দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নরসিংদীর এক যুবক নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে কেপটাউনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ২৬ বছরের যুবক বিপ্লব হোসেনের বাড়ি নরসিংদী সদরের মহিষাশুড়া গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুস ছাত্তার মিয়া।
নিহতের স্বজনরা নিউজবাংলাকে জানান, কেপটাউনের আর-৩শ ফিট সড়কে আজ সকালে বিপ্লবের প্রাইভেট কারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে ঠিক কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল তা এখনও জানা যায়নি। দুর্ঘটনায় বিপ্লব গুরুতর আহত হন। পরে সেখানে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তিন বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমান বিপ্লব। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। বন্ধু মহলেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিপ্লবের মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা।
ফাইল ছবি
রাজধানী ঢাকাসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিট ২০ সেকেন্ড নাগাদ এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
আকস্মিক এই ঝাঁকুনিতে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এতে অনেকেই বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ঢাকায় ভূমিকম্পের এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কোভিদ গণমাধ্যমকে জানান, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকায়।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানান, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর মিরপুর থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ জুন সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের কিছু উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় একই ধরনের মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে সেই ভূকম্পনের তীব্রতা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪ দশমিক ৫ মাত্রা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে থাকায় বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণে সতর্কতা ও দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সময় গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ইমনকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির কোফিনু এলাকার তল্লাশি চালিয়ে গাছের নিচ থেকে ঘাসঢাকা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস টাইমস।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১২ জুন নিখোঁজ হন ইমন। ওই দিন দেশটির লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। সর্বশেষ তাকে সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় দেখা গিয়েছিল। তার বাবা সাইপ্রাসের পুলিশকে বলেছেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিপণ’ চেয়েছে।
মরদেহটি উদ্ধারের পর সাইপ্রাস পুলিশ জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় ইমনের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার মোবাইল ফোন থেকে মেসেজ পাঠিয়ে পরিবার কাজ থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল।
পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় কোফিনু এলাকায় ইমনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে। পরে মোবাইল ট্র্যাক করে অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত আরেক বাংলাদেশি ২২ বছর বয়সি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক ইমনকে অপহরণ ও হত্যা করে মরদেহ ঘাস চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পুলিশকে কোফিনু এলকার একটি গাছের কথাও জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির তথ্য ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সেটি নিখোঁজ ইমনের মরদেহ।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি একটি গাছের নিছে ঘাসঢাকা অবস্থায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। রোববার বিকেল ৩টার দিকে কোফিনু এলাকার একটি রেস্টহাউসের কাছ থেকে ফুলে-ফেঁপে ওঠা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থানও ওই এলাকাতেই শনাক্ত হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে মরদেহে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইমন নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং কয়েক দিন ধরে মরদেহটি ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল।
স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে লার্নাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান জর্জ চারালাম্বুস বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পেছনে আর্থিক উদ্দেশ্য ছিল। বর্তমানে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক একাই এ অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেই স্থানটিও পুলিশকে জানিয়েছেন। মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় থাকায় মৃত্যুর সঠিক সময়কাল ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীকে নিখোঁজের রাতেই হত্যা করা হয়েছিল।
চারালাম্বুস আরও বলেন, পুলিশ বর্তমানে একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এবং ঘটনাটি সমাধানের কাছাকাছি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে সন্দেহভাজনের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অভিযান, প্রযুক্তিগত তথ্য ও যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়েছে।
এদিকে সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম ফাইলনিউজ ইংলিশ বলছে, লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকায় বসবাসকারী ইমন গত ১২ জুন একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান লিখে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানোর পরই ইমনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা নগরীর ছোটরায় ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ডুবে নিহত ৮ বছর বয়সী মাহফুজা আক্তার স্মৃতির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সোমবার (২২ জুন) রাতে নগরীর মফিজাবাদ কলোনীতে গিয়ে স্মৃতির বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রশাসক। তিনি বলেন, “গতকাল রাতটা আমি ঘুমাতে পারিনি। বারবার স্মৃতির মুখটা চোখে ভেসে উঠেছে। আমার নিজের মেয়ের কথাও মনে হয়েছে। একটি শিশুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় আমারও দায় আছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে থাকা ভাঙা স্ল্যাব চিহ্নিত করে অপসারণের কাজ শুরু করেছি। আমি চাই না আর কোনো পরিবারকে স্মৃতির পরিবারের মতো এমন শোক বয়ে বেড়াতে হোক। কুমিল্লা নগরীতে আর কোনো ভাঙা স্ল্যাব থাকবে না।”
এ সময় নগরীর দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “বিগত সময়ে যেসব ভুল হয়েছে, তার খেসারত আজ আমাদের দিতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।
স্মৃতির বাবা-মায়ের হাতে হাত রেখে তিনি যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে নিহত শিশুর বাবা বিল্লাল হোসেনের হাতে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
উল্লেখ্য, রোববার (২১ জুন) রাতে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢেকে থাকা একটি ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু মাহফুজা আক্তার স্মৃতি। মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে মুহূর্তেই নিভে যায় তার ছোট্ট জীবনের প্রদীপ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় কুমিল্লাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে নারী ও কন্যাশশিুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে জামান হোটেল মিলনায়তনে জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচি, কুড়িগ্রাম আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) নিবার্হী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কেবলই একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথষ্টে নয়; প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপক সামাজিক সচতেনতা।
উপজেলা উশাসনের পক্ষ থেকে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি হেল্পলাইন নম্বরগুলো ১০৯, ৯৯৯ এবং ১০৯৮-এর প্রচার ও বিস্তৃত করা হবে। যাতে ভুক্তভোগী নারীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পেতে পারেন।’ তিনি ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে এবং একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০২৪ সালের তথ্যানুযায়ী দেশে ৭৬ শতাংশ নারী জীবনে একবার নির্যাতনের, ৪৯ শতাংশ নারী শারিরিক ও মানসিক সহিংসতা, গড়ে ৩ জনের মধ্যে একজন নারী বিবাহিত জীবনে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এ ছাড়া ৬৪ শতাংশ নারী সহিংসতার ঘটনা কাউকে বলে না, ৭ দশমিক ২ ভাগ গর্ভবতী নারী শারিরিক সহিংসতার শিকার এবং ৫০ শতাংশ নারী জানে না কোথায় রিপোর্ট করতে হয়।
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে বাল্যবিয়ে বন্ধ, মাদক নির্মূল এবং নারীদের পারিবারিক কাজ শেষে দক্ষতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করার উপর গুরুত্ব দেন। এ ছাড়া অভিভাবক, সন্তানদের নিয়ে সচেনতা বৃদ্ধির জন্য মাঠ সমাবেশ করার আহ্বান জানান আলোচকরা।
জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসটি কর্মসূচির আঞ্চলকি ব্যবস্থাপক মহসীনের সঞ্চালনায় ডায়ালগে প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটের সৈয়দ ফাহিদ হাসান।
ডায়ালগে আরও ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জয়ন্তি রানি, সদর মৎস্য কর্মকর্তা ইসমত আরা, সদর সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খানসহ সরকারি-বেসরসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নারী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকায় জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকায় রাস্তার উভয় পাশের ফুটপাত ও সড়কে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ৭টি মামলার মাধ্যমে মোট ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফুটপাত ও সড়ক সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করা হয়, ফলে পথচারীদের চলাচল সহজতর হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক নগরবাসীর স্বার্থে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী অবৈধ দখল, ফুটপাত দখল এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালি আভা। চারদিকে ম ম গন্ধ আর মাড়াইয়ের উৎসবে মুখর গ্রামীণ জনপদ। দেশের অন্যতম প্রধান শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ফলনও হয়েছে নজরকাড়া। কিন্তু এই দৃশ্যমান আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের এক বুকচাপা কান্না। মাঠের সোনালি হাসি বাজারের নির্মম বাস্তবতার কাছে ম্লান হয়ে গেছে। ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে নওগাঁর প্রান্তিক চাষিরা এখন উৎপাদন খরচের খাতা মেলাতেই চরম হিমশিম খাচ্ছেন।
খরচের পাহাড় বনাম বাজারের নির্মমতা: চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৭৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টন ধান। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৪ মণ ধান ঘরে উঠলেও, এই বাম্পার ফলন তাদের ঘরে আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তা বয়ে এনেছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারে সার, সেচ, উন্নত বীজ, কীটনাশক এবং বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকের চড়া দামের কারণে উৎপাদন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এবার প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে কৃষকদের পকেট থেকে খরচ করতে হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। অথচ ভরা মৌসুমে বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা কমে গেছে।
বর্ষাইল গ্রামের কৃষক রুবেল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘায় মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা লাভ থাকে। বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে এই সামান্য টাকা দিয়ে পরিবার চালানো এবং পরবর্তী চাষের খরচ জোগানো অসম্ভব।’
একই চিত্র দেখা গেছে মান্দা উপজেলার হামিদুর রহমানের ক্ষেত্রেও। তিনি ৫ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণা-৫’ জাতের ধান চাষ করে বিঘাপ্রতি ২৬ হাজার ৬২০ টাকার ধান বিক্রি করলেও, খরচ বাদে তার নিট লাভ দাঁড়িয়েছে মাত্র সাড়ে ৮ হাজার টাকা।
প্রান্তিক চাষিদের মতে, বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি অন্তত ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা না হলে এই লোকসান ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও সরকারি বক্তব্য: কৃষকের ঘামে ভেজা সোনালি ধান যখন মধ্যস্বত্বভোগী আর চালকল মালিকদের গুদাম সমৃদ্ধ করছে, তখন মাঠের প্রকৃত কারিগররা থাকছেন দেনার দায়ে জর্জরিত। তবে বাজার পরিস্থিতির এই আকস্মিক পতনের পেছনে কৃষকদের তাড়াহুড়োকেও অন্যতম কারণ মনে করছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান জানান, অনেক কৃষক ধান কাটার পরপরই বাজারে বিক্রি করে দেন। ফলে বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বা আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে যায়। ধান কিছুদিন ঘরে সংরক্ষণ করে বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকটের গভীর আশঙ্কা: কৃষক ও শ্রমিক নেতাদের মতে, নওগাঁর মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলে কৃষকদের এই অর্থনৈতিক অবহেলা দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি। বাসদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড জয়নাল আবেদীন মুকুল সতর্ক করে বলেন, ‘ধান বিক্রি করে যা লাভ হচ্ছে, তা দিয়ে পরবর্তী আবাদের ব্যয়ের সংকুলান মিলছে না। কৃষকরা এভাবে ক্রমাগত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে থাকলে একসময় তারা ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। ফলে দেশের আমদানিনির্ভরতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করতে পারে।’
নওগাঁর কৃষকদের বাঁচাতে হলে কেবল আশ্বাসের বাণী যথেষ্ট নয়। উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরাসরি প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের কার্যকর ও স্বচ্ছ উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, আগামী দিনে মাঠের এই সোনালি হাসি এবং দেশের খাদ্য স্বয়ম্ভরতা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
ছবি: নিউজবাংলা২৪.কম
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে 'বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস, ২০২৬' উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে র্যালি ও এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আমিনুল ইসলাম। এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিচুর রহমান, বাঙালপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রুস্তম উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর সহ উপজেলার বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন এবং তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি-বেসরকারি সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য