× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Panic in cow dairy village dying of unknown disease
hear-news
player
google_news print-icon

অজানা রোগে মরছে গরু, দুগ্ধ গ্রামে আতঙ্ক

অজানা-রোগে-মরছে-গরু-দুগ্ধ-গ্রামে-আতঙ্ক
তিলকান্দি গ্রামের সব বাড়িতেই অন্তত একটি হলেও গাভী আছে।
তিলকান্দি দুগ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘৭০-৮০টা গরু ১৫/২০ দিনের মধ্যেই মরে গেল। কী রোগ হইল, আমরা জানতেও পারলাম না। ডাক্তাররা কোনো একটি রোগের নাম বললে আমরা চিকিৎসা তো নিতে পারতাম।’

শেরপুর সদর উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের তিলকান্দি গ্রামের সব বাড়িতেই অন্তত একটি হলেও গাভি আছে। একসময় অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী হলেও এই গাভি পালনের মধ্য দিয়েই গ্রামটির বাসিন্দারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

গ্রামটিতে একে একে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় ২৪৭টি দুগ্ধ খামার। কিন্তু তর্কাসহ অজানা এক রোগে একের পর এক গরুর মৃত্যুতে এখন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

গরুর অসুখ-বিসুখে প্রাণিসম্পদ বিভাগের লোকজনকে ডেকে কোনো সমাধান পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। সাহায্য চাইতে গেলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও।

খামারের মালিকরা দাবি করেছেন, গত এক মাসে তাদের অন্তত ৭০-৮০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে; যার মূল্য প্রায় দুই-তিন কোটি টাকা।

সরজমিনে জানা গেছে, দুগ্ধ গ্রাম হিসেবে পরিচিত ওই গ্রামের এক বাড়িতেই ১৫টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া একটি দুটি করে গরু মরেছে অনেক বাড়িতেই। এই বাড়ির বাসিন্দা মোস্তাফিজুর বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে ১৫টা গরু মারা গেছে এই কয়দিনে। এর মধ্যে আমার নিজেরই তিনটা। ডাক্তার খবর দিলেও ঠিকমতো আসেন না।’

কারও কারও শেষ সম্বল গরুটির মৃত্যু হওয়ায় এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট গরুগুলো নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন দুগ্ধ গ্রামের কৃষকরা। ঋণ করে খামার করায় তা পরিশোধ করতেও রয়েছে দুশ্চিন্তা।

কলেজছাত্র নাজিম মিয়া বলেন, ‘আমি কলেজে পড়ার পাশাপাশি ঋণ নিয়ে দুটি গরু পালতাম। কিন্তু অজানা অসুখে আমার দুইটা গরুই শেষ। এখন ঋণ কেমনে শোধ করব। চিকিৎসার অভাবেই গরুগুলো মরেছে।’

মো. মোক্তার আলী বলেন, ‘আমার ছোট একটা খামার। অনেক কষ্টে খামারটা করেছি। আমার একটা গরু ডাক্তার দেখাইয়া বাসায় নিয়ে আসার পরই মারা গেছে।

মোক্তার জানান, গরুর চিকিৎসককে বাসায় নিয়ে আসতে গেলে তিন/চার হাজার টাকা দেয়া লাগে।

তিলকান্দি দুগ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘৭০-৮০টা গরু ১৫/২০ দিনের মধ্যেই মরে গেল। কী রোগ হইল, আমরা জানতেও পারলাম না। ডাক্তাররা কোনো একটি রোগের নাম বললে আমরা চিকিৎসা তো নিতে পারতাম।’

মোহম্মদ আলী জানান, কিছুদিন আগে চিকিৎসকরা খোরা রোগের টিকা দিলেও বিভিন্ন খামারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

ডাক্তাররা টাকা নেয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডাক্তাররা ভালোই টাকা নেয়। আমার পাশের বাড়িতে অ্যালার্জি চিকিৎসা করাবার এসে ১৫০০ টাকা নিয়েছে। আমার একটা গরুর চিকিৎসা করতে এসে ২৫০০ টাকা নিয়েছে। ডাক্তার ফি নিলেও সমস্যা থাকত না, যদি অসুখ ভালো হইয়া যাইত। এখন তো টাকাও নিল, গরুও মরল।’

তিলকান্দি দুগ্ধ সমিতির কোষাধক্ষ আব্দুর রহমান সজিব বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তারা এসে আমাদের এই গ্রামকে দুগ্ধ গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করে। এখানে প্রতিটা পরিবারেই গরু আছে। সব দুগ্ধ গাভি। গাভিগুলোর দাম দুই থেকে চার লাখ টাকা। কিন্তু গত এক মাস ধরে তিলকান্দি গ্রামের প্রত্যেক খামারির ১/২টা করে গরু মারা যাচ্ছে। এতে আমরা খুব আতঙ্কে আছি।’

এদিকে এক বাড়িতেই ১৫টি গরু মারা যাওয়ার বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি ধর জানান, তাদের কাছে ওই বাড়ির ৪টি গরুর মৃত্যুর হিসাব আছে। বাকি গরু কীভাবে মারা গেছে তার কোনো সঠিক তথ্য তাদের কাছে নেই।

এ ছাড়া টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি মিথ্যা। আমি একাই সদরের ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমার অফিসের লোকবল সংকট আছে।’

এদিকে শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনাদের মাধ্যমে শুনে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে এতগুলো গরু মারা যাওয়ার কারণ জানতে চেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে এই কারণ খুঁজে বের করব। আমার অফিসের কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
৭০ গরু-মহিষ চুরি, তবু মামলায় ভয় কৃষকের
‘মশা তাড়াতে’ গিয়ে আগুনে পুড়ল ২৭ গরু
বাবা-ছেলে-শ্বশুর সবাই ‘গরুচোর’
গ্রামপ্রধানকে হত্যার নেপথ্যে গাছ ও গরু চুরি
গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
After 29 years 3 convicts get life

২৯ বছর পর ৩ আসামির যাবজ্জীবন

২৯ বছর পর ৩ আসামির যাবজ্জীবন
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর গিয়াসউদ্দিন জানান, এ হত্যা মামলায় মোট আসামি ছিলেন ২৫ জন। তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়, মামলার বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক সুনীল কুমার দাসকে হত্যার দায়ে দুই ভাইসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

২৯ বছর পর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মাসুদ আলী বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-আলমডাঙ্গার রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে সুলতান হোসেন, লালু মন্ডলের ছেলে লিয়াকত আলী ওরফে ন্যাকো ও তার ভাই শওকত আলী।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৯৩ সালের ৯ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে দণ্ডিত আসামিরাসহ অন্তত ১৫-১৬ জন ব্যক্তি সুনীলদের বাড়িতে গিয়ে সুনীলের গায়ে থাকা চাদর দিয়ে দু’হাত বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সুনীল। এ ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই অনিল কুমার দণ্ডিত আসামিসহ অজ্ঞাত আসামিদের নামে থানায় এজাহার করেন।

মামলায় মোট ১০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসামি সুলতান হোসেন, লিয়াকত আলী ও শওকত আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর গিয়াসউদ্দিন জানান, এ হত্যা মামলায় মোট আসামি ছিলেন ২৫ জন। তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়, মামলার বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন
গৃহবধূ হত্যার ১৬ বছর পর ৬ আসামির যাবজ্জীবন
মাদক মামলায় ২ ব্যক্তির যাবজ্জীবন
শিশু অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
স্কুলছাত্র মেহেদী হত্যায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ex student leader Khairul murder case 6 life life

সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সুলতানুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১০ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ২৪ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তবে সপ্তমবারের মতো রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়। পূর্ব নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আজ আদালত রায় ঘোষণা করেন।

কক্সবাজারের মহেশখালীর গোরকঘাটা বাজারে দুর্বৃত্তের গুলিতে তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য ও তরুণ রাজনীতিক ২৮ বছর বয়সী খাইরুল আমিন সিকদার নিহত হওয়ার ৩১ বছর পর ওই হত্যা মামলায় ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মহেশখালীর সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম, তার দুই ভাই মৌলভি জহির উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন এবং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম, অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ও সাধন নামের এক যুবক। রায় ঘোষণার সময় সাধন ছাড়া বাকি পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সুলতানুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১০ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ২৪ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তবে সপ্তমবারের মতো রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়। পূর্ব নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আজ আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ২৬ আসামির মধ্যে ছয়জনকে যাবজ্জীবন ও বাকি ২০ জনকে খালাস দেন। এ মামলা চলার সময়ে সাতজন আসামি মারা গেছেন। মারা যাওয়া আসামিদের মধ্যে আছেন মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর বক্স, স্থানীয় বাসিন্দা রহিম সিকদার, আমির হোসেন ও আজিজুল হক।

এদিকে মামলার দুই আসামি জহির উদ্দিন ও মো. ইব্রাহিম হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণের বরাতে এপিপি বলেন, ‘আদালত মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক বিরোধে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড, যা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’

১৯৯০ সালের ৯ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে মহেশখালীর গোরকঘাটা বাজারে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য ও তরুণ রাজনীতিক খাইরুল আমিন সিকদার। তিনি গোরকঘাটার হামজা মিয়া সিকদারের ছেলে।

ওই দিন নিহত খাইরুল আমিনের বড় ভাই মাহমুদুল করিম মহেশখালী থানায় মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর বক্স, পুটিবিলার শামশুল আলম, নাসির উদ্দিন, হামিদুল হকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনার তদন্ত করে এজাহারভুক্ত ২৫ জনসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন ওই বছরের ২২ নভেম্বর।

২০০৩ সালের ২৭ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

আরও পড়ুন:
৭ মাসের শিশু হত্যায় দাদির যাবজ্জীবন
পাবনায় কৃষক হত্যায় ২১ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটে সাংবাদিক হত্যার এক যুগ পর ৬ জনের যাবজ্জীবন
৭ বছর পর গ্রেপ্তার যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামি
হত্যার ২৬ বছর পর স্বামীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One person was hanged in Kashimpur jail in the freedom fighter murder case

বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: কাশিমপুর কারাগারে একজনের ফাঁসি কার্যকর

বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: কাশিমপুর কারাগারে একজনের ফাঁসি কার্যকর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২। ছবি: নিউজবাংলা
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার আমিরুল ইসলাম জানান, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাত ১১টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ওই সময় কারাগারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দীন মেম্বার হত্যা মামলায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দি এক আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার আমিরুল ইসলাম জানান, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাত ১১টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ওই সময় কারাগারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও জানান, ফাঁসি কার্যকর হওয়া ৪৭ বছর বয়সী কামাল ওরফে এক্সেল কামাল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কোতোয়ালেরবাগ এলাকায় থাকতেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ২০০৪ সালে নারায়ণগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দীন মেম্বার হত্যা মামলায় ২০০৬ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালত কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরে হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। পরে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করা হলে গত ২৮ এপ্রিল সেটিও খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত। সবশেষে আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে গত ১ নভেম্বর তা নাকচ হয়।

আরও পড়ুন:
সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
আয়াতের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার
বরিশালে অভিমান করে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা
গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
গৃহবধূ হত্যার ১৬ বছর পর ৬ আসামির যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Erteza editor of Bhorer Pata is on permanent bail

ভোরের পাতার সম্পাদক এরতেজার স্থায়ী জামিন

ভোরের পাতার সম্পাদক এরতেজার স্থায়ী জামিন ‘দৈনিক ভোরের পাতা’র সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসান। ফাইল ছবি
এ দিন এরতেজা হাসান আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। জালিয়াতি ও প্রতারণার এ মামলায় তিনি ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন।

জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় ‘দৈনিক ভোরের পাতা’র সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসানকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আহম্মেদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ঠিক করা ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় আগামী ১ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।

এ দিন এরতেজা হাসান আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

এ মামলায় তিনি ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। গত ৭ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় এরতেজা হাসানের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

গত ১ নভেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশানে ‘ইভা রোজ’ নামের একটি বাড়ি থেকে এরতেজাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে কল্যাণপুরে পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।

পিবিআই জানায়, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ভাই সাইফুল ইসলাম গত ১০ জানুয়ারি জালিয়াতি ও প্রতারণার একটি মামলা করেন।

খিলক্ষেত থানার করা মামলায় আসামিদের মধ্যে আছেন নর্দান ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ, রিয়াজুল আলম ও সেলিম মুন্সী। তদন্তের একপর্যায়ে এরতেজার নাম আসে।

মামলায় বলা হয়, নর্দান ইউনিভার্সিটির জন্য দক্ষিণখানে আশিয়ান সিটি প্রজেক্টে ৫ বিঘা জমি কেনার জন্য একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকা দেয়ার কথা ছিল। প্রথম দফায় ৩০ কোটি টাকা দেয় নর্দান কর্তৃপক্ষ। বাকি টাকা পরিশোধ না করেই আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সই জাল করে জমির রেজিস্ট্রি করা হয়। এ সময় জমির মূল্য দেখানো হয় ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

জালিয়াতির এ মামলায় আসামি আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ ও রিয়াজুল আলমকে এর আগে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদনার পাশাপাশি বেশ কিছু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সিআইপি মর্যাদা পাওয়া এরতেজা হাসান।

তিনি ভোরের পাতা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারপারসন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফ্ল্যাঞ্চাইজি রংপুর রাইডার্সের প্রেসিডেন্টও ছিলেন।

কাজী এরতেজা ব্যবসায়ীদের সংগঠন দ্য ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) পরিচালক। তিনি ইরান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

আরও পড়ুন:
ভোরের পাতার সম্পাদক এরতেজার জামিন
রিমান্ড শেষে কারাগারে ভোরের পাতা সম্পাদক এরতেজা
ভোরের পাতা সম্পাদক এরতেজা রিমান্ডে
ভোরের পাতা সম্পাদক এরতেজাকে রিমান্ডে চায় পিবিআই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two persons sentenced to death in organized rape case

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাধবপুর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী মো. মাহিদ মিয়া ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী মোস্তফা।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এসএম নাসিম রেজা বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাধবপুর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী মো. মাহিদ মিয়া ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী মোস্তফা।

হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর স্পেশাল পিপি মো. মোস্তফা মিয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ের সময়ে আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৮ জুন রাত ১১টার দিকে উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের ১০ম শ্রেণির ছাত্রীর ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে শাহিদ ও মোস্তফা।

এ ঘটনার পরদিন রাতে স্কুলছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে মাধবপুর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।

রাষ্টপক্ষের আইনজীবী হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর স্পেশাল পিপি মো. মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ থেকে মানুষ বিরত থাকবে। রায়ে বাদিপক্ষ খুশি। এখন আমরা চাই দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক।’

আরও পড়ুন:
মেয়ের বান্ধবীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রামপুলিশ আটক
স্বপন হত্যা মামলায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুদণ্ড, বান্ধবীর যাবজ্জীবন
ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রধান শিক্ষকের যাবজ্জীবন
বন্ধুর প্রেমিকাকে ধর্ষণের মামলায় ইমাম, মাদ্রাসাশিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৩
গার্মেন্টসকর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৫ জনের নামে মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Now rescue the head of the verse

এবার উদ্ধার আয়াতের মাথা

এবার উদ্ধার আয়াতের মাথা চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ সাত বছর বয়সী আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পিবিআইয়ের পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, ‘সকালে জেলেরা মাথাটি পেয়ে আমাদের জানায়। আমরা এটি উদ্ধার করে পরিবারকে জানালে তারা নিশ্চিত করে যে এটি আয়াতেরই মাথা। গতকাল তার যে দুটি পা উদ্ধার হয়েছিল, সেসব মর্গে পাঠানো হয়েছে, আজ উদ্ধার মাথাও মর্গে পাঠানো হবে। সব কিছুরই ময়নাতদন্ত হবে।’

চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকায় নিখোঁজের পর হত্যার শিকার ৫ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াতের মরদেহের আরেকটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই অংশটি আয়াতের মাথা বলে চিহ্নিত করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আকমল আলী সড়ক এলাকার সাগরপাড় স্লুইজ গেটের পাশ থেকে খণ্ডিত অংশটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

তিনি বলেন, ‘সকালে জেলেরা মাথাটি পেয়ে আমাদের জানায়। আমরা এটি উদ্ধার করে পরিবারকে জানালে তারা নিশ্চিত করে যে এটি আয়াতেরই মাথা। গতকাল তার যে দুটি পা উদ্ধার হয়েছিল, সেসব মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ উদ্ধার হওয়া মাথাও মর্গে পাঠানো হবে। সব কিছুরই ময়নাতদন্ত হবে।’

এর আগে বুধবার একই এলাকা থেকে আয়াতের দুটি পা উদ্ধার করে পিবিআই।

১৫ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। পরদিন এই ঘটনায় ইপিজেড থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার বাবা সোহেল রানা।

নিখোঁজের ৯ দিন পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত সন্দেহে আয়াতের পরিবারের ভাড়াটিয়া আবির আলীকে আটকের কথা জাানায় পিবিআই। পিবিআইয়ের দাবি, আটকের পর আয়াতকে খুন ও লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। মূলত ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ চেষ্টার সময় শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।

এরপর শনিবার প্রথমবার আবিরকে ২ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। আবিরকে নিয়ে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারে সাগরপাড়ে নিষ্ফল অভিযান পরিচালনা করে পিবিআই। এরপর সোমবার আবিরকে দ্বিতীয় দফায় ৭ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের প্রথম দিন মঙ্গলবার আবিরের মা-বাবার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই দিন প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে আবিরের ১৫ বছর বয়সী বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত।

দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের প্রথম দিনে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহের খোঁজে সাগরপাড় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় একটি জলাশয় পানিশূন্য করা হয় বলে জানান পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

আরও পড়ুন:
আয়াতের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার
আবিরের মা-বাবাও রিমান্ডে, খোঁজ চলছে আয়াতের মরদেহেরও
আয়াত হত্যায় আরও ৭ দিনের রিমান্ডে আবির
কোথায় গেল আয়াতের টুকরা দেহ
আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Three districts suffer due to transport strike

পরিবহন ধর্মঘটে তিন জেলায় ভোগান্তি

পরিবহন ধর্মঘটে তিন জেলায় ভোগান্তি বাসস্টান্ডে নিশ্চল বাসের সারি। ছবি: নিউজবাংলা
যাত্রী শারমিন বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন পরপর পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন। এতে অন্য কারও কিছু না হলেও যাত্রীদের হয়রানি এবং ভোগান্তির শিকার হতে হয়।’

মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজশাহী বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে তিন জেলার যাত্রীরা পড়েছে ভোগান্তিতে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, আগামী শনিবার রাজশাহীতে অনুষ্ঠেয় তাদের বিভাগীয় সমাবেশকে বাধা দিতেই এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে, তবে বাস মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, সমাবেশের সঙ্গে তাদের ধর্মঘটের সম্পর্ক নেই।

রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনু্যায়ী যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি জানা গেছে।

রাজশাহী

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজশাহী থেকে কোনো রুটে বাস ছেড়ে যায়নি। অন্য জেলা থেকে কোনো বাস রাজশাহীতে প্রবেশ করেনি।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অটোরিকশা বা ছোট বাহনে করে মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন। এজন্য তাদের বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে সমাবেশস্থল মাদ্রাসা মাঠে আসতে শুরু করেন। তারা সমাবেশস্থলের লাগোয়া রাজশাহী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অবস্থান নিতে শুরু করেন। রাত ১২টার দিকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অবস্থান নেন সেখানে।

নওঁগা

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটের মধ্যে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নওগাঁ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।

শহরের বালুডাঙ্গা ব্যাসস্টান্ডে দাঁড়িয়ে যাত্রী শারমিন বেগম বলেন, ‘জরুরি একটি কাজে সাড়ে ১০টার মধ্যে রাজশাহী যেতে হবে। প্রায় ৪০ মিনিট থেকে অপেক্ষা করেও কোনো যানবাহন পাচ্ছি না।

পরিবহন ধর্মঘটে তিন জেলায় ভোগান্তি

‘কয়েক দিন পরপর পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন। এতে অন্য কারও কিছু না হলেও যাত্রীদের হয়রানি এবং ভোগান্তির শিকার হতে হয়।’

বাসস্ট্যান্ডে আসা আরও দুই যাত্রী আলাউদ্দিন আহমেদ ও কবির হোসেন জানান, বাসস্ট্যান্ডে আসার আগে তারা ধর্মঘটের কথা শুনেছেন। ভেবেছিলেন বিকল্প কোনো বাহনে করে যাবেন, কিন্তু স্ট্যান্ডে এসে কোনো কিছুই পাচ্ছেন না। এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও দেখা যাচ্ছে না। আবার যেগুলো আছে, বেশি ভাড়া চাচ্ছে।

নাটোর

বৃহস্পতিবার ধর্মঘটের প্রথম দিনে সকাল থেকেই নাটোর থেকে কোনো ধরনের বাস ও গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়নি। গাড়ি চলাচল না করায় ভোগান্তিতে পড়েছে কর্মজীবী মানুষ।

জরুরি প্রয়োজনেও তাদের গন্তব্যে যেতে পারছেনা তারা। গাড়ি বন্ধ থাকায় বাস চালক ও সহকারীরাও পড়েছে বিপদে।

আমিনুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানান, কাজে যাওয়ার জন্য বের হয়ে কোনো গাড়ি পাচ্ছেন না। সময়মত অফিসে পৌঁছাতে না পারলে সমস্যা হবে। বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্পভাবে যেতে হবে কিন্তু তাতে অনেক টাকা খরচ হবে। এভাবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে যখন তখন ধর্মঘট দেয়া ঠিক না।

পরিবহন ধর্মঘটে তিন জেলায় ভোগান্তি

রিতু সুলতানা নামে এক শিক্ষার্থী জানান, মাকে নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে যাবার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। বড়হরিশপুর এলাকায় এসে দেখেন বাস চলছে না। ধর্মঘট শুধু ভোগান্তি বাড়ায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাস ড্রাইভার হানিফ আলী বলেন, ‘ধর্মঘটে বাস না চললে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। যেহেতু এটা পরিবহন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার, তাই এ নিয়ে বেশি কথা বলা ঠিক হবেনা।’

আরও পড়ুন:
বাস মালিকরা স্বাধীন, আমাদের কিছু করার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সিলেটে ধর্মঘট, বন্ধ সব যান চলাচল
উত্তরাঞ্চলে রোববার থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
৮ দিন ভুগিয়ে বাস চালু করল পরিবহন শ্রমিকরা
পিরোজপুর-বরিশাল রুটে বাধা ঝালকাঠি

মন্তব্য

p
উপরে