বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে সে দেশের প্রথম উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চোই জং কুন তৃতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
আলোচনায় দুই দেশ সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক অংশীদারত্বকে পরবর্তী স্তরে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও কোরিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, কৃষি, মৎস্য ও বায়োটেকনোলজি এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অভিন্ন স্বার্থ ও উদ্বেগের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে এলডিসি থেকে স্নাতকসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আলোচনায় কোরিয়া সীমান্ত প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, জাহাজ নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্নতা শক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছে।
আলোচনায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশে কোরিয়ার বিনিয়োগ আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ঢাকার মিরপুরের ডিওএইসএসের বাসায় আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ। রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি পরিদর্শক আব্দুল মালেক ঢাকার চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আগামী বুধবার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন জাহের আলভীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর যাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনেরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ইকরার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় ওই দিন রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে এ মামলায় আসামি করা হয়। নাসরিন সুলতানা ইতোপূর্বে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে জামিন দেওয়া হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ২১ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছিলেন সারওয়ার আলম।
২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।
তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
যানজট নিরসনে ঢাকার চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল—সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া—শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবকে অবাস্তব ও অকার্যকর বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় না করে শুধু টার্মিনাল স্থানান্তর করলে যানজট কমার পরিবর্তে যাত্রীদের ভোগান্তি, যাতায়াত ব্যয় এবং নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
রোববার আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় জানানো হয়।
আইপিডি জানায়, পর্যাপ্ত গণপরিবহন সংযোগ, ফিডার সার্ভিস ও লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি নিশ্চিত না করে কেবল টার্মিনালগুলো শহরের প্রান্তে কাঁচপুর, হেমায়েতপুর, টঙ্গী ও কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়া হলে তা ঢাকার পরিবহন সংকট আরও জটিল করবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়বেন।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দুই কোটির বেশি মানুষের এই মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থাকে টেকসই করতে হলে ঢাকার বর্ধিত নগর এলাকায় নতুন বাস ডিপো ও টার্মিনাল নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিদ্যমান চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছে আইপিডি।
সম্প্রতি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঢাকার যানজট কমাতে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে, মহাখালী টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে এবং পরবর্তীতে টঙ্গীর কাছে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে।
আইপিডির মতে, ঢাকার যানজটের মূল কারণ হিসেবে বাস টার্মিনালগুলোকে দায়ী না করে পরিবহন খাতের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং, সড়কে যাত্রী ওঠানামা, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলার বিষয়গুলো আগে সমাধান করা প্রয়োজন। টার্মিনাল এলাকার এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আশপাশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আইপিডি জানায়, প্রস্তাবিত চারটি টার্মিনালই মূল শহর থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এসব এলাকা থেকে ঢাকার কেন্দ্রে আসার জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো নেই। বিশেষ করে রাতের সময়ে এসব এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের বাড়তি খরচ ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।
আইপিডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দূরের টার্মিনালে নামার পর যাত্রীরা যদি মেট্রোরেল, বিআরটি বা উন্নতমানের লোকাল বাসের মাধ্যমে সহজে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হবে। পাশাপাশি সিএনজি, অ্যাপভিত্তিক যানবাহন কিংবা ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা শহরের প্রবেশমুখে যানজট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ঢাকার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো লাখ লাখ অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ নেওয়ার মতো প্রস্তুত নয়। দূরপাল্লার যাত্রীদের চাপ বাড়লে মেট্রোরেল ও বাস ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং নগরের ভেতরে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে।
আইপিডি উল্লেখ করে, ঢাকার বর্তমান অনেক এলাকাই একসময় শহরের প্রান্তে ছিল। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তানও একসময় নগরের বাইরে বা প্রান্তিক এলাকায় ছিল। পরিকল্পনাহীন নগর সম্প্রসারণের কারণে এসব এলাকা এখন কেন্দ্রীয় অংশে পরিণত হয়েছে। তাই শুধু টার্মিনাল সরিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সমন্বিত নগর ও পরিবহন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আইপিডি জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে মূল শহরের ভেতরেই আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল রয়েছে। এসব টার্মিনাল শহরের মানুষের যাতায়াত সহজ করে এবং ছোট যানবাহনের চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই বিদ্যমান চারটি বাস টার্মিনাল সরিয়ে না নিয়ে এগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।
ঢাকার বাস টার্মিনাল ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আইপিডির ৮ দফা সুপারিশ হলো— এক. ঢাকার চার বাস টার্মিনাল সরানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করা। দুই. বিদ্যমান টার্মিনালের আশপাশের অব্যবস্থাপনা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তিন. প্রস্তাবিত এলাকায় বাস ডিপো নির্মাণ করে বর্তমান টার্মিনালের ওপর চাপ কমানো। চার. দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য মানসম্মত ফিডার সার্ভিস চালু করা। পাঁচ. বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা। ছয়. টার্মিনালকেন্দ্রিক রুট পারমিট, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। সাত. যাত্রীদের যাতায়াত পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আট. সমন্বিত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে মাল্টিমোডাল হাব তৈরি করা।
জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ দাবি করে দেওয়া বক্তব্যটি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
গত ১৪ জুন বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-৪ আসনের এই সদস্য দাবি করেছিলেন যে, তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৮১ সালে—অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের ১০ বছর পর। এছাড়া তার বাবা বর্তমানে জীবিত আছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং ওই অসত্য বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আবদুল মুনতাকিম স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন যে, এটি মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া একটি ভুল ছিল এবং তিনি তার বাবা যে জীবিত আছেন, তা স্বীকার করেছেন। স্পিকার জানান, এটি একটি ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল, তাই উক্ত বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হবে।
জুলাই আন্দোলনের সময় নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারাকাত।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত উল ফরহাদ। তিনি জানান, জামিন মঞ্জুরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদমোস্তাফিজুর রহমানের আদালত অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন সে সময় তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই জামিন পাওয়ার দুই দিন আগে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৭ জুন আপিল বিভাগ থেকে দুদকের ওই মামলায় নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে জামিন পান আবুল বারকাত। কিন্তু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই জুলাই আন্দোলনের ওই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কর প্রশাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত বিস্তৃত সংস্কারের অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং এর ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে আলাদা করা হবে। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এই সংস্কারের কথা ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, রাজস্ব কর্তৃপক্ষের বর্তমান কাঠামো দীর্ঘকাল ধরে নীতিসংক্রান্ত দুর্বলতায় ভুগছে এবং প্রস্তাবিত এই পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই সব সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতিগুলো দূর করা।
এনবিআর-এর কাঠামো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআর এমন একটি সমস্যা যা আমাদের সমাধান করতে হবে। আমরা এটিকে দুই ভাগে ভাগ করতে যাচ্ছি। নীতি নির্ধারণের জন্য আলাদা একটি বডি এবং ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা একটি বডি থাকবে।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, রাজস্ব নীতি বিভাগ এখন থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও আলাদাভাবে প্রণয়ন করা হবে। মন্ত্রী জানান, কর বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, অন্যদিকে আমলারা কেবল সেই নীতিগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেবেন।
আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত নীতি প্রণয়নের ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু বলেন, নীতি নির্ধারণী পর্যায় আমলাদের দ্বারা পরিচালিত হতে যাচ্ছে না। আমরা চাই কর বিশেষজ্ঞ এবং যারা বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষকে বোঝেন, তারা নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আসুক।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নীতি নির্ধারণের দুর্বলতাই ছিল বাংলাদেশের সামগ্রিক কর ব্যবস্থা এবং এনবিআর-এর অন্যতম প্রধান সমস্যা। তিনি আরও বলেন, শুরুতেই যদি আপনি এটি (নীতি নির্ধারণ) ঠিক করতে পারেন, তবে সমস্যার ৫০ শতাংশ সমাধান হয়ে যায়।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, নীতি প্রণয়নকে ব্যবস্থাপনা থেকে আলাদা করার মাধ্যমে কর প্রশাসনের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাতকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে সহায়ক হবে।
শিক্ষামন্ত্রীকে এক হাজার ফুটবল উপহার দিলেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার রোববার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে এক হাজার ফুটবল উপহার দিয়েছে পাকিস্তান। দেশের স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য এ ফুটবল দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রোববার (২১ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ উপহার তুলে দেন।
উপহার দেওয়ার আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন।
বৈঠকে মন্ত্রী ও হাইকমিশনার কারিগরি, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে শিক্ষামন্ত্রী ও হাইকমিশনার উভয় দেশের শিক্ষার উন্নয়ন ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কাজ করছে। দক্ষতার উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দেশ শিক্ষার উন্নয়নে একত্রে কাজ করছে। শিক্ষায় বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
এসময় হাইকমিশনার পাকিস্তানের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াজিফ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য