× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Special project for people with disabilities and autism PM
google_news print-icon

প্রতিবন্ধী ও অটিজমে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবন্ধী-ও-অটিজমে-আক্রান্তদের-জন্য-বিশেষ-প্রকল্প-প্রধানমন্ত্রী-
১৫তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি, প্রত্যেক বাবা-মা ভাবেন, আমরা যদি না থাকি সন্তানদের কী হবে। সেই চিন্তাও আমাদের আছে। এ জন্য আমাদের একটা উদ্যোগ আছে, আমি মনে করি, আমরা যে ট্রাস্ট গঠন করেছি, সেই ট্রাস্টের মাধ্যমে আমরা এমন একটা ব্যবস্থা করে ফেলি, যেখানে হয়তো যখন কোনো গার্ডিয়ান থাকবে না, দেখাশোনার কেউ থাকবে না, তখন সেখানে তারা বসবাস করতে পারে, তারা থাকতে পারে।’

বাবা-মা বা অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে প্রতিবন্ধিতা বা অটিজমে আক্রান্ত মানুষের যত্ন-আত্তি ও তাদের প্রতিভা বিকাশ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য দেশের প্রতিটি বিভাগে তাদের আবাসন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ প্রকল্প নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রতিবন্ধিতা ও অটিজমে আক্রান্তদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবেন বলেও অঙ্গীকার করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শনিবার সকালে ১৫তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি, প্রত্যেক বাবা-মা ভাবেন, আমরা যদি না থাকি সন্তানদের কী হবে। সেই চিন্তাও আমাদের আছে। এ জন্য আমাদের একটা উদ্যোগ আছে; আমি মনে করি, আমরা যে ট্রাস্ট গঠন করেছি সেই ট্রাস্টের মাধ্যমে আমরা এমন একটা ব্যবস্থা করে ফেলি, যেখানে হয়তো যখন কোনো গার্ডিয়ান থাকবে না, দেখাশোনার কেউ থাকবে না, তখন সেখানে তারা বসবাস করতে পারে, তারা থাকতে পারে।’

২০১৪ সালে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে সরকার। ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের অটিজমসহ নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ ট্রাস্টকে ১৪৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছি। এই ট্রাস্ট থেকে ২০১৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০১ জনকে ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাস্টের মাধ্যমে তাদের জন্য এ ধরনের হোস্টেল বা ডরমেটরি আমরা তৈরি করে দিতে পারি, যেখানে তারা থাকবে। যেখানে তাদের সুরক্ষা বা দেখাশোনার জন্য লোক থাকবে। আর সেখানে যারা আপনারা বিত্তশালী আছেন ডোনেশনও দিতে পারবেন। যার মাধ্যমে ওটা চলবে। আর সরকারের পক্ষ থেকে অন্তত আমি যতক্ষণ আছি বলতে পারি, সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা করব।’

এ প্রকল্পকে শুধু ঢাকায় আটকে না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এটা বাস্তবতা যে, বাবা-মা না থাকলে তাদের কে দেখবে? সবাই তো আন্তরিকতার সঙ্গে দেখে না। আর কিছু কিছু মানুষ এত স্বার্থপর হয়ে যায়, নিজের বাবা-মাকে দেখেন না। সম্পত্তি নিয়ে মারামারি করে। সেই ক্ষেত্রে এই শিশুদের কে দেখবে, সে জন্যই মনে হয় এ ধরনের একটা ব্যবস্থা করব। আমার চিন্তাভাবনা আছে। অবশ্যই আমরা করব।’

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ক প্রকল্প তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে বলব, এর ওপর একটি প্রজেক্ট নিয়ে আসতে। এখন আমাদের আটটা বিভাগ আছে। প্রতিটি বিভাগে করে দেব। পর্যায়ক্রমে প্রতি জেলায় আমরা করে দেব।

‘আমি আবারও বলছি যে ট্রাস্টের মাধ্যমে এ ধরনের আবাসন ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, যাতে আমাদের প্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিক যারা, তারা যেন পায়, সেই ব্যবস্থাটা আমি করে দেব।’

‘যেকোনো প্রয়োজনে পাশে আছি’

এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্টের আওতায় সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধিতা ও অটিজমে আক্রান্তদের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজে তাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি যতক্ষণ আছি, আমি সব ধরনের সহযোগিতা করে যাব। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ কেউ পিছিয়ে থাকবে না।’

সমাজের সবার জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে সমাজে যারা অনগ্রসর বা অবহেলিত পড়ে আছে, তারাও সমাজের একটি অঙ্গ। তাদের যে কর্মদক্ষতা আছে, তাদেরও যে মেধা আছে, সেটা বিকাশের সুযোগ আমরা সব সময় করে দিচ্ছি। যারা প্রতিবন্ধিতা বা অটিজমে আক্রান্ত তাদের দিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অটিজমসহ অন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উন্নত আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি ও পরিচর্যায় নতুন বিষয়বস্তু প্রবর্তনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের যেকোনো পদ্ধতি বা টুলস বা কেয়ার গিভিং ওয়ে বা অ্যাপ কী করে অনুসরণ করা যায় বা কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাব। যে কোনো প্রয়োজনে আপনাদের সবার পাশে আছি।’

কেউ যেন অবহেলা না করে

প্রতিবন্ধিতা ও অটিজমে আক্রান্তদের অবহেলা না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এরা আমাদের আপনজন। তাদের দেখা, তাদের যত্ন নেয়া, অটিজম বা প্রতিবন্ধিতায় যারা ভুগছেন তাদের যত্ন নেয়া, এটা সব সুস্থ মানুষের দায়িত্ব-কর্তব্য। কেউ যেন এদের অবহেলা না করে।

‘আমরা ছোটবেলা থেকে শিখেছি, কানাকে কানা বলিও না, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না। এটা যে সব শিশু ছোটবেলা থেকেই শেখে। কাজেই সেদিকটায় সবার বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা হচ্ছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য। সবাই সুন্দর জীবন পাবে, উন্নত জীবন পাবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছি।’

প্রতিবন্ধিতা অটিজম কোনো রোগ নয়

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, এটা কোনো রোগ নয়। একসময় ছিল শিশু যদি প্রতিবন্ধী হতো বা অটিজম হতো মানুষ তাকে লুকিয়ে রাখত। পরিবার লুকিয়ে রাখত। সামনে বলতে লজ্জা পেত বা তাদের সামনে আনলে অনেকে দেখে এটা নিয়ে হয়তো নানা প্রশ্ন করত। অনেক কথা বলত।’

এ ক্ষেত্রে নিজের কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের ভূমিকার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজ-অর্ডার অ্যান্ড অটিজম বিষয়ে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল, তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দেশ-বিদেশে অটিজমের গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত আসলে তার কাছ থেকেই এটা শিখেছি এবং জেনেছি। যখন সে ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করত, তখন আমি যেতাম, সে সময় থেকে এ সম্পর্কে যা কিছু ধারণা পাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রোগ না, এটা কোনো অসুস্থতা না। একটা মানুষ তার জন্ম হয়েছে, তাকে তো আমরা অবহেলা করতে পারি না। তাকে আমরা ফেলে দিতে পারি না। তাদের আপন করে নিতে হবে।’

বাংলাদেশে যৌথ পরিবারের সংস্কৃতির দিকটি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারগুলো বড় ছিল। যৌথ পরিবার ছিল। এই যৌথ পরিবারে যখন কোনো শিশু এ ধরনের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করত, তখন অনেক ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, পরিবার-পরিজন, সবার সঙ্গে চলতে-ফিরতে এই সমস্যাগুলো খুব স্বাভাবিকভাবে দূর হয়ে যেত।’

ছোটো পরিবারগুলোতে এই সুবিধাটা নেই বলে জানান সরকারপ্রধান। তাই যাদের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা বা অটিজমের মাত্রা কম তাদের সাধারণ স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘যেসব শিশুর মধ্যে অটিজমটা একটু কম আছে বা যারা মিশতে পারে তাদের সাধারণ স্কুলে বা যারা প্রতিবন্ধী, সাধারণ স্কুলে ছোটো ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে যদি একসঙ্গে মানুষ করা যায় এবং বড় করা যায়, সবার সঙ্গে, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে থেকে থেকে কিন্তু নিজের থেকে অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠে। সুস্থ হয়ে যায়।’

পরিবারের মধ্যেও এই চর্চাটা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যত বেশি আমরা অনেক মানুষের সঙ্গে তাদের মিশতে সুযোগ করে দেব, তত দ্রুত তারা সুস্থতা লাভ করবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ তাদের ভেতর একটা আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। এ ধরনের শিশুদের মধ্যে কিন্তু অনেক সুপ্ত প্রতিভা থাকে। সেই প্রতিভাগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।’

সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

এনডিডি ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বিমা’ চালু করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এটা কার্যকর হলে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বর্তমানে ঢাকা, সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় করা হয়েছে। তবে আমি আশা করি এটা ভালোভাবে চলবে।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের একীভূত শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণে ‘অ্যাকাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজ-অ্যাবিলিটিস’ নামে একটি অ্যাকাডেমি স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আমাদের নানামুখী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জাতীয় জীবনের মূলধারায় নিয়ে আসা সম্ভব। এটা আমি বিশ্বাস করি।’

এর আগে নীল বাতি প্রজ্বালন করে দিনের শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। অটিজম সচেতনতায় কাজ করেছেন এমন সফল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় সম্মাননা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সবার হাতে সম্মাননা তুলে দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ।

‘বলতে চাই’ ও ‘স্মার্ট অটিজম বার্তা’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য ‘স্মার্ট অটিজম বার্তা’ নামক অ্যাপ চালু হচ্ছে। আর ‘বলতে চাই’ নামক আরও একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। যা মোবাইল বা ট্যাবের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে অমৌখিক যোগাযোগ অর্থাৎ ফর নন-ভারবাল পারসন, যারা কথা বলতে সক্ষম না তারা এটা ব্যবহার করতে পারবেন এবং তারা এর সুফল পাবেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The tax burden in the budget is high Increases in low income people CPD

বাজেটে করের বোঝা বেশি বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের: সিপিডি

বাজেটে করের বোঝা বেশি 
বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের: সিপিডি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের আয়কর কাঠামোতে বড় বৈষম্য দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন করকাঠামোয় তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ছে। এই শ্রেণির করদাতাদের করদায় সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। তবে ৩০ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয় করা উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই করের দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলক অনেক কম। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির চাপ, কম বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বাজেটে নির্ধারিত উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতির বিদ্যমান সংকটগুলো মোকাবিলা করা জরুরি। রোববার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠানে এমন তথ্য তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি)। সম্মানিত অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, করদাতাদের আয় বাড়ার অনুপাতে করের বোঝা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২.৫ থেকে ১৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করের দায় বাড়বে মাত্র ৭.৬ শতাংশ। এটি সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের (শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য) বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের তুলনায় হয় কমছে কিংবা স্থবির আছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী ইপিজেড, জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী বড় প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে বলে জানান তিনি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এই বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য কেবলই ‘রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো আশাবাদী হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সরকার বাজেট প্রস্তাবে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণে করা হয়েছে। তবে বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, নতুন সরকারের নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো অতি আশাবাদী। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচক। তবে এই বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক নানা ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা কমে গেছে, এমন সময় চ্যালেঞ্জিং বাজেট দিতে হয়েছে। তাই ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অর্থের বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। তিনি বলেন, বাজেট পারফেক্ট হয়েছে বলছি না। যেদিকেই হাত দিই, শুধু বকেয়া। এমন সময় দেড় মাসের মধ্যে বাজেট দিতে হয়েছে। অথচ প্রস্তুতি নিতেই অন্তত ৬ মাস দরকার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cyber ​​Sexual Harassment High Court Rules Challenging Sections of Safety Act

সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার (ইমপারসোনেশন) এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের বিধান দেয়া সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এদিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনেরা হক মনি ও অ্যাডভোকেট শাহলা শরাফিননেজাদ। রুলে বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা যতদূর পর্যন্ত সাইবার যৌন হয়রানি, নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ইমপারসোনেশন এবং নারী হয়রানি-সংক্রান্ত বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ, অবলুপ্ত, প্রত্যাহৃত বা বিলুপ্ত করার বিধান দেয়, তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।

একই সঙ্গে রুলে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৪১/২০২৩ সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে খারিজ করার আদেশ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা কার্যত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর বিলুপ্ত ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১-এর অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো—বিশেষ করে সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলো—স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের নির্দেশনা দেয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় নারী ভুক্তভোগীদের চলমান মামলাগুলোর সুরক্ষার জন্য কোনো ‘সেভিং ক্লজ’ বা ‘ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন মেকানিজম’ রাখা হয়নি। ফলে সাইবার যৌন হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি সংবিধানে প্রদত্ত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সমান সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) এবং কার্যকর প্রতিকার লাভের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক সীমা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতিকার প্রদানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রুলের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fair share of transboundary river water Government is determined to collect Water Resources Minister in Parliament

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর: সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা 
আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর: সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

রোববার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বর্তমান চুক্তি বা সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তি সম্পাদনসহ যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশকে শক্তিশালীকরণ ও অববাহিকাভুক্ত দেশ যথা-ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণে সরকার কাজ করছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, উজানের দেশগুলোতে আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজানে পানির লভ্যতাও হ্রাস পাচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
59 people sentenced to death in 7 cases 13 people Law Minister in Parliament
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ

৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা, মৃত্যুদণ্ড ১৩ জনের: সংসদে আইনমন্ত্রী

৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা, মৃত্যুদণ্ড ১৩ জনের: সংসদে আইনমন্ত্রী

চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া ৮০ মামলার মধ্যে সাতটির রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৫৯ জন আসামিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চব্বিশের জুলাইয়ের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রায় হওয়া সাত মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ৫১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২৮৮ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The killing network was active under the leadership of Jiaul Chief Prosecutor

জিয়াউলের নেতৃত্বে ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল: চিফ প্রসিকিউটর

জিয়াউলের নেতৃত্বে ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল: চিফ প্রসিকিউটর

শতাধিক গুম-খুনের খলনায়ক আলোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে একটি ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‎চিফ প্রসিকিউটর বলেন, র‍্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। জাফলংয়ে যাওয়ার পর ভারতের সাদা পোশাকের কিছু লোকজন দুজনকে নিয়ে আসেন। ভারত থেকে আনা এসব লোকদের বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। ভারত থেকে আনা দূজন ভারতের হাজতের আসামি ছিলেন।

সাক্ষীর বিবরণের বরাতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তার মধ্যেই মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো তাদের নিয়ে আসতেন। তারা কোনো দলের বা কোনো বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা কি ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।

‎তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ এক সেনা কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো চলমান রয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে। সাক্ষ্য দেওয়া সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন।

‎এ সময় তিনি উল্লেখ করে বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যদের ধরে এনে দুটি পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন তিনি। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে সাক্ষী জানিয়েছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Changes in state visits are reduced in travel companions and protocols

রাষ্ট্রীয় সফরে পরিবর্তনের ধারা, কমানো হলো সফরসঙ্গী ও প্রটোকল

রাষ্ট্রীয় সফরে পরিবর্তনের ধারা, কমানো হলো সফরসঙ্গী ও প্রটোকল

অতীতে কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গে বিশাল বহর গেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে এক্ষেত্রে এনেছেন বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং সফরসঙ্গীর তালিকা অনেক ছোট করে আনা হয়েছে। অতীতের প্রথা ভেঙে মালয়েশিয়ায় ২৩ জন আর চীনে আরেকজন যোগ হবেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায়।

রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ কথা জানিয়েছেন।

রোববার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটা তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে দলটি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেদিন শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফর শেষে আগামী সোমবার চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফরকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরসঙ্গীর তালিকায় নজিরবিহীন মিতব্যয়িতা

প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী এত সংক্ষিপ্ত সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সালেহ শিবলী বলেন, ‘মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন ২৩ জন এবং চীন সফরে এই সংখ্যা হবে ২৪ জন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় সফরসঙ্গীদের একটি দীর্ঘ তালিকা থাকতো। তবে এবার রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যাদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন, কেবল তাদেরই এই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ ছাড়া এই সংক্ষিপ্ত ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা।

সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই সফরে রয়েছেন।

এছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার) তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

বিদায়কালীন প্রটোকলে নতুনত্ব

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যার পাশাপাশি বিমানবন্দরে বিদায়কালীন প্রটোকলেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

প্রেস সচিব জানান, আগে প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে যেতেন, তখন বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং তিন বাহিনী প্রধানসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সারি থাকতো। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই প্রথাগত রীতিতে পরিবর্তন এনে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক নতুনত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

রোববার দুপুরে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ অল্প কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের কার্যক্রম

সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, এটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরের বিস্তারিত কার্যক্রম এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইতিপূর্বেই পররাষ্ট্র সচিব ব্রিফিং করেছেন। সফরের সময় কোনো নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ পড়লে তা সময়মতো জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

প্রেস সচিবের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রীয় কাজে মিতব্যয়িতা এবং আধুনিক প্রটোকল অনুসরণের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Red carpet reception by guard of honor to Prime Minister at Kuala Lumpur Airport

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার প্রদান

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার প্রদান ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে যাবেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যেই প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য

p
উপরে