× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
In Mamunulkand the ruined resort could not turn around for a year
google_news print-icon

মামুনুলকাণ্ডে তছনছ রিসোর্টটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এক বছরেও

নারীসহ অবরুদ্ধ মামুনুল
সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে ঝর্ণা নামের এক নারীসহ অবরুদ্ধ হন মামুনুল। ছবি: নিউজবাংলা
রয়েল রিসোর্টের ব্যবস্থাপক খাইরুল কবির লাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে মেরামত কাজে। এর পুরোটাই তো লোকসান। করোনার কারণে এই সময়ে ব্যবসায় এমনিতেই মন্দা। তার ওপর এত টাকার ধকল। সব মিলিয়ে ভালো থাকার তো সুযোগ নেই।’

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে আলোড়ন তোলা ঘটনা।

স্ত্রী নন, এমন নারীসহ সেখানে আটক হয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সে সময়ের ব্যাপক প্রভাবশালী নেতা মামুনুল হক। স্থানীয়দের জেরার মুখে যখন সঙ্গিনীকে স্ত্রী দাবি করার পর সত্যিকার স্ত্রীর সঙ্গে তৈরি হয় বিবাদ। সন্তানসহ ঘর ছাড়েন তিনি। এখনও ফিরেছেন কি না জানা যাচ্ছে না কোনোভাবে।

সেই রাতে অবরুদ্ধ মামুনুলকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে ধর্মভিত্তিক দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। মসজিদে মাইকিং করে জড়ো হয়ে চলে রিসোর্টে হামলা। প্রধান ফটক থেকে ভেতরের সাজানো গোছানো রিসোর্টটি তছনছ করে দেয় তারা।

এরপর মামুনুল সেখান থেকে ঢাকায় ফেরেন। কিন্তু সেই ঘটনাটি তার সে সময়ের প্রভাবশালী অবস্থানকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।

ঘটনা সেখানেই থেমে থাকেনি। হামলা হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, মহাসড়কে যানবাহনে।

এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই রয়েল রিসোর্ট কেমন আছে?

মামুনুলকাণ্ডে তছনছ রিসোর্টটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এক বছরেও
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্ট

রিসোর্টের ব্যবস্থাপক খাইরুল কবির লাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে মেরামত কাজে। এর পুরোটাই তো লোকসান।

‘করোনার কারণে এই সময়ে ব্যবসায় এমনিতেই মন্দা। তার ওপর এত টাকার ধকল। সব মিলিয়ে ভালো থাকার তো সুযোগ নেই।’

এই হামলার ঘটনায় রয়েল রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা করেনি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও উপজেলা যুবলীগ রফিকুল ইসলাম নান্নু তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেন৷

খাইরুল কবির বলেন, ‘আমাদের এই রিসোর্টে দেশীয় গেস্টের চেয়ে বিদেশি গেস্ট বেশি আসে। আর আসে কাপল। তবে মামুনুল হক কাণ্ডের পর আগের মতো আর কাপল আসে না। মাঝেমধ্যে কিছু গেস্ট আসে। ওই ঘটনায় শুধু রিসোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, ব্যবসারও লোকসান হয়েছে। কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে, আগের অবস্থানে ফিরে যেতে।’

রিসোর্টের মতোই ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কথা বলছেন সেই রাতের বেপরোয়া হামলার ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর করে অনেক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। পরে আমরা নিজ উদ্যোগে সেগুলো মেরামত করেছি।’

যুবলীগের সোনারগাঁ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু বলেন, ‘মামুনুলের ঘটনায় হেফাজত নেতা-কর্মীদের হামলা, ভাঙচুরে আমার প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা আর পূরণ হয়নি।’

মামুনুলকাণ্ডে তছনছ রিসোর্টটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এক বছরেও
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হেফাজতের পোড়ানো যানবাহন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যেসব যানবাহন পুড়িয়েছে তার ক্ষতিপূরণ পাননি যানবাহনের মালিকরা।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, যতদিন পর্যন্ত মামলা শেষ না হবে, ততদিন পর্যন্ত এ বিষয়ে বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু নির্ভর করছে আদালতের ওপর।’

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান জানান, এসব ঘটনায় মোট সাতটি মামলা হয়েছে। সব কটি মামলা তদন্তাধীন।

বিচার কতদূর

ঘটনার প্রায় এক মাস পর ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন তার রিসোর্ট সঙ্গিনী জান্নাত আরা ঝর্ণা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ৩ নভেম্বর মামুনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত।

২৪ নভেম্বর আদালতে জবানবন্দি দেন ঝর্ণা। আদালতে বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রয়েল রিসোর্ট ছাড়াও আরও বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছে মামুনুল।

এর পর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

মামুনুলকাণ্ডে তছনছ রিসোর্টটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এক বছরেও

১৩ ডিসেম্বর মামুনুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন রয়েল রিসোর্টের সুপারভাইজার আব্দুল আজিজ, রিসিপশন অফিসার নাজমুল ইসলাম অনিক ও নিরাপত্তা প্রহরী রতন বড়াল।

২৫ জানুয়ারি সাক্ষ্য দিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, রয়েল রিসোর্টের এক্সিকিউটিভ মাহাবুবুর রহমান ও নিরাপত্তা প্রহরী ইসমাইল হোসেন।

মামলার আরও সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে আসবেন পর্যায়ক্রমে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিবুদ্দিন আহমেদ জানান, ধর্ষণ মামলায় মামুনুলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিনজনই সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তবে মামুনুল হকের আইনজীবী ওমর ফারুকের দাবি, তার মক্কেলকে ফাঁসাতে সাক্ষীরা আদালতে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরছেন।

যুবলীগ নেতা নান্নুর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করে এখনও প্রতিবেদন দেয়া যায়নি।

আদালতে এলেই হম্বিতম্বি

ধর্ষণ মামলায় মামুনুল হককে যতবার আদালতে আনা হয়েছে, ততবার তিনি কোনো না কোনো ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হওয়া, মামলার বাদীর সঙ্গে উচ্চবাচ্য করাও বাদ যায়নি।

মামুনুল যতবার হাজির হয়েছেন ততবার তার অনুসারীরা আদালত চত্বরে হট্টগোল করেছেন।

শুরুর দিকে মামুনুলকে অন্যান্য আসামির মতো আদালতে হাজির করা হলেও তার এসব কর্মকাণ্ডে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামুনুল হককে যখন শুনানিতে আনা হয়, সে তারিখে আদালতের প্রবেশ ফটকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পাশাপাশি বহিরাগতের প্রবেশের সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে থাকে। কারণ বিগত সময় নানা ঘটনা ঘটেছে।’

হরতালের সহিংসতা

রিসোর্টকাণ্ডের আগে ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালেও ব্যাপক সহিংসতা হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ভারতের সরকারপ্রধান নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে ওই বছরের ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতকর্মীদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়।

মামুনুলকাণ্ডে তছনছ রিসোর্টটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এক বছরেও

ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জসহ আরও কয়েক জেলায়।

চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা ঠেকাতে পুলিশের গুলিতে প্রাণহানির প্রতিবাদে ২৮ মার্চ হরতাল ডাকে হেফাজত।

সেদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড় থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সংগঠনের নেতা-কর্মী ও তাদের সমর্থকরা। ভাঙচুর করে ৫০টির বেশি যানবাহন। আগুন দেয়া হয় ১১টিতে। বাদ যায়নি অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী গাড়িও।

এসব ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ ছয়টি মামলা করেছে। এসব মামলার তদন্ত শেষ করে এখনও বিচারের পর্যায়ে যায়নি।

তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সহিংসতায় মামুনুল হকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছেন তারা।

হরতালে নাশকতা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ছয়টি মামলা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, ওই ঘটনায় পুলিশ মামলা করে তিনটি। দুটি মামলা করেন ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের মালিকরা। র‍্যাব করে একটি।

এর মধ্যে দুটি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি ও পিবিআই। বাকি মামলাগুলো থানা-পুলিশ দেখছে। সব কটি মামলার তদন্ত চলমান।

গত বছরের ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। তাকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের সহিংসতা ছাড়াও ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে তাণ্ডবের আটকে থাকা মামলাও নতুন করে সচল হয়।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের নাশকতা মামলা: তৃতীয়বারও সাক্ষী আনতে ব্যর্থ রাষ্ট্রপক্ষ
ধর্ষণ মামলায় মামুনুলের বিরুদ্ধে ৩ জনের সাক্ষ্য
ঢাকার আদালতে জামিন মেলেনি মামুনুলের
মামুনুলকে দেখে স্লোগান দিয়ে ২ অনুসারী ধরা
ধর্ষণ মামলায় মামুনুলের বিরুদ্ধে ৩ জনের সাক্ষ্য

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Students police clashes in Bhairav ​​blocked the highway
কোটা সংস্কার আন্দোলন

ভৈরবে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, মহাসড়ক অবরোধ

ভৈরবে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, মহাসড়ক অবরোধ বৃহস্পতিবার ভৈরবে মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের জগন্নাথপুর এলাকায় বিনিবাজার সংলগ্ন সড়কে ও উপজেলার আকবরনগর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাবার বুলেট ছুঁড়লে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় রাবার বুলেট ও ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভৈরবে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমপক্ষে অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শহরের জগন্নাথপুর এলাকায় বিনিবাজার সংলগ্ন সড়কে ও উপজেলার আকবরনগর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাবার বুলেট ছুঁড়লে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে শহরে বিজিবি প্রবেশ করে টহল দিতে থাকে। রাবার বুলেট ও ইটপাটকেলের আঘাতে আনুমানিক ১০ জন আহত হয়। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে বিএনপির কিছু কর্মী ঘটনাটি ঘটিয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা জগনাথপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ও আকবরনগর এলাকায় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ও সংঘর্ষ থামাতে প্রায় অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়েছে।’

আরও পড়ুন:
খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক
ভাইয়ের রক্ত মাড়িয়ে আমরা কোনো সংলাপে যাব না: সমন্বয়ক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Clash between police and students in Khulna
কোটা সংস্কার আন্দোলন

খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের ধাওয়ার মুখে পুলিশ পাশের টাইগার গার্ডেন হোটেলে আশ্রয় নেয়। ছবি: নিউজবাংলা
কেএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। তবে শেষের দিকে কিছু অছাত্র দুষ্কৃতকারী গুজব ছড়িয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এসময় পুলিশ টাইগার গার্ডেন হোটেলের মধ্যে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো হামলা করা হয়নি।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবিতে চলমান আন্দোলনে খুলনায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টার দিকে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে ওই সংঘর্ষ শুরু হয়।

এসময় শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে পুলিশ শিববাড়ী মোড়ের টাইগার গার্ডেন হোটেলে আশ্রয় নেয়। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে এটি খুলনায় ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ।

সাড়ে ৬টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। তবে শেষের দিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু অছাত্র দুষ্কৃতকারী গুজব ছড়িয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এসময় পুলিশ টাইগার গার্ডেন হোটেলের মধ্যে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো হামলা করা হয়নি। মূলত যে উদ্দেশ্যে নিয়ে ওই হামলা করা হয়েছিল তা সফল হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন খুবই স্বাভাবিক রয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিববাড়ী এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শিববাড়ী মোড় এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ওই এলাকায় জড়ো হন তারা। কর্মসূচিতে খুলনার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করে ও পুলিশের সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও সন্ধ্যা ৬টার আগ পর্যন্ত সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল।

সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও ওই সময়ের আগ পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকে মাঠে ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।

আরও পড়ুন:
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক
ভাইয়ের রক্ত মাড়িয়ে আমরা কোনো সংলাপে যাব না: সমন্বয়ক
ববি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে মহাসড়ক ছাড়ল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
11 people were reported killed in the complete shutdown till evening
কোটা সংস্কার আন্দোলন

‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর

‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর রাজধানীর রামপুরায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিভি ভবন কমপ্লেক্সে আগুনের ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা
উদ্ভূত সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া খবরে রাজধানীতেই নিহত হয়েছেন আটজন। এছাড়া সাভার, মাদারীপুর ও নরসিংদীতে একজন করে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছে। বৃহস্পতিবারের এই দিনভর কর্মসূচি ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

উদ্ভূত সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া খবরে রাজধানীতেই নিহত হয়েছেন আটজন। এছাড়া সাভার, মাদারীপুর ও নরসিংদীতে একজন করে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে উত্তরায় চারজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া ধানমণ্ডিতে সংঘর্ষে ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের এক শিক্ষার্থী, রামপুরায় এক শিক্ষার্থী ও এক গাড়িচালক, যাত্রাবাড়ীতে এক রিকশাচালক, সাভারে এক শিক্ষার্থী এবং মাদারীপুর ও নরসিংদীতে একজন করে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জন।

বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় পুলিশ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন শতাধিক। নিহত দুজনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী। তার নাম জিল্লুর রহমান। তিনি ইমরেপিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাসা আফতাবনগরে। আরেকজনের নাম দুলাল মাতবর। তিনি পেশায় গাড়িচালক। সংঘাতের সময় তিনি একটি হাইএস গাড়ি চালিয়ে প্রগতি সরণির ওই এলাকা পার হচ্ছিলেন।

‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
উত্তরায় সংঘর্ষে আহত এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় পুলিশ ও র‍্যাবের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন পুলিশসহ অসংখ্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী।

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে আহত হয়ে শতাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে এখানে এসেছেন। এদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। এছাড়া তাদের হাসপাতালে ৭০ জন ভর্তি রয়েছেন। আর পাঁচজনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। নিহত আরেকজন বেসরকারি নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

ধানমন্ডিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ফারহান নামে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. ফারহানুল ইসলাম ইসলাম ভূঁইয়া (ফারহান ফায়াজ)। তার বয়স ১৮ বছর। তিনি উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণের কথা ছিল।

সাভারে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় গুলিতে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভার বাসস্ট্যান্ডের মুনসুর মার্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাদারীপুরে কোটাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের ধাওয়ায় পানিতে ডুবে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত দীপ্ত দে সরকারি মাদারীপুর কলেজের শিক্ষার্থী। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

নরসিংদীতে কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে ওই স্কুল ছাত্র নিহত হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম তাইম। সে নরসিংদী এন কে এম হাইস্কুল অ্যান্ড হোমের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ সময় পুলিশের টিয়ারশেল ও ছররা গুলিতে আরও ৫০-৬০ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Traffic stopped on Chittagong Coxs Bazar highway due to blockade
কোটা সংস্কার আন্দোলন

অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীদের অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু এলাকায় জড়ো হয়ে অবস্থান নেন কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্ণফুলী ও আনোয়ারা পথে বহু গাড়ি আটকা পড়ে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কোটা আন্দোলনকারীরা। এ কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু এলাকায় জড়ো হয়ে অবস্থান নেন কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্ণফুলী ও আনোয়ারা পথে বহু গাড়ি আটকা পড়ে।

এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।

এর আগে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে কোটাবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি উপজেলার দোহজারী পৌরসভার পৌরসদর থেকে বের হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি কোটাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দোহাজারী পৌর-সদরের প্রধান প্রধান সড়ক ও দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলটি সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দোহাজারী জামিজুরী আ. রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মিলিত হয়।

মিছিল চলাকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় আধ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

আরও পড়ুন:
সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক
ভাইয়ের রক্ত মাড়িয়ে আমরা কোনো সংলাপে যাব না: সমন্বয়ক
ববি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে মহাসড়ক ছাড়ল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন বন্ধ, পুলিশ বক্সে আগুন
শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Massive police student clash in Sylhet more than half a hundred injured including gunshots
কোটা সংস্কার আন্দোলন

সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক

সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক সিলেটে সংঘর্ষে আহত এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গেটে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা আখালিয়া, মদিনা মার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল প্রায় ৪ পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সিলেটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৫ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গেটে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা আখালিয়া, মদিনা মার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল প্রায় ৪ পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।

সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিকসিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক

বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগত অনেককেও অংশ নিতে দেখা যায়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মদিনা মার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন। এরপর মদিনা মার্কেট থেকে শাবি গেট পর্যন্ত সড়কে মহড়া দেন তারা।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দেন। জরুরি সেবার যানবাহন ও অফিস ছাড়া সব বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এই কর্মসূচি পালনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘিরে সতর্ক অবস্থানে থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। এ সময় তারা পুলিশ-বিজিবির সামনে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এই বাক্যবিনিময় চলাকালে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এসময় পুলিশও পাল্টা আক্রমণ চালায়। তারা টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সড়ক থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে শিক্ষার্থীরা আশপাশের বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংঘর্ষে বহিরাগত অনেককে অংশ নিতে দেখা যায়।

শাবি ফটক থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে নগরের আখালিয়া ও মদিনা মার্কেট এলাকায় জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সাঁজোয়া যান নিয়ে এসে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক

দফায় দফায় এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায় সড়কে।

সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য, পাঁচ সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই আন্দোলনকারী।

তবে আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের শতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে পুলিশ তাদের প্রতিহত করে। তাদের হামলায় আমাদের অন্তত ১০ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত গুরুতর। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রায় সবাই বহিরাগত।’

এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শাবি শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় আশপাশে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। তীব্র গরম উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোটা, সরকার ও পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান দেন।

তারও আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) সদস্যরাও অবস্থান নেন ক্যাম্পাসে। তারা শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে যেতে বলেন।

আরও পড়ুন:
ভাইয়ের রক্ত মাড়িয়ে আমরা কোনো সংলাপে যাব না: সমন্বয়ক
ববি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে মহাসড়ক ছাড়ল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন বন্ধ, পুলিশ বক্সে আগুন
শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of the young man was lying in the drain

সেচের ড্রেন থেকে মরদেহ উদ্ধার

সেচের ড্রেন থেকে মরদেহ উদ্ধার প্রতীকী ছবি
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে সবুজ হোসেন (৪৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের ঝিকরা ইটভাটার পাশে পানি সেচের ড্রেন থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে সজিব হোসন (৩০) নামের আরও একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রাণ হারানো সবুজ হোসেন বর্ষাইল ইউনিয়নের মল্লিকপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের প্রয়াত সাইদুল হোসেনের ছেলে।

আহত সজিব হোসেন একই গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে ও সবুজের চাচাতো ভাই।

স্থানীয় ও পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, সবুজ হোসেন তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে তার ছোট বোনের সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য বাড়িতে আসেন। অস্ত্রোপচার শেষে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার গাড়িতে নওগাঁ থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টিকিট কেটে রাখেন তিনি। রাত সাড়ে ৯টায় তার চাচা সাখাওয়াত মোটরসাইকেলে করে হাঁপানিয়া পর্যন্ত তাদের দুই ভাইকে নামিয়ে দিয়ে যান।

পরে সজিবের বাবা রাত সাড়ে ১২টায় তার মোবাইল ফোনে কল দিলে সজিব জানান, তারা সমস্যায় পড়েছেন। তার কিছু পর থেকে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভোররাতে একজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
‘ভাই যে নদীতে নেমেছিল, এ কথা কেউ জানায়নি’
পুকুরে ডুবে যমজ শিশুর মৃত্যু
ভবিষ্যতে চাল রপ্তানি করব: খাদ্যমন্ত্রী 
শিল্পীর কণ্ঠ অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী: খাদ্যমন্ত্রী
সাভারে কলেজের কক্ষ থেকে অধ্যক্ষের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shabi students protest by blocking Sylhet Sunamganj road

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে শাবি ফটকের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলনের শাবি শাখার সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘পুলিশ সকাল থেকে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তবে সব ভয় ও চাপ উপেক্ষা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে শাবি ফটকের সামনে এ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছেন। এতে সকাল থেকে সিলেটে যান চলাচল কম। দূরপাল্লার বাস প্রায় বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে জরুরি প্রয়োজনেও কেউ যাতায়াত করতে পারছেন না।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরাও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন।

শাবির বিভিন্ন হলের সামনেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।

বেলা ১১টার দিকে কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে ফটকে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও কিছু ধস্তাধস্তি হয়। পরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

তীব্র গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোটা, সরকার ও পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। অবস্থানকালে শাবি ফটকের সামনে এক প্লাটুন বিজিবি এলে তাদের গাড়ির সামনে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা। পরে বিজিবি কিছুটা দূরে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এ আন্দোলনের শাবি শাখার সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘পুলিশ সকাল থেকে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তবে সব ভয় ও চাপ উপেক্ষা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

যান চলাচল কম

এদিকে কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটে যান চলাচল একেবারেই কম।

যদিও পুলিশ বলছে, সিলেটে যান ও মানুষ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানান, অনেক চালক ভয়ে বাস বা অন্য গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হননি, তবে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কে কিছু বাস চলাচল করছে।

সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চালকদের চালকদের গাড়ি না চালাতে কোনো নির্দেশনা দিইনি, তবে ভয়ে অনেক চালক গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হননি।

‘তাই সিলেটে গণপরিবহন চলাচল কিছুটা কম, তবে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কে কিছু যানবাহন চলাচল করছে।’

সড়কে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কম দেখতে পাচ্ছেন বলেও জানান ময়নুল।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (গণমাধ্যম) বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে শাবিসহ সিলেটের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মোড়ে রয়েছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক
কোটা আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার
কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির প্রতিবাদে টরন্টোতে বিক্ষোভ
শাটডাউন: দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি

মন্তব্য

p
উপরে