× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Extramarital affair Housewife slaughtered and killed
hear-news
player
google_news print-icon

‘বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক’: গৃহবধূকে জবাই করে হত্যা

বিয়েবহির্ভূত-সম্পর্ক-গৃহবধূকে-জবাই-করে-হত্যা
এসপি কামরুজ্জামান বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পারিবারিক বিরোধ ও বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর শহরের স্টেডিয়াম এলাকার ভাড়া বাড়িতে এক নারীকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই হত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

প্রাণ হারানো শহর বানু পঞ্চগড়ের গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার খোকন আলীর বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে।

এসপি জানান, খোকনের ছোট ভাইয়ের নাম ফকির আলী। তার সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে শহর বানুর। ২০ দিন আগে ফকিরের সঙ্গে তিনি লক্ষ্মীপুরে আসেন। খোকনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন তিনি। স্টেডিয়াম এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ফকিরের সঙ্গে সংসার শুরু করেন শহর বানু।

রোববার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে হাজির হন খোকন। শহর বানুকে বুঝিয়ে বাড়িতে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ধারাল দা দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়।

এসপি কামরুজ্জামান বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পারিবারিক বিরোধ ও বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলা নথিভুক্ত হলে খোকনকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। খোকনের ছোট ভাই ফকিরকেও খুঁজছে পুলিশ।

তিনি জানান, ফকির ও শহর বানু দুজনেরই এটি দ্বিতীয় সংসার। আগের পরিবারে ফকিরের দুই সন্তান ও শহর বানুর তিন সন্তান রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক মহিউদ্দিন হত্যা: ‘‌গোলাগুলিতে’ নিহত মূল আসামি
স্ত্রীকে হত্যার ৬ মাস পর যুবক গ্রেপ্তার 
ঢাবি ছাত্রী এলমাকে হত্যার প্রমাণ পায়নি ডিবি
তাসকিয়া হত্যা: প্রধান আসামি রিমনে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা
দোকান থেকে ফেরার পথে খুন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Three days later the expatriates wifes body was found in the garden

তিন দিন পর বাগানে মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ

তিন দিন পর বাগানে মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মরদেহের গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় গাছের ভাঙা ডালের সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি খুবই রহস্যজনক।’

মাদারীপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর মৌসুমি আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী এলাকার একটি বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

২৪ বছর বয়সী মৌসুমি দুধখালী ইউনিয়নের উওর দুধখালী এলাকার মানিক হাওলারের মেয়ে এবং একই এলাকার সৌদিপ্রবাসী ইলিয়াস মীরারের স্ত্রী।

স্বজনরা জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন মৌসুমি। তার পাঁচ ও চার বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

স্বজনদের বরাতে ওসি আরও জানান, ২৩ নভেম্বর বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে দাদির বাড়ির উদ্দেশে বের হন মৌসুমি। কিন্তু দাদির সঙ্গে দেখা করে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

সেদিন মৌসুমিকে অনেক খুঁজেও পাননি তার পরিবারের সদস্যরা। পরদিন তারা সদর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজের ৩ দিন পেরিয়ে গেলে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তর দুধখালী এলাকার একটি বাগানে মৌসুমির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের খালাতো বোন তানজিলা আক্তার বলেন, ‘আমার বোনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু কারা এ কাজ করেছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমার বোনের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। তবু তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মরদেহের গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় গাছের ভাঙা ডালের সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি খুবই রহস্যজনক। পুলিশ আসল সত্য বের করে আনবে।’

আরও পড়ুন:
প্রেমের সম্পর্ক না মানায় সাউথ আফ্রিকায় প্রবাসীর ‘আত্মহত্যা’
বাসচাপায় প্রবাসীর স্ত্রী নিহত, ছেলে হাসপাতালে
বাবাকে ফোনকলে রেখে ফ্রান্সে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The patient died after jumping from the third floor of the hospital

হাসপাতালের তিনতলা থেকে লাফিয়ে রোগীর মৃত্যু

হাসপাতালের তিনতলা থেকে লাফিয়ে রোগীর মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, কারও সঙ্গে রাগ, মনোমালিন্য, মানসিক দুশ্চিন্তা কিংবা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো কারণে মনোয়ার আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মনোয়ার হোসেন নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের তিনতলার ১৪ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে পড়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান ৪০ বছর বয়সী মনোয়ার। তিনি জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার উয়াপাড়া এলাকার শরিফ মিয়ার ছেলে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মনোয়ার হোসেন। হঠাৎ শুনি, তিনতলার ওই ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মৃত্যুর পেছনে কেউ জড়িত থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কারও সঙ্গে রাগ, মনোমালিন্য, মানসিক দুশ্চিন্তা কিংবা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো কারণে মনোয়ার আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসককে ‘মারধর’, আটক ২
হাসপাতালে তিন মাস ভর্তি এই রোগী কে?
হাসপাতালে নতুন ১৩৮ ডেঙ্গু রোগী
হাসপাতালে আরও ১০৩ ডেঙ্গু রোগী
আরও ১৫৭ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A League attacked and vandalized BNP office injured 10

বিএনপি কার্যালয়ে ‘আ.লীগের’ হামলা ভাঙচুর, আহত ১০

বিএনপি কার্যালয়ে ‘আ.লীগের’ হামলা ভাঙচুর, আহত ১০ বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম হিলালী জানান, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে কৃষক দলের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ কর্মসূচি চলছিল। বেলা ৩টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে হামলা চালান। তারা কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল ও আসবাব ভাঙচুর করেন। হামলায় বিএনপির অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বারহাট্টা থানার ওসি লুৎফর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে।

হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে বিএনপি।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম হিলালী জানান, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে কৃষক দলের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ কর্মসূচি চলছিল। বেলা ৩টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে হামলা চালান। তারা কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল ও আসবাব ভাঙচুর করেন।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি বাবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সুধীন্দ্র চন্দ্র দাস, কৃষক দলের সদস্য দুলাল মিয়া, যুবদলের তোফাজ্জল, মুশফিক ও সাফিন। তাদের নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাইনুল হক কাশেম বলেন, ‘আমাদের দলের কোনো নেতা-কর্মী বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করেনি। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হতে পারে।’

বারহাট্টা থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, ‘কৃষক দলের কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের মিছিল চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা মারামারি হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে আমরা গিয়ে কাউকে পাইনি।’

আরও পড়ুন:
৭১ টিভির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
কুমিল্লায় ৭১ টিভির গাড়ি ভাঙচুর
পরাজিত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
বরিশাল শহরে জ‌মি নি‌য়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি হামলা
প্রতিমন্ত্রী স্বপনের লোকজনের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Read carefully Fakhrul in Comilla

ভালোয় ভালোয় কেটে পড়ুন: সরকারকে ফখরুল

ভালোয় ভালোয় কেটে পড়ুন: সরকারকে ফখরুল কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বক্তব্যের শেষ দিকে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, ‘আমাদের নেতা ৮ হাজার মাইল দূর থেকে ডাক দিয়েছেন। টেক ব্যাক বাংলাদেশ।’

ক্ষমতাসীন সরকারকে সময় থাকতে কেটে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আব্বাস উদ্দীনের একটি গান আছে আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় উঠতাম না। এই গান এখন সবাই গায়। ভালোয় ভালোয় কেটে পড়ুন, নয় তো ভয়ানক পরিণতি হবে।’

শনিবার কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী, স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ভোলায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনেক ভাই প্রাণ দিয়েছেন। তাদের খুনের বিচার, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, ৩৫ হাজার মিথ্যা মামলার প্রত্যাহারের দাবিতে এই মহাসমাবেশ।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদল নেতা নয়নকে বিনা কারণে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘তার কোনো দোষ ছিল না। নয়নের বুকে প্রতিবাদের আগুন জ্বলেছিল। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গোটা দেশবাসী আজ মুক্তি চায়।’

সভাস্থলে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে কেউ ভোট দিতে যায়নি। ২০১৮-তে আগের রাতেই ভোট চুরি করেছেন। তিনি নাকি আবার ক্ষমতায় যাবেন! যশোরের জনসভায় তিনি বলেছেন- আওয়ামী লীগ আসলে জনগণ শান্তি পায়।

‘আপনারা কি শান্তি পান?’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে ফখরুল বলেন, ‘একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটি সুখী বাংলাদেশ দেখার জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলাম। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও মানুষ আজ খাবারের জন্য দৌড়ায়।’

বর্তমান সরকার ইভিএম কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় দাবি করে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে অতীতের মতো গয়েবি মামলা দেয়ারও অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘এতে করে কি ১০ তারিখ সমাবেশ বন্ধ করতে পারবে? পারবে না।’

‘আমাদের কথা পরিষ্কার। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব।’

বরাবরের মতো বক্তব্যে রিজার্ভের বিষয়টিও সামনে আনেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে। রিজার্ভ খেয়ে ফেলেছে। চিবিয়ে খায়নি, গিলে ফেলেছে।

‘বিশেষজ্ঞরা বলছে আগামী তিন মাস ব্যয় বহন করার মতো রিজার্ভ নাই। তারা সব খেয়ে ফেলেছে। গত ১০ বছরে তারা ৮৬ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।’

এমন কোনো দ্রব্য নাই যার দাম বাড়েনি। তাদের লোকদের টাকা বেড়েছে। শতকরা ৪২ জন লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।’

বক্তব্যের শেষ দিকে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের নেতা ৮ হাজার মাইল দূর থেকে ডাক দিয়েছেন। টেক ব্যাক বাংলাদেশ।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় খালেদার পাশে তারেকের সম্মানেও চেয়ার
বিএনপির সমাবেশস্থলে মোবাইল ইন্টারনেট বিঘ্নিত
খুলনার বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে হামলায় আহত নেতার মৃত্যু
কুমিল্লায় স্লোগানে মুখর বিএনপির সমাবেশস্থল
বিএনপির সমাবেশস্থল থেকে রুমিনের ফোন চুরি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
10 injured in A League clash in Aditmari

কমিটি নিয়ে আ.লীগের সংঘর্ষ, আহত ১০

কমিটি নিয়ে আ.লীগের সংঘর্ষ, আহত ১০ আদিতমারীতে শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: নিউজবাংলা
আদিতমারী থানার ওসি মোক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘাত এড়াতে আমরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের দিকে এলেই উভয় পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এই মুহূর্তে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাংবাদিক, পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা জানান, কমিটি নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন কমলাবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতী।

চিশতীর পক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে, অপর পক্ষটি আদিতমারী ভাদাই জিএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আছে।

স্থানীয়রা জানান, দলীয় কার্যালয়ে চিশতীর নেতা-কর্মীর ওপর হামলা চালান মোহাম্মদ আলী ও রফিকুল আলমের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা। এ সময় সাংবাদিক, পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

আদিতমারী থানার ওসি মোক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘাত এড়াতে আমরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের দিকে এলেই উভয় পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এই মুহূর্তে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

আরও পড়ুন:
মিলাদের মঞ্চ থেকে নেত্রীকে নামতে বলা নিয়ে বিএনপির সংঘর্ষ
নয়াপল্টন কার্যালয়ে যুবদল কর্মীদের হামলা, ক্ষুব্ধ ফখরুল
আ.লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষ, গুলি: আহত ১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের গুলি, ছাত্রদল নেতা নিহত
যুবলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ, ২ জন আহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Grandson arrested with 25 lakh fake money

২৫ লাখ জাল টাকাসহ নানা-নাতি আটক

২৫ লাখ জাল টাকাসহ নানা-নাতি আটক উদ্ধার করা জাল টাকার বান্ডিল। ছবি: নিউজবাংলা
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি পীরজাদা শেখ মোহাম্মদ মুস্তাছিনুর রহমান বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে।’

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির অভিযোগে নানা ও দুই নাতিকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছে থেকে ২৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার জাল নোটও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ব্রিদেবস্থান এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই তিনজনকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি পীরজাদা শেখ মোহাম্মদ মুস্তাছিনুর রহমান।

ওসি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, ওই এলাকার একটি বাড়িতে জাল নোট তৈরি করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই শিশু ও তাদের নানাকে আটক করা হয়।’

তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন অন্য লোকজন পালিয়ে যান বলেও জানান ওসি।

অভিযানে ওই বাড়ি থেকে এক হাজার টাকার ২৫টি বান্ডিলে ২৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার জাল নোটসহ ২০ বান্ডিল ছাপানোর কাগজ ও এক প্যাকেট সিকিউরিটি থ্রেড জব্দ করা হয়।

ওসি বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
দেড় লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার
র‍্যাবের জালে জাল টাকা তৈরির কারিগর
১০ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ২
১ লাখ টাকার জাল নোট বিক্রি ১৫ হাজারে
জাল টাকায় চা খেতে গিয়ে ধরা, মেশিন জব্দ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Batta workers hostage to Sardar

ভাটার শ্রমিকরা জিম্মি সর্দারের কাছে

ভাটার শ্রমিকরা জিম্মি সর্দারের কাছে
ইটভাটায় যিনি নানা রকমের শ্রমিক জোগাড় করেন, তাকে বলা হয় শ্রমিক সর্দার বা দালাল। সর্দার সাধারণত ইট তৈরির মাটি কাটা থেকে ইট বিক্রির আগপর্যন্ত সব কাজ শ্রমিকদের দিয়ে করিয়ে নেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার ইট তৈরি করতে সর্দাররা ভাটার মালিকের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন।

৪০ বছর বয়সী আশরাফ আলীর বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলায়। ছয় মাস ইটের ভাটায় কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এক সর্দারের (দালাল) সঙ্গে। তিনি কাজ করবেন খুলনার ডুমুরিয়ার উপজেলার ইটের ভাটায়।

আশরাফ আলী বলেন, ‘সর্দার আমাদের এলাকা থেকে চুক্তি করে নিয়ে আসেন। পরে ভাটায় এনে অন্য দালালের হাতে তুলে দেন। কখনও আমরা ছয় মাস ধরে একটি ভাটায় কাজ করি। আবার কখনও দুটি বা তিনটি ভাটায় কাজ করতে হয়। আমাদের যে দালাল চুক্তি করে নিয়ে এসেছেন, তার সাথে অন্য দালালদের ঝামেলা হলে আমাদের ভাটাও পরিবর্তন করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর মৌসুম শেষ হলে সর্দার আমার ১০ হাজার টাকা আটকে রেখেছিল। এই বছর আবারও তার মাধ্যমে ভাটায় না আসলে ওই টাকা ফেরত পেতাম না। শওকত নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমি গত চার বছর ধরে বিভিন্ন ইটের ভাটায় কাজ করছি।’

আশরাফ আলী ভাটায় ইট তৈরির কাজ করেন। প্রতি হাজার ইট তৈরি করে তিনি পান ২০০ টাকা। সাধারণত প্রতিদিন তাকে ২ হাজার ৫০০টি ইট তৈরি করতে হয়। এতে তার মজুরি হয় ৫০০ টাকা। প্রত্যেকটি ইটের ভাটায় এমন শ্রমিকের সংখ্যা ১০০ থেকে ৫০০ জন।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইটভাটায় বিভিন্ন রকমের কাজে আলাদা আলাদা শ্রমিক দরকার হয়। তাদের মজুরিও আলাদা হয়ে থাকে। মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা (মাইঠেল) কোথাও দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে, আবার কোথাও বর্গফুট হিসেবে মজুরি পেয়ে থাকেন। যারা বর্গফুট হিসেবে মজুরি নেন, তারা সাধারণ এক হাজার বর্গফুট মাটি কাটলে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পান। এ ছাড়া যারা দৈনিক মজুরি নেন, তারা প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাটি কেটে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকেন।

ভাটার শ্রমিকরা জিম্মি সর্দারের কাছে

এ ছাড়া, ইট তৈরির উপযোগী করে কাদা-মাটি তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ভোর ৪টা থেকে কাজে যোগ দেন। প্রতি হাজার ইটের সমপরিমাণ কাদা তৈরি করে তারা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা মজুরি পান।

ইট প্রস্তুতকারী কারিগররা প্রতি হাজার ইটে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা মজুরি পান। তবে দাদন নেয়া (মজুরি বাবদ আগাম অর্থ নেয়া) শ্রমিকরা প্রতি হাজার ইটে ১১০ থেকে ১২০ টাকা মজুরি পান। ইট তৈরির কারিগরের সহযোগী শ্রমিকরা প্রতি হাজারে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা মজুরি পান। এই সহযোগী শ্রমিকরা সাধারণ শিশু হয়ে থাকে।

এ ছাড়া কাঁচা ইট তৈরির স্থান (পট) থেকে চুল্লি পর্যন্ত বহনকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা (রেজা) এক হাজার ইট বহনের জন্য পান ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ভাটার চুল্লি থেকে পোড়া ইট বের করা শ্রমিকরা (পাকা নিকেশি) পান ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

ভাটাভেদে শ্রমিকসংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে মজুরিও কিছুটা কম-বেশি হয়।

ভাটাগুলোতে টিকিট মাস্টার, রাবিশম্যান এবং ফায়ারম্যান পদে নিয়োজিতরা মাসিক বেতন হিসেবে কাজ করেন। তাদের বেতন মাসে ১৫ থাকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে থাকে।

ইটভাটায় যিনি নানা রকমের শ্রমিক জোগাড় করেন, তাকে বলা হয় শ্রমিক সর্দার বা দালাল। সর্দার সাধারণত ইট তৈরির মাটি কাটা থেকে ইট বিক্রির আগপর্যন্ত সব কাজ শ্রমিকদের দিয়ে করিয়ে নেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার ইট তৈরি করতে সর্দাররা ভাটার মালিকের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন।

লতিফ মোড়ল নামের এক শ্রমিক সর্দার বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরে শ্রমিক সংগ্রহ করি। আবার মৌসুম শেষে তাদের ছেড়ে দিই। কাজের শুরুতে শ্রমিকদের সাথে মজুরির চুক্তি করে নিই।’

তবে ইটভাটার একাধিক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ ভাটায় শ্রমিকরা ঠিকমতো মজুরি পান না। একদিকে ইট বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত মালিকরা টাকা দিতে চান না। অন্যদিকে সর্দাররা টাকা দীর্ঘদিন আটকে রাখেন, যাতে শ্রমিকরা ভাটা ছেড়ে চলে যেতে না পারেন।

অভিযোগ আছে, শ্রমিকদের ভাটার কাজে আটকে রাখতে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করা হয়। ২০২১ সালে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের আজাদ ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায়।

পর্যাপ্ত মজুরি না পেয়ে ভাটা ছেড়ে দিতে চাইলে রুহুল আমিন শেখ নামের এক শ্রমিককে রাতভর নির্যাতন করা হয়।

রুহুল আমিন বলেন, ‘ইটভাটায় ছয় মাস কাজ করার জন্য সালাম নামের এক সর্দারের সাথে আমার চুক্তি হয়েছিল। সেখানে আমি ও আমার স্ত্রী আসমা বেগম কাজে যোগ দিই। ওই ভাটায় শ্রমিকদের জন্য অস্থায়ী বসতি আছে। সেখানে একমাত্র সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করি। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও সর্দার আমাদের ভাটা থেকে ছাড়তে চাননি। তিনি বলেছিলেন, বর্ষাকাল না আসা পর্যন্ত আমাকে ভাটাতে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একদিন সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভাটা থেকে বাইরে বের হওয়ায় সর্দারের লোকেরা মনে করেছিল আমি পালিয়ে যাচ্ছি। তখন তারা আমাকে ধরে নিয়ে যায় ভাটার অস্থায়ী বসতির একটি কক্ষে। সেখানে রাতভর তারা আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে। তাদের মার খেয়ে একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তখন আমার স্ত্রীকেও তারা শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। পরে তারা আমাদের মোবাইল কেড়ে নেয়।

‘পরের দিনও ওই ঘরে আমাদের আটকে রাখে। যাতে আমরা বাইরে কারও সাথে নির্যাতনের কথা বলতে না পারি। বিকেলে এক শ্রমিকের সহায়তায় আমার স্ত্রী ওই কক্ষ থেকে পালিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে যায়। তখন পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খুলনা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘ভাটায় সরাসরি আমরা শ্রমিক নিয়োগ দিই না। তারা সর্দারের মাধ্যমে কাজ করেন। তবে কোনো ঝামেলা বাধলে আমরা মিটিয়ে দিই।’

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের ইটভাটায় সিসা কারখানা, বাড়ছে রোগব্যাধি
ফসলি জমি রক্ষায় বীর মুক্তিযোদ্ধার লড়াই
ইটভাটাগুলো ভাঙা হয়নি, দেয়া হয়েছে আঁচড়
সর্দারের শিকলে বাঁধা ইটভাটার শ্রমিকরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ ৯৯ ইটভাটা কেন বন্ধ নয়: হাইকোর্ট

মন্তব্য

p
উপরে