ঠিক যেন নওগাঁর দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কাহিনি। হিজাব পরার কারণে মারধরের অভিযোগ তোলার পর তোলপাড়। পরে জানা যায়, স্কুলের পোশাক না পরে আসায় সেদিন মার খেয়েছে হিন্দু শিক্ষার্থী ও ছাত্ররাও।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক পোশাক পরে আসতে বলার পর কয়েকজন মেয়ে অভিযোগ তোলে, তাদের হিজাব খুলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। তবে পরে তদন্তে দেখা গেল, এর কিছুই হয়নি।
এক ছাত্রী লিখিত অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি তদন্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান।
নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসি ল্যান্ড, জোরারগঞ্জ থানার ওসি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তারা মারধরের কোনো সত্যতা পাননি।’
স্কুলটিতে মোট ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেদিন স্কুলে যা ঘটেছিল, তার সবই সেসব ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এর মধ্যে একটিতেও সেই মেয়েটির তোলা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ক্যামেরায় দেখা গেছে, তিন ছাত্রীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষক কথা বলেছেন। কিন্তু মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখন অভিযোগকারী মেয়েটি বলছে, তাকে আলাদা ডেকে মারধর করা হয়েছে।
তবে এরই মধ্যে সেই প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলার পর তিনি তা জমা দিয়েছেন। এখন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ বলছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আবার বসবে।
কী ছিল অভিযোগে?
ইউএনও জানান, অভিযোগ ছিল তিন ছাত্রীর। তাদের মধ্যে দুজন অভিযোগ প্রত্যাহার করলেও একজন তার সিদ্ধান্তে এখনও অটল। তাদের অভিযোগ ছিল, পিটি শেষে স্কুলের তিন ছাত্রীকে ডেকে হিজাব খুলতে বলেন জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া। হিজাব খুলতে অস্বীকৃতি জানানোয় মারধর করা হয়।
ইউএনওর কাছে পাঠানো দরখাস্তে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, অ্যাসেম্বলির পরে তাকে প্রধান শিক্ষক সবার সামনে খোলা মাঠে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। এর আগেও হিজাব পরা নিয়ে তাকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এছাড়াও ছাত্রীদের হাফ হাতা পোশাক পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে মুসলিম ছাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তদন্তে কী পাওয়া গেছে?
অভিযোগের পরদিন মিরসরাই উপজেলার এসিল্যান্ড এস এম এন জামিউল হিকমা, জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন মামুন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান ঘটনাস্থলে যান।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। তার বাসায়ও গিয়েছিলাম। তার দাবি, পিটি সেশনের পর প্রধান শিক্ষক তাকে হিজাব পরায় মারধর এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করেছেন।
‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজে অ্যাসেম্বলির পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ঢোকার সময় প্রধান শিক্ষককে স্কুল ড্রেসের সঙ্গে স্কার্ফ পরা তিন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখেছি। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রধান শিক্ষক বেশ উত্তেজিত হয়ে তাদের কিছু একটা বলেছেন।
‘প্রধান শিক্ষক আমাদের জানিয়েছেন, ওই তিন ছাত্রীকে তিনি স্কুলের ড্রেস কোডের কথা বলেছিলেন। স্কুলের বাইরে হিজাব পরে আসলেও ভেতরে অবস্থানের সময় স্কুলের ড্রেস কোড মেনে পোশাক পরার কথা বলেছিলেন।
‘সেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর অভিযোগকারী লামিয়া কথা পাল্টায়। সে জানায়, সে সিসিটিভি ফুটেজের তিনজনের মধ্যে ছিল না। সে একা ছিল, প্রধান শিক্ষক তাকে একা ডেকে মারধর ও হেনস্থা করেছেন।’
শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যতটুকু সত্যতা পেয়েছি, তার প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিয়েছি। ওই ছাত্রী হিজাব পরতে পারবে বলে জানিয়ে এসেছি।’
কী আছে সিসিটিভি ফুটেজে?
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ের চারপাশে সংযুক্ত ৭০টি সিসি ক্যামেরা। ঘটনার দিন পিটি সেশনের পরের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ এসেছে নিউজবাংলার হাতে।
ফুটেজে দেখা যায়, ২৯ মার্চ সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে পিটি শেষ হয়। এক মিনিট পর ছাত্রীরা স্কুল মাঠ থেকে শ্রেণিকক্ষে ঢুকছে। ১০টা ৫৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের সময় স্কুল ড্রেসের সঙ্গে স্কার্ফ পরা তিন ছাত্রীকে ডেকে কথা বলেন সাদা শার্ট পরা প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া। এরপর ১০টা মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের সময় ওই তিন ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে চলে যায়।
সব শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে ঢোকা শেষ হয় বেলা ১১টায়। এর দুই মিনিট পর আরেকটা ক্যামেরায় শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। তিনি প্রথমে শিক্ষক মিলনায়তনে ও পরে নিজ কক্ষের দিকে যান। এ সময় তার হাতে একটি বেত ছিল।
এরপর ১১টা ৮ মিনিটে অভিযোগকারী লামিয়া আরেক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষক মিলনায়তনে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলামের কাছে যান। এক মিনিট পর শিক্ষক রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে শ্রেণিকক্ষের সামনে যান।
শ্রেণিকক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষক রবিউলের মোবাইল দিয়ে লামিয়া তার কথিত চাচার সঙ্গে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন। এই সময় রবিউল অন্য একটি শ্রেণিকক্ষে ঢোকেন। এর মধ্যে লামিয়া তার সেই কথিত চাচর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে না পেরে ১১ টা ১৩ মিনিটে ফোনটা ফেরত দিয়ে যান।
এরপর ১১ টা ১৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে শিক্ষক রবিউলে ফোনে লামিয়া সেই কথিত চাচার কল আসলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে লামিয়াকে তার শ্রেণিকক্ষে দিয়ে আসেন। সে শ্রেণিকক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলেন। এর ঘণ্টা দুয়েক পর ১টা ২১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে বাইরে থেকে আবার স্কুলে আসে লামিয়া। তার পেছনে তিন যুবককেও ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। বেলা ১টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে প্রধান শিক্ষকের অফিসে যান ওই তিন যুবক। তারা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। বেলা ১টা ৩৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢোকেন আরও এক যুবক। তিনিই লামিয়ার কথিত চাচা মুহিব বিল্লাহ।
চার যুবককে মারমুখী ভঙ্গীতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর ২ টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের হয়ে যান তারা।
যা বললেন প্রধান শিক্ষক
প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘শুরুতে আমি বুঝতে পারিনি কোন ছাত্রী। পরে যখন তাকে পেলাম, তখন বুঝতে পারি তার সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। যে তিনজন ছাত্রীকে দেখা যাচ্ছে ফুটেজে, তাদের মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং বাকি দুই জন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগকারী লামিয়া বিনতিহাও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু ওইখানে অষ্টম শ্রেণির যে ছাত্রী ছিল, তার নাম ফাতেমা তুজ জোহরা। এগুলো আসলে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। অভিযোগে যা বলা হয়েছে তার কিছুই হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘পিটির কিছুক্ষণ পর চারজন ছেলে অন্যান্য শিক্ষকসহ আমার সঙ্গে মারমুখি আচরণ করেছে। এর মধ্যে একজন মেয়ের কথিত চাচা, আরেকজন নাকি এমইএস কলেজে পড়ে। বাকি দুই জনকে আমি চিনি না।’
লামিয়ার কথিত চাচার বক্তব্য
লামিয়া যাকে চাচা উল্লেখ করেছে, তার নাম মহিব বিল্লাহ। তিনি স্কুলের কাছে একটি দোকান করেন এবং লামিয়ার দূর সম্পর্কীয় চাচা।
তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তার বাবা বিদেশ থাকায় স্কুলে তার অভিবাবক আমিই। ঘটনার পর লামিয়া আমাকে ফোনে জানায় বিষয়টা। আমি গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানতে চাই। তিনি তার কথা বলেছেন। পরদিন তিনি হিজাব পরতে আর কোনো বাধা নাই বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এটা সমাধান হয়ে গেছে।’
শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা চার জন গিয়েছিলাম, সবাই সম্পর্কে ওর চাচা। আমরা শুধু হেড স্যারকে বিষয়টা জিজ্ঞেস করেছিলাম। আমিই কথা বলেছিলাম, বাকিরা চুপ ছিল।’
অভিযোগকারীর বক্তব্য
অভিযোগকারী লামিয়া বিনতিহা বলেন, ‘ওইদিন হেডস্যার অ্যাসেম্বলির পর আমাকে ডেকে হিজাব পরার কারণে মারধর করেন। পরে আমি রবিউল স্যারের কাছ থেকে ফোন নিয়ে বিষয়টি বাসায় জানাই। দুপুরে আমার চাচা এসে স্যারদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’
সিসিটিভিতে কাউকে মারতে দেখা যায়নি জানালে সে বলে, ‘ওই তিনজনের মধ্যে আমি ছিলাম না। আমাকে একা ডেকেছিল স্যার।’
তাহলে সিসিটিভি ফটেজে নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না।’
তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন
গত ২৯ মার্চ অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ইউএনওকে পাঠানো দরখাস্ত গ্রহণ করেন মিরসরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম এন জামিউল হিকমা। পরদিন জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন মামুন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খানসহ ঘটনাস্থলে যান।
এর মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে লামিয়ার অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য করে স্কুল পরিচালনা কমিটি। পরে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করতে অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এর বাইরে অধিকতর তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) প্রধান করে অরেকটি কমিটি করা হয়।
তদন্তের বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. আবু রায়হান দোলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চাকরি নেই প্রধান শিক্ষকের
প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘ঘটনার পরদিনই তাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাকসুদ চৌধুরী। তাকে ডিসি সাহেব নাকি বলেছেন পদত্যাগপত্র নিতে, তাই তিনি আমাকে বলেছেন।’
মাকসুদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে সেসময় পরিস্থিতি বিবেচনায় ওনাকে এটা বলা হয়েছে। যেহেতু একটি সেনসিটিভ ইস্যু, তাই। আসলে আমরা তদন্ত করেছি, তার কোনো দোষ নেই। তার সঙ্গে অভিযোগকারী ছাত্রীর কোনো কথাই হয়নি। আমরা এটা নিয়ে আবার বসব।’
মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।
এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।
তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।
বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’
দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।
তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’
জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।
বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে
নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
মন্তব্য