বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে একটা সময়ে জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষয়িষ্ণু প্রবণতা তৈরি হয়। সেই অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে টেনে তুলতে চারটি মৌলিক নীতি-কৌশল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এগুলো হলো- সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, প্রণোদনা প্যাকেজ গঠন ও বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং অর্থের যোগান বাড়ানো।
সরকারের নেয়া সেসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সুফল অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আর এর ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনীতির সব সূচকেই স্বস্তি দেখছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ইতোমধ্যে ৯ মাস পার হয়ে গেছে। এই সময়ে রাজস্ব আয়, রপ্তানি, রিজার্ভ, রেমিটেন্স, আমদানি, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পজাত কাঁচামালের ঋণপত্র খোলার হার, বেসকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার, কৃষি ঋণ বিতরণ এবং সরাসরি বৈদেশিক নিট বিনিয়োগে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উন্নতি ঘটেছে।
অর্থনীতির মানদণ্ড নির্ধারক এসব সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে মনে করছে সরকার। বলা হচ্ছে, এর ওপর দাঁড়িয়ে দেশ দ্রুতই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির কাতারে ফিরতে সক্ষম হবে।
সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশনের কাউন্সিলের দ্বিতীয় বৈঠকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত থেকে দেশের অর্থনীতি এভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
সূত্রমতে, রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৈঠকে দেশের অর্থনীতির সার্বিক চালচিত্রের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরাসহ সেই আলোকে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট কেমন হতে পারে তারও একটি সম্ভাব্য রূপরেখা অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হালনাগাদ পাওয়া তথ্য-উপাত্ত এটাই স্পষ্ট করছে যে, রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিকে কাবু করতে পারেনি। বরং করোনায় ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে সরকার যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে তা রুগ্ন দশা কাটিয়ে চলমান অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করেছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, চলমান অর্থনীতির এই মজবুত অবস্থান অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতির ঝুঁকি থেকেও সরকারকে দুশ্চিন্তামুক্ত রেখেছে। তবে আগামীতে রিজার্ভ ব্যবহারে সতর্ক হবে সরকার। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে দেশের অর্থনীতি সব ধরনের আশঙ্কামুক্ত থাকবে।
কেন এই স্বস্তি
কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার ২০২১-২২ অর্থবছরের সার্বিক অর্জন সংক্রান্ত একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে অর্থসচিব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলার চেষ্টা করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সবদিক বিবেচনায় খুবই ভাল অবস্থানে রয়েছে দেশের অর্থনীতি।
অর্থ সচিবের উপস্থাপিত তথ্যমতে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। এটা চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার ৫৬ দশমিক ১১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এই অর্জন ছিল ৫৫ দশমিক ০৩ শতাংশ।
সরকারি ব্যয়েও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই সময়ে সরকারি ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। এটা বাজেটে মোট সরকারি ব্যয়ের ৩৭ দশমিক ৫৬ শতাংশের সমান। আগের বছর একই সময়ে এই ব্যয় হয়েছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৩১০ কোটি টাকা।
ঘাটতি পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। গত আট মাসে বাজেট ঘাটতি মাত্র চার হাজার কোটি টাকা, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম।
এডিপি বাস্তবায়ন ব্যয়ও আগের বছরের তুলনায় বেশি। এই সময়ে মোট এডিপি ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপি বাস্তবায়নের ৩৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৭২ হাজার ৬০৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
প্রবৃদ্ধি ঘটেছে বেসরকারি খাতে ঋণ চিত্রেও। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। গত অর্থবছরে এর হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।
কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ১৩ হাজার ৪৩৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ, যা আগে ছিল ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
অর্থবছরের ৯ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটা ৩৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। এছাড়া জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত মাসের আমদানি হিসাবের (সিঅ্যান্ডএফ) ব্যয় হয়েছে ৪২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৫২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের। যেখানে মূলধনী যন্ত্রপাতির ঋণপত্র খোলা হয় ৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার এবং শিল্পজাত কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খোলা হয় ১৯ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের।
অন্যদিকে সরাসরি বৈদেশিক নিট বিনিয়োগ এসেছে ৮৭ কোটি ডলারের।
এছাড়া গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের।
অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, চাহিদার দিক থেকে প্রবৃদ্ধির সঞ্চালক সূচকগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি, কৃষি ঋণ বিতরণ ও সার্বিক ঋণপত্র খোলা, শিল্প জাত কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খোলার মতো অর্থনীতির এই উল্লেখযোগ্য সূচকগুলোর ইতিবাচক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র খোলা, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দ্বারা বিরাজ করছে। এটা আগামী মেয়াদে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে।
তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা বিরাজ করছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে ১২ মাসের গড়ভিত্তিক সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এটা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি শেষে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় এখন এই মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে কৌশলী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করবে। এজন্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বন্ধ করা হবে বিলাসী ও অযাচিত পণ্যের আমদানি।
যে কারণে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে থাকবে দেশ
কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে মতামত তুলে ধরে বলা হয়, দেশে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়, যার সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
আমদানি-রপ্তানির ইতিবাচক প্রবাহ আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে সার্বিক কর্মসংস্থান বাড়বে।
সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সংবলিত ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে শিল্প খাত বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সেবা খাতে চাঙ্গা ভাব অব্যাহত থাকবে।
গ্রামীণ অর্থনীতির কর্মকাণ্ডে গতির সঞ্চার ঘটবে, যা উচ্চতর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে।
কৃষি খাতে প্রণোদনা, কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এর স্বল্প সুদে ঋণ/ভর্তুকির ফলে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
এসব কিছুর সুফল সমন্বিতভাবে দেশকে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে। যেমন হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছর-পূর্ববর্তী সময়ে।
নবম জাতীয় পে-স্কেলের নানা বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভা ডেকেছে পে-স্কেল নিয়ে গঠিত সচিব কমিটি। এই সভায় চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি, গেজেট প্রকাশ, কয় ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সচিব কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হলেও এটি দুই ধাপে করা যায় কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমন আলোচনা এসেছে। দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে আগামী ১ জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধি পাবে।
সূত্রের তথ্য বলছে, শুধু বেসিকের বিষয়টিই নয়; সচিব কমিটির সভায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু কার্যকর করা হবে অর্থা পে-কমিশন বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছিল তার কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা কত টাকা বৃদ্ধি করা হবে সেটিও আলোচনা করা হবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সচিব কমিটির সভা রয়েছে। সভায় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বেসিকের ৫০ শতাংশ নাকি শতভাগ বৃদ্ধি পাবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও টাকা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সচিব কমিটির সভায় অনেক কিছুই চূড়ান্ত হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।’
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ওপর বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণদাতাদের অতীতের ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। এর বড় অংশই গেছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপানের কাছে। অন্যদিকে প্রতিবেদন সূত্রে দেখো গেছে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই-মে মাসের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই ১১ মাসে আগের নেয়া ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে, যা বিদেশি ঋণ শোধে নতুন রেকর্ড। এ ছাড়া টাকার হিসাবে ওই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা অর্থাৎ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি শোধ করতে হয়েছে। জুলাই-মে সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে প্রায় ৪৫৮ কোটি ডলার।
গত কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। এবার ১১ মাসেই এর চেয়ে বেশি শোধ করল বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ শোধের পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।
ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণের আসল ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ও সুদ ১৪৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ৪২২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।
গত ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া। রাশিয়া ৯৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪৩ কোটি ডলার।
সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও অর্থ নেয়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়।
জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়াসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া। এ ছাড়া একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ব্যাপক পরিমাণ ভাইরাল হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় শফিক নজরুল নামের এক আইনজীবীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা এই মামলার পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দায়ের করা পৃথক আরেকটি প্রতারণা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শেরেবাংলা নগর থানার সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বার কাউন্সিলের প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও মঞ্জুর করেন আদালত।
শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ‘ফেসবুকভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, অর্থ লেনদেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে আদিবার ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়ে আদালত মামলা দায়ের করেন। আমরা আসামি সর্বোচ্চ রিমান্ড আবেদন করি, আদালত আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত শফিক নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘LAW DOCTOR’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় শতভাগ কমন, পরীক্ষায় পাস করানোর নিশ্চয়তা এবং বিশেষ কোচিং সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চটকদার এই বিজ্ঞাপন দেখে অনেক পরীক্ষার্থী যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের নামে অর্থ হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সুবিধা না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বার কাউন্সিলের সনদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একাধিক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার সত্যতা মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি- এমপি বলেছেন, আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি কল্পনা করা যায় না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত “Solar Revolution : Lessons for Bangladesh from National Budget Perspective” শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। সরকার সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে মালয়েশিয়া ও চীন সফরে রয়েছেন। এ সফর দু’টি বাংলাদেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়ে দেশবাসী শিগগিরই সুখবর পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোঃ নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক। সাধারণত চার বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে এসব প্রকল্প থেকে আর্থিক ও পরিবেশগত সুফল পাওয়া যায়।
তিনি দেশের জ্বালানি খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ গণসমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের বিদ্যমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, জনকল্যাণমুখী ও সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমএবি) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটবিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যাংকিং খাতের অনিশ্চয়তা ও আমানতকারীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে চীফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময় এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারী তাঁর জমার পরিমাণ যাই হোক না কেন, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকাই ফেরত পেতেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কেন এ ধরনের আইন করা হয়েছিল এবং কেন জনগণকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?” তাঁর মতে, তৎকালীন সরকার ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” এ খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থ পাচার ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে চীফ হুইপ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থের চাপ সামাল দিতে ডলারের মূল্য ৮২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় উন্নীত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, একদিনেই ডলারের দাম ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ফলে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতির বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে চীফ হুইপ অতীতের বাকশাল শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বাকশালের মাধ্যমে দেশের মৌলিক অধিকার ও বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।” একই সঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।” তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
বাজেটকে কেবল সংখ্যার হিসাব হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে চীফ হুইপ বলেন, “বাজেট নিয়ে আমরা অনেক তাত্ত্বিক আলোচনা করি; কিন্তু সাধারণ মানুষের কান্না থামানো এবং তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেছে। এ সময় তিনি সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কষ্ট লাঘব এবং লুণ্ঠিত সম্পদ পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে গঠনমূলক সমালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে চীফ হুইপ দেশের স্বার্থে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এমএবির সভাপতি সৈয়দ আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং ড. মোঃ শামসুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ. কে. এম. ওয়ারেছুল করিম। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, জুবায়ের আহমেদ বাবুসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
ছবি: সংগৃহীত
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তারা সম্মিলিতভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগকারী ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পদত্যাগকারী ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের তালিকায় রয়েছেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।
মন্তব্য