× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Per capita income has increased with the steps of the government Prime Minister
hear-news
player

সরকারের পদক্ষেপে বেড়েছে মাথাপিছু আয়: প্রধানমন্ত্রী

সরকারের-পদক্ষেপে-বেড়েছে-মাথাপিছু-আয়-প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার নরসিংদীতে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্পের ভিত স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৯১ ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করেছে; খাদ্যাভাব সৃষ্টি করেছে...আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ এবং প্রণোদনা প্যাকেজের ফলে এবং নগদ অর্থ সহায়তার ফলে আমরা আমাদের অর্থনীতির গতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কারণে বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনীতির গতি সচল থাকার পাশাপাশি মাথাপিছু আয় বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার নরসিংদীতে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্পের ভিত স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিটাক, বিসিক ও বিএসইসি নির্মিত চারটি প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৯১ ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। সারা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করেছে; খাদ্যাভাব সৃষ্টি করেছে।

‘…আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ এবং প্রণোদনা প্যাকেজের ফলে এবং নগদ অর্থ সহায়তার ফলে আমরা আমাদের অর্থনীতির গতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। কাজেই এই করোনা সময়েও আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জনকেও আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের নীতি এবং কর্মসূচির ফলে বর্তমানে আমাদের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান প্রায় ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আমরা প্রণয়ন করেছি, যার ফলে বাংলাদেশে জলবায়ু অভিঘাত থেকে রক্ষা পাবে। বাংলাদেশে তার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সুন্দর জীবন পায়, তা নিশ্চিত করবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার কৃতিত্ব দেশের জনগণকেই দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাদের বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলেই আজকে বাংলাদেশে উন্নয়ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।’

দেশের রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০৮-০৯ অর্থবছরে আমাদের মোট রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১৫ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ৪৫ হাজার ৩৮৬ মিলিয়ন ডলারে আমরা উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে আমরা প্রায় ২০২টি দেশ বা অঞ্চলে ৭৬৬টি পণ্য রপ্তানি করতে পারছি।’

উন্নয়নকে শহরমুখী না করে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেহেতু প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল, তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযুক্ত জনশক্তি যাতে গড়ে ওঠে, তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। আমরা জাতীয় শিল্প নীতিমালা ২০২১ চূড়ান্ত করেছি।’

গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভিজ ও প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে পারলে অর্থাৎ ভ্যালু অ্যাড করতে পারলে আমরা যেমন বিদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম হব, পাশাপাশি আমার নিজের দেশের মানুষেরও, যেহেতু ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, সেখানে আমাদের বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে; আমরা সেদিকে লক্ষ রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

দেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা করে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী আমরা পরিবেশবান্ধব শিল্পের প্রসার বাড়াচ্ছি। কারণ পরিবেশ রক্ষা করাটা এখন সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সব থেকে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে। আমরা প্রতিটি শিল্প-কলকারখানা থেকে শুরু করে যত প্রতিষ্ঠান তৈরি করছি, সেখানেই আমরা পরিবেশবান্ধব যাতে হয় তার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

সারা বিশ্বে তৈরি পোশাক খাতে ১০টি গ্রিন ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে ৭টি এখন বাংলাদেশে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্প

২০১৪ সালে নরসিংদীতে ঘোড়াশাল এবং পলাশে দুটি পুরোনো ইউরিয়া সার কারখানার পরিবর্তে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, জ্বালানিসাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব নতুন সার কারখানার উদ্যোগ নেয় সরকার।

প্রকল্পটির ভিত স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন এ সার কারখানায় দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন (বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ টন) দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে।’

তিনি বলেন, ‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে ১০ শতাংশ ইউরিয়া উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে।’

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান ও চীন। বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সরকারপ্রধান।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বহুতল ভবন ও মাদারীপুরে সম্প্রসারিত বিসিক শিল্প নগরী, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রে (বিটাক) টেস্টিং সুবিধাসহ টুল ইনস্টিটিউট এবং বিএসইসির এলইডি লাইট (সিকেডি) অ্যাসেমব্লিং প্ল্যান্ট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ফলে বর্তমানে শিল্পনগরীতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৪১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা এবং ৮ লাখের অধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিসিককে শক্তিশালী করতে আজ আমরা তেজগাঁওয়ে বিসিকের বহুতল ভবন এবং মাদারীপুরে সম্প্রসারিত বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ উদ্বোধন করছি।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগকে কেন হটাতে হবে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
কৃষকের মঙ্গল কীসে জানি, দাবি তোলা লাগবে না: প্রধানমন্ত্রী
আধুনিকের সঙ্গে সনাতনী ওষুধের প্রয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সাধ্যমতো চেষ্টায় পণ্যমূল্য কমে আসছে: প্রধানমন্ত্রী
মেগা প্রকল্প পাল্টে দেবে অর্থনীতির চেহারা: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The price of gold increased to 1650 rupees

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ১৭৫০ টাকা

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ১৭৫০ টাকা
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

স্বর্ণের দাম বাড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। অন্য মানের স্বর্ণের দামও প্রায় একই হারে বেড়েছে।

বুধবার থেকে নতুন দর কার্য‌কর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি -বাজুস।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ৮ মার্চ দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। তার চার দিন আগে ৪ মার্চ বাড়ানো হয়েছিল ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা।

এরপর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করায় গত ১৫ মার্চ দেশের বাজারে ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ২১ মার্চ কমানো হয় ভরিতে আরও ১ হাজার ৫০ টাকা।

কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় গত ১১ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ৮৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় ২৫ এপ্রিল প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়। সবশেষ ১০ মে একই পরিমাণ কমানো হয়েছিল।

দুই দফায় ভরিতে ২ হাজার ৩৩২ টাকা কমানোর পর মঙ্গলবার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটেও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। বুধবার থেকে এই নতুন দর কার্য‌কর হবে।

দাম বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মুহূর্তে গোল্ডের দাম ওঠানামা করছে। এই বাড়ছে তো, ওই কমছে। গত এক সপ্তাহে দাম খানিকটা বেড়েছে। একইসঙ্গে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে বেশ খানিকটা। সে কারণে সবকিছু হিসাব করে আমরাও গোল্ডের দাম বাড়িয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি মুহূর্তে বাজার পর্যবেক্ষণ করি। এখন বিশ্ববাজারে দাম কমেছে; আমরাও কমিয়েছি। দেশে স্বর্ণের দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে আসলে বিশ্ববাজারের ওপর।’

বিশ্ববাজারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম, ২.৬৫ ভরি) স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩২ ডলার ৪২ সেন্ট। তিন দিন আগে এই দর কমতে কমতে ১ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে এসেছিল। সোমবার থেকে তা ফের বাড়ছে।

সবশেষ ১০ মে যখন স্বর্ণের দাম কমানো হয়, তখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ছিল ১ হাজার ৮৫৬ ডলার ৪৬ সেন্ট।

মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বাড়তে বাড়তে ২ হাজার ৬০ ডলারে উঠেছিল।

বুধবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে লাগবে ৭৮ হাজার ২৬৫ টাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণ ৭৬ হাজার ৫১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ১ হাজার ৭৫০ টাকা।

২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৭০৮ টাকা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ৭৩ হাজার ১৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে এই মানের স্বর্ণ।

১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৪ হাজার ৩৬ টাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬২ হাজার ৬৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ৩৬৩ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাজুস। গত সাত দিন ধরে ৫২ হাজার ১৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি।

তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের দামেই বিক্রি হবে এই ধাতু।

আরও পড়ুন:
বাজুস সদস্য ছাড়া স্বর্ণালংকার না কেনার পরামর্শ
স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা
বিমানের ভেতর কাপড়ে লুকানো ছিল ১০ কেজি স্বর্ণ
শাহজালালে বিমান থেকে ৮৮ স্বর্ণবার জব্দ
বিপুল স্বর্ণসহ আমেরিকান পাসপোর্টধারী নারী আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Besamal economy in dollar crisis

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি
গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, ডলারের দর আরও বাড়বে। এই গুজবে অনেকেই এখন ডলারের পেছনে ছুটছেন। অনেকে ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে ডলার কিনছেন। অনেকে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে ডলারে বিনিয়োগ করছেন। কেউ কেউ আবার ব্যাংকের ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়েও কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে ডলার কিনছেন।

ডলারের উল্লম্ফনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে প্রয়োজনীয় ডলার পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো; বাধ্য হয়ে ব্যাংক রেটের চেয়ে সাত-আট টাকা বেশি দিয়ে ডলার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে গেছে। ডলার বাজারের এই অস্থিরতা অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বাধ্য হয়ে সরকার আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানতে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তাদেরও বিদেশ সফর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কম গুরুত্বপূর্ণ আমদানিনির্ভর প্রকল্পের বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিলাস পণ্য আমদানিতে ৭৫ শতাংশ এলসি মার্জিন রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাজারের অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিন বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলার ছাড়ছে । তারপরও বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে না। বেড়েই চলেছে দাম। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় দরপতন হয়েছে। এক দিনেই ইউএস ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারিয়েছে টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক দিনে টাকার এতটা দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে; গত সপ্তাহের শেষ দিনে যা ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা।

ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার সরকারি ছুটির কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক লাফে আরও ৮০ পয়সা কমিয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া অন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।

‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানি কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। সে সুবাদে রিজার্ভ বাড়বে।’

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি

ব্যাংকেও ডলারের দর ৮ টাকা বেশি

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে মঙ্গলবার ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় ডলার বিক্রি হলেও ব্যাংকগুলো তার চেয়ে ৭/৮ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে। ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক মঙ্গলবার ৯২ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক করেছে ৯৪ টাকায়। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আর বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৬ টাকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মঙ্গলবার পর্যন্ত সাড়ে ১০ মাসে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৭ মে পর্যন্ত) ৫২৫ কোটি (৫.২৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর।

খোলা বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সে কারণে দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছামতো ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছর জুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। তখন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবারও ৩০ কোটি ডলারের মতো বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি

আমদানি না কমলে অস্থিরতা কাটবে না

অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে ঠিক কাজটিই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপকে সময়োপযোগী একটা পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন ,‘আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়েছে দর। কিন্তু এখন আমদানির লাগাম টেনে ধরতে হবে; যে করেই হোক আমদানি কমাতে হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ৭৫ শতাংশ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আমি মনে করি, এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

অর্থনীতির আরেক বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। এটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে বোঝা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। আমার মনে হয়, এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।

‘আমি আগেই বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে; বাজারকে তার গতিতেই যেতে দিতে হবে। কিন্তু সেটা না করে বাজারে হস্তক্ষেপ করে ডলারের দাম ধরে রাখা হয়েছিল। অল্প অল্প করে দাম বাড়ানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপ ঠিক ছিল না বলে আমি মনে করি।

‘আমি বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিলে ডলারের দাম যদি ৮৭/৮৮ টাকাতেও উঠে যায়, যাক। তারপর বাজার তার নিজের নিয়মেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেই ৮৭/৮৮ টাকাতেই ডলারের দাম উঠাচ্ছে। কিন্তু বাজারটাকে অস্থির করার পর।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক তফাৎ। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।। কিন্তু রেমিট্যান্স না বেড়ে উল্টো কমেছে। রপ্তানি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

‘এখন কথা হচ্ছে, কতদিন এই অস্থিরতা চলবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়। যে করেই হোক আমদানি কমাতেই হবে। এ ছাড়া এখন আর অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর যদি এটা করা না যায়, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। কয়েক মাস আগেও রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।’

রিজার্ভের স্বস্তি আর নেই

আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন (৪ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের নিচে নেমে এসেছে। আকুর (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) রেকর্ড ২২৪ কোটি (২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর গত সপ্তাহে রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ- প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে দেশে। এ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দু'মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ৬৪ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের ১০ মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়কালে (জুলাই-এপ্রিল) ১৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এটা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম।

তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই ১০ মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৪৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে দেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

সবাই ছুটছে ডলারের পেছনে

দেশে অদ্ভুত এক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, ডলারের দর আরও বাড়বে। এই গুজবে প্রভাবিত হয়ে অনেকেই এখন ডলারের পেছনে ছুটছেন। অনেকে ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে ডলার কিনছেন। অনেকে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে সেই অর্থ ডলারে বিনিয়োগ করছেন। কেউ কেউ আবার ব্যাংকের ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়েও কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে ডলার কিনছেন। ব্যাপক চাহিদার কারণে মঙ্গলবার খোলাবাজারে ডলারের দর এক লাফে ১০৪ টাকায় উঠেছে। দু'দিনের ব্যবধানে এই বাজারে ডলারের দর বেড়েছে ১০ টাকার বেশি।

রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশা ডলারের কার্ব মার্কেট হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় হাঁটতে থাকলেই ‘ডলার লাগবে নাকি’ বলে আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করতে শোনা যায় অনেককে। এরাই কার্ব মার্কেটের ডলার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। অবৈধ হলেও যুগ যুগ ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন তারা ডলার কেনাবেচা।

মঙ্গলবার দিলকুশায় গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অনেকে টাকা দিয়ে ডলার কিনতে চাইলেও মুদ্রা ব্যবসায়ীরা বলছেন ডলার নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডলার ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে কী হয়েছে জানি না! ডলারের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। সবাই ডলার চাচ্ছে। গত সপ্তাহেও ৯৩-৯৪ টাকায় ডলার বিক্রি করেছি। আজ সেটা ১০৪ টাকায় উঠেছে। তাও পাওয়া যাচ্ছে না।

‘আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার কিনে ১০/১৫ পয়সা লাভে বিক্রি করি। কিন্তু আজ কোনো ডলার কিনতেও পারিনি, বিক্রিও করিনি। কেউ আর ডলার বিক্রি করতে আসছে না; সবাই কিনতে আসছে। এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি।’

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে দেশের অর্থনীতি বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা আবার ওলটপালট করে দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে ডলারের অস্থিরতায় বেসামাল হয়ে পড়েছে অর্থনীতি।’

উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক রেট ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। ব্যাংকগুলো বিক্রি করছে ৯৪/৯৬ টাকায়। কার্ব মার্কেটে ১০৪ টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব। কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী করছে?

‘আমার পরিচিত অনেকেই পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ডলার কিনে এই কয় দিনে ‘লালে লাল’ হয়ে গেছেন। ডলারের দাম নাকি আরও বাড়বে। তাই যাদের যা কিছু আছে তা দিয়ে এখন ডলার কিনতে ছুঁটছে।’

ইটিবিএল সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান রাহমান ডলারের বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন। এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘আর দেরি না করে ডলারের ভিন্ন ভিন্ন দাম বন্ধ করতে হবে। বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। তাহলে বাজার এমনিতেই ঠিক হয়ে আসবে।’

শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগকারীরা ডলার কিনছে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গুজব আছে, অনেকেই নাকি ডলারের দিকে ছুটছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সবাই ডলার কিনতে গেলে এত ডলার পাবে কোথায়?

‘পুঁজিবাজারে পতন শুরু হলেই অনেক গুজব ছড়ানো হয়, এর-ওর সঙ্গে মেলানো হয়। এখন বাজারের অবস্থা খারাপ, তাই নানা গুজব ঘুরছে চারদিকে। তবে কিছু লোক বেশি লাভের আশায় ডলার কিনছে এটা ঠিক।’

আরও পড়ুন:
ডলারের উচ্চদরে বিদেশি ঋণধারীদের মাথায় হাত
ছুটছেই ডলার, ব্যাংকেই ৯২ টাকা
ডলার বন্ডে সীমাহীন বিনিয়োগের সুযোগ
ডলারের একক আধিপত্য খর্বের মুখে
ডলারের বিপরীতে আরও দুর্বল টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Container tracking is mandatory for transportation of imported goods

আমদানি পণ্য পরিবহনে কনটেইনার ট্রাকিং বাধ্যতামূলক

আমদানি পণ্য পরিবহনে কনটেইনার ট্রাকিং বাধ্যতামূলক
কনটেইনার ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আমদানি পণ্য পরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতে আমদানি মূল্যও পরিশোধে ঝুঁকি থাকে না। ট্রাকিংয়ে কোনো সন্দেহ হলে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ পাবে ব্যাংক। এ কারণে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রপ্তানির পর এবার আমদানি পণ্য পরিবহনেও কনটেইনার ট্রাকিং বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এখন থেকে ব্যাংকগু‌লো‌র কো‌নো আমদানি পণ্যের মূল্য প‌রি‌শোধ কর‌তে হ‌লে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাসেল ও কনটেইনার ট্র্যাক কর‌তে হ‌বে।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট’ আমদানি মূল্য পরিশোধে ঝুঁকি কমা‌তে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জা‌রি ক‌রে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে পাঠিয়েছে।

এমন এক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা দিল, যখন আমদানিতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেকে সন্দেহ করছেন। তাই আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কনটেইনার ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আমদানি পণ্য পরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতে আমদানি মূল্যও পরিশোধে ঝুঁকি থাকে না। ট্রাকিংয়ে কোনো সন্দেহ হলে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ পাবে ব্যাংক। এ কারণে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ধারাবাহিক আমদানি ব্যয় পরি‌শো‌ধের চাপে ডলারের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। ফলে অস্থির হয়ে গেছে ডলারের বাজার। বিক্রি করেও ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার এক দিনেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৮০ পয়সা। আর গত ২০ দিনে ব্যবধানে তিন দফায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয় ১ টাকা ৩০ পয়সা।

বর্তমানে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। ত‌বে ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দরে।

ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার কেনাবেচা আরও চড়া দরে। মঙ্গলবার এই বাজার থেকে ১ ডলার কিনতে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা দিতে হয়েছে। সোমবার ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছিল।

এর আগে গত ২০ এপ্রিলের এক নির্দেশনায় রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাকিং পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dollar Century in the open market

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি দর বাড়ছে ডলারের
৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে খোলা বাজারে বেড়েছে আরও বেশি। আর ব্যাংকের বাইরে এখন ডলার পাওয়াই যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার এই বাজার থেকে এক ডলার কিনতে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা দিতে হয়েছে। সোমবার ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছিল।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খোলা বাজারে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সে কারণেই প্রতি দিনই দর বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ডলার পাচ্ছি না। আজ আমি এক ডলারও কিনতে পারিনি। তাই কোনো ডলার বিক্রিও করতে পারছি না।’

বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। মঙ্গলবারও এই একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৫ টাকা বেশি দরে।

ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার সরকারি ছুটির কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক লাফে আরও ৮০ পয়সা কমিয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া অন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানিটা কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। রিজার্ভ বাড়বে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা মঙ্গলবার ৯২ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকও ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত (সাড়ে ১০ মাসে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত) ৫২০ কোটি (৫.২০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর।

খোলা বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত।

কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণেই দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়েই যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আমদানি কমাতেই হবে

অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে ঠিক কাজটিই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপকে সময়োপযোগী একটা পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়েছে দর। কিন্তু এখন আমদানির লাগাম টেনে ধরতে হবে; যে করেই হোক আমদানি কমাতে হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ৭৫ শতাংশ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

অর্থনীতির আরেক বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। এটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। আমার মনে হয়, এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে; বাজারকে তার গতিতেই যেতে দিতে হবে। কিন্তু সেটা না করে বাজারকে হস্তক্ষেপ করে ডলারের দাম ধরে রাখা হয়েছিল। অল্প অল্প করে দাম বাড়ানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপ ঠিক ছিল না বলে আমি মনে করি।

‘আমি বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিলে ডলারের দাম যদি ৮৭/৮৮ টাকাতেও উঠে যায়, যাক। তারপর বাজার তার নিজের নিয়মেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই ৮৭/৮৮ টাকাতেই ডলারের দাম ওঠাচ্ছে। কিন্তু বাজারটাকে অস্থির করার পর।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক তফাত। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ৫০ শতাংশের মতো। কিন্তু রেমিট্যান্স না বেড়ে উল্টো ২০ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

‘এখন কথা হচ্ছে, কতদিন এই অস্থিরতা চলবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়। যে করেই হোক আমদানি কমাতেই হবে। এ ছাড়া এখন আর অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর যদি এটা করা না যায়, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। কয়েক মাস আগেও রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।’

ডলারের ব্যয় কমাতে সরকার এরই মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিলাস দ্রব্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আমদানিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলো জরুরি নয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন হবে বেছে বেছে। যেসব প্রকল্প এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন না করলেই নয়, সেগুলোই কেবল বাস্তবায়ন হবে।

আরও পড়ুন:
ডলারের পাগলা ঘোড়ার দাপটে টাকার রেকর্ড দরপতন
রিজার্ভ থেকে রেকর্ড ডলার ছেড়েও অস্থির বাজার
আরও দুর্বল হলো টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If electricity prices go up commodity prices will go up further FBCCI

‘বিদ্যুতের দাম বাড়ালে পণ্যমূল্য আরও বাড়বে’

‘বিদ্যুতের দাম বাড়ালে পণ্যমূল্য আরও বাড়বে’ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বুধবার গণশুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি। ফাইল ছবি
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটির মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতের খরচ বাড়বে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ালে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মঙ্গলবার এমন মত ব্যক্ত করেছে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বুধবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। কমিশনের আইন অনুযায়ী, শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি প্রস্তাবের বিষয়ে ঘোষণা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গ্যাসের দাম আগে ঠিক করে তারপর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই গ্যাসের দাম বাড়ালে বিদ্যুতের দামও বাড়াতে হবে। আবার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে।

বিদ্যুতের দাম এই মুহূর্তে না বাড়ানোর পক্ষে বেশকিছু যুক্তি তুলে ধরেছে এফবিসিসিআই।

সংস্থাটির মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতের খরচ বাড়বে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

এফবিসিসিআই বলেছে, বর্তমানে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ আসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। কিন্তু উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। ফার্নেস অয়েলের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। কয়লার ওপর ভ্যাট, গ্যাসের ওপর ডিমান্ড চার্জসহ বিদ্যুৎ বিক্রির ওপর উৎসে কর আরোপ করা হয়েছে।

একদিকে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে অন্যদিকে জ্বালানির ওপর আরোপিত করভার যুগপৎভাবে ভোক্তাসহ দেশের উৎপাদনশীল কার্যক্রমের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটি বিধ্বংসী ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী আমদানি পণ্যের মূল্য বেড়েছে। এর প্রভাবে শিপিং খরচ বেড়েছে। একই কারণে উৎপাদন ব্যয়ও অত্যধিক বেড়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর।

একইভাবে রপ্তানি শিল্পে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এতে রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।

মতামতে বলা হয়, সঞ্চয় কমে যাওয়ার ফলে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের অর্থপ্রবাহে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়ার আশঙ্কাকে বিবেচনায় নেয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষি, শিল্প ও সেবা উৎপাদন খাতে।

মূল্যস্ফীতির বিরূপ প্রভাবে জনজীবনে নেমে আসতে পারে হতাশা। সর্বোপরি এতে অর্থনীতির উন্নয়নে চলমান ধারাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবটি গ্রহণ করা ঠিক হবে না বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন:
অসৎ ব্যবসায়ীদের সভাপতি হতে চাই না: এফবিসিসিআই সভাপতি
‘রপ্তানিমুখীর মতো স্থানীয় শিল্পও নিরাপদ হবে’
ব্যক্তি করে ছাড় বাড়ানোর প্রস্তাব এফবিসিসিআইয়ের
দুবাইয়ে হবে এফবিসিসিআইয়ের ট্রেড সেন্টার
দুবাই চেম্বারের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সমঝোতা স্মারক সই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
NCC Bank will introduce Islamic banking

ইসলামি ব্যাংকিং চালু করবে এনসিসি ব্যাংক

ইসলামি ব্যাংকিং চালু করবে এনসিসি ব্যাংক এনসিসি ব্যাংকের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা
এনসিসি ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করব। এ জন্য আমাদের একটি নির্ধারিত শাখা থাকবে। তবে গ্রাহক সব শাখায় এ সেবা নিতে পারবেন।’

বাজার প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জে টিকে থাকতে প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংক শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে যাচ্ছে। কিছু ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শুরু করেছে। কেউ কেউ আলাদা শাখা ও উইন্ডো খুলে ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।

এ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড (এনসিসি)। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও মিলেছে। খুব শিগগিরই ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো খুলে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবে ব্যাংকটি।

এনসিসি ব্যাংকের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।

তিনি বলেন, ‘এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করব। এ জন্য আমাদের একটি নির্ধারিত শাখা থাকবে। তবে গ্রাহক সব শাখায় এ সেবা নিতে পারবেন।’

বর্ষপূ্র্তি উপলক্ষে ব্যাংকটি নতুন তিনটি সেবা চালু করেছে জানিয়ে এমডি বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা বেগবান করছেন, তাদের কথা চিন্তা করেই আমরা ‘এনসিসি ব্যাংক এনআরবি গৃহ ঋণ এবং এনসিসি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ঋণ’ নামে দুটি সেবা চালু করেছি। এ ছাড়া ‘মাইক্রো এটিএম’ নামে আমাদের গ্রাহকরা বিভিন্ন আউটলেটে পস মেশিন থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।“

২০২১ সালে এনসিসি ব্যাংক ৭০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে জানিয়ে এমডি মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘দেশব্যাপী ১২৫টি পূর্ণাঙ্গ শাখা এবং ছয়টি উপশাখার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাহকসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। আগামী দিনে দেশের শীর্ষ পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এনসিসি ব্যাংককে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

শেয়ারবাজারে এনসিসি ব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এনসিসি ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনসিসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড দেশের পুঁজিবাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে ভূমিকা রাখছে।

‘আমরা শুধু মুনাফায় বিশ্বাসী না। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিগত বছরগুলোতে আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সিএসআর কার্যক্রম আরও বেশি সম্প্রসারিত করেছি। সারা দেশে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু ও করোনা মোকাবিলায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করেছি।’

ব্যাংকের খেলাপি ও মন্দ ঋণের আকার কমিয়ে আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে দাবি করে মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমেও ব্যাংকের পাওনা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’

রেমিট্যান্স সম্পর্কে ব্যাংকের এমডি বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা নিরাপদ, দ্রুততম ও সহজতম উপায়ে দেশে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এনসিসি ব্যাংক নিজস্ব ১২৫টি শাখা এবং ছয়টি উপশাখার পাশাপাশি টিএমএসএসের ৯০০টি শাখা, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ২৫৬ শাখা, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ২৫০টি শাখা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৮৯টি শাখা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৩৮৩টি শাখা তথা মোট ১ হাজার ৮৭৮টি শাখার মাধ্যমে রেমিট্যান্সের অর্থ প্রদান করছি।’

ব্যাংকের এমডি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ মোতাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বেতনের চারটি গ্রেড কমিয়ে একটি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার উন্নতির জন্য অফিসার পর্যায়ে তিনটি পদ কমিয়ে দুটি করেছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি বছরের মার্চ শেষে এনসিসি ব্যাংকের আমানত ১৯ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। ঋণ দিয়েছে ১৯ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। বিনিয়োগ ৪ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মন্দ ঋণের হার ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার নাইমুল কবির, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আশেক রহমান, মাহবুব আলম, রাহাত উল্লা খান, জাকির আনাম ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মশালা
আরটিজিএসে যুক্ত হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান
প্রবাসীদের বিদেশি মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ
ইস্টার্ন ব্যাংকের জরিমানা মওকুফের আবেদন নাকচ
ইসলামী ব্যাংকের ঈদ পুনর্মিলনী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Actor Ilyas Kanchan has joined Vista

ভিসতায় যোগ দিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

ভিসতায় যোগ দিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন
ভিসতায় যোগ দেয়ার মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নাম লেখালেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এর আগে তিনি ওয়ালটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এবার যোগ দিলেন ভিসতা ইলেকট্রনিকসে। উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

‘গ্র্যান্ড রিসিপশন টু ইলিয়াস কাঞ্চন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভিসতা ইলেকট্রনিকসের চেয়ারম্যান সামছুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেন আকাশ, পরিচালক প্রকৌশলী মইনুল হক, উদয় হাকিম, এইচভ্যাকের পরিচালক প্রকৌশলী শহীদ উল্লাহ, ভিসতার হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং তানভীর জিহাদ প্রমুখ।

ভিসতায় যোগ দেয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের নাম লেখালেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এর আগে তিনি ওয়ালটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এবার তিনি ভিসতায় এলেন উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে। তিনি নিরাপদ সড়ক চাই নামের একটি সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত।

চলচ্চিত্র, মানুষের জন্য সামাজিক আন্দোলন, পণ্যের প্রচার-প্রসার সব ক্ষেত্রেই তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি সফল হবেন বলে ভিসতা পরিবারের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে ভিসতা ইলেকট্রনিকসের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চনের অন্তর্ভুক্তিতে ভিসতা টিম আরো শক্তিশালী হলো। ভিসতা পণ্যের প্রসারে ইলিয়াস কাঞ্চন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সেক্টরের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।’

ভিসতার ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেন আকাশ বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিকস সেক্টরে আমাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন। এই সেক্টরের বিকাশে তিনি শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। দেশি ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্রসারেও তার অবদান রয়েছে। এবার একসঙ্গে কাজ করে ভিসতাকে আমরা দেশের নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই।’

ভিসতার পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, ‘সারা বিশ্বে ইলেকট্রনিকস শিল্প একটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং পরিবর্তনশীল খাত। ভিসতা মেধা ও পেশাদারি দিয়ে এই চ্যালেঞ্জের ফসল নিজেদের ঘরে তুলতে চায়। ভিসতার মূলশক্তি এর অভিজ্ঞ ম্যানেজমেন্ট টিম। ইলিয়াস কাঞ্চন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে দেশীয় ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড জনপ্রিয় করার কাজ করেছেন। তিনি যোগ দেয়ায় ভিসতার শক্তি অনেক গুণ বাড়ল।’

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি সব সময় লড়াকু মানুষ। সব ক্ষেত্রে সৎ এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। সস্তা গ্রাহকপ্রিয়তা নয়, ভিসতার লক্ষ্য উচ্চমানের পণ্যসেবা দেয়া। সব শ্রেণির গ্রাহকের কাছে ভিসতা তার সেরা ইমেজ তুলে ধরতে চায়। আমার বিশ্বাস পণ্যের মান যদি সেরা হয় গ্রাহক ভিসতাকেই বেছে নেবে।’

২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভিসতার যাত্রা শুরু। ভিসতা শব্দের অর্থ দূরদর্শী। এর ভাবার্থ সাফল্যের সিঁড়ি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে ভিসতা ইলেকট্রনিকস পণ্যের কারখানা স্থাপন করেছে। সেখানে অ্যান্ড্রয়েড এবং বিভিন্ন ধরনের টিভি উৎপাদন চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং এসি উৎপাদন কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর স্মার্ট রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে যাবে ভিসতা।

এ ছাড়া মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, বিভিন্ন ধরনের মনিটর, ভিডিও ওয়াল, ডিজিটাল সাইনেজ, ডিজিটাল হোয়াইট বোর্ড, রাউটার, ল্যাপটপ, স্মার্ট মিরর, মেডিক্যাল ডিসপ্লে, ভিআরএফ এসি, এক্সেসরিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য বাজারজাত করবে ভিসতা।

আরও পড়ুন:
ছিল প্রেমের গুঞ্জন, রোজিনার উল্টোপথে হাঁটতেন কাঞ্চন
২২ দফা ইশতেহার কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের

মন্তব্য

উপরে