× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Those 5000 families got TCB products
hear-news
player
print-icon

সেই ৫ হাজার পরিবার পেল টিসিবির পণ্য

সেই-৫-হাজার-পরিবার-পেল-টিসিবির-পণ্য
লালমনিরহাটের দুই ইউনিয়নে অবশেষে পাঁচ হাজার পরিবারের কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ওই দুটি ইউনিয়নে তালিকা জমা দেয়া নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। তবে তারা সেই তালিকা প্রস্তুত করে অফিসে জমা দেয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে সেখানে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।’

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের সেই দুই ইউনিয়নে অবশেষে পাঁচ হাজার পরিবারের কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি)।

দলগ্রাম ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এই পণ্য বিক্রি শুরু হয়।

দলগ্রামের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন দুজন ডিলারের মাধ্যমে চারটি স্পটে পণ্য বিক্রির কাজের উদ্বোধন করেন।

চন্দ্রপুর ইউনিয়নে দুজন ডিলারের মাধ্যমে তিনটি স্পটে টিসিবির পণ্য বিক্রির কাজ উদ্বোধন করেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সরকারদলীয় লোকজনের খবরদারিতে আটকে ছিল এই দুই ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য বিক্রি। স্থানীয় প্রশাসন এ জন্য দায়ী করে ইউনিয়ন পরিষদ দুটির বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান-মেম্বারদের।

এ নিয়ে ৬ এপ্রিল নিউজবাংলায় ‘রাজনীতিতে ঝুলে আছে ৫০০০ কার্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে উঠে আসে বিস্তারিত।

সারা দেশের মতো লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলা ও দুই পৌরসভার মোট ১ লাখ ১ হাজার ৯৪০ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে জেলা প্রশাসন। গত ২০ মার্চ ২১ জন ডিলারের মাধ্যমে ৯ হাজার ৭০৫ জন উপকারভোগীর কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর।

পরে টিসিবির কার্ডের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। এতে বন্ধ থাকে পণ্য বিক্রি। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ সংকটের সমাধান হয় শুক্রবার।

এ বিষয়ে চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তালিকা নিয়ে সমস্যা ছিল। তবে আমরা শুক্রবার তিনটি স্পটে টিসিবির পণ্য বিতরণ করছি।’

দলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘টিসিবির কার্ড নিয়ে সমস্যা ছিল। বৃহস্পতিবার এ সমস্যার সমাধান হওয়ায় শুক্রবার দুজন ডিলারের মাধ্যমে চারটি স্পটে টিসিবির এসব পণ্য দেয়া হচ্ছে।’

চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে টিসিবির তালিকা তৈরি দেরি হলেও শুক্রবার পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দুটি ইউনিয়নে তালিকা জমা দেয়া নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। তবে তারা সেই তালিকা প্রস্তুত করে অফিসে জমা দেয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে এ দুই ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রাজনীতিতে ঝুলে আছে ৫০০০ কার্ড
টিসিবির পণ্যে আর্থিক লাভ, সময়ের ক্ষতি
টিসিবির কার্ডে ‘টাকা আদায়’, তদন্তে কমিটি
পঞ্চগড়ে সারা বছর টিসিবির পণ্য দাবি
টিসিবির ট্রাকের সামনের লাইনে আ.লীগ নেতারা: মোশাররফ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Prime Minister wants to bring fuel oil from Russia

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আনতে চান প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আনতে চান প্রধানমন্ত্রী
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অন্য রাষ্ট্র রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না।’

সব দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না, এ ক্ষেত্রে তেল আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের এ নির্দেশনা দেন।

সভা শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অন্য রাষ্ট্র রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যারা বলেছিল শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে দেশ, এরপর ২ মাস পার হয়ে গেছে। আমাদের অর্থনীতি খাদে পড়বে না, উল্টো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।’

তবে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর মন্দার আভাস মনে করিয়ে দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও এর বাইরে নেই। বলেন, এ জন্য ইকোনোমাইজ বা প্রয়োজনীয় সব ব্যয় করবে সরকার। সংকোচন নয়, অহেতুক ব্যয় বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃচ্ছ্রসাধনে সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চলতি বছরের শুরু থেকেই বাড়ছিল। দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানিতে বেশি খরচ হওয়ায় কিছুটা হিমশিম খেতে হয় সরকারকে।

তাই গত ৫ আগস্ট দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয় সরকার। ডিজেল ও কেরোসিনে লিটারে বাড়ানো হয় ৩৪ টাকা। আর অকটেন-পেট্রলে বাড়ানো হয় ৫১ শতাংশ।

তার আগে থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে চেষ্টা করে সরকার। সে জন্য ডিজেলচালিত কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সময়ে সময়ে বন্ধ রাখার কথা জাননো হয়। সে কারণে দেশে ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং দেয়া শুরু হয় গত জুলাই থেকে।

প্রথমে দিনে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেয়া হলেও সেটি পরে বাড়িয়ে ২ ঘণ্টা, এমনকি কোথাও কোথাও তারও বেশি করে দেয়া শুরু হয়।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। এখন অশোধিত তেল বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে গেছে। রাশিয়ার ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে শস্যটির রপ্তানি শুরু করেছে রাশিয়া।

সেই সঙ্গে ভারতসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশও দেশটি থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চায় বলে একনেক সভায় সব বিষয় দেখে এগোতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণহীন
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শাবিতে সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস
সমালোচনার মুখে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ
জ্বালানিকে অস্ত্র বানিয়ে ইউরোপ জয় করছেন পুতিন
জনগণকে ঢাল বানানোয় ইউক্রেনের সমালোচনা অ্যামনেস্টির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dollar Business leaders lash out at banks

ডলার: ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন ব্যবসায়ী নেতারা

ডলার: ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন ব্যবসায়ী নেতারা ডলার নিয়ে ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন এফবিসিসিআই নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
‘অবিলম্বে ব্যাংকগুলোর কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কারণ, আপনি যখন ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছেন তখন অবশ্যই আপনাকে কন্ট্রোল করতেই হবে। আপনি তো একদম ছেড়ে দিতে পারেন না। ছেড়ে দিলে কী হয় তা তো দেখেছেন? কোনো কোনো ব্যাংক একটা ডলার থেকে ৪২৫ পার্সেন্ট প্রফিট করেছে- এটা তো হতে পারে না।’

ডলারের বাজারে অস্থিরতার পেছনে ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়ে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এফবিসিসিআই।

রোববার বঙ্গবন্ধুর এসএমই উন্নয়ন ভাবনা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে এই ক্ষোভ ঝাড়েন তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।

অস্থিরতা দূর করতে ডলার কেনাবেচার ক্ষেত্রে মুনাফার সিলিং নির্ধারণ করে দেয়ার প্রস্তাব করেন ব্যবসায়ী নেতারা। অবশ্য একই দিন এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ডলার কেনার চেয়ে বিক্রিতে এক টাকার বেশি মুনাফা করা যাবে না।

সেমিনারে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর কোনো ডিসিপ্লিন নাই। ডলার নিয়ে তারা যা খুশি তাই করছে। ডলারকে রাখিমালের ব্যবসার মতো করে ফেলা হয়েছে। আপনি পণ্য কিনবেন, রেখে দিবেন, লাভ হবে -তারপর বিক্রি করে দেবেন। ঠিক ডলারকেও পণ্যের মতো লাভ করার আশায় কিনে রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনাবেচা কেন সিলিং করে দিচ্ছে না। যে রেটে ডলার কেনা হয়, তার থেকে এক দুই টাকা বেশি বিক্রি করতে পারবে না- কেন এমন বাদ্যবাধকতা বেঁধে দিচ্ছে না? অতি দ্রুত ডলারের সিলিং বেঁধে দিতে হবে। তা না হলে ডলার নিয়ে যেভাবে খেলা খেলছে তারা, দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।’

বাংলাদেশ ব্যাংকে উদ্দেশ করে এফবিসিসিআই প্রধান বলেন, ‘অবিলম্বে ব্যাংকগুলোর কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কারণ, আপনি যখন ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছেন তখন অবশ্যই আপনাকে কন্ট্রোল করতেই হবে। আপনি তো একদম ছেড়ে দিতে পারেন না। ছেড়ে দিলে কী হয় তা তো দেখেছেন? কোনো কোনো ব্যাংক একটা ডলার থেকে ৪২৫ পার্সেন্ট প্রফিট করেছে- এটা তো হতে পারে না।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে এসব কথা বলেন এফবিসিসিআইর প্যানেল উপদেষ্টা ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের মাত্র ১৮ শতাংশ দেয় দেশের এসএমই খাতে। যা পায় মাত্র ৯ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। বাকি ৯১ শতাংশ এসএমই ব্যাংক ঋণের সহায়তা বঞ্চিত। এছাড়াও গত কয়েক বছরে ব্যাংকের মোট ঋণের অনুপাতে এসএমই ঋণের হার কমেছে। যা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এসএমইর উন্নয়ন করে বৈষম্য কমিয়ে আনতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই বিষয়টির উল্লেখ করে সিপিডি পরিচালক বৈষম্যের পেছনে এসএমই খাতের বিকাশ না হওয়াকে দায়ী করেন। জানান, বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশের এসএমই ঋণের সম্ভাব্য বাজার ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকের ঋণ কাঠামোতে এসএমই খাত অবহেলিত। তাই এই বিশাল লাভজনক খাতে ব্যাংকগুলো নজর দিচ্ছে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘শুধু ডলার বিক্রি করে লাভ করার জন্য এতগুলো ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়নি। এটা নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।

‘শুধু মুনাফা করাই ব্যাংকের কাজ নয়। তাদেরকে অবশ্যই জাতীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। সে জন্যই তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। নগরাঞ্চলে বড় গ্রাহকদের ঋণ দিয়ে শহর-গ্রামের মধ্যে বৈষম্য বাড়ানো ব্যাংকের কাজ নয়। বরং উন্নয়ন সুষম করার দায়িত্ব।’

এসএমই নিয়ে সবাই কথা বলে, কিন্তু কোনো কাজ করে না- এমন কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারি পর্যায়ের সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে ওঠার আশ্বাস দেন। বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশনকে আর্থিকভাবে সক্ষম করতে হবে।’

এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এসএমই খাতের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসএমইর জন্য প্লট বরাদ্দের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বড় শিল্প যেভাবে সরকারি নীতি সহায়তা পায়, ছোট উদ্যোক্তারা সেভাবে পান না। কর ও শুল্ক কাঠামোর কারণে তারা স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য না কিনে বিদেশ থেকে আমদানি উৎসাহিত হচ্ছেন।’

সরকারি প্রকল্পের জন্য স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা আরোপের আহ্বানও জানান তিনি।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘এসএমই বিকাশে সরকারের আর্থিক আনুকুল্য ও প্রকল্প আনুকুল্য পাওয়া যায় না। ২০১৯ সালের এসএমই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকার বাজেট হলেও কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি।

তৃনমূলের এসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ব্যাংকের শহরের প্রতি তিনটি শাখার বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে সাতটি শাখা স্থাপনের নিয়ম করার আহ্বান জানান বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক মোর্শেদ। তিনি জানান, তার ব্যাংকের ৯০ শতাংশ গ্রাহক এসএমই খাতের।

মুক্ত আলোচনায় নারী ক্ষুদ্র ও কুটির উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য সনদ প্রাপ্তি সহজ করা, বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ বন্ধে প্রতিযোগিতা আইন কার্যকর করা, এসএমই খাতে গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নে ইনস্টিটিউট স্থাপন করা, সরকারের নীতির কারণে কারখানা বন্ধ হলে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে এক্সিট পলিসি প্রণয়ন, শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ, প্রকৃত এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণের দাবি জানান বক্তারা।

আরও পড়ুন:
এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ
মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This time the limit of profit in the sale of dollars is determined

এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ

এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ
বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা বেঁধে দিলেও সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে তা ওঠে রেকর্ড ১২০ টাকায়। এমনকি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে তো নয়-ই, এর চেয়ে ১০ টাকা বেশিতেও মুদ্রাটি পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কার্ব মার্কেটে ডলারের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমায় রোববার ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১১৪ টাকায়। এক দিনে ৬ টাকার পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার কেনাবেচায় দামের ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ কত হতে পারবে, তা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যে দরে ডলার কেনা হবে, বিক্রির দাম হবে তার চেয়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা বেশি ।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার কিনবে, তার সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের একটি সিলিং করতে হবে। সব ব্যাংক এটি ফলো করবে বলে তারা জানিয়েছেন।’

তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আলোচনা হয়েছে ডলার কেনা ও বেচার ওই ব্যবধান এক টাকার বেশি হবে না।

করোনা শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ সারা বিশ্বে রীতিমতো ভীতি সঞ্চার করেছে। জ্বালানির দর বৃদ্ধির পাশাপাশি এটির সরবরাহে অনিশ্চয়তাসহ নানা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডলারের সংকটও তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা বেঁধে দিলেও সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে তা ওঠে রেকর্ড ১২০ টাকায়। এমনকি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে তো নয়-ই, এর চেয়ে ১০ টাকা বেশিতেও মুদ্রাটি পাওয়া যাচ্ছে না।

ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ডলার নিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর এসব ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কার্ব মার্কেটে ডলারের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমায় রোববার ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১১৪ টাকায়। এক দিনে ৬ টাকার পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, বাফেদা চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. আতাউর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও জানান, বাফেদা ও এবিবিকে ডলার মার্কেট খুব দ্রুত স্থিতিশীল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাফেদা ও এবিবি একমত হয়েছে, খুব দ্রুত ডলার মার্কেট স্থিতিশীল করবে।

ব্যাংকগুলো রপ্তানি করার পর যদি দ্রুত ডলার দেশে ফিরিয়ে আনে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো যদি আন্তব্যাংকের মধ্যে ডলার সরবরাহ করতে পারে, সেই বিষয়গুলোও বলা হয়েছে।

সিরাজুল বলেন, ‘চলতি আগস্টের প্রথম ১১ দিনে ১ বিলিয়ন কম এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে বিলাসপণ্য আমদানি বন্ধ করতে পেরেছি। ফলে এই পদক্ষেপের কারণে অসামাঞ্জস্যতা কমে আসবে।’

আরও পড়ুন:
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Minister asked why the price of goods will increase so much

পণ্যমূল্য এত কেন বাড়বে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

পণ্যমূল্য এত কেন বাড়বে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু লোক তো থাকেই অপ্রয়োজনেও জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয় ছুতা ধরে। সেটাই হচ্ছে কিছু কিছু। না হলে এত দাম তো বাড়ার কথা নয় প্রত্যেকটা জিনিসের।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর নিত্যপণ্যের দর নতুন করে লাফ দেয়ার মধ্যে এত দাম বাড়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মনে করছেন, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সব সময় সুযোগ নিয়ে বাড়তি মুনাফা করে। এবারও তাই হচ্ছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাকেও সারা বিশ্বের সংকটের জন্য দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া- দুই দেশের লাভ হলেও সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে।

গণভবনে রোববার আওয়ামী লীগের আটটি বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর এমনিতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছিল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। বিশ্ববাজারে খাদ্যের একটি বড় অংশের জোগানদাতা এই দুটি দেশ থেকে খাদ্য যেতে না পারার পর দাম বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে।

খাদ্যের পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বগতি এই মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও বাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ৫১ শতাংশ পর্যন্ত। এতে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে আরও।

তবে এ ক্ষেত্রে পাইকারির চেয়ে খুচরায় দাম বাড়ার হার অনেক বেশি। পাইকারিতে কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে যেসব পণ্যের, খুচরায় বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা, ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়ে বেশি। অভিযোগ আছে, খুচরা ব্যবসায়ীরা মানুষের মনের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি মুনাফা করছেন।

ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে বাড়তি দর নিচ্ছে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু লোক তো থাকেই অপ্রয়োজনেও জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয় ছুতা ধরে। সেটাই হচ্ছে কিছু কিছু। না হলে এত দাম তো বাড়ার কথা নয় প্রত্যেকটা জিনিসের।’

রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘করোনা যেতে না যেতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে স্যাংশন এবং পাল্টা স্যাংশন জনজীবনে সর্বনাশ ডেকে আনছে, যার ভুক্তভোগী হচ্ছে সারা বিশ্বের সাধারণ জনগণ।

‘আমেরিকা স্যাংশন দিল রাশিয়াকে শায়েস্তা করার জন্য। দেখা যাচ্ছে যে শায়েস্তা হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুধু আমাদের দেশ বলে নয়, ইউরোপের দেশগুলো এমনকি আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া- প্রত্যেকটি মহাদেশের মানুষেরই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সব জিনিসের ওপরই এর একটা প্রভাব পড়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্যাংশন দিয়ে লাভটা কী হলো? বাস্তবিক যদি লাভ কারও হয় তাহলে সেটা আমেরিকা ও রাশিয়ারই হয়েছে। কেননা বিশ্ববাজারে ডলার এবং রুবলের (রাশিয়ার মুদ্রা) মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে মরছে সাধারণ মানুষ।’

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে এর দাম সমন্বয় করা হবে বলে ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘যখনই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে, আমরা সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাডজাস্ট করব, সেটাও আমার নির্দেশ রয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের কষ্ট যে হচ্ছে সেটা তার সরকার উপলদ্ধি করতে পারছে বলেই প্রতিনিয়ত সেই কষ্ট লাঘবের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুতের সমস্যাও অনেকটাই দূর হয়ে যাবে বলেও জানান সরকারপ্রধান। বলেন, ‘হয়তো আর কিছুদিন আমাদের কষ্ট করতে হবে। আমাদের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুতের এই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
চড়ামূল্যের বাজারে স্বস্তি পেঁয়াজে
দাম বেড়েছে সাবান-ডিটারজেন্টেরও
চালের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি, সংসদে খাদ্যমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে কিছু করার থাকে না: প্রধানমন্ত্রী
রোজায় বাজার স্বাভাবিক থাকবে কি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Opening the way to import wheat from Russia

রাশিয়া থেকে গম আমদানির পথ খুলছে

রাশিয়া থেকে গম আমদানির পথ খুলছে পাশের দেশ ভারত থেকেও বাংলাদেশ গম আমদানি করছে। ছবি: সংগৃহীত
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার গমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাই রাশিয়া থেকে এখন গম আমদানি করা যাবে। ফলে জিনিসপত্রের দাম কমবে।’

রাশিয়ার গমের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় শষ্যটি দেশে আমদানির পথ খুলছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। রাশিয়ার গম দেশে এলে চালসহ অন্য খাদ্যপণ্যের দাম কমে আসবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে রোববার তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার গমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাই রাশিয়া থেকে এখন গম আমদানি করা যাবে। ফলে জিনিসপত্রের দাম কমবে।

‘রাশিয়া থেকে গম আনা শুরু হলে চালের দাম কমে যাবে, এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে। সরকার খুব নিবিড়ভাবে সাধারণ মানুষের কষ্ট পর্যবেক্ষণ করে তা কমানোর চেষ্টা করছে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার ধাক্কার পর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে সবকিছুতে। এতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার ফলে কষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের। তাই সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।’

আরও পড়ুন:
৬ দফার আন্দোলনে নানা পদক্ষেপ ছিল বঙ্গমাতার: মাহফুজা খানম
নারীদের বঙ্গমাতার আদর্শ ধারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বঙ্গমাতার জন্মদিনে ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা
৫ নারীর হাতে বঙ্গমাতা পদক
গম-ভুট্টা চাষিদের জন্য হাজার কোটি টাকার তহবিল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Indefinite strike of tea workers to raise wages from Tk 120

চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট সারা দেশের চা বাগানগুলোতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘মালিক শ্রমিকের মধ্যে চুক্তির ১৯ মাস অতিবাহিত হলেও তারা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ায়নি। এখন বলছে, তারা ১৪ টাকা মজুরি বাড়াবে। তাই আমরা শ্রমিকদের স্বার্থে এই কর্মসূচি পালন করছি।’

দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা; তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে সীমিত কর্মবিরতি পালনের পর আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন চা শ্রমিকরা। সে দাবি পূরণ না হওয়ায় সারা দেশের চা বাগানগুলোতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।

সংগঠনের ডাকে সাড়া দিয়ে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শনিবার সকাল থেকে একযোগে ধর্মঘট পালন করছেন দেশের ২৩১টি চা বাগানের চা শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত ৩ আগস্ট আমরা মালিকদের কাছে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য ১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম; কিন্তু তারা তা কর্ণপাত করেননি। এর প্রতিবাদে আমরা গত চার দিন ধরে সারা দেশের সব চা বাগানে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে যাচ্ছি। তারপরও মালিকপক্ষ আমাদের দাবি মেনে না নেয়ায় আমরা ধর্মঘটের মত কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।

চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

‘প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে। অথচ বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। দুই বছর পর পর শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। গত চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর ১৯ মাস কেটে গেলেও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেননি।’

নিপেন পাল জানান, নতুন চুক্তি না হওয়ার কারণে শ্রমিকদের বেতনও বাড়ছে না। জুনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ চা সংসদ নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন শ্রমিক নেতারা। পরে চা সংসদ নেতারা মজুরি ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩৪ টাকা করার প্রস্তাব দেন। তবে তা সন্তুষজনক না হওয়ায় তা প্রত্যাখান করেন শ্রমিক নেতারা।

এরপর এক মাস পেরোলেও মালিকপক্ষ আর কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এতে গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা চার দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে ধর্মঘট পালন করেন শ্রমিকরা। এতেও মালিক পক্ষের সাড়া না পেয়ে শনিবার সকাল থেকে পূর্ণদিবস কর্মসূচি পালন শুরু করেন চা শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের স্বার্থে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের এই নেতা বলেন, ‘আমরা কোনো অশান্তি চাই না। আমরা আমাদের অধিকার চাই। সব কিছুর দাম বাড়ার কারণে আমাদের শ্রমিকরা আর ঠিকে থাকতে পারছেন না। তাই যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের মজুরি ৩০০ টাকা করে তাদেরকে কাজে ফিরিয়ে নিতে মালিকপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকে দেশের ২৩১টি চা বাগানের প্রায় দেড় লাখ চা শ্রমিক ধর্মঘট পালন করছেন।’

বিভিন্ন জেলার ধর্মঘটের চিত্র

হবিগঞ্জ

জেলার ২৪টি বাগানে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে দুপুর ১২টার দিকে চুনারুঘাটে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের চান্দপুর এলাকায় অবরোধে বসেন তারা। সড়কে অন্তত পাঁচ হাজার শ্রমিক অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন বাগান থেকে আসছেন আরও শ্রমিক। দুপুর পৌনে ২টার দিকেও অবরোধ চলছিল।

চান্দপুর বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সাধন সাওতাল বলেন, ‘বাংলাদেশে চা শ্রমিকদের একটা বিশাল অংশ রয়েছে। এ দেশের ভোটার হয়েও তারা অবহেলিত। মৌলিক অধিকারও তাদের ভাগ্যে জুটে না। এ ছাড়া রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ১২০ টাকা মজুরি পায়। এভাবে আর আমরা চলতে পারছি না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’

মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের ভাড়াউড়া চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, চা শ্রমিকরা বাগানের নাট মন্দিরের সামনে জড়ো হয়েছেন। এ সময় কাজ বন্ধ রেখে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা।

চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ কন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ৩০০ টাকা মজুরির দাবিটি খুবই যৌক্তিক। বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে যাতে চা বাগানের মালিকপক্ষ আমাদের মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করে।’

সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, ‘চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা আজ থেকে সর্বাত্নক ধর্মঘট পালন করছি। আগামী দুই দিন বাগানের সাপ্তাহিক ছুটি ও শোক দিবসের কারণে আন্দোলন স্থগিত থাকবে। আমরা আজ বৈঠকে বসে পরবর্তী করনীয় ঠিক করব।’

তবে শ্রমিকদের আন্দোলনে যাওয়া উচিত হয়নি বলে মনে করছেন চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট বিভাগীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী।

তিনি বলেন, ‘উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় আন্দোলনে যাওয়া শ্রমিকদের উচিত হয়নি। এটি শ্রম আইনেরও পরিপন্থী, চায়ের এই ভরা মৌসুমে কাজ বন্ধ থাকলে মালিক-শ্রমিক উভয়েরই ক্ষতি হবে। আমরা আশা করব, শ্রমিকরা দ্রুত কাজে ফিরবেন।’

সিলেট

সিলেট ভ্যালির আন্দোলনরত শ্রমিকরা সকাল থেকে লাক্কাতুরা এলাকায় বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে সড়ক শ্রমিকদের সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করে।

এরপর চা শ্রমিকরা মিছিল সিলেট নগরে চলে আসেন। নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এসে অবস্থান নেন তারা।

নগরের বিমানবন্দর সড়কের লাক্তাতুরা চা বাগানের সামনে বিক্ষোভকালে আলাপ হয় রবি গোয়ালার সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এখন এক কেজি চালের দাম ৭০, পেট্রলের লিটার ১৩০ টাকা। অথচ আমরা সারা দিন খেটে মাত্র ১২০ টাকা পাই। এই বাজারে ১২০ টাকা দিয়ে সংসার চলবে কী করে?’

রবির মতো একই প্রশ্ন মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিক রতন বাউরিরও। তিনি বলেন, ‘১২০ টাকা দিয়ে এখন চাল-ডালও কেনা যায় না। মাছ-মাংস তো আমরা খেতেই পারি না। আজকাল সবজিও কিনতে পারছি না। আর সংসারের বাকি খরচ তো রইলোই।’

আক্ষেপ করে বলেন, ‘দেশে সবকিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়ছে না। আমরা কি মানুষ না?’

চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে আমরা গত ৮ আগস্ট থেকে আন্দোলন করে আসছি। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি দাওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার চা বাগানগুলোর মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। কিন্তু মালিকপক্ষের কেউ বৈঠকে আসেননি। এতে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ফলে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দেশের সবগুলো চা বাগানের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই চা শ্রমিক নেতা বলেন, ‘১২০ টাকা মজুরি দিয়ে কী হয়? মালিকপক্ষ বলে, তারা শ্রমিকদের রেশন দেয়। কী রেশন দেয়? শুধু আটা দেয়। আমাদের এগ্রিমেন্টে বলা আছে যে, ছয় মাস চাল, ছয় মাস আটা দেবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও রাখেন না। মাত্র ১২০ টাকা দিয়ে খাবার, চিকিৎসা, বাচ্চাদের লেখাপড়া কীভাবে সম্ভব?

৩০০ টাকা মজুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান রাজু গোয়ালা।

এ বিষয়ে চা বাগান মালিকপক্ষের বক্তব্য জানতে বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শ্রম দপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাজ বন্ধ করে শ্রমিকেরা আন্দোলনে গেলে মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষেরই ক্ষতি হবে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একটা সমঝোতা বৈঠক করেছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ২৮ আগস্ট তাদের সঙ্গে বসতে সময় চেয়েছেন। আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখতে বলেছেন। কিন্তু চা-শ্রমিক ইউনিয়ন সেটা মানেনি।’

এভাবে ভরা মৌসুমে হুট করে ধর্মঘট ডাকা আইনের পরপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
‘বৈকুণ্ঠপুর চা বাগান চালু না হলে কঠোর আন্দোলন’
গাছ পাচার: ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে চা শ্রমিকরা
যে জীবন চা-শ্রমিকদের
চা শ্রমিকের মৃত্যু: ৮ ঘণ্টা পর ঘরে ফিরল শ্রমিকরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Because of the wind in Kerus sails

কেরুর পালে হাওয়া যে কারণে

কেরুর পালে হাওয়া যে কারণে
সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির বিক্রির পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু মদ বিক্রি হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকার। লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকার বেশি, যা কোম্পানিটির আয়ে এযাবৎকালের রেকর্ড।

করোনা মহামারি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কড়াকড়িতে বিদেশ থেকে মদ আমদানি অনেকটাই কমে গেছে। বিকল্প হিসেবে বেড়েছে স্থানীয় মদের চাহিদা। সে সুবাদে উৎপাদন ও বিক্রিতে রেকর্ড করেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড ৮৩ বছরেরও বেশি পুরোনো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথমবারের মতো বিভিন্ন ইউনিট থেকে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রি ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

এ বছর শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট বা মদ বিক্রি থেকেই কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আয় হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা। লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকার বেশি, যা কোম্পানিটির আয়ে এযাবৎকালের রেকর্ড। গত বছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ প্রুফ লিটার বেশি মদ বিক্রি করেছে কেরু।

কোম্পানিটির দেয়া তথ্যমতে, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট বা মদ বিক্রি হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকার। এটা কেরুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই প্রথম ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে কেরু। গত বছর এই ইউনিট থেকে লাভ ছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকা।

এদিকে প্রতি বছরের মতো এবারও চিনি ইউনিটে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে কেরুতে। এর পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে চিনি ইউনিটে লোকসান সমন্বয়ের পরও কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ছিল ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কেরুর মদ বিক্রি অন্য বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত মদের চাহিদা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। সে হিসাবে প্রায় ১০ লাখ প্রুফ লিটার বেশি মদ বিক্রি করেছে কেরু।

কেরুর পালে হাওয়া যে কারণে

প্রতি মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার কেস কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি হয়ে থাকে। উৎপাদনও সে অনুযায়ী করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৭৫ মিলিলিটার, ৩৭৫ মিলিলিটার ও ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলে মদ বাজারজাত করে থাকে।

একটি কেসে ৭৫০ মিলিলিটারের ১২টি, ৩৭৫ মিলিলিটারের ২৪টি ও ১৭৫ মিলিলিটারের ৪৮টি মদের বোতল থাকে। কেরুতে রয়েছে মদের ৯টি ব্র্যান্ড। এগুলো হচ্ছে- ইয়েলো লেবেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাকাও, জারিনা ভদকা, রোসা রাম ও ওল্ড রাম।

কেরু সূত্র জানায়, দেশে বিদেশি মদের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় কেরুর মদের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। গত বছর শুল্ক ফাঁকি রোধে মদ আমদানিতে নজরদারি বাড়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বিদেশি মদের সংকট দেখা দেয় দেশের অনুমোদিত বারগুলোতে। তারপর থেকে ক্রমেই বৃদ্ধি পায় দেশে উৎপাদিত মদের চাহিদা।

চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন বাড়ায় কেরু। বিক্রিও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বাড়তে থাকে কেরুর মুনাফা।

কেরুতে বর্তমানে ৯টি ভিন্ন ব্র্যান্ডের আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য ১০ লাখ ৮০ হাজার প্রুফ লিটার মদ, ২৬ লাখ লিটার দেশি স্পিরিট ও ৮ লাখ লিটার ডিনেচার্ড স্পিরিট উৎপাদন করা হয়। মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার, চিনি এবং গুড় উৎপাদন করে থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানি।

কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ফিদাহ হাসান বাদশা বলেন, ‘বর্তমানে কেরুতে চিনি, ডিস্টিলারি, ফার্মাসিউটিক্যালস, বাণিজ্যিক খামার, আকন্দবাড়িয়া খামার (পরীক্ষামূলক) ও জৈব সার- এই ছয়টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ডিস্টিলারি ও জৈব সার ইউনিট লাভজনক।

কেরুর পালে হাওয়া যে কারণে

‘আখের রসের গুড় থেকে অ্যালকোহল ও বিভিন্ন ধরনের স্পিরিট তৈরি করে থাকে কোম্পানিটি, যা চিনি উৎপাদনের উপজাত। চিনি উৎপাদনের জন্য আখের রস আহরণের পর তিনটি উপজাত পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে গুড়, ব্যাগাস ও প্রেস মাড। মদ বা অ্যালকোহল উৎপাদনের প্রধান উপাদান হলো গুড়। গুড়ের সঙ্গে ইস্ট প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি করা হয় অ্যালকোহল।’

দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি শেষ হলে উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা হবে। উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়ে দ্বিগুণ হবে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে কেরুর। এ ছাড়া পাবনার রূপপুর, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ১টি করে বিক্রয় কেন্দ্র এবং রাজশাহী ও রামুতে ১টি করে ওয়্যারহাউস নির্মাণের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে সারা দেশে কেরুর ১৩টি ওয়্যারহাউস ও ৩টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে দুটি নতুন বিক্রয়কেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে। বিক্রয়কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরেরও কথা রয়েছে।

কেরুর পালে হাওয়া যে কারণে

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিদেশি মদের সরবরাহ কমে আসার কারণে দেশীয় ব্র্যান্ড কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সারা দেশে ১৩টি ওয়্যারহাউস ও তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ইতোমধ্যে আমরা বাড়তি চাহিদা পেয়েছি। এর মধ্যে ঢাকা ও শ্রীমঙ্গল ওয়্যারহাউসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

‘গত বছরের তুলনায় এবার কেরুর মদ বিক্রি ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বাড়তি চাহিদা পূরণে কোম্পানির বিদ্যমান ক্যাপাসিটির ব্যবহার বেড়েছে। এখনও একটি বড় অংশ অব্যবহৃত রয়েছে। এরপরও চাহিদা বাড়লে তা পূরণে মদ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

এদিকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দর্শনা চিনিকলে আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধনকালে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে দ্বিতীয় একটি ইউনিট নির্মাণের কথা জানান শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। কারণ এখানে উৎপাদিত মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জৈব দ্রাবকের মতো অন্যান্য পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে।

দেশে অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে বিয়ার তৈরির লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইউনিটটি স্থাপন করা হবে বলে কেরুর একটি সূত্রে জানা গেছে। বিদেশি বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন:
কেরু ছাড়া সরকারি সব চিনিকল লোকসানে
১০ বছরেও শেষ হয়নি কেরুর বিএমআরই প্রকল্পের কাজ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু

মন্তব্য

p
উপরে