গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা বিলের সমালোচনা করে বিবৃতি দেয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির সমালোচনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি মনে করেন, এই বিবৃতি সংস্থাটির নিজের কর্মপরিধির বাইরে। আর নিজেদের পরিধির বাইরে গিয়ে বিবৃতি দেয়া সংস্থাটির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘সংসদীয় কমিটিতে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে গণমাধ্যমকর্মী আইন পরিমার্জন-পরিবর্ধন হবে। এটা টিআইবির কোনো বিষয় না। এ সত্ত্বেও বিবৃতি দিয়ে তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক করার চেষ্টা করছে, যা এ প্রক্রিয়ায় সহায়ক তো নয়ই, বরং অন্তরায়।’
গত সোমবার ‘গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল-২০২২’ জাতীয় সংসদে তোলেন তথ্যমন্ত্রী। পরে বিলটি পরীক্ষা করার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত আইনে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির সুরক্ষা, সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি বলে মনে করছে টিআইবি।
আইনটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমানান বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের আইনি সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার কথা প্রস্তাবিত বিলে উল্লেখ করা হলেও কার্যত তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
টিআইবি বলছে, অসদাচরণের সংজ্ঞা না দিয়েই এই অপরাধে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিপজ্জনক বিধান রাখা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মী কল্যাণ সমিতি নামে সাংবাদিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার বিষয়টি থাকলেও, এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান এই বিলে অনুপস্থিত।
এই প্রতিক্রিয়ার জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য। এটা দুর্নীতির কোনো বিষয় নয়। আর আইনটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে গেছে, সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এটি পরিবর্ধন-পরিমার্জন করা হবে।তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আমার আলোচনাও হয়েছে। টিআইবি আগ বাড়িয়ে বিবৃতি দিয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক করার চেষ্টা করছে -এর মধ্যে দূরভিসন্ধি আছে। নিজেদের কর্মপরিধির বাইরে গিয়ে সব বিষয়ে কথা বলা টিআইবির একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে দেখা যাচ্ছে।
‘আওয়ামী লীগ ডাকাতের সরকারে পরিণত হয়েছে’ বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দেন, তা নিয়েও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে ন্যায্য প্রাপ্যতার ভিত্তিতেই এক কোটি পরিবারকে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে, যাতে পাঁচ কোটি মানুষ উপকারভোগী হবে।
‘এখানে আমাদের দলীয় কোনো নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, যারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বিভিন্ন দল থেকেই রয়েছেন, তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আসলে সব কিছুর মধ্যে রাজনীতির গন্ধ খোঁজাই বিএনপির সমস্যা।’
তিনি বলেন, ‘আসলে, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড দেয়ায় মানুষে মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসায় ও জনগণ সাধুবাদ দেয়াতে বিএনপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তারা উদভ্রান্তের মতো কথা বলছেন।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব ইদানীং যে ভাষায় কথা বলছেন তা সিনিয়র রাজনীতিকের ভাষা নয় এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। মির্জা ফখরুল সাহেব আওয়ামী লীগকে ডাকাত বলেছেন। আসলে তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন বিশ্বডাকাতে পরিণত হয়েছিলেন এবং সেজন্য তাদের হাতে দেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।’
চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া ৮০ মামলার মধ্যে সাতটির রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৫৯ জন আসামিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চব্বিশের জুলাইয়ের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রায় হওয়া সাত মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ৫১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২৮৮ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
শতাধিক গুম-খুনের খলনায়ক আলোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে একটি ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, র্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। জাফলংয়ে যাওয়ার পর ভারতের সাদা পোশাকের কিছু লোকজন দুজনকে নিয়ে আসেন। ভারত থেকে আনা এসব লোকদের বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। ভারত থেকে আনা দূজন ভারতের হাজতের আসামি ছিলেন।
সাক্ষীর বিবরণের বরাতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তার মধ্যেই মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো তাদের নিয়ে আসতেন। তারা কোনো দলের বা কোনো বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা কি ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ এক সেনা কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো চলমান রয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে। সাক্ষ্য দেওয়া সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন।
এ সময় তিনি উল্লেখ করে বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যদের ধরে এনে দুটি পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন তিনি। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে সাক্ষী জানিয়েছেন।
অতীতে কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গে বিশাল বহর গেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে এক্ষেত্রে এনেছেন বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং সফরসঙ্গীর তালিকা অনেক ছোট করে আনা হয়েছে। অতীতের প্রথা ভেঙে মালয়েশিয়ায় ২৩ জন আর চীনে আরেকজন যোগ হবেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায়।
রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ কথা জানিয়েছেন।
রোববার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটা তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে দলটি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেদিন শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফর শেষে আগামী সোমবার চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফরকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরসঙ্গীর তালিকায় নজিরবিহীন মিতব্যয়িতা
প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী এত সংক্ষিপ্ত সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সালেহ শিবলী বলেন, ‘মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন ২৩ জন এবং চীন সফরে এই সংখ্যা হবে ২৪ জন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় সফরসঙ্গীদের একটি দীর্ঘ তালিকা থাকতো। তবে এবার রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যাদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন, কেবল তাদেরই এই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ ছাড়া এই সংক্ষিপ্ত ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই সফরে রয়েছেন।
এছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার) তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
বিদায়কালীন প্রটোকলে নতুনত্ব
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যার পাশাপাশি বিমানবন্দরে বিদায়কালীন প্রটোকলেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
প্রেস সচিব জানান, আগে প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে যেতেন, তখন বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং তিন বাহিনী প্রধানসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সারি থাকতো। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই প্রথাগত রীতিতে পরিবর্তন এনে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক নতুনত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রোববার দুপুরে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ অল্প কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।
প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের কার্যক্রম
সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, এটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরের বিস্তারিত কার্যক্রম এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইতিপূর্বেই পররাষ্ট্র সচিব ব্রিফিং করেছেন। সফরের সময় কোনো নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ পড়লে তা সময়মতো জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
প্রেস সচিবের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রীয় কাজে মিতব্যয়িতা এবং আধুনিক প্রটোকল অনুসরণের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।
ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে যাবেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যেই প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অস্ত্র দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তারাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান। রোববার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে র্যাব-২ কার্যালয়ে ৫ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে করা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নয়মুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ করে ২৩ তারিখ রিলেটেড কেউ যদি কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের মেসেজ দেওয়া হয়ে গেছে যে তারা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না করে। যদি তারা আমাদের জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে চায়, তারা নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাউরা সোহেলকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার দেওয়া তথ্যমতে আরও দুই ছিনতাইকারী শফিকুল ইলাম সবুজ ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মাউরা সোহেলের নামে ছিনতাই-চাঁদাবাজির ১৪টি মামলা রয়েছে।’
এক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।
এ তিন মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে এক মামলার শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় ও কারাগারে পাঠানো হয়।
তার বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে— এই বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে হবে। শব্দদূষণের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং অনিদ্রাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই তার নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য