× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
MP Ekrams hammer beating for going to Iftar
hear-news
player
print-icon

এমপি একরামের ইফতারে যাওয়ায় ‘হাতুড়িপেটা-হামলা’

এমপি-একরামের-ইফতারে-যাওয়ায়-হাতুড়িপেটা-হামলা--
বাটইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়ে কটূক্তি করার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে এসব ঘটনা ঘটাতে পারে। আমার লোকজন এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত নয়।’
নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ইফতারে যাওয়ায় এক যুবককে হাতুড়িপেটা ও কয়েকজনের বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সহিদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি মিলনায়তনে বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযাগ করা হয়।

এ সময় বলা হয়, ১৭ এপ্রিল থেকে কয়েক দফায় কবিরহাটের বটইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটেছে।

বাটইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইমাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কবিরহাটের গ্রামের বাড়িতে ইফতারের দাওয়াতে যান তিনি। এর জেরে বাটইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন শাহীনের লোকজন তাকে হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। হাতুড়ির আঘাতে তার মাথা ফেটে যায়। এখনও তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
মনোয়ারা বেগম নামে আরেকজন জানান, তার ছেলে এমপির ইফতারে যাওয়ায় তার বসতঘর লাগোয়া দোকানে আগুন দিয়েছে চেয়ারম্যান শাহীনের লোকজন। এ ঘটনায় কবিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তবে বাটইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন শাহীন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়ে কটূক্তি করার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে এসব ঘটনা ঘটাতে পারে। আমার লোকজন এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত নয়।’

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, একটি এজাহার দেয়া হলেও পরে তা ফেরত নেয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
হিন্দু পরিবারে হামলা: আমরবুনিয়া গ্রামে আতঙ্ক
সাউথ ক্যারোলাইনায় শপিং সেন্টারে গুলি, আহত অন্তত ১৪
জাপার ইফতারে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে নিমন্ত্রণ
মিরপুরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে পাথওয়ের ইফতার বিতরণ
বর্ষবরণে হামলার আসামি শফিকুর কারাগারে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Boyfriend sentenced to 5 years in prison for inciting suicide

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: ৫ বছর করাগারে থাকবেন প্রেমিক

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: ৫ বছর করাগারে থাকবেন প্রেমিক
আইনজীবী জানান, ২০১৫ সালের ১৯ মে সকালে মাধব ফোনে বিথীকে জানায় চাপে পড়ে তিনি বিয়েতে রাজি হয়েছেন। বিয়ের পর বিথীকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। তিনি বিথীকে আত্মহত্যা করতে বলেন। এই ফোন পাওয়ার পর বিথী কান্নাকাটি শুরু করে এবং নিজ ঘরে দরজা বন্ধ করে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় প্রেমিকের ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খালাস দেয়া হয়েছে ৮ জনকে।

রায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক সাউদ হাসান বুধবার দুপুরে এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস আকবর খান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৩৩ বছর বয়সী দণ্ডিত ওই ব্যক্তির নাম মাধব চন্দ্র পাল। তার বাড়ি টাঙ্গাইল পৌরসভার এনায়েতপুর এলাকায়।

এজাহারে বলা হয়, মাধব পালের সঙ্গে প্রতিবেশী সত্যরঞ্জন পালের মেয়ে ও সদর হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী বিথী রানী পালের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে মাধব তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ২০১৫ সালের ১৫ মে বিথী ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার পর সুস্থ্য হয়ে উঠলে এলাকায় সালিশ বৈঠকে মাধবের সঙ্গে তার বিয়ের দিন ঠিক হয়।

তবে ২০১৫ সালের ১৯ মে সকালে মাধব ফোনে বিথীকে জানায় চাপে পড়ে তিনি বিয়েতে রাজি হয়েছেন। বিয়ের পর বিথীকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। তিনি বিথীকে আত্মহত্যা করতে বলেন। এই ফোন পাওয়ার পর বিথী কান্নাকাটি শুরু করে এবং নিজ ঘরে দরজা বন্ধ করে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

এ ঘটনার পর বিথীর বাবা বাদী হয়ে ওই দিনই মাধব, তার বাবা সুশীল পাল, মা আলো রানী পালসহ নয়জনকে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আতাউর রহমান আজাদ বাদীকে আইনি সহায়তা দেন।

রায় ঘোষণার পর মাধব পালকে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বৃদ্ধের ১০ বছরের কারাদণ্ড
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ
‘প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা’
বাসচাপায় নিহত: চালকের ৯ বছরের কারাদণ্ড
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher Ibrahim made the bridge with drum bamboo

ড্রাম, বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানালেন শিক্ষক ইব্রাহীম

ড্রাম, বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানালেন শিক্ষক ইব্রাহীম ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত সাঁকোয় চলাচল করছেন গ্রামবাসী। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষক ইব্রাহীম বলেন, ‘আমার বাড়ি নদীর পশ্চিম এলাকায় আর স্কুল নদীর পূর্বে। প্রতিদিন বহু মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ভয়ে যাতায়াত করে। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাওয়ার জন্য আলাদা পোশাক সঙ্গে নিতে হয়। স্কুলে গিয়ে তারা পোশাক পরিবর্তন করে ক্লাস করে। আমি নিজেও লুঙ্গি ব্যাগে করে নিয়ে যাই। এগুলো আমার খুব খারাপ লাগে। তাই মনে মনে চিন্তা করলাম ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করলে মানুষের যাতায়াত করা একটু সহজ হবে।’

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের শালমারা এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে সতী নদী। গ্রামবাসীর পারাপারের জন্য নদীতে সেতু থাকলেও তা ভেঙে গেছে আগেই। সেই থেকে শুরু দুর্ভোগের।

বুক-সমান পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে পার হতে হয় গ্রামবাসীকে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছেন এক শিক্ষক। ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকো তৈরি করে গ্রামবাসীর দুঃখ লাঘব করেছেন তিনি।

ওই শিক্ষকের নাম ইব্রাহীম আলী। তিনি শালমারা ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

সাঁকো তৈরির নেপথ্যে

শিক্ষক ইব্রাহীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নদীতে ব্রিজ ছিল, কিন্তু ভেঙে যায় নিম্নমানের কাজের কারণে। তখন থেকে শুরু হয় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্রিজটি সম্পর্কে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। ভাঙার পর থেকে মানুষের খুবই অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

‘আমার বাড়ি নদীর পশ্চিম এলাকায় আর স্কুল নদীর পূর্বে। প্রতিদিন বহু মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ভয়ে যাতায়াত করে। ছাত্রছাত্রীদের স্কুল যাওয়ার জন্য আলাদা পোশাক সঙ্গে নিতে হয়। স্কুলে গিয়ে তারা পোশাক পরিবর্তন করে ক্লাস করে। আমি নিজেও লুঙ্গি ব্যাগে করে নিয়ে যাই। এগুলো আমার খুব খারাপ লাগে। তাই মনে মনে চিন্তা করলাম ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করলে মানুষের যাতায়াত করা একটু সহজ হবে।’

ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘সেই চিন্তা থেকে ২০টি ড্রাম ও প্রায় ১০০ বাঁশ দিয়ে পানির ওপর ভাসমান ৫০ ফুট সাঁকো তৈরি করি। এতে দুই গ্রামের প্রায় ১৫-১৬ হাজার মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারবে।’

ড্রাম, বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানালেন শিক্ষক ইব্রাহীম
সাঁকো পার হচ্ছে স্কুলছাত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

কী বলছেন গ্রামবাসী

নওদাবাস দাখিল মাদ্রাসার সুপার রুহুল আমিন বলেন, ‘শালমারা ঘাটে একটি ব্রিজ ছিল, সেটি হঠাৎ ভেঙে যায়। ভাঙার পর থেকে মানুষের খুবই অসুবিধা হয়। এখন সাঁকো দেয়ায় আমরা সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারব।’

কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘প্রতিদিন নদী দিয়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীসহ বহু মানুষ যাতায়াত করি। এত দুর্ভোগের পরও কেউ দেখতে আসেনি। এক বুক পানি পার হয়ে চলাচল করছি। এই রোড দিয়েই হাট-বাজারসহ কালীগঞ্জ, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করতে হয় আমাদের। স্যার ড্রামের ওপর ভাসমান ব্রিজ তৈরি করায় অনেক ভালো হয়েছে।’

একই এলাকার সাংবাদিক আব্দুল আলিম বলেন, ‘মৃতপ্রায় সতী নদী বর্ষকাল এলে প্লাবিত হয়, আবার খরার সময়ও পানি থাকে। এখানে একটি ব্রিজ ছিল, সেটি ভেঙে যায়। চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে এই নদীতে বয়ে গেছে। এই নদীর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারও মানুষের চলাচল।

‘এ এলাকার প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছে মানুষের যাতায়াতের জন্য। এখানে ২০টি ড্রামের ওপর বাঁশ দিয়ে ব্রিজটি করেছে। যেটি ভাসমান অবস্থায় থাকবে। যখন পানি বাড়বে তখন ভাসবে, আর যখন পানি কমবে তখন নিচে নামবে। এটি ভালো উদ্যোগ।’

ভিক্ষুক মজিবর বলেন, ‘আমার খুব দুঃখ। চোখে দেখতে পারি না। একটা ব্রিজ দিছে তাও ভাঙি গেইছে বন্যায়। এখন আপনাদের কাছে আমার আবেদন- একটা বড় ব্রিজ করি দেন। আমাদের গরিব-দুঃখীর খুব কষ্ট হইছে।’

কলেজশিক্ষার্থী সজল বলে, ‘সাইকেল ঘাড়ে করে এক বুক পানি পার হয়ে এলাম। ব্রিজটি ভাঙার পর দুর্দশায় ভুগছি। এখানে দেখার কেউ নেই। চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ দেখেও না। আমরা খুব কষ্ট করে নদী পার হয়ে যাতায়াত করছি স্কুল-কলেজে।’

কবে পুনর্নির্মাণ হবে সেতু

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সতী নদীর ওপর আগে একটি ব্রিজ ছিল, সেটি ভেঙে যায়। এতে এলাকার মানুষের একটু অসুবিধা হলেও বৃষ্টির কারণে নদীতে পানি বেশি হওয়ায় কাজ শুরু করেতে পারিনি। ব্রিজের টেন্ডার হয়েছে। পানি কমলে কাজ শুরু হবে।’

আরও পড়ুন:
নৌকাই সাঁকো
১০ গ্রামের মানুষের দুঃখ একটি বাঁশের সাঁকো
অর্ধেক তার সেতু, অর্ধেক তার সাঁকো
উজানের ঢলে ভাঙল ১৫ গ্রামের ভরসার সাঁকো

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dehydration and diarrhea are on the rise

পানি কমছে, বাড়ছে ডায়রিয়া ও চর্মরোগ

পানি কমছে, বাড়ছে ডায়রিয়া ও চর্মরোগ
সিলেটের সিভিল সার্জন এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘বন্যার কারণে পানিবাহিত রোগ বেড়েছে। আমাদের হিসাবে এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় সাড়ে ৪০০ লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি চর্মরোগে ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন আরও কয়েকজন। গোয়াইনঘাট উপজেলায় রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে।’
সালেক মিয়ার পায়ে ঘা হয়ে গেছে। তাতে খুব চুলকানি হয়। সালেকের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নে। পাঁচ-ছয় দিন পানিতে তলিয়ে ছিল তার বাড়ি। তবু বাড়ি ছেড়ে যাননি। পানিতে থাকতে থাকতেই পায়ে ঘা হয়ে গেছে তার।
সালেক বলেন, ‘কেবল আমার নয়, আমাদের বাড়ির আরও কয়েকজনের এমন হয়েছে, বাচ্চাদের হাতে-পায়ে ফোঁড়া উঠেছে। তাতে চুলকানি লেগেই থাকে।’
নগরের ছড়ারপাড় এলাকার একটি বস্তিতে থাকেন সুনাফর আলী। তার চার সদস্যের পরিবারের সবার ডায়রিয়া।
সুনাফর আলী বলেন, ‘এই কদিনে পচা পানির মধ্যে ছিলাম। খাওয়ার পানিও পাইনি। এখন পানি নামলেও বাসার সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’
সিলেটে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে বাড়তে শুরু করেছে পানিবাহিত রোগ। বেশির ভাগই ডায়রিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পানি কমলে রোগবালাই আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। তবে আক্রান্ত বেশির ভাগই এখন পর্যন্ত বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ এখনও তেমন বাড়েনি।
আক্রান্তরা বাসায় চিকিৎসা নেয়ায় রোগীর সঠিক তথ্যও নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। নগরের অনেকে আক্রান্ত হলেও সিটি করপোরেশনের কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বন্যাপরবর্তী রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জেলায় ১৪০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে সিভিল সার্জন অফিস। আর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরে গঠন করা হয়েছে আরও তিনটি মেডিক্যাল টিম।
সিলেটের সিভিল সার্জন এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘বন্যার কারণে পানিবাহিত রোগ বেড়েছে। আমাদের হিসাবে এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় সাড়ে ৪০০ লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি চর্মরোগে ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন আরও কয়েকজন। গোয়াইনঘাট উপজেলায় রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে।


পানি কমছে, বাড়ছে ডায়রিয়া ও চর্মরোগ

‘পানিবাহিত রোগ যাতে না ছড়াতে পারে এ জন্য আমাদের মেডিক্যাল টিম ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়ও কাজ করছে। তবে বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।’
কোন উপজেলায় কতটি মেডিক্যাল টিম কাজ করবে তাও পরিষ্কার করেছেন এই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সিলেট সদরে ১০টি, দক্ষিণ সুরমায় ৮টি, বিশ্বনাথে ১১টি, ওসমানীনগরে ৯টি, বালাগঞ্জে ৭টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১০টি, গোলাপগঞ্জে ১৬টি, বিয়ানীবাজারে ১৬টি, জকিগঞ্জে ১০টি, কানাইঘাটে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ১০টি, জৈন্তাপুরে ১১টি এবং কোম্পানীগঞ্জে ৭টি মেডিকেল টিম থাকছে। এর বাইরে জেলা সদরে ৩টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।’
‘এসব দলে চিকিৎসক ছাড়াও নার্সসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন। প্লাবিত এলাকার সবখানেই যেন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেডিক্যাল টিমকে নির্দেশনা দেয়া আছে।’
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আবুল কালাম আজাদ, ‘পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধির শঙ্কা থাকে। তবে এ জন্য আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।’


পানি কমছে, বাড়ছে ডায়রিয়া ও চর্মরোগ

তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের জন্য নগরের শাহী ঈদগাহ এলাকায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, একই সঙ্গে নগরের রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিলেট সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
পচা ও দুর্গন্ধ যুক্ত পানি কারণে চর্মরোগ ও ডায়রিয়া বেশি ছড়াতে পারে জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে তিনটি মেডিক্যাল টিম মাঠে আছে, প্রয়োজনে আরও গঠন করা হবে। এ ছাড়া নগরে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিউজবাংলা বলেন, ‘পানি পুরো নেমে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা শাখার দল গঠন করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গ নিধনের জন্য ওষুধ ছিটানো এবং ময়লা দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে বানের জলে ১৯ হাজার খামারের মাছ
৬ দিন পর সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার নিচে পানি
ফের বাড়ছে সুরমার পানি
মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ি, পুলিশের ‘লাঠিপেটা’
সুনামগঞ্জে পানি কমলেও কাটেনি শঙ্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Brick khoya on school grounds This time the headmaster is in jail

স্কুলমাঠে ইটের খোয়া: এবার কারাগারে প্রধান শিক্ষক

স্কুলমাঠে ইটের খোয়া: এবার কারাগারে প্রধান শিক্ষক
গত ২৪ মার্চ ওই স্কুলের ছাত্র অভিভাবক মো. সিরাজুল ইসলাম গোপালগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলাটি করেছিলেন।

সাম্প্রতিক অভিযোগটি হলো, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে ভাড়া দিয়ে নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। আর সেই টাকা গ্রহণ করেছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

এবার সেই প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে স্কুলের অর্থ আত্মসাতের আরেকটি মামলায় বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ২৪ মার্চ ওই স্কুলের ছাত্র অভিভাবক মো. সিরাজুল ইসলাম গোপালগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেছিলেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালের ১৩ জুন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও সভাপতি হান্নান মোল্লা ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিদ্যালয়ের জনতা ব্যাংক, কোটালীপাড়া শাখার সঞ্চয়ী হিসাব থেকে চেকের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

অর্থ আত্মসাতের সেই মামলাটিতে জামিনে ছিলেন বান্ধাবাড়ী জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রশিদ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হান্নান মোল্লা। বুধবার তারা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে কোটালীপাড়া আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুশ্রী রায় তাদের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে ওই স্কুলের মাঠ অবৈধভাবে ভাড়া দেয়ার সত্যতা যাচাই করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদাউস ওয়াহিদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
স্কুলের পরিত্যক্ত ঘর ধসে ৪ শিশু আহত
প্রবেশ পথে বেড়া, বন্ধ হওয়ার পথে স্কুল
পা দিয়ে লেখে সে, কৃত্রিম হাত পেলে কমত কষ্ট
রোজায় স্কুল-কলেজে ক্লাস কমল ছয় দিন
‘স্কুলের বেঞ্চ কেটে’ চায়ের দোকানের লাকড়ি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Residents of Namal area on the road of Municipal Councilor occupying the field

মাঠ দখল পৌর কাউন্সিলরের, রাস্তায় নামল এলাকাবাসী

মাঠ দখল পৌর কাউন্সিলরের, রাস্তায় নামল এলাকাবাসী
পৌর মেয়র আলহাজ মাহমুদ আলম লিটন বলেন, ‘এলাকাবাসীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পৌর কাউন্সিলর মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে খেলার মাঠ দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ মাঠটিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী চড়ক মেলারও আয়োজন করা হতো। মাঠটি দখলমুক্ত করতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

বুধবার দুপুরে মাঠ দখলের প্রতিবাদ জানিয়ে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চাঁদপাড়া গ্রাম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শতাধিক শিশু-কিশোরসহ স্থানীয় অনেক নারী-পুরুষ।

মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন করেন প্রতিবাদকারীরা। মানববন্ধন শেষে খেলার মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়ে ইউএনও এর কাছে গণস্বাক্ষর করা একটি লিখিত অভিযোগ দেন তারা।

মাঠ দখল পৌর কাউন্সিলরের, রাস্তায় নামল এলাকাবাসী

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার চাঁদপাড়া এলাকায় ছোট যমুনা নদীর তীরসংলগ্ন সুজাপুর মৌজার ১৮১৫ দাগের সম্পত্তিটি সরকারি এবং এসএ খতিয়ানে তা জনসাধারণের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জায়গাটিকে বছরের পর বছর ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছে স্থানীয়রা। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলাও অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। কিন্তু ওই এলাকার পৌর কাউন্সিলর মাজেদুর প্রভাব খাটিয়ে নিজের সম্পত্তি দাবি করে মাঠটি দখল করে নিয়েছেন।

এর আগে মাঠটি উদ্ধারে চাঁদপাড়া এলাকাবাসী পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। তাই বাধ্য হয়ে মাঠ উদ্ধারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে নেমেছেন তারা।

মাঠ দখল পৌর কাউন্সিলরের, রাস্তায় নামল এলাকাবাসী

মানববন্ধনে অংশ নেয়া স্থানীয় সুমন, লুৎফর, মৃদুলসহ এলাকাবাসী জানান, তারা অনেক বছর ধরে ওই মাঠটিতে খেলাধুলা করে আসছেন। এ ছাড়া তাদের আর কোনো মাঠ নেই। ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাজেদুর হঠাৎ করেই মাঠটি দখলে নিয়ে খেলার পরিবেশ নষ্ট করেছেন। তাই খেলার মাঠটি উদ্ধারে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।

এদিকে পৌর কাউন্সিলর মাজেদুর রহমান বলেন, ‘দখল নেয়া জায়গাটি আমার বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি; যার দাগ নম্বর ১৮১৬। আমি কারও জায়গা দখল করিনি। এলাকাবাসীর দাবি করা জমিটি ১৮১৫ দাগের। সেই অনুযায়ী তাদের জমি আলাদা।’

এ বিষয়ে পৌর মেয়র আলহাজ মাহমুদ আলম লিটন বলেন, ‘এলাকাবাসীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

অভিযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও।

আরও পড়ুন:
আপাতত থানা নয় তেঁতুলতলায়
খেলার জায়গা দরকার, থানাও প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তেঁতুলতলা নিয়ে আন্দোলন বড় হচ্ছে
প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকার
স্টেডিয়ামে আর বসবে না বাঁশের হাট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mango unloading festival has started in Naogaon

নওগাঁয় শুরু হয়েছে আম নামানোর ‘উৎসব’

নওগাঁয় শুরু হয়েছে আম নামানোর ‘উৎসব’ গুটিজাতের আম নামানো শুরু হয়েছে নওগাঁয়। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে চাষিরা গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জেলায় আম নামানোর উৎসব শুরু হলো। তবে উন্নত জাতের আমগুলো নামানোর জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করলে ভালো হবে।’

নওগাঁয় চলতি মৌসুমে গুটিজাতের আম নামানো শুরু হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে বুধবার জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো আম কেনাবেচার ‘উৎসব’।

বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম সরবরাহ নিশ্চিতে আগে থেকেই এই সূচি ঠিক করেছিল জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় জাতভেদে আম নামানোর সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়। সভায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ছাড়াও আমচাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় গুটিজাতের আম নামানোর তারিখ ঠিক করা হয় ২৫ মে।

এ ছাড়া গোপালভোগ ৩০ মে ও ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর ৫ জুন, নাগ ফজলি ৮ জুন, ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙ্গা ১২ জুন, ফজলি আম ২২ জুন ও আম্রপালি ২৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সর্বশেষ ১০ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা, বারী-৪ ও গৌরমতি জাতের আম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামছুল ওয়াদুদ বলেন, ‘বাগানমালিক, ব্যবসায়ী, জেলা প্রশাসন সবার সঙ্গে আলোচনা করে আম সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। তারিখ অনুযায়ী আম সংগ্রহ করতে জেলাজুড়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। পরিপক্ব ও ক্ষতিকারক কেমিক্যালমুক্ত আম খাওয়াতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে চাষিরা গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জেলায় আম নামানোর উৎসব শুরু হলো।’

উন্নত জাতের আমগুলো নামানোর জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করলে ভালো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে যদি কোনো বাগানের আম পেকে যায়, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে চাষিরা আম পাড়তে পারবেন।’



নওগাঁয় শুরু হয়েছে আম নামানোর ‘উৎসব’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে নওগাঁর আমের খুব সুনাম রয়েছে। এ জন্য কয়েক বছর থেকে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আম পাকানো, সংরক্ষণ বা বাজারজাতে কেমিক্যালের ব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি রয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ফলন ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৫০ টন। আশা করা হচ্ছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ টন আম উৎপাদন হবে। যার বিক্রয় মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৪২ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে বিদেশে আম রপ্তানির জন্য কয়েকজন আমচাষিকে প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ আম প্রস্তুতের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। তাদের বাগান থেকেই আম ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, দুবাই, কাতার, সুইডেন ও ওমানে রপ্তানি করা হবে।

আরও পড়ুন:
ফজলি নিয়ে রাজশাহী-চাঁপাই লড়াই
নওগাঁর আমের ১৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা
কবে আসছে আমিরের ‘লাল সিং চাড্ডা’র ট্রেলার
আ.লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আমুর
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rape case in the name of the deputy director of the Islamic Foundation

ইসলামিক ফাউ‌ন্ডেশ‌নের উপ-পরিচালকের নামে ধর্ষণ মামলা

ইসলামিক ফাউ‌ন্ডেশ‌নের উপ-পরিচালকের নামে ধর্ষণ মামলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক (ডিডি) মীর মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত তাদের শারীরিক সম্পর্ক চলে। পরে বিয়ের জন্য ওই নারী চাপ দিলে ডিডি অস্বীকৃতি জানান ও বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশ করা হবে বলে হুমকি দেন।

বান্দরবান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক (ডিডি) মীর মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহের নামে ধর্ষণের মামলা করেছেন এক নারী।

তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে নেয়ার পর বিয়ে এড়িয়ে যান ডিডি। এ কারণে গত সোমবার জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলার আবেদন করেন ওই নারী।

সেদিনই বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মামলা আমলে নিয়ে বান্দরবানের ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এসব তথ্য বুধবার জেলার সংবাদকর্মীরা জানতে পারেন। পরে বাদীর আইনজীবী দিপঙ্কর দাশ গুপ্ত তা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ডিডি নেয়ামতের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯ (১) ধারা ও দণ্ডবিধির ৫০৬ (২) ধারায় মামলা হয়েছে।

এজাহারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, অভিযোগকারী নারী বান্দরবা‌ন ইসলামিক ফাউ‌ন্ডেশ‌নের ইসলামিক মিশনের আওতায় সেলাই প্রশিক্ষক হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে চাকরি করছেন। ২০১৯ সালে ডিডি নেয়ামতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় ডিডি তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত তাদের এই সম্পর্ক চলে। পরে বিয়ের জন্য ওই নারী চাপ দিলে ডিডি অস্বীকৃতি জানান ও বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশ করা হবে বলে হুমকি দেন। নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে ওই নারী মামলার সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে ডিডি নেয়ামত বলেন, ‘আমার কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মচারীর যোগসাজশে আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করতে ওই নারী আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। যেহেতু মামলা হয়েছে, সেহেতু আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি আদালতে নিস্পত্তি করা হবে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলার কপি এখনও পাননি। হাতে পেলে তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মন্তব্য

p
উপরে