× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Non Muslims have really been humiliated in the textbook?
hear-news
player
print-icon

পাঠ্যবইয়ে অমুসলিমদের হেয় করার অভিযোগ কতটা সত্য?

পাঠ্যবইয়ে-অমুসলিমদের-হেয়-করার-অভিযোগ-কতটা-সত্য?
শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই। ফাইল ছবি
এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ গত দুই বছর ধরে আমরা দেখছি। এর কারণ হলো, সংঘবদ্ধ একটি চক্র যখন কোনো ইস্যু পায় না, তখন পুরোনো বিষয় সামনে এনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে, আর এর ফাঁদে পা দেয় সাধারণ কিছু মানুষ।’

‘‘সরকারি পাঠ্যবইয়ে অমুসলিমদের তুলে ধরা হয়েছে মিথ্যাবাদী, সম্পদ আত্মসাৎকারী এমনকি ‘পশুর চেয়ে অধম’ হিসেবে। পঞ্চম শ্রেণির ‘ইসলাম ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা’ বইয়ের ১৬ ও ১৭ নম্বর পৃষ্ঠায় এভাবেই অমুসলিমদের পরিচয় দেয়া হয়েছে।’’

এ ধরনের একটি স্ট্যাটাস কয়েক দিন ধরে ঘুরছে ফেসবুকে। অনেকেই শেয়ার করছেন বার্তাটি।

বিষয়টির সত্যতা যাচাই করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, এ ধরনের কোনো লেখা বর্তমানের (২০২২ সালের) পঞ্চম শ্রেণির ‘ইসলাম ও নৈতিকতা শিক্ষা’ পাঠ্যবইয়ে নেই।

তবে ২০১৯ সালের পাঠ্যবইয়ে এ ধরনের কিছু বার্তা ছিল, যা পরের বছরই সংশোধন করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এই বই ছাপানোয় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়।

এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ গত দুই বছর ধরে আমরা দেখছি। এর কারণ হলো, সংঘবদ্ধ একটি চক্র যখন কোনো ইস্যু পায় না, তখন পুরোনো বিষয় সামনে এনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে আর এর ফাঁদে পা দেয় সাধারণ কিছু মানুষ।

‘দুঃখজনক হলেও সত্য, অসাবধানতাবশত যারা এগুলো ছড়াচ্ছেন, তারা কখনও মূল বই ঘেঁটেও দেখেন না। কিছু জ্ঞানপাপী সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের কাজ করেন।’

বিভ্রান্তিমূলক এ ধরনের বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ধরনের বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। এ ধরনের কাজ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র।’

২০১৯ সালের পঞ্চম শ্রেণির ‘ইসলাম ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা’ বই প্রণয়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল বলেও জানান মো. মশিউজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে বিষয়টি জানার পর এনসিটিবি থেকে এ বইয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। তাদের কেউ এখন আর এনসিটিবির কোনো কাজে জড়িত নেই এবং পরের বছরেই বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
এটি বাংলাদেশের লজ্জা: সুবর্ণা মোস্তফা
প্রতিবাদের টিপে ভাসছে ফেসবুক
মাদকবিরোধী দেয়াল লিখনে ভুলের সত্যতা কতটা
ছবিটি কবেকার, পেছনের গল্প কী
জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
What happened at Buffs press conference?

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক সাবিনার দাঁড়িয়ে থাকার এ ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বাফুফে কার্যালয়ে সাফ শিরোপাজয়ী নারী দলকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের কিছু ছবি ও ভিডিও ঘিরে চলছে বিতর্ক। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাফুফে কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী, এমনকি জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলছেন, পুরো সংবাদ সম্মেলনের খণ্ডিত একটি অংশ প্রচার করে ছড়ানো হয়েছে বিভ্রান্তি।  

সাফ শিরোপাজয়ী নারী দলের ঢাকায় ফেরার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের কিছু ছবি ও ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবি ও ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, জাতীয় দলের অধিনায়ক ও হেড কোচকে পেছনে দাঁড় করিয়ে রেখে চেয়ারে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বাফুফে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে খেলোয়াড়দের বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলেও প্রতিবেদন প্রচার করেছে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম।

বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানাচ্ছেন ফুটবল সমর্থক ও সংগঠকরা। তাদের অভিযোগ জাতীয় তারকাদের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা দেখানো হয়েছে বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাফুফে কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী, এমনকি জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলছেন, পুরো সংবাদ সম্মেলনের খণ্ডিত একটি অংশ প্রচার করে ছড়ানো হয়েছে বিভ্রান্তি।

সাফ বিজয়ীরা বাফুফে কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর থেকে সংবাদ সম্মেলন পুরোটা সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক কাজী নাহিয়ান আরেফীন ও নাজিবুর রহমান নাঈম।

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে
বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও সর্বডানে হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। ছবি: নিউজবাংলা

নেপাল থেকে সাফের শিরোপা নিয়ে বুধবার জাতীয় দল যখন বাফুফে ভবনে পৌঁছায় সময় তখন ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে ৭টা। এরপর হয় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের শুরুতেই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। ফুটবল সমর্থক ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেকাতে হিমশিম খাওয়া বাফুফের নিরাপত্তা কর্মীরা সাংবাদিকদেরও নির্ধারিত কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন।

শেষ পর্যন্ত ৮টা ৪০ মিনিটে সংবাদকর্মীরা প্রবেশ করেন সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। দীর্ঘ শোভাযাত্রার ক্লান্তিজনিত কারণে এই কক্ষে সাফজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্যই ছিলেন অনুপস্থিত। বিশ্রাম নিতে তারা চলে যান ডরমেটরিতে। সংবাদ সম্মেলন কেন্দ্রে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনসহ উপস্থিত ছিলেন দলের তিন-চার জন সদস্য।

শুরুতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাফজয়ী দলের অধিনায়ক ও কোচ চেয়ারে বসেছিলেন। সেখানে বসেই বক্তব্য দেন দুজন। এরপর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও বাফুফে সভাপতি সাফের ট্রফি তুলে দেন সাবিনার হাতে।

এ সময় টেলিভিশন সাংবাদিকদের অনুরোধে সাবিনা ও রাব্বানী টেবিলের মাঝামাঝি এসে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলেন। পরে তারা পেছনে সরে একপাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখনকার ছবিই ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে।

সাবিনা ও রাব্বানী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার পর অনুষ্ঠানের অতিথি ও কর্মকর্তাও বক্তব্য দেন।

বুধবার রাতের সংবাদ সম্মেলনটি কাভার করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা জয়। তিনি ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন (বানান ও ভাষারীতি অপরিবর্তিত), ‘বলা হচ্ছে কৃষ্ণা, সাবিনা ও সানজিদা বা মারিয়ারা সেখানে বসার জায়গা পাননি৷ বসতে পারেননি কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনও৷ আদতে ঘটনা ওইরকম নয়৷ সংবাদ সম্মেলনের পোর্ডিয়ামের ঠিক পাশে সোফায় বসে নোট নিয়েছি। আমার ঠিক সামনে বসেছিলেন ছোটন ভাই। কৃষ্ণা, সাবিনা, সিরাত ও মারিয়ারা এসেছিলেন৷ সাবিনা ও ছোটন ভাই বসেছিলেন চেয়ারে। বাকিরা বসতে চায়নি৷

‘বাফুফে ভবনের তিন তলায় কনফারেন্স রুমটা খুব ছোট। এসি চলে না৷ মারিয়া এসেই বললো, তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তাকে দ্রুত চলে যেতে বলি, কৃষ্ণাও চলে যায়৷ ওই ছোট রুমে আজ সব মিডিয়াকর্মীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন৷ সাবিনা ও ছোটন ভাইকে রিকোয়েস্ট করা হলো তারা যেন আসন ছেড়ে মাঝে এসে কথা বলেন। বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাপারসনরা বলেছেন, তাদের সুবিধা হয়। সাবিনা ও ছোটন ভাই তাই দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন।’

অন্যদিকে, বাফুফের দাবি খেলোয়াড়দের প্রতি কোনো ধরনের অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী এবং সাংবাদিকদের অনুরোধে জায়গা বদল করেছেন খেলোয়াড় ও কোচ।

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নারী দলের হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। ছবি: সংগৃহীত

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাই ছিলাম। পরিস্থিতি কী ছিল সেটা দেখেন। মন্ত্রী মহোদয় এসেছেন। তারা বসে ছিলেন। সাবিনাও বসা ছিল। সাবিনা সিট ছেড়ে হেড কোচকে জায়গা করে দিয়েছে সেটাও আপনাদের (সাংবাদিকদের) অনুরোধে। আপনারাই বলেছিলেন, হেড কোচ দূরে বসেছেন, তাকে এখানে নিয়ে আসলে ক্যামেরায় পেতে সুবিধা হবে। আপনাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তেমনটাই করা হয়েছে।

‘আমরাও বিষয়গুলো বুঝি যে, অনেক সময় অনেক কিছু হয়ে যায়। তবে আমি অনুরোধ করব আমরা যে একটা দারুণ একটা ফ্লো-র মধ্যে রয়েছি সেটা যেন ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে পারি।’

বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে সংবাদ সম্মেলনের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।

এতে দেখা যাচ্ছে, সাবিনা ও হেড কোচ দুজনে চেয়ারে বসেই বক্তব্য দিচ্ছেন।

সাবিনা লিখেছেন, ‘বিষয়গুলোকে নেতিবাচক হিসেবে নেবেন না। এসব নেতিবাচক বিষয় সামনে এনে আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটিকে নষ্ট করবেন না। সবাই ইতিবাচক হওয়ার চেষ্টা করি ও উপভোগ করি। আমার এটুকুই বলার ছিল। সবার প্রতি ভালোবাসা।’

আরও পড়ুন:
মনে হয় শেখ হাসিনা ক্যাপ্টেন ছিলেন: মান্না
খেলোয়াড়দের চুরি যাওয়া টাকা দেবে বাফুফে
তালাবদ্ধ অক্ষত লাগেজ দেয়া হয়েছে: বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

বাংলাদেশ
NATO has entered a direct war against Russia

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
বিদেশি যোদ্ধারা ইউক্রেনের সামরিক ইউনিটে যোগ দিয়েছে, এটা সবার জানা। তবে রুশ কর্মকর্তারা এখন বলছেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পুতিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ন্যাটো।

ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটো যুদ্ধ করছে বলে দাবি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে ‘পশ্চিমা উপদেষ্টাদের ডি-ফ্যাক্টো কমান্ডের অধীনে’ সামরিক ইউনিট সক্রিয়।

রাশিয়ার টেলিভিশন ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলোও একই খবর প্রচার করছে। তারা বলছে, ন্যাটো সেনারা সক্রিয়ভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত।

তবে ন্যাটোর দাবি, এসব কিছুই করছে না তারা। কিয়েভে কেবল অস্ত্র ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে সামরিক জোটটি; কারণ ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য না।

পাল্টাপাল্টি দাবিগুলো খতিয়ে দেখেছে বিবিসির ফ্যাক্টচেক দল।

কী দাবি করা হচ্ছে?

জাতির উদ্দেশে বুধবার দেয়া ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘কিয়েভ সরকার বিদেশি ভাড়াটে এবং জাতীয়তাবাদীদের নিয়ে নতুন গ্যাং প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা ন্যাটোর মানদণ্ডে প্রশিক্ষিত সামরিক ইউনিট; কাজ করছে পশ্চিমা উপদেষ্টাদের ডি-ফ্যাক্টো কমান্ডের অধীনে।’

বিদেশি যোদ্ধারা ইউক্রেনের সামরিক ইউনিটে যোগ দিয়েছে, এটা সবার জানা। তবে রুশ কর্মকর্তারা এখন বলছেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পুতিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ন্যাটো।

রুশ চ্যানেল ওয়ানে ভ্রেম্যা পোকাজেটের উপস্থাপক রুসলান ওস্তাশকো ১৩ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ইউক্রেনীয় সেনারা যুদ্ধ করার চেয়ে ছবি তোলা এবং টিকটকে ভিডিও বানাতে ব্যস্ত; তাদের হয়ে লড়াই করছে ন্যাটোর সেনারা। প্রমাণ হিসেবে অনুষ্ঠানজুড়ে ইউক্রেনে যুদ্ধরত বিদেশিদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেয়া ফুটেজ দেখানো হয়।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!
রুসলান ওস্তাশকো রাশিয়ার চ্যানেল ওয়ানে একটি টক শোর উপস্থাপক

এর আগে পূর্ব ইউক্রেনের স্বঘোষিত লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের (এলপিআর) সামরিক মুখপাত্র আন্দ্রেই মারোচকো রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে জানান, খারকিভ অঞ্চলে নিয়মিত ন্যাটো কর্মকর্তাদের আসার খবর রয়েছে তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে।

‘ন্যাটো কর্মকর্তারা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ক্রামতোর্স্কে শহরে অবস্থান নিয়েছে। বিদেশি এবং ইউক্রেনীয় ইউনিটের মধ্যে ভারসাম্য ঠিক করার উদ্দেশ্যে তারা (ন্যাটো) এই এলাকায় এসেছে।’

অন্য দাবিগুলো সাধারণত বিদেশি যোদ্ধাদের উপস্থিতি সম্পর্কে; যেগুলো ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে না। উদাহরণস্বরূপ, আরআইএ নভোস্তির কলামিস্ট ভ্লাদিমির কর্নিলভ বলেছেন, ইজিউম শহরকে ‘মুক্ত’ করতে আসাদের ভিডিও ফুটেজ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে; যেখানে তারা ইংরেজিতে কথা বলছে।

কী প্রমাণ দেয়া হচ্ছে?

যেসব বিদেশি যোদ্ধা স্বেচ্ছায় ইউক্রেনে গেছেন, তাদের সঙ্গে ন্যাটো সেনাদের পার্থক্য খুঁজে বের করা খুব জরুরি। বিবিসি সেই চেষ্টাই করেছে।

রাশিয়ার মিডিয়া আউটলেটগুলো ইউক্রেন ভূখণ্ডে ন্যাটোর উপস্থিতির কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। যুদ্ধের ময়দানে তারা কেবল বিদেশি যোদ্ধা থাকার কথা বলছে।

ভ্রেম্যা পোকাজেট অনুষ্ঠানে যেসব বিদেশি যোদ্ধার ফুটেজ দেখানো হয়েছে, তাদের একজন সাবেক আমেরিকান নৌ কর্মকর্তা, নাম ম্যালকম ন্যান্স। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন থেকে তিনি নিয়মিত ভিডিও আপলোড করছেন।

অনুষ্ঠানে ন্যান্সের একটি ভিডিও খুব হাইলাইট করা হয়; যেখানে ন্যান্সের কাঁধে ঝোলানো ছিল একটি আর্টিলারি ব্যাটারি। ভিডিওতে তাকে এটির ব্যবহার সম্পর্কে বলতে শোনা যায়।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!

ন্যান্স এখন আমেরিকার নৌবাহিনীতে নেই। ইউক্রেন সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার বিষয়টি টুইটে তিনি এপ্রিলে জানিয়েছিলেন। এই হ্যান্ডেলে তার ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার আছে। তার মানে এখানে আসলে গোপন করার কিছু নেই।

রুশপন্থি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোতে হাইলাইট হওয়া অপর ব্যক্তিটিও একজন আমেরিকান। নাম রব-রয় লেন; যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো রাজ্যে তিনি বেড়ে উঠেছেন৷

লেন নিয়মিত ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটের সঙ্গে কাজ করার ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করেন। পাশাপাশি তার দলে আরও কয়েকজন বিদেশি স্বেচ্ছাসেবকের নামও জানান দেন। এই ভিডিওগুলো রাশিয়াপন্থি সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলে ব্যাপক হারে শেয়ার করা হয়েছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!

লেনের সামরিক অভিজ্ঞতা আছে বলে কোনো অনলাইন প্রমাণ নেই। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

​​নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে লেন তার ইউনিটে দুই ব্রিটিশ নাগরিকসহ আরও বেশ কয়েকজন সদস্যের নাম উল্লেখ করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে। তবে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সাবেক কর্মীদের পরিষেবা রেকর্ড বা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে মন্তব্য করবে না।

আরও পড়ুন:
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’
রাশিয়াকে নিয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে মহাশক্তি বানাতে চায় চীন
রাশিয়ার শহরে ইউক্রেনের হামলা
সড়ক দুর্ঘটনায় ‘সামান্য আহত’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
বাইবেলের ধ্বংসলীলার পথে হাঁটছে পশ্চিম: রাশিয়া

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Women footballers are paid while men are still unpaid

বেতন আছে নারী ফুটবলারদের, পুরুষ এখনও ‘অবৈতনিক’  

বেতন আছে নারী ফুটবলারদের, পুরুষ এখনও ‘অবৈতনিক’   জাতীয় দলের নারী ফুটবলাররা পুরুষের চেয়ে কম বেতন পান এমন তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত
নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বেতন কাঠামোর আওতায় কেবল নারী ফুটবলাররাই আছেন, অর্থাৎ নারী খেলোয়াড়েরাই কেবল বাফুফে থেকে প্রতি মাসে বেতন পান। জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়দের বাফুফে কোনো বেতন দিচ্ছে না। তবে ক্লাব ফুটবলে নারীদের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান পুরুষ খেলোয়াড়।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় দলের নারী ফুটবলারদের ‘বেতনবৈষম্য’ নিয়ে। একটি জাতীয় দৈনিকে দুই বছর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ইনফোগ্রাফ নতুন করে ফেসবুকে পোস্ট করে অনেকে দাবি করছেন, জাতীয় দলের পুরুষ ফুটবলারদের তুলনায় অনেক কম বেতন পান নারীরা।

‘নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের বেতনবৈষম্য’ শিরোনামের ওই ইনফোগ্রাফে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ফুটবলারদের আয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত নারী ফুটবলারদের মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা, ‘বি’ শ্রেণিভুক্তদের আট হাজার টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত নারী ফুটবলাররা বেতন পান ছয় হাজার টাকা।

এতে পুরুষ ফুটবলারদের বেতনের তথ্য অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়, ক্লাব পর্যায়ে শীর্ষ পর্যায়ের একজন ছেলে ফুটবলারদের বার্ষিক আয় ৫০-৬০ লাখ টাকা, আর নারী ফুটবলার সর্বোচ্চ ৩-৪ লাখ টাকা আয় করেন।

এই ইনফোগ্রাফটি শেয়ার করে অনেকেই জাতীয় দলের নারী ফুটবলারদের ব্যাপক বেতনবৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলছেন।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বেতন কাঠামোর আওতায় কেবল নারী ফুটবলাররাই আছেন, অর্থাৎ নারী খেলোয়াড়েরাই কেবল বাফুফে থেকে প্রতি মাসে বেতন পান। জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়দের বাফুফে কোনো বেতন দিচ্ছে না। তবে ক্লাব ফুটবলে নারীদের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান পুরুষ খেলোয়াড়েরা।

দেশের নারী ফুটবলাররা ২০১৯ সাল থেকে বাফুফের বেতন কাঠামোর আওতাভুক্ত। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাবিনা-কৃষ্ণা-মারিয়াসহ ৩৬ ফুটবলারকে বেতনের আওতায় নিয়ে আসে সংস্থাটি। নারী খেলোয়াড়দের এই বেতন খুব বেশি না হলেও জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়েরা এখন পর্যন্ত কোনো বেতন কাঠামোর আওতায় আসেননি।

জাতীয় দলে খেলার জন্য জামাল ভূঁইয়াদের কোনো বেতন দেয়া হয় না। ক্যাম্পে থাকাকালীন নামমাত্র খরচ আর ম্যাচ ফি পেয়ে থাকেন তারা।

পুরুষ ফুটবলারদের আয়ের একমাত্র উৎস ক্লাব ফুটবল। ক্লাবের চুক্তি অনুসারে তারা পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন।

গত বছরের গত জুনে পুরুষ ফুটবলারদের বেতন কাঠামোয় আনার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে এ কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছেলেরা আপাতত বেতন কাঠামোতে নেই। ফান্ড পেলে মেয়েদের পাশাপাশি তাদের জন্যও কাঠামো করা হবে।’

জাতীয় পুরুষ দলের মতো নারী দলের জন্যও রয়েছে তহবিলের সমস্যা। এ কারণে নারী ফুটবলারদের বেতন বাড়ানো যাচ্ছে না বলে দাবি কছেন বাফুফে কর্তারা।
বাফুফে ভবনে মঙ্গলবার এক সংবাদসম্মেলনে সংস্থার সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানান, সাফজয়ী নারী দলের সদস্যদের বেতন তিনি বাড়াতে চান, কিন্তু বর্তমানে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমি তো চাই বাড়াতে, কিন্তু পারছি না। যদি ফান্ড আনতে পারি তাহলে তো অবশ্যই দেব। ফান্ড এলে সেটা মেয়েদের ভাগেই যাবে।’

নারী খেলোয়াড়রা বাফুফের বেতনভুক্ত হলেও ক্লাবে পর্যায়ে অনেক কম পারিশ্রমিক পান সাবিনা-কৃষ্ণারা। সর্বোচ্চ ৩-৪ লাখ টাকা, যেখানে তপু-জামালরা অর্ধকোটির উপরে আয় করেন।

বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেই নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের আয়ে তীব্র বৈষম্য রয়েছে।

ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবলের মতো জনপ্রিয় বৈশ্বিক খেলাগুলোতে পুরুষ অ্যাথলিটরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান। এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা রয়েছে অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের।

দেশে ফুটবলে জাতীয় দলের নারীরা বেতন পেলেও ক্রিকেটে বৈষম্যের চিত্র পরিষ্কার।

২০১৭ সালের সবশেষ বেতন কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা এ-প্লাস শ্রেণির পুরুষ ক্রিকেটাররা প্রতি মাসে বিসিবি থেকে বেতন পাচ্ছেন চার লাখ টাকা করে। এ-শ্রেণির ক্রিকেটাররা পান তিন লাখ টাকা। বি-শ্রেণির ক্রিকেটাররা দুই লাখ টাকা। সি-শ্রেণিতে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ডি-শ্রেণির ক্রিকেটাররা পান মাসে এক লাখ টাকা করে।

গত বছর জুনে সাকিব-তামিমদের মূল বেতন ১০-১২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই হারে বেতন বাড়িয়েছে বোর্ড। তবে বৈষম্যের মাত্রা নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ভয়াবহ।

২০ শতাংশ বেতন বাড়ার পরেও এ-ক্যাটাগরিতে নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন এখন ৬০ হাজার টাকা। বি-ক্যাটাগরিতে ৪০ হাজার। সি-ক্যাটাগরিতে ৩০ ও ডি-ক্যাটাগরিতে ২০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন সালমা-জাহানারারা।

নারী ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগে ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি ছিল ১০০ ডলার ও টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ ফি ছিল ৭৫ ডলার। এখন ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি করা হয়েছে ৩০০ ডলার ও টি-টোয়েন্টিতে করা হয়েছে ১৫০ ডলার।

ক্রিকেটের অন্যতম দুই পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ধরনের বৈষম্য।

সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার একজন চুক্তিবদ্ধ পুরুষ ক্রিকেটার বছরে দুই লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করেন। নারীদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক মাত্র ৬৫ হাজার ডলার।

গড়পড়তা বছরে আড়াই থেকে তিন লাখ পাউন্ড আয় করেন জাতীয় দলের একজন পুরুষ ক্রিকেটার।

নারীদের ক্ষেত্রে এ অঙ্কটা অনেক কম। ইংল্যান্ডের হিদার নাইট ও ট্যামি বিউমন্টের মতো সেরা তারকাদের বছরে বেতন এক লাখ পাউন্ড।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানেও রয়েছে তীব্র লিঙ্গ বৈষম্য। ভারতে ভিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের মতো তারকাদের বাৎসরিক বেতন ৭ কোটি রুপি।

আর ভারতীয় নারী দলের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কউর ও তারকা খেলোয়াড় স্মৃতি মান্ধানা বোর্ড থেকে বেতন পান বছরে ৫০ লাখ রুপি।

আরেক পরাশক্তি পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পান পুরুষ দলের অধিনায়ক বাবর আজম। তার বেতন বছরে ১ কোটি ৩২ লাখ পাকিস্তানি রুপি।

সেখানে নিদা দার ও সানা মিরের মতো পাকিস্তানের সেরা নারী ক্রিকেটাররা বেতন পান মাসে ১ লাখ ২০ হাজার পাকিস্তানি রুপি বা প্রায় ৫৮ হাজার টাকা।

চুক্তিবদ্ধ নারী ও পুরুষ ক্রিকেটাররা বেতনের বাইরেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন ম্যাচ ফি, প্রতিদিন ভাতা পেয়ে থাকেন। এটি নির্ধারিত হয় সিরিজ ও ফরম্যাট অনুযায়ী।

এর বাইরে ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপ, মিডিয়া বিজ্ঞাপনে কাজ করার অর্থও যোগ হয় ক্রিকেটারদের আয়ের সঙ্গে। তবে এসব ক্ষেত্রেও নারীর চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে পুরুষ খেলোয়াড়েরা।

আরও পড়ুন:
বুধবার দুপুরে ঢাকায় ফিরছেন সাবিনা-সানজিদারা
স্বপ্নাকে খেলতে দেয়ার বিরোধীরাও আনন্দে আত্মহারা
ঐতিহাসিক জয়ের পর ফোনই ধরেননি সালাহউদ্দিন
বাংলাদেশের কাছে হেরে পদত্যাগ করলেন নেপাল কোচ
খোলা বাসের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে সানজিদার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Is vinegar mixed with salt in wine?

মদে লবণ মেশালে কি সিরকা হয়?

মদে লবণ মেশালে কি সিরকা হয়? মদে লবণ দিয়ে সিরকা বানানোর বক্তব্য নিয়ে চলছে বিতর্ক। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা
অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়র মধ্যে শুধু গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি ওয়াইন ও বিয়ার থেকেই ভিনিগার তৈরি সম্ভব। পাতন করা (ডিসটিলড) অ্যালকোহলকে (যেমন ব্র্যান্ডি, হুইস্কি, রাম, জিন, ভদকা) কখনোই ভিনিগারে পরিণত করা সম্ভব নয়। লবণ দিয়েও এ কাজে সফলতার কোনো সুযোগ নেই।

ইসলামি বক্তা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর একটি বক্তব্যের কিছু অংশ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে তিনি দাবি করেছেন, মদের মধ্যে লবণ যোগ করলে সেটি আর মদ থাকে না, সেটি সিরকা বা ভিনিগারে পরিণত হয়।

মদ বা অ্যালকোহল লবণের সংস্পর্শে ভিনিগারে পরিণত হতে পারে কি না, তা যাচাই করেছে নিউজবাংলা। রসায়নবিদদের মতামত নেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, লবণের সাহায্যে মদের সিরকায় পরিণত হওয়ার কোনো নজির নেই, রাসায়নিকভাবে এটি ঘটা সম্ভবও নয়। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, ওয়াইন থেকে ভিনিগার তৈরি করা যেতে পারে, তবে এতে লবণের কোনো ভূমিকা নেই।

অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়র মধ্যে শুধু গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি ওয়াইন ও বিয়ার থেকেই ভিনিগার তৈরি সম্ভব। তবে পাতন করা (ডিসটিলড) অ্যালকোহলকে (যেমন: ব্র্যান্ডি, হুইস্কি, রাম, জিন, ভদকা) কখনোই ভিনিগারে পরিণত করা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি.এইচ. চান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ওয়েবসাইটে ভিনিগারের রাসায়নিক গঠন ও উপযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এতে বলা হয়, ভিনিগার শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ ‘ভিন আইগ্রে’ বা টক ওয়াইন থেকে। খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ৫ হাজার বছর আগে ব্যাবিলনে এটি রান্নার পাশাপাশি শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সুস্থতার জন্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। খাদ্য সংরক্ষণেও ব্যবহৃত হতো ভিনিগার।

লোককথা অনুযায়ী, কোনো এক ব্যক্তি একবার ভুল করে এক বোতল ওয়াইন কয়েক মাস স্টোর রুমে রেখে দিয়েছিলেন। এরপর গাঁজন প্রক্রিয়ায় এটি টক স্বাদের ভিনিগারে পরিণত হয়।

ভিনিগারের রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে হার্ভার্ড টি.এইচ. চান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ বলছে, এটি অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং পানির সংমিশ্রণ, যা দুই ধাপের গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।

প্রথমত, ইস্ট চিনি অথবা ফল বা ধান-গমের মতো খাদ্যশস্যের তরল স্টার্চকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় তরল অ্যালকোহলে পরিণত করে। এরপর এই অ্যালকোহল অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে অ্যাসিটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিটোব্যাক্টর প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে আবার গাঁজন করে। এর মাধ্যমে তৈরি হয় ভিনিগার।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ভিনিগারে কমপক্ষে ৪ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে সাধারণভাবে ব্যবহৃত ভিনিগারে এর মাত্রা ৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

ভিনিগারে রয়েছে ট্রেস ভিটামিন, খনিজ লবণ, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং পলিফেনলিক যৌগ। এগুলোর পরিমাণের ভিত্তিতে ভিনিগারের স্বাদ টক থেকে মিষ্টি পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রিটানিকা ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মদ বা অ্যালকোহল হলো অ্যালকাইল গ্রুপের (হাইড্রোকার্বন চেইন) কার্বন পরমাণুর সঙ্গে সংযুক্ত এক বা একাধিক হাইড্রক্সিল (-OH) গ্রুপের একটি শ্রেণি।

অ্যালকোহলকে পানির (H2O) একটি উপজাত হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ এ ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন পরমাণুর একটি অ্যালকাইল গ্রুপ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যেমন: ইথানল বা ইথাইল অ্যালকোহল (CH2CH3)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্র্যান্ডি, হুইস্কি, রাম, জিন বা ভদকায় অ্যালকোহলের মাত্রা অনেক বেশি। বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিসটিলড অ্যালকোহলে এর মাত্রা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। এ জন্যই ডিসটিলড অ্যালকোহলকে ভিনিগারে পরিণত করা অসম্ভব। কারণ বেশি মাত্রার অ্যালকোহল গাঁজনের মূল উপাদান ইস্টকেই মেরে ফেলে

তবে ওয়াইনে অ্যালকোহলের মাত্রা কম এবং পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে বলে এই পানীয় দিয়ে ভিনিগার তৈরি করেন অনেকে। প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে এ ক্ষেত্রেও লবণের কোনো ভূমিকা বা ব্যবহার নেই। খাবার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইডের (NaCl) আদৌ কোনো বিক্রিয়াই ঘটে না অ্যালকোহলের সঙ্গে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মদের (অ্যালকোহল) সঙ্গে লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড) মেশানো হলে তা ভিনিগার বা সিরকা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অ্যালকোহল বা মদের মধ্যে ৪০ শতাংশ বা তার কিছু বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে, বাকিটা থাকে পানি। আর সেখানে লবণ মেশানো হলে তা পানির সঙ্গে মিশে স্যালাইনড টেস্ট বা নোনা স্বাদ তৈরি করতে পারে, তার বেশি কিছু নয়।’

রসায়নের এই শিক্ষক বলেন, ‘এমনকি ওয়াইনের সঙ্গে লবণ মেশালেও তা ভিনিগার হবে না। তা করা হলে বড় জোর নোনা স্বাদ আসতে পারে।’

রাসায়নিক কৌশলে ওয়াইন থেকে ভিনিগার তৈরি সম্ভব জানিয়ে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘তবে সেটিও অনেক সময়সাপেক্ষ।

‘এটা করতে গেলে প্রথমে ওয়াইন থাকা ইথানলকে অক্সিডাইট করতে হয়। তারপর এলড্রিহাইট করে ভিনিগার পাওয়া সম্ভব. কিন্তু এটি খুব দীর্ঘ প্রক্রিয়া।’

তিনি বলেন, ‘অ্যালকোহল শত বছর পুরোনো হলেও তা নষ্ট হয় না। যৌগটি সেভাবেই থাকে, বাইরের প্রভাব খুব একটা একে প্রভাবিত করে না।’

আরও পড়ুন:
অন্যকে নিয়ে গালগল্পে দিনে আমাদের ব্যয় ৫২ মিনিট
কেন হাসছেন, জেনে হাসছেন তো?
কুকুরেরও ঝরে আনন্দ-অশ্রু
মানুষ কেন উড়তে পারে না?
কিছু মানুষ কেন বদলায়, কেউ থাকে আগের মতোই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Misinformation about Momen in Indian media

মোমেনকে নিয়ে ভুল তথ্য ভারতীয় মিডিয়ায়

মোমেনকে নিয়ে ভুল তথ্য ভারতীয় মিডিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের ভারতে যাওয়ার তথ্য ছেপেছে দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যম। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগেই বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ কে আব্দুল মোমেনের সফরসঙ্গী না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে ভারতের অন্তত দুটি সংবাদমাধ্যম মোমেনের নয়াদিল্লি যাওয়ার কথা লিখেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যাননি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে মোমেনের ভারতে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির অন্তত দুটি সংবাদমাধ্যম। শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি পৌঁছানোর পরেও এই তথ্য সংশোধন করা হয়নি।

ভারতের স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১২টায় নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট। এ খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগেই বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ কে আব্দুল মোমেনের সফরসঙ্গী না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর কারণ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আকস্মিক ‘অসুস্থ বোধ করা’র তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে নেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ভারতের স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩২ মিনিটে জিনিউজ অনলাইনের ইংরেজি সংস্করণে ‘বাংলাদেশ পিএম শেখ হাসিনা অ্যারাইভস এন দিল্লি ফর আ ফোর-ডে স্টেট ভিজিট টু ইন্ডিয়া’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন এ কে আব্দুল মোমেন।

মোমেনকে নিয়ে ভুল তথ্য ভারতীয় মিডিয়ায়
জিনিউজে ছাপা প্রতিবেদন

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সফরে শেখ হাসিনার প্রতিনিধি দলে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম মশিউর রহমান।’

অন্যদিকে ‘দিল্লি পৌঁছলেন শেখ হাসিনা, ভারত-সফরে কী নিয়ে আলোচনা?’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবিপি আনন্দ। এই প্রতিবেদনের ভেতরে ‘হাসিনার সঙ্গে কারা এসেছেন?’ উপশিরোনামে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারত সফরে এসেছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং বেশ কিছু আধিকারিক।’

মোমেনকে নিয়ে ভুল তথ্য ভারতীয় মিডিয়ায়
এবিপি আনন্দে প্রকাশিত প্রতিবেদন

বিষয়টি নিয়ে আরও পরিষ্কার হতে নিউজবাংলা কথা বলেছে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। ভারতীয় গণমাধ্যম তার দিল্লি আসার তথ্য প্রচার করলে সেটি সঠিক নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব হাসান জাহিদ তুষারও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়াদিল্লি না যাওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ।

বিভিন্ন সময় নানা মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দেয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গত ১৯ আগস্টের একটি বক্তব্য দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি করে। ওইদিন চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।‘

আরও পড়ুন:
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নোটিশ দেয়া আইনজীবীকে হত্যার হুমকি
ভারত প্রসঙ্গে বক্তব্য পাল্টালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিতর্ক মাথায় নিয়ে শিশুদের অনুষ্ঠানে হাস্যোজ্জ্বল পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ
মোমেন আওয়ামী লীগে ‘আছেন’, ‘নেই’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Does titanium dioxide in toothpaste cause cancer?

টুথপেস্টের টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড কি ক্যানসারের কারণ?

টুথপেস্টের টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড কি ক্যানসারের কারণ?
হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ক্যানসার প্রতিরোধের অধ্যাপক টিমোথি রেবেক বলেন, ‘অনেক পণ্যে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড আছে। তবে ক্যানসার এবং অন্যান্য প্রজনন সমস্যার পেছনে এই যৌগের ভূমিকার বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নেই।’

টিকটকে লাখ লাখ ভিউ হওয়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ক্যানসার এবং নারীর বিভিন্ন রোগ ও প্রজনন সমস্যা সৃষ্টি করে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড।

এটি আসলে বিভ্রান্তিকর পোস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) খাদ্য এবং প্রসাধনীতে যৌগটির ব্যবহার অনুমোদন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মধ্যে ট্যাম্পন স্ট্রিং এবং ক্যানসারের মধ্যে যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি গবেষণায়।

চলতি বছরের ৩০ জুলাই টিকটকে ভিডিওটি আপলোড করেন এক নারী। সেখানে তিনি বলেন, “তার পেছনে রাখা কনটেইনারের থাকা উপাদানগুলোর একটি টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড। আপনি সচেতন না হলে এটি হতে পারে ক্যানসারের কারণ।”

ভিডিওতে নারীর কাছে এল ব্র্যান্ডের জৈব ট্যাম্পনের একটি বাক্স দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, চরম ব্যথাসহ অত্যধিক রক্তপাত, ডিম্বাশয়ের সিস্ট এবং জরায়ু ক্ষতির কারণ এই ট্যাম্পন।

টুথপেস্টের টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড কি ক্যানসারের কারণ?

ভিডিওতে ১৫ লাখের বেশি লাইক পড়েছে। ফেসবুকেও একই দাবিতে বেশ কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।

টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড একটি প্রাকৃতিক খনিজ; যা প্রায়শই রং এবং টুথপেস্টের মতো পণ্যগুলোকে সাদা করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

আমেরিকান বহুজাতিক কোম্পানি মার্স ইনকরপোরেটেডের বিরুদ্ধে জুলাই মাসে একটি অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া দাবিগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এতে বলা হয়, কোম্পানির তৈরি স্কিটলস ক্যান্ডি মানুষের জন্য অযোগ্য। কারণ এতে যৌগ রয়েছে।

টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডকে ‘মানুষের জন্য সম্ভাব্য কার্সিনোজেনিক’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি)। গবেষণায় তারা দেখেছে, উচ্চমাত্রায় টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড গ্রহণের পর ইঁদুরের ফুসফুসের ক্যানসার হয়েছে। ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি ২০২২ সালের মার্চে খনিজটিকে নিষিদ্ধ করে

তবে খাদ্য এবং প্রসাধনী উভয় ক্ষেত্রেই এটির ব্যবহারকে অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, মানুষের মধ্যে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড এবং ক্যানসারের কোনো প্রমাণিত যোগসূত্র নেই।

হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ক্যানসার প্রতিরোধের অধ্যাপক টিমোথি রেবেক তিনি বলেন, ‘অনেক পণ্যে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড আছে। তবে ক্যানসার এবং অন্যান্য প্রজনন সমস্যার পেছনে এই যৌগের ভূমিকার বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নেই।’

পোস্টের দাবিগুলো অতিরঞ্জিত বলছেন কানাডার প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জেন গুন্টার। তিনি বলেন, ‘খাদ্য বা অন্যান্য পণ্যে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড অনিরাপদ বলে কোনো তথ্য নেই। তবে সম্প্রতি কিছু ইঁদুরের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০ দিনের জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে (খাবার বা ট্যাম্পন থেকে যা পেতে পারি তার চেয়ে বেশি) টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড গ্রহণে অন্ত্রের কিছু উদ্বেগের কারণ হতে পারে।’

ট্যাম্পন ব্যবহার ক্যানসার বা প্রজনন ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্তিক না হলেও এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। যদিও বিরল, তবুও টক্সিক শক সিনড্রোম-এর মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণ হতে পারে এই উপাদানের ব্যবহার; হতে পারে যা জীবনের হুমকিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা ক্যানসার নিয়ে এমন পোস্ট করছেন, তাদের আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটিতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক টিমোথি রেবেক।

‘বিষয়টি সত্য কি না, তা জানার আগ পর্যন্ত আতঙ্কিত হবেন না।’

আরও পড়ুন:
ছবিটি সিলেট-সুনামগঞ্জের নয়, এক যুগ আগে ভিয়েতনামের
চাচিকে নিয়ে ইউপি সদস্যের পালানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন
পত্রিকার ভুল তথ্যে বিদ্রূপে বিপর্যস্ত ২ নিহতের পরিবার
হৃদরোগে সত্যিই কি জীবন বাঁচায় মরিচের গুঁড়া?
শিক্ষাবোর্ডের নামে ‘সুন্দরী বউ’ বাছাইয়ের তথ্য ছড়াল কারা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Humans role in climate change is really minimal

জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের ভূমিকা কম, আসলেই কি

জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের ভূমিকা  কম, আসলেই কি
গত ২৪ জুলাই ‘আই লাভ কার্বন ডাই-অক্সাইড’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করা হয় গ্রাফিকটি। ক্যাপশনে বলা হয়, “যে কেউ এক ঘণ্টা গবেষণা করে একই উপসংহারে আসবে, জলবায়ুর ওপর মানুষের প্রভাব সাইক্লোনে হাঁচি দেয়ার মতোই!”

বায়ুমণ্ডলে মানুষের কারণে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO2) ঘনত্ব জলবায়ু পরিবর্তনে খুব একটা প্রভাব ফেলে না- এমন একটা গ্রাফিক ফেসবুকে শেয়ার হয়েছে কয়েক হাজার বার।

আসলে এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই। এটা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড পৃথিবীর তাপমাত্রায় বড় প্রভাব ফেলে। মানুষের জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে এই গ্যাসের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে উত্তাপের মূল কারণ।

গত ২৪ জুলাই ‘আই লাভ কার্বন ডাই অক্সাইড’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করা হয় গ্রাফিকটি। ক্যাপশনে বলা হয়, “যে কেউ এক ঘণ্টা গবেষণা করে একই উপসংহারে আসবে, জলবায়ুর ওপর মানুষের প্রভাব সাইক্লোনে হাঁচি দেয়ার মতোই!”

লেখাটির নিচে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্যাসের ঘনত্ব সম্পর্কে একটি গ্রাফিক রয়েছে। যা নির্দেশ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড হলো এক ধরনের ‘ট্রেস গ্যাস; যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা গ্যাসের মাত্র ০.০৩ শতাংশ।

জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) তথ্যকে উদ্ধৃত করে গ্রাফিকে আরও বলা হয়, “মানবসৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পৃথিবীর মোট বায়ুমণ্ডলের ০.১ শতাংশের ৩%-এর ৩%..., যা ০.০০০০০৯ শতাংশ।”

“মানুষ শিগগিরই জলবায়ু পরিবর্তন করছে না।”

জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের ভূমিকা  কম, আসলেই কি

যা-ই হোক, এটি বিশ্ব উষ্ণায়নে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ব্যাপক ভূমিকাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে।

“ট্রেস গ্যাসেস”-এর লাইনটি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার সাইটের একটি পেজ থেকে নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এখানে নাসার ট্রেস গ্যাসের তথ্য থেকে মূল অংশটি বাদ দেয়া হয়েছে। যেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য ট্রেস গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর (নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন এবং ওজন) উষ্ণায়নে প্রভাব ব্যাখ্যা করেছে নাসা।

নাসা বলছে, যদিও গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলের কেবল ছোট্ট একটি অংশ, তবুও এগুলো পৃথিবীর তাপকে আটকে রাখে। ফলে আমাদের গ্রহ উত্যপ্ত হয়ে ওঠে।

‘উষ্ণায়নে কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাব অনেক’

জীবাশ্ম জ্বালানি উনিশ শতকের পর থেকে ব্যাপকভাবে পোড়ানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে, যা ১৯৬০ সাল থেকে ৪০০ পিপিএমেরও বেশি

ইংল্যান্ডের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডল বিশেষজ্ঞ এন্ড্রু ওয়াটসন বলেন, ‘কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলের একটি গৌণ উপাদান। তা সত্ত্বেও এটি গ্রহের তাপমাত্রার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কারণ এটি ইনফ্রা-রেড তাপ বিকিরণ শোষণ করে।’

আইপিসিসির ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে কার্বন চক্রের একটি বিশদ অধ্যায় রয়েছে। যেখানে ৭১৩ পৃষ্ঠার একটি গ্রাফে দেখানো হয়, কীভাবে বিভিন্ন গ্যাস ‘রেডিয়েটিভ ফোর্সিং’-এ অবদান রাখে। এই প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে অনেক বেশি তাপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, সে তুলনায় বায়ুমণ্ডল থেকে তাপ বের হওয়ার পরিমাণ অনেক কম।

এটি জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের অবদানের একটি মূল পরিমাপ

‘অদ্ভুত হিসাব’

পোস্টের ০.০০০০০৯ শতাংশের অংশটি ২০১৮ সালে প্রকাশিত একটি ব্লগ থেকে নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াটসন বলেন, ‘তারা যে তথ্যটি উদ্ধৃত করেছে, তা ভুল। ওই নিবন্ধে একাধিক ভুল রয়েছে।’

‘ওই নিবন্ধে উদ্ভট পদ্ধতিতে গণনা করা হয়েছিল। যেখানে বলা হয়, মানুষের কারণে বায়ুমণ্ডলে ৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত হয়’... যোগ করেন ওয়াটসন।

‘পদ্ধতিটি বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রবাহকে গণনা করলেও মানুষের কারণে নির্গমনের জন্য এটি কার্যকর নয়।’

ওয়াটসনের হিসাবে, মোট বায়ুমণ্ডলীয় মোলার আয়তনের প্রায় ০.০০০৫ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রতি বছর মানুষের কারণে নির্গত হয়, যা পোস্টে দেয়া তথ্যের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি।

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: দক্ষিণ এশিয়ায় তাপ বাড়ার শঙ্কা ৩০ গুণ
ফটোগ্রাফারের চোখে ভবিষ্যৎ পৃথিবী
জলবায়ু সহিষ্ণু শস্য উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ
জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালে: সেনাপ্রধান
ধরিত্রী দিবসে আওয়ামী লীগের সেমিনার

মন্তব্য

p
উপরে