× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Celebration of Chaitra Sankranti in Jabi
hear-news
player
print-icon

জবিতে চৈত্রসংক্রান্তি উদযাপন

জবিতে-চৈত্রসংক্রান্তি-উদযাপন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে চৈত্রসংক্রান্তি উদযাপন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে চলে উৎসব আয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় দিনটি উদযাপন করেছে উদীচী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

আজ চৈত্রসংক্রান্তি। বাংলা বছরের শেষ মাসের শেষ দিন। ‘জ্বালো জ্ঞানের মশাল, ভাঙো আঁধার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দিনটি উদযাপন করা হয়েছে।

লোক-কথায় আছে, বাংলা পঞ্জিকার চৈত্র মাসের নামকরণ করা হয়েছিল তিক্রা নক্ষত্র থেকে। পুরাণে আছে, ২৭টি নক্ষত্রের নামে দক্ষরাজ তার সুন্দরী কন্যাদের নামকরণ করেছিলেন। তার দুই কন্যার নাম চিত্রা ও বিশাখা। এই দুই কন্যার নাম থেকে জন্ম নিয়েছে বাংলা দুই মাস- চৈত্র ও বৈশাখ।

ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে এই দিনকে কেন্দ্র করে চলে উৎসব আয়োজন।

এরই ধারাবাহিকতায় দিনটি উদযাপন করেছে উদীচী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। গানে গানে সংক্রান্তির দিনটি উদযাপন করেছে তারা।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে সকাল সাড়ে ১০টায় এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক। এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত থাকবে।’

এ সময় তিনি পড়াশোনার ফাঁকে সময় বের করে শিক্ষার্থী ও আয়োজক সংগঠনগুলোর এসব আয়োজন করায় তাদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
গবেষণায় একে অপরকে সহযোগিতা করবে ঢাবি-জবি
দুই বছর পর জবিতে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন
জবির ১১ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
জবি ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে সাঈদ-রাজু
শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার জবির ১২ শিক্ষার্থী রিমান্ডে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
I cant sing a song that doesnt speak of hardworking people Masum Aziz

মানুষের কথা বলাই সংস্কৃতির কাজ: মাসুম আজিজ

মানুষের কথা বলাই সংস্কৃতির কাজ: মাসুম আজিজ একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব মাসুম আজিজ। ছবি: নিউজবাংলা
মাসুম আজিজ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর উদীচী সংগঠনের জন্ম। গণতান্ত্রিক অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং শ্রেণী-বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন নিয়েই উদীচীর যাত্রা। সে জন্যই এটি আমাদের প্রাণের সংগঠন।’

‘যে গান মানুষের কথা বলে না, সে গান আমি গাইতে পারি না। মানুষের কথা বলাই সংস্কৃতির কাজ।’

কথাগুলো বলছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব মাসুম আজিজ।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের উদ্যোগে ভাস্কর্য চত্বরে ‘এসো করো স্নান নবধারা জলে’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ষাকল্প ১৪২৯ অনুষ্ঠানে বুধবার তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাসুম আজিজ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর উদীচী সংগঠনটির জন্ম। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং একটি শ্রেণী-বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন নিয়েই উদীচীর যাত্রা হয়। সে জন্যই এটি আমাদের প্রাণের সংগঠন।

‘যে সংস্কৃতি মানুষের কথা বলে না, সে অপসংস্কৃতির সঙ্গে আমরা নেই। আমরা মনে করি শিল্প-সংস্কৃতি, নাটক, গান- এগুলো মস্ত বড় শক্তি; যেটিকে লালন করা খুব জরুরি। উদীচী চিরজীবী হোক, বেঁচে থাকুক, আমরা তা দেখে যেতে চাই।’

মাসুম আজিজ বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল অসাম্প্রদায়িক একটা চেতনা থেকে। আজ ইউটিউবের ওয়াজিরা বলে শুধু ইসলামের জন্য নাকি লড়াই করছে। ইসলাম কী সেটা মুসলমানরা জানে। আমার মাঝে ইসলাম থাকলে তো অন্য জাতির প্রতি বিদ্বেষ থাকবে না। ইসলাম তো আমায় বিদ্বেষ করতে বলেনি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন গণসংগীত শিল্পী উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম।

উদীচী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নানা পরিবেশনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তমঞ্চের অংশগ্রহণ।

অনুষ্ঠানটি সম্প্রতি সীতাকুন্ডে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হতাহত সব পেশার মেহনতী মানুষকে উৎসর্গ করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 day joy festival in Kushtia

কুষ্টিয়ায় ৩ দিনের আনন্দ উৎসব

কুষ্টিয়ায় ৩ দিনের আনন্দ উৎসব কুষ্টিয়া শহরে সোমবার বেলা ১১টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। ছবি: নিউজবাংলা
কুষ্টিয়া শিল্পকলার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই একাডেমি ভবনে যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে, সেসব কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ কারণেই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই উৎসব করছি।’

জেলা শিল্পকলা একাডেমি অত্যাধুনিক ভবন পাওয়ায় কুষ্টিয়ায় তিন দিনের আনন্দ উৎসব শুরু হয়েছে। লালনের শহর কুষ্টিয়া পরিণত হয়েছে উৎসবের নগরে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দিয়ে ‘নব আনন্দে মাতি’ শিরোনামে উৎসব শুরু হয়েছে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রায় লাঠিখেলা, যাত্রাপালা, বাউল দল, কৃষক, জেলেসহ নানা সাজে অংশ নেন মানুষ। তিন দিনের আয়োজনে কোরিওগ্রাফি, পুতুল নাচ, লাঠিখেলা ও সংগীতানুষ্ঠানের সঙ্গে থাকছে আলোচনা সভা।

৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন। চারতলা ভবনে আছে তিনটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, ৫০ আসনের একটি কনফারেন্স রুম, বাইরে উন্মুক্ত মঞ্চ।

এক একর জায়গার ওপর আকর্ষণীয় এ ভবন জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আবার জাগিয়ে তুলবে বলে আশা করেছেন কুষ্টিয়া শিল্পকলার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়াকে বলা হয় কালচারাল হাব। এই একাডেমি ভবনে যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে, তা জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ কারণেই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই উৎসব করছি।’

১৩ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির দৃষ্টিনন্দন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ActionAid is a two day resilience and culture festival in Bangladesh

একশনএইড বাংলাদেশের ২ দিনব্যাপী রেজিলিয়েন্স ও সংস্কৃতি উৎসব

একশনএইড বাংলাদেশের ২ দিনব্যাপী রেজিলিয়েন্স ও সংস্কৃতি উৎসব
প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের মানুষের অপ্রতিরোধ্য মানসিকতা এবং বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে।

‘রেজিলিয়েন্স উৎসব: পৃথিবী, মানুষ এবং সম্ভাবনা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে একশনএইড বাংলাদেশ।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের মানুষের অপ্রতিরোধ্য মানসিকতা এবং বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে।

দেশের মানুষের সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও জেগে ওঠার শক্তিকে ঘিরে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনের লক্ষ্য বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার গল্পগুলো তুলে ধরা ও মানুষকে উৎসাহিত করা।

আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঢাকার গুলশান-২ ‘এনসিসি’ বা নাভিদস কমেডি ক্লাবে এ উৎসব হবে।

বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষ জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয়, বৈষম্য, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, শরণার্থী সংকট ও বৈশ্বিক মহামারিসহ অসংখ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই মানুষ নতুন উদ্যমে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং অপ্রতিরোধ্য গতিতে সামনে এগিয়েছে।

সাম্প্রতিক উদাহরণ হচ্ছে, গত দুই বছরে দেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ। করোনা মহামারি সংকটের সময় দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যেও মানুষকে আশাবাদী ও প্রাণোচ্ছল থাকতে সাহায্য করেছে।

দেশের মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তি এবং অপ্রতিরোধ্য মানসিকতা উদযাপনের দাবি রাখে। আর তাই একশনএইড বাংলাদেশ এই উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে। বিস্তৃত কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এই উৎসব দেশের মানুষ, তাদের শক্তি, আনন্দ ও সংহতি উদযাপনে সাহায্য করবে।

উৎসবের প্রথম দিন থাকছে– হ্যাপি হোম গার্লসের পরিবেশনায় উদ্বোধনী পারফরমেন্স; ‘শি-টেলস’ শিরোনামের বিশেষ পর্ব, যেখানে দেশের অগ্রবর্তী নারীরা তাদের সাহসিকতার গল্পগুলো তুলে ধরবেন।

একশনএইড বাংলাদেশ ব্যান্ডের পরিবেশনায় ‘মুক্ত করো ভয়, আপন মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়’ থিমে সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে।

দ্বিতীয় দিনে একশনএইড বাংলাদেশের অ্যাক্টিভিস্টা নেটওয়ার্কের তরুণদের অংশগ্রহণে ফ্ল্যাশ মব পরিবেশিত হবে।

এ ছাড়া বিশিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে তিনটি ‘হিউম্যান বুক ক্যাফে’ সেশন থাকবে। সবশেষে থাকবে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক আয়োজন।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘সহনশীলতা এবং বাধা অতিক্রম করে বেঁচে থাকার সক্ষমতার কারণে জাতি হিসেবে আমরা অনন্য, প্রশংসার দাবিদার। একশনএইডে আমরা অনুধাবন করেছি, আমাদের এই সহজাত অপ্রতিরোধ্য মানসিকতা উদযাপনের এখনই সময়, আর এখান থেকেই ফেস্টিভ্যাল অব রেজিলিয়েন্স ধারণাটি এসেছে।’

দুই দিনের আয়োজন থেকে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া উৎসবে থাকবে আকর্ষণীয় খেলা, গল্প বলার লাইভ সেশন এবং বিভিন্ন স্টল, যেখান থেকে বিভিন্ন রকমের হস্তশিল্প, বুটিক ও নানা পদের খাবার কেনা যাবে।

প্রথম দিন বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Eid ul Fitr free Eid ul Fitr requires well planned work

‘বিড়ম্বনামুক্ত ঈদযাত্রায় দরকার সুপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ’

‘বিড়ম্বনামুক্ত ঈদযাত্রায় দরকার সুপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ’ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভার আয়োজন করে নাগরিক পর্যবেক্ষণ কমিটি। ছবি: নিউজবাংলা
ঈদে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৫টি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে গঠিত নাগরিক পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রতিবেদনে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক খাতে ১২, নৌ খাতে ৭ ও রেলওয়ে খাতে ৬টি সুপারিশ রয়েছে।

ঈদে যাতায়াত নিরাপদ ও বিড়ম্বনামুক্ত করতে হলে সড়ক, নৌ ও রেল- তিনটি গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার অপরিহার্য। এজন্য শুধু ঈদকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিলে হবে না; বছরব্যাপী সুপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ চালাতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থেকে কারিগরি জ্ঞানহীন কর্মকর্তাদের দিয়ে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করালে কোনোদিনই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সোমবার এক আলোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ বিশিষ্টজনেরা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঈদে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৫টি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে গঠিত ২১ সদস্যবিশিষ্ট নাগরিক পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২৫টি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সড়ক খাতে ১২টি, নৌ খাতে ৭টি ও রেলওয়ে খাতের জন্য ৬টি সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া। আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোর ভি শিপ্স-এর সাবেক প্রধান নৌ প্রকৌশলী মো. আবদুল হামিদ, নাগরিক পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নাগরিক পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আশীষ কুমার দে।

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘দেশের কোথাও সুশাসন ও জবাবদিহিতা নেই। সাধারণ নাগরিকদের কল্যাণে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রযন্ত্র যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়া ও ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই চলে।

‘সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও তা নিয়ে রাজনীতিবিদদের মাথাব্যথা নেই। এসব কারণে সড়ক, নৌ ও রেল তথা সমগ্র গণপরিবহন খাতে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজমান। শুধু ঈদে নয়, সারাবছরই আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ও যন্ত্রণাদায়ক থাকে। এর বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজকে সোচ্চার প্রতিবাদী হতে হবে।’

ড. মীর তারেক আলী বলেন, ‘আমাদের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরাজমান বহুমুখী সমস্যার মধ্যে এবারের ঈদে নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে মোটরসাইকেল। ঝুঁকিপূর্ণ এই বাহনে যাত্রী পরিবহন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একইভাবে নৌপথে ঝুঁকি বাড়িয়েছে স্পিডবোট।

‘ঈদ-যাতায়াত নিরাপদ ও বিড়ম্বনামুক্ত করতে হলে সড়ক, নৌ ও রেল- তিনটি গণপরিবহন খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। এজন্য শুধু ঈদকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিলে হবে না; বছরব্যাপী সুপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ চালাতে হবে।’

নাগরিক পর্যবেক্ষণ কমিটির সুপারিশমালায় বলা হয়, এমন পদক্ষেপ নেয়া উচিত যাতে প্রতি বছর ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে কোনোকিছু করতে না হয়।

সড়কপথের জন্য সুপারিশ

১. সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ও জনভোগান্তি লাঘবে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সব জেলার বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু ও সেবার মান বৃদ্ধি।

২. সব সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ঈদের ১৫ দিন আগেই সম্পন্ন করা।

৩. যেসব মহাসড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান তা ঈদের ১৫ দিন আগে স্থগিত করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী বিকল্প ব্যবস্থা করা।

৪. দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে লক্কড়-ঝক্কড় বাস, তিন-চাকার যানবাহন ও দূরপাল্লার সড়কে যাত্রীবাহী মোটরবাইক চলাচল বন্ধ এবং মোটরবাইকে একাধিক আরোহী নিষিদ্ধ করা।

৫. নিরবচ্ছিন্ন ও বিড়ম্বনামুক্ত সড়ক যোগাযোগের স্বার্থে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফেরি এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং এসব নৌপথে ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধ।

৬. মহাসড়কে অনিবন্ধিত, ত্রুটিপূর্ণ ও বিপজ্জনক সব ধরনের যানবাহন নিষিদ্ধ এবং সড়ক সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।

৭. বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতামতের ভিত্তিতে সড়ক, মহাসড়ক ও বিভিন্ন মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো জরুরিভিত্তিতে সংস্কার করা।

৮. বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিআরটিএকে শক্তিশালী এবং দুটি সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি।

৯. পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মধ্যে যাত্রী ও যানবাহন চলাচল অনেক বেড়ে যাবে। তাই ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের ওপর বাড়তি নজরদারি আবশ্যক।

১০. বর্ষায় অতিগুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল টঙ্গী-জয়দেবপুর ১৩ কিলোমিটার সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরিভাবে সেখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার।

১১. ঈদের এক সপ্তাহ আগে মহাসড়কে ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও পচনশীল দ্রব্যবাহী গাড়ি ছাড়া সাধারণ পণ্যবাহী সব ধরনের গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

১২. সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে পুলিশ ও র‍্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়োগ এবং প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ।

নৌপথের জন্য সুপারিশ

১. ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপকূলীয় জনপদ এবং সন্দ্বীপের কুমিরা-গুপ্তছড়াসহ সাগর মোহনায় বিভিন্ন নৌপথে বিআইডব্লিউটিসির যাত্রীবাহী আধুনিক জলযান চালু।

২. ঈদ মৌসুমে রঙ লাগিয়ে লক্কড়-ঝক্কড় লঞ্চ চলাচল বন্ধে ঈদ-পূর্ববর্তী ১৫ দিনের মধ্যে বার্ষিক সার্ভের (ফিটনেস পরীক্ষা) আবেদন করলে শিপ সার্ভেয়াররা যাতে দায়সারা সার্ভে করতে না পারেন সেজন্য ঈদের আগে ওই লঞ্চের ফিটনেস সনদ প্রদান বন্ধ রাখা।

৩. যাত্রীবাহী লঞ্চ, ওয়াটারবাস ও ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানের ফিটনেস যথাযথভাবে পরীক্ষার জন্য শিপ সার্ভেয়ারের শূন্য পদগুলোসহ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সব শূন্যপদে অবিলম্বে অনুমোদিত জনবল নিয়োগ করা।

৪. ছাদে যাত্রী বহন ও ডেকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ঠেকাতে লঞ্চমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ঈদের অন্তত ১৫ দিন আগে সদরঘাট থেকে বিভিন্ন নৌপথে লঞ্চের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে ঈদের এক সপ্তাহ আগে অন্য নৌপথের কোনো লঞ্চকে চলাচলের সুযোগ দেয়া যাবে না।

৫. নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নৌপথে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদারকরণ।

৬. সব নৌপথে অনিবন্ধিত ও ফিটনেসবিহীন স্পিডবোট চলাচল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এই বাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা।

৭. সব লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও যাত্রীনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

রেলপথের জন্য সুপারিশ

১. ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রির কাউন্টার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ঢাকায় পাঁচটির অধিক স্থানে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা।

২. কাউন্টারে সরাসরি টিকিটপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে জনভোগান্তি লাঘব করা।

৩. রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিটপ্রাপ্তির জটিলতা নিরসন।

৪. গত ঈদে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে। একই এনআইডি দিয়ে একই ব্যক্তির বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিকবার টিকিট কেনার সুযোগ আছে কি-না রেল কর্তৃপক্ষকে তা স্পষ্ট করতে হবে। যদি থাকে তাহলে টিকিট কালোবাজারি রোধে অবশ্যই তা বন্ধ করতে হবে।

৫. যাত্রীর চাপ বেশি- এমন রেলপথে ট্রেনের কোচ (বগি) এবং প্রয়োজনে ট্রেন সংখ্যা বাড়ানো; যাতে যাত্রীরা ছাদে চড়তে বাধ্য না হন।

৬. জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও জনভোগান্তি লাঘবে কমলাপুরসহ জনবহুল রেল স্টেশনগুলোতে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kazi Nazrul Islam Betrayal love who remembers as well

দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি

দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি অলঙ্করণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা
কাজী নজরুলের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ)। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম হয় তার।

দেশে সম্প্রতি কাজী নজরুল ইসলামের একটি গান ও গানটি লেখার পেছনের গল্প নিয়ে বেশ ভালোই তর্ক-বিতর্ক হয়ে গেল।

নজরুলের লেখা ‘বাগিচায় বুলবুলি’ গানটি কোক স্টুডিও বাংলা প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের পর সমালোচকরা বলছেন, গানটি নজরুল লিখেছিলেন পুত্র হারানোর শোকে।

পরে অবশ্য নজরুল পরিবারের সদস্য খিলখিল কাজী এবং অনির্বাণ কাজী নিশ্চিত করেন যে, ‘বাগিচায় বুলবুলি’ গানটি পুত্র হারানোর শোকে নয়। বিতর্ক মিটে গেল, কিন্তু রয়ে গেল এক পিতার পরিচয়। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, যাকে ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘সাম্যের কবি’, ‘প্রেমের কবি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

তার বিভিন্ন লেখায় প্রকাশ পায় বিদ্রোহী ভাব। কবির কলমে বের হয়ে আসে, ‘মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত/যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ ভূমে রণিবে না/বিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত।’

পুত্র হারানো শোকগ্রস্ত বাবার আবেগও বেরিয়ে আসে কবির কাব্য, লেখা, সুর ও গানে। কবি লেখেন, ‘ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি/করুণ চোখে চেয়ে আছে সাঝের ঝরা ফুলগুলি/ফুল ফুটিয়ে ভোরবেলাকে গান গেয়ে/নীরব হ’লো কোন বিষাদের বান খেয়ে/বনের কোলে বিলাপ করে সন্ধ্যারাণী চুল খুলি।’

কবির আরেক ছেলে কাজী সব্যসাচীর স্মৃতিচারণামূলক লেখা থেকে জানা যায়, একদিন নজরুলের বাড়ি তল্লাশি করতে আসে কলকাতা পুলিশ। নিষিদ্ধ কোনো বই তার কাছে আছে কি না, সেটা খুঁজতেই তল্লাশি। ‘বিষের বাঁশি’, ‘ভাঙার গান’, ‘প্রলয়শিখা’ বাজেয়াপ্ত ছিল তখন। শুরু হলো তল্লাশি। নজরুল এতে কোনো বাধা দিলেন না।

খোঁজাখুঁজি করে কিছুই পেল না পুলিশ। বাড়ির জিনিসপত্রের অনেক কিছুই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেদিকে নজর নেই কবির।

হঠাৎ একটা বাক্সের দিকে নজর গেল পুলিশের। ওই দিকে এগোতেই কবি পাগলের মতো হয়ে গেলেন। তল্লাশি চালাতে আসা পুলিশের দলটির প্রধানকে অনুরোধ করে বললেন, ‘আর যাই করুন, এ বাক্সে হাত দেবেন না।’

পুলিশ সদস্যও জেদ করে বাক্স খুলে দেখলেন। পাওয়া গেল খেলনা ও ছোট ছেলের জামা, সুন্দরভাবে সাজানো। সেগুলো ছিল নজরুলের প্রয়াত ছেলে বুলবুলের স্মৃতি। লজ্জিত পুলিশ দলের প্রধান দেখলেন, চোখে পানি টলমল করছে নজরুলের।

যে বুকে এত দ্রোহ থাকে, সেই বুকে যে সন্তানের জন্য অনেক ভালোবাসাও থাকে, এ যেন তারই উদাহরণ।

প্রেমিক নজরুল প্রচণ্ড স্পর্ধা রাখেন। যেমন: তার ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী, দেব খোঁপায় তারার ফুল/কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির, চৈতী চাঁদের দুল’ গানে প্রিয়ার খোঁপায় তারার ফুল পরানোর বাসনার কথা শুনে প্রেমিক মনের স্পর্ধার কথা বোঝা যায়।

সাম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারেও তার লেখাই যেন আশ্রয়। নজরুল লিখেন, ‘এল নন্দের নন্দন নব-ঘনশ্যাম/এল যশোদা-নয়নমণি নয়নাভিরাম/এল যশোদা-নয়নমণি নয়নাভিরাম/প্রেম রাধা-রমণ নব বঙ্কিম ঠাম/চির-রাখাল গোকুলে এল গোলক ত্যজি/কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী/কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী।’

তুমুল প্রতিভাধর এ মানুষটির জন্মদিন আজ। ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম হয় তার।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৫ মে কবি জন্মদিনে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে। ঢাকায় এনে তাকে জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কবির ‘চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’কে সামরিক সংগীত হিসেবে নির্বাচিত করে তাকে সম্মানিত করা হয়।

১৯৭৬ সালে নজরুলকে দেয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। ওই বছরের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় জাতীয় কবির।

মৃত্যুর পর কবির ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত জাতীয় কবি।

আরও পড়ুন:
‘রবি’কে নজরুল নাতনির ‘ধিক’
‘বহুমাত্রিক দর্শনের সমাহার ঘটিয়েছিলেন জাতীয় কবি’
মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা ছিলেন নজরুল: কাদের
সংকটে প্রেরণা নজরুল: খালিদ
বিদ্রোহী কবির জন্মদিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Gathering of devotees at Rajban Bihar to celebrate Buddha Purnima

বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপনে রাজবন বিহারে পুণ্যার্থীদের সমাগম

বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপনে রাজবন বিহারে পুণ্যার্থীদের সমাগম বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে নানা এলাকা থেকে হাজারও পুণ্যার্থী আসেন রাজবন বিহারে। ছবি: নিউজবাংলা
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে নানা এলাকা থেকে রাজবন বিহারে আসেন হাজারও পুণ্যার্থী। বুদ্ধের মাথায় পানি ঢেলে তারা সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের পায়ে শ্রদ্ধা জানান।

রাঙ্গামাটিতে নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা।

বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে সকালে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা ও রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ভিক্ষু ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।

এরপর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি থেকে রাজবন বিহার পর্যন্ত গৌতম বুদ্ধের ধাতু প্রদক্ষিণ করে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। শোভাযাত্রা শেষে রাজবন বিহারে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।

প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির বিশ্বে শান্তি ও মঙ্গল প্রার্থনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, হাজার বাতিদান, টাকা দান, ফানুসবাতি উৎসর্গ ও দান।

বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপনে রাজবন বিহারে পুণ্যার্থীদের সমাগম

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে নানা এলাকা থেকে রাজবন বিহারে আসেন হাজারও পুণ্যার্থী। বুদ্ধের মাথায় পানি ঢেলে তারা সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের পায়ে শ্রদ্ধা জানান।

জল্পনা চাকমা নামের এক পুণ্যার্থী বলেন, ‘বুদ্ধের তিন স্মৃতিবিজড়িত এই দিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে পরিবার ও নিজের মঙ্গল প্রার্থনার উদ্দেশ্যে বিহারে এসেছি।’

গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ উপলক্ষে প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি উদযাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। রোববার সারা দেশে বুদ্ধপূর্ণিমার উৎসব হলেও রাজবন বিহারে হচ্ছে এক দিন পর।

রাজবন বিহারের বয়োজ্যেষ্ঠ কয়েকজন ভিক্ষু জানান, রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত থাকে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি। রোববার বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন করলে তা বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে পড়ে না। তাই সোমবার সব আয়োজন করা হয়েছে।

এই আয়োজনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নিখিল কুমার চাকমা ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান ও পঞ্চশীল পাঠ করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা।

আরও পড়ুন:
সাড়ম্বরে পালিত বুদ্ধপূর্ণিমা
বুদ্ধপূর্ণিমা আজ
বুদ্ধপূর্ণিমায় করোনা মুক্তির প্রার্থনা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Buddha Purnima was solemnly celebrated

সাড়ম্বরে পালিত বুদ্ধপূর্ণিমা

সাড়ম্বরে পালিত বুদ্ধপূর্ণিমা ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর নির্বাণলাভের দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পালন করেন ভক্তরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
রোববার রাজধানীর অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দিরের মতো মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মন্দিরেও ছিল নানারকম আয়োজন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বৌদ্ধ বিহারে এসে আনন্দ প্রকাশ করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

করোনায় দুই বছর কিছুটা অনাড়ম্বরভাবে পালিত হলেও এবার সাড়ম্বরেই পালিত হলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা।

রোববার রাজধানীর অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দিরের মতো মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মন্দিরেও ছিল নানারকম আয়োজন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বৌদ্ধ বিহারে এসে আনন্দ প্রকাশ করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

এতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি।

তিনি বলেন, ‘একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকল ধর্মের শান্তিপূর্ণ বসবাসের বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ফরিদুল হক খান বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্ম শান্তির ধর্ম। সব ধর্মেই বলা আছে শান্তি ও সম্পৃতির কথা। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও একটি ধর্ম নিরপেক্ষ শান্তি-সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে সকল বৌদ্ধমন্দিরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের বাইরেও বৌদ্ধমন্দিরে প্রধানমন্ত্রী সহায়তা প্রদান করেছেন।’

বৌদ্ধ ভিক্ষু সুনিন্দ মিত্র বলেন, ‘মনের শুদ্ধি লাভ করাটাই আজকের দিনের প্রার্থনা। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক– গৌতম বুদ্ধের এই বাণী মাথায় রেখে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই একমাত্র লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মমিত্র মহাথেরর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত সুদর্শন দীপাল সুরেশ সিনিভিরন্তে। বোদ্ধ ধর্মের ভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রাজবন বিহারে বুদ্ধপূর্ণিমা ১ দিন পর কেন?
বুদ্ধপূর্ণিমা আজ
বুদ্ধপূর্ণিমায় করোনা মুক্তির প্রার্থনা

মন্তব্য

p
ad-close 20220623060837.jpg
উপরে