দুই সপ্তাহ আগে সংবাদকর্মী বাদল খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, তিনি ২৩ দিন হর্ন না বাজিয়ে ঢাকায় মোটরসাইকেল চালিয়েছেন। এতে কোনো সমস্যা হয়নি জানিয়ে তার মনে উপলব্ধি এসেছে, ঢাকায় হর্ন না বাজিয়েও বাইক চালানো যায়।
রাজধানীতে প্রধান সড়কে, অলিগলিতে, হর্ন নিষিদ্ধ এলাকায়, হাসপাতাল-স্কুলের সামনে চলতে থাকা যানবাহন, এমনকি সিগন্যালে গাড়ি আটকে থাকা অবস্থায় যখন উচ্চৈঃস্বরে হর্ন বাজতে থাকে, সে সময় বাদলের এই উপলব্ধি কি একেবারেই অবাস্তব?
এই সংবাদকর্মীর স্ট্যাটাসের নিচেই বেশ কয়েকজন কমেন্ট করেন। এদের একজন জানান, তিনি তিন বছর ধরেই হর্ন না বাজিয়ে চলছেন, একজন জানান, তিনি ছয় বছর ধরে হর্ন দেন না বললেই চলে।
রাজধানীতে শব্দদূষণ কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে, সেটি ফুটে উঠেছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে, যেখানে বলা হয়েছে ঢাকায় শব্দদূষণ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি।
নানা কারণে শব্দদূষণ হয়ে থাকে, তার একটি হলো গাড়ির হর্ন। এই হর্নের নির্ধারিত যে মাত্রা সরকার বেঁধে দিয়েছে, তার চেয়ে উচ্চ শব্দের হর্ন আমদানি হচ্ছে হরদম। হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধের বিষয়টি যে একেবারেই কাগজে-কলমে, সেটি মহাসড়কে এমনকি ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে গেলেই বোঝা যায়। দূরপাল্লার বাসগুলো ঢাকার বাইরে তো বটেই, এই সড়কটিতেও হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করে।
বাদলের স্ট্যাটাসের নিচে কমেন্ট করে ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের সিনিয়র রিপোর্টার আহম্মদ ফয়েজ তিন বছর ধরে হর্ন না বাজিয়ে রাজধানীতে বাইক চালান।
নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মানুষ অকারণে কেন হর্ন বাজায় তা আমি বুঝি না। অনেকেই দেখি খালি রাস্তায় দুইবার বাজায়। পরে আমি চিন্তা করলাম হর্ন না বাজিয়ে চলা যায় কি না। দিনে একবার দুইবার হঠাৎ বাজাতে হয় যদি সরু গলিতে ঢুকতে হয়। এ ধরনের কারণ ছাড়া ঢাকা শহরের রাস্তায় হর্ন বাজানোর কোনো যুক্তি আসলে নাই।’
এই অভ্যাস কীভাবে করা যায়, সে পরামর্শও দিয়েছেন এই সাংবাদিক। বলেন, ‘যারা এই চর্চা করতে চাচ্ছে তাদের প্রথমে ঠিক করতে হবে, তিনি হর্নে হাত দেবেন না। ব্যক্তিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দূষণ থেকে শহরকে বাঁচাবেন। তাহলেই হবে। গলাটিপে এটা বন্ধ করা যাবে না। মানুষকে সচেতন করতে হবে।’
প্রতিটি গাড়িতেই হর্ন ছাড়াও সামনের গাড়িতে সংকেত দেয়ার ব্যবস্থা থাকে। হেডলাইটের পাশে ছোট বাতি থাকে, সেটি জ্বলে থাকে না। নির্দিষ্ট বাটনে চাপ দিলে সামনের গাড়ির লুকিং গ্লাস হয়ে চালকের চোখে সেই সংকেত ধরা দেয়। এতে তিনি পেছনের গাড়ির গতিবিধি দেখতে পারেন।
তবে বাংলাদেশে বিশেষ করে বাইকে প্রায়ই দেখা যায়, লুকিং গ্লাস খুলে ফেলা হয়েছে। ফলে পেছনের গাড়ির গতিবিধি তার দেখার সুযোগ নেই। আর গাড়ির কারের চালকরাও আলোর সংকেতে অভ্যস্ত নয়। যে কারণে হর্নই চলে দিনরাত।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা অপূর্ণ রুবেল হর্ন ছাড়া বাইক চালান ৬ বছর ধরে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৬ সালের দিকে লেখক আনিসুল হকের কাছ থেকে শুনলাম তার গাড়িতে হর্ন বাজে না। তখন আমিও ট্রাই করলাম হর্ন না বাজানোর। কয়েক দিন চেষ্টা করেই সফল হয়ে গেলাম।’
রাজধানীর একটি হাসপাতালের সামনে শব্দদূষণের মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফাইল ছবি
ক্ষতি ব্যাপক, কিন্তু নেই সচেতনতা
গাড়ির হর্নের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা গড়ার চেষ্টা হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে একটি প্রচার চালাচ্ছেন মমিনুর রহমান রয়েল নামে একজন, যিনি কাজ করেন একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। তার ব্যতিক্রমী পোস্টার সহজেই নজর কাড়ে নগরবাসীর। সেখানে লেখা থাকে, ‘হর্ন হুদাই বাজায় ভুদাই।’
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে স্টাডি করেছি, যারা এক্সপার্ট তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। অতিরিক্ত হর্নের কারণে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। মানুষের টেম্পারমেন্ট কমে যায়, উচ্চ রক্তচাপ হয়, গর্ভবতী মায়ের সন্তান ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে।’
মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে কি না- এমন প্রশ্নে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে কিছু মানুষের মধ্যে কিছুটা এসেছে। তবে সামগ্রিকভাবে খুব বেশি হয়েছে সেটি বলা যায় না।’
রয়েল যে ক্ষতির কথা বলেছেন, সেটিই ফুটে উঠল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরীর কথায়। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘শব্দদূষণের কারণে শ্রবণ ইন্দ্রিয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশে মৃদু বধির এবং মধ্যম মানের বধিরের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
‘শব্দদূষণের কারণে আমাদের মস্তিষ্ক উত্তেজিত এবং বিরক্তবোধ করে। ফলে হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়। রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপ রোগের সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্ক উত্তেজিত থাকার কারণে অনিদ্রা এবং ঘুম হয় না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
‘মেজাজ খিটখিটে হওয়ার কারণে মনোসংযোগ করার ক্ষমতা কমে যায়। সব মিলিয়ে একটি ব্যক্তির যে সাম্য অবস্থা ভারসাম্য, সেটা বিঘ্নিত হয়। এভাবে চলতে থাকলে তার হার্টের ওপর চাপ পড়বে এবং হৃদরোগের তৈরি হয়। হৃদরোগের সৃষ্টি হলে উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
‘এভাবে শব্দদূষণ বধির থেকে শুরু করে ডায়াবেটিসসহ বড় বড় রোগের আধার হিসেবে আমাদের শরীরটাকে তৈরি করে ফেলে, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়। আবার অসুস্থ হওয়ার কারণে জাতীয় শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্য তো বটেই, অর্থনীতিরও ক্ষতির কারণ হয়েছে।’
আইন আছে, প্রয়োগ নেই
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০০৬ সালে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা করা হয়। এতে বলা হয়, আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল এবং দিনের অন্য সময়ে ৫৫ ডেসিবেল অতিক্রম করতে পারবে না। বাণিজ্যিক এলাকায় তা যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ ডেসিবেল।
হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের আশপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেখানে রাতে ৪০ ও দিনে ৫০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া আছে।
২০০৭ সালে রাজধানীর বেশ কয়েকটি সড়কে হর্ন নিষিদ্ধ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সে সময় অভিযান চালিয়ে প্রতিদিন জরিমানা কত সেটি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
কিন্তু এখন এই ধরনের অভিযান আর হয় না। সব সড়কেই দেদার বাজতে থাকে হর্ন।
তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (আইন শাখা) খোন্দকার ফজলুল হক নিউজবাংলার কাছে দাবি করেন, তাদের অভিযান চালু আছে। তিনি বলেন, ‘আগে কেবল ঢাকা শহরে চলত, এখন প্রতিটি জেলা শহরেই চলে।’
শব্দদূষণের আরও উৎস
গাড়ির হর্ন ছাড়াও শব্দদূষণের কারণের অভাব নেই। ঢাকা শহরে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় দিনরাত চলে পাইলিংয়ের কাজ। ইট ভাঙার যন্ত্র, সিমেন্ট মিকশ্চারেরও যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে।
এর বাইরে অনুমোদন ছাড়া মাইকের ব্যবহার, গভীর রাতে বাড়ির ছাদে উচ্চ শব্দে পার্টি আর ধর্মীয় আলোচনাও শব্দদূষণ ঘটাচ্ছে।
সব মিলিয়ে শব্দদূষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে অস্বস্তিকর অবস্থায়। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) ২০২২ সালের প্রতিবেদনে শব্দদূষণে বিশ্বের শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম।
ফ্রন্টিয়ারস ২০২২: 'নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন বলছে, ঢাকায় শব্দের সর্বোচ্চ তীব্রতা ১১৯ ডেসিবল, যা এ প্রতিবেদনে আসা শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
কদিন আগেই সারা বিশ্বে বায়ুদূষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ প্রথম এবং শহর হিসেবে ঢাকা ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে।
এই জরিপের প্রসঙ্গ টেনে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যানবাহন শব্দদূষণের প্রধানতম উৎস। যেহেতু আমরা উৎসগুলো জানি; সমাধানের কথা চিন্তা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আইনে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের কথা বলা আছে। নীরব এলাকা, বধির এলাকার কথা বলা আছে, কিন্তু কিছু মানা হয় না।’
কামরুজ্জামান জানান, দেশে শব্দের যে সর্বোচ্চ মাত্রার কথা বলা আছে, গাড়ির হর্ন আমদানি করা হয় তার চেয়ে বেশি মাত্রায়।
তিনি বলেন, ‘গাড়ির হর্ন আমদানির মানমাত্রা দেয়া আছে ৮০ থেকে ৮৫ ডেসিবল, মোটরসাইকেলে তা ১০০ ডেসিবলের ওপরে চলে যায়। অথচ সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক এলাকায় শব্দ ব্যবহার করতে পারব ৭০ ডেসিবল।’
সচেতনতা ছাড়া উপায় নেই
পরিবেশকর্মী কামরুজ্জামান বলেন, ‘যিনি হর্নটা দিচ্ছেন, তিনি নিজেও ক্ষতির শিকার। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবটাই স্পষ্ট হয়। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের সামনের এলাকা নীরব এলাকা। কিন্তু অনেকেই জানে না কোনটা নীরব এলাকা।’
দূষণ সবচেয়ে বেশি হাসপাতাল এলাকায়
রোগীর সঠিক সেবা নিশ্চিতে শব্দদূষণ কম হয় এমন জায়গায় নির্মিত হয়েছিল হাসপাতাল। কিন্তু দেখা গেছে শব্দদূষণের এসব হাসপাতালের সামনের রাস্তাতেও দেখা গেছে।
সম্প্রতি বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এবং ইকিউএমএস কনসালটিং লিমিটেডের যৌথ এক গবেষণায় ধানমন্ডি এলাকায় হাসপাতালগুলোর সামনে ১৭টি জায়গায়ই শব্দ পাওয়া গেছে আদর্শ মানের বেশি।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের সামনে মাত্রা পাওয়া গেছে ৬৯ দশমিক ৭ ডেসিবল, সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে ৮৯ দশমিক ৯ ডেসিবল।
এই ১৭টি স্থানের মধ্যে শব্দের মাত্রা গড়ে ৮১ দশমিক ৭ ডেসিবল। এর মধ্যে ৯টি স্থানেই ৮০ ডেসিবলের বেশি, যা খুবই বিপজ্জনক।
হত্যার পর স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় গৃহিনী মালাইলা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যার পর বাথরুমে গোসল করে গৃহকর্মী আয়েশা (২৩)। এরপর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মাত্র চার দিন আগে বাসার দারোয়ান মালেকের মাধ্যমে ওই মেয়েকে আনা হয়। পরে গৃহকর্মী হিসেবে নিহত মালাইলা আফরোজের বাসায় কাজ দেওয়া হয়। তখন নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেয়। পরে মা-মেয়েকে হত্যার পর নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে যায় সেই মেয়ে।
ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত মালাইলা আফরোজ (৪৮) গৃহিণী। মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম পেশায় শিক্ষক। তিনি উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক।
ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নাফিসার বাবা স্কুলের উদ্দেশে সকাল ৭টার দিকে বের হয়ে যান। সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসার লিফটে ওঠে সাত তলায় যায় গৃহকর্মী আয়েশা। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ড্রেস পরে মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফিসার বাবা বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহত নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাসায় একজন কাজের মহিলা দরকার ছিল। সাধারণত গেটে অনেকে কাজের সন্ধানে আসেন। চার দিন আগে একটি মেয়ে আসে। বোরকা পরিহিত মেয়েটি বাসার দারোয়ান খালেকের কাছে কাজের সন্ধান করলে সে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেয়।
পরে স্ত্রীর মুখে শুনেছি, মেয়েটার নাম আয়েশা। বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর। জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকে। বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তার শরীরেও আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেয়েটা কাজ শুরুর পর প্রথম দুদিন সময়মতো এসেছে। গতকাল সে সাড়ে ৯টার দিকে আসে। আজ কী হয়েছে, এটা তো আর বলার অবস্থায় নেই।
এদিকে ঘটনাস্থল ফ্ল্যাটটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ। বাসার আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা।
পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, মাকে হত্যার পর ওই মেয়েটি দৌড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হয়তো ইন্টারকমে সিকিউরিটি গার্ডকে ফোন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে ইন্টারকমের লাইনটি খোলা পাওয়া যায়। মেয়েটি খুব সুন্দরভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে নাফিসার স্কুলের ড্রেস পরে নির্দ্বিধায় গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়।
তল্লাশি করে বাথরুমে একটি সুইচ গিয়ার ও একটি ধারাল অস্ত্র পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দুটি দিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করেছে গৃহকর্মী আয়েশা। এ ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পায়। মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে নেওয়ার পর মারা যায়। পরে লাশ দুটি সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই-বাছাই চলছে।
গৃহকর্মীর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে-পরে তার উপস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব।
বাসার ভেতরের অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বলছে, বাসায় ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে, মেঝেতে এবং দেওয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে। আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ অবস্থায় রয়েছে। যা মনে করছি, প্রাথমিকভাবে কিছু খোয়া যেতে পারে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা একজনকেই দেখেছি, পরে দেখব আশপাশে আরও কেউ ছিল কি না?
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ধারাল ছুরি উদ্ধার করেছে এবং হত্যাকারী ফ্রেশ হয়েছে বাথরুমে— এমন আলামত পাওয়া গেছে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বরের সি-ব্লক মোড়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজুর রহমান গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি পল্লবী থানা যুবদলের নেতা ছিলেন। তবে কে বা কারা গুলি করেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক জানান, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নেয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য থেকে জানা যায়, কিবরিয়াকে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিএনপি নেতাকে গুলি করার খবর এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা কি নিয়ে এই গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী সেকশন-১২ এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারিতে বসে থাকা অবস্থায় পল্লবী থানা যুবদল সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে মোটরসাইকেলযোগে এসে তিনজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তার মাথা, বুকে ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে ৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীতে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে গুলিস্তান, সূত্রাপুর, মিরপুর বেড়িবাঁধ, হাতিরঝিল ও কারওয়ান বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত সরে পড়ে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সূত্রাপুর ও মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
একই রাতে হাতিরঝিলের রেইনবো ক্রসিং ও কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এভাবে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগে নাশকতার আশঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, কাকরাইল মোড়, কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে অন্তত ২০টির বেশি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ১১টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রাজধানীতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জনগণের মাঝে ভীতি ছড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য।”
তিনি আরও বলেন, “রাজধানীতে শঙ্কার কিছু নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে।”
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই রাজধানীর বাইরে থেকে আসা বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতাকারীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
পাঁচ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের ডাকা গণসমাবেশে অংশ নিতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। বেলা দুইটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বায়তুল মোকাররম মসজিদের আশপাশে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বাস্তবায়ন, নভেম্বরে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আট দল।
এর আগে গত ছয়ই নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিল এই দলগুলো।
রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৩৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রাজধানীর গুলশানে আরও একটি নতুন অভিজাত ক্লাবের যাত্রা শুরু হলো। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস থেকে ‘গুলশান সাউথ ক্লাব’ নামে একটি নতুন ক্লাবের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে।
গতকাল (৩ নভেম্বর ) ক্লাবটির নিবন্ধন অনুমোদনের পর এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
গুলশান সাউথ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড. সৈয়দ মো. শাহান শাহ শাহীন। উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জনাব মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।
এছাড়া ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আরও সাতজন— খান মোহাম্মদ ইকবাল, কৃষিবিদ মো. ইউনুস আলী, মো. খালিদুজ্জামান, মোহাম্মদ নূর নবী, আব্দুল আউয়াল বিপ্লব, মো. এনামুল হক এবং জুবাইদা নাজনীন প্রমুখ।
নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে গুলশান এলাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর বহির্বিভাগ টিকেট কাটতে এখন থেকে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। রোগীরা বিএমইউ এর ওয়েবসাইটে (https://bmu.ac.bd) গিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট সম্পন্ন করে ব্যবস্থাপত্রটি (টিকেট) প্রিন্ট করে টিকেটে উল্লেখিত বিভাগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন। মূলত রোগীদের ভোগান্তি নিরসন ও দুর্ভোগ লাঘবসহ অযাচিত ভিড় এড়াতে এবং বহিবির্ভাগ চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম চালু করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এরফলে এখন থেকে বাসায় বসেই অনলাইনে কাটা যাবে বিএমইউ এর বহির্বিভাগের টিকেট। একইসঙ্গে সকাল থেকেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখাতে করতে হবে না দীর্ঘ অপেক্ষা। আজ বুধবার ২৯ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বিএমইউ ও পূবালী ব্যাংক এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
বিএমইউ এর সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালানায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, অনলাইন টিকেট সিস্টেম দেশের প্রয়োজনে চালু করা হয়েছে। যেকোনো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সবসময় জনগণ কেন্দ্রিক হয়। শিক্ষা ও গবেষণা দেশের মানুষের জন্যই হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে দেশের মানুষের জন্য। আমরা অনেকদিন থেকে ভাবছিলাম রোগীদের যেন দীর্ঘ অপেক্ষা করতে না হয়। অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমাবে। এই পদ্ধতিতে রোগীরা তাদের চাহিদামতো সময়ে চিকিৎসককে দেখাতে পারবেন। সময়ের ব্যবধানে সবকিছু অনলাইন সিস্টেমে হবে। অনলাইন নানাদিক থেকে সুবিধা দিবে। টিকেট কাটতে আর হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন দিতে হবে না জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, ওয়েটিং টাইমটাকে চেম্বার বা হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যেতে চাই। হাসপাতালে অপেক্ষা করা লাগবে না। তবে এই কার্যক্রমে শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তা ওভারকাম করার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাংবাদিক, গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলে বিএমইউ এর এই প্রচেষ্টা অবশ্যই সাফল্য পাবে। প্রায় সকল রোগীই বিএমইউ এর চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট। কিন্তু দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটা, ডাক্তার দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা তাদেরকে কষ্ট দেয়। সেই কষ্ট দূরীকরণের লক্ষ্যেই আজকের এই উদ্যোগ। বিএমইউকে ডিজিটালাইজড হাসপাতালে রূপান্তরেরর কার্যক্রম চলমান আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে অটোমেশনের বিকল্প নাই। বিএমইউ এর অটোমেশন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতেই হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, পূবালী ব্যাংক লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
তারা বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাসেবা, উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা ও গবেষণায় একটি আস্থার নাম। আজকেরই এই উদ্যোগ দেশের জন্য একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে মূলত রোগীরাই সবচাইতে বেশি উপকৃত হবেন। আগামী দিনে সেবার সকলক্ষেত্রেই এটা চালু করতে পারলে রোগীরা স্বাছন্দ্যে টিকেট কাটা থেকে শুরু করে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।
মন্তব্য