× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Keep remittances ahead of Eid
hear-news
player
print-icon

ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সে ঢল

ঈদ-সামনে-রেখে-রেমিট্যান্সে-ঢল
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সের গতি আরও বাড়বে। সে হিসাবে এপ্রিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আড়াই বিলিয়ন ডলারে গিয়েও ঠেকতে পারে।’

ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো বেড়েছে। চলতি এপ্রিলের সাত দিনেই ৫৩ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ২০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।

৩ এপ্রিল থেকে রোজা শুরু হয়েছে। সে হিসাবে ২ অথবা ৩ মে ঈদ উদযাপিত হবে দেশে। এই সাত দিনে দেশে যে রেমিট্যান্স এসেছে সে হারে এলে এপ্রিল শেষে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার বা ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে।

এক বছর আগে গত বছরের মে মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি (২.১৭ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সের গতি আরও বাড়বে। সে হিসাবে এপ্রিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আড়াই বিলিয়ন ডলারে গিয়েও ঠেকতে পারে।’

সর্বশেষ গত মার্চে ১৮৬ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

টানা পাঁচ মাস কমার পর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ফের হোঁচট খায়। ওই মাসে ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

তার আগের দুই মাস ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এসেছিল যথাক্রমে ১৬৩ কোটি ৬ লাখ ও ১৭০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিন হওয়ায় ওই মাসে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমেছিল বলে জানায় ব্যাংকগুলো।

তবে মার্চে এই সূচকে ফের গতি ফিরে আসে। ওই মাসে ফেব্রুয়ারির চেয়ে ২৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রণোদনা বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সামনে দুটি ঈদ উৎসব আছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনগুলোয় রেমিট্যান্স আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে গত কয়েকটি ঈদ ভালোভাবে করতে পারেনি দেশের মানুষ। এবার করোনামুক্ত পরিবেশে ভিন্ন আমেজে ঈদ উদযাপিত হবে। ঈদে বাড়তি কেনাকাটার প্রয়োজন হয়; খরচ বেড়ে যায়। সে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন।’

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর রেমিট্যান্সপ্রবাহেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ওই বছরের এপ্রিলে মাত্র ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। এর পর থেকে অবশ্য মহামারির মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরোটা সময়ে (২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন) রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন দেখা যায়।

ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সপ্রবাহে ভাটার টান দেখা যায়। প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অক্টোবরে আসে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে আরও কম, ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। গত জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে পাঠাচ্ছেন তিনি ১০২ টাকা ৫০ পয়সা তুলতে পারছেন।

তবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ৯ মাসের (জুলাই-মার্চ) এখনও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে রেমিট্যান্স। এই ৯ মাসে ১ হাজার ৫৩০ কোটি (১৫.৩০ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৮৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার (১৮.৫৯ বিলিয়ন) ডলার।

এ হিসাবে জুলাই-মার্চ সময়ে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯১ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, এপ্রিলে সাত দিনে (১ থেকে ৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ডলারের কিছু বেশি। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪১ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর পাঁচটি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

আরও পড়ুন:
৮ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স মার্চে
রোজা সামনে রেখে বাড়ছে রেমিট্যান্স
প্রবাসী আয়ে ফের সুবাতাস
১o দিনেই ৬ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
সপ্তাহে ৩৮ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি ভিসা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The government wants more speed on motorcycles

মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার

মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী দেশে মোটরসাইকেলের একটা স্থায়ী বাজার তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
মোটরসাইকেল উৎপাদনে এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ১০ কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে। এদের সম্মিলিত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। দেশে এখন প্রতি ৫৪ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রতি ১৬১ জনে মাত্র একজন।

দেশে উৎপাদিত ও সংযোজিত মোটরসাইকেলের গতি আরও বাড়াতে চায় সরকার। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৮০ সিসি থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন ফোর স্ট্রোক ও টু স্ট্রোক মোটরসাইকেল স্থানীয়ভাবে বাজারজাত হচ্ছে। সরকার চায় এগুলোকে ২৫০ সিসির ওপরে নিয়ে যেতে।

মোটরসাইকেল উৎপাদনে এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ১০ কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে। এদের সম্মিলিত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২০ হাজার লোকের।

কোম্পানিগুলো যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী ইতোমধ্যে দেশে মোটরসাইকেলের একটা স্থায়ী বাজার তৈরি করেছে। এখন চেষ্টা সেই বাজার অংশীদারত্বকে আরও বড় করার। এ জন্য ক্রেতা টানতে মোটরসাইকেলে যুক্ত করা হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। নতুন ডিজাইন করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে ইঞ্জিনের শক্তি। এ উদ্যোক্তাদের নীতি-সহায়তা দিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিতে চায় সরকার। এবারের বাজেটে সেই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার

দেশে এখন প্রতি ৫৪ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রতি ১৬১ জনে মাত্র একজন। ছবি: নিউজবাংলা

ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন চারটি ধাপে জ্বালানিকে ব্যবহার উপযোগী করে। এটি একই সঙ্গে যেমন জ্বালানি-সাশ্রয়ী, তেমনি মাইলেজ বেশি, শব্দ কম এবং তুলনামূলক পরিবেশবান্ধব। অন্যদিকে টু স্ট্রোক ইঞ্জিন দুই ধাপে জ্বালানিকে ব্যবহার উপযোগী করে। তবে এ জ্বালানির একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকে। ফলে এর জ্বালানিও বেশি লাগে এবং এটি কালো ধোঁয়া উৎপন্ন করে।

সরকারের পরিকল্পনা হলো আগামীতে দেশে তৈরি সব ধরনের মোটরসাইকেল হবে আরও বেশি গতিসম্পন্ন। তাই কারখানায় ফোর স্ট্রোক বা টু স্ট্রোক ইঞ্জিন মোটরসাইকেলের উৎপাদন বা সংযোজন পর্যায়েই দুই চাকার এই বাহনটির গতি ২৫০ সিসির ওপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ খাতে বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দেয়ার অংশ হিসেবে উচ্চগতির মোটরসাইকেল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে।

বাজেটে কী পেল মোটরসাইকেল খাত

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, দেশে ২৫০ সিসির ঊর্ধ্বের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল প্রস্তুত করার কারখানা গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে ২৫০ সিসি পর্যন্ত মোটারসাইকেল আমদানিতে ফোর স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ এবং টু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ২৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপিত আছে।

অর্থমন্ত্রী ২৫০ সিসির ঊর্ধ্বের ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল আমদানিতে ফোর স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ এবং টু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ২৫০ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন বাজেটে।

খাতসংশ্লিষ্টরা এই বাজেট পদক্ষেপের পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, মোটরসাইকেল ইস্যুতে অর্থমন্ত্রী বাজেটে যে রাজস্ব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় মোটরসাইকেল শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো ও উৎপাদিত কিংবা সংযোজিত মোটরসাইকেলের গতিকে উন্নত দেশের মতো করা, যাতে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও উন্নত দেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর বিদেশি মোটরসাইকেলের প্রতি ঝোঁক কমিয়ে ক্রেতাকে দেশে তৈরি মোটরসাইকেল কিনতে উৎসাহিত করাও উদ্দেশ্য।

এ ক্ষেত্রে আরেকটি উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার প্রেক্ষাপটে এই মুহূর্তে মোটরসাইকেলের মতো বিলাসপণ্যের আমদানি ঠেকাতে ক্রেতাকে নিরুৎসাহিত করা, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অহেতুক অপচয় রোধ করতে ভূমিকা রাখবে।

বাড়ছে মোটরসাইকেলের ব্যবহার

দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে স্থানীয় উৎপাদনও। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে এখন প্রতি ৫৪ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রতি ১৬১ জনে মাত্র একজন। অর্থাৎ ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় তিন গুণ (২ দশমিক ৯৮ গুণ)। এখন দেশে সর্বনিম্ন ৭৭ হাজার টাকা থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে প্রায় সব ব্র্যান্ডের যেকোনো মডেলের মোটরসাইকেল মিলছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২৯ লাখ ৯১ হাজার।

বিআরটিএর তথ্য বলছে, সম্প্রতি দেশে ভাড়ায় চালিত অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল বৃদ্ধির কারণে এর ক্রয়-বিক্রয় এবং নিবন্ধনের হারও ঊর্ধ্বমুখী। নিবন্ধিত প্রায় ৩০ লাখ মোটরসাইকেলের মধ্যে ২৫ শতাংশই চলাচল করছে ঢাকায়।

মোটরসাইকেলের বাজার

বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএএমএ) তথ্যমতে, ২০১৭ সালে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৩টিতে। ২০১৭ সালে মোটরসাইকেলের বাজার ছিল ৪ হাজার কোটি টাকার। সেটি ২০১৯ সালে বেড়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০১৪ সালে দেশে সবকটি ব্র্যান্ড মিলে মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার ইউনিট। ২০১৮ সালে সেই বিক্রি বেড়ে হয় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ইউনিট, যা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ ইউনিটে।

মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার

দেশে উৎপাদিত ও সংযোজিত মোটরসাইকেল বর্তমানে সর্বনিম্ন ৮০ সিসি ও সর্বোচ্চ ১৬০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন ফোর স্ট্রোক ও টু স্ট্রোক। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোটরসাইকেলকে ২৫০ সিসির ওপরে নিয়ে যেতে চায় সরকার। ছবি: সংগৃহীত

এর মধ্যে বাজার অংশীদারত্বের হিসাব অনুযায়ী ভারতীয় ব্র্যান্ড বাজাজের একক অংশীদারত্ব ছিল ৫৩ শতাংশ এবং টিভিএসের ১২ শতাংশ। এ ছাড়া ভারতীয় ও জাপানি ব্র্যান্ড হিরো হোন্ডার ১৫ শতাংশ এবং দেশীয় ব্র্যান্ড রানারের ৮ শতাংশ। বাকি ১২ শতাংশের বাজার ছিল দেশীয় ও বিদেশি অন্য ব্র্যান্ডগুলোর। তবে বাজার অংশীদারত্বে ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ইয়ামাহা, সুজুকি ও মাহেন্দ্রাও।

আগামীর সম্ভাবনা যেখানে

খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের দাবি, সরকারের নীতি-সহায়তার কারণেই মোটরসাইকেল শিল্পে এই বিপ্লব ঘটেছে। তবে উন্নতির এখনও অনেক বাকি। মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে প্রতি চারজনে একজন মোটরসাকেল ব্যবহারকারী। ভারতে সেটি প্রতি ২০ জনে একজন। সেদিক থেকে বাংলাদেশ জনবহুল হয়েও মোটরসাইকেল ব্যবহারে অনেক পিছিয়ে। আর এটাই হলো দেশের মোটরসাইকেলের বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জায়গা। যার ওপর দাঁড়িয়ে আজ দেশে বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সরকারের দায়িত্বশীল মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, আগামীর বাংলাদেশে মোটরসাইকেল শিল্পের সম্ভাবনা বিরাট।

এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন নিউজবাংলাকে বলেন, সরকারের নীতি-সহায়তার কারণেই মোটরসাইকেল শিল্পে বিপ্লব ঘটেছে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসেছেন। খাতটির উন্নয়নে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। তিনি জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি এ শিল্প খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোরও উদ্যোগ রয়েছে।

লক্ষ্য প্রতি বছর ১০ লাখ ইউনিট উৎপাদন

শিল্প মন্ত্রণালয়ের দাবি, চাহিদার ৬০ শতাংশ মোটরসাইকেল দেশেই উৎপাদন হয়। বাকি ৪০ শতাংশ এখনও আমদানি হয়। তবে সরকারের মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতি ২০১৭ অনুযায়ী, প্রতি বছর ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হারে মোটরসাইকেল উৎপাদন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে ২০২৭ সালের মধ্যে সরকার স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেলের উৎপাদন বছরে ১০ লাখ ইউনিটে নিয়ে যেতে চায়। এর পাশাপাশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মোটরসাইকেলে বাজার মাত করছে যারা

বর্তমানে ভারতের বাজাজ, টিভিএস ও হিরো, জাপানের হোন্ডা, সুজুকি ও ইয়ামাহার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিদেশি মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপন করেছে। কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশি কোম্পানি, কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যান্ডের মূল প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের একক বিনিয়োগের মাধ্যমে রানার, গ্রামীণ মোটরস, লিফান, রোডমাস্টারের মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডও ইতোমধ্যে সুপরিচিত হয়ে গেছে।

পাশাপাশি এসব কোম্পানির মাধ্যমে এ শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরিতে রানার ইন্ডাস্ট্রিজ, নিটল মেশিনারিজ, কিউভিসিসহ বিভিন্ন সহযোগী শিল্পও গড়ে উঠেছে। বাজারজাতকারী এসব প্রতিষ্ঠান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈশ্বিক সর্বশেষ প্রযুক্তির সমন্বয়ে ক্রেতার রুচি অনুযায়ী সামনে আনছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের নতুন নতুন মডেল, যা বাজারে আসামাত্র লুফে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

যেভাবে দেখছে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো

দেশে ভারতের হিরো ও জাপানোর হোন্ডা ব্র্যান্ডের পরিবেশক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নিটল-নিলয় গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ নিউজবাংলাকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মোটরসাইকেলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ, চাহিদা ও ক্রয়ক্ষমতা সমান্তরাল বাড়ছে। এখন এটি মোটেও বিলাসপণ্য নয়। বরং দ্রুত সময়ে সবার গন্তব্যে পৌঁছানোর নিরাপদ ও অত্যাবশ্যকীয় বাহন।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের মূল বার্তা হচ্ছে: সরকার স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে চায়। সক্ষমতা বাড়াতে চায়। এ ক্ষেত্রে ২৫০ সিসি পর্যন্ত সুরক্ষা শুল্ক বা সম্পূরক শুল্কের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় কোম্পানিগুলোও যাতে সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। আবার এ পদক্ষেপ নেয়ার আরেকটি সময়োপযোগী উদ্দেশ্য হলো, সারা বিশ্ব এখন অর্থনৈতিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি যতটা সংকুচিত করা যাবে, বৈশ্বিক ঝুঁকি তত কম থাকবে। ফলে রিজার্ভও সুরক্ষিত থাকবে। এখানে পদক্ষেপ একটি, কিন্তু কাজ হয়েছে দুটি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলার অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও দেশীয় ব্র্যান্ড ‘রানার’-এর উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুযায়ী সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় কারখানায় কম্পোনেন্ট কাজে ব্যবহার ছাড়া দেশে ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে কোনো মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে না। তবে শুধু পুলিশ বাহিনীর কাজে ব্যবহার প্রয়োজনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণসাপেক্ষে আমদানি করার সুযোগ রাখা হলেও বাকিদের জন্য তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

‘প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানিতে ২৫০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন ফোর স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ও টু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্কারোপের হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি সেই অর্থে কিছু যায় আসে না। কারণ দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার বিষয়টি আমদানিনীতির মাধ্যমেই সুস্পষ্ট করা হয়েছে। রাজস্ব পদক্ষেপের আওতায় কম শুল্কেই উদ্যোক্তারা শিল্পের প্রয়োজনে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এখানে আমদানিকারকদের সঙ্গে দেশীয় শিল্পের কোনো সম্পর্ক নেই।

‘তবে এটা ঠিক, এখন পর্যন্ত দেশে মোটরসাইকেল শিল্পের যে অগ্রগতি সেটি সরকারের নীতি-সহায়তার ওপর ভর করেই হয়েছে। সামনে সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে যদি কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং বাংলাদেশে আরও বেশি হয়। এর জন্য স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। যত বেশি উৎপাদন স্থানীয়ভাবে করতে পারব, তত বেশি যন্ত্রাংশ স্থানীয় মার্কেট থেকেই কেনা সম্ভব হবে। তখন প্রতিযোগিতার বাজারে দামও কমে আসবে, যা আমাদের মোটরসাইকেলের বাজারে টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াবে।’

দেশে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই মোটরসের অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং ম্যানেজার ও ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের হেড অফ মার্কেটিং হুসেইন মোহাম্মদ অপশন বলেন, ‘দেশে এখন ৮০, ১১০, ১২৫, ১৩৫, ১৫০, ১৫৫ ও ১৬০ সিসির গতিবেগসম্পন্ন মোটরসাইকেল বাজারজাত হচ্ছে। এই মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ হয় দীর্ঘমেয়াদি। অথচ কোনো নতুন মডেল কিংবা ভিন্ন ভিন্ন সিসির মোটরসাইকেল উৎপাদনে ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে যে বিনিয়োগ করতে হয়, তা খুবই ব্যয়বহুল।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোম্পানিগুলোর সেই ব্যয়বহুল বিনিয়োগ সক্ষমতা এখন নেই। তবে সবাই চায় তাদের সক্ষমতাকে আরও ছাড়িয়ে যেতে। নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে। সেই চেষ্টাও হয়তো অনেকে করছে। তবে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা দেয়ার যে চেষ্টা হয়েছে, তা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। এখনই তার সুফল পাওয়া যাবে না, তবে ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।’

সামনে যত চ্যালেঞ্জ

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোটরসাইকেল শিল্পের বর্তমানে চার চ্যালেঞ্জ আছে।

প্রথমত, মোটরসাইকেল শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ৭০ শতাংশ এখনও আমদানিনির্ভর। বাকি ৩০ শতাংশ স্থানীয় জোগান আসে। তাই মোটরসাইকেল শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা সহযোগী শিল্প কিংবা ভেন্ডরের উন্নয়ন প্রয়োজন, যারা কারখানার জন্য বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করবে।

দ্বিতীয়ত, মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ব্যয় হ্রাস।

তৃতীয়ত, সহজ শর্তে ক্রেতাকে মোটরসাইকেল কেনায় ঋণ প্রদান।

চতুর্থত, মোটরসাইকেল চালনার প্রশিক্ষণের জন্য সহায়তা প্রদান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Passenger crossing started again through Bibirbazar port

বিবিরবাজার বন্দর দিয়ে ফের যাত্রী পারাপার শুরু

বিবিরবাজার বন্দর দিয়ে ফের যাত্রী পারাপার শুরু কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থল বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা
বিবিরবাজার স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে সোমবার থেকে যাত্রীদের জন্য বন্দর খুলে দিতে বলা হয়।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দুই বছর তিন মাস বন্ধ থাকার পর কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থল বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু হয়েছে।

সোমবার থেকে বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীদের পদচারণায় আবার মুখোর হয়ে উঠেছে এই বন্দর।

বিবিরবাজার স্থল বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হারাধন চন্দ্র পাল জানান, করোনার কারণে ২০২০ সালের ১৪ মার্চ বিবিরবাজার বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

দুই বছর তিন মাস পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে সোমবার থেকে যাত্রীদের জন্য বন্দর খুলে দিতে বলা হয়।

তিনি জানান, গত দুই বছর সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকলেও এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত সিমেন্ট রপ্তানি আর ভারত থেকে পেঁয়াজ, আদাসহ ৩৮ পণ্য আমদানি হচ্ছিল। তবে পরিমাণে কম ছিল।

বিবিরবাজার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আবদুল হামিদ জানান, সোম ও মঙ্গলবার ভারত থেকে ২৫ জন বাংলাদেশে আসেন। এই দুই দিনে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ জন ভারতে গেছেন।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বিবিরবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বন্দর খোলার তথ্য অনেকে জানেন না।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আবদুল হামিদ জানান, কয়েকদিনের মধ্যে বন্দরে আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।

বিকেলে ভারত যাওয়ার জন্য বন্দরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সারছিলেন প্রদীপ দত্ত।

তিনি বলেন, ‘আগরতলায় আত্মীয় স্বজন আছে। বন্দর খুলে দেয়ায় স্বজনদের দেখতে যাচ্ছি। অনেক দিন পর যাচ্ছি। এখন সবার সঙ্গে দেখা হবে। খুব আনন্দ লাগছে।’

আরও পড়ুন:
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আখাউড়া স্থলবন্দরে ভারতগামীদের ঢল
ঈদে ৮ দিনের ছুটির ফাঁদে ভোমরা স্থলবন্দর
বর্ষবরণের দিনে খুলল হিলি স্থলবন্দর
প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দর উন্নয়নের উদ্যোগ
ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The number of chairmen increased during the resignation from the associate organization

সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগের সময় বাড়ল চেয়ারম্যানদের

সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগের সময় বাড়ল চেয়ারম্যানদের বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি
কোনো ব্যক্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, মনোনীত, প্রতিনিধি বা স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম এক বছর দায়িত্ব পালন করলে মেয়াদপূর্তি, অবসর বা অব্যাহতির পর আর ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত বা চুক্তিভিত্তিক পদে নিযুক্ত হতে পারবেন না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা পরিচালকদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগের সময় আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।

৩০ জুনের মধ্যে পদত্যাগ করার কথা বলা হলেও এখন তা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ মঙ্গলবার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে।

এর আগে, ১২মে তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বা পর্ষদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত সহায়ক কমিটি যথা- নির্বাহী কমিটি, অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত ব্যক্তি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে গঠিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বা ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান, পরিচালক বা সদস্য হতে পারবেন না।

কেউ এরকম থাকলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। একইসঙ্গে পদ শূন্যের পরে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে।

এছাড়া কোনো ব্যক্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, মনোনীত, প্রতিনিধি বা স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম এক বছর দায়িত্ব পালন করলে মেয়াদপূর্তি, অবসর বা অব্যাহতির পর আর ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত বা চুক্তিভিত্তিক পদে নিযুক্ত হতে পারবেন না।

এরকম কাউকে নিয়োগ দেয়া হলে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অব্যাহতি দিতে হবে। পদ শূন্যের পরে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে।

তবে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগের এ নির্দেশনা পরিপালনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। সার্বিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট পদ হতে পদত্যাগ বা অব্যাহতি গ্রহণের মাধ্যমে পদ শূন্য করার সময়সীমা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া, আগে জারি করা প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Private vehicles shut down in Sri Lanka

শ্রীলঙ্কায় ব্যক্তিগত যানবাহনে জ্বালানি বন্ধ

শ্রীলঙ্কায় ব্যক্তিগত যানবাহনে জ্বালানি বন্ধ নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য কলম্বোর একটি জ্বালানি স্টেশনের বাইরে পাহারা দিচ্ছেন। ছবি: এএফপি
চরম অর্থনৈতিক মন্দায় ধুঁকতে থাকা ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটির শহুরে অঞ্চলের স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের দুই কোটি ২০ লাখ নাগরিককে ঘর থেকে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ায় অ-প্রয়োজনীয় যানবাহনের জন্য জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করেছে শ্রীলঙ্কা। আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কেবল বাস, ট্রেন, চিকিৎসা পরিষেবা এবং খাদ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত যানবাহনগুলো জ্বালানি নিতে পারবে

চরম অর্থনৈতিক মন্দায় ধুঁকতে থাকা ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটির শহুরে অঞ্চলের স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের ২ কোটি ২০ লাখ নাগরিককে ঘর থেকে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি একটি বেলআউট চুক্তি নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। এটি জ্বালানি এবং খাদ্যের মতো আমদানির জন্য অর্থ প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাস ও তেল প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টেকের প্রধান গবেষক নাথান পাইপার বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা হলো প্রথম দেশ, যারা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের পর এই প্রথম সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

‘শ্রীলঙ্কার তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে টার্গেট করেই এই নিষেধাজ্ঞা।’

দ্বীপরাষ্ট্রটির অনেক বাসিন্দাই জানেন না, কীভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করবে তারা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

কলম্বোর ২৯ বছরের ট্যাক্সিচালক চিনথাকা কুমারা বলেন, ‘এ পদক্ষেপ জনগণের জন্য আরও সমস্যা তৈরি করবে।

‘আমি একজন দৈনিক মজুরি উপার্জনকারী। আমি তিন দিন ধরে এই সারিতে রয়েছি। কখন পেট্রোল পাব, জানি না।’

দুষ্প্রাপ্য জ্বালানি মজুত রেশন করার লক্ষ্যে টোকেন বিতরণ করে চালকদের এখন বাড়ি যেতে বলা হয়েছে। অনেককেই ফিরতে হয়েছে টোকেন ছাড়া।

শ্রীলঙ্কায় ব্যক্তিগত যানবাহনে জ্বালানি বন্ধ

৫২ বছরের বেসরকারি খাতের নির্বাহী এস উইজেতুঙ্গা বলেন, ‘আমি দুই দিন লাইনে ছিলাম। একটা টোকেন পেয়েছি, ১১ নম্বর। তবে কখন জ্বালানি পাব তা আমি জানি না।

‘আমাকে এখন অফিসে যেতে হবে। তাই আমার গাড়িটি এখানে রেখে থ্রি-হুইলারে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।’

অর্থনৈতিক সংকট তীব্র

মহামারি, ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম এবং জনতাবাদী করের ঘাটতির কারণে শ্রীলঙ্কায় প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার অভাব দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধের তীব্র ঘাটতি জীবনযাত্রার ব্যয়কে রেকর্ড উচ্চতায় ঠেলে দিয়েছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির দেশটির অনেক মানুষ জীবিকার জন্য মোটরগাড়ির ওপর নির্ভর করে।

গত সোমবার দেশটির সরকার জানায়, ১০ ​​জুলাই পর্যন্ত পেট্রোল এবং ডিজেল কেনা থেকে ব্যক্তিগত যানবাহন নিষিদ্ধ থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র বন্দুলা গুনেবর্দেনা বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এত বড় অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন আগে হয়নি।’

নগদ অর্থের সংকটে থাকা দেশটি সস্তায় তেল সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে রাশিয়া এবং কাতারের সঙ্গে আলোচনা চালানোর চেষ্টায় আছে।

সপ্তাহান্তে সরকার বলেছিল, আগামী দিনে প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোতে জ্বালানি দেয়ার জন্য মাত্র ৯ হাজার টন ডিজেল এবং ৬ হাজার টন পেট্রোল রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকেরা বলেন, ‘আমরা নতুন স্টক পাওয়ার জন্য যা যা করতে পারি তা করছি। তবে আমরা জানি না তা কখন হবে।’

অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স হোমস বলেন, “জ্বালানি নিষেধাজ্ঞাগুলো একটি ক্রমবর্ধমান সংকটের আরেকটি ছোট লক্ষণ।”

“গতিশীলতা ইতোমধ্যেই গুরুতরভাবে সীমিত বলে মনে হচ্ছে। কারণ লোকজনকে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা অর্থনৈতিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে তুলবে।”

গত মে মাসে দেশটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছে খেলাপি হয়েছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকারের বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ। তার ভাই মাহিন্দা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেও, এখন সেই চাপে আছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া।

শ্রীলঙ্কায় ব্যক্তিগত যানবাহনে জ্বালানি বন্ধ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি দল ৩ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে।

সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ভারত ও চীনের সহায়তাও চাইছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, ‘খাদ্য, জ্বালানি এবং সারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর জন্য আগামী ছয় মাসে শ্রীলঙ্কার কমপক্ষে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।’

মন্ত্রীরাও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কৃষকদের আরও ধান চাষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ঘাটতির আশঙ্কার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সপ্তাহে অতিরিক্ত এক দিন ছুটি দিয়েছে সরকার

সরকার সংকটের জন্য কোভিড মহামারিকে দায়ী করছে। শ্রীলঙ্কার পর্যটন বাণিজ্যকে ব্যাপক প্রভাবিত করেছে করোনা। এটি দেশটির অন্যতম বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী খাত। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, অব্যবস্থাপনাই অর্থনৈতিক পতনের প্রধান কারণ।

রপ্তানির চেয়ে অনেক বেশি আমদানি করেছে শ্রীলঙ্কা। বিতর্কিত অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীনের সঙ্গে বড় অঙ্কের ঋণও তুলেছে। আর এসব কারণে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে পৌঁছায়।

২০২১ সালের প্রথম দিকে যখন শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে ওঠে, তখন সরকার রাসায়নিক সারের আমদানি নিষিদ্ধ করে বহিঃপ্রবাহকে সীমিত করার চেষ্টা করেছিল। কৃষকদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব সার ব্যবহার করতে বলা হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

এতে ব্যাপক ফসল নষ্ট হয়। শ্রীলঙ্কাকে বিদেশ থেকে খাদ্য মজুত সম্পূরক করতে হয়েছিল, যা বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতিকে আরও খারাপ করে তুলেছিল।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় টেস্টে লঙ্কা দলে চামিকা ও সান্দাকান
শানাকার জায়গায় লঙ্কার অধিনায়ক ম্যাথিউস
শ্রীলঙ্কার নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শানাকা
স্পিনাররা জেতালেন ইংল্যান্ডকে
টেস্ট ইতিহাসে প্রথম!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Discounts again to customers of financial institutions

আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ঋণ পরিশোধে আবার ছাড়

আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ঋণ পরিশোধে আবার ছাড় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি
সার্কুলারে বলা হয়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেবে। দেরিতে পরিশোধের কারণে কোনো গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। আবার কোনো ধরনের অতিরিক্ত মাশুল, সুদ বা কমিশন আদায় করা যাবে না।

ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদেরও ঋণ পরিশোধে আবার ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আদায়যোগ্য ঋণের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ শোধ করলে খেলাপি হবেন না কোনো গ্রাহক।

এ সুবিধা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে মঙ্গলবার এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত বন্যা কবলিত জেলায় কৃষি ঋণ ও সিএমএসএমই ক্ষেত্রেও এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তির ৫০ শতাংশ পরিশোধ করলে খেলাপি করা যাবে না। তবে গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিনা তা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ উদ্যোগে নিশ্চিত করতে হবে।

সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো সার্কুলারে আরও বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ শ্রেণীকরণে এর আগেও কিছু ছাড় দেয়া হয়। ২০২১ সালের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণের কিস্তির ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শোধ করলে খেলাপি করা হয়নি।

সম্প্রতি নতুন করে করোনাভাইরাসের বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বেশ কিছু জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০ শতাংশ পরিশোধ করলে খেলাপি না করার সুবিধা দেয়া হয়েছে।

এর ফলে কোনো গ্রাহক চলতি বছরের জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর প্রান্তিকে কিস্তির ৫০ শতাংশ ত্রৈমাসিকের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করলে তিনি খেলাপি হবেন না।

সার্কুলারে বলা হয়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেবে। দেরিতে পরিশোধের কারণে কোনো গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। আবার কোনো ধরনের অতিরিক্ত মাশুল, সুদ বা কমিশন আদায় করা যাবে না।

এই নির্দেশনা আনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে একই নিয়মে শ্রেণীকরণের আওতাভুক্ত হবে।

আরও বলা হয়েছে, সার্কুলারের আওতায় সুবিধা পাওয়া ঋণে আরোপিত সুদ আয়খাতে স্থানান্তর করা যাবে।

প্রতি ত্রৈমাসিকের শেষ কর্মদিবসের এ নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ হিসাবের যথানিয়মে শ্রেণিকরণ করে সিআইবি-তে রিপোর্ট করতে হবে।

এ নির্দেশনা শিগগির কার্যকর হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Japan will also pay for the second Metrorail route

এবার মেট্রোরেল হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা

এবার মেট্রোরেল হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা মেট্রোরেল-৫ প্রকল্পের রুট।
২০৩০ সালের মধ্যে এই রেল নির্মাণ হবে হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী হয়ে টেকনিক্যাল দিয়ে মিরপুর ১ হয়ে মিরপুর ১০ দিয়ে মিরপুর ১৪ ও কচুক্ষেত হয়ে বনানী ও গুলশান-২ হয়ে নতুন বাজার ও ভাটারা পর্যন্ত।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রথম রুটের অংশবিশেষ চালুর প্রস্তুতির মধ্যে দ্বিতীয় রুটের ঋণচুক্তি করে ফেলল সরকার।

মেট্রোরেল লাইন-৫ নামে এই রুটটি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর ও গুলশান হয়ে বাড্ডার ভাটারা পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০৩০ সালের মধ্যে এই রুটটি চালু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

১৯ দশমিক ৬ কিলোমিটারের এই লাইন করতে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা আপাতত দেবে ১৪০ কোটি ডলার। ডলারের সঙ্গে টাকার বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এটি বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী, এই ঋণের সুদহার ০.৭০ শতাংশ। কনসালট্যান্সি সার্ভিস ০.০১ শতাংশ। ১০ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

বুধবার বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বা ইআরডি ও জাপান দূতাবাসের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি হয়। চুক্তিটি হয় ভার্চুয়ালি।

ইআরডির বিদায়ী সিনিয়র সচিব (বর্তমানে অর্থসচিব) ফাতিমা ইয়াসমীন এবং বাংলাদেশে জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

এবার মেট্রোরেল হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা

প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি। জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা এতে অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে সংস্থাটি মোট কত টাকা দেবে, সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

কোন পথে যাবে এই রেল

প্রথম লাইনটির পুরোটাই উড়াল রেলপথ করা হচ্ছে। তবে নতুন যে রুটটি করা হচ্ছে, সেটির অর্ধেক হবে উড়াল, অর্ধেক পাতালে।

আওতায় ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পথ মাটির নিচ দিয়ে এবং বাকি ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেল নির্মাণ করা হবে।

এই রেল নির্মাণ হবে হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী হয়ে টেকনিক্যাল দিয়ে মিরপুর ১ হয়ে মিরপুর ১০ দিয়ে মিরপুর ১৪ ও কচুক্ষেত হয়ে বনানী ও গুলশান-২ হয়ে নতুন বাজার ও ভাটারা পর্যন্ত।

এই রুটে স্টেশন ধরা হয়েছে ১৪টি । এগুলো হলো: হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, মধুমতি, আমিনবাজার, গাবতলী, দারুসসালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২, নতুন বাজার ও ভাটারা।

এর মধ্যে উড়াল পথ হবে হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত। আমিনবাজার থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত পুরোটা যাবে মাটির নিচ দিয়ে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সালে প্রতিদিন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে বলে প্রাথমিকভাবে ধরা হয়েছে।

প্রতিটি একমুখী মেট্রো ট্রেন সাড়ে তিন মিনিট পরপর ছাড়বে। ট্রেনটির সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩০৮৮ জন।

প্রথম রুটও জাইকার টাকায়

মেট্রোরেলের প্রথম রুট এমআরটি-৬-এর কাজ চলছে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। এই রুটটিও জাপানি সহযোগিতা সংস্থার ঋণে হচ্ছে।

এই প্রকল্পে জাইকা থেকে ১৭ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়। অনুমোদিত ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।

তবে প্রকল্প পরে মতিঝিল ছাড়িয়ে কমলাপুর পর্যন্ত করার পর ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকা থেকে ঋণ হিসেবে নেয়া হবে ১৯ হাজার ৬৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

পুরো প্রকল্প ২০২৪ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা। তবে চলতি বছরই উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রুট চালু করে দেয়া হবে। আর এক বছর পর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু করার সিদ্ধান্ত আছে।

ঢাকায় মেট্রোর ৬টি রুট করার পরিকল্পনা

রাজধানীকে দুঃসহ যানজট থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ছয়টি মেট্রোরেলের রুট চালুর পরিকল্পনা আছে সরকারের।

রাজধানীর উত্তরা, মতিঝিল, শাহবাগ, কমলাপুর, পূর্বাচল, মিরপুর-১০ ও বনানীকে ছুঁয়ে যাওয়া মোট ৭১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেল নেটওয়ার্কটি যাতায়াতের সময় ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ কমবে বলে আশা করছে সরকার।

আরও পড়ুন:
মোংলায় মেট্রোরেলের নবম চালান
ডিসেম্বরে কি চালু হবে মেট্রোরেল
মেট্রোরেলে আরও ১ হাজার ৩৫০ কোটি দিচ্ছে জাপান
মোংলায় মেট্রোরেলের অষ্টম চালান
চট্টগ্রামে মাটির নিচে মেট্রোরেল করার প্রস্তাব তথ্যমন্ত্রীর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Monglas record surpasses Chittagong in car imports

গাড়ি আমদানিতে চট্টগ্রামকে ডিঙিয়ে মোংলার রেকর্ড

গাড়ি আমদানিতে চট্টগ্রামকে ডিঙিয়ে মোংলার রেকর্ড গাড়ি আমদানিতে রেকর্ড গড়েছে মোংলা বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে দেশে গাড়ি আমদানির ৬০ শতাংশ হয়েছে মোংলা বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি হয়েছে ৪০ শতাংশ। এবার এই দুই সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৮৩টি। এর মধ্যে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে এসেছে ২০ হাজার ৮০৮ এবং চট্টগ্রাম বন্দরে ১৩ হাজার ৯১৩টি গাড়ি।’

চট্টগ্রাম বন্দরকে পেছনে ফেলে গাড়ি আমদানিতে রেকর্ড গড়েছে মোংলা বন্দর।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে গাড়ি আমদানি হয়েছে ২০ হাজার ৮০৮টি, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০০৯ সালে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি শুরু হয়। ৮ হাজার ৯০৯টি দিয়ে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে গাড়ি আমদানি বাড়তে থাকে। চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই গাড়ি আমদানিতে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে মোংলা বন্দর।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে দেশে গাড়ি আমদানির ৬০ শতাংশ হয়েছে মোংলা বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি হয়েছে ৪০ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের প্রধান দুটি সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৮৩টি। এর মধ্যে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে এসেছে ২০ হাজার ৮০৮ এবং চট্টগ্রাম বন্দরে ১৩ হাজার ৯১৩টি গাড়ি।’

বিগত অর্থবছরগুলোর তুলনায় এটাই সর্বোচ্চ বলে জানান তিনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘মোংলা বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি বেড়েই চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, স্বল্প সময়ের মধ্যে বন্দর থেকে গাড়ি খালাস, গাড়ি রাখার উন্নতমানের শেড ও ইয়ার্ড এবং গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিতের কারণে আমদানিকারকরা মোংলা বন্দরকে বেছে নিয়েছেন।’

তিনি জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। ১৭০ কিলোমিটার দূরত্বের রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের বন্দর এটি। ব্যবসায়ীরা সড়কপথে সাড়ে তিন ঘণ্টায় গাড়ি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পারছেন। এতে লাভবান হবেন তারা।

উন্নত সড়ক ব্যবস্থার কারণে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহসাই আরও বাড়বে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন:
ভোমরায় ৭ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকল কেন
বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৭ দিন আমদানি- রপ্তানি বন্ধ
আমদানি পরবর্তী অর্থায়ন নীতিমালা শিথিল
এলসি বাড়ছে হুহু করে, শঙ্কায় অর্থনীতিবিদেরা
লাগামহীন আমদানিতে চাপ অর্থনীতিতে

মন্তব্য

p
উপরে