× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Terrible terrorists from the cabinboy of the launch
hear-news
player
print-icon

লঞ্চের কেবিনবয় থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী

লঞ্চের-কেবিনবয়-থেকে-দুর্ধর্ষ-সন্ত্রাসী
মামুন ওরফে ল্যাংড়া মামুন। ছবি: নিউজবাংলা
স্বজনরা জানান, মামুনের বাবা প্রায় ৩০ বছর আগে ভিটেবাড়ি বিক্রি করে সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী শহরে চলে যান। এরপর ওই বাড়িতে মামুন ছাড়া পরিবারের আর কেউ আসা-যাওয়া করেনি। মামুন টুপি পরে একটি সাদা প্রাইভেট কারে আবার কখনও পাজেরো জিপে গ্রামে এসে ঘুরে বেড়াতো। ওই গাড়ির সামনে বড় করে লেখা থাকতো- পুলিশ।

প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরুনো হয়নি মো. মামুন মাদবর ওরফে ল্যাংড়া মামুনের। অভাবের তাড়নায় মা-বাবা গ্রাম ছাড়েন। তাদের সঙ্গে পটুয়াখালী শহরে এসে বসবাস শুরু করে মামুন। এক পর্যায়ে সংসারের হাল ধরতে ছোট্ট ছেলেটি বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌ-রুটের লঞ্চে কেবিন বয়ের কাজ শুরু করে।

বড় ভাই মিজান মাদবর ওরফে রং মিজানের সহায়তায় মামুনের ঢাকায় আসা। এখানে ছোটখাটো বিভিন্ন বাহিনীর সংস্পর্শে আসে সে। শুরু হয় অপরাধ কর্মকাণ্ড। প্রথমেই সে রাজধানীর এক সময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নানের সঙ্গ পায় সে। পরবর্তীতে ভিড়ে যায় লেদার লিটনের দলে। নিজেই হয়ে ওঠে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।

পটুয়াখালীর হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে মামুন এবার জড়িয়ে পড়েন মাদকের কারবার, অপহরণ ও ব্যাংক ডাকাতির মতো ঘটনায়। রাজধানীতে এমনই এক অপকর্ম চালাতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে আহত হন তিনি। গুলি লাগা তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। পরবর্তীতে সার্জারি করে কৃত্রিম পা লাগানো হয়। একইসঙ্গে পরিচিতি মেলে ল্যাংড়া মামুন নামে।

পটুয়াখালীর বড় ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার শিবু লাল দাসকে অপহরণের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই সন্ত্রাসীর নাম। ওই ঘটনায় ১৯ এপ্রিল ল্যাংড়া মামুন ওরফে মুফতি মামুনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

লঞ্চের কেবিনবয় থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ টেপুরা গ্রামের এই মাদবর বাড়িতে মামুনের জন্ম। ছবি: নিউজবাংলা

এক পা হারিয়ে শারীরিক সক্ষমতা কমলেও অপরাধ কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি ল্যাংড়া মামুনের। বরং অপরাধ জগতে নতুন করে বিচরণ শুরু হয় তার। পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন মাদক কারবারে। কৃত্রিম পায়ের ভেতরের ফাঁপা অংশে ইয়াবা বহন করে ইয়াবা বেচাকেনা চালাতে থাকেন।

পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে পটুয়াখালী-বরগুনার সীমান্তবর্তী এলাকায় মামুনের গ্রামের বাড়িতে বৃহস্পতিবার দিনভর খোঁজখবর নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালি ইউনিয়নের পরই বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন। হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ টেপুরা গ্রামের মাদবর বাড়িতে মামুনের জন্ম।

আত্মীয়-স্বজনরা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে মামুনের বয়স আনুমানিক যখন ছয় থেকে সাত বছর তখনই অভাবের তাড়নায় ভাগের সব জমি এমনকি ভিটেবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী শহরে চলে যায় ওর মা-বাবা। এরপর ওই বাড়িতে মামুন ছাড়া তার পরিবারের আর কেউ কখনও আসা-যাওয়া করেনি। মামুন টুপি পরে একটি সাদা প্রাইভেট কারে আবার কখনও পাজেরো গাড়িতে করে গ্রামে এসে ঘুরে বেড়াতো। তখন ওই গাড়ির সামনে বড় অক্ষরে পুলিশ লেখা থাকত।

মামুনের বড় ভাই মিজানেরও গত দশ বছর ধরে কোনো খোঁজ নেই। একটি অপহরণ মামলায় জেলে যাওয়ার পর জামিনে বের হওয়ার পর পিস্তল ঠেকিয়ে ছোট ভাই মামুনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয়ার পর থেকে মিজানের আর দেখা মেলেনি। মামুন ছাড়া আর কেউ মিজানের খবর জানে না- এমনটা দাবি আত্মীয়-স্বজনদের।

মাদবর বাড়ির পূর্ব ভিটায় মামুনের আপন চাচা আলতাফ মাদবর ওরফে কালু মাদবরের ঘরে বসে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

কালু মাদবর জানান, তারা সাত ভাই। বাবার মৃত্যুর পর তারা একেক ভাই প্রায় দুই কানি জমি ভাগে পান। কিন্তু ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহজ সরল ছিলেন আবদুল হাই মাদবর (মামুনের বাবা)। সহজ সরল হওয়ায় অনেক দেনা ছিল তার। এক পর্যায়ে মামুনের মা মমতাজ বেগমের পরামর্শে বাড়ির জায়গাজমি সব বিক্রি করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শহরে চলে যান তিনি।

কালু মাদবর জানান, ছোট বেলা থেকেই ছেলেরা কেউ কোনো অপকর্ম করলে ওদের মা মমতাজ বেগম সন্তানের পক্ষ নিতেন। সন্তানদের এমন অধঃপতনের জন্য তিনি মমতাজ বেগমকেই দায়ী করেন তিনি।

কালু মাদবর বলেন, ‘মামুন মাঝেমধ্যেই গাড়ি হাঁকিয়ে এলাকায় আসতো। ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলে বলতো যে এটি সার্কেল এসপির গাড়ি। এছাড়া ওই পরিবারের আর কেউ গত ত্রিশ বছরে এই বাড়িতে আসেনি।

‘যতদূর জানি বাড়ি থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পর মিজান আর মামুন লঞ্চে কেবিনে কাজ করত। এরপর মিজান মোটরসাইকেলের ব্যবসা আর মামুন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। কয়েক বছর আগে পত্রিকায় দেখলাম যে, মামুনের পা প্রশাসনের সঙ্গে গোলাগুলিতে কাটা পড়েছে। আর এখন শুনছি পটুয়াখালীর একজনকে অপহরণ করে ধরা খেয়েছে।’

লঞ্চের কেবিনবয় থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী
১৯ এপ্রিল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামুন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি আরও বলেন, ‘মিজানের অপকর্মের ঘটনাও পত্রিকায় দেখেছি। কয়েক বছর আগে পত্রিকায় খবর বের হয় যে, ঢাকার কোনো এক ব্যবসায়ীর ছেলেকে অপহরণ করে দুই কোটি টাকা মুক্তিপণ আদায়ের সময় গ্রেপ্তারের পর মিজান জেলে যায়। পরে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে জেল থেকে বের হওয়ার পর আর তার দেখা নেই। কোথায় আছে কেউ বলতে পারে না।’

মামুনের চাচী রাসিদা বেগম বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও ঢাকা থেকে পুলিশ আইছিল মিজানের খোঁজে। তহন মামুনেরও খোঁজ করছিল পুলিশ। ওর বোনাইর টাহা দিয়া মাতৃছায়া দোহান ফুডাইছে। হেরপর আজ শরমে মুখ দেহাইতে পারি না। হক্কুরডি খামার দেয় ডাহাইতের বংশ কইয়া। এর চেয়ে ঝোলায় ন্যালেও ভাল অইতো। ওই বেডা (মামুনের বাপ) কী সুন্দর ভাল মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। আর হের যন্নাডা কি অইলো। আর হের জন্য অই বেডার পোলা কয়ডা শ্যাষ।’

মামুনের চাচাত ভাই ওয়াসিম মাদবর বলেন, ছোটবেলায় বাড়ি ছাড়ার পর প্রায় দুই বছর আগে কয়েকবার গ্রামে এসেছে মামুন। ওই সময় অফিস বাজার এলাকার মহিউদ্দিন নামের একজনকে গাঁজা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল সে। তখন আমতলী থানার ওসির সাথে মামুনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। ওই সুবাদে ওয়াসিমকেও সেই মামলায়ে জড়িয়ে দেয় মামুন।’

কারণ জানতে চাইলে ওয়াসিম বলেন, ‘মামুন এলাকার কারও ভাল চাইতো না। যেই একটু ভাল অবস্থানে থাকার চেষ্টা করতো তাকেই পুলিশ দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতো। কারণ পুলিশের সাথে তার ভাল সম্পর্ক ছিল। প্রায়ই পুলিশ লেখা গাড়িতে এলাকায় এসে প্রভাব দেখাত।’

অপরাধ জগতে মামুন কিভাবে এলো- এমন প্রশ্নে ওয়াসিম মাদবর বলেন, ‘মূলত বড় ভাই মিজানই মামুনকে এই জগতে এনেছে। কারণ ওরা দুই ভেইয়ের মধ্যে খুব মিল ছিল। একে অপরকে ছাড়া কোন কাজ করতো না।’

মিজান কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অপহরণ মামলায় জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে শুনেছি। তারপর মিজানের কী হয়েছে জানি না। মামুন ছাড়া এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারবে না। কিন্তু একটি মানুষ জীবিত থাকলে তার দেখা কেউ না কেউ তো পাবে।’

মামুনের আরেক ভাই নিজাম বর্তমানে সৌদি আরবে আছে বলেও ওয়াসিম জানান।

ওয়াসিম জানান, মামুনের পরিবার গ্রাম থেকে পটুয়াখালী শহরে এসে হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার পূর্ব পাশে বায়তুল ইমান জামে মসজিদে (উকিল বাড়ির মসজিদ) বেশ কিছুদিন ইমামতি করেছেন মামুনের বাবা আবদুল হাই মাদবর। এরপর তিনি কী করতেন যোগাযোগ না থাকায় তা বলতে পারছেন না।

মামুনের অন্য চাচারাও বলতে পারেন না তার বাবা-মা বর্তমানে কোথায় আছেন। তবে কয়েক বছর আগে লোকমুখে তারা শুনেছেন যে, পটুয়াখালী শহরের গার্লস স্কুলের পশ্চিম পাশে পুলিশ সদর সাকের্লের বাসার পাশেই নাকি মামুন তার বাবা-মাকে নিয়ে থাকেন।

আত্মীয়-স্বজনরা জানান, চট্টগ্রামের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জিয়াউদ্দিন বাবলু মিয়ার সঙ্গে মামুনের ছোট বোন তানিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বাবলুর কাপড়ের ব্যবসা ছিল। সেই সুবাদে তানিয়ার বিয়ের পর মামুন কৌশলে ভগ্নিপতির সঙ্গে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার ভগ্নিপতির ঢাকার মাতৃছায়া বুটিকসের শাখা হিসেবে পটুয়াখালী শহরেও একটি দোকান চালু করেন মামুন ও তার বোন জামাই। তখন তারা সবাই পটুয়াখালী শহরে থাকতেন। কয়েক বছর আগে তানিয়ার স্বামী বাবলু স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে মাতৃছায়া বুটিকসের ব্যবসার হাল ধরেন মামুন।

লঞ্চের কেবিনবয় থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী
নিজের বিলাসবহুল বাসায় কৃত্রিম পা হাতে দাঁড়িয়ে মামুন। ছবি: নিউজবাংলা

চাচাতো ভাই ওয়াসিম জানান, ভগ্নিপতির ব্যবসা থেকে মামুন মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন বলে শুনেছেন তারা। এরপর মামুন নিজে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে বরগুনা জেলা ও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আরো দুটি বড় শো-রুম খোলেন তিনি। এর মধ্যে কলাপাড়া উপজেলা সদরে মাতৃছায়ার ম্যানেজারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে র চাচাত ভাই অলিউল্লাহ মাদবরকে।

ওই ব্যবসার আড়ালেই মূলত ইয়াবার কারবার চালাতেন মামুন। ঢাকা ডিবি পুলিশের দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এমনটা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামুনদের গ্রামের বাড়ি থেকে কোয়ার্টার কিলোমিটার দক্ষিণে কানাই মৃধা বাজার। ছোট্ট এই বাজার হয়েই নরমহাট থেকে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আসা-যাওয়া করে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষ। কথা হয় ওই বাজারের একাধিক লোকের সঙ্গে। কিন্তু মামুনের প্রসঙ্গে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই সবাই চুপ। এই সন্ত্রাসীর বিষয়ে কেউ কথা বলতে চাননি।

এক পর্যায়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানদার বলেন, ‘হের (মামুন) হাত অনেক লম্বা। প্রায়ই এইহানে আইতো গাড়িতে করে। গাড়ির সামনে লেখা থাকতো পুলিশ। ড্রাইভারকে জিঙ্গাসা করলে বলতো- সার্কেল স্যারের গাড়ি। এত খারাপ কাম কইরাও যদি পুলিশের গাড়িতে ঘোরাফেরা করে তাইলে আমরা হের সম্পর্কে কী কমু।

‘তবে এইহানের কোনো দোকানদারের সাথে হে কখনও খারাপ আচরণ করে নাই। খাইয়া লইয়া টাহা পয়সা ঠিকঠাকভাবেই দিয়া গেছে। তাছাড়া হেরা গ্রাম ছাড়ছে ছোটবেলায়। যে কারণে অনেকের কাছেই হে অপরিচিত ছিল। আমরা লোকমুখে হুনছি- হে অনেক বড় বড় কাম করে। ওই কাম করতে গিয়াই নাকি হের নাকি পা কাটা লাগজে।’

ওই বাজারেই মামুনের এক নিকটাত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লঞ্চে কেবিন বয়ের চাকরির পর এক সময়ে মিজান ব্যবসা শুরু করে। পটুয়াখালী শহরের চৌরাস্তা এলাকায় রংয়ের দোকান থেকে মোটরসাইকেল বেচাকেনা করতো সে। যশোর থেকে চোরাইপথে মোটরসাইকেল এনে পটুয়াখালীতে বিক্রি করত। মূলত তখনই মিজান অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময় মিজানের সঙ্গে থাকা ছোট ভাই মামুন ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপে প্রবেশ করে। তাদের দুই ভাইয়ের নামে ঢাকায় একাধিক ব্যংক ডাকাতি আর অপহরণের মামলা রয়েছে বলে শুনেছি।

আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ী শিবু অপহরণ যেন এক ‘দুর্ধর্ষ সিনেমা’
ব্যবসায়ী অপহরণ, জসিমের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
অপহরণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার
২০ কোটি টাকার দাবিতে অপহরণ: স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার
২০ কোটি টাকার দাবিতে অপহরণ: সন্দেহ যাদের দিকে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The number of buses in South Bengal has decreased with Paturia Aricha

ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-আরিচা দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের বাস কমেছে

ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-আরিচা দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের বাস কমেছে ভিড় কমেছে গাবতলী বাস টার্মিনালে। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও ঈদযাত্রায় তা তেমন একটা বাধা তৈরি করতে পারেনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

পদ্মা সেতু খুলে যাওয়ায় ঢাকার সঙ্গে ২১ জেলার নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ চালু হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের ভোগান্তি যেমন কমেছে, তেমনি বাড়ি ফেরার সময়ও কমেছে কয়েক ঘণ্টা।

এতে চাপ বেড়েছে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমে গেছে গাবতলী থেকে পাটুরিয়া হয়ে দক্ষিণবঙ্গমুখী বাস চলাচল।

বুধবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও ঈদযাত্রায় তা তেমন একটা বাধা তৈরি করতে পারেনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বসেছে পুলিশের কন্ট্রোল রুম। সতর্ক আছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) টিমও।

দক্ষিণবঙ্গগামী সাকুরা পরিবহনের বুকিং মাস্টার আলামিন হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঈদযাত্রায় যাত্রীর চাপ ভালোই আছে। কোনো গাড়িতে সিট খালি যায় নাই। গাড়ির বুকিং ফুল গেছে। তবে গাড়ির ট্রিপ কমে গেছে। কারণ পদ্মাসেতু হওয়ার কারণে বেশিরভাগ যাত্রী সায়েদাবাদ থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যেতে চাচ্ছে।

‘পদ্মা সেতু দিয়া সময় কম লাগতেছে। কিন্তু পাটুরিয়া-আরিচা দিয়ে ফেরি খালি থাকলেও সময়টা বেশি লাগায় যাত্রী পদ্মা সেতু দিয়ে যেতে আগ্রহী বেশি। সায়েদাবাদ থেকে যাত্রীর চাপ বেশি।’

সাকুরা পরিবহনের বুকিং মাস্টার মতো একই সুরে কথা বলেন দক্ষিণবঙ্গগামী সোহাগ পরিবহনের বুকিং মাস্টার ফয়সাল আহমেদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন কোনো টিকিট নেই৷ যারা আগেই টিকিট কেটেছে তারাই যাচ্ছে। গাড়ি সব সিডিউল টাইমেই যাচ্ছে। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় ট্রিপের সংখ্যা কমে গেছে। কারণ যাত্রীরা পদ্মা সেতু হয়েই যেতে আগ্রহী।’

সাড়ে তিন বছর পর দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন প্রবাসী বাংলাদেশী মনিরুল ইসলাম মিন্টু। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নড়াইল ফিরছিলেন তিনি। মিন্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক ভালো লাগতেছে। ফ্যামিলির সবাইকে এক সঙ্গে পাইছি। এখন নড়াইল যাচ্ছি। গ্রামের বাড়ির সবাইকে নিয়ে ঈদ করব।’

ঢাকা-চট্রগ্রাম রুটে ঈদযাত্রার আলাদা কোনো চাপ নেই বলে জানান গাবতলী টার্মিনালের হানিফ কাউন্টারের সহকারী ম্যানেজার মো. শামীম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কখনো ঈদযাত্রায় তেমন চাপ ছিল না এই রুটে। যাত্রী যখন এসে টিকিট চায় তখনই পায়।’

ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রার প্রথম দিনে বেশ কয়েকটি বাসের সিট খালি গেলেও ঈদুল আযহার সময় সে তুলনায় ভিড় বেড়েছে গাবতলী বাস টার্মিনালে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের দিন ও আগে পরে সাতদিন মোটরসাইকেল বন্ধ করে দেয়ায় এই চাপ আরও বাড়তে পারে। টিকিটের হাহাকার এবং চাহিদা যোগান দিতে মহাসড়কে দুর্বল আনফিট বাস নেমে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘ঈদযাত্রার ২৬৭ টাকার পথ এনা নিচ্ছে ৫০০’
বৃষ্টিতে স্বস্তির ট্রেনযাত্রা
পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি ফেরার ঢল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Writ writ petition seeking investigation into Yunus payment of Tk 12 crore to lawyer

আইনজীবীকে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘১২ কোটি টাকা দেয়ার’ ঘটনা তদন্ত চেয়ে রিট

আইনজীবীকে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘১২ কোটি টাকা দেয়ার’ ঘটনা তদন্ত চেয়ে রিট গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের আইনজীবী ইউসুফ আলী। ছবি: নিউজবাংলা
বিবাদীদের আইনজীবীর সঙ্গে গ্রামীণ টেলিকমের ১২ কোটি টাকায় সমঝোতার বিষয়টি সামনে আসার পর বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, ‘আমরা শুনেছি শ্রমিকদের আইনজীবীকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে তাদের মামলায় আপস করতে বাধ্য করা হয়েছে। কোর্টকে ব্যবহার করে অনিয়ম যেন না হয়ে থাকে। যদি সবকিছু আইন অনুযায়ী না হয়, তবে বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখা হবে।’

নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের আইনজীবীকে ১২ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে সমঝোতার তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে নতুন একটি রিট করা হয়েছে।

রিটে এই পরিমাণ টাকা ফি নেয়া হয়েছে কি না বা হয়ে থাকলে তার আইনি বৈধতা কী, তা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ এ রিটটি করেন। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সচিব এবং আইনজীবী ইউসুফ আলীকে বিবাদী করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি খিজির হায়াত ও বিচারপতি আক্তারুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে বলেও জানান এ আইনজীবী।

তিনি বলেন, ‘একজন আইনজীবী তার ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কী পরিমাণ ফি নেবেন, তার সঙ্গে কী আচরণ করবেন তা বার কাউন্সিল রুলসে বলা আছে। এ কারণে বিষয়টি তদন্ত চেয়ে রিটটি করেছি।’

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের আইনজীবী ইউসুফ আলী জানান, তার সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ টেলিকম থেকে ১২ কোটি টাকা নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বঞ্চিত করে মামলা প্রত্যাহারসংক্রান্ত যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন, বানোয়াট, অসত্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তথাকথিত সামাজিক ব্যবসার ধ্বজাধারী সুদখোর ইউনূসকে চুবানি দিয়েই সুদে-আসলে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক বন্ধুদের প্রাপ্য ন্যায্য পাওনা আদায় করে দিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কত পেয়েছি সেটা বলতে চাই না। এটা ক্লায়েন্টের সঙ্গে আমার গোপনীয় চুক্তি। আমার মক্কেল যেটা দিয়েছেন সেটাই আমি পেয়েছি।

‘আমাকে নিয়ে ১২ কোটি টাকার যে গল্প বানানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ আষাঢ়ে গল্প ছাড়া আর কিছু না।’

গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের পক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘লিখিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক গ্রামীণ টেলিকম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে ৪৩৭ কোটি টাকা প্রদান করার পর প্রত্যেক শ্রমিক-কর্মচারী বিজ্ঞ তৃতীয় শ্রম আদালত, ঢাকাতে উপস্থিত হয়ে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে তাদের স্ব স্ব মামলা প্রত্যাহার করে নেন।

‘একইভাবে তাদের অনুরোধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন সকল রিট মামলা, আদালত অবমাননার মামলা এবং গ্রামীণ টেলিকম অবসায়নের প্রার্থনায় আনীত আলোচিত কোম্পানি ম্যাটার নং ২৭১/২০২১ প্রত্যাহার করি।

‘মামলাগুলো প্রত্যাহার করার পর, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে আমাদের ফি বাবদ ইউনিয়নের অ্যাকাউন্ট থেকে অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের মাধ্যমে আমাদের ফি দিয়েছেন।’

এর আগে বিবাদীদের আইনজীবীর সঙ্গে গ্রামীণ টেলিকমের ১২ কোটি টাকায় সমঝোতার বিষয়টি সামনে আসার পর বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত বলেছে, ‘আমরা শুনেছি শ্রমিকদের আইনজীবীকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে তাদেরকে মামলায় আপস করতে বাধ্য করা হয়েছে।’

হাইকোর্ট বলে, ‘কোর্টকে ব্যবহার করে অনিয়ম যেন না হয়ে থাকে। যদি সবকিছু আইন অনুযায়ী না হয়, তবে বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখা হবে। আমি চাই না কোর্ট এবং আইনজীবীর সততা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে।’

সেদিন আদালতে গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে শুনানি করেন মোস্তাফিজুর রহমান খান। শ্রমিকদের পক্ষে শুনানি করেন ইউসুফ আলী।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয় গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে।

আবেদনে বলা হয়, গ্রামীণ টেলিকমের কাছে শ্রমিকদের পাওনা আড়াই শ কোটি টাকার বেশি।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ টেলিকমে শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ চলে আসছিল। শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২১৯৪) সিবিএর সঙ্গে আলোচনা না করেই এক নোটিশে ৯৯ কর্মীকে ছাঁটাই করে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ ছাঁটাইয়ের পর নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন ২৮ জন কর্মী। এই ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে ড. ইউনূসকেও তলব করে হাইকোর্ট। পরে ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল শ্রমিকদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়া হয়।

গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে ঢাকার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলাটি চলছে।

আরও পড়ুন:
আমন্ত্রণপত্র পাননি খালেদা, গ্রহণ ইউনূসের
ইউনূসের অনুদানে বিস্মিত প্রধানমন্ত্রী
ইউনূসের তদবিরে আটকে যায় পদ্মা সেতুর অর্থায়ন: প্রধানমন্ত্রী
ড. ইউনূসের নামে শ্রম মামলা স্থগিত
কর্মীদের মামলা: ৪০০ কোটিতে রফা গ্রামীণ টেলিকমের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister urged not to illuminate

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জা নয়: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জা নয়: প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জা না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীর বাইরে এ সংকট আরও তীব্র। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, বিপণিবিতান, দোকানপাট, অফিস-আদালত এবং বাড়িঘরে আলোকসজ্জা না‌ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবস্থাপিত ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’, উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে গণভবনে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীর বাইরে এ সংকট আরও তীব্র। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক স্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান লোডশেডিংয়ের কারণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন আমরা বাড়িয়েছি। সেই বিদ্যুৎ আজকে আমরা সমস্ত বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ঘরে দিতে সক্ষম হয়েছি, তবে আপনারা জানেন যে রাশিয়া-ইউক্রেনের যে যুদ্ধ, যুদ্ধ পরবর্তীতে আমেরিকা রাশিয়ার ওপর যে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দিল, ইউরোপ স্যাংশন দিল; ফলাফলটা এই দাঁড়িয়েছে, এখন তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে, ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজির দাম বেড়ে গেছে। সবকিছুর দাম এমনভাবে বেড়ে গেছে যে এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালিয়ে রাখা, আমাদের নিজস্ব যেটুকু গ্যাস আছে, তা ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে রাখাটাই একটা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে গেছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে গেছে।’

কোন বিদ্যুৎ উপকরণের কত দাম বেড়েছে, তার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘ফার্নেস অয়েল যার মূল্য ছিল মাত্র ৭০৮ টাকা, সেটা ইউক্রেন যুদ্ধের পর হয়ে গেছে এক হাজার ৪০ টাকা। অর্থাৎ ৩৩২ টাকা, ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এলএনজি যেটা মাত্র এমএমবিটিও ১০ ডলারে ক্রয় করা হতো, সেটা এখন ৩৮ ডলার। আর ২৮০ পার্সেন্ট প্রায় তার দাম বেড়ে গেছে। কয়লা সেটাও ১৮৭ ডলার ছিল, সেটা এখন ২৭৮ ডলার।

‘ডিজেল যেটা ছিল ৮০ ডলার, এখন সেটা ১৩০-এ চলে আসছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে, এটা নাকি ২০০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। অর্থাৎ এখন একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে সারা বিশ্ব যাচ্ছে। আমরা এখন নির্ভরশীল ডিজেলের ওপর, সেই ডিজেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।’

যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর আমেরিকা বা ইউরোপ অবরোধ আরোপ না করলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ নাও হতে পারত বলে মনে করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘এই স্যাংশনটা যদি না হতো তাহলে রাশিয়া থেকে, ইউক্রেন থেকে, এরা যুদ্ধও করত, আবার তাদের তেল বা ফার্টিলাইজার, গম এগুলোর সাপ্লাইটাও ঠিক থাকত। যদিও জাতিসংঘ সেক্রেটারি জেনারেলের উদ্যোগে একটা চ্যাম্পিয়ন গ্রুপ হয়েছে। তার মধ্যে আমি আছি। সেখানে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আলোচনা করে অন্তত বিশেষ করে খাদ্যটা যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, খাদ্য এবং সার যেন তারা আসতে দেন, এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘অবশ্য সে কারণে আমি সবাইকে আহ্বান করেছি, প্রত্যেককে নিজের সঞ্চয়টা বাড়াতে হবে। খরচের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং যতটুকু পারা যায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে; বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে হবে।’

লোডশেডিং কখন, কোথায় হবে, তার সূচি তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক, কখন কোন এলাকায় কত ঘণ্টা লোডশেডিং হবে, এটার একটা রুটিন তৈরি করে সেভাবে লোডশেডিং, যাতে সেই সময়ে মানুষ প্রস্তুত থাকতে পারে, যাতে মানুষের কষ্টটা আমরা লাঘব করতে পারি। সেই বিষয়টা আমাদের নজরে দিতে হবে।

‘আমি মনে করি, আশা করি দেশবাসী অন্তত এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি গেলেন প্রধানমন্ত্রী
পুত্র কন্যাকে নিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ঈদ কার্ড পাঠালেন জি এম কাদের
পদ্মা সেতু ইট-কাঠের স্থাপনা নয়, এটি আত্মমর্যাদা: শেখ হাসিনা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Instructions for making area wise schedule of load shedding

লোডশেডিংয়ের এলাকাভিত্তিক সূচি তৈরির নির্দেশ

লোডশেডিংয়ের এলাকাভিত্তিক সূচি তৈরির নির্দেশ লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি সমন্বয় করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক, কখন কোন এলাকায় কত ঘণ্টা লোডশেডিং হবে, এটার একটি রুটিন তৈরি করে সেভাবে লোডশেডিং, যাতে সেই সময়ে মানুষ প্রস্তুত থাকতে পারে, যাতে মানুষের কষ্টটা আমরা লাঘব করতে পারি। সেই বিষয়টি আমাদের নজরে দিতে হবে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ সংকট দেখা দেয়ায়, নিজস্ব জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ভর্তুকি কমাতে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে লোডশেডিংয়ের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

কোন এলাকায় কখন, কতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকবে না তার একটি সূচি তৈরি করতেও নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান, যাতে মানুষের দুর্ভোগ কম হয় এবং প্রস্তুতি রাখতে পারে।

সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর তাই সবাইকে সঞ্চয়ী, মিতব্যয়ী ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলেছেন তিনি।

কঠিন এ সময়ে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবস্থাপিত ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’, ‘শেখ জামাল ডরমিটরি’ এবং ‘রোজী জামাল ডরমিটরি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন আমরা বাড়িয়েছি। সেই বিদ্যুৎ আজকে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছি, তবে আপনারা জানেন যে রাশিয়া-ইউক্রেনের যে যুদ্ধ, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমেরিকা রাশিয়ার ওপর যে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দিল, ইউরোপ স্যাংশন দিল। ফলাফলটা এই দাঁড়িয়েছে, এখন তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে, ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজির দাম বেড়ে গেছে। সবকিছুর দাম এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালিয়ে রাখা, আমাদের নিজস্ব যেটুকু গ্যাস আছে, তা ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে রাখাটাই একটা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে গেছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে গেছে।’

কোন বিদ্যুৎ উপকরণের কত দাম বেড়েছে, তার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘ফার্নেস অয়েল যার মূল্য ছিল মাত্র ৭০৮ টাকা, সেটা ইউক্রেন যুদ্ধের পর হয়ে গেছে এক হাজার ৪০ টাকা। অর্থাৎ ৩৩২ টাকা, ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এলএনজি যেটা মাত্র এমএমবিটিও ১০ ডলারে ক্রয় করা হতো, সেটা এখন ৩৮ ডলার। আর ২৮০ পার্সেন্ট প্রায় তার দাম বেড়ে গেছে। কয়লা, সেটাও ১৮৭ ডলার ছিল, সেটা এখন ২৭৮ ডলার।

‘ডিজেল যেটা ছিল ৮০ ডলার, এখন সেটা ১৩০-এ চলে আসছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে, এটা নাকি ২০০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। অর্থাৎ এখন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে সারা বিশ্ব যাচ্ছে। আমরা এমন নির্ভরশীল ডিজেলের ওপর, সেই ডিজেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।’

তবে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর আমেরিকা বা ইউরোপ অবরোধ আরোপ না করলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ নাও হতে পারত বলে মনে করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘এই স্যাংশনটা যদি না হতো তাহলে রাশিয়া থেকে, ইউক্রেন থেকে, এরা যুদ্ধও করত, আবার তাদের তেল বা ফার্টিলাইজার, গম এগুলোর সাপ্লাইটাও ঠিক থাকত। যদিও জাতিসংঘ সেক্রেটারি জেনারেলের উদ্যোগে একটা চ্যাম্পিয়ন গ্রুপ হয়েছে। তার মধ্যে আমি আছি। সেখানে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আলোচনা করে অন্তত খাদ্যটা যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, খাদ্য এবং সার যেন তারা আসতে দেন, এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্যাংশনের কারণে এবং সুইফট বন্ধ করার কারণে আমরা ডলার দিয়ে রাশিয়া থেকে জিনিস কিনতে পারছি না। ইউক্রেন থেকে জিনিস কিনতে পারছি না। কাজেই ফিন্যানশিয়াল ম্যাকানিজমটা যে কী হবে- এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারেনি। ইউরোপের খুবই দুরবস্থা, যদিও তারা রুবল (রাশিয়ার মুদ্রা) দিয়ে কিনে নিচ্ছে।’

রাশিয়ান মুদ্রা রুবল দিয়ে পণ্য কেনার সুযোগ বাংলাদেশের খুবই সীমিত বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘…বাংলাদেশের সে ব্যাপারে খুবই সীমিত সুযোগ আছে। তবুও আমাদের প্রচেষ্টা আছে, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের বিদ্যুৎ আমরা সকলের ঘরে দিয়েছি, এটা ঠিক। বর্তমানে কিন্তু আমাদেরকে লোডশেডিং করতেই হবে। উৎপাদনও আমাদের সীমিত রাখতে হবে, যাতে আমাদের এই ভর্তুকিটা না দিতে হয়।’

বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ভর্তুকির বিষয়েও আমি আপনাদের জানাতে চাই, বিদ্যুতে মোট ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। আর যে এলএনজি আমদানি করছি গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ইন্ডাস্ট্রি চালু রাখার জন্য সেখানে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি কিউবিক মিটার এলএনজি ক্রয়ে সরকারের ব্যয় হয় ৫৯.৬০ টাকা, কিন্তু আমরা সেটা বিক্রি করছিলাম, গ্রাহকদের কাছে দিচ্ছিলাম মাত্র ৯.৬৯ টাকায়, যেটা সম্প্রতি ১১ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। তারপরেও বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি রয়ে গেছে সেখানে।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে উৎপাদন ব্যয় পড়ে ১২.৮৪ টাকা। এককপ্রতি পাইকারি মূল্য দিচ্ছি মাত্র ৫.০৮ টাকায়। কোথায় ১২.৮৪, সেখানে মাত্র ৫ টাকায় আমরা দিচ্ছি। ফার্নেস অয়েল প্রতি একক উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে ১৭.৪১ টাকা। সেখানেও আমরা দিচ্ছি ৫.০৮ টাকায়। সেখানেও ভর্তুকি।

‘ডিজেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ৩৬.৮৫ টাকা, কিন্তু সেখানেও আমরা ৫.০৮ করে বিদ্যুৎ বিক্রি করছি। কয়লা থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, সেটাও ১২.৩৭ টাকা, কিন্তু দেয়া হচ্ছে মাত্র ৫.০৮ টাকায়।’

দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে এই পরিমাণ ভর্তুকি কতদিন দেয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই যে একটা বিশাল অঙ্ক, আমরা ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি, এই ভর্তুকি কতক্ষণ আমরা দিতে পারব? কারণ আমাদের মানুষের খাদ্য দিতে হবে, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, গৃহহীনদের ঘর দিতে হবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।

‘কৃষিতে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। এবারের বাজেটেও প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হবে। এবারের বাজেটেও সেটা আমরা ধরেছি, কিন্তু আমরা যদি ভর্তুকি না কমাই, সরকারে টাকা আসবে কোত্থেকে?’

এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘অবশ্য সে কারণে আমি সবাইকে আহ্বান করেছি, প্রত্যেককে নিজের সঞ্চয়টা বাড়াতে হবে। খরচের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং যতটুকু পারা যায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে; বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে হবে।’

লোডশেডিং কখন, কোথায় হবে, তার সূচি তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক, কখন কোন এলাকায় কত ঘণ্টা লোডশেডিং হবে, এটার একটা রুটিন তৈরি করে সেভাবে লোডশেডিং, যাতে সেই সময়ে মানুষ প্রস্তুত থাকতে পারে, যাতে মানুষের কষ্টটা আমরা লাঘব করতে পারি। সেই বিষয়টা আমাদের নজরে দিতে হবে।

‘আমি মনে করি, আশা করি দেশবাসী অন্তত এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।’

আরও পড়ুন:
জীবনের ওপর ফের আঘাতের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর
এত লোডশেডিং কেন, জানালেন প্রধানমন্ত্রী
চাহিদার অর্ধেক সরবরাহে বারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে বগুড়ায়
দক্ষিণে ব্যাপক উন্নয়ন করবে পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Train ride in the rain

বৃষ্টিতে স্বস্তির ট্রেনযাত্রা

বৃষ্টিতে স্বস্তির ট্রেনযাত্রা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ৪টি ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছাড়লেও আজ একটি ছাড়া এখন পর্যন্ত প্রায় সবগুলো ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেছে, তবে রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রার সময় ৫০ মিনিট বাড়ানো হয়েছে।

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে কমলাপুর স্টেশন থেকে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো হাজারো মানুষ।

চলতি সপ্তাহজুড়ে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকা নগরবাসীর মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে সকালের বৃষ্টি। এর প্রভাব পড়েছে কমলাপুরে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মাঝেও। কেউ কেউ বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে সিট না পেলেও বৃষ্টির ফলে গরম কমায় তাদের যাত্রা আরামদায়ক হতে পারে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশায় চেপে সকালে স্টেশনে পৌঁছেছেন অনেকে। তবে খুব বেশি ভিড় দেখা যায়নি স্টেশনে। স্বস্তিতে আর নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে- এমন আশায় খুশি যাত্রীরা। স্টেশন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

প্রথম দিনে ৪টি ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছাড়লেও আজ একটি ছাড়া এখন পর্যন্ত প্রায় সব ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেছে, তবে রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রার সময় ৫০ মিনিট বাড়ানো হয়েছে।

বৃষ্টিতে স্বস্তির ট্রেনযাত্রা

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে কমলাপুর স্টেশনে খুব বেশি ভিড় দেখা যায়নি। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

বুধবার ৯টার কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত স্টেশন ছেড়ে গেছে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম অভিমুখী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, নীলসাগর, মহানগর প্রভাতি ও তিস্তা এক্সপ্রেস। ছাড়ার অপেক্ষায় ছিল সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মহুয়া কমিউটার ও কর্ণফুলী কমিউটার।

সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের যাত্রী মামুন হোসেন বলেন, ‘গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বাসাবো থাকি। বাসার গলি থেকেই সিএনজিতে (সিএনজিচালিত অটোরিকশা) চেপে স্টেশনে পৌঁছেছি। স্টেশনে খুব বেশি ভিড় নেই। আরামে যেতে পারব মনে হচ্ছে।’

সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী ইকরাম বলেন, ‘কাছাকাছি থাকি, তাই স্টেশনে আসতে সমস্যা হয়নি। ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে, আশা করি যাত্রা ভালোই হবে।’

বৃষ্টিতে স্বস্তির ট্রেনযাত্রা

আরেক যাত্রী মাহার আলী বলেন, ‘যুদ্ধ করে টিকিট কেটেছি বলা চলে। স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় হবে বলে চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু তেমনটি দেখতে পাচ্ছি না। এখন পর্যন্ত সব ট্রেন তো সময় মতোই ছেড়ে গেছে। আশা করি নিরাপদে সময়মতো বাড়ি ফিরব।’

এবার শুক্রবার (১ জুলাই) থেকে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ১ জুলাই দেয়া হয় রেলের ৫ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট, ২ জুলাই দেয়া হয় ৬ জুলাইয়ের টিকিট, ৩ জুলাই দেয়া হয় ৭ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট, ৪ জুলাই দেয়া হয় ৮ জুলাইয়ের টিকিট এবং ৫ জুলাই দেয়া হয় ৯ জুলাইয়ের টিকিট।

বৃষ্টিতে স্বস্তির ট্রেনযাত্রা

এ ছাড়া ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) থেকে। ওই দিন ১১ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। ৮ জুলাই ১২ জুলাইয়ের টিকিট, ৯ জুলাই দেয়া হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকিট আর ১১ জুলাই বিক্রি হবে ১৪ এবং ১৫ জুলাইয়ের টিকিট।

এর মধ্যে ১০ জুলাই ঈদ হলে ১১ জুলাই সীমিত কয়েকটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করবে। তবে ১২ জুলাই থেকে সব ট্রেন চলাচল করবে।

আরও পড়ুন:
ট্রেন আসতে দেরি করায় ছাড়তে দেরি
প্রথম দিনেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তি
ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে
ঈদে বাইক বন্ধ কার স্বার্থে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Be frugal in using gas and electricity State Minister

গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন: প্রতিমন্ত্রী

গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন: প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ছবি: মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘জাপানের মতো উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশও তাদের সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারছে না। একই অবস্থা আরেক উন্নত দেশ অস্ট্রেলিয়ারও। ভারত-পাকিস্তানের কথা না হয় নাইবা বললাম। অর্থাৎ সবাইকেই এই সংকটকালীন সময়ে রেশনিং করতে হচ্ছে।’

গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতির শুরুতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯-এর প্রভাব সব জায়গায় পড়েছে। কোভিড-১৯-এর ধাক্কা যখন সবাই কাটিয়ে উঠছিল তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি সারা বিশ্বকেই গভীর এক সংকটে ফেলেছে। এই সংকট শুধু উন্নয়নশীল দেশেই না অনেক উন্নত দেশেও এর আঁচ লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের বাজারও বেসামাল। বৈশ্বিক এই সংকট আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছে।’

গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন: প্রতিমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ ৫২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে। অর্থাৎ গত একযুগে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে আমাদের শিল্পায়ন অতীতের সব সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ‘দিন বদলের ইশতেহারে’ উনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবেন। সেই রূপকল্প আমরা বাস্তবায়ন করেছি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুতের কোনো বিকল্প নাই। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করেই কিছুটা ছন্দঃপতন সব জায়গাতেই।’

জাপানের মতো উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশও তাদের সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারছে না। একই অবস্থা আরেক উন্নত দেশ অস্ট্রেলিয়ারও। ভারত-পাকিস্তানের কথা না হয় নাইবা বললাম। অর্থাৎ সবাইকেই এই সংকটকালীন রেশনিং করতে হচ্ছে।

‘আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৬০০-১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। সেখানে আমরা দিতে পারছি মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর বেশি গ্যাস আমরা দিতে পারছি না, কারণ আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে কৃষি ও শিল্প খাতকে। কৃষির জন্য সার অপরিহার্য। সার উৎপাদনেও আমাদের অনেক পরিমাণ গ্যাস দিতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাটাও আপনাদের জানিয়ে রাখি, আমাদের বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বাকি বৃহৎ অংশ এলএনজি আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ও গ্যাসের উৎপাদন ছিল মাত্র দৈনিক ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখান থেকে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছিলাম দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা এ সক্ষমতায় গ্যাস উৎপাদন করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করেছে, আমাদের খনিগুলোর রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণে।

এলএনজি আমদানির জন্য কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আমরা এলএনজি পাচ্ছি। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করতাম। কোভিড-১৯-এর আগে আমরা এক ইউনিট এলএনজি ৪ ডলারেও আমদানি করেছি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা ৪১ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। এত উচ্চমূল্যে আমদানি করলে আমাদের অর্থনীতির ওপর বিশাল চাপ তৈরি হবে। শুধু গ্যাসের দামই না। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ডিজেল ব্যারেলপ্রতি ৭৭ ডলার ছিল, সেটা এ বছরের জুনে ১৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান কূপগুলোতে আরো গভীরে খনন করে গ্যাসের অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী ৩ বছরের একটা আপগ্রেডেশন, ওয়ার্কওভারের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে করে ৪৬টি কূপ থেকে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতি খুব বেশিদিন থাকবে না আশা করি। এ বছরের মধ্যেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট আমদানীকৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

আপনাদের নিশ্চয় সবার মনে আছে, ২০০৮ সালের আগে সারা দেশে দিনে ১৬-১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। সেই কঠিন সময়ে আপনারা জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এই সংকটের সময়েও আপনাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রাখতে বলব। এই সংকট আমরা সবাই মিলেই পার করব।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সবার কাছে একটাই অনুরোধ, আসুন আমরা সবাই গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হই।’

আরও পড়ুন:
লোডশেডিং: বিদ্যুতের চাহিদাও কমানোর চেষ্টা
লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি কেন: রিজভী
একজনকে বাঁচাতে গিয়ে ঝরল ২ প্রাণ
বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাতে ঘুম নেই চাঁদপুরবাসীর
প্রচণ্ড লোডশেডিং হচ্ছে, এটা ভয়াবহ: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Case against the doctor who was beaten in the elevator

লিফটে মারধর, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

লিফটে মারধর, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা চট্টগ্রামের আদালত ভবন। ছবি: নিউজবাংলা
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘দুপুরে মামলার আবেদন করা হয়। আদালত সন্ধ্যায় তা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।’ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, লিফটম্যান মোহাম্মদ রাজু সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে লিফটে ওঠা নিয়ে বিরোধ ও মারধরের ঘটনায় রোগীর স্বজন মামলা করেছেন চিকিৎসক ও লিফটম্যানের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার জাহানের আদালতে মঙ্গলবার মামলার আবেদন করেন বিবি আয়েশা নামের নারী।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দুপুরে মামলার আবেদন করা হয়। আদালত সন্ধ্যায় তা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।’

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান ও লিফটম্যান মোহাম্মদ রাজু।

মামলায় বলা হয়, বিবি আয়েশা তার স্বামী রেজাউল ইসলাম, সন্তান ও দুই স্বজনকে নিয়ে রোববার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে আয়েশার অন্তঃসত্ত্বা ননদ ভর্তি আছেন। তারা হাসপাতালের সিড়ি দিয়ে মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠেন। সিড়িতে মেরামত কাজ চলায় তারা এক পর্যায়ে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন।

লিফটম্যান রাজু দরজা খুলে জানান, এই লিফটি শুধু চিকিৎসকদের ব্যবহারের জন্য। এখানে নেয়া যাবে না। লিফটের ভেতরে তখন কিছু সাধারণ মানুষ থাকায়, বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন রেজাউল। তখন গালাগাল করলে রেজাউল তার প্রতিবাদ করেন। এক পর্যায়ে চিকিৎসক মিজানুর সহ অন্য এক জন মিলে রেজাউলকে টেনে লিফটের ভেতরে নিয়ে মারধর করেন।

পরে ডা. মিজানুর রহমানের নির্দেশে ১০ থেকে ১২ জন রোগীর পাঁচ স্বজনকে ধরে পাঁচ তলায় নিয়ে যান। সেখানে ৩২৬ নম্বর কক্ষে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পুলিশ সংবাদ পেয়ে এক সময় তাদের উদ্ধার করে।

বাদীর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চিকিৎসক মিজানুর রহমান ও লিফটম্যান রাজুর বিরুদ্ধে মামলাটি আদালত নিয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে প্রতিবেদন দিতে পিবিআইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে নার্সদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ
চমেক আইসিইউতে আরও ৮ শয্যা

মন্তব্য

p
উপরে