট্রাকের দরজা খুলে বাইরে এনে মারপিটের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ১ হাজার টাকা দিয়ে ওখান থেকে বাইর হইয়া আসি। আমার মতো আরও বেশ কয়েকজন ড্রাইভারের সঙ্গে ওরা একই আচরণ করছে।’

রফিকের মতো অভিজ্ঞতা আছে অনেক চালকের। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় শহীদ চেংগার নেতৃত্বে ঘাটে এমন চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। প্রতিবাদ করলেই নির্যাতন সইতে হয় চালকদের।

দিনের বেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাত ১০টার পর ঘাটের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্থানীয় শহীদ চেংগা ও তার অনুসারীদের দখলে। সম্প্রতি এক ট্রাকচালককে করা নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।

১৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, এক ট্রাকচালককে মাটিতে ফেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটাচ্ছে আট থেকে ১০ জনের দল। ওই ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে ঘাট পরিস্থিতি জানতে গত রোববার রাতে মাঝিরঘাটে যায় নিউজবাংলা টিম।

সেখানে গিয়ে নিউজবাংলা জানতে পারে, রাত ১০টার পর থেকে ফেরির জন্য অপেক্ষায় থাকা পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়াল পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ করে টাকার চুক্তি করেন শহীদ চেংগা ও তার সমর্থকরা। চুক্তি অনুযায়ী টাকা ঘাটে থাকা আরিফের ফলের দোকানে জমা দিতে হয়। টাকা তোলার পর চক্রের সদস্যরা নির্ধারিত ট্রাকগুলোকে রং সাইড দিয়ে ঘাটের দিকে নিয়ে আসেন। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যও রং লাইনে আসা সেসব ট্রাক পারাপারের সুযোগ করে দেন।

নিউজবাংলা টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে রাত ২টার দিকে শহীদ চেংগা ছুটে আসেন প্রতিবেদকের কাছে। প্রতিবেদককে সড়কের পাশে একটি দোকানের পেছনে নিয়ে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা দেয়ার কথা বলেন শহীদ।

ওই সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান টাকাটা দৈনিক, সাপ্তাহিক নাকি মাসিক হারে দিতে হবে। এমন প্রস্তাবের জবাবে শহীদ চেংগাকে কৌশলে ম্যানেজ করে সড়কে চলে আসে নিউজবাংলা টিমের সদস্যরা। শহীদ চেংগাও পিছু নেন সংবাদকর্মীদের।

কিছুটা জনবহুল ও নিরাপদ এলাকায় আসার পর ঘাটে কেন চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, কেনইবা ট্রাকচালকদের মারপিট করা হচ্ছে, তা জানতে চাওয়া হয় শহীদের কাছে। জবাবে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কে বা কারা চাঁদা আদায় করছে, আমি সে বিষয়ে কিছু জানি না। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি বা আমার কোনো লোক এই ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত না।’

কী বলছেন ট্রাকচালকরা

চাঁদা নেন না বলে শহীদ যে দাবি করেছেন, তার বিপরীত বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাকচালকরা। বরিশাল থেকে তরমুজবোঝাই ট্রাক নিয়ে ঘাটে আটকা পড়েন আমজাদ হোসেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর শহীদ চেংগার লোকজনকে ৯০০ টাকা দিয়ে ফেরিতে উঠতে পেরেছেন।

সড়কে থাকা অবস্থায় ভয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি আমজাদ। ফেরিতে ট্রাক ওঠার পর তিনি বলেন, ‘ওদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সারা রাত আটকা থেকেও অনেকে সিরিয়াল পায় না। আর ওদের টাকা দিলেই দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফেরিতে ওঠার ব্যবস্থা হয়ে যায়। প্রকাশ্যে এমন চাঁদাবাজি চললেও দেখার কেউ নেই।’

মাছবোঝাই ট্রাক নিয়ে খুলনা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ঘাটে আটকে পড়া ইয়াসিন গাজী বলেন, ‘আমার ট্রাকটি সিরিয়ালে থাকলেও রং সাইড দিয়ে নতুন করে ঘাটে আসা যানবাহন পারাপার করছিল এখানকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র। প্রতিবাদ করায় আমাকে চড়-থাপ্পড় মারে ওই চক্রের সদস্যরা। ওদের টাকা না দিলে ফেরিঘাটে সিরিয়াল পাওয়া যায় না।’

বিআইডব্লিউটিসি-পুলিশের ভাষ্য

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জানায়, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট ফেরিঘাট ব্যবহার করে দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ। গত বছর পদ্মা সেতুর সঙ্গে কয়েক দফা ধাক্কা লাগার ঘটনায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

পরবর্তী সময়ে জরুরি প্রয়োজনীয় যানবাহন পারাপারের জন্য ওই বছরের আগস্টে বিকল্প হিসেবে মঝিরঘাটে ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়। ডিসেম্বর থেকে এ রুটে নিয়মিত যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘাটে থাকা তিনটি ফেরিতে প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫৫০টি ছোট-বড় যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

মাঝিরঘাট ফেরিঘাটের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক আরিফুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও চালকদের নাজেহাল করার কিছু অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।

‘জাজিরা থানা পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ঘাট নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে ট্রাফিক পুলিশের ১০ জন সদস্য কাজ করে যাচ্ছে।’

বিআইডব্লিউটিসির ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘ফেরিঘাটে পন্টুনে যাত্রী বা চালকদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় না। পন্টুনের বাইরে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের।’

ঘটনার দিন ঘাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাহিদুর রহমান লাবিবের কাছে রং সাইড দিয়ে গাড়ি ফেরিতে ওঠানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা আছে কাঁচা, পচনশীল পণ্যবাহী যানবাহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের। সেই ক্ষেত্রে রং সাইডে যে গাড়িগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রস চেক করি। যেগুলো কাঁচা, পচনশীল সেগুলোকে যেতে দিই।’

ঘাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাত ১০টার পরে পুরো ঘাটে দায়িত্বে থাকেন একজন এসআই ও একজন কনস্টেবল। মাত্র দুইজন পুলিশ সদস্য দিয়ে এত বড় ঘাট মনিটরিং কষ্টসাধ্য। এ কারণে আমাদের দৃষ্টির বাইরে অনেকে অনেক কিছু করে থাকতে পারে। দৃষ্টিসীমার মধ্যে যেকোনো ঘটনা আমরা প্রতিহত করি।’

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম আশ্রাফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফেরিঘাটে চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ পাইনি। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকায় সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক পরিচয়ে ‘চাঁদাবাজি’, ৪ জন কারাগারে
আমার না‌মে লঞ্চঘা‌টে চাঁদাবাজি হয়: ডি‌সি
কমিউনিটি পুলিশের নামে ‘চাঁদাবাজি’
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে মেলায় চাঁদাবাজি!
ভাঙ্গার সেই ওসিকে বদলি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Retirement of private teachers employees within 6 months High Court

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যেই: হাইকোর্ট

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যেই: হাইকোর্ট
আদালত বলেছে, শিক্ষকদের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট (অবসরকালীন সুবিধা) পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এই হয়রানি থেকে তারা কোনোভাবেই পার পান না। একজন প্রাথমিকের শিক্ষক কত টাকা বেতন পান, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য তাদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে। এই অবসরভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষকরা বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারেন না বলেও মন্তব্য করে আদালত।

মান্থলি পে অর্ডার বা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারীকে অবসরের ৬ মাসের মধ্যে অবসরকালীন সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজি জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। খবর বাসসের

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

আদালত বলেছে, শিক্ষকদের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট (অবসরকালীন সুবিধা) পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এই হয়রানি থেকে তারা কোনোভাবেই পার পান না। একজন প্রাথমিকের শিক্ষক কত টাকা বেতন পান, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য তাদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে। এই অবসরভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষকরা বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারেন না বলেও মন্তব্য করে আদালত।

আইনজীবী ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, সারা দেশে এমপিওভুক্ত স্কুলকলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ লাখের বেশি শিক্ষক কর্মচারী অবসরকালীন সুবিধা পেতে ২০১৯ সালে একটি রিট দায়ের করেছিলাম। রিটে বলা হয়, ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে ৬ শতাংশ কেটে নেয়া হতো। সেই কর্তনকৃত টাকাসহ সুবিধা অবসরের পর দেয়া হতো। এই অবস্থায় ২০১৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন করে ১০ শতাংশ কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ শতাংশ কেটে নেয়া হলেও ৬ শতাংশের যে সুবিধা দেয়া হতো সেটাই বহাল রাখা হয়। যে কারণে আমরা রিট দায়ের করে বলেছি, যাতে ১০ শতাংশের সুবিধা দেয়া হয়। এরপর এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করে। সেই রুলের শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের আদালত বলেছে, ১০ শতাংশ কেটে নেয়া হলেও তাদের যেন বাড়তি সুবিধা দেয়া হয়। একইসঙ্গে অবসরের ছয় মাসের মধ্যে যেন অবসরকালীন সুবিধা দেয়া হয়।

ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ এর প্রবিধান-৬ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫ এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধান ছিল। যার বিপরীতে শিক্ষকদের ট্রাস্টের তহবিল থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কিছু আর্থিক সুবিধা দেয়া হতো। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল উল্লিখিত প্রবিধানমালাগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধানগুলো সংশোধনপূর্বক ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার পরিবর্তে ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ কাটার বিধান করা হলেও উক্ত অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনো বাড়তি আর্থিক সুবিধার বিধান করা হয়নি। পরে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারীদের এপ্রিল-২০১৯ মাসের বেতন থেকে ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে জমা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। ফলে অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে কোনো আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি না করেই শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা কাটার আদেশের কারণে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ কাটার আদেশ বাতিল করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

আরও পড়ুন:
খতনা করাতে গিয়ে আয়ানের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন কমিটি
রেজিস্ট্রেশনযোগ্য জিআই পণ্যের তালিকা দাখিলে হাইকোর্টের নির্দেশ
জাপানি দুই শিশু থাকবে মায়ের কাছে, একজনকে পাবেন বাবা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
GK Shamims bail upheld in arms case

অস্ত্র মামলায় জি কে শামীমের জামিন বহাল

অস্ত্র মামলায় জি কে শামীমের জামিন বহাল গোলাম কিবরিয়া শামীম। ফাইল ছবি
অস্ত্র মামলার বিচার শেষে ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম অস্ত্র মামলায় এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এবং তার সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে অস্ত্র আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

জামিন স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। খবর ইউএনবির

একই সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে তার আপিল মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে।

এ সময় যারা ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র ও গানম্যান নিয়ে ঘোরেন তাদের বিষয়ে নীতিমালা করা উচিত বলে জানায় আপিল বিভাগ।

এর আগে হাইকোর্ট ১৩ ডিসেম্বর বিচারপতি এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জি কে শামীমকে ছয় মাসের জামিন দেয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের আদালত ১৯ ডিসেম্বর ওই জামিন আদেশ স্থগিত করে।

২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী আজ শুনানি হয়।

আইনজীবী কুমার দেবুল দে আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতে আজ জি কে শামীমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল ও জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান। তাদের সহযোগিতা করেন বি এম ইলিয়াস কচি, কুমার দেবুল দে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র‍্যাব। অভিযানে ওই ভবন থেকে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানানো হয়।

ওই অভিযানে শামীম এবং তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় তিনটি মামলা করে র‍্যাব। এর মধ্যে অস্ত্র ও মুদ্রা পাচার মামলায় সবাইকে আসামি করা হলেও মাদক আইনের মামলায় শুধু শামীমকে আসামি দেখানো হয়।

প্রতিটি মামলাতেই তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলার এক মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর অস্ত্র আইনের মামলায় শামীম এবং তার দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব-১ এর উপপরিদর্শক (এসআই) শেখর চন্দ্র মল্লিক।

অস্ত্র মামলার বিচার শেষে ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম অস্ত্র মামলায় এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এবং তার সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

আরও পড়ুন:
ফের পেছাল সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার রায়
চট্টগ্রামের এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর জামিন
মির্জা ফখরুল ও আমীর খসরুর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
ভালোবাসা দিবসে নওগাঁর আদালতে প্রেম সংক্রান্ত ৩৬ মামলার শুনানি
মুন্সীগঞ্জে অটোচালক হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A robber who dressed as a police officer was arrested after setting up a check post

চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, একজন আটক

চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, একজন আটক ডাকাত দলের সদস্যের কাছে উদ্ধারকৃত পুলিশের পোশাক। ছবি: নিউজবাংলা
টঙ্গিবাড়ী থানার এসআই আল মামুন বলেন, রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি থামিয়ে পুলিশের পোশাক পরে চেক পোস্ট বসিয়ে ডাকাতি করছিলেন সাতজন। পরে পুলিশের টহলরত গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় পথচারীদের সহায়তায় একজনকে আটক করে পুলিশ, যিনি ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতির সময় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরী জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বুধবার রাতে তাকে আটক করা হয়।

আটক জহিরুল ইসলাম ওরফে কানা জহির মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কালিরচর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে টঙ্গিবাড়ী-হাসাইল সংযোগ সড়কের সিদ্ধেশ্বরী জোড়া ব্রিজ এলাকায় পুলিশের পোশাক পরে চেকপোস্ট বসিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের দেহ তল্লাশি করেছিলেন ছদ্মবেশী সাত ডাকাত। ওই সময় পুলিশের টহল গাড়ি ওই স্থান দিয়ে যাচ্ছিল। অনেক লোকজনের সমাগম দেখে প্রকৃত পুলিশ সদস্যরা তাদের টহল গাড়ি ওই স্থানের পাশে থামালে ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ওই সময় পথচারীদের সহায়তায় এক ডাকাত সদস্যকে আটক করে পুলিশ। ডাকাত দলের বাকি ছয় সদস্য পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন বলেন, রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি থামিয়ে পুলিশের পোশাক পরে চেক পোস্ট বসিয়ে ডাকাতি করছিলেন সাতজন। পরে পুলিশের টহলরত গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় পথচারীদের সহায়তায় একজনকে আটক করে পুলিশ, যিনি ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।

আরও পড়ুন:
গজারিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত
হিজলায় সরকারি চালবাহী কার্গোতে ডাকাতির অভিযোগ
নওগাঁয় হাঁস ও ডিম ডাকাতি, ঢাকায় ধরা
আশুলিয়ায় ডাকাতদের গুলিতে কারখানার নিরাপত্তাকর্মী নিহত
মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনি ক্যাম্পে গুলি, নৌকার কর্মী নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Six arrested in rice mill robbery by tying night watchman

নৈশপ্রহরীকে বেঁধে রাইস মিলে ডাকাতি, ছয়জন গ্রেপ্তার

নৈশপ্রহরীকে বেঁধে রাইস মিলে ডাকাতি, ছয়জন গ্রেপ্তার দিনাজপুরে রাইস মিলে ডাকাতির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিভিন্ন থানায় আবদুর রহিমের নামে পাঁচটি, শামিমের নামে ১৪টি, আব্দুস সোহাগের নামে ১০টি, আলিম হোসেনের নামে একটি ও ফরিদুল ইসলামের নামে একটি মামলা রয়েছে।’

দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক নৈশপ্রহরীকে বেঁধে রাইস মিল ডাকাতির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকায় গনেশ প্রসাদ সাহার ইউনাইটেড রাইস মিলে ১৭ ফেব্রুয়ারি ডাকাতি ঘটনায় মামলা করা হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি। এরপর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছয় ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন দিনাজপুর সদর উপজেলার করিমুল্লাপুর গ্রামের আবদুর রহিম ওরফে পোড়া রহিম, উপশহর ৬ নম্বর ব্লকের শামি ওরফে পবন, কসবা এলাকার আব্দুস সোহাগ, শেখপুরা নিমনগর এলাকার বকুল হোসেন, চিরিরবন্দর উপজেলার ভাবকি গ্রামের ফরিদুল ইসলাম ও হাকিমপুর উপজেলার মধ্য বাসুদেবপুর গ্রামের আলিম হোসেন। তারা সবাই আন্তজেলা ডাকাতদলের সদস্য।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ।

তিনি জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৩টার দিকে হাকিমপুর উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকায় ওই রাইস মিলে এক নৈশপ্রহরীকে বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৭ ফেব্রুয়ারি মিলের স্বত্বাধিকারী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

এরপর থেকে হাকিমপুর, দিনাজপুর কোতয়ালি ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিভিন্ন থানায় আবদুর রহিমের নামে পাঁচটি, শামিমের নামে ১৪টি, আব্দুস সোহাগের নামে ১০টি, আলিম হোসেনের নামে একটি ও ফরিদুল ইসলামের নামে একটি মামলা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহে দুর্ঘটনায় সাতজন নিহতের ঘটনায় বাসচালক সুপারভাইজার আটক
চোখে ঠোটে সুপার গ্লু লাগিয়ে গৃহবধূকে ‘ধর্ষণের মূল আসামি’ গ্রেপ্তার
মিয়ানমার থেকে কুমিল্লায় পাসপোর্ট করতে এসে গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা যুবক
কুড়িগ্রামে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার  
শিশুকে হত্যা করে ধানখেতে পুঁতে রাখেন সৎ বাবা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DU student arrested while distributing Hizbut Tahrir leaflets at Jabi

জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণের সময় ঢাবি ছাত্র আটক

জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণের সময় ঢাবি ছাত্র আটক আটক অনিক খন্দকার। ছবি: নিউজবাংলা
কোতোয়ালি থানাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই হাসান মাতুব্বর জানান, পালিয়ে যাওয়া হিযবুত তাহরীর অপর দুই সদস্য মুসাইব ও সিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। আটক অনিক খন্দকারকে কোতোয়ালি থানায় পাঠানো হয়েছে।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের এক সদস্যকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে আটক করা হয়েছে।

জবি ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে লিফলেট ও চিঠি বিতরণের সময় এক শিক্ষকের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক অনিক খন্দকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র।

জবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে লিফলেট বিতরণের সময় তাকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি করবেন।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের রুমে দরজার নিচে দিয়ে কিছু ছেলে চিঠি দিচ্ছিল। এটা দেখতে পারেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মিরাজ হোসেন। ওই সময় তিনি কথা বলতে গেলে তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষকের তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজনকে আটক করা হয়।’

তিনি জানান, আটক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকার বিরোধী লিফলেট, স্টিকার, তাদের সংগঠনের বিভিন্ন বক্তব্য সম্বলিত চিঠি, একটি মোবাইল, ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতা নিয়ে লেখা একটি ডায়েরি পাওয়া গেছে।

হিজবুল তাহরীর সদস্যকে আটক করা শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মিরাজ হোসেন জানান, দরজা খুলে তিনজনকে দেখতে পান তিনি, এর মধ্যে একজনকে ধরে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দেয়া হয়।

কোতোয়ালি থানাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই হাসান মাতুব্বর জানান, পালিয়ে যাওয়া হিযবুত তাহরীর অপর দুই সদস্য মুসাইব ও সিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। আটক অনিক খন্দকারকে কোতোয়ালি থানায় পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জবির দুই অনুষদে নতুন ডিন
শিক্ষার্থীদের মেধা-অবৈতনিক বৃত্তি দেবে জবি
জবি শিক্ষার্থী খাদিজাকে এক মামলায় অব্যাহতি
পুরান ঢাকার রাসায়নিক কারখানা সরানোর দাবি জবি উপাচার্যের
গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে জবিশিসের ১০ প্রস্তাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Train passenger killed by robber at Mymensingh station

ট্রেন থেকে নেমে প্রাণ গেল ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে

ট্রেন থেকে নেমে প্রাণ গেল ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বুধবার সন্ধ্যায় ছুরিকাঘাতে এক ট্রেনযাত্রী নিহত হন। ছবি: নিউজবাংলা
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত।’

ময়মনসিংহ সদরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক ট্রেনযাত্রী নিহত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো ৩৫ বছর বয়সী গোপাল পাল নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেন সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ৩ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ওই যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে রেলওয়ে স্টেশনের অপর প্রান্তে পরিত্যক্ত বগির পেছনে প্রস্রাব করতে বসেন। ওই সময় ছিনতাইকারী তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ওই যাত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

ওসি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত।’

আরও পড়ুন:
এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, বাবা-মেয়ের প্রাণহানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Seven thousand battery powered metro rickshaws are running under the license of Tangail Municipality

টাঙ্গাইলে নির্দেশনা অমান্য করে অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইলে নির্দেশনা অমান্য করে অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়ার অভিযোগ টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স নিয়ে চলছে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা, যেগুলো শহরের যানজটের অন্যতম কারণ। ছবি: নিউজবাংলা
চালকদের অভিযোগ, এর আগে পৌরসভা নির্ধারিত ১০ হাজার ৫০০ টাকা ফির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর এক বছর মেয়াদি পায়ে চালিত রিকশার এক হাজার টাকার লাইসেন্স বিক্রি করেছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। মেট্রো রিকশার লাইসেন্সের কথা বলে অতিরিক্ত ওই টাকাগুলো নেয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স নিয়ে চলছে সাত সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত মেট্রো রিকশা (ইজিবাইক)।

তৃতীয় দফায় পৌরসভার মেয়র স্বাক্ষরিত রিকশার লাইসেন্সের মেয়াদ বেড়েছে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান বন্ধে ২০২১ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাসহ সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত অমান্য করে ব্যাটারিচালিত এসব অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়ার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীরের বিরুদ্ধে।

বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করায় শহরে যেমন বেড়েছে যানজট, তেমনি দেখা দিয়েছে বৈদ্যুতিক সমস্যা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী।

১৮৮৭ সালের পয়লা জুলাই স্থাপন করা হয় টাঙ্গাইল পৌরসভা, বর্তমানে যার আয়তন ২৯.৪৩ বর্গকিলোমিটার। ১৮টি ওয়ার্ডের প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় সড়কের সংখ্যা ৫৯০টি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স বিভাগ জানায়, পৌরসভার লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিকশার সংখ্যা সাড়ে চার হাজার। আর পায়ে চালিত রিকশা রয়েছে পাঁচ হাজার।

অটোরিকশার লাইসেন্স ফি ১০ হাজার ৫০০। আর পায়ে চালিত রিকশার লাইসেন্স ফি এক হাজার টাকা।

টাঙ্গাইলে পৌরসভা নির্ধারিত ১০ হাজার ৫০০ টাকা ফির পরিবর্তে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্যাটারিচালিত মেট্রো রিকশাগুলোর পেছনে চালকের বসার সিটের নিচে সাঁটানো হয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স। পৌরসভার বর্তমান মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বছর মেয়াদি ওই লাইসেন্সগুলো ২০২২ সালে দ্বিতীয় দফায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কিছু রিকশার লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন। ওই রিকশাগুলোর লাইসেন্সের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

তৃতীয় দফায় স্বাক্ষরিত রিকশা লাইসেন্সের মেয়াদ হয়েছে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

এর আগেও তৎকালীন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র দেন চার হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স, যাতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। শহরজুড়ে এ সময় লাগামহীন যানজট লেগে থাকায় ওই চার হাজার অটোরিকশা চলাচলে দুই শিফট চালু করা হয়।

তখন থেকে প্রতি শিফটে ২ হাজার করে অটোরিকশা চলাচল শুরু করে। বর্তমানে শহরজুড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি চলাচল করছে প্রায় আট হাজার ব্যাটারিচালিত মেট্রো রিকশা। এ ছাড়াও রয়েছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাড়ে পাঁচ হাজার পায়ে চালিত রিকশা।

টাঙ্গাইল পৌরসভায় অটোরিকশাগুলো দুই শিফট পদ্ধতিতে চলাচল করলেও সাত সহস্রাধিক মেট্রো রিকশা চলছে দিনভর।

এর বাইরে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট-বড় ১২৮টি পরিবহন, সরকারি বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা, আদালতের যানবাহন, চিকিৎসক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ির পাশাপাশি গড়ে প্রতিদিন তিন সহস্রাধিক মোটরসাইকেল চলাচল করছে টাঙ্গাইল শহরে। এর ফলে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের বেবীস্ট্যান্ড, শান্তিকুঞ্জ মোড়, মেইন রোড, নিরালা মোড়, পার্কবাজার মোড়, ক্যাপসুল মার্কেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, সুপারি বাগান মোড়, কলেজ গেট আর নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যানজট।

যানজট নিরসনে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ নানা বয়সী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

চালকদের অভিযোগ, এর আগে পৌরসভা নির্ধারিত ১০ হাজার ৫০০ টাকা ফির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর এক বছর মেয়াদি পায়ে চালিত রিকশার এক হাজার টাকার লাইসেন্স বিক্রি করেছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। মেট্রো রিকশার লাইসেন্সের কথা বলে অতিরিক্ত ওই টাকাগুলো নেয়া হয়েছে।

মেট্রো রিকশার চালক মো. পলাশ জানান, তিন বছর ধরে রিকশা চালাচ্ছেন। রিকশা ও গদি আটকে রেখে তাদের লাইসেন্স নিতে বাধ্য করা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া চালানো যাচ্ছিল না বলেই তিনি বাধ্য হয়ে লাইসেন্সটি নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় পৌরসভা থেকে লাইসেন্স বিক্রি করা হলেও দেড় মাস আগে মুসলিমপাড়ার একজন গ্যারেজ মিস্ত্রির মাধ্যমে ১২ হাজার টাকায় লাইসেন্সটি নিয়েছেন তিনি। সুদের টাকায় রিকশা আর লাইসেন্সটি কিনেছেন তিনি।

মেট্রো রিকশার চালক মো. হযরত জানান, পায়ে চালিত রিকশা লাইসেন্স বইয়ের মধ্যে ‘ইজিবাইক’ লেখা আছে বলেই তিনি লাইসেন্সটি নিয়েছেন ২০ হাজার টাকায়। তার লাইসেন্স নম্বর ৮২৫। টাকাগুলো নিয়েছে পৌরসভার লোকজন।

চালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভা থেকে মেট্রো রিকশা লাইসেন্স আর নম্বর প্লেট বিক্রি করার সুযোগে তারা এই ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছেন। পৌরসভার লোকজন লাইসেন্স ও প্লেট বিক্রি করেছেন। এ কারণে এই রিকশা বন্ধ হচ্ছে না।

‘এরপরও যদি সরকারিভাবে এই রিকশা চলাচল বন্ধ করে, তাহলে অন্য কাজ করে খাব।’

৯৯৫ নম্বর লাইসেন্সপ্রাপ্ত মেট্রো রিকশাচালক রফিক বলেন, ‘৪৩ হাজার টাকায় পুরাতন রিকশাটি কিনেছি। মাসে ১২০০ টাকা ভাড়ায় লাইসেন্সটি নিয়েছি।

‘আদি টাঙ্গাইল এলাকার রিকশা গ্যারেজ ব্যবসায়ী আকবরের কাছ থেকে পৌরসভার লাইসেন্সটি কিনেছিলাম।’

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন ও যুবাদের জন্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পায়ে চালিত রিকশার লাইসেন্স দিয়ে অবৈধ মেট্রো রিকশা বৈধতা দেয়ার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। দ্রুত অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব তথা সিডিসির নাট্য সম্পাদক ও শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শামসুর রহমান সাম্য বলেন, ‘সড়ক অনুপাতে যানবাহন দ্বিগুণ হওয়ায় শহরজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে যানজট। যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। পৌরসভা পায়ে চালিত রিকশা লাইসেন্সের নামে আর মোটা টাকার বিনিময়ে দিয়েছে ব্যাটারিচালিত মেট্রো রিকশার লাইসেন্স।

‘পায়ে চালিত রিকশার লাইসেন্স ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সেখানে নেয়া হয়েছে ২২ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকা। গরিবের টাকা অমানবিকভাবে হরিলুট হচ্ছে। এর প্রভাব তীব্র যানজট ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ।’

তিনি আরও বলেন, সরকারের মনোনীত মেয়র এই হরিলুটের অন্যতম বলে দাবি করেছেন তিনি। এর ফলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। ১,২০০ টাকার লাইসেন্স ২২,০০০ থেকে ২৩,০০০ হাজার টাকায় বিক্রির মত বড় একটি অনিয়ম প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিবিদ সকলে জানা সত্ত্বেও এর কোন প্রতিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সবুর বলেন, ‘টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে চলাচলের জন্য ব্যাটারিচালিত মেট্রো রিকশাগুলোকে পায়ে চালিত রিকশা লাইসেন্স দিয়েছে। লাইসেন্স দেয়ার দায়িত্ব তাদের না। পৌরসভার মেয়র পায়ে চালিত রিকশা লাইসেন্স দিয়েছেন মেট্রো রিকশায়।

‘ব্যাটারিচালিত মেট্রো রিকশা আমাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত, তবে এই লাইসেন্স দেয়া নিয়ে পৌরসভার মেয়র আমাদের সাথে কোনো মিটিং করেননি।’

ওই সময় ইজিবাইক বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়টি মেয়রের বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম. সিরাজুল হক আলমগীরের মোবাইল ফোনে কল দিলে তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) সাজ্জাদ রিসিভ করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে সাক্ষাতে কথা বলা হবে। মেয়র সাহেব ব্যস্ত আছে।’

পরে পৌরসভার কার্যালয়ে যাওয়ার পর মেয়রের পিএস বলেন, ‘কোনো প্রকার বক্তব্য দেয়া হবে না।’

সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের ২০২১ সালের ২০ জুনের সভায় দুর্ঘটনা রোধে সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর সারা দেশে চলা অবৈধ ব্যাটারিচালিত ৪০ লাখ ইজিবাইক বন্ধের নির্দেশসহ আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ইজিবাইক আমদানি থেকে বিরত থাকতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলের শাড়িতে ভারতের জিআই স্বত্ব মানা যায় না 
মানিকগঞ্জে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, শিশুসহ নিহত ৩
রাজধানীতে সাশ্রয়ী মূল্যে অটোরিকশায় যাতায়াত করতে চান?
টাঙ্গাইলে সাংবাদিককে ‘হত্যার হুমকি’, থানায় অভিযোগ 
টাঙ্গাইলে সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ

মন্তব্য

p
উপরে