× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Soap detergent prices have also gone up
hear-news
player
print-icon

দাম বেড়েছে সাবান-ডিটারজেন্টেরও

দাম-বেড়েছে-সাবান-ডিটারজেন্টেরও
গবেষণায় দেখা গেছে, গেল বছরের তুলনায় এখন ক্রেতাদের সাবান, ডিটারজেন্ট ও হ্যান্ডওয়াশ কিনতে হচ্ছে ১০ শতাংশ বেশি দামে। ছবি: সংগৃহীত
কনজ্যুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ‘খাদ্যবহির্ভূত পণ্যমূল্যও অসহনীয়। নিত্য-ব্যবহার্য এসব পণ্য কিনতেও মানুষের আয় শেষ হচ্ছে। শুধু খাদ্যপণ্য তদারকি করা হয়, কিন্তু এসব পণ্য তদারকির বাইরে থাকে।’

শুধু খাদ্যদ্রব্যই নয়, দাম বেড়েছে দৈনন্দিন ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যেরও। প্রকারভেদে ঘরে ব্যবহার করা অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে অন্তত ১০ শতাংশ। আর প্রকারভেদে এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যে দাম বেড়েছে ২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা কনজ্যুমার ফোরামের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

সেই গবেষণায় দেখা গেছে, গেল বছরের তুলনায় এখন ক্রেতাদের সাবান, ডিটারজেন্ট ও হ্যান্ডওয়াশ কিনতে হচ্ছে ১০ শতাংশ বেশি দামে। থালা-বাসন পরিষ্কার করার উপকরণ ভিমবারের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ। হারপিক ও লাইজলের দর বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ করে।

সংংস্থাটির দাবি, এই সময়ে টুথপেস্ট ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, টিস্যু বা সমজাতীয় পণ্যের দর ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

দাম বেড়েছে সাবান-ডিটারজেন্টেরও
গবেষণায় দেখা গেছে, গেল বছরের তুলনায় এখন ক্রেতাদের সাবান, ডিটারজেন্ট ও হ্যান্ডওয়াশ কিনতে হচ্ছে ১০ শতাংশ বেশি দামে। থালা-বাসন পরিষ্কার করার উপকরণ ভিমবারের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

কনজ্যুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ‘খাদ্যহির্ভূত পণ্যমূল্যও অসহনীয়। নিত্য-ব্যবহার্য এসব পণ্য কিনতেও মানুষের আয় শেষ হচ্ছে। শুধু খাদ্যপণ্য তদারকি করা হয়, কিন্তু এসব পণ্য তদারকির বাইরে থাকে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে সরকার যেভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে, এসব পণ্যের ব্যাপারে সেভাবে কিছু করার থাকে না। অতিদ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।’

ভোক্তারা বলেন, দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়াচ্ছে। অথচ সেদিকে কারও দৃষ্টি নেই। পণ্যের বাড়তি দামের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থায় সাধারণ মানুষ।

দাম বেড়েছে সাবান-ডিটারজেন্টেরও
বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অন্যতম সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, ডিটারজেন্ট। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারি দেখার পর এসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। ছবিটি কারওয়ান বাজার থেকে তুলেছেন সাইফুল ইসলাম

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিত্য ব্যবহৃত কিছু পণ্যের দাম এক লাফে অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে ক্রেতারা যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনি তারাও বিপদে আছেন। কারণ কোম্পানি দাম বাড়ালেও ক্রেতাদের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে তাদের, অনেক সময় বিতণ্ডায়ও জড়িয়ে পড়ছেন তারা।

সাবান, ডিটারজেন্ট ও হ্যান্ডওয়াশ

বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অন্যতম সাবান, হ্যান্ডওয়াশ ও ডিটারজেন্ট। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারি দেখার পর এসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। অথচ এমন একটি প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে এখন ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বাড়তি দামে।

কনজ্যুমার ফোরামের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক বছর আগে ১০০ গ্রাম হুইল সাবানের দাম ছিল ২০ টাকা, এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকায়। এক কেজি ডিটারজেন্ট (হুইল) আগে ৮৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন এটা কিনতে ক্রেতাকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। কারণ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। হাফ কেজি হুইল ডিটারজেন্ট দাম বেড়ে ৪৫ টাকা থেকে হয়েছে ৫২ টাকা।

রিন এক কেজি কিনতে ক্রেতাকে এখন দিতে হচ্ছে ১৩৫ টাকা, আগে এটার দাম ছিল ১২০ টাকা। একইভাবে হাফ কেজি রিন ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেড় শ গ্রাম লাক্স সাবান কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা, যেটা আগে ছিল ৫২ টাকা। ১০০ গ্রাম লাক্স সাবান ৩৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। ৭৫ গ্রামের লাক্স বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায়, আগে যেটা ছিল ২৬ টাকা।

লাইফবয় ১৫০ গ্রাম কিনতে ক্রেতাকে বাড়তি ১০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ১০০ গ্রামের লাইফবয় সাবানের দাম ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা হয়েছে।

লাইফবয় হ্যান্ডওয়াশ রিফিল ৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা।

১৩৫ গ্রামের ডাভ সাবানের দাম বেড়েছে ২৬ টাকা। বর্তমানে এটি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। ১০০ গ্রামের ডাভ সাবানের দাম ২০ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে দাম ছিল ৭৫ টাকা।

ডেটল সাবান অরজিনাল ও কুল ৭৫ গ্রাম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৪২ টাকা, আগে যা ছিল ৩৮ টাকা। একই সাবান ১২৫ গ্রাম কিনতে ক্রেতাকে ৬২ টাকা দিতে হচ্ছে, আগে যা ছিল ৫৮ টাকা।

থালা-বাসন পরিষ্কারক

এক বছরের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছে কনজ্যুমার ফোরাম।

বাজারে এখন ১০০ গ্রাম ভিমবারের দাম ১২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা। ৩০০ গ্রাম ভিমবারের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা। যেটা আগে ছিল ৩২ টাকা।

৫০০ গ্রাম ভিম লিকুইড কিনতে ক্রেতাকে বাড়তি ১০ টাকা গুনতে হচ্ছে, এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। ২৫০ গ্রাম ভিম লিকুইড পলির দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা।

৫০০ গ্রামের ট্রিম লিকুইড লেমন বোতল ১০৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা। ২৫০ গ্রামের দাম ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা।

হারপিক

বছরের ব্যবধানে হারপিকের দর বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

হারপিক পাওয়ার প্লাস ৭৫০ এমএল কিনতে ক্রেতাকে ১৩৫ টাকা গুনতে হচ্ছে, আগে যা ছিল ১৩০ টাকা। ৫০০ এমএল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়, আগে দাম ছিল ১০০ টাকা। হারপিক বাথরুম ক্লিনার ১২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১২৫ টাকা।

টুথপেস্ট

কনজ্যুমার ফোরামের দাবি, গত এক থেকে দুই মাসের মধ্যে টুথপেস্টের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।

পেপসোডেন্ট ২০০ গ্রামের একটি টুথপেস্ট কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ১৩০ টাকা, আগে যা ছিল ১২৫ টাকা। ১০০ গ্রামের পেপসোডেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, আগে বিক্রি হয় ৭৫ টাকায়।

কনজ্যুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এমনিতেই খাদ্যদ্রব্যের বাড়তি দামে দিশাহারা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির স্রোতে মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত পণ্যেরও দাম বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো। এসব পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে আরও চাপে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।’

সাধারণ মানুষের অস্তিত্বের স্বার্থে নিত্যপণ্যের মূল্য ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জোর দাবি করেন তিনি।

বলেন, ‘আর কয়েক দিন পরই রোজা শুরু। এ সময় যেন কোনো পণ্যের অযাচিত মূল্য না বাড়ে, সে বিষয়ে এখনই কার্যকর এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে কিছু করার থাকে না: প্রধানমন্ত্রী
রোজায় বাজার স্বাভাবিক থাকবে কি
‘ঊর্ধ্বমুখী বিশ্ববাজার ও পরিবহন খরচে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Suffering at the cattle market

পশুর হাটে ভোগান্তি চলাচলে

পশুর হাটে ভোগান্তি চলাচলে
পশুর হাটের কারণে যাত্রাবাড়ী থেকে সদরঘাট রুটে চলাচলকারী একমাত্র গণপরিবহন (বাহাদুর শাহ পরিবহন) বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা।

প্রধান সড়ক ধরে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার থেকে ধোলাইখাল হয়ে দয়াগঞ্জ মোড়ের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। একই গন্তব্যে আরও তিন কিলোমিটারের বেশি পার্শ্ব রাস্তা।

ওই ৬ কিলোমিটারের মতো রাস্তা ইজারা নিয়ে বসানো হয়েছে পশুর হাট। এতে এ দুই রাস্তা দিয়ে চলাচলে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

পশুর হাটটি রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে শুরু হয়েছে। এটি ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালের পাশাপাশি নারিন্দা, গোপী মোহন বসাক লেন, রথখোলা মোড়, নাসির উদ্দিন সর্দার রোড, ঋষিকেশ রোড, বেগমগঞ্জ বাজার, গেণ্ডারিয়া রোড ও মুরগিটোলা মোড় হয়ে দয়াগঞ্জ মোড় পর্যন্ত বসেছে।

রাস্তার দুই পাশে ফুটপাতের সামনে বাঁশে বেঁধে রাখা হয়েছে গরু ও ছাগল। অনেক জায়গায় বাঁশ দিয়ে পুরো রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে হাট কর্তৃপক্ষ। এতে তৈরি হয়েছে যানজট। আর মাইকে সারা দিনই চলছে উচ্চ আওয়াজে পশু বিক্রির ঘোষণা।

পশুর হাটের কারণে যাত্রাবাড়ী থেকে সদরঘাট রুটে চলাচলকারী একমাত্র গণপরিবহন (বাহাদুর শাহ পরিবহন) বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা।

কোরবানির এ হাটে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে করে গরু নিয়ে আসা হচ্ছে। ট্রাকগুলো রাস্তার ওপর দীর্ঘক্ষণ রেখে দেয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

বিকল্প রাস্তা না থাকায় যানজটের দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রাবাড়ী থেকে সদরঘাটগামী লোকজন। যেখানে দয়াগঞ্জ মোড় থেকে রায়সাহেব বাজার আসতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট, সেখানে ১ ঘণ্টায়ও এ পথ পার হওয়া যাচ্ছে না।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসার কথা ঈদের চার দিন আগে, কিন্তু এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাটে আসতে শুরু করেছে পশু। এর ভুক্তভোগী হচ্ছেন পুরান ঢাকার বাসিন্দারা।

নবাবপুর রোডের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দোকানের সামনে গরুর হাট বসিয়েছে। গরুর প্রস্রাব-পায়খানার গন্ধ আর হাটের মানুষের ভিড়ে ব্যবসার একদম ১২টা বেজে গেল।’

ইংলিশ রোডে দাঁড়িয়ে নোমান নামের এক লঞ্চযাত্রী বলেন, ‘আমি সদরঘাট যাব, কিন্তু লঞ্চ মিস করে ফেলছি। অন্য সময়ে যাত্রাবাড়ী থেকে ইংলিশ রোডে হেঁটে আসতে ২০ মিনিট সময় লাগে। একটু হেঁটে একটু রিকশায় প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। গরু, গরুর ট্রাক আর হাটের মানুষের ভিড়ে হাঁটাও কষ্টকর।’

নারিন্দার বাসিন্দা মো. জারীফ জাওয়াদ বলেন, ‘আমার বাসার দরজায় গরু বাঁধা। গাড়ি বের করতে পারি না।

‘রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। সারা দিন মাইকে পশু বিক্রির ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। এতে এলাকাবাসী বিরক্ত।’

একই এলাকার দোকানদার মো. তুহিন বলেন, ‘আমার দোকানের সামনে গরু বেঁধে রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে অনুরোধ করায় সরিয়ে নিয়েছেন।’

এ এলাকার আরেক বাসিন্দা অনিক হোসেন বলেন, ‘এলাকার রাস্তা আর ফুটপাত ব্যবহার করতে পারি না। রাস্তায় শুধু পশুর বর্জ্য।’

সিটি করপোরেশনের কাছে এ অবস্থা থেকে মুক্তি চান তিনি।

হাটের ইজারাদার মো. আনোয়ার বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের আমরা সব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। ঈদের দিন পর্যন্ত এ হাট চলবে। আমাদের ভলান্টিয়াররা আছেন; তারা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।’

রাস্তার ওপর হাট বসানোতে ভোগান্তির বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

ধোলাইখাল হাট দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাকির বলেন, ‘আমাদের ভলান্টিয়াররা কিছু সময় রাস্তা বন্ধ রাখছে। আবার খুলে দিয়েছে। আমরা তো সারা বছর মানুষকে কষ্ট দিইনি, দুই-তিন দিন কষ্ট করবে মানুষ।’

ধোলাইখাল হাটের দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল কালাম বলেন, ‘এই অবস্থায় এ রোডে গাড়ি চলা মুশকিল। গাড়ি ঢুকলে গাড়ি সাইড দিতে আমরা মাইকিং করি। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সচেতন করি।’

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘হাটে গরু আসতে শুরু করেছে। বিক্রি শুরু হবে আমাদের নির্ধারিত তারিখ থেকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ ভোগান্তিতে পড়লে থানা কিংবা আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। আমরা কারও যাত্রাপথ বন্ধ করতে হাট বসাইনি। অসুবিধার কথা জানিয়ে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে ডিএসসিসির ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সারোয়ার হোসেন আলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘ইজারা দিয়েছে সিটি করপোরেশন। তারা কেন রাস্তায় দিয়েছে তারাই বলতে পারবে। আমার ওয়ার্ডের অধীন অংশে আমি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি।’

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মামুনুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাট আমরা নিজেরাই দেখতেছি। স্পেসিফিক কোনো দায়িত্ব নাই। আমাদের ডিউটি বাই টার্ন এখানে যাচ্ছে; ওরাই ওটা মেইনটেইন করতেছে।’

‘রাস্তার দুই পাশ দুটি থানার অধীনে পড়েছে। এক পাশে ওয়ারী আর অন্যপাশে সূত্রাপুর। সামনে আবার গেণ্ডারিয়া আছে। ওখানে গেণ্ডারিয়া থানাও দেখছে। কিছুটা অংশ ওয়ারী থানায়ও পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গরুর হাট হলে একটু তো যানজট হবেই। পুরান ঢাকায় আসলেই জায়গার সংকট।

‘তারপরও গাড়ি চলাচল অব্যাহত আছে। রাস্তা বন্ধ রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই।’

আরও পড়ুন:
ঢাকার পশুর হাটসংলগ্ন ব্যাংক রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা
যেখানে-সেখানে পশুর হাট নয়: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
পশুর হাটে জাল নোট যাচাই করবে ব্যাংক
স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানোর নির্দেশ
পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড: দায় ও রাসায়নিক পল্লির আক্ষেপ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BICM research seminar held

বিআইসিএমের গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিআইসিএমের গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত
সেমিনারটির উদ্বোধন করে বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আজকের পেপারে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল আমরা দেখেছি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কাজটি রেপ্লিকেট করার গুরুত্ব অপরিসীম।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) উদ্যোগে ‘বিআইসিএম রিসার্চ সেমিনার-১৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে সংস্থাটির মাল্টিপারপাস হলে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ডু কো-অপ্টেড বোর্ডস অ্যাফেক্ট ফার্ম ম্যানেজারিয়াল অ্যাবিলিটি ইন দ্য ইউএস’।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওমানের ইউনিভার্সিটি অফ নিজওয়ার ইকোনোমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান ড. মোহাম্মাদ দুলাল মিয়া।

মূল প্রবন্ধে ড. মোহাম্মাদ দুলাল মিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখান। তিনি বলেন, ‘কো-অপ্ট বোর্ডের সদস্যরা ব্যবস্থাপনার ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। পুরুষ কো-অপ্ট সদস্যরা এই বিষয়ের প্রভাবক হিসেবে অন্তরায়। তবে নন-কোপ্ট সদস্যরা ব্যবস্থাপনাগত ক্ষমতা বাড়ায়। ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা নির্ধারণে নারী পরিচালকদের নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখা যায়।’

এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ড. মোহাম্মাদ দুলাল মিয়া ফার্ম এবং পুঁজিবাজারের জন্য কিছু পরামর্শ দেন। বলেন, ‘করপোরেট গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্কে বোর্ড কো-অপশনের সীমা নির্দিষ্ট করা উচিত। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনাগত ক্ষমতা এবং দক্ষতা বাড়াতে বোর্ডে জেন্ডার বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করতে হবে।’

সেমিনারটির উদ্বোধন করে বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আজকের পেপারে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল আমরা দেখেছি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কাজটি রেপ্লিকেট করার গুরুত্ব অপরিসীম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিআইসিএম পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, ডিপ্লোমা ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। সামনের দিনগুলোতে ইনস্টিটিউট গবেষণা পরিচালনার উপর অধিক গুরুত্বারোপ করবে।’

সেমিনারটিতে আলোচক হিসেবে হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দ্য ইউনিভার্সিটি অফ কুইনসল্যান্ডের ফাইন্যান্স স্কুল অফ বিজনেস বিভাগের প্রভাষক ড. হাসিবুল চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তাহের জামিল।

সেমিনারে উপস্থিত আলোচকরা বৃহত্তর স্বার্থে ভবিষ্যতে ইনস্টিটিউটের সাথে গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে প্রস্তাব রাখেন।

তারা বলেন, গবেষণাটির সুপারিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অল্টারনেটিভ কিছু পরিমাপকে এই তথ্যগুলোর ফলাফল দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও এ ধরনের গবেষণা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাফায়েদুজ্জামান খান। এতে বিআইসিএমের অনুষদ সদস্য, কর্মকর্তা এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিআইসিএমের রিসার্চ সেমিনার- ১২ অনুষ্ঠিত
নারী বিনিয়োগকারীদের নিয়ে পুঁজিবাজার বিষয়ে প্রশিক্ষণ
বিআইসিএমের রিসার্চ সেমিনার-১১ অনুষ্ঠিত
বিআইসিএমের রিসার্চ সেমিনার-১০ অনুষ্ঠিত
ছোটদের ঋণ সহজ ও দ্রুত করবে ফিনটেক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The price of gold is Rs

স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা

স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমেছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

ঈদের আগে কমল স্বর্ণের দাম। দেড় মাসের ব্যবধানে সবচেয়ে ভালো মানের মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমে ৭৮ হাজার ৩৮২ টাকায় নেমে এসেছে।

অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও একই হারে কমেছে। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন দর কার্য‌কর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারসহ অন্যান্য মুদ্রার দাম নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

সবশেষ ২৬ মে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ওই সময় সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ৮ মার্চ দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। তার চার দিন আগে ৪ মার্চ বাড়ানো হয়েছিল ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা।

এরপর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করায় ১৫ মার্চ দেশের বাজারে ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ২১ মার্চ কমানো হয় ভরিতে আরও ১ হাজার ৫০ টাকা।

কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় ১১ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ৮৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় ২৫ এপ্রিল প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়। ১০ মে একই পরিমাণ কমানো হয়েছিল।

দুই দফায় ভরিতে ২ হাজার ৩৩২ টাকা কমানোর পর ১৭ মে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ানো হয়।

মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ২১ মে সেই স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে দেয় বাজুস। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে স্বর্ণের দাম উঠে যায় ৮২ হাজার ৪৬৬ টাকায়।

স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা

২৬ মে সেই স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমিয়ে ৭৯ হাজার ৫৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। প্রায় দেড় মাস পর বুধবার আরও ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে আমেরিকান ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার দাম নিম্নমুখী। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটেও স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে এই নতুন দর কার্য‌কর হবে।

দাম কমানোর কারণ জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মুহূর্তে গোল্ডের দাম ওঠানামা করছে। এই বাড়ছে তো ওই কমছে। গত দেড় মাসে দাম খানিকটা কমেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দামও কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। সে কারণে সবকিছু হিসাব করে আমরাও গোল্ডের দাম কমিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি মুহূর্তে বাজার পর্যবেক্ষণ করি। এখন বিশ্ববাজারে দাম কমছে; আমরাও কমিয়েছি। দেশে স্বর্ণের দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে আসলে বিশ্ববাজারের ওপর।’

‘তবে সাম্প্রতিক সময়ে গোল্ডের দাম উঠানামা করছে আসলে ডলারেরে উত্থান-পতনের উপর। ডলারের পাশাপাশি অন্যান্য মুদ্রার দামও উঠানামা করছে। সবকিছু মিলিয়েই আমাদের দাম নির্ধারণ করতে হচ্ছে,’ বলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আগারওয়ালা।

বিশ্ববাজারে বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম, ২.৬৫ ভরি) স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৭৬৩ ডলার ৪২ সেন্ট। সর্বশেষ ২৬ মে রাতে যখন স্বর্ণের দাম কমানো হয়, তখন প্রতি আউন্সের দাম ছিল ছিল ১ হাজার ৮৪৩ ডলার ৪৯ সেন্ট।

মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বাড়তে বাড়তে ২ হাজার ৬০ ডলারে উঠেছিল।

বৃহস্পতিবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে লাগবে ৭৮ হাজার ৩৮২ টাকা। বুধবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণ ৭৯ হাজার ৫৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ১ হাজার ১৬৬ টাকা।

২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমে ৭৪ হাজার ৮৮৩ টাকা হয়েছে। এই দেড় মাস ৭৫ হাজার ৯৩৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে এই মানের স্বর্ণ।

১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমে হয়েছে ৬৪ হাজার ১৫২ টাকা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ৭৫৮ টাকা কমিয়ে ৫৩ হাজার ৪৭৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাজুস। এতদিন ৫৪ হাজার ২৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি।

তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের দামেই বিক্রি হবে এই ধাতু।

আরও পড়ুন:
তিন কারে মিলল ১৩৫টি স্বর্ণের বার
আমিরাতপ্রবাসী যাত্রীর শরীরে বাঁধা স্বর্ণের ৩৪ বার
সৌদিপ্রবাসীর লাগেজে স্বর্ণের ২৮ বার
নেবুলাইজারে ১ কেজি সোনা
স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ২৯১৬ টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chartered life is coming to the capital market

পুঁজিবাজারে আসছে চার্টার্ড লাইফ

পুঁজিবাজারে আসছে চার্টার্ড লাইফ
কোম্পানিটি মোট এক কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছাড়বে বাজারে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১৫ কোটি টাকা তুলবে। ইস্যু ব্যবস্থাপনা খাতের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি এই অর্থ পুঁজিবাজার ও সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে কোম্পানি।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা তুলবে জীবন বিমা কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড।

কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি।

বুধবার কমিশনের ৮৩০তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম। তিনি জানান, কমিশন রুলস ২০১৫ এর রুলস ৩(২) (পি) থেকে অব্যাহতিপূর্বক অনুমোদন করা হয়েছে।

কোম্পানিটি মোট এক কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছাড়বে বাজারে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১৫ কোটি টাকা তুলবে। ইস্যু ব্যবস্থাপনা খাতের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি এই অর্থ পুঁজিবাজার ও সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে কোম্পানি।

কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, ট্র্যাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

২০২১ সালের ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম্পানটির লাইফ ফান্ড ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৬৮ হাজার ৭২০ টাকা। মোট উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানের জন্য উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
২৯ টাকার শেয়ার ৩ টাকায় হওয়া লেনদেন বাতিল
শেয়ারদর ২৯ থেকে হঠাৎ ৩ টাকায় নামার পেছনে কী
আইডিআরএ চেয়ারম্যানের ‘দুর্নীতির প্রমাণ’ আদালতে জমা
প্রগতি ইন্স্যুরেন্সে ১৪ বছরে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ
আইডিআরএর চিঠির পর আবার বিমার শেয়ারে হুলুস্থুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Like Like Celebrate Eid ul Azha 2022 Campaign

লাইকি আনল ‘সেলিব্রেট ঈদুল আজহা ২০২২’ ক্যাম্পেইন

লাইকি আনল ‘সেলিব্রেট ঈদুল আজহা ২০২২’ ক্যাম্পেইন
চ্যালেঞ্জগুলোতে অংশ নিয়ে লাইকি ব্যবহারকারীরা কসমেটিকসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন। টপিক পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের কাছে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে পারবেন।

উৎসবমুখরভাবে আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপনে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও নির্মাণ এবং শেয়ারিং অ্যাপ লাইকি ‘সেলিব্রেট ঈদুল আজহা-২০২২’ নামের ক্যাম্পেইন চালু করছে।

ক্যাম্পেইনটি বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

এ বছর বাংলাদেশের মানুষের ঈদ উদযাপনে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে লাইকির এ ক্যাম্পেইনে থাকবে দুটি হ্যাশট্যাগ চ্যালেঞ্জ। এগুলো হলো- #কোরবানিগরু ও #ঈদুলআযহা২০২২।

#কোরবানিগরু চ্যালেঞ্জের অধীনে লাইকি ব্যবহারকারীরা মজাদার কনটেন্ট শুট করে সেগুলো এ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করতে পারবেন।

অন্যদিকে #ঈদুলআযহা২০২২ চ্যালেঞ্জে ব্যবহারকারীদের জন্য থাকছে বিশেষ হলিডে স্টিকার, উপভোগ্য সব কনটেন্ট তৈরির সুযোগ; যা তারা লাইকি প্ল্যাটফর্মে আরও বিনোদনমূলক উপায়ে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন।

এ চ্যালেঞ্জগুলোতে অংশ নিয়ে লাইকি ব্যবহারকারীরা কসমেটিকসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন। টপিক পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের কাছে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
লাইকির নতুন ফিচারে টাকা আয়ের সুযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Robi Poyabaro in the capital market due to the ban on Grameen

গ্রামীণে নিষেধাজ্ঞায় পুঁজিবাজারে রবির পোয়াবারো

গ্রামীণে নিষেধাজ্ঞায় পুঁজিবাজারে রবির পোয়াবারো
বুধবার রবির শেয়ারদর কিছুটা কমলেও আগের চার কর্মদিবসে শেয়ারদর ২৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণের শেয়ারদর টানা তিন দিন সর্বোচ্চ পরিমাণে কমার পর চতুর্থ কর্মদিবসের শুরুতেও একই চিত্র দেখা যায়। তবে দিন শেষে ঘুরে দাঁড়ায়। দুই দিন বাড়লেও আগের তিন দিনের পতনের কারণে ৬ টাকা ৮০ পয়সা কমেছে দর।

প্রবাদ রয়েছে, কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ। এমনটাই ঘটেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের দুটি কোম্পানির ক্ষেত্রে। কোম্পানি দুটি হলো গ্রামীণফোন ও রবি।

গত সপ্তাহে বুধবার গ্রামীণফোন নতুন কোনো সিম বিক্রি করতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি। এর কারণ হিসেবে গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দিতে না পারার কথা বলা হয়।

এই নিষেধাজ্ঞার খবরে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দরপতন শুরু হয়। বিপরীতে কপাল খুলেছে রবির বিনিয়োগকারীদের।

বুধবার কিছুটা কমলেও আগের চার কর্মদিবসে শেয়ারদর ৭ টাকা ৮০ পয়সা বা ২৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণের শেয়ারদর টানা তিন দিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত। চতুর্থ দিনও আবার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত নামার পরেও ঘুরে দাঁড়ায়। দিন শেষে বাড়ে। পরদিন আরও কিছুটা বাড়ে।

নিষেধাজ্ঞার পর শেয়ারদর ৬ টাকা ৮০ পয়সা বা ২.২৬ শতাংশ কমেছে।

সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার পরের দিন বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের শেয়ারদর ৬ টাকা বা ২ শতাংশ কমে সর্বশেষ ২৯৪ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।

এরপর আরও দুই দিন দর কমে লেনদেন হয়। তবে মঙ্গলবার তিন শতাংশ বেড়ে শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২৯১ টাকা ১০ পয়সায়। পরদিন আরও ০.৭৬ শতাংশ বেড়ে হারানো দরের কিছুটা পুনরুদ্ধার করে কোম্পানিটি।

এই নিষেধাজ্ঞার পর চার কর্মদিবস টানা বাড়ার পর বুধবার ১.৮৯ শতাংশ বা ৭০ পয়সা কমেছে রবির শেয়ারের।

গত ২৯ জুন শেয়ারের দর ছিল ২৮ টাকা ৬০ পয়সা। পরদিন বেড়ে হয় ৩০ টাকা ১০ পয়সায়।

পরের কর্মদিবস ৩ জুলাই ৩ টাকা বা ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ দর বেড়ে ৩৩ টাকা ১০ পয়সায় শেয়ার বেচাকেনা হয়। এর পরদিন আরও ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়।

৫ জুলাই লেনদেনের শুরুতে শেয়ারদর আবার লাফ দিয়ে ৯ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে গেলেও দিন শেষে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ দর দাঁড়ায় ৩৭ টাকা ১০ পয়সা।

এরপর বুধবার নিম্নগতি দেখা যায়। এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ হার ২ শতাংশ হওয়ায় ৭০ পয়সার বেশি কমার সুযোগ ছিল না। কমেছেও ততটা।

আর্থিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় রবির চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে গ্রামীণফোন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য বলছে, গ্রামীণফোনের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২৫ টাকার ওপরে। বিপরীতে এক টাকারও কম আয় রবির।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে যথাক্রমে ২০ টাকা ৩১ পয়সা, ২৬ টাকা শূন্য ৪ পয়সা, ২৫ টাকা ৫৬ পয়সা, ২৭ টাকা ৫৪ পয়সা এবং ২৫ টাকা ২৮ পয়সা।

অন্যদিকে ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রবির আয় যথাক্রমে ৪৬ পয়সা, ৪ পয়সা, ৩৩ পয়সা ও ৩৪ পয়সা।

আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশ ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে গ্রামীণফোন। ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত হলেও ২০১৫ সাল থেকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানি।

ওই সময় থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ১৪০, ১৭৫, ২০৫, ২৮০, ১৩০, ২৭৫ ও ২৫০ শতাংশ। এর সবই নগদ।

অন্যদিকে রবি ২০২০ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে ২০২১ সালে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের গ্রামীণফোনের শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২টি।

আর ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন হওয়ায় রবির শেয়ার সংখ্যা ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৫টি।

আরও পড়ুন:
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়ায়’ যবিপ্রবি শিক্ষকের নামে মামলা
ব্যান্ডউইথড ক্যাপাসিটি বাড়াবে বিএসসিসিএল
অর্থবছরের প্রথম দিন স্বস্তি দিল না পুঁজিবাজারে
হাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ: তদন্তে কমিটি
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাশে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A day later the fall lotus transaction

এক দিন পরেই পতন, কমল লেনদেনও

এক দিন পরেই পতন, কমল লেনদেনও
‘ঈদের আগে মানুষের টাকার প্রয়োজন পড়ে, সেটা বিগত কয়েক দিনে তুলে ফেলেছে। বাকি যে টাকা অ্যাকাউন্টে ছিল তা দিয়ে কেনাবেচা করছে।গতকাল কিনেছিল, আজকে লাভ পেয়ে বিক্রি করেছে।’

বাজেট পাসের পর দুই দিন পতনের পর ঘুরে দাঁড়ানো পুঁজিবাজারে এক দিন পরেই আবার দরপতন হলো। বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতনের পাশাপাশি কমে গেছে লেনদেনও।

বুধবার লেনদেনের শুরুতেই সূচক বেড়ে গেলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে তা কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে।

অন্যদিকে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ কোটি ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকায়।

আগের দিন লেনদেন হয় ৯৬০ কোটি ৭৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা, যা ১৩ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নতুন বছর শুরু হতে না হতেই আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ, ইউক্রেন যুদ্ধ, শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ইত্যাদি ইস্যুতে টালমাটাল পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশ্বাস দেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নতুন বছরে বাজারে নতুন ফান্ড ইনজেক্ট হয়। বাজারে তারল্য বাড়ে।

তবে অর্থবছরের প্রথম সপ্তাহে তেমনটা দেখা যায়নি। পতনমুখি বাজারে গতকাল ইউটার্ন এলেও একদিন পরে আবারও আগের ধারায়।

বুধবার যতগুলো শেয়ারের দাম বেড়েছে কমেছে তার প্রায় দ্বিগুণ। ১১৮টি শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২১০টির। অপরিবর্তিত দামে লেনদেন হয়েছে ৫৪টি কোম্পানির শেয়ার।

এক দিন পরেই পতন, কমল লেনদেনও
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

লেনদেনের বিষয়ে এক্সপো ট্রেডার্সের প্রধান নির্বাহী শহিদুল হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগে বাজার খুব বেশি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গতকাল দর বেড়েছিল, আজকে হয়তো অনেকেই লাভ দেখেছেন সেটা বিক্রি করেছেন। তাই সূচক কিছুটা কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের আগে মানুষের টাকার প্রয়োজন পড়ে, সেটা বিগত কয়েক দিনে তুলে ফেলেছে। বাকি যে টাকা অ্যাকাউন্টে ছিল তা দিয়ে কেনাবেচা করছে।গতকাল কিনেছিল, আজকে লাভ পেয়ে বিক্রি করেছে।’

শহিদুল হোসেন বলেন, ‘ঈদের পরে আশা করা যেুতে পারে যে, নতুন বিনিয়োগে বাজার আবার চাঙা হবে।’

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সর্বোচ্চ দর বেড়েছে গতকাল তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। আগের দিন ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৬ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছিল। আজকে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১৫০ টাকা ১০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে।

৮ মাস আগেও বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে শেয়ার লেনদেন হতে দেখা গেছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর শেয়ারটির দর উঠেছিল ২৩২ টাকা ৯০ পয়সা।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন-সংশ্লিষ্ট পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ২০১৮ সালের পরে আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি।

দর বৃদ্ধির দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি। দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাড়ছে কোম্পানিটির শেয়ারদর।

৮ দশমিক ১৮ শতাংশ দর বেড়ে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ টাকা ৪০ পয়সায়। ২০১৬ সাল থেকে বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিকভাবে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে কোম্পানিটি।

২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৮৭ পয়সা আয়ের বিপরীতে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানি।

দর বৃদ্ধির তৃতীয় স্থানে রয়েছে লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেড। ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৮৭০ টাকা ৩০ পয়সায়। গতকাল সর্বশেষ দর ছিল ৮০৯ টাকা ৬০ পয়সা।

মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটি প্রতি বছরই আয় করেছে। ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ছাড়া সবগুলোই নগদ।

দর বৃদ্ধির তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন। আয় কম হলেও প্রতি বছরই মুনাফা করেছে কোম্পানিটি।

২০২১ সালে ৮১ পয়সা আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে ২ শতাংশ। তার আগের বছর ৫ এবং ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ করেই লভ্যাংশ দিয়েছে।

কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে ২৬ জুন থেকে। ওই দিন ২০ টাকা ৩০ পয়সা দরে লেনদেন হওয়া শেয়ারটির দর আজকেই বেড়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। সর্বশেষ দর দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ১০ পয়সা।

এর পরেই ওইমেক্স ইলেক্ট্রোড লিমিটেডের। ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দর বেড়ে সর্বশেষ ২০ টাকাক ৮০ পয়সায় প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

কোম্পানির আর্থিক তথ্য বলছে, প্রত বছরই সামান্য পরিমাণে মুনাফায় থাকলেও কোনোদিন নগদ লভ্যাংশের মুখ দেখেননি এর বিনিয়োগকারীরা। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে ওইমেক্স।

তালিকার দশে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এর পরের স্থানে রয়েছে যথাক্রমে জেনেক্স ইনফোসিস, লোকসানি জাহিদ স্পিনিং লিমিটেড, এএফসি অ্যাগ্রো, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড এবং প্রাইম টেক্সটাইল।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি দর পতন হয়েছে লোকসানি জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের। সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ দর পতনের মাধ্যমে শেয়ারটির ক্লোজিং প্রাইস দাঁড়িয়েছে ১৮১ টাকা ৫০ পয়সা।

১৯৮৮ সালে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানিটি কোনো দিন লাভের মুখ দেখেনি। লভ্যাংশ জোটেনি বিনিয়োগকারীদেরও। তবে কোম্পানির শেয়ারের দাম ব্যাপক ওঠানামা করে। ২৬ জুন ১৬৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেনের পরে কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর দুই কর্মদিবস কমল।

দর পতনের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এমবি ফার্মাসিউটিক্যালস। একই সমান দর কমে সর্বশেষ ৫২০ টাকা লেনদেন হয়েছে কোম্পানির শেয়ার।

ধারাবাহিকভাবে মুনাফা থাকা কোম্পানিটি ২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৫ টাকা ৪২ পয়সা লোকসান গুনেছে। ফলে লভ্যাংশ পাননি বিনিয়োগকারীরা। তবে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

সমান দর কমে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার ৪০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৩৯ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

ক্রাউন সিমেন্টের দর ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৭৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

দর পতনের পঞ্চম অবস্থানে থাকা লোকসানি মেঘনা পেটের দর কমেছে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৩৪ টাকা ৭০ পয়সা।

সপ্তম স্থানে রয়েছে সাভার রিফ্যাক্টরিজ। ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ দর কমে শেয়ারটির দর দাঁড়িয়েছে ২৩৮ টাকা ৬০ পয়সায়।

লোকসানে ডুবে থাকা এক কোটি ৩৯ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটি কোনো দিনই বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

দরপতনের শীর্ষ দশে রয়েছে যথাক্রমে আমান কটন, শ্যামপুর সুগার মিলস, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ও নিউ লাইন ক্লোথিং লিমিটেড।

সূচক কমাল যারা

সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট সূচক কমেছে রবির দরপতনের কারণে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৮৯ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট কমিয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের দর ২ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ২ দশমিক ২২ পয়েন্ট।

এ ছাড়া তিতাস গ্যাস, পাওয়ার গ্রিড, বিএসআরএম, বিকন ফার্মা, বার্জার পেইন্টস, রেনাটা ও র‌্যাক সিরামিকসের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০ কোম্পানি কমিয়েছে ১৭ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট।

বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫০ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে গ্রামীণফোন। এদিন কোম্পানিটির দর শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।

সূচকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট যোগ করেছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। দর ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট।

খুলনা পাওয়ার সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওয়ালটন হাইটেক, জেনেক্স ইনফোসিস, বেক্সিমকো ফার্মা, সোনালী পেপার, শাহজীবাজার পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, রেকটি বেনকিজার সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাশে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর
পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বস্ত্রে
দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিল বিএসইসি
‘ঘুম ভাঙছে’ পুঁজিবাজারের, বাড়ছে লেনদেন

মন্তব্য

p
উপরে